নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লিখা লিখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

মুক্তমনা

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সরকারী-বেসরকারী চাকুরীতে সুযোগ সুবিধার সমতা বিধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক দলসমুহের নির্বাচনী ইসতেহার এখন সময়ের দাবী !!!

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৪৪


আগামী২০১৯ সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরীর কাজ চলছে । একদিকে রয়েছে সরকারী দলের ভিশন- ২০২১ এ মধ্যম আয়ের দেশ ও ভিশন-২০৪১এ উন্নত দেশের রূপকল্প অপরদিকে বিএনপির ভিশন- ২০৩০ । যদিও ভিশন ও ইশতেহার দুটো আলাদা বিষয় । তবে দুটোর সমন্বয় করে চুম্বক কথাগুলি ইশতেহার হিসেবে নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলে তাতে কোন সন্দেহ নাই ।

সরকারী দলের নির্বাচনী ইসতেহারে সম্ভবত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এমডিজি অর্জন, ব্লু- ইকনোমি ( সমুদ্র অর্থনীতি), এনার্জি ( জ্বালানি) সেক্টরের উন্নয়ন এবং শিক্ষিত যুব সমাজকে কাজে লাগানোর প্রাধান্য দেয়ার কথাবার্তা যুক্ত হতে পারে । ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি সে সাথে সরকারের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত দিক নির্দেশনা যে থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই ।

ছবি-২ শেখ হাছিনা আর খালেদা জিয়ার ভিশন

অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সমৃদ্ধ দেশ ও আলোকিত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ভিশন ২০৩০ এ যে রূপরেখা দিয়েছেন তার মধ্যে গুড পলিসি, গুড গভর্নেন্স , গুড গভর্নমেন্ট , নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য , দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ,গনভোট পুণপ্রবর্তন , ডাবল ডিজিট মাথাপিছু আয় প্রভৃতি রূপকল্পের ভিত্তিতেই তাদের নির্বাচনী ইশতেহার রচিত হবে বলেই ধারণা ।

দেশের বড় দুই দলের ভিশন যাই থাকুক না কেন নির্বাচনের বিষয়ে তাদের মিশন একটাই, তা হল ক্ষমতায় আরোহন, আর নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাদের সুর একটাই , বিএনপির মুল আপত্তি হাছিনায়, আওয়ামী লীগেরও সাফ জবাব সংবিধানের বাইরে কোন কথা মানিনা, মানবনা।

ছবি- ৩: সংবিধানের বাইরে কিছু মানিনা মানবনা, তাহলে নির্বাচনে যাবনা যাবনা

যাহোক, তাঁদের মধ্যে কেও না কেও ক্ষমতায় আসবেন , কিভাবে আসবেন সেটা তাঁদের বিষয় , নির্বাচন এবং বিনির্বাচন বিবিধ ভাবেই এ দেশে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে । কিন্তু দিন পরিবর্তন , আশা নিরাশা , সামাজিক জিবনের সর্বক্ষেত্রে রয়ে গেছে বিশাল বৈষম্য যা কোন মতেই কাম্য নয় । আমাদের দাবী একটাই সেটা হলো কল্যান রাস্ট্র ( Welfare state) । রাস্ট্রবিজ্ঞানীরা যদিও কল্যান রাষ্ট্রকে গণতন্ত্র , কল্যান ও পুঁজিবাদের কম্বিনেশন হিসাবে অভিহিত করেছেন তার পরেও ওয়েল ফেয়ার স্টেট হিসাবে স্বিকৃত দেশ সমুহের নাগরিকগন বেশ সুখ স্বাচ্ছন্দেই আছেন বলেই দেখা যায় ।

কল্যান রাস্ট্র এখন শুধুমাত্র একটি ধারনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় । নাগরিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণ রক্ষায় এখন এটা দুনিয়ার অনেক দেশেই কার্যকরী আছে । আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রগুলির মধ্যে যুক্তরাজ্য , জার্মানি, ফ্রান্স, এবং নেদারল্যান্ডস অন্যতম ।পাশাপাশি নর্ডিক মডেল নামে পরিচিত কিছু দেশ যথা আইসল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, এবং ফিনল্যান্ডে কল্যান রাস্ট্রের অস্তিত্ব দেখা যায় । এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাস্ট্র , জাপান , কানাডা , অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও কল্যান রাষ্ট্রভুক্ত বলে দাবী করা হয় । ড্যানিস সোসালিষ্ট এসপিং-এন্ডারসন ঘোস্ট (১৯৯৩) বিশ্বের কল্যান রাস্টের একটি ম্যাপ করেছেন যা নীচের চিত্রে দেখা যেতে পারে ।

ছবি -৪ : Esping –Anderson map : welfare states in the world

সুত্র: Esping‐Andersen, Gøsta. 1993. “The Comparative Macro‐Sociology of Welfare States”. In Luis Moreno (ed.) Social Exchange and Welfare Development, Madrid
কল্যাণ রাষ্ট্রের সংজ্ঞা , কার্যাবলী ও বৈশিষ্ট ব্যপক তাতে কোন সন্দেহ নাই । ছোট এ পরিসরে এত গভীরে না গিয়ে আমাদের মুল আলোচনার সুবিধার্থে মোটা দাগে বলা যায় কল্যান রাষ্ট্রে কেন্দ্র হতে তহবিল প্রবাহিত হয় দেশের সকল সেবাখাত ( যথা শিক্ষা , স্বাস্থ্য প্রভৃতি) সহ ব্যক্তি পর্যায়ে সুযোগ সুবিধা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল অঙ্গে । প্রয়োজনীয় অর্থ আসে মুলত করারোপ হতেই , বিশেষ করে প্রগ্রেসিভ ইনকাম ট্যাক্সের মাধ্যমে, যেখানে আয় বেশি কর বেশি, আয় কম টেক্স কম , নিদৃষ্ট করসীমার নীচে যার আয়, তার কোন টেক্স নাই। এর ফলে বিত্তশালীদের কাছ থেকে গরীবের দিকে আয় ধায় বিবিধ উপায়ে ।

ছবি-৫: একটি আদর্শ রাস্ট্রে সামাজিক কল্যানমুলক কর্মসুচীর একটি তালিকা

উৎস : Click This Link
ছবি-৬ : কল্যান রাষ্ট্রে বিভিন্ন ক্যাটাগরীর নাগরিকদের প্রাপ্য বেনিফিট প্রবাহের চিত্র


যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর আর্থার সিসিল পিগু ১৯২০ সনে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত THE ECONOMICS OF WELFARE গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়েই বলেছেন অর্থনৈতিক স্টাডির মুল লক্ষ্যই হল সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি ।

ছবি-৭ : কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর আর্থার সিসিল পিগু

এ সি পিগুর মতে বিশুদ্ধ তাত্বিক বিষয়ের চেয়ে অর্থনীতিকে বড় করে দেখতে হবে বাস্তব অবস্থার নীরিখে । তাঁর মতে কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যদি সমাজের কারো কোন ক্ষতি না করে কমপক্ষে একজনের জন্য হলেও মঙ্গল বয়ে আনতে পারে তবে তাকে কল্যান অর্থনীতির আওতাভুক্ত করা যেতে পারে । আর এই কল্যান রাস্ট্র মডেলের একটি বিশেষ পরিক্ষীত কর্মসুচী তথা বাধ্যতামুলক ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স স্কীমকে আমরা প্রয়োগ করতে আগ্রহী আমাদের মুল বিষয় সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীর সুযোগ সুবিধার সমতা বিধানের লক্ষ্যে । তবে তার পুর্বে অতি সংক্ষেপে দেশের সরকারী ও বেসরকারী খাতের কর্মসংস্থান ও চাকুরীর বর্তমান হালচাল সম্পর্কে একটি তুলনামুলক পর্যালোচনা করে নিব সংক্ষেপে । সে সাথে কল্যান রাষ্ট্র হিসাবে বিকসিত প্রথম কাতারের দেশ যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামুলক ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স স্কীমের অভিজ্ঞতার কিছু বিষয় রেফারেন্স হিসাবে এ লেখায় তুলে ধরা হবে সংক্ষিপ্ত আকারে ।

দেশের সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীর বর্তমান অবস্থার একটি তুলনা মুলক পর্যালোচনা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর )বিবিএস) তথ্য অনুসারে ২০১৫/১৬ সনে দেশে কর্মঠ জনবলের সংখ্যা ৬২.১০ মিলিয়ন । এই কর্মঠ জনবলের মধ্যে কর্মে নিয়োজিত (১৫+ বয়সের) জনবলের সংখ্যা ৫৯.৫০ মিলিয়ন ।বেকার মানুষের সংখ্যা ২.৬০ মিলিয়ন ।

ফরমাল ও ইনফরমাল খাতে নিয়োজিত জনবল

গত ২০১৫/১৬ সনে বিবিএস পরিচালিত Labour Force Survey (LFS) অনুযায়ী দেশের মোট ৫৯.৫০ মিলিয়ন কর্মঠ জনবলের মধ্যে মাত্র ৮.২৬ মিলিয়ন ফরমাল খাতে এবং ৫১.৩০ মিলিয়ন ইনফরমাল খাতে নিয়োজিত, যা মোট কর্মঠ জনবলের শতকরা ৮৬.২০ ভাগ। ফরমাল খাতের ৮.২৬ মিলিয়ন জনবলের মধ্যে সরকারী খাতে নিয়োজিত জনবল ১.৩০ মিলিয়ন তথা শতকরা ১৫ ভাগ বাদবাকী ৮৬ ভাগই বেসরকারী খাতে নিয়োজিত । উল্লেখ্য সরকারী খাতে নিয়োজিত সকল নিয়োগই ফলমাল খাতভুক্ত ।

সরকারী খাত

দেশে সরকারী খাতের চাকুরী বলতে গেলে সকলের কাছে সোনার হরিনের মত । সরকারী খাতে নিয়োজিত ১.৩ মিলিয়ন চাকুরীজীবীদের মুল মাসিক বেতন সর্বনিন্ম ৮২০০ টাকা হতে সর্বোচ্য ৮৬০০০ টাকা ( প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব) পর্যন্ত । সেই সঙ্গে সরকারী আবাসন, আবাসন সুবিধার অবর্তমানে বাড়ী ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও আনুতোশিক সুবিধা রয়েছে । বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সুবিধা, পেনশন, কল্যাণ ভাতা, বাড়ি নির্মাণ ও গাড়ি কেনার জন্য ঋণ সুবিধা, বেতন কাঠামোর গ্রেড পদ্ধতির পরিবর্তন, বিভাজন সৃষ্টিকারী শ্রেণীকরণ পদ্ধতির বিলুপ্তি, ইফিসিয়েন্সি বার তুলে দেওয়া প্রভৃতি উল্লেখ যোগ্য । সরকারি চাকরিতে নিয়োগে মেধার প্রাধান্য, উপযুক্ত বেতন-ভাতার মাধ্যমে দক্ষতা, সততা ও উৎপাদনশীলতা, বস্তুনিষ্ঠ ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, পদায়ন, দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সুযোগ রয়েছে বলে সরকারী নীতিমালায় বলা হয়ে থাকে । যদিও সরকারী চাকুরীতে দলীয় করনের একটি ঢালাও অভিযোগ সর্ব যুগেই উত্থাপিত হয় বিবিধ প্রকারে ।

বেসরকারী খাত

বেসরকারীখাতের ইনফরমাল সেকটরে নিয়োজিত ৫১.৩০ মিলিয়ন জনবলের মধ্যে শতকরা ৪২ ভাগই নিয়োজিত আছে স্ব-কর্ম সংস্থানে । যার মধ্যে ২২ ভাগ হল আনপেইড ফেমিলি হেলপার , শতকরা ২০ ভাগ দিনমজুর , ১৫ ভাগ কোন না কোন নিয়োগকারীর অধীন এবং বাদবাকি ৪ ভাগ অন্যান্য ক্যাটাগরীভুক্ত।

বেসরকারী চাকুরী খাতে সুবিধার থেকে অসুবিধাই বেশী । স্বল্পকালীন ও দীর্ঘকালীন কোন চাকুরীতে চুক্তিপত্র বলতে গেলে নাই ( যেখানে চুক্তিপত্র আছে সেখানে চুক্তির শর্ত পুরাটাই মালিকের স্বার্থ রক্ষা করে) , চাকুরী হারানোর ভয়,স্বল্পকালীন কিংবা বিনা নোটিশে চাকুরী চলে যাওয়া সাধারণ ব্যপার ।

চাকুরির শর্তাবলী বিশেষ করে মজুরী,কর্মের গতি, কাজের পরিবেশের উপর কর্মচারীদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই । দর কশাকষির ক্ষমতাবিহীন অনিশ্চিত কাজের ঘন্টা , নিয়োগকর্তা দ্বারা জোড় করে কাজ আদায় কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা অভাবে তাজরিন ফ্যাশনের মত বিপজ্জনক অবস্থা অহরহ ঘটছে ।

হাতে গোনা অল্প কয়টি ছাড়া বাকী সকল ক্ষেত্রেই নুন্যতম মজুরী হার হতেও নিন্ম বেতন যা দিয়ে নীজের সহ হয়না পরিবারের ভরন পোষন । মজুরীর বাইরে অন্য কোন সুযোগ সুবিধা যথা বাড়ী ভাড়া , যাতায়াত ভাতা, অসুস্থতা জনিত ছুটি ও ভাতা , প্রসুতি ও মাতৃত্বকালীন ছুটি, বোনাস ও উৎসব ভাতা, অবসরভাতা , কল্যানভাতা , দেশে বিদেশে কর্মকালীন প্রশিক্ষন এর কোনটিই নাই বেসরকারী চাকুরী খাতে ।

বেআইনীভাবে বরখাস্তের জন্য আইনী ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগের অভাব, বেআইনি দন্ড দান , বৈষম্য , যৌন হয়রানী , অগ্রনযোগ্য কাজকর্ম, ইউনিয়ন করার অধিকার বঞ্চিত, আর যেখানে ই্নউয়ন করার স্বিকৃতি দেয়া হয়েছে সেখানে তা বাস্তবায়নে মালিক পক্ষের অনিহা ও হয়রানী লক্ষনীয়, এমনকি গার্মেন্টস ও ইপিজেডে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যক্রমে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় দেশদ্রোহিতার অভিযোগ অআনা হয়েছে ফলে ইউনিয়ন নেতাদেরকেও বিবিধ প্রকারের হয়রানীর স্বীকার হতে হয়, বিশেষ করে রফতানীমুখী তৈরী পোশাক শিল্প খাতে ।

যদিও শ্রম ও কল্যান মন্ত্রনালয়ের অধীনে শ্রম পরিদপ্তর ,কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল, নিম্নতম মজুরী বোর্ড জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল,বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রভৃতি সরকারী প্রতিষ্টান রয়েছে, তবে তাদের সার্বিক পারফরমেন্স এখনো পরে আছে অনেক অনেক পশ্চাতে ।

সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীতে সমতা বিধান প্রসঙ্গ

সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীতে সমতা বিধান সময়ের দাবী হলেও এটি একটি হারকিউলিয়াস টাস্ক, তাতে কোন সন্দেহ নাই । অনেকে আবার এটাকে একটি ইউটুপিয়ান ধারণা হিসাবেও অভিহিত করতে পারেন । তবে সরকারী বেসরকারী চাকুরীতে সমতা আনার বিষয়ে যে সমস্ত দিকের উপরে গুরুত্ব দিতে হবে তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীচে তুলে ধরা হল ।

ক) শ্রমবাজারের ফরমাল সেকটরে সরকারী ও বেসরকারী খাতে নিয়োগে সমতা বিধান

সরকারী খাতের মত বেসরকারী খাতের সকল চাকুরী কিংবা কর্ম সংস্থানকে ফরমাল সেকটরে রুপান্তরিত করার বিষয়টি প্রথমেই বিবেচনায় নিতে হবে ।এর জন্য নতুন অবকাঠামো সৃজন সহ আর্থিক ও ভৌত সকল খাতে প্রয়োজনীয় স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্ট প্রয়োজন। এর জন্য উপযুক্ত পর্যায়ে যথাযথ স্টাডি ও কৌশল নির্ধারন করতে হবে সম্পুর্ণ দেশী বিশেষজ্ঞ দিয়ে । বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বিশেষজ্ঞ দিয়ে স্ট্রকচারাল এডজাস্টমেন্টের কাজ করালে ফল দিবে উল্টো । এ যাবতকাল পর্যন্ত তাদেরকে দিয়ে যত কাজ করানো হয়েছে তাতে হিতে বিপরিত হয়েছে , দেশের বৃহত্তম পাটকল আদমজি গেছে ভুতের পেটে , সেখানে অবশেষে দেশী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে আদমজীর বিশাল এলাকাটি ভরে উঠছে দেশী পাট শিল্পের বদলে বিদেশি সুতা আর কাপড়ের সেলাই কারখানাতে । তার পরেও বলা যায় আদমজির মত লোকসানী আর অব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানাকে যদি আদমজি ইপিজেটের মত বেসরকারী পর্যায়ে ছেড়ে দেয়া যায় তাহলে বেসরকারী খাতে ফরমাল নিয়োগের অনুপাত যাবে বহুগুন বেড়ে । কোন এক সময়ে তা সরকারী খাতের সমান অনুপাতে হয়েও যেতে পারে ।

