নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Al Firdaws

Al Firdaws

সত্যবাদিতায় আপোষহীন

Al Firdaws › বিস্তারিত পোস্টঃ

নীলফামারীতে নবজাতক বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধের চাপ দিল চিকিৎসক

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

নীলফামারীর ডোমারে ‘মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে প্রসূতির অপারেশনের পর ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির জন্য চাপ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

‎দৈনিক আমার দেশ এক প্রতিবেদনে জানায়, এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ক্লিনিকটিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ডোমার উপজেলা প্রশাসন।

‎ভুক্তভোগী প্রসূতি হাবিবা সুলতানা ডোমার উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী। জানা যায়, প্রসব বেদনা নিয়ে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অপারেশন শেষে গত রোববার (২৯ মার্চ) রিলিজ নেওয়ার সময় ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় বাচ্চা বিক্রির জন্য চাপ দেয় চিকিৎসক ফারজানা আফরিন সুমী।

‎রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা দম্পতি জানায়, ভর্তির সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ২২ হাজার টাকা দাবি করেছিল। অপারেশনের পর অনেক চেষ্টা করেও টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়।

‎তারা জানায়, ক্লিনিকের চিকিৎসক ফারজানা প্রসূতি রোগী ও তার স্বজনদের একটি রুমে আটকে রাখে। এসময় রোগীর ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে বাচ্চা বিক্রি করতে চাপ দেওয়া হয়।

‎ক্লিনিকের লোকজনের মাধ্যমে ৩ থেকে ৪ জন লোক এসেছিল বাচ্চা কেনার জন্য। তাদের মধ্যে একজন ৩০ হাজার এবং অন্যজন ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করে। সেখান থেকে হাসপাতালের বিল বাবদ ২০ হাজার টাকা রেখে বাকি ১০ হাজার টাকা রোগীর পরিবারকে দিতে চেয়েছিল তারা।

‎অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের ডা. ফারজানার দাবি, বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি এটা সত্য নয়। নির্ধারিত সময়ে রোগী রিলিজ নিতে পারছিল না। তাই বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।

‎অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটি পরিদর্শন শেষে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানায়, নবজাতক বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পরই তারা দ্রুত তদন্তে নামে। তদন্তকালে বাচ্চা বিক্রির অভিযোগসহ আরও কিছু অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি ইউএনও এর কাছে জমা দেওয়া হবে।

‎এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী সাংবাদিকদের জানায়, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বেশ কিছু অনিয়মও ধরা পড়েছে। এসব অনিয়মের জন্য ক্লিনিকটিকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

‎তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.