নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

মুক্তমনা

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

পদ্মার সর্বনাশা নাম ও তার বুকের কলঙ্ক তীলক দুরীকরনার্থে পরিবেশবাদীদের কর্মপ্রচেষ্টার একটি নিকট পর্যালোচনা

১৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১:১২


এই পদ্মা, এই মেঘনা, এই যমুনা সুরমা নদী তটে/আমার রাখাল মন, গান গেয়ে যায়
এই আমার দেশ, এই আমার প্রেম আনন্দ বেদনায়, মিলন বিরহ সংকটে

ভাল লাগে কবিতা ও গানের কথামালা, এগুলি সকলেরি প্রাণে দেয় দোলা।
কবিতা ও গানে থাকা প্রতিটি কথাই অতি মনোহর অতি মুল্যবান
সেগুলিতে থাকা প্রতিটা কথা কিংবা শব্দেরই দ্যোতনা অতি মহান
তার কোন কোনটি পাঠকের চিত্তকেও করে ব্যকুল, করে ভাবাকুল-
সেই ছোট কাল হতেই দেখেছি শুনেছি
পদ্মাকে অনেকেই বলেছে সর্বনাশা ।
আমাদের এই সামুর পাতাতেও অনেক কবিতায় দেখা যায় এমনতর কথা ।
কবিদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি
পদ্মার কিছু ভয়াল চিত্রের কথা মনে করে একে কবিতায়
গানে কিছুটা আদর করে সর্বনাশাতো বলাই যায়!!!
তাইতো আবদুল লতিফের গানের কথা
সর্বনাশা পদ্মা নদী তোর কাছে শুধাই
নিয়ে আমাদের পল্লীগীতি সম্রাট আবদুল আলীম

গেয়েছেন বিখ্যাত গান সর্বনাশা পদ্মা নদী তোর কাছে শুধাই
সেখানে গানের কথায় হয়েছে বলা -
পদ্মারে তোর তুফান দেইখা পরান কাঁপে ডরে
ফেইলা আমায় মারিসনা তোর সর্বনাশা ঝড়ে।

কিন্ত আসলেই কি তাই ?
পদ্মা কি আসলেই সর্বনাশা !!!
তোফান কি পদ্মা সৃষ্ট নাকি মানব সৃষ্ট জলবায়ুর প্রভাব
বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক মানিক বন্দোপাধ্যায়ের

কালজয়ী উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি তে যদিও পদ্মার কিছু ভয়াল চিত্রের সাক্ষাত পাওয়া যায়,তার পরেও পদ্মা পারের মানুষজন বিশেষ করে দরিদ্র জেলেদের প্রতি নদীটির পরম মমতাময়ী রূপও দেখা যায় সেই শতবছর আগেও ।
তার দুপাড়ের মানুষের জন্য পদ্মার সে কি অপরিসীম দয়া ,অসীম কান্না , অসীম মায়া ।
উল্লেখ্য, পদ্মা নদীর মাঝি বাংলা সাহিত্যে জেলেদের নিয়ে প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসে পদ্মা নদী পাড়ের জেলেদের সম্পর্কে লেখা আছে : দিবারাত্রি কোনো সময়েই মাছ ধরিবার কামাই নাই। সন্ধ্যার সময় জাহাজঘাটে দাঁড়াইলে দেখা যায় নদীর বুকে শত শত আলো অনির্বাণ জোনাকির মতো ঘুরিয়া বেড়াইতেছে। জেলে নৌকার আলো ওগুলি। সমস্ত রাত্রি আলোগুলি এমনিভাবে নদীবক্ষের রহস্যময় ম্লান অন্ধকারে দুর্বোধ্য সঙ্কেতের মতো সঞ্চালিত হয়। এক সময় মাঝরাত্রি পার হইয়া যায়। শহরে, গ্রামে, রেলস্টেশনে ও জাহাজঘাটে শান্ত মানুষ চোখ বুজিয়া ঘুমাইয়া পড়ে। শেষরাত্রে ভাঙা-ভাঙা মেঘে ঢাকা আকাশে ক্ষীণ চাঁদটি ওঠে। জেলে নৌকার আলোগুলি তখনো নেভে না। নৌকার খোল ভরিয়া জমিতে থাকে মৃত সাদা ইলিশ মাছ। লন্ঠনের আলোয় মাছের আঁশ চকচক করে, মাছের নিষ্পলক চোখগুলিকে স্বচ্ছ নীলাভ মণির মতো দেখায়। এই জেলেরা গরিবের মধ্যে গরিব, ছোটলোকের মধ্যে আরো বেশি ছোটলোক।