ছবি-৮ : দেশের বৃহত্তম সরকারী খাতের পাটকলকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে বেসরকারী খাতে গড়ে উঠা আদমজি ইপিজেট

উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রনীত Recent Employment Situation and Labour Market Developments in Bangladesh
পলিসি পেপারে বেসরকারী খাতের চাকুরীর বাজার উন্নয়নের বিষয়ে গুরত্ব দিয়ে ইফেকটিভ সোসাল ডায়ালগের কথা বলা হয়েছে । কিন্তু কোন্‌ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের এই মুল্যবান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তা জানা যায়নি , তবে অনেক খুঁজে পেতে তাদের স্টক হতে এই রিপোর্ট বের করে পড়তে হয়েছে ।

খ) নিয়োগ প্রত্যাসী জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি

চাকরি প্রার্থীদের দক্ষতার অভাব বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ । শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী চাকরিপ্রার্থীরা দক্ষ নন। বিশেষ করে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ও পোশাক খাতে দক্ষতার অভাব প্রকট আকার ধারণ করে আছে । কৃষি ভিত্তিক এই দেশে ৫ টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ( সরকারী খাতে ৪টি ও বেসরকারী ১) , ও ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে ( ৬ টি সরকারী ৩ টি বেসরকারী) কৃষি ফ্যাকাল্টি থাকার পরেও অ্যাগ্রো-প্রসেসিং খাতে মোট ৭৬ শতাংশ দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। এর পরেই রয়েছে তৈরি পোশাক খাত । এ খাতে দক্ষ জনবলের অভাব ১ লাখের ওপর। গত ২৩শে জুলাই ২০১৭ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তৈরি প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশের শ্রমবাজারে দক্ষতার অভাব’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদনের উপর আলোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী তৈরি পোশাক খাতেই নাকি দক্ষ কর্মকর্তার অভাব রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৭৯ জন। আধাদক্ষ কর্মকর্তার অভাব রয়েছে ৪৮ হাজার ১৩০ জন এবং অদক্ষ শ্রমিকের অভাব ৮ হাজার ৫৭৭ জন। বিআইডিএসের এ গবেষণা প্রতিবেদনে যে কয়টি খাতে দক্ষতার অভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে অ্যাগ্রো-ফুড, আরএমজি, কনস্ট্রাকশন, হেলথকেয়ার, হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম, আইসিটি, লেদার, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শিপ বিল্ডিং , ঔষধ শিল্প অন্যতম । এ প্রসঙ্গে অবশ্য অর্থমন্ত্রীর ভাষন হতে জানা যায় চলতি বাজেটেই নাকি দেশে ৫ লাখ দক্ষ কর্মকর্তা তৈরির প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে । আগামীতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান। জানা গেছে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে কানাডা সরকারের অর্থায়নে ও আই এল ও এর মাধ্যমে Bangladesh Skills for Employment and Productivity (B-SEP)
শিরোনামে দেশের জনবলের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। কামনা করি এটা আরো জোড়দার হোক ।

ছবি-৯ : বাংলাদেশ , কানাডা আইএলও প্রকল্প

তবে অর্থ মন্ত্রী দেশের শ্রমবাজারে দক্ষ জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে বলার পাশাপাশি এও বলেছেন সরকার আর কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে? সরকারের পক্ষে আর কর্মসংস্থান বিস্তার করার সুযোগ নেই। যা করার বেসরকারি খাতকেই করতে হবে। বাহ! বা এ না হলে অর্থমন্ত্রী । আমরা সকলেই জানি সরকারী নীতি ও সঠিক কর্ম পরিকল্পনাতেই বেসরকারী খাতের বিকাশ এবং কর্মসংন্থান সৃস্টি হয়। ক্রমবর্ধমান হারে কর্ম সংস্থান সৃস্টি করে দেশে বেকারত্ব লাঘবের জন্য সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে , এটাই তাদের কাজ , সরকারের পক্ষে আর কর্মসংস্থান বিস্তার করার সুযোগ নেই বলার জন্য নয় । জাতি আর কত দিন এমন কথা শুনবে তা আল্লাই জানেন ।

বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষিতরাই বেশি বেকার, এর নিরশন হওয়া দরকার

বাংলাদেশে প্রতিবছর ২২ লাখ কর্মক্ষম লোক চাকরি বা কাজের বাজারে প্রবেশ করেন৷ কিন্তু কাজ পান মাত্র সাত লাখ মানুষ৷ অর্থাৎ দুই তৃতীয়াংশ কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ পান না৷ সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাই বেশি৷ এর ভয়াবহতা দেখা গেছে সাম্রতিক কালের বিসিএস পরীক্ষার আবেদনের ক্ষেত্রে । ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জন প্রশাসনে ২ হাজার ২৪ টি ( প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ ) পদের বিপরীতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮জন প্রার্থী আবেদন করেছেনবলে জানা যায় ।

ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৩৫ জন ফি জমা দিয়েছেন । । আবেদন প্রতি ৭০০ টাকা হারে ( প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃতাতাত্বিক গুষ্ঠির জন্য ১০০টাকা ) সরকারী প্রাপ্তির পরিমান দাঁড়াতে পারতো প্রায় ২২.৯৪ কোটি টাকা তবে কিছুসংখ্ক প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃতাতাত্বিক গুষ্ঠির জন্য জনপ্রতি ফি ১০০টাকা এডজাস্ট করার পরেও ধারনা করা হয় এর মোট পরিমান ২০ কোটি টাকা হতে কোন অংশে কম হবেনা । এখন হিসাব করলে দেখা যায় জনপ্রতি ১ টি বিসিএস পদে লোক নির্বাচনের জন্য জাতিকে ব্যয় করতে হল প্রায় ১ লক্ষ টাকা, আর সরকারী কর্ম কমিশনের জন্য বাৎসরিক ৭৪ কোটি টাকা বাজেটের অংশ বিশেষ এ কাজের জন্য যুক্ত করা হলে এই ব্যয় আরো কয়েক গুণ যাবে বেড়ে । এত কিছুর পরেও সরকারী কর্ম কমিশনের শীর্ষ কর্তা ব্যক্তি বলেছেন , ‘সরকারি চাকরির প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহ বাড়ছে। তাই এবার এত আবেদন পড়েছে। এর আগে কোনো বিসিএসে এত বেশি আবেদন জমা পড়েনি।’ তাদের জন্য আনন্দের বিষয়ই বটে !!! কিন্তু যার ঝোলা খালি হয়েছে সেই শুধু বুঝে জ্বালা কারে বলে ।

বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি খাতা দুজন পরীক্ষক মূল্যায়ন করবেন বলেও জানা যায় । নম্বরের ব্যবধান ২০ শতাংশের বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছেও খাতা পাঠানো হবে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের মেধা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে বলে পিএসসি মনে করছে । কোচিং সেন্টারে গিয়ে বিগত বছর গুলির প্রশ্র পত্রের ভিত্তিতে প্রণীত গাইড বই অনুসরণ করে মুলত মুখস্ত বিদ্যার উপরে মাধ্যমিক স্তরের অংক , বাংলা ইংরেজী ও সাধারণ জ্ঞানের দেয়া উত্তরের ভিত্তিতে প্রকৃত মেধার যাচাই কিভাবে হবে তা বিরাট প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যপার (তবে প্রকৃত মেধাবীদের প্রতি যথাযোগ্য সন্মান রইল)। তাছাড়াও প্রতিযোগীতা হচ্ছে সদ্য স্নাতক ডিগ্রীধারীদের সাথে বিপুল সংখ্যক সরকারী বেসরকারী কলেজ ভার্সিটির আবেদনকারী টিচারদের। তাই মেধা যাচাই করে নির্বাচনের জন্য এ বিশাল ব্যয়বহুল কর্মযজ্ঞ যদি পরিচালনা করতেই হয় তাহলে সঠিক মেধা যাচাই এর জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড হওয়া প্রয়োজন। এটা বুদ্ধি খাটিয়ে বিবিধ ভাবে করা যায়। সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলি নিয়ে মন্তব্য ও প্রতি মন্তব্যের ঘরে মতামত বিনিময় করা যেতে পারে।

বর্তমান পর্যায়ে মেধা যাচাই এর জন্য পরীক্ষার বিষয় ভিত্তিক মান বন্টন ও মেধা যাচাইকারী পরিক্ষকদের বিষয়ে দুটো কথা বলার আছে ।
আলোচনার প্রয়োজনে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন কোচিং সেন্টার কতৃক অনলাইন হতে প্রাপ্ত বিষয় ভিত্তিক মানবন্টন নীচের সারণীতে দেখানো হলো ।

ছবি-১০ : ৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস ও মান বন্টন ।

তথ্যসুত্র : Click This Link

উপরের বিষয় ভিত্তিক মান বন্টন হতে দেখা যায় এর প্রায় অর্থেক উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকলের আবশ্যিক বিষয় ভিত্তিক । বাদ বাকিগুলি বিশেষ বিশেষ শাখা ভিত্তিক । একটু উচ্চ পর্যায়ের বিষয় গুলিতে থাকা ১০০ নম্বরের জন্য যে যে বিষয়ে গ্রাজুয়েট ও পোষ্ট গ্রাজুয়েট লেভেলে পড়াশুনা করেছেন তারাই ভাল করবেন। অন্যরা মেধা থাকলেও কোন অভিজ্ঞতালব্দ জ্ঞান না থাকার জন্য সঙ্গত কারণেই ছিটকে পড়বেন ।

তাই অগতির গতি হল লাইন ধরে কোচিং সেন্টারে গিয়ে নীজেকে তৈরী কর। । লাভের লাভ কোচিং ব্যবসার । সুযোগটা তৈরী করে দিল সরকারী কর্ম কমিশন । ধরে নিলাম সকলের জন্য কোচিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন না হলেও কমপক্ষে ২৫% তো কোচিং সেন্টারের সরনাপন্ন হবেনই । আর মাসের পর মাস ধরে উচ্চ হারের কোচিং ফিস কে হিসাবে ধরলে হয়ত দেখা যাবে কোচিং বানিজ্য শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে !!! এর সাথে যুক্ত হবে প্রায় ৪ লক্ষ পরিক্ষার্থীর উত্তর পত্র মুল্যায়নের জন্য পরিক্ষক গনের সন্মানী/পারিশ্রমিক যার পরিমানটিও বিশাল অংকের হবে বলেই ধারনা । তাই সব মিলিয়ে প্রায় শত কোটি টাকার এই নির্বাচনী ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে একটি উদিয়মান শিল্প সেকটর হিসাবে বিবেচিত হতে পারে । এর জন্য পুরা ধন্যবাদ দিতে হয় সরকারী কর্ম কমিশনকে !!! নিয়োগ বানিজ্য নিয়ে দেশে একটি কথা চালু আছে অনেক আগে থেকেই তবে সেটা ছিল কাল তালিকাভুক্ত, কিন্ত এখন স্পষ্ট দিবালোকে সকলের চোখের সামনে আবেদনকারীদের অর্থায়নে দেশ জোড়ে চলছে প্রার্থী নির্বাচন ও তাদের প্রস্তুতি পর্ব বানিজ্য!!!

মেধা যাচাই এর জন্য উত্তরপত্র মুল্যায়ণকারীদের বিষয়েও দুটো কথা বলার আছে । বিসিএস প্রিলিমিনারী পরীক্ষার সিলেবাস দেখে বুঝাই যায় এতে রয়েছে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের সমাহার, যাতে সাধারণ জ্ঞানের বিষয় হতে শুরু করে অংক , বিজ্ঞান , কম্পিউটার , তথ্য প্রযুক্তি যুক্ত আছে । একজন পরিক্ষক কিভাবে সকল বিষয়ের সঠিক মুল্যায়নে সক্ষম হবেন তাও এক বিরাট প্রশ্নের বিষয় । মনে হচ্ছে সকল বিষয় মুল্যায়ন করার জন্য জ্ঞান লাভের নিমিত্ব পরিক্ষকদেরও কোচিং এর প্রয়োজন হতে পারে । এর সমাধান হতে পারে কম্পিউটারে উত্তর পত্র পরীক্ষা করা । এতে করে বিশাল সংখ্যক উত্তর পত্র মুল্যায়নকারী নিয়োগের প্রয়োজন হবেনা , সময়টাও কমে যাবে । বিসিএস পরিক্ষা পরিচালনা ও উত্তর পত্র মুল্যায়নকারীদেরকে পারিশ্রমিক দানের জন্যই নাকি আবেদনকারীদের নিকট হতে উচ্চ হারে ফি নেয়া হয় বলে কমিশন কতৃপক্ষরাও বলে থাকেন । তাই এ খাতে ব্যয় কমাতে পারলে আবেদন পত্র ফিসটাও কমানো কিংবা একেবারে না নিলেও চলতে পারে । জনগনের অর্থে পরিচালিত সরকারী কর্ম কমিশন বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন ।

ছবি-১১ : বাংলাদেশ সরকার কর্ম কমিশন

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন দেশব্যাপি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করবেন এটাই স্বাভাবিক । সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়াদি ; প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদান, উক্ত কর্মের এক শাখা থেকে অন্য শাখায় পদোন্নতিদান ও বদলিকরণ এবং অনুরূপ নিয়োগদান, পদোন্নতি বা বদলিকরণের জন্য প্রার্থীর উপযোগিতা-নির্ণয় সম্পর্কে অনুসরণীয় নীতিসমূহ ; অবসর-ভাতার অধিকারসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মের শর্তাবলীকে প্রভাবিত করে, এইরূপ বিষয়াদি ; এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মের শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)পরামর্শ প্রদান করাও কমিশনের কর্ম । সরকারী কর্ম কমিশনের জন্য এগুলি খুবই উত্তম কাজ তাতে কোন সন্দেহ নাই । এজন্য তারা প্রসংসার যোগ্য ।

তবে এখন প্রশ্ন হলো সরকারী বেসরকারী সকলেই প্রজাতন্ত্রের অধীন । দেশের চাকুরী খাতের একটি ছোট অংশ সরকারী খাতের জন্য যদি বিশাল কলেবলের অবকাঠামো ও বার্ষিক প্রায় ৭৪ কোটি টাকা বাজেটের একটি সরকারী স্থায়ী কর্ম কমিশন থাকতে পারে তাহলে দেশের সর্ববৃহত বেসরকারী খাতে জন্য অনুরূপ সেবা দানকারী একটি বেসরকারী কর্ম কমিশন থাকলে বেসরকারী চাকুরী খাতের সকলের জন্য চাকুরী প্রবিধানমালা , নির্বাচন , নিয়োগ, পদায়ন , পদন্নতি , অবসরভাতা , অন্যান্ সুযোগ সুবিধা দেখা এবং সে অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্নধার রাস্ট্রপতিতে পরামর্শ করতে পারত । যদিও দেশে শ্রম ও কল্যান মন্ত্রনালয়ের অধীনে বেসরকারী খাতের জন্য বিবিধ প্রকারের সেবা ও সার্ভিস প্রদান করা হচ্ছে তার পরেও যখন একটি সরকারী শুন্য পদের জন্য হাজার বেকার ও সকার সকলেই হুমরী খেয়ে পরে , তাহলে বুঝতেই হবে বেসরকারীখাতের উন্নয়ের জন্য নিয়োজিত বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান সমুহের সমুহের সাফল্যট কতটা ।

মধ্যপ্রাচ্যের তৈল সমৃদ্ধ দেশসমূহে প্রচুর সংখ্যক শ্রমিকের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে আন্তর্জাতিক শ্রম দপ্তরের অধীনে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান শাখাকে আলাদা করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো নামে সম্পূর্ণ আলাদা যে সরকারী নির্বাহী প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়েছে সে রকম যদি আরো একটি প্রতিষ্ঠান করা যেতো যারা দেশের ভিতরেই যেখানে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাব রয়েছে সেখানেই কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে পারতো , তাহলে ভিটেমাটি বিক্রি করে দেশের শ্রমিকদেরকে বিদেশের পানে ছুটতে হতোনা । ভিটে মাটি বিক্রি করে বিদেশে গিয়ে তারা যে পরিমান রেমিটেন্ম দেশে পাঠায় তার থেকে কয়েকগুন বেশী সম্পদ নীজ দেশেই উৎপাদন করতে পারত , দেশে দক্ষ শ্রমিকের তীব্র চাহিদা রয়েছে এটাতো দেশের সরকারী গবেশনা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস এবং খোদ অর্থমন্ত্রী নীজেও বলেছেন যার কথা লেখাটির মাঝের অংশে দেখা যাবে একটু খানি সামনের দিকে আগালেই।

ছবি -১২: জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ভবন

এ প্রসঙ্গে আরো বলা যায় জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য- এম.ডি.জি. অর্জনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা- এন.জি.ও'র কাজের পরিধি বাড়াতে আসছে বাজেটে ১শ' কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন এম.ডি.জি. বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এম.ডি.জি. বাস্তবায়নে এনজিও'র ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় এ প্রস্তাব করেন তিনি। জানিনা বিশ্বের সর্ববৃহত এই বাংলা ব্লগের লেখা তাঁর নজরে পড়বে কিনা , তবে এ বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষন করা হল তিনি যেন সরকারী বেসরকারী খাতে চাকুরীর সুযোগ সুবিধার সমতা বিধানের বিষয়টি এম ডি জি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্মের পরবর্তী সন্মেলনে তুলে ধরেন । বেসরকারী খাতের চাকুরী যেন সরকারী খাতের পিছনে না পড়ে । ২০০০ পদের জন্য যেন ৪ লক্ষ আবদেন জমা না পরে । আমার নিশ্চিত ধারনা দেশে সরকারী চাকুরীর জন্য এই রেকর্ড পরিমান আবদেন পত্র জমা পড়ার বিষয়টি তাদের দৃষ্টি একবারেই এড়িয়ে গেছে । আর তাদেরই বা কি বলব, অল্প সংখক পদের বিপরীতে এত বিশাল মাপের আবদেন পত্র পড়ায় খোদ সরকারী কর্ম কমিশনের কর্তাব্যক্তি সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন সরকারী চাকুরীর প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থা বেড়েছে বলেই এত বেশী আবেদন পরেছে। কিন্তু এটা যে দেশের চাকুরী বাজারের জন্য একটি অশনি সংকেত এ কথাটা তাদের বুঝাবে কে । নাগরিক প্লাটফরমতো ব্যস্ত আছে এন জি ও দের জন্য শত কোটি টাকার বাজেট বাগাতে।

ছবি-১৩ : নাগরিক প্লাটফরম,বাংলাদেশ


বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা অনুসারে বাংলাদেশে বেসরকারী খাতে ভোগ্যপণ্য উৎপাদন, বিপণন, আর্থিক সেবা খাত, শিক্ষা , প্রশাসন , কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পর্যটনশিল্প, আবাসন, স্বাস্থ্য, তথ্য-প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে ক্রমাগতভাবে উল্লেখযোগ্য হারে ৷ কাজের সুযোগ বেড়েছে টেলিযোগাযোগ, পোশাকশিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও৷ এছাড়া বাংলাদেশের ওষুধশিল্পটিও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় একটি খাত হিসেবে আত্ম প্রকাশ করেছে৷ সরকারি চাকরির বাইরে প্রতিবছর এসবখাতে এখন প্রায় ৭০ হাজার চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয় বলে জানা গেছে ।
এছাড়াও বাংলাদেশে পোশাক শিল্পখাতটি কর্মসংস্থানের দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তারা চাহিদামত দক্ষ জনশক্তি পাচ্ছে না ৷ বাংলাদেশের পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা কয়েক হাজার, যাঁরা মোটা অঙ্কের বেতন পান ৷ মার্চেন্ডাইজার, প্যাটার্ন মাস্টার ও ডায়িংয়ে অনেক বিদেশি কাজ করেন ৷

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এখন দরকার ডিজাইনার, বিশেষ করে ফ্যাশান ডিজাইনার৷ কিন্তু আমরা ভুরি ভুরি সাধারণ মাষ্টার ডিগ্রিধারী তৈরি করছি, যাঁদের কাজ নেই , ফলে বিসিএসে বাড়াচ্ছে ভীর ৷ অন্যদিকে ফ্যাশান ডিজাইনার আনছি বিদেশ থেকে৷ পোশাক খাতেই আমরা বছরে বিদেশিদের বেতন দিয়ে থাকি অন্তত পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ আমাদের দক্ষ জনশক্তি নেই বলে কর্মসংস্থানের পোশাক, চামড়া এবং ওষুধশিল্পের মত বড় তিনটি খাতের মূল পদগুলো এখন বিদেশিদের দখলে ৷

আরো দু:খের কথা হলো দেশে দক্ষ জনবলের এত বিশাল অভাব থাকার পরেও বিদেশে থাকা দক্ষ মেধাবীদেকে কেন দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছিনা সে বিষয়টি নিয়ে আমার পুর্বের পোষ্টে বিজ্ঞ সহব্লগারদের অনেক মুল্যবান মতামত পাওয়া গেছে । সকলের কথাতেই গভীর হতাশার সুর ব্যক্ত হয়েছে । বিদেশে উচ্চ পারিশ্রমিক ও অনুকুল পরিবেশের বিপরীতে দেশে উপযুক্ত পরিবেশ ও নিরাপত্তার অভাবই হতাশার মুল কারণ বলে সকলেই বলেছেন ।উচ্চ পারিশ্রমিক , সাথে সাথে নীজ মেধা ও দক্ষতার প্রমান দিতে পারলে তরতরিয়ে উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহন সহজ বলেই যে শুধু দেশের মেধাবীগন বিদেশ ছেড়ে দেশে আসছেন না তাতো নয়, বরং দেশ হতে হাজার হাজার মেধাবী তরুন প্রতি বছর বিদেশে পারি জমাচ্ছেন । বিভিন্ন সুত্র হতে প্রাপ্ত বিদেশের উচ্চ বেতনের কয়েকটি চাকুরির চিত্র নীচে তুলে দেয়া হল শুধু বুঝাতে কেন তারা বিদেশের প্রতি আকৃষ্ট হবেন না ।

বিশ্বের যে চাকুরিতে বেতন সবচেয়ে বেশি তাদের মধ্যে কয়েকটি চাকুরীর বেতনের দিকটা তুলে ধরা হল । চাকুরি বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘কেরিয়ারকাস্ট’-এর হিসেবে ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি বেতন পেয়েছেন সার্জন বা শল্য চিকিৎসকরা ৷
ছবি -১৪ : শল্য চিকিৎসক

গড়ে একেক জন শল্য চিকিৎসকের বাৎসরিক বেতন ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার৷ ফোর্বস কতৃক তৈরীকৃত তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন মনোবিজ্ঞানীরা ৷ তাদের গড় বাৎসরিক বেতন ১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার৷ জেনারেল প্র্যাকটিশনার বা জিপি চিকিৎসকদের চাহিদাটাও গোটা বিশ্বেই ক্রমশ বাড়ছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের গড় বেতন ১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার৷৷মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে উচুঁ পর্যায়ের একেকজন কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ বা নির্বাহীর গড় বেতন বাৎসিক ২ লাখ মার্কিন ডলার৷
ভালো দন্ত চিকিৎসকের বাৎসরিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার । ফোর্বস-এর তালিকার ছয় নম্বরে রয়েছে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারের গড় বাৎসরিক বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার৷ আইটি স্পেশালিষ্টদের চাহিদাটাও তরতরিয়ে বাড়ছে, সে ক্ষেত্রে অনুযায়ী পর্যাপ্ত চাকুরিপ্রার্থী এখনো পাওয়া যাচ্ছে না৷একজন আইটি স্পেশালিস্টের গড় বাৎসরিক বেতন ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার৷আর একটা উল্লেখযোগ্য উচ্চ বেতনের চাকরী হল ফার্মাসিস্ট । ফার্মাসিস্টদের গড় বাৎসরিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার৷ তাদের চাহিদাও বাড়ছে ক্রমশ৷বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয় এখানেও এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে ।
ছবি -১৫ : ফার্মাসিস্ট

উন্নতমানের অনুকুল পরিবেশ ও উচ্চ বেতন হারের কারনে বিদেশে কর্মরত বিভিন্ন পেশার বাংলাদেশী মেধাবীগন দেশেতো ফিরছেনই না বরং দেশের মেধাবীগন উচ্চ বেতন ও নানাবিধ পরিবেশগত কারণে বিদেশমুখী হচ্ছেন । আর একে আরো উস্কে দিচ্ছেন দেশের কর্মকমিশন ও অন্যান্য সকল নীতি নির্ধারকেরা ।

দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণখাতে বিপুল আকারের শিক্ষিত ও দক্ষ জনবলের অভাব থাকার পরেও বিসিএস ক্যাডারের হাজার দুয়েক শুন্য পদের বিপরীতে কেন প্রায় ৪ লক্ষের মত আবেদন পরে , কি মধু আছে সেখানে , আর কেনই বা সেখানে দেশের উচ্চ শিক্ষিত গ্রাজুয়েটগন হুমরী খেয়ে পরেন তা তলিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে । সেখানে শুধু বেকাররাই আবেদন করেননা অনেক ভার্সিটি শিক্ষক ও অন্য পেশার নন ক্যডার সরকারী চাকুরী জীবীগনও আবেদন করে থাকেন বলে দেখা গেছে।

উচ্চ বেতনে নিয়োজিত অনেক বেসরকারী কর্মকর্তগনও বিসিএস ক্যাডার কিংবা নন ক্যাডার পদের জন্য আবেদন করেন । বেতন যাই হোক না কেন তবু উচ্চ বেতনের বেসরকারী চাকুরী ছেড়ে তারা সরকারী চাকুরীর দিকেই বেশি ঝুকেন । এর কারণ বহুবিধ । অনেক সময় অনৈতিক সুবিধা হাতরিয়ে নেয়ার সুযোগ ছাড়াও সরকারী চাকুরীর নিষ্চয়তা, চাকুরী হারানোর ভয় না থাকা , ছুটিছাটা , বোনাস ভাতা , সরকারী গাড়ী বাড়ি , টেলিফোন সর্বোপরি অবসরকালীন গ্রাচুইটি, মোটা অংকের এক কালীন ও মাসিক পেনসন সুবিধা প্রভৃতি কারণে সরকারী চাকুরীর প্রতি মোহ থাকাটাই স্বাভাবিক । বেসরকারী চাকুরীতে দৃশ্যমান আর্থিক বেতনের পরিমান অনেক সময় বেশী দেখা গেলেও সরকারী চাকুরীর মত অনেক দৃশ্য ও অদৃশ্য দমনমুলক ব্যবস্থা বিশেষ করে হায়ার এন্ড ফায়ারের ভয় , তার পরেও নতজানু হয়ে সারা জীবন চাকুরী করেও অন্তিমকালে কোন রকম পেনসন সুবিধা না থাকার কারণে বেসরকারী চাকুরীর প্রতি মানুষের এত অনিহা। এখানে উল্লেখ্য যে সুযোগ সুবিধা কম হলেও সরকারী খাতের থেকে বেসরকারী খাতের জনবলের শ্রমিক উৎপাদনশীলতা অনেক বেশী । তাই এ মহুর্তে সরকারী চাকুরীর মত বেসরকারী চাকুরীর মধ্যে সমতা বিধান কিংবা ভারসাম্য বিধান অতিব জরুরী হয়ে পড়েছে ।

এ লক্ষ্যে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে বেশ সুন্দর সুন্দর কর্মসুচী গ্রহন করেছে । বিষয়টি এক দিনে আসে নাই, এর জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হয়েছে। ব্লগের এই স্বল্প পরিসরে এ বিষয়ে নাতিদীর্ঘ রচনাতে অনেকের অনীহা ধরতে পারে বিবেচনায় সকল বিষয় বিস্তারিত ভাবে বলা সম্ভব নয় এখানে । তাই বিশ্বের বুকে অন্যতম কল্যানমুলক দেশ যুক্তরাজ্যের কিছু অভিজ্ঞতার কথা সংক্ষেপে তুলে ধরা হল এখানে শুধু একটা দিক নির্দেশনা দেখাতে । সকলের মুল্যবান আলোচনায় সঠিক গতি পাবে বলে ধারনা করি ।

ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স স্কীম, যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ

সরকারী চাকুরীর মত বেসরকারী চাকুরীজীবীদেরকে সুবিধা দেয়ার জন্য ত্রিপক্ষীয় যথা সরকার , নিয়োগকারী এবং শিল্প শ্রমিকদের নীজ কনট্রিবিউসন ভিত্তিক স্বাস্থ্য বীমা কর্মসুচীর আদলে ১৯১১ সনে ‘’ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স এক্ট ১৯১১” নামে একটি কর্মসুচী প্রবর্তন হয় যুক্তরাজ্যে । ‌‌এটিই ছিল বৃটেনে আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি এবং সে সময়কার সরকারের ব্যাপক সামাজিক কল্যাণ সংস্কারের একটি অংশ। ‌‌‌‌‌‌‌সে সময় রাজনৈতিক দলগুলি ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স কে কিভাবে নির্বাচনী লিফলেটে ব্যবহার করেছিল তাদের সামাজিক কল্যানমুলক সংস্কারের জন্য তা নিন্মের চিত্রে দেখা যেতে পারে ।

ছবি-১৭ : ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স লিফলেট

এই সংস্কারটি বৃটেনে শুরু হওয়ার পিছনের পটভুমির দিকে তাকালে দেখা যায় তারা এটা নিয়েছে জার্মানীর অভিজ্ঞতা হতে । সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় বিশ্বে যখন বিপ্লবের ডেও আছরে পড়ছিল তখন জটিল একটি রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা সমাজতান্ত্রিক শত্রুদের কাছে চলে যেতে পারে বিবেচনায় শ্রমিক শ্রেণীর সমর্থন লাভের লক্ষ্যে জার্মান চ্যান্সেলর বিসমার্ক (Otto von Bismarck) জার্মানীতে প্রথম কল্যান রাস্ট্রের প্রবর্তন করেন ।

ছবি -১৮ : ১৮৭১-১৮৯০ পর্যন্ত জার্মান সাম্রাজ্যের ক্ষমতাশীণ সোসালিষ্ট চ্যান্সেলর বিসমার্ক


অসুস্থ শ্রমিকদেরকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য ১৮৮৪ সনে জার্মান চ্যন্সেলর বিসমার্ক প্রবর্তিত বাধ্যতামুলক বীমা ব্যবস্থাটিকে বৃটিশ লিবারেল সরকারের অর্থমন্ত্রী ( চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার ) লিয়ড জর্জ অনুসরণ করেন । তিনি ১৯০৯ সনে তার ইতিহাস বিখ্যাত “People's Budget ”বক্তৃতায় নতুন সামাজিক কল্যান কর্মসুচীর অর্থায়নের জন্য একটি অভুতপুর্ব কর কাঠামোর প্রস্তাব করেন, যার অধীনে বিত্তমানদের আয় এর উপরে প্রগ্রেসিভহারে ট্যাক্স ধার্য করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার এই প্রস্তাবে সমর্থন করেন বৃটেনের সর্বকালের সেরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উইনস্টন চার্চিল, যিনি সে সময়ে বোর্ড অফ ট্রেডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন (পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে বৃটেনে প্রধানমন্ত্রী ও ২০০২ সনে বিবিসি আয়োজিত ভোটে ( Poll) সর্বকালের সেরা বৃটিশ রাজনৈতিক ব্যক্তিতের স্বীকৃতি অর্জন করেন ) । এই রকম আয়কর ধার্যের জন্য লিয়ড জর্জ ও চার্চিল কে "Terrible Twins" হিসাবেও সে সময় অভিহিত করা হত । হাউস অব লর্ডসের বাধার মুখেও বাজেট বক্তৃতায় প্রস্তবিত বিষয়টি পার্লামেন্টে পাশ হয় । পরবর্তীতে পিপলস বাজেটটি একটি রেভলিউশনারী কনসেপ্ট হিসাবে গন্য হয় এই কারণে যে সেটাই বৃটিশ ইতিহাসে প্রথম বাজেট ছিল, যা করাপরোপের মাধ্যমে সংগৃহীত আয়কে কল্যানমুলক কর্মসুচীর আওতায় দেশের সকল নাগরিকের প্রতি সমভাবে বন্টনের কাঠামো ও সিসটেম প্রবর্তন করে । এর ফলেই পরবর্তীতে ১৯১১ সনে ‘’জাতীয় বীমা এক্ট ১৯১১’’ পাশে সহায়ক হয়েছিল ।

ছবি-১৯ : The "Terrible Twins" Lloyd George and Winston Churchill in 1907 during social reforms.