পদ্যা নদীর পাড়ের মানুষের দিন কেটে যায়। জীবন অতিবাহিত হয়। ঋতুচক্রে সময় পাক খায়, পদ্মার ভাঙন ধরা তীরে মাটি ধসতে থাকে, পদ্মার বুকে জল ভেদ করে জেগে উঠে চর, অর্ধ-শতাব্দীর বিস্তীর্ণ চর পদ্মার জলে আবার বিলীন হয়ে যায়। জেলেপাড়ার ঘরে ঘরে শিশুর ক্রন্দন কোনোদিন বন্ধ হয় না। ক্ষুধাতৃষ্ণার দেবতা, হাসিকান্নার দেবতা, অন্ধকার আত্মার দেবতা, ইহাদের পূজা কোনোদিন সাঙ্গ হয় না। এদিকে গ্রামের ব্রাহ্মণ কুলীন মানুষগুলি তাদের দূরে ঠেলে রাখে, ওদিকে প্রকৃতির কালবৈশাখী তাদের ধ্বংস করতে চায়, বর্ষার জল ঘরে ঢোকে, শীতের আঘাত হাড়ে গিয়া বাজে কনকন। আসে রোগ, আসে শোক। টিকে থাকার নির্মম অনমনীয় প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যে রেষারেষি কাড়াকাড়ি করে তারা হয় হয়রান। জন্মের অভ্যর্থনা সেখানে গম্ভীর, নিরুৎসব, বিষণ্ণ। জীবনের স্বাদ সেখানে শুধু ক্ষুধা ও পিপাসায়, কাম ও মমতায়, স্বার্থ ও সঙ্কীর্ণতায়।
পদ্মানদীর চরাঞ্চলের মানুষের এই প্রায় শতাব্দি প্রাচীন চিত্রের আদৌ কি কোন পরিবর্তন হয়েছে ? না হয়নি ,
তার পরেও পদ্মা নদীর জন্য দেশের মানুষেরও সে কি আহাজারী
ফারাক্কার কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে পদ্মা পাড়ের মানুষের জীবন ধারা
এর প্রভাব পড়ছে দেশের বিশাল অঞ্চলের পাকৃতিক ভারমাম্য আর যোগাযোগ ব্যবস্থায়,

সকলে্‌ই আমরা কামনা করছি পদ্মা যেন ফিরে পায় তার সেই প্রমত্তা উত্তাল জলরাশীর দিনগুলি
এই পদ্মা নদীর বেগমান চলার পথের যেনো হয়না কোন শেষ
জোয়ার ভাটায় বারে বারে পায় ফিরে যেন তার সেই হারানো যৌবনেরি রেশ।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও তার নদী শীর্ষক ৩০০ পঙক্তি সংবলিত বিখ্যাত কবিতায় পদ্মা নদী সম্পর্কে দিয়েছেন সুন্দর বর্ণনা যা রবীন্দ্রনাথের শিল্পচৈতন্যের উল্লেখযোগ্য একটি সৃষ্টিও বটে। কবিতায় থাকা সেই বর্ণনা পড়ে মনে হয় পদ্মা যেনো কবির জীবনদেবতারই একটা ছায়া । কবি যে কতো অন্তরঙ্গভাবে তার মানসপটে পদ্মাকে ধারণ করেছেন এবং তাঁর কবি কল্পনার সৌরভ ছড়িয়ে দিয়েছেন কবিতাটি পড়েই বুঝা যায়।
কবিতার কয়েকটি লাইন-
হে পদ্মা আমার
তোমায় আমায় দেখা শত শত বার
একদিন জনহীন তোমার পুলিনে
গৌধুলির শুভলগ্নে হেমন্তের দিনে
সাক্ষী করি পশ্চিমের সুর্য অস্তমান
তোমারে সঁপিয়াছিনু আমার পরান ।


এছাড়াও কবি পদ্মাকে কখনো দেখেছেন প্রেয়সীরূপে । পদ্মার প্রতি তার আবেগ, ভালোবাসা এবং উচ্ছ্বাসই তা প্রমাণ করে। তাই পদ্মাকে ভালোবেসে নদীমুগ্ধ রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন- বাস্তবিক পদ্মাকে আমি বড়ো ভালোবাসি। ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত তেমনি পদ্মা আমার যথার্থ বাহন- খুব বেশি পোষমানা নয় কিছুটা বুনোরকম, তার পরেও পরম যতনে হাত বুলিয়ে ওকে আদর করতে ইচ্ছে করে
কবি গুরু বলেন নির্জনে নদীর বুকে দিন বয়ে যেত নদীর ধারারই মত সহজে । বোট বাধা থাকত ঘাটে,

বোট ভাসিয়ে চলে যেতুম, পদ্মা থেকে পাবনার ইছামতীতে, ইছামতী থেকে বড়লে হুড়োসাগরে, চলনবিলে, আত্রাইয়ে, নাগর নদীতে, যমুনা পেরিয়ে সাজাদপুরের খাল বেয়ে সাজাদপুরের কুঠিবাড়ীতে
শাহজাদপুর কুঠিবাড়ী

যাহোক, পদ্মার উজানে ভারতীয় অংশ গঙ্গার উপর মানুষের ভ্রান্ত প্রকল্প ফারাক্কা বাঁধের কারণে
সেই সাথে অতি বর্ষনে মানবের অপরিনামদর্শী পরিকল্পনার কারণে বন্যা আর প্লাবনে
পদ্মা তার এক কুল ভাঙ্গলেও আরেক কূল সে গড়ে অবলিলায়
আবার তার পানির তোরে কারো একূল ওকূল দুকূলই গেলে
তাদের লাগিও তারি বুকে আশা জাগানিয়া নবরূপ ধরে
বিশাল বিশাল সুজলা সুফলা নতুন চড় সে গড়ায় !!!
স্বচ্ছনীলাভ মণির মতো চোখ জোড়ানো
রুপালী ইলিশ দিয়ে পদ্মা নদী দেশের ভোজন প্রিয়
কোটি কোটি মানুষের জন্য সুস্বাদু রসনাও যোগায় ।
পদ্মার ইলিশ

এহেন গুণের আধার পদ্মা নদীকে যুগের পর যুগ ধরে শুধু কাব্যময় কথার খাতিরে
দেশের কতক কবি সাহিত্যিকদের হাত ধরে কেন তাকে বয়ে বেড়াতে হবে
নামের আগে এক গ্লাণিময় বিশেষণ সর্বনাশা শব্দের যাতনা বয়ে!!
এ প্রসঙ্গে মনে পরে-
রাম তাঁর হনুমান বাহিনী নিয়ে পাথর দিয়ে সাগরের উপর বাঁধ তৈরী করে
লঙ্কাপুরীতে গিয়েছিলেন সিতা উদ্ধারে,
সেখানে গিয়ে বীর হনুমান তার লেজে আগুন নিয়ে সুন্দর লঙ্কাপুরী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড় খাড় করে
সিতাকে রাবনের হাত থেকে উদ্ধার করে।
লেজে আগুন ধরিয়ে হনুমানের লঙ্কাকান্ড

তবে হনুমান বাহিনীকে নিয়ে রামের লঙ্কাপুরী ধংসের করুন চিত্র রুপায়ন করতে গিয়ে
আমাদের মহাকবি মাইকেল মধুসুধন দত্ত তাঁর মেঘনাদ বধ মহাকাব্যে
মাইকেল মধুসুদন দত্ত

রাবনের জবানীতে প্রথমে লঙ্কার সৌন্দর্য বর্ণনা পুর্বক সমুদ্রের প্রতি
কি মিনতী রেখেছিলেন তা নীচে দেখা যাক একটু খেয়াল করে -
প্রথমে সুদর্শনা লঙ্কার বর্ণনায় দেখা যায়
উঠিয়া রাক্ষসপতি প্রাসাদ-শিখরে দেখিলা
রাক্ষসরাজ রাবন

কনক-উদয়াচলে দিনমণি যেন
অংশুমালী। চারিদিকে শোভিল কাঞ্চন-
সৌধ-কিরীটিনী লঙ্কা— মনোহরা পুরী!
হেমহর্ম্য সারি সারি পুষ্পবন মাঝে;
কমল-আলয় সরঃ; উৎস রজঃ-ছটা;
তরুরাজি; ফুলকুল— চক্ষু-বিনোদন,
যুবতীযৌবন যথা; হীরাচূড়াশিরঃ
দেবগৃহ; নানা রাগে রঞ্জিত বিপণি,
বিবিধ রতনপূর্ণ; এ জগৎ যেন
আনিয়া বিবিধ ধন, পূজার বিধানে,
রেখেছে, রে চারুলঙ্কে, তোর পদতলে,
জগত-বাসনা তুই, সুখের সদন

সুন্দর লঙ্কাপুরী

লঙ্কাপুরী ধংস যজ্ঞে মেতে উঠা রাম বাহিনীর বর্ণনায় দেখা যায় হয়েছে বলা
দেখিলা রাক্ষসেশ্বর উন্নত প্রাচীর—
অটল অচল যথা; তাহার উপরে,
বীরমদে মত্ত, ফেরে অস্ত্রীদল, ....
বসিয়াছে বীর নীল; দক্ষিণ দুয়ারে
................................
উত্তর দুয়ারে রাজা সুগ্রীব আপনি
বীরসিংহ। দাশরথি পশ্চিম দুয়ারে—
হায় রে বিষণ্ণ এবে জানকী-বিহনে,
....................................
সদা! রিপুদলবলে দলিয়া সমরে,
জন্মভূমি-রক্ষাহেতু কে ডরে মরিতে?
যে ডরে, ভীরু সে মূঢ়; শত ধিক্ তারে!
....................................
এইরূপে আক্ষেপিয়া রাক্ষস-ঈশ্বর
রাবণ, ফিরায়ে আঁখি, দেখিলেন দূরে
সাগর-মকরালয়। মেঘশ্রেণী যেন
অচল, ভাসিছে জলে শিলাকুল, বাঁধা
দৃঢ় বাঁধে; দুই পাশে তরঙ্গ-নিচয়