জাতীয় বীমা স্কীমের অধীনে সে সময়ে শ্রমিকদেরকে মুলত স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা প্রদান করা হতো, আর শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন ও ফ্রেন্ডলী সোসাইটি গুলি এই জাতীয় বীমা স্কীমের কার্যাবলী বাস্তবায়নে গুরুত্ব পুর্ণ ভুমিকা পালন করত । ট্রেড ইউনিয়ন ও ফ্রেন্ডলী সোসাইটি বহির্ভুতদেরকে স্থানীয় পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে অসুস্থতাজনীত স্ব্যাস্থ বীমার সুবিধা দেয়া হতো ।এই আইনটি বেকার শ্রমিকদের জন্য কলুষিত সমাজের ঘুণেধরা কল্যাণমূলক সামাজিক প্রবিধানের ওপর নির্ভরশীলতা দুরিভুত করে। নতুন মডেলে গৃহীত সমাজিক কল্যান ব্যবস্থা দারিদ্র্যসীমার অবসানকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে ১৯২৯ সালের দারিদ্র্য আইনের ( Poorman’s Law) বিলুপ্তি ঘটে যার অধীনে মুলত দরিদ্রদেরকে ভিক্ষামুষ্ঠির মত যৎসামান্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হত ।

ছবি-২০ : Woodcut-16th century, gentleman giving alms to beggar

ন্যাশনাল ইনসিউরেসন্স এক্ট ১৯১১ এ মুলত দুটি অংশ ছিল । প্রাথমিকভাবে ন্যাশনাল ইনসিউরেন্সের আওতাধীন দুটি পরিকল্পনা একে অপরের পাশে চলছে, একটি হল স্বাস্থ্য ও পেনশন বীমা সুবিধা অন্যটি হল বেকারত্ব বেনিফিট যা সরাসরি সরকার কতৃক পরিচালিত ছিল।

প্রথম অংশ -১ : স্ব্যাস্থ্য সংক্রান্ত

ন্যাশনাল ইনসিওরেন্স এ্যাক্ট পার্ট -১ এর আওতায় মেডিক্যাল বেনিফিটের ব্যবস্থা ছিল । বছরে £ ১৬০ পাউন্ডের ( বর্তমান হারে টাকার মুল্যে প্রায় ১৭৫০০টাকা) নিচে আয় অর্জন কারী সমস্ত শ্রমিককে এই ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স স্কিমে সপ্তাহে ৪ পেন্স ( প্রায় ৪ টাকা) করে দিতে হতো ; নিয়োগদানকারিদেরকে দিতে হত ৩ পেন্স ( প্রায় ৩ টাকা ) এবং সাধারণ করদাতাদের পক্ষ হতে ( রাস্ট্রীয় কোষাগার ) দেয়া হত ২ পেন্স ( ২ টাকা) হারে। লয়েড জর্জ এটিকে "চারপেন্সের বদলে নয়পেন্স" বলে অভিহিত করেছিলেন । ফলস্বরূপ, শ্রমিকেরা অসুস্থতার জন্য ছুটি নিতে পারত এবং প্রথম ১৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সপ্তাহে ১০ শিলিং করে ভাতা পেত এবং পরবর্তী ১৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সপ্তাহে ৫ শিলিং করে পেত । শ্রমিকেরা বিনামূল্যে চিকিৎসাৎ সুবিধাও পেত । যক্ষ্মা ও অসুস্থতার জন্য একটি প্যানেল ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসার জন্যও তারা যোগ্য ছিল। পরবর্তীতে কো-অপারেটিভ উইমেনস গিল্ডের চাপের কারণে ন্যাশনাল ইনসিওরেন্স এ্যাক্টটির মাধ্যমে মাতৃত্ব ভাতা ও সুবিধা প্রদানের বিষয় যুক্ত হয় ।

ছবি-২১ : A 1940 contribution card for an employed woman

সুত্র : Click This Link
এই ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স স্কীমটি বাস্তবায়নে অবশ্য বেশ কিছু নিয়ম কানুন ও বাধ্যবাধকতা ছিল । এটি একটি ব্লগ পোষ্ট বিধায় ন্যাশনাল ইনসিউরেন্সের বিস্তারিত খুটিনাটি নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়নি তবে এই লিংকে গিয়ে বিস্তারিত দেখে নেয়া যেতে পারে

ন্যাশনাল ইনসিওরেন্স পার্ট -২: বেকারত্বকালীন সুযোগ সুবিধা

ন্যাশনাল ইনসিওরেন্স এক্ট পার্ট-২ এর আওতায় কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক শিল্প বিশেষত বিল্ডিং ট্রেডস, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফাউন্ড্রি, যানবাহন উত্পাদন এবং করাতকল শ্রমিকদের জন্য সীমিত-সময় বেকার ভাতা প্রদানের বিধান ছিল। শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও করদাতাদের কাছ থেকে একটি নির্ধারিত হারে কনট্রিবিউশনের মাধ্যমে এর জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা ছিল । এর আওতায় শ্রমিককে প্রতি সপ্তাহে দিতে হতো ২.৫ পেন্স, নিয়োগকর্তাকে ২.৫ পেন্স, এবং সাধারণ করদাতাগন দিত( রাষ্ট্রীয় তহবিল হতে) ৩ পেন্স করে । এক সপ্তাহকাল কর্মে নিয়োজিত থাকার পরে বেকারত্বকালীন সময়ে একজন শ্রমিক ১৫ সপ্তাহ পর্যন্ত ৭ শিলিং করে বেকারভাতা প্রাপ্তি যোগ্য ছিল । ১৯১৩ সাল নাগাদ ২.৩ মিলিয়ন শ্রমিক বেকারত্ব বেনিফিট স্কিমের অধীনে বিমাভুক্ত হয়েছিল এবং প্রায় ১৫ মিলিয়ন শ্রমিক সিকনেস বেনিফিটের জন্য বিমাভুক্ত হয়েছিল ।

১৯৪২ সালে সরকার কতৃক গঠিত কমিশনের রিপোর্ট ( বেভারেজ রিপোর্ট নামে পরিচিত) অনুসারে সামাজিক বীমা নামে একটি পরিকল্পনাযর আওতায় আরো কিছু সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারণ করে কল্যান রাস্ট্র ব্যবস্থায় একীভুতকরণের জন্য প্রস্তাব করে । উল্লেখ্য
লর্ড ভেভরিজ একজন প্রখ্যাত বৃটিশ ইকনোমিস্ট এবং সেসাল রিফরমার । দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধত্তর কালে বৃটেনকে আধুনিক কল্যান রাস্ট্রে রুপান্তরে বেভারিজ কমিশনের রিপোর্ট গুরুত্বপুর্ণ ভুমকা পালন করে । বেকারত্ব বীমা ব্যবস্থাটি বেভারিজ রিপোর্টের আলোকেই পুর্ণতা পায় ।
ছবি-২২ : William Beveridge, photographed in 1943

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ১৯৪৩ সালের মার্চ মাসে "যুদ্ধের পর" শির্ষক একটি জাতীয় সম্প্রচারে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য ‘দোলনা হতে কবর পর্যন্ত’ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বাধ্যতামুলক জাতীয় বীমা (national compulsory insurance) চালু করার জন্য সরকারী প্রতিশ্রুতির ঘোষনা দেন ।

১৯৪৫ সনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে বৃটেনে সরকারে পালাবদল ঘটে । এটলির নেতৃত্বে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসে । সরকারের পালা বদল হলেও পুর্বতন কনজারভেটিভ পার্টির সরকার প্রধান চার্চিলের সরকারী প্রতিশ্রুতিকে বাতিল তো করেইনি বরং আরো জোড়ালোভাবে বস্তবায়ন করে বৃটেনকে কল্যান রাষ্ট্রের আদর্শে পরিনত করে । ১৯৪৮ সনে বৃটেনে ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স নামে একটি নতুন মন্ত্রনালয় সৃস্টি করে তার মাধ্যমে একটি সিংগেল স্টাম্প এর আওতায় নতুন কল্যান রাস্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধা নাগরিকদেরকে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয় । কর্মে নিয়োজিতদের জন্য class 1 স্টাম্প কার্ড প্রবর্তন করা হয় , এবং এই কার্ড ১৯৭৫ সন পর্যন্ত বলবত ছিল ।

ছবি-২৩ A British 1948 National Insurance stamp, once used to collect contributions to the scheme

এর পরে এই স্টাম্প কার্ড রহিত করে NI কনট্রিবিউশনকে ফ্লাট রেটে আয় এর সাথে সম্পর্কিত করা হয় এবং একটি গড় বাধা ( flat rate) হারে Pay as you earn ( PAYE) আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।
এইন্যশনাল ইসনিউরেন্স এক্টে ব্যপক আকারে সস্প্রসারণমুলক একটি সংশোধনী আসে ১৯৪৮ সনে । এই সংশোধিত স্কীমের আওতায় প্রদত্ত বেনিফিট প্যকেজের মধ্যে প্রাথমিকভাবে অসুস্থতা ও বেকার ভাতা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে এতে অবসরকালীন পেনসন ও অন্যান্য আরো বেশ কিছু বেনিফিট যুক্ত করা হয় ।

সংক্ষেপে NI নামে পরিচিত ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স মুলত রাষ্ট্রিয় সুযোগ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তহবিল আহরনের জন্য শ্রমিক ও নিয়োগকারী নিকট হতে অর্থ প্রাপ্তির নিমিত্ত একটি করারোপ ব্যবস্থা । প্রথম দিকে একটি স্ট্যাম্প এর মাধ্যমে এই স্কীমের জন্য শ্রমিকদের নিকট হতে প্রয়োজনীয় অর্থ আহরণ করা হলেও পরবর্তীতে PAYE system এর মাধ্যমে HM Revenue and Customs (HMRC) অধীনে এই NI কনট্রিবিউশন সংগ্রহ করা হয় । ন্যাশনাল ইনসিইরেন্স ভুক্ত হওয়ার জ্য প্রত্যেকেরই একটি ইউনিক ন্যাশনাল নাম্বার প্রয়োজন হয় । বৃটেনের নাগরিকদের ১৬ বছর বয়স হলে অটোমেটিক এ্‌ই নম্বর পেয়ে যায় , বিদেশী অভিবাসীদেরকে এ নম্বর পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয় । এটা ছাড়া সেখানে কেও চাকুরী করতে পারে না সে সরকারী বেসরকারী যেটাই হোক না কেন । স্ব-কর্ম সংস্থানকারীদেরকেও এই NI নাম্বার বাধ্যতামুলকভাবেই থাকতে হয় ।

নীচের চিত্রে একজন বেসরকারী কর্মজীবির সাপ্তাহিক বেতন/মজুরী পরিশোধের পে স্লিপ দেখা যেতে পারে । এর মধ্যে তার আয় হতে প্রতি সপ্তাহে কি পরিমান এন আই ( NI) ও আয়কর কেটে নিয়ে সাথে সাথে সরকারের রাজস্ব অফিস HMRC জমা দেয়া হচ্ছে দেখা যেতে পারে । নিয়োগকারীও প্রতি সপ্তাহে কি পরিমান অর্থ তার কর্মীর অনুকুলে HMRC তে জমা করছে তাও দেখা যাবে এখান হতে । তাই একজন চাকুরীজীবী একটি চাকুরী ছেড়ে অন্য আর একটি নতুন চাকুরীতে গেলেও তার পেনসন কিংবা অন্যবিদ সুযোগ সুবিধার জন্য তার নিয়োগকারীর উপরে নির্ভরশীল হতে হবেনা । সময়কালে সরকার হতে যথা নিয়মে সে তার প্রাপ্যতা অনুযায়ি সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ও অবসর ভাতা পেয়ে যাবে । সে সরকারী না বেসরকারী চাকুরীজীবী তা তেমন কোন বিষয় না ।

ছবি -২৪ : একটি পে স্লিপের নমুনা ।

সুত্র : https://moneysoft.co.uk/payslips/
স্ব-কর্ম সংস্থানকারী কোন ব্যক্তি কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবশায়ীকেও করসীমার বাইরে নীট আয়ের উপর একটি নিদৃষ্ট হারে এন আই কনট্রিবিউট করতে হয় । তার বেনিফিট এনটাইটলমেন্ট অক্ষুন্ন রাখার জন্য কোন গ্যাপ থাকলে তাও তাকে পুরণ করতে হয় । ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স স্কীমের অধীনে প্রদেয় বেনিফিট প্যকেজের আওতায় প্রাপ্যতা অনুযায়ি বিভিন্ন রকমের বেনিফিট প্রদান করা হয়, যার মধ্যে বেকারত্বকালীন সাপ্তাহিক ভাতা, , মাতৃত্বভাতা , প্রতিবন্ধি ভাতা, মৃত্যুর পর অবসর ভাতা সহ কিছু এককালীন অর্থ দান করা হয় । উল্লেখ্য যে, কোন একজন তার কর্মজীবনে কি পরিমান এন আই কনট্রিবিউশন করেছে তার উপরে তার ভাতা ও বেনিফিটের পরিমান নির্ভর করে ।

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা প্রায় ২২ ভাগই অর্জিত হয় ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স খাত হতে । যার পুরাটাই পুর্ণবন্টন হয় সামাজের সকল স্তরের নাগরিকের কাছে । একজন নিয়োগী যে হারে NI কনট্রিবিউট করে তার বিনিময়ে সে রাস্ট্রের কাছ হতে অনেক বেশী সুবিধা ভোগ করে । এ বিশ্বাসটা আছে বলেই সকলে স্বেচ্চায় এটা মেনে চলে । কেও দুই নম্বরী করলে আখেরে সে নীজেই ভোগে । কোন নিয়োগকারীও কোন ২ নম্বরী কাজ করে ধরা খাইলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আদালতের আদেশে চিরকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় অতি স্বল্প সময়ের ভিতরে ।

ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স ফান্ড হতে সুনির্দিষ্ট ওয়েলফেয়ার খাতগুলিতেই শুধু অর্থ সংস্থান করা হয় , সকল প্রকার সরকারী খাতে ব্যয় নির্বাহের জন্য এনআই ফান্ড হতে অর্থায়নের সুযোগ নাই । তবে এ খাতের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকার সিউরিটি বন্ড ক্রয় খাতে বিনিয়োগ করতে পারে এবং উক্ত বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত অর্থ ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স ফান্ডেই জমা হয় ।

২০১৬/১৭ আর্থিক বছরে NI তহবিলে মোট জমাকৃত অর্থের পরিমান ছিল ৯৫.৮৬ বিলিয়ন পাউন্ড । NI তহবিলের খাতওয়ারী অর্থ ব্যবহারের বিভাজন নীচে দেখানো হল বেনিফিট প্রবাহের চিত্রটা দেখানোর নিমিত্ত :

রাস্ট্রীয় পেনশন ৯১.৭২ বিলিয়ন পা‌উন্ড
এমপ্লয়মেন্ট সাপোর্ট এলাউন্স ৪.৭০ বিলিয়ন
বিরিভমেন্ট বেনিফিট ০.৫৬ বিলিয়ন পাউন্ড
মেটারনিটি এলাউন্স : ০.৪৩ বিলিয়ন পাউন্ড
জব সিকার্স এলাউন্স ০.২৬ বিলিয়ন পাউন্ড
খ্রিস্টমাস বোনাস ০.১৩ বিলিয়ন পাউন্ড
অক্ষমতা বেনিফিট ০.৮৮ বিলিয়ন পাউন্ড
গার্জিয়ান’স এলাউন্স ০.০০২ বিলিয়নপা উন্ড

এই বিশাল আকারের ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স কার্যকলাপ সুচারুরূপে বাস্তবায়নে সরকারী সংস্থা Her Majesties Revenue and Customs (HMRC) বাৎসরিক ব্যয় হয়েছে ০. ৬৯ বিলিয়ন পাউন্ড যা NI খাতে আহরিত অর্থের ০.৭১ ভাগ মাত্র । কত সুচারু ও ব্যয় সাস্রয়ী তাদের এই সুবিশাল কল্যানমুলক আর্থিক কর্মকান্ড । সরকারী কোষাগারে জমাকৃত অর্থ যেন এদিক সেদিক হতে না পারে তার জন্য অতন্ত্র নজরদারী ব্যবস্থা রয়েছে । নিন্মে দেয়া Royal Coat of Arms এর চিত্রটি দেখা যেতে পারে । দুউ দিকে দুই ভয়ানক প্রহরী দাড়িয়ে আছে , একটু এদিক সেদিক করার কোন উপাই নাই ।
ছবি -২৫ : Royal Coat of Arms of the United Kingdom

১৯৫৩ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবথের সময়কাল হতে বর্তমান পর্যন্ত গ্রেট ব্রিটেন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সকল ক্ষেত্রে এই রয়্যাল কোট অফ আর্মস ((স্কটল্যান্ড ব্যতীত) ব্যবহৃত হয়।

এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য বাংলাদেশে ২০১৬/১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব খাতের আয় ও মুনাফার উপর কর খাতে আয় ছিল
৬২৭৫৪.৩৩ কোটি টাকা। এর বিপরিতে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি ও অবসর ভাতা খাতে ঐ অর্থবছরে ব্যয় হয় ৬৪৪৪৭.৪২ কোটি টাকা যা দেশের সকল আয়কর প্রাপ্তি থেকেও বেশী আর এর সিংহভাগই এসেছে বেসরকারী খাত হতে । বলা চলে সারা দেশের মানুষ আয়কর খাতে যে পরিমান টাকা রাজ কোষাগারে জমা দেয় তার পুরাটাই ব্যয় হয় সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরই পিছনে।

ছবি-২৬ : বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব ভবন

দেশের সরকারী ও বেসরকারী খাতের চাকুরী ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসমতা দুর করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের মত একটি ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স স্কীমের বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা বিষয়টি যদি আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক নীতি নির্ধারকেরা পর্যাপ্তভাবে বিচার বিশ্লেষন করে দেখতেন তাহলে সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীর সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সমতা বিধান সম্ভব হতে পারে । দেশের এত বিশাল রাজস্ব ভবনের শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ্যে যারা বসে আছেন তারা যদি পৃথিবীর কল্যানমুলক উন্নত দেশের সুফলদায়ক কর্মসুচীগুলির মধ্য থেকে উপযুক্ত বিষয়গুলি বেছে নিয়ে আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার সাথে খাপ খাওয়ায়ে পলিসি গ্রহন ও বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন, তাহলে দেশের সরকারী ও বেসরকারী চাকুরী খাতে সমতা সহসা না আসলেও একটি গ্রহনযোগ্য মাত্রার ভারসাম্যতো আসতে পারে বলে বিশ্বাস করাই যায় । জানি দু এক দিনে এটা সম্ভব নয়, তবে একটু চেষ্টা করে দেখলে ক্ষতি কি । যাহোক এর জন্য সর্বাজ্ঞে প্রয়োজন জনগন ও দেশের রাজনৈতিক দলসমুহের আন্তরিক সদিচ্ছা ও নীজেদের মধ্যে মত বিনিময় করে জনমত গড়ে তোলা । তাই সরকারের নীতি নির্ধারক সহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলের , প্রতি আমাদের দাবী রইল যদি হিম্মত থাকে তাহলে নির্বাচনী ইসতেহারে সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীর সুযোগ সুবিধার সমতা বিধানের জন্য একটি প্রতিশ্রতি দেন । আমরাও দেখি আখেরে কে কতটুকু পারেন ।


লেখা ও তথ্য সুত্র : যথাস্থানে লিংক সুত্র আকারে দেয়া হয়েছে।
ছবি সুত্র : গুগল অন্তরজাল , সংস্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল ।

মন্তব্য ১০৭ টি রেটিং +২০/-০

মন্তব্য (১০৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৫৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


শেখ হাসিনা ১ দফা দিলেই জয়ী হয়ে যাবেন, "২০৪১ সালের মাঝে প্রশ্নপত্র ফাঁসকরা বন্ধ করা হবে"।
বেগম জিয়ার জিয়ার ১ দফা দিলেই জয়ী হবেন, "তত্বাবধায়ক সরকার না দেয়া পর্যন্ত গুলশানের অফিসে ঘুমাবো"

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ প্রথমেই একটি যুতসই মন্তব্য দানের দানের জন্য

শুভেচ্ছা রইল

২| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৫৭

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি অনেক সময় নিয়ে, অনেক ভেবেচিন্তা লিখেছেন, পড়ে মন্তব্য করবো।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:১৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , পরে এসে দেখবেন শুনে খুশী হলাম ।

৩| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:২৭

শাহিন-৯৯ বলেছেন: সবকিছু করা সম্ভব তখন, যখন রাষ্ট্রের ভিতর একটা শক্তিশালী গনতন্ত্র তৈরী করা যাবে কারণ গনতন্ত্র না থাকলে জবাবদিহিতা থাকে না, আর জবাবদিহিতা না থাকলে কল্যাণ রাষ্ট্র স্বপ্ন মাত্র। আপনার উদাহরনে দেওয়ার অধিকাংশ রাষ্ট্রে গনতন্ত্রের একটি শক্তিশালী মান নিয়ে আছে।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ শাহিন-৯৯, খুবই মুল্যবান কথা বলেছেন ।
সকলের সঠিক অনুভুতিই নিয়ে যেতে পারে
আমাদেরকে শক্তিশালী গনতন্ত্রের দিকে।

শুভেচ্ছা রইল ।

৪| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:০৮

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: নির্বচনের আগে তো এদেশের রাজনৈতিক দল গুলো কত কথায় বলে তার সব কিছুই তো ক্ষমতায় গেলে ভুলে যায়।
বেকারদের নিয়ে এ দেশের কোন সরকারই বলার মত কিছু করেনি।
যারা বেসরকারি চাকরি করে তাদের তো তিনবেলা ভয়ে থাকতে হয় না জানি কখন চাকরি চলে যায়।বিনা কারনে চাকরি গেলে এদেশে কোথাও অভিযোগ করার যায়গাও নাই।সবাই ক্ষমতা নিয়েই ব্যস্ত।জনগনের কথা ভাবলে আজ দেশের এই বেহাল অবস্থা হত না।
রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সব জায়গাতেই অবস্থা করুন।সামনের দিন গুলোতে কি আছে উপরওয়ালই জানেন।
আর আমাদের অর্থমন্ত্রীতো একটা রাবিস।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই মোস্তফা সোহেল । আপনি ঠিকই বলেছেন , রাজনৈতিক দল ক্ষতায় গেলে সব ভুলে যায় ।
তবে আমরাও কম যাইনা , ক্ষমতায় থাকাকালে রাজনৈতিক দলগুলি আকাম কুকাম যা করে
ভোটের সময় এলে তাদের মিষ্টি মিস্টি কথায় আমরাও তা ভুলে গিয়ে তাদের বাক্স ভরে
দিয়ে আসি ভোটে । তাই জনগনের সঠিক সচেতনতাই দিতে পারে মুক্তির দিশা ।

অর্থ মন্ত্রীর মুল্যায়নটা একেবারে সঠিক হয়েছে ।

শুভেচ্ছা রইল ।

৫| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:২০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
বিশাল আয়োজন,
তবে যাদের জন্য লেখা
তাদের ঘুম ভাঙবে কী ?

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , ঠিকই বলেছেন যাদের জন্য বলা তাদের ঘুম ভাঙ্গবেনা ।
অআমাদেরই কি ঘুম ভাঙ্গে । সম্ভব হলে আবার এসে দেখে
যেতে পারেন সচেতন ব্লগবাসিদের অনেকেই কেমন ঘুমিয়ে
আছে ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৬| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৯

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: দু'দলই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগনকে স্বপ্ন দেখিয়ে ফায়দা হাসিল করতে চায়।

ভাল-মন্দ তাদের কাছে পরে বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠে।

অনেক কিছু জানা ও বুঝা হল।

ধন্যবাদ।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ বিষয়টা জেনে ও বুঝে মুল্যবান মতামত দানের জন্য ।
আমাদের বেকার তরুন সমাজের মঙ্গলের জন্য সকলের
মাঝে সচেতনতা আসুক এ কামনাই করি ।

শুভ কামনা রইল

৭| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৪৭

শামচুল হক বলেছেন: অনেক গুরুত্বপূরণ পোষ্ট।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: পোষ্টটিকে গুরুত্বপুর্ণ
অনুভুত হওয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল ।

৮| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৩৮

Bangladeshi Moinul বলেছেন: অনেক সময় নিয়ে লেখা। লেখকের এই লেখার শ্রমের কথা ভেবে নিজেই শরীরে গ্লুকোজের অভাব বোধ করছি। তবে যাদের উদ্দেশ্যে লেখা, তাদের টনক নড়বে কি সহসা?

সরকার সরকারী আর বেসরকারি খাতকে সমতায় আনবে কি, উলটো সরকারী চাকুরীকে অত্যধিক মূল্যায়ন এবং দেশে বেসরকারি খাতকে অবমূল্যায়ন করার মাধ্যমে, আমাদের মত ছাত্রদের বড্ড বিসিএসমূখী করে তুলছে।

আমাদের আড্ডায় একটা কথা খুব প্রচলিত আছে, আর সেটা হল, দেশে থাকলে বিসিএস দাও আর দেশ ছাড়া থাকতে পারলে জি আর ই দিয়ে বাহিরে চলে যাও। যদিও আড্ডার কথা এটা, কিন্তু এটাই এখন চরম বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতা কিন্তু এমনি এমনি আসেনি।

আসলে আমার মনে হয় বাংলাদেশের যেকোনো সরকার ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা হাতে নিতে চায় না, পাছে তার শুরু করা উন্নয়ন কিছুদিন পর ক্ষমতার রদবদলে যাওয়া অন্য সরকার সেটা কাজের সমাপ্তি টেনে শেষোক্ত সরকারের নামটাই না আবার বসিয়ে দেয়। আমাদের দেশে নামের ব্যবসার খুব চড়া দাম।

লেখকের এমন গবেষণামূলক লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: দীর্ঘ এই পোষ্টটি কষ্ট করে পাঠ করে
মুল্যবান মন্তব্য রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

সরকার সরকারী আর বেসরকারি খাতকে সমতায় আনবে কি, উলটো সরকারী চাকুরীকে অত্যধিক মূল্যায়ন এবং দেশে বেসরকারি খাতকে অবমূল্যায়ন করার মাধ্যমে, আমাদের মত ছাত্রদের বড্ড বিসিএসমূখী করে তুলছে।

এ বিষয়টি নিয়ে সমাজের সকল স্তরের মানুষের চিন্তা ভাবনা করার সময় এখনই তা না হলে ভয়াবহ পরিনতি হতে পারে।
হতাশায় নিমজ্জিত বেকার শিক্ষিত জনশক্তি যে কোন কর্মপন্থা বেছে নিতে পারে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৯| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:০৭

ফয়সাল রকি বলেছেন: ছবি-৫: ...
ছবি-৫: ...
ছবি-৭: ...


দুইটা ছবি ছবি-৫ হয়ে গেছে!

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ গভীর মনযোগ দিয়ে পাঠের জন্য ।
ভ্রমটুকু সংশোধন করে দিয়েছি ।

শুভেচ্ছা রইল ।

১০| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


শিক্ষার পরই চাকুরী হলো সবচেয়ে বড় মৌলিক অধিকার; শেখ হাসিনাও চাকুরী করছেন, বে্তন নিচ্ছেন,ভাতা নিচ্ছেন, বাড়ী পেয়েছেন, গাড়ী পেয়েছেন, সিকিউরিটি পেয়েছেন; সেই চাকুরীতে থেকে উনি অনুধাবন করতে পারছেন না যে, রিকসা-টানা একটি সঠিক চাকুরী নয়, রিকসা-ড্রাইবারের দরকার সন্মানজনক চাকুরী, ওর ঘরের দরকার, বাচ্ছাদের পড়ালেখার দরকার, ভাতার দরকার, বুড়ো বয়সে পেনশনের দরকার; শেখ হাসিনা এগুলো অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, উনি ভালো কর্মী নয়, উনার চাকুরী চলে যাওয়ার দরকার আছে।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৪১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অসাধারণ অনুভব । সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি
দরদ ফুটে উঠেছে মন্তব্যের কথামালাতে ।
দেশের সরকার প্রধানের যদি সঠিক অনুভব না আসে
তাহলে দুর্গতি বয়ে আনে সমাজে ও দেশে ।
তাই সকলের মাঝে সঠিক অনুভুতি আসুক
এ দোয়া করি আল্লার সনে ।

শুভ কামনা রইল ।

১১| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৪১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অসাধারণ অনুভব । সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি
দরদ ফুটে উঠেছে মন্তব্যের কথামালাতে ।
দেশের সরকার প্রধানের যদি সঠিক অনুভব না আসে
তাহলে দুর্গতি বয়ে আনে সমাজে ও দেশে ।
তাই সকলের মাঝে সঠিক অনুভুতি আসুক
এ দোয়া করি আল্লার সনে ।

শুভ কামনা রইল ।

১২| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৪৯

আল ইফরান বলেছেন: ড. আলী ভাই, যথারীতি অন্যান্য পোস্টের মতই পর্যাপ্ত গ্রাউন্ডওয়ার্ক করে লেখা।
এই একটা লেখা যদি ঠিক মানুষের হাতে যেত তাহলে হয়ত অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটতো। আর ধন্যবাদ দেয়া মানে আপনার পরিশ্রমকে ছোট করা।
একটি দেশের উন্নতির পরিমাপক নির্ধারিত হয় কি পরিমান সুযোগ-সুবিধা বেসরকারি খাতে সরকার বরাদ্দ করছে, সরকারি খাতের ফ্যাসিলিটিজ বৃদ্ধির মধ্যে নয়। দরিদ্র রাস্ট্রগুলোতেই কেবল এই ধরনের সুপিরিয়ির সার্ভিস নামে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃস্টি হয় স্বয়ং রাস্ট্রের হাতেই। অধিকন্তু সামাজিক নিরাপত্তা বলতে কোন ধারনাই এখানে জন্মলাভ করে নাই। দেশ যেই সামনে না হেটে পেছনের দিকে যাচ্ছে সেইটা বুঝার জন্য এই একটা ইন্ডিকেটরই যথেস্ট।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ আন্তরিক প্রসংসায় অনুপ্রানীত হলাম ।
এই পোষ্টের মর্মকথাই একবাক্যে সুন্দর করে বলে দিলেন ,

একটি দেশের উন্নতির পরিমাপক নির্ধারিত হয় কি পরিমান সুযোগ-সুবিধা বেসরকারি খাতে সরকার বরাদ্দ করছে, সরকারি খাতের ফ্যাসিলিটিজ বৃদ্ধির মধ্যে নয়। দরিদ্র রাস্ট্রগুলোতেই কেবল এই ধরনের সুপিরিয়ির সার্ভিস নামে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃস্টি হয় স্বয়ং রাস্ট্রের হাতেই। অধিকন্তু সামাজিক নিরাপত্তা বলতে কোন ধারনাই এখানে জন্মলাভ করে নাই।

আমি মুগ্ধ এত সুন্দর মুল্যায়নে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

১৩| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৩৪

সোহানী বলেছেন: আমি জানি না এ লিখাটি অর্থ মন্ত্রনালয় শিক্ষা মন্ত্রনালয় বা অন্য কোন আমলাদের চোখে পড়বে কি না..... কিন্তু বিশ্বাস, চোখে পড়লেও পড়বে না, পড়লে ও বুঝবে না আবার বুঝলেও মাথায় ঢুকাবে না বা কিছু করার তাগিদ বোধ করবে না।

কতটা গভীর চিন্তা থেকে বা কতটা পরিশ্রম থেকে এ লিখা সম্ভব তা কল্পনা করতে ও ভয় পাচ্ছি।

অালী ভাই, সব উপদেশ, দিক নির্দেশনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলে ও মনে হয় আমরা চোখ খুলি না কারন আমরা চোখ খুলেই অন্ধের মতো চলি। কারন উপায় নেই, একজন দুইজন দেশকে পরিবর্তন করতে পারে না। দরকার সমস্টিগত চেষ্টা, দরকার প্রশাসনিক চেস্টা... যেটা কোনভাবেই একা সম্ভব নয়। কিন্তু যারা এ নিয়ে চিন্তা করবে তারা কি তা করতে পারছে.... আপনি কখনো দেশের মন্ত্রনালয়গুলো কাজ করেছেন বা কোন কাজে গিয়েছেন? যদি যান তাহলে বুঝতে পারবেন আমার কথা। কম দু:খে দেশ ছেড়ে সবাই যাচ্ছে না..... বা বলতে পারেন বাধ্য হচ্ছে। আগে প্রসাশন ঠিক করেন, ওয়ান বাই ওয়ান.... তারপর সব কিছুই নিয়ন্ত্রনে আসবে বা আসতে বাধ্য হবে।

অনেক ভালো থাকেন........

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ২:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ বোন সোহানী লেখাটি মনযোগ দিয়ে পাঠের জন্য । আমি জানি এ লেখাটি অর্থ মন্ত্রালয় শিক্ষা মন্ত্রনালয় কিংবা অন্যান্য সংষ্লিষ্টদের নজরে পড়বেনা । তাদের মুল্যবান সময় নষ্ট করে এ সমস্ত লেখা পড়ার সময়ই বা কোথায় । সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রনালযের উর্ধতন কর্মকর্রতাদের টেবিলে স্তুপাকার আকারে পড়ে থাকতে দেখা গেছে । কোন কোন ফাইলে মাত্র দুই চার লাইন পড়লেই ফাইল গুলি তারা ছেড়ে দিতে পারেন ডিসিসন কিংবা করনীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়ে । কিন্তু তাদেরতো সে সময়টুকুও হয়না বিবিধ কারণে।

আপনি ঠিকই বলেছেন চোখে অাঙ্গুল দিয়ে দেখালেও তারা তাদের মতের বাইরে কিছু থাকলে তা দেখবেনা ।
তবে আমাদের সকলের মাঝে সচেতনাতা সৃস্টি হলে তার একটা প্রভাব অার্থ সামাজিক সংস্কারে পড়বেই কোন না
কোন ভাবে । দেশের মঙ্গলের জন্য দেশের বাইরে থেকেও গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখা যায় । আপনার সমাজ সচেতনতামুলক
লেখাগুলিতেও থাকে গুরুত্বপুর্ণ দিক নির্দেশনা যা জনমত গঠনে সহায়তা করে । কোন বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনা প্রনয়নের জন্য
সে বিষযের উপর জনমত খুবই প্রভাবশালী ভুমিকা রাখে । এটা প্লানিং প্রসেসেরই একটি গুরুত্বপুর্ণ অংশ্ । তাই হতাস হওয়ার
কোন কারণ নাই । কোন শুভ উদ্যোগই বিফলে যায়না , তবে একটু সময় নেয় এই যা পার্থক্য ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

১৪| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১:০৬

কালীদাস বলেছেন: এই পোস্টের সব টপিকে কমেন্ট করা সম্ভব না :(

একটা জিনিষ বলতে পারি। উচ্চশিক্ষা। এই জিনিষ এখন পরিণত হয়েছে সামাজিক চাহিদায়। বিগত পনের বছরে ব্রিটিশ মার্কিং সিসটেম থেকে আমেরিকানে কনভার্ট করার সময়; সব কয়টা দল মাথায় রেখেছে পাশের সংখ্যা বাড়ানো। অবাক লাগে। এত ছোট, এত গরীব একটা দেশ এই লাখ লাখ গ্রাজুয়েটকে উপযুক্ত চাকরিটা দেবে কোথায়? সবাইকে অনার্স মাস্টার্স করালে সেরকম জবমার্কেটও থাকতে হত; যেটা এমনকি পশ্চিমা দুনিয়ার ধনী দেশগুলোও সবসময় পারে না। চাইনিজরা সত্তরের দশকে যেটা করেছিল সেটা অনেকের জন্য স্বপ্ন ভংগকারী হলেও লংরানে চায়না অনেক লাভবান হয়েছে। আমি চায়নাকে ফলো করার কথা বলছি না। আমি বলছি একটা উপযুক্ত লেভেল ঠিক করা উপরের লেভেলে পড়ার জন্য।

টেকনলজিকাল সেক্টরে যাবে এই গ্রাজুয়েটরা কাজ করতে গতর খাটিয়ে? দেশ ধীরে ধীরে হলেই এজিং সোসাইটি হবে আর ৩০ বছরের মধ্যে, তখন এই ইন্ডাস্ট্রিগুলো চালাবে কারা? সবাই ম্যানেজারিয়াল পোস্টে যেতে চায়, সবাই ডাক্তার/ইন্জিনিয়ার হয়ে কোটিপতি হতে চায়; বাবামাও সায় দেয় পুরাদমে সোশ্যাল স্ট্যাটাসের কথা ভেবে। তার সাথে রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি আর পলিটিক্স।

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ২:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: এই পোষ্টের সব টপিকে কমেন্ট করা সম্ভব না হলেও এটা যে গভীর মনযোগ দিয়ে পাঠ করেছেন সেটাই বড় প্রাপ্তি । :)

ঠিকই বলেছেন সব কিছুর মূলেই আছে শিক্ষা । শিক্ষা অতি ব্যপক একটি বিষয় , এর কোন আদি অন্ত নেই । এর চাহিদারো শেষ নেই । ব্যক্তিগত , পারবারিক, সামাজিক , রাষ্ট্রিয় , ও বৈশ্বিক সব ক্ষেত্রেই রয়েছে এর চাহিদা । চাহিদাকে সঠিকভাবে নিরোপন না করে এর যোগান বাড়িয়ে গেলে বিপর্যয় অনিবার্য্য। তাইতো হাজার দুয়েক বিবিএস পদের বিপরীতে ৪ লাখের মত উচ্চ শিক্ষিতরা হুমরী খেয়ে পরে । এই দুর্দিনের বাজারে গবীব পিতামাতার বেকার সন্তানদেরকে ৭০০ টাকা ফিস দিয়ে দরখাস্ত করার বিধানটি দেখে মনটা খারাপ হয়ে পড়ে । কৃতৃপক্ষ ভাল করেই জানেন ( গত বছর হাজার খানেক পদের বিপরীতে দরখাস্ত পড়েছিল আড়াই লাখের মত )লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ২০০০ জনকে চাকরী দিতে পারবে । বাকীরা যদি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ নস্বর ও পেয়ে সমান সমান মেধার প্রকাশ ঘটাতে পারে তাহলেও তাদেরকে চাকুরী দেয়া যাবেনা কোন প্রকারে। তারপরেও শুধু মেধাবী তালাসের নামে জেনে শুনে এত বিপুল সংখ্যক দারিদ্র পিড়িত বেকার ছেলেমেয়েদর পকেট থেকে ৭০০ টাকা করে আবেদনপত্র ফিসের বিধানটা রাখা হল কেন? এমনটি দেখে শুনেই দুটো কথা বলতে গিয়ে এই পোষ্টটা জনম নিয়েছে ।

যাহোক বিষয়টাতে সকলের সচেতনতা প্রয়োজন আছে বলে মনে পড়ে ।

মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

শুভ কামনা রইল ।

১৫| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৩:৩৫

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: খুবই সুন্দর ভাবনা। তবে আরো এক ভাবে যে মেধাবীরা সুযোগ পাচ্ছে না তা হয়তো এড়িয়ে গিয়েছে আপনার গবেষণায়। তা হলো কৌটা সিস্টেম। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও কি একটা উদীয়মান মধ্যম আয়ের দেশের জন্য কৌটা সিস্টেমের দরকার আদৌ আছে? মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান না হয় পেতে পারে, কিন্তু তাদের পৌত্ররা কেন? এই কৌটার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেধাবী ভালো নম্বর পেয়েও সুযোগ পায় না আর কম নম্বর পেয়েও অন্যরা সুযোগ পায়। মাত্রই তো দেখলেন বন্দরের লস্কর হওয়ার জন্য এক একজন ৪/৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছে। এই ঘুষ বাণিজ্য কে বন্ধ করবে? যোগ্যরাই চাকুরি পাক সরকারী বা বেসরকারী।

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১:১২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বিলম্বিত উত্তরের জন্য অতিব দু:খিত ।
সকল অনিয়মের মুল কোটা সিসটেম ।
এদিকে বলবে মেধাবী নিব , আরদিকে
বলবে কোটায় নিব তাহলে আর মেধা
যাচাইএর জন্য এত বিশাল মহযজ্ঞ কেন।
কোন প্রতিযোগীতায় নীজকে টিকিয়ে রাখার
জন্য মানুষ গড়ার শিক্ষার কার্যক্রমে প্রথম থেকেই
তাদের জন্য প্রয়োজনে কোটা সিসটেম থাকতে পারে ।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদেরকে উপযুক্তভাবে
গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা জীবনের শুরু হতেই
যথাযথ আর্থিক সহায়তা দেয়া আবশ্যক ।
তাহলেই তারা যোগ্যতা অর্জন করে
প্রতিযোগীতামুলক চাকুরীর বাজারে নীজের
অবস্থান নীজেই করে নিতে পারবে ।
খেলোয়ার টিমে যদি যোগ্যদেরে
বাদ দিয়ে কোটায় একজন কি দুইজন খেলোয়ার
নেয়া হয় তাহলে খেলায় হার ঠেকাবে কে ।
তেমনি ভাবে দেশের প্রাসাসনিক ক্যাডারে যদি
মেধাবীদের জায়গায় কোটায় চলে আসে কেও
তাহলে অবস্থাটা কি দাঁড়াবে !!!

তবে চাকুরীর বাজারে কোটায় ঢুকতে হলেও
সেটার নাকি প্রয়োজন পড়ে বলে শুনা যায় ।
কি আর বলা আশা দেখিনা কোথাও ।
তবু ভাল সুদিনের আশাতেই থাকি ।

শুভেচ্ছা রইল ।


১৬| ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:০৭

মনিরা সুলতানা বলেছেন: বিশাল গবেষণা পত্র আলীভাই
এমন কেবল আপনার দ্বারাই সম্ভব !!!!!!

শুভ কামনা ভাইয়া ।

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: খুব খুশি হলাম শ্রদ্ধেয় আপুমনির আগমনে ।
সামুর পাতায় কোন একজনের লেখায় ২০২৪ টি পদের জন্য এত বিশাল সংখ্যক আবেদন পত্র জমা পড়ায় বিষয়টি পাঠ করে এটাকে নিয়ে মন্তব্য লিখতে ছিলাম। মন্তব্যের সাইজটা অনেক বড় হয়ে যায় । তখন মাথায় চিন্তা আসে এটাকে নিয়ে আলাদা একটা পোষ্ট দেয়া যায় । লেখা হলো শুরু । বিষয়টার উপর লিখতে লিখতে এর আকার শুধু বড়ই হতে থাকে । এখানে সামান্যই দিলাম । বাকিটা নিয়ে পুস্তক প্রকাশের চিন্তাটা আবার মাথায় ঢুকে । প্রকাশকের সাথে কথা চলছে । দোয়া করবেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তেমন কারো কোন সারা শব্দ বলেই দেখা যাচ্ছে । ভাবছি এটাকে নিয়ে আমাকে একাই কিছু দিন পথ চলতে হবে । দেশের ক্ষমতায় যেতে পারলে ভালই হতো :) কোন দল বিষয়টিকে নির্বচনী ইসতেহারে না আনলে ভাবছি এটাকে নির্বাচনী ইসতেহার বানিয়ে একাই মাঠে নামব !!!!! ড.ইউনুসের মত দৌড় না খেলে হয় !!!

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

১৭| ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৪০

মো: নিজাম গাজী বলেছেন: খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট দিয়েছেন। কিন্তু কথা হলো আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কি ক্ষমতায় আসার পরে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার কি পূরন করে? এই সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলছিলো ঘরে ঘরে চাকরি দিবে। কিন্তু আসলে কি ঘরে ঘরে চাকরি দিয়েছে??

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ খুবই মুল্যবান কথা বলার জন্য । নির্বাচনী ইসতেহার বস্তবায়নে ব্যর্থতার জন্য যদি জনগন শক্ত করে চেপে ধরতে পারে তাহলে অবস্থার উন্নতি হতে পারে । সকল ক্ষমতার উৎস জনগন এটা দেশের সকল জনতাকে দৃঢ়ভাবে মনে গিথে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী বিবিধভাবে জনগনের প্রতিক্রয়া পারিবারিক রাজনৈতিক দলের মালিকদের বুঝিয়ে দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলিতো মুলত এখন একটি পারিবারিক সংগঠন । জনগন নীজেরাই এদের পদবীর পরিবর্তন করে দিতে পারে , যেমন রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা চেয়ারপারসনকে ম্যনেজিং ডাইরেকটর ( এম ডি ) হিসাবে টাইটেল দিয়ে পারে । জনগন যেমন কাওকে দেশনেত্রী বা জননেত্রী টাইটেল দেয় ,আর রাজনৈতিক দলের প্রধানেরাও তা খুশী মনে মেনে নেয় তেমনি জনগনের দেয়া এম ডি টা্ইটেল মেনে নেয়ার আপত্তি থাকার কথা নয় !!!! কথাগুলি অনেক দু:খে বলা হল ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

১৮| ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:২৯

প্রামানিক বলেছেন: সরকারী চাকুরির বেতন এবং নিশ্চয়তার কারনেই বেকাররা সরকারী চাকুরির পিছনে হন্যে হয়ে ছোটে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে যদি চাকরী হারানোর ভয় না থাকতো তাহলে অনেকেই সরকারী চাকুরীর জন্য এত হা পিত্যেস করতো না।
অনেক পরিশ্রমের একটি পোষ্ট দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

ধন্যবাদ প্রামানিক ভাই , এসে দেখায় খুব খুশি হলাম ।

সেই জন্যইতো সরকারী বেসরকারী চাকুরীর সমান সুযোগ
সুবিধা বিধানের দাবী তুলছি। সকলেই মিলে চেষ্টা করলে
একদিন সমান সুযোগ হয়ে যাবে এমনকি বেসরকারী
চাকুরীর সৃযোগ সুবিধা সরকারী চাকুরীর চেয়েও
বেশী হয়ে যেতে পারে। সরকারীত লোকজন
শত শত কোটি টাকা খরচ করে মেধা খুঁজতে
খুঁজতে নীজেদের মেধাটাকেই খুইয়ে
ফেলবে তার সুস্পষ্ট আলামতো
বিবিধভাবে দেখাই যাচ্ছে ।

শুভেচ্ছা রইল

১৯| ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৪৭

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: সর্বাগ্রে প্রয়োজন গনতন্ত্র, জবাব দিহিতা, জনকল্যান মুলক সরকার আর আইনের শাসন ।
কিছু রেপারেন্সের জন্য আমি পোষ্টটি প্রিয়তে নিলাম।

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:২০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ মুল্যবান মতামতের জন্য ।
আমরা সকলে সচেতন হলে আশা করি
বেসরকারী চাকুরী খাতের উন্নতি হবে ।
প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃত্জ্ঞতা জানবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

২০| ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৩

বিজন রয় বলেছেন: কেমন অাছেন?

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আগে বলেন এতদিন কোথায় ছিলেন কেমন ছিলেন ।
আমার কথা কি আর বলব শরীরের সকল জায়গায় সমস্যা।
শুভেচ্ছা রইল

২১| ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৮

বিজন রয় বলেছেন: সব উত্তর দিয়ে দিব এক এক করে।
ধৈর্য ধরুন।

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:২৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ একে একে সকলই শুনব ।

২২| ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২৩

জেন রসি বলেছেন: খুব গুরুত্বপূর্ন কিছু বিষয় নিয়ে লিখেছেন। তথ্য এবং রেফারেন্স দিয়ে। যদিও পোস্টটি এক বসায় পুরোপুরি পড়ে শেষ করতে পারিনি। আবার পড়ব।

কল্যাণ রাষ্ট্র ধারনাটি নিয়েও বেশ বিতর্ক আছে। তবে এই মুহূর্তে প্রাগমাটিক রিজনেই আমাদের দেশের জন্য এটি একটি অন্যতম যৌক্তিক অপশন। দেশে শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে একটা বিশাল গ্যাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অনেক শিক্ষিত বেকার ক্রিয়েট হচ্ছে। প্রতিযোগিতা বাড়ছে নেতিবাচক অর্থেই। এসবের সমাধান না করতে পারলে বা তা করার জন্য কোন কার্যকরি অর্থনৈতিক পলিসি অ্যাপ্লাই করতে না পারলে প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ।

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ জেন রসি ভাই, অনেক মুল্যবান কথা বলেছেন ।
অসুস্থ তাই বেশি কথা লিখতে পারলাম না ।
দোয়া করবেন ।
শুভেচ্ছা রইল ।

২৩| ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৮

বিলিয়ার রহমান বলেছেন: এতো দেখছি আমারই মনের কথা বলে গেলেন ড. এম এ আলী ভাই!!


আপাতত প্রিয়তে রাখলুম!! কবে সময় পাবো জানিনা!! তবে আরো বলার জন্য অবশ্যই এই পোস্টে ফেরত আসব!:)

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:২৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ রহমান ভাই । প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
আপনার মুল্যবান পরামর্শ জানার অপেক্ষায় থাকলাম ।
বেশ অসুস্থতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি , দোয়া করবেন ।
শুভ কামনা রইল ।

২৪| ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১:০৭

আখেনাটেন বলেছেন: সুশাসন একটি জাতিকে খুবই দ্রুতই বিশ্ব কাতারে নিয়ে যেতে পারে। আমরা এতদিনেও এই জিনিসের দেখা পেলাম না। ফলে নানারকম হতাশা ও অাক্ষেপ নিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে।

জবাবদিহিতা না থাকলে সেচ্ছাচারিতা বাড়বে। প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃংঙ্খলা ভেঙে পড়বে। এগুলো প্রতিনিয়ত এ দেশে কালচারের মতোই হয়ে গেছে। ফলেই চারিদিকে এত এত অনিয়ম ও অনাচারের মচ্ছব।

উন্নয়ন সাসটেইনেবল না হলে এর উপযোগিতা মার খেতে বাধ্য। মূল্যবোধের উন্নয়ন ছাড়া এর বিনাশ হবে না অদূর ভবিষ্যতেও।

আপনার লেখায় অনেক বিষয় চলে এসেছে বিস্তারিতভাবে। প্রিয়তে রাখলাম। ভালো থাকুন।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ মুল্যবান মতামত রাখার জন্য । দু:খিত বিলম্বিত উত্তর দানের জন্য । শরীরটা দিন কয়েক যাবত ভাল যাচ্ছেনা ।
ঠিকই বলেছেন নানা রকম হতাশা ও আক্ষেপ নিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে । জবাবদিহিতা বিহীন স্বেচ্চাচারিতা
কেবলই বাড়ছে । এর ফলে অনিয়ম, দুরাচার ও দুর্নিতী শাখা প্রশাখা বিস্তার করছে । স্বগোত্রীয়দের মাঝেও ক্রমেই বিদ্বেষ
ও দুরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে । এইতো দিন কয়েক পুর্বে বিসিএস ক্যাডার ও সরকারী কলেজের নন বিসিএস শিক্ষকদের মধ্যে বলতে
গেলে যুদ্বংদেহী কির্তিকলাপ দেখা গেছে । সকলেই স্ব স্ব বিষয়ে বলতে গেলে সমান যো্গ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক । তারপরেও কতকিছু , একজন মাত্র মাধ্যমিক লেভেলের বিষয়সমুহের উপর মাত্র ২০০ নম্বরের বিসিএস পরীক্ষা পাশের কারণে সমগ্রোত্রীয় শিক্ষকদের চেয়ে নীজেদেরকে সর্বদিক দিয়ে সুপারিয়র মনে করছেন । দুই দিকেই জোড়ালো যুক্তি প্রদর্শন দেখা যাচ্ছে । বিষয়গুলির সুষ্ঠ সমাধান হওয়া প্রয়োজন ।শিক্ষকদের মাঝে আইন করে কাওকে কম বেশী সুযোগ সুবিধা দানের ফলাফল ভোগ করতে হবে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদেরকেই বেশী ।

লেখাটি প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

শুভেচ্ছা রইল ।

২৫| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৩:০৪

প্রামানিক বলেছেন: যদি সম্ভব হয় আমার ইমেইলে আপনার ফোন নাম্বারটা দিবেন [email protected]

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ ভোর ৪:০২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , খুশী হলাম যোগাযোগের ইচ্ছার কথা শুনে ।
দয়া করে ইমেইল চেক করুন ।

শুভেচ্ছা রইল

২৬| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৩:৪০

কবি হাফেজ আহমেদ বলেছেন: কেমন আছেন প্রিয় ভাইয়া? আপনার পোষ্টগুলো নিয়ে প্রশংসা করার সেই ভাষা আমার জানা নেই। তবে সম্পূর্ণ পড়েই মন্তব্য করবো। ছুটির দিনের অপেক্ষায় থাকলাম। ভালো থাকবেন, শুভকামনা সতত।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ ভোর ৪:০৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: সুপ্রিয় কবি ভাই,
কি যে বলেন , আপনার মত ভাষা জ্ঞান থাকলে ধন্য হয়ে যেতাম ।
ঠিক আছে পাঠ করে পরে জানালেও খুশী হব ।

শুভেচ্ছা রইল

২৭| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৭:৩৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ডঃ আলী: খুবই সুন্দর, তথ্য আর যুক্তি পূর্ণ লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ নিন প্রথমেই | সময়ের অভাবে আগে পড়তে পারিনি তাই একটু দেরিতেই পড়া হলো আপনার লেখাটা | অনেক বিষয় এসেছে আপনার লেখায় আমি কয়েকটা বিষয়ের ব্যাপারে জানি নিজে বাংলাদেশের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছি কয়েক বছর সেজন্য | একবার বিসিএস পরীক্ষার কিছু খাতাও দেখতে হয়েছিল | আমি আপনার বিসিএস পরিখার খাতা মূল্যায়নের ব্যাপারে কিছু বলি |

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার খাতা পুরোটাই হয়তো এখন কম্পেউটারে মূল্যায়িত হয় যেটা ঠিক আছে | কিন্তু মূল বিসিএস পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের আগে আমার যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সেটা হলো পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত সাব্জেক্টগুলোর ভারসাম্যহীনতা ঠিক করা | যেমন সামাজিক বিজ্ঞান, বাণিজ্য আর বিজ্ঞান বিভাগের একটা বিশাল সাবজেক্ট পুল থেকে এই পরীক্ষার সাব্জেক্টগুলো পরীক্ষার্থীরা বেছে নিতে পারে | এই সাব্জেক্টগুলোতে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনো ভারসাম্য নেই | যেমন বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছাত্রীরা যদি ম্যাথ, বা পরিসংখ্যান বিষয় হিসেবে পছন্দ করে তাহলে তাতে ১০০-তে পূর্ণ ১০০ মার্ক্স্ পাওয়া অসম্ভব নয় যেটা অর্থনীতি, সোশ্যলোজির কোনো সাবজেক্টে পাওয়া অসম্ভব | এই ভারসাম্যহীনতায় ভালো ক্যান্ডিডেট নর্বাচনের একটা অন্তরায় বলে আমার মনে হয় | ইউজিসির ফান্ডিং-এ আমি বাংলাদেশের বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়ে একটা গবেষণা করেছিলাম অনেক বছর আগে | সেখানে আমি বলেছিলাম কোটা ব্যবস্থাটাও বিসিএস থেকে তুলে দেওয়া দরকার সরকারি প্রশাসনে মেধা নিশ্চিত করার জন্য | নন ক্যাডারে কথা থাকতেই পারে | আমার রিসার্চের কয়েক বছর পর খুব সম্ভবত বিশ্বব্যাংকের ফান্ডিং-এ সরকারি কর্ম কমিশনের নিয়োগে একজন বিদেশী কনসালট্যান্ট এই বিষয়ে কোটা রোহিত করার কথা রেকমেন্ড করেন | এই জিনিসগুলো কিন্তু এখনো কার্যকর করা হয় নি | মেধার সমস্যা তাই এখনো প্রশাসনে রয়েই গেছে | প্রশাসনে শুধু নিয়োগ দিলেই হবে না, সেই নিয়োগ মেধাবীদের থেকেই করতে হবে যদি একটা কার্যকর ভবিষ্যৎমুখী প্রশাসন আমরা তৈরী করতে চাই |

আমাদের দেশে মনে হয় পাইকারি অনার্স মাস্টার্স পড়াবার ব্যপারটা নিয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে | এতো টাকা, সময় ব্যয় করে বেকার তৈরী করার ব্যাপারটা মনে হয় রিভাইজ করতেই হবে | কার্যকর ভকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের মধ্যে দিয়ে দুই বছর মেয়াদি শিক্ষার ব্যাপারটা জরুরি ভিতিত্তে ভাবা দরকার | যেসব জায়গায় আমাদের জনশক্তি দরকার সেই জনশক্তি দেশে তৈরী করাটা খুবই দরকার | গার্মেন্টস খাতের যে উদাহরনটা আপনি দিয়েছেন সেটা খুবই প্রাসংগিক | গার্মেন্টস সেক্টর একটা সামর্থ্যবান অর্থনৈতিক সেক্টর কিন্তু এতোদিনেই এটার সাস্টেইনেন্সের জন্য আমাদের কোনো প্রাগমেটিক পরিকল্পনা আমরা নিতে পারিনি এটা খুবই লজ্জ্বার | এই খাত থেকে বিদেশিদের যে মজুরি আমাদের দিতে হয় তা লজ্জ্বাজনক রকমের বেশি | আপনার আলোচনা এই বিষয়ে খুবই সুন্দর হয়েছে | |

আর সবশেষে আপনার লেখার শিরোনামের সাথে একটু দ্বিমত করছি | নির্বাচনী ইশতেহারে এগুলো অনর্ভুক্ত করে মনে হয় কিছু হবে না |ইশতেহারে কতরকম কথাইতো দলগুলো বলে -দশ টাকা কেজি চাল, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, শিক্ষিত বেকারদের চাকুরী নিশ্চিত করুন এরকম কত কি ! কিছুই হয়না শেষ পর্যন্ত | ইশতেহারে যোগ করলে কিছু হবে না |এর জন্য দরকার কিছু ভিশনারি নেতা | আমার ভয়, আমাদের মনে হয় সেরকম কোনো নেতা এখন নেই |আগেও মনে হয় ছিল না | নইলে এতো দিন এই গাড্ডায় পড়ে আছি আমরা ?

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:১৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ খুবই গুরুত্বপুর্ণ মতামত দেয়ার জন্য ।

বিসিএস এর নির্বাচনী বিষয় মুল্যায়ন প্রসঙ্গে আপনার মতামতের সাথে সহমত । এ বিষয়ে আপনার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতার কথাগুলি শুনে ভাল লাগল । বাংলাদেশের বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়ে আপনার গবেষণা লব্দ পরামর্শগুলো বাস্তবায়ন হলে নিশ্চয়ই অবস্থার কিছু উন্নয়ন হতো ।

বিষয়টি নিয়ে আপনার সাথে বিস্তারিত কথা বলার অবকাশ আছে বলে মনে হচ্ছে । কিন্তু এখন আমি বেশ অসুস্থ । কোন মতে শুয়ে শুয়ে কয়েক লাইন লিখতে পারছি । আমার জন্য দোয়া করবেন ।

আমার লেখাটির শিরোনামের বিষয়ে যতার্থ বলেছেন । তবে আমার দৃঢ় বিশ্বস দেশের কোন রাজনৈতিক দলই সরকারী-বেসরকারী চাকুরীতে সমান সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা নির্বাচনী ইসতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার হিন্মত রাখেনা । তারা এ কাজটি ভুলেও করবে বলে মনে হয়না ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

২৮| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৬

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন: যাদের নিয়ে লিখেছেন,তারা শুনলে তো বড় ভালো কথা!! সবচেয়ে বড় কথা নির্বাচনের আগে নেতারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, আর আমরা তা বিশ্বাস করি। এখন নেতাদের কথা শুনলে হাসি পায়,ভাই।একারণে, দেশের কোন খবর দেখি না। এখন যা হচ্ছে তাই ঠিক । খুব গুরুত্বপূর্ন কিছু বিষয় নিয়ে লিখেছেন। ধন্যবাদ।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ সুপ্রিয় কবি ভাই ।
সঠিক কথা বলেছেন নির্বাচনের আগে নেতারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে ।
আমরাও তা বিশ্বাস করি । তবে নেতারা আমাদের থেকেও দৃঢ়ভাবে
বিশ্বাস করে যে জনগন তাদের দেয়া মিথ্যা আশ্বাসগুলি বেমালুম ভুলে
যাবে তাদেরো আগে!!!!

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল



২৯| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:২১

নীলপরি বলেছেন: খুবই যুক্তিপূর্ণ কথায় গোছানো পোষ্ট । +++++++++

শুভকামনা ।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:২৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , এত এত প্লাসে মুগ্ধ ।
শুভেচ্ছা রইল

৩০| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৪৪

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: দেরিতে হলেও পড়ে ধন্য হলাম, সেই সাথে ব্লগের সদস্য হিসেবে গর্ববোধ করছি আপনার মতো বিচক্ষণজনদের এখানে বিচরণ বলে।
আপনার অনেক চিন্তাশীল যুক্তিনিষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পোষ্টে কৃতজ্ঞতা রাখছি বাংলাদেশি হিসেবে। কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, যা কাজে লাগাতে পারলে আমাদের দেশে আপনার শিরোনাম সফল হবে বলেই মনে হচ্ছে আমার।

অনেক অনেক শুভকামনা আপনার জন্য
সুস্থ সুন্দর হোক আপনার প্রতিক্ষণ।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:০৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ সুপ্রিয় নয়ন ভাই , আপনার কথাগুলি পাঠে ভাল লাগল ।
এ বিষয়টি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে আমি কাজ করতে চাই । এর জন্য
একটি উপযুক্ত প্লাটফরম প্রয়োজন হতে পারে । দোয়া করবেন যেন
বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৩১| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:১৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আগেরবার চুপচাপ শুধু পড়ে গিয়েছিলাম! পরে আবার কাজের ভীরে ভুলেও গেছিলাম! আজা আবার খুঁজতে এসে আবার চোখ বুলালাম!

হায়! আমাদের অথর্ব রাজনীতিবিদরা যদি বুঝতো!
আমাদের আমলারা যদি একটু চোখ মেলে দেখতো!
আমাদের নীতি নির্ধারকরা যদি একটু দেশকে ভালবাসত!
আমরা আমজনতা যদি সবাই মিনিমাম কনসাশ হতাম!

মিডিয়াগুলোর তো ছিটেফোটাও সামাজিক দায় নেই। কেবিই বানিজ্য! সংষ্কৃতির নামে
যা খূশি তাই করে পকেট ভরা! দেশ গঠনে, সমাজ বিনির্মানে, মানুষের মানসিকতাকে
পজিটিভ ডেভেলপমেন্টের যে হোম ওয়ার্কের সুয়োগ এবং ক্ষমতা তাদের আছে-
পুরোটাই ভুল পথে চালাচ্ছে!

একজন মাহাথির চাই! একজন বিপ্লবি! একজন দেশ প্রেমিক।

হ্যাটস অফ কৃতজ্ঞতা!

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১:১২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ খুব সুন্দর হয়েছে কাব্যিক ছন্দে বলা কথাগুলি
মন্ত্রমুগ্ধের মত পাঠ করলাম ।
বিষয়টি নিয়ে অনেক কিছুই করার আছে ।
সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে
সুযোগ সুবিধা সমান করার বিষয়ে অনেক
প্রতিবন্ধকতা আছে । রাজনৈতিক পর্যায়ে
যেমন আছে তেমনি আছে আমলা
তান্ত্রিক পর্যায়ে । তবে দেশের সকল
জনগন সচেতন হলে একটি গ্রহনযোগ্য
সুন্দর ব্যবস্থা বের হয়ে আসবে বলে
বিশ্বাস করি ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৩২| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৯

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: আপনার কথায় যুক্তি আছে। আমি চাই ভাল কিছু হোক টেকসই হোক ।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ভোর ৫:৪১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ কষ্ট করে পাঠান্তে মুল্যবান মতামত রাখার জন্য ।
আসলে ভাল ও টেকসই ব্যবস্থাটিই সকলের কাম্য,
আপনার বক্তব্যের সাথে সহমত ।

অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৩৩| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৪

সনেট কবি বলেছেন: একবার নজর বুলিয়ে গেলাম। আরো পড়তে হবে।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ এসে দেখার জন্য ।
আরো পড়বেন শুনে খুশী হয়েছি ।
ভাল থাকার শুভ কামনা রইল ।

৩৪| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৪

বিজন রয় বলেছেন: বিদায় ২০১৭, স্বাগতম ২০১৮,......... নতুনের শুভেচ্ছা রইল।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৫০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ ,
আপনার জন্যও রইল নতুনের শুভেচ্ছা ।

৩৫| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:০০

মোহেবুল্লাহ অয়ন বলেছেন: দুয়া করি নতুন বছরে যাতে আল্লাহ আপনাকে কল্যাণময় জিনিস দিয়ে জর্জরিত করে ফেলে! :D

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ , আপনার জন্যও নতুন বছরের শুভেচ্ছা রইল ।
কামনা করি নতুন বছরের দিনগুলি হোক শুভ ফলে পরিপুর্ণ ।

৩৬| ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১:৫০

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: নতুন বছরের শুভেচ্ছা রইল ।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অপনার জন্যও নতুন বছরের বিলম্বিত শুভেচ্ছা রইল ।
মন্তব্যটি যথাসময়ে দেখে আপনার পোষ্ট এ গিয়ে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে
এখানে আর ফিরে আসা হয়নি মনভুলে । এ জন্য দু:খ প্রকাশ করছি ।

৩৭| ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৮:২২

কথাকথিকেথিকথন বলেছেন:





শুভ ভোর ২০১৮!

সময়গুলো কেটে যাক সমৃদ্ধির পোয়ারায় ভেসে...

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আপনার জন্যও রইল শুভ নবর্ষের শুভেচ্ছা ।
কামনা করি নতুন বছরের দিনগুলি হোক শুভতে পরিপুর্ণ ।

৩৮| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৩:০৬

ঠ্যঠা মফিজ বলেছেন: বেশ সময় নিয়ে পুরো লেখা পড়ে মন্তব্য করতে আসবো ভাই।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৮ ভোর ৪:২৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , পরে এসে দেখার কথা শুনে খুশী হলাম ।
শুভেচ্ছা রইল

৩৯| ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১০:০৮

জুন বলেছেন: কি ব্যাপার অনেকদিন হলো নতুন কোনো লেখালেখি নেই যে !!
সব দিক দিয়ে ভালো আছেন তো ?

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ এসে কুশল জানার জন্য । শরীরটা ভাল যাচ্চেনা । লেখালেখিতে বেশী সময় দিতে পারছিনা । তবে সামুতে নিয়মিত বিচরন করছি । পাঠ করা সকল পোষ্টে মন্তব্যের ঘরে বেশী কিছু লিখতে পারছিনা । দোয়া করবেন যেন পুর্ণ সুস্থতা নিয়ে ফিরে আসতে পারি।

শুভেচ্ছা রইল

৪০| ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:২৩

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: কেমন আছেন শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ..... অনেকদিন আমি ব্লগে আসতে পারিনা কর্মব্যস্ততার জন্য। তাই আপনাদের সাথে কথা হয় না অনেকদিন। আপনি সুস্থ আছেন নিশ্চয়।

আপনার সুস্থতা কামনায় সবসময়
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানবেন ভাই

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ নয়ন ভাই । অআশা করি ভাল আছেন।
আপনার শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অন্তরের অন্তন্থলে গ্রহন করে নিলাম ।
আপনার প্রতিও ভালবাসা ও শুভ কামনা রইল ।

৪১| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৪:০৩

বিজন রয় বলেছেন: খবর-টবর কি?

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , কদিন যাবত দেশের খাজনা পাতির বিষয়াদি নিয়ে একটি লেখায় ব্যস্ত আছি ।

৪২| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:২৯

নতুন নকিব বলেছেন:



চোখ এড়িয়ে যাওয়ায় এই পোস্টে মন্তব্যে আসা হয়নি বলে দুঃখিত!

আপনার পোস্ট মানেই নতুন কিছু পাওয়া। দীর্ঘ গবেষনামূলক পোস্ট। নিসন্দেহে অনেক সুন্দর এবং বেশ সময়োপযোগী পোস্ট।

অনেক ভাললাগা এবং শুভকামনা।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ এসে দেখার জন্য । বিবিধ কারণে কোন পোষ্ট দেখতে বিলম্ব হতেই পারে ,
এটা আমারো হয় এর জন্য দু:খ প্রকাশের কোন প্রয়োজন নেই ।
পোষ্ট টি সুন্দর হয়েছে জেনে ভাল লাগছে ।

আপনার জন্যও শুভকামনা রইল ।

৪৩| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:১০

মনিরা সুলতানা বলেছেন: কেমন আছেন ভাইয়া !!!
নভেম্বরে শেষ পোষ্ট ছিলো , অনেকদিন নতুন লেখা নেই আপনার !!!
আশা করছি ভালো আছেন ?

অনেক অনেক শুভ কামনা
আপনার নতুন লেখার অপেক্ষায় ।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আপুমনি এখানে এসে কুশল জানতে চাওয়ায় খুশী হয়েছি ।
সকালে মেডিকেল চেক আপ করা হয়েছে । বলেছে সবকিছু নরমাল আছে ।
লেখালেখিতে মনে হয় ফিরে আসতে পারব খুব শীঘ্রই ।
দেশের করকাঠামোর দুর্বল দিক ও এর সংস্কারের জন্য
একটি গবেশনামুলক লেখা এগিয়ে চলছে । তবে
বত্রিশ ধারা আইন পাশ হবার কথা শুনে
একটুখানি থমকে গেলাম । কারন আমার
লেখার অনেক তথ্যই তো বাংলাদেশ ব্যাংক,
এন বি আর , এবং অর্থ মন্ত্রনালযের তথ্য
সংক্রান্ত । আবার না কোন ধারায় পরে না
যাই । লেখাটি দিনের আলো দেখবে
কিনা তাই এখন ভাবছি ।

যাহোক, অর্থ মন্ত্রী মনে হয় আমার এই পোষ্ট
পড়েছেন । আজকে সংবাদ পত্রে দেখলাম
আগামী বাজেটে নাকি দেশের সকলের
জন্য জাতীয় পেনসন স্কীমের আওতায়
পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রী
বলেছেন !!!! কিভাবে তার বাস্তবায়ন হবে
সে সম্পর্কে অবশ্য বিস্তারিত কিছু এখনো
দেখতে পারিনি ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৪৪| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:৫১

কালীদাস বলেছেন: অনেকদিন হয় আপনি ফিল্ডে নেই মনে হচ্ছে :|

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ এসে খুঁজ খবর নেয়ার জন্য । হ্যা নতুন পোষ্ট দিতে একটু বিলম্ব হচ্ছে ।
মাঝে শরীরটা বিগরে গিয়েছিল । এখন অনেকটা আরোগ্যের পথে ।
পোষ্ট দেয়ার ফিল্ডে না থাকলেও ব্লগের অনেক লেখা পাঠ করছি ।
মন্তব্যও করছি তবে সংখ্যায় কম । অনেক লেখা পাঠে সেগুলির
বিষয়ে কি লিখা যায় তা নিয়ে সংসয়ে পরে যাই , তাই সেখানে
কিছু আর বলা হয়না ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৪৫| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:০১

নূর-ই-হাফসা বলেছেন: যতই বলুক ২০৪১ কিংবা ২০৩০ ক্ষমতায় গেলে ওনারা সব কোথায় যেন ভুলে যায় ।
কথায় কথায় ওনাদের জনগণের নাম ব্যবহার করা ছাড়া জনগণের কথা ভাবতে বোধহয় ওনারা ভুলে যান ।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ২:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য ।
ঠিকই বলেছেন রাজনৈতিক দলগুলি জনগনের প্রতি দেয়া তাদের সকল প্রতিশ্রুতির কথাই ভুলে যায় ।
তবে আমাদের উচিত জনগনের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিগুলি বারংবার মনে করিয়ে দেয়া ।
জনগনের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া । জনগনের প্রতি দেয়া তাদের
প্রতিশ্রতি ভুলে গেলে পরিনাম কি হতে পারে সে সম্পর্কে তাদেরকে ঈঙ্গিত দেয়া ।
জনগনের শক্তি পরিমাপের জন্য উপযুক্তভাবে তাদেরকে সচেতন করা ।
কলমকে সব রাজনৈতিক দলগুলিই ভয় পায় , প্রকাশ্যে স্বিকার না
করলেও মনে মনে মিডিয়ার লেখাকে তারা ঝমের মত ভয় পায়,
তাইতো ৫৭ ধারা ৩২ ধারা প্রভৃতি প্রয়োগের জন্য তারা
মুখিয়ে থাকে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৪৬| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:৩৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: এমন একটা গবেষণাধর্মী দীর্ঘ রচনার জন্য কি পরিমাণ কাঠ খড় পোড়াতে হয়, মধ্য রজনীর আলো জ্বালিয়ে রাখতে হয়, সেটা কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারছি। এই অধ্যবসায় এবং পরিশ্রমের জন্য অন্তর থেকে আপনাকে সাধুবাদ ও সালাম!
সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীর নিয়োগ এবং সেবা-সুবিধাদির মধ্যে সমতা আনাটা হয়তো সুদূর পরাহত, তবে অবশ্যই অতি শীঘ্রই বৈষম্য লাঘবের লক্ষ্যে কিছু দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।
আমার মতে সরকারী চাকুরেদের মাঝে মেধা অন্বেষণ ক্রতে হলে সবার আগে কোটা প্রথা বিলোপ করা উচিত।
পোস্টটা যেমন জ্ঞানপ্রসূত, অনেক মন্তব্যেও অগাধ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সুচিন্তিত বিবেচনার আভাস পেয়েছি। ৮ নং মন্তব্যে Bangladeshi Moinul কিছু চমৎকার কথা বলেছেন। ১২ নং মন্তব্যে আল ইফরান এর মন্তব্যটাও সুবিবেচিত। ১৩ নং মন্তব্যে সোহানীর এ কথাটা একজন দুইজন দেশকে পরিবর্তন করতে পারে না। দরকার সমস্টিগত চেষ্টা, দরকার প্রশাসনিক চেস্টা... আমার ভাল লেগেছে। ১৫ নং মন্তব্যে বিচার মানি তালগাছ আমার এর বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করি।
কোন দল বিষয়টিকে নির্বচনী ইসতেহারে না আনলে ভাবছি এটাকে নির্বাচনী ইসতেহার বানিয়ে একাই মাঠে নামব !!!! (১৬ নং প্রতিমন্তব্য) - চলে আসুন, মাঠ এখন কিছুটা ফাঁকাই আছে!!! :D
সুশাসন একটি জাতিকে খুবই দ্রুতই বিশ্ব কাতারে নিয়ে যেতে পারে। আমরা এতদিনেও এই জিনিসের দেখা পেলাম না। ফলে নানারকম হতাশা ও অাক্ষেপ নিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। - ২৪ নং মন্তব্যে আখেনাটেন এর এ চমৎকার কথাগুলোর জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
মলাসইলমুইনা ২৭ নং মন্তব্যে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যেসব কথাবার্তা বলেছেন, তা প্রণিধানযোগ্য।
পোস্টে প্লাস + +

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ভোর ৬:০৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অতিব ধৈর্য সহকারে এই দীর্ঘ পোষ্ট, সাথে মন্তব্যগুলি পাঠের জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
মন্তব্যগুলির বিষয়ে আপনার মুল্যবান মতামত গুলি আমার অনুধাবনের মাত্রাটিকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে ।
এই পোষ্টের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যথাসাধ্য কাজ করছি । দেশের পরিচিত কিছু গবেষক , আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথোপকথণে ধারনা হয়েছে যে দেশের মানুষ কনট্রিবিউটারী জাতীয় ইনসিউরেন্স ও পেনসন স্কীমের ব্যাপারটিকে গুরুত্বের সাথে নিতে পারে , তবে এর জন্য প্রচার মাধ্যমকে ভাল একটি ভুমিকা পালন করতে হবে , দেশে একটি প্রবল জনমত গঠন করতে হবে । এর জন্য অবশ্য সুসম্বিত স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রনয়ন এ বং বান্তবায়ন আবশ্যক ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৪৭| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ভোর ৫:৪৩

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: সুপ্রভাত ভাই,
ভোরের স্নিগ্ধ নির্মল বাতাসের মতো কোমলতায় ভরে থাকুক আপনার হৃদয়।




বসন্তের ওই বৃক্ষ লতায়
ফুলের সুবাস মন কেঁড়ে যায়,
দুখ যাতনা যাক না মুছে
সুখ ধরা দিক হৃদয় ঘরে;
হিয়ার মাঝে বাজছে যে সুর
রাখবো ধরে যাই যতদূর,
থাকবো যেথা ভালোবাসায়
করবো স্মরণ সুখ কামানায়।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ভোর ৬:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , আপনার সাম্প্রতিক পোষ্টটি এক নজর দেখে এসেছি ।
বেশ বড়, পরে একসময় ভাল করে দেখব ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৪৮| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,






বসন্তের দিনগুলো যেন এমনি করেই হেসে খেলে সাঁতরে সাঁতরে যেতে পারেন সে শুভেচ্ছা সহ...............

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বসন্তের শুরুতে মাছরাঙ্গা শুভেচ্ছায় আপ্লুত হলাম ।
আপনার জন্যও রইল বাসন্তি শুভেচ্ছা ।

৪৯| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:৫৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: বসন্তের এ প্রথম দিনটিতে বাসন্তী শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলাম! বসন্তের মৃদুমন্দ বাতাসের ন্যায় আনন্দে দোলায়িত হোক আপনার কর্মময় জীবন!

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আপনার প্রাণডালা শুভেচ্ছা অন্তরে ধারণ করে নিলাম ।
আপনার বর্ণিল কর্মময় জীবন সুন্দর হোক,
ফলে ফুলে ভরে উঠুক এ কামনা রইল ।

৫০| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:২৬

সোহানী বলেছেন: জীবন ভরে উঠুক সত্যিকার ভালোবাসায়, জীবনের প্রতিটি ক্ষন হয়ে উঠকু আনন্দময়, জীবনের প্রতিটি বাঁক হয়ে উঠুক সাফল্যময়।

ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা আলী ভাই।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: শুভেচ্ছা সাদরে গৃহীত
বাজারের সব ফুল শেষ
দেরীতে গিয়ে মঝা টের পেলাম
লাইন ধরে কোন মতে কটি নিয়ে্ এলাম
তাই দিয়ে প্রতি শুভেচ্ছা জানালাম

কামনা করি লাল সবুজের সমারোহে জীবন সাফল্যে ভরে উঠুক ।

৫১| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:১২

শায়মা বলেছেন: ফাগুনের শুভেচ্ছা ভাইয়া!!!!!!!

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:২২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ফাগুনের এই ব্যস্ত দিনে শুভেচ্ছার বারতা
নিয়ে হাজির হওয়ায় বেজায় খুশী হলাম ।
তব পরে অবিরাম বাসন্তি শুভেচ্ছা রইল ।

৫২| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৯

জুন বলেছেন: প্রিয় ব্লগার ডঃ এম আলী পহেলা ফাল্গুনে সুন্দর সবুজ হয়ে উঠুক আপনার চারিপাশ। অনেক অনেক ভালো থাকুন এই প্রত্যাশায় ।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
পহেলা ফাগুনে লাল সবুজের সমারোহে
সুন্দর করে স্বহস্তে আঁকা গুচ্ছ শুভেচ্ছায় আপ্লুত হলাম ।
আঁকাঝুকিতে রিক্ত আমি, পারি শুধু ধার করে এনে তার সাথে
নীজের কতক রং বেরং কথা লাগিয়ে কিছু একটা দাঁড় করাবার ,
তাইতো শুভেচ্ছা বারতায় গুগল মামাই ভরসা আমার ।

আপনার প্রতিউ ফাগুনের শুভেচ্ছা রইল
ভাল একটি ধারনা দিয়ে গেলেন সবুজ নিয়ে কিছু একটা লেখার ।

৫৩| ২৭ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:৩৯

রাকু হাসান বলেছেন: খুবই সুচিন্তিত লেখা । এটা সময়ের দাবি । কিন্ত এই রকম বোধদয় হয়েছে কি ! আজ পর্যন্ত আমি শুনিনি রাজনীবিরা যে এ রকম কথা বলছেন । হ্যা কিছু কাজ করছে কর্মসংস্থানের জন্য কিন্ত ইশতিহারে দেখিনি । আমি আমার খুব অল্প পর্যবেক্ষণে বললাম । ভুল হলে ক্ষমা প্রার্থী । ভাল লাগে শ্রদ্ধেয় সিনিয়র ব্লগাদের লেখা । আল্লাহ্ আপনাকে অারও অনেক দিন সুযোগ দান করুক আর আমরা যেন পড়ার সুযোগ পায় ।

১২ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর মতামত রেখে যাওয়ার জন্য ।
দোয়া করবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

৫৪| ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:৪৬

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: এ তো দেখি পুরাই জার্নাল লিখে ফেলছেন। সুন্দর হইছে লেখাটা। এ ধরনের ব্লগ পড়ে আরাম আছে

১২ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ উদাসী স্বপ্ন ।
মন্তব্য পাঠে উদাস হয়ে গেলাম ।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.