ফেনাময়, ফণাময় যথা ফণিবর,
উথলিছে নিরন্তর গম্ভীর নির্ঘোষে।
অপূর্ব-বন্ধন সেতু; রাজপথ-সম
প্রশস্ত; বহিছে জনস্রোতঃ কলরবে,
স্রোতঃ-পথে জল যথা বরিষার কালে।
অভিমানে মহামানী বীরকুলর্ষভ
রাবণ, কহিলা বলি সিন্ধু পানে চাহি;—
“কি সুন্দর মালা আজি পরিয়াছ গলে,
প্রচেতঃ! হা ধিক্, ওহে জলদল পতি!
এই কি সাজে তোমারে, অলঙ্ঘ্য, অজেয়
তুমি? হায়, এই কি হে তোমার ভূষণ,
রত্নাকর? কোন্ গুণে, কহ, দেব, শুনি,
কোন গুণে দাশরথি কিনেছে তোমারে?
.....................................
দূর কর অপবাদ; জুড়াও এ জ্বালা,
ডুবায়ে অতল জলে এ প্রবল রিপু।
রেখো না গো তব ভালে এ কলঙ্ক-রেখা,
হে বারীন্দ্র, তব পদে এ মম মিনতি।


তাই মনে হয় মহাকবি মাইকেল মধুসুধন আজ বেঁচে থাকলে
শুধু মিনতী নয় হয়ত বজ্র কন্ঠেই পদ্মা নদীকে
আহ্বান করে বলতেন তার বুকে সর্বনাসের কলংকচিহ্ন হিসাবে
লেপ্টে থাকা মরনফাঁদ ফারাক্কাকে তারিই জলে নিমন্ন করে ধংসের কথা ।

মনে পরে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানীর নেতৃত্বে মিছিল করে ১৯৭৬সনে এই লেখকের ফারাক্কা অভিমুখে যাত্রার কথা,
১৯৭৬ সনের ১৬ মে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও সারাদেশ থেকে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও নৌকায় চড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে ফারাক্কা মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দানে এসে মিলিত হই। লাখো জনতার এই জনসমুদ্রে একটি স্লোগান মুখরিত হয়ে উঠেছিল ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও
পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে, দিতে হবে

অসীম সাহসী এই মঝলুম জননেতার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ।

মাওলানা ভাসানীর শুরু করে যাওয়া এই সংগ্রাম দেশপ্রেমিক সাধারণ জনগণকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, ভাসানী বলেছিলেন, আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে । হতাশ হবার কিছু নেই...ভাসানীই বলেছেন, জনগনের আন্দোলন এটম বোমার চেয়েও শক্তিশালী এবং জনগনের শক্তি আধুনিক ও উন্নত সকল মরণাস্রের চাইতেও দুর্জয়

উলেখ্য, আমরা সবাই জানি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে ভারতের মনোহরপুরে মরণফাঁদ ফারাক্কা বাঁধ গড়ে তোলা হয়। এর প্রভাবেই পদ্মা এখন ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। মরণফাঁদ ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বছরের অধিকাংশ সময় এখন পদ্মার বুকে থাকে না বিস্তৃত সেই জলধারা, পালতোলা নৌকা আর মাঝি-মাল্লাদের গান। পদ্মার প্রবেশদ্বারেই যতদূর চোখ যায়, কেবলই ধু ধু বালুচর। শুষ্ক মৌসুমের আগেই পদ্মায় নৌকা চলাচলের পথ রুদ্ধ হওয়ায় মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে বালুচর পাড়ি দিয়ে গন্তব্য পৌঁছাতে হচ্ছে এলাকার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের মানুষকে। আর মালামাল পরিবহনে দরকার পড়ছে গরুর গাড়ি।

এদিকে ফারাক্কা বাঁধকে ভেংগে ফেলার জন্য ভারতীয় রাজনৈতিক নেতারা ও নদী বিশেষজ্ঞরা দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে । আমরা তাদের দাবীটির স্বাথে একাত্বতা ঘোষনা করে তাদের দাবীটিকে স্বাগত জানাতে পারি । রাজনীতিবিদদের মধ্যে, ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার এখন বেশ জোরে সুরেই এই দাবি করছেন । সম্প্রতি এই চাহিদা তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে উত্থাপন করেছেন বলে জানা যায়।
নিতিশ কুমার

ফারাক্কা ধ্বংসের দাবিতে অনেক বিশিষ্ট ভারতীয় নদী বিশেষজ্ঞগনও এখন নিতিশ কুমারের সাথে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ম্যাগসেসে পুরস্কার বিজয়ী রাজেন্দ্র সিং, যিনি ওয়াটারম্যান নামেও পরিচিত, তিনি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাটনায় বিহারের পানি সম্পদ বিভাগ আয়োজিত "অপরিসীম গঙ্গা" শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বলেন, "বিহারের জন্য ফারাক্কা অসুখ । এটি একটি অভিশাপ যা অপসারণ করা প্রয়োজন। কারণ যতক্ষণ না আমরা এটি অপসারণ করছি ততক্ষন পর্যন্ত আমরা এগিয়ে যেতে পারি না (দ্য হিন্দু, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ০১৭)।
একই সেমিনারে, দক্ষিণ এশিয়ার নদী সমুহের নেটওয়ার্ক , বাধ ও গনমানুষ এর সমন্বয়কারী হিমগাশু ঠাককার ফারাক্কা বাঁধের জরুরি পর্যালোচনায়ের জন্য অনুরোধ করেছিলেন, যা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে ফারাক্কা বাধটি যে উদ্দেশ্য নির্মিত হয়েছিল যথা - সেচ, জলবিদ্যুৎ শক্তি, পানি সরবরাহ – তার সবগুলি উদ্দেশ্য পুরণে ব্যর্থ হয়েছে ( দ্য হিন্দু, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭)।
ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও নদী বিশেষজ্ঞরা ফারাক্কা বাঁধ ধ্বংস করার যে দাবি জানিয়েছেন, তা অবশ্যই, বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণেই নয়। তারা মূলত এটি তাদের যে ক্ষতি করছে তা প্রতক্ষ করে নিজেই করছে। বিশেষ করে, ফারাক্কা নদীর তলদেশের যে অবক্ষেপ (sedimentation) সৃষ্টি করেছে, তাই ব্যাপকহারে সেখানে বন্যা ও নদী ভাঙন সৃষ্টি করছে।

যাই হোক, ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং বিশেষজ্ঞগন নীজেরাই এখন তুলে ধরছেন যে ফারাক্কা তার বিশেষ লক্ষ্যগুলি যেমন কলকাতা বন্দরের নাব্যতা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং পরিবর্তে এটি ভারতের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়েই দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বিইএন), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন এবং দেশের অন্যান্য অনেক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে ফেলার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, বিশেষ করে ২০০৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ট্রান্সবাউন্ডারি নদী (আইসিআরসিটিআর) আঞ্চলিক সহযোগিতার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় শীর্ষ ভারতীয় পানি বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে এই দাবিটিকে জোরদার করে উপস্থাপন করা হয় । এটি এখন সন্দেহের বাইরে যে ফারাক্কা বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় দেশের জন্যই একটি বিপদ হয়ে দাড়িয়েছে ।

বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক মনে করে যে, সরকার ফারাক্কার পাশাপাশি গজলডোবা এবং অন্যান্য নদীর উপর ভারতীয়দের নির্মিত বাঁধ স্থাপনা ধ্বংসের দাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের কাছে দাবী উত্থাপন করতে পারে।

তবে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বিইএন), বাংলাদেশ সরকারকে ১৯৯৭ সনের জাতিসংঘ কনভেনশন তথা আন্তর্জাতিক নদী সমুহের নন-নেভিগেশনাল ব্যবহারের উপর স্বাক্ষর ও অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানান, যা বাংলাদেশের চাহিদার জন্য আইনি ভিত্তি সরবরাহ করতে পারে বলে তারা মনে করেন , কারণ এই কনভেনশনটি আন্তর্জাতিক নদী সমুহের নিম্নাঞ্চলের দেশগুলিকে ঐতিহাসিক অধিকারের দাবীকে সমর্থন করে এবং নদীর প্রথাগত ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয় এবং নদীর নিন্মাঞ্চলের দেশগুলির সম্মতি ছাড়া নদী শাসনমুলক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে উজানের অংশের দেশ গুলির উপর নিষিদ্ধাজ্ঞা জারী করে। বিইএন মনে বাংলাদেশ সরকার পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নজর রাখবে, নদীগুলিতে ওপেন পদ্ধতির নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করবে, ১৯৯৭ সনের জাতিসংঘ কনভেনশনে স্বাক্ষর করবে এবং ভারতকে আর কোন বিলম্ব না করে ফারাক্কা এবং অন্যান্য অপরিনামদর্শী নদী শাসন অবকাঠামো অপসারণের জন্য ভারতকে আহ্বান জানাবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বিইএন) একইসাথে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে প্রস্তাবিত গঙ্গা বাঁধের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে ফারাক্কা অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে। ফারাক্কা মত করে এই প্রস্তাবিত গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ করা হলে তা আপস্ট্রিম নদী এলাকা বর্ধন করে বন্যা এবং নদীর তীরভুমির ক্ষয় সাধনে আরো জোড়ালো ভুমিকা রাখতে পারে । বাংলাদেশের নদীগুলির প্রবাহ বাড়ানোর দরকার এতে কোন সন্দেহ নেই। এই সমস্যাটির প্রকৃত সমাধান হল ফারাক্কা এবং অন্যান্য ডাইভারসনারি ব্যারেজ ধ্বংস করা , যাতে গঙ্গা ও পদ্মার সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা যায়। এর ফলে বাংলাদেশের নদীগুলির প্রবাহ পুনঃস্থাপিত হবে।
উপরে উল্লেখিত জাতিসংঘ কনভেনশনটির প্রতি স্বাক্ষরের জন্য এত উতলা কেন তা বুঝার জন্য ১৯৯৭ সনের গুরুত্বপুর্ণ জাতিসংঘ কনভেনশনটির হাল হকিকত অবস্থা জানতে গিয়ে দেখা গেল এতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬টি দেশ স্বাক্ষর করেছে যারমধ্যে এশিয়া অঞ্চলের মরুভুমিময় মাত্র তিনটি দেশ যথা সিরিয়া , জর্দান ও ইয়েমেন অন্তর্ভুক্ত আছে ।

এই কনভেনশনের আর্টিকেল ৭ টিও বিতর্কিত । এর কিছু ক্ষতিকর ব্যখ্যা বিশ্লেষন রয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞগন মনে করেন । ২০১৭ সনের Stockholm Water Prize বিজয়ী আ্ন্তর্জাতিক নদীসমুহের পানি আইন বিশেযজ্ঞ McGeorge School of Law এর অধ্যাপক Stephen McCaffrey এর মতে "in utilizing an international watercourse in their territories the upstream countries can take all appropriate measures to prevent the causing of significant harm to other watercourse states and compensate sharing states for any such harm. তিনি ব্যাখ্যা করে দেখান যে ধরা যাক উজানের কোন দেশ তার পাহাড়ী ভূখণ্ডের কারণে তার পানি সম্পদগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেনি। অপরদিকে নিম্মাঞ্চলের দেশগুলিতে প্রবাহিত নদী অববাহিকার স্থলভাগ সমতল এবং শতাব্দী ধরে তারা নদীর জলাধার ব্যাপকভাবে সেচের জন্য ব্যবহার করেছে। এখন উজানের দেশগুলি জলবিদ্যুৎ ও কৃষির উদ্দেশ্যে তার পানি সম্পদ বিকাশ করতে চায়। এমন ক্ষেত্রে নিন্মাঞ্চলের দেশগুলি এই কনভেনশনের ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ।সুত্র : McCaffrey, "Chapter 2: The UN Convention on the Law of Non-Navigational Uses of International Watercourses", 20-21.
এখন প্রশ্ন হলো Bangladesh Environment network ( BEN ) এর উদ্দেশ্যাবলী নিয়ে । এটি বাংলাদেশের পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যাগুলি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমনডলে সচেতনতা বৃদ্ধি , জনমত সৃস্টি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চাপ সৃজনের লক্ষ্য নিয়ে জুলাই ১৯৯৮ সনে কিছুসংখ্যক পরিবেশবাদী বাংলাদেশীদের নিয়ে গঠিত একটি এলায়েন্স । উদেশ্য ভাল হলে অন্তরের অন্তস্থল হতে সাধুবাদ । আর যদি তা ভারতের কোন পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ঐ বিতর্কিত কনভেনশনে স্বাক্ষর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে প্রলুব্দ করার জন্য হয় তাহলে তা হবে ভারতের জন্য শাপে বর ।
বিহারসহ ভরতের কিছু রাজনীতিবিদ ফারাক্কা বাঁধ ধংসের জন্য যে সমস্ত প্রতিক্রয়া দেখাচ্ছেন তা নেহায়েত লোক দেখানো না হলেই হয় । যদি এসম্ত বিষয় ভারতীয় কতৃপক্ষ আমলে নিত তাহলে তারা বাংলাদেশের উজানে ভারতীয় অংশে থাকা নদীগুলিতে এত এত বাঁধ নির্মান করতনা ,আবার তাদের ঐসমস্ত বাঁধই বাংলাদেশে বন্যার প্রধান কারন হয়েও দাঁড়াত না ।
সাম্প্রতিক বন্যায় পানির বিপুল চাপ সামাল দিতে না পেরে ভারত ইতোমধ্যে ফারাক্কা ও গজলডোবার গেটগুলোই নাকি খুলে দিয়েছে।
গজলডোভা বাঁধের ছবি

ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য এক গণবিধ্বংসী মারণাস্র । একুশে পদক প্রাপ্ত এদেশের বরেন্য লেখক, ঔপন্যাসিক, কবি, চিন্তাবিদ ও গণবুদ্ধিজীবী আহমদ ছফা একবার লিখেছিলেন, ভারত ঠাণ্ডা মাথায় যে কাজটি করে যাচ্ছে, তা হিরোশিমা ও নাগাসাকির ওপর অমানবিক বোমা বর্ষণের চাইতেও কম নিষ্ঠুর নয় । তার প্রলয়ঙ্কারী প্রতিক্রিয়াগুলো একসাথে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি না বলে আমাদের বেশীর ভাগ মানুষ চোখ বুজে এই জুলুম সহ্য করে যাচ্ছে

চলমান বন্যায় এখন দেশের অনেক জেলাই মারাত্বক বন্যাকবলিত। সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে দিন দিন আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে , বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে কুড়িগ্রাম , জামালপুর , নেত্রকোনা , ও চট্রগ্রাম অঞ্চলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র বিভিন্ন সংবাদ ভাষ্যে দেখা যাচ্ছে তাতে করে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে সে বিষয়ে এখনো সঠিক কোন পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে নিন্মের চিত্রগুলি হতে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছুতো ধারনা করাই যায় ।


বানের জল ধেয়ে যাচ্ছে আরও নতুন এলাকার দিকে। এবারের বন্যার ভয়াবহতা এর আগের বছরের ভয়াবহ বন্যার চেয়ে কোন অংশে কম নয় । দেশের বন্যা কবলিতদের জন্য রইল সহানুভুতি ও তাদের প্রতি সরকারী সাহায্য সহযোগীতার পাশাপাশি সমাজের সকল মানুষের সামর্থ আনুযায়ী সাহায্য সহযোগীতা প্রদানের জন্য একটি আকুল আবেদনও রইল এ সাথে । আগ্রহীগন নীজেরাই সরাসরি অথবা নীজ পছন্দ আনুযায়ী নির্ভরযোগ্য দল কিংবা দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে বন্যা দুর্গতদের মাঝে পৌঁছে দিতে পারেন তাদের সহযোগীতামুলক ত্রান সামগ্রী।

এবার আসা যাক পদ্মা নদীর তথাকথিত সর্বনাশা নাম গোচানোর কথা প্রসঙ্গে।
একটি কথা প্রথমেই মেনে নিতে হবে পাকৃতিক নিয়মেই নদী তার উৎস মুখ হতে জন্ম নিয়ে দুর্বার দুরন্ত গতিতে এঁকে বেঁকে তার চলার পথ তৈরী করে তার মুল গন্তব্য সাগরপানে ধাবিত হবেই । এটাই তার স্বাসত চরিত্র, সেই প্রগৌতিহাসিক কাল হতেই এটা চলে এসেছে প্রকৃতির বুকে । পরবর্তীতে এর চলার পথে মানূষ যতই বাধার প্রাচীর গড়েছে সে ততই তার বিধ্বংসি রূপ ধারণ করেছে । নদীর একটি স্বাভাবিক গথিপথ আছে, সে হঠাত করেই তার কুল ভাঙার কাজে মগ্ন হয় না । সঠিক ভাবে পরিচালিত নদী গবেশনা ও জরীপে তার ভবিষ্যত গথিপথ জানা যায় অনেক আগেই। অতি সামপ্রতিক কালের শরিয়তপুরে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন নিয়ে সরকারী গবেষনা সংস্থাই বলেছে 'পদ্মার ভাঙন: পূর্বাভাস ছিল, কিন্তু করা হয়নি কিছুই'
বাংলাদেশের পলিমাটি মিশ্রিত নরম বালুময় নদী তীরের ভাঙন রোধে বালির বস্তা পাথর কিংবা বাঁধ যাই দেয়া হোক না কেন সে হয় খুবই ক্ষনস্থায়ী । নেত্রকোনার উত্তরে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিছিড়িতে গাড়ো পাহার হতে নেমে আসা বর্ষাকালের খরশ্রোতা শুমেশ্বরী নদীর কুল ভাঙ্গার প্রক্রিয়া আমি বছরের পর বছর পর্যবেক্ষন করেছি ব্যক্তিগত ভাবে। সেখানে আমি দেখেছি যে গ্রামটি শুমেশ্বরী নদী হতে ছিল প্রায় কিলোমিটার দুরে, সেটিই একদিন রাতের আধারে বিলীন হয়ে গেছে নদী গর্ভে ।
গ্রীষ্মে ভাঙ্গন কবলিত সোমেশ্বরী নদীর গৃষ্মকালীন একটি দৃশ্য

কথা হলো নদী তার পাকৃতিক গতিপথে কোন বাধার সম্মুখীন হলে তার পানি প্রবাহ সে এলাকায় থাকা মাটির তলদেশের বালু স্তর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে দীর্ঘ দিন ধরে । এবং একদিন অকস্যাৎ তার গতি পথ পরিবর্তন করে সেখান দিয়ে প্রাবহিত হতে শুরু করে , তলিয়ে দেয় বিস্তির্ণ জনপদ । ঠিক তেমন বাংলাদেশের যে সমস্ত নদীতে বছরের বার মাসই ভাঙ্গণ লেগে থাকে সেখানকার বিষয়ে কিছু চিন্তা ভাবনার অবকাশ আছে । জানা কথাই, নদী তার কুল ভাঙবেই দুদিন আগে আর পরে। তাই নদীতীর হতে আগে ভাগেই স্থাপনা সমুহ সরিয়ে নিতে হবে নিরাপদ দুরত্বে ।
এ বিষয়ে নিন্মলিখত কিছু সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা ও আইন প্রনয়ন করাও জরুরী হবে।
১) নদী ভাঙ্গনের সম্মুখীন জনগুষ্ঠিকে আগে ভাগেই নিরাপদ দুরত্বে সরিয়ে নিয়ে তাদেরকে পুর্ণবাসন করতে হবে ।
২) ভাঙ্গনের মুখামুখী পাকা দালান কোঠা সড়িয়ে নেয়া যায়না বিধায় নদীর তীরের এক হতে দুই কিলোমিটারের মধ্য কোন রকম পাকা দালান কোঠা নির্মান করা যাবেনা ।

এখন বুঝহ সুজন, এর জন্য কি দায়ী নদী ? নাকি দুদিন বাদেই ভেঙ্গে এটা যাবেই , তা জেনে শুনেই নদীর কুলে যে এটা গড়েছিল সে দায়ী ।
৩) নদী তীরবর্তী জমি জমাকে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যবস্থা করতে হবে , এবং নদী পারের মানুষ জনদের জন্য নিরাপদ দুরত্বে গ্রৌথ সেন্টারে বসবাসের ব্যবস্থ করতে হবে
৪) তাদেরকে চাষাবাদ স্থানে যাতায়াতের জন্য যথাযথ যোগাযোগ ব্যবস্থাও সৃজন করতে হবে ।
৫) নদী তীরে গড়ে উঠা ভাঙ্গনের হুমকির মুখে এমন ভবনগুলিক পরিতক্ত ঘোষনা করে কাছাকাছি নিরাপদ কোন এলাকায় সেগুলিকে সড়িয়ে নিতে হবে ।
৬) সেই অর্ধ শতক হতেই দেখছি পাক আমলের WAPDA আর বাংলাদেশ আমলের BWDB ( Bangladesh Water Development Board) নামক সরকারী সংস্থাটি নদী তীর রক্ষার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে । তার পরেও নীচের মত শুধু হায় হায় চিত্রই দেখা যায় ।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড তার সমাপ্ত ঘোষিত মোট ৮৪৫ টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নদীর উপরে প্রায় শতাদিক ‘’নদী তীর সংরক্ষন’’ ও ‘’শহর রক্ষা’’ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে । এ সমস্ত প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ ব্যয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার উপরে । ( সুত্র বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড : বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড Click This Link ) এছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প খাতেও এর থেকে বেশী পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করছে ।
তাতে কি নদীর ভাঙ্গন রোধ করা গেছে আদতেই? কিংবা নদী ভাঙ্গন কবলিত সহায় সম্বলহীন ভাসমান মানুষের সংখ্যা কমনো গেছে, নাকি সরকারী কা মাল দড়িয়ামে ডাল হয়েই দাঁড়িয়েছে!
এ প্রকল্পগুলি ছড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড দেশের আরো কিছু নদীর জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, এখনো কিছু প্রকল্প চলমান আছে । কিন্ত তাদের সন্মিলিত নীট ফলাফল কি ? দেশের সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায় বর্তমানে দেশে নদী ভাঙ্গণ কবলিত প্রায় ৫০ লাখ গৃহহীন ভাসমান মানুষ রয়েছে এবং প্রতি বছর এদের সংখ্যা গড়ে লক্ষাধিক করে বাড়ছে ( সুত্র : দৈনিক ইনকিলাব Click This Link )। নদী ভাঙ্গন কবলিত ভাসমান এসব মানুষ সাধারণত বাঁধ, রাস্তা, পরিত্যক্ত রেল সড়ক, খাস চর বা খাস জমি প্রভৃতি স্থানে ভাসমান জীবন যাপন করছে। অভাবের তাড়নায় এরা শহরমুখী হয় এবং শহরের বস্তিগুলিতে বাড়তি জনসংখ্যার চাপ সৃস্টি করে । নদী শাসনের জন্য নদী তীর রক্ষার জন্য সরকার প্রতি বছর যে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে তা যদি অকার্যকর এ সমস্ত প্রকল্পখাতে ব্যয় না করে নদী তীরের মানুষগুলিকে সেখান হতে উঠিয়ে নিয়ে তাদের জন্য যথাযথ পুর্নবাসনে ব্যয় করা হত তবে তাই হত দীর্ঘস্থায়ী ও অধিক মাত্রায় কল্যানকর। বিদেশী বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্প সাহায্য নির্ভর প্রকল্পের এমন সরকারী কা মাল দরিয়া মে ডাল জাতীয় প্রকল্প আর কোন খাতে নেই । তাই টাকা জলে ডেলে প্রতি বছর গেল গেল বলে হায় হায় মাতম তুলে এই পানিশাসন প্রকল্প আর কাহাতক এদেশবাসী বহন করবে তা আজ এক দারুন প্রশ্নেরই সম্মুখীন।
নদী ভাঙ্গন কবলিত ভাসমান মানুষদের পরিবার পিছু ( গড়ে ৫ জনের একটি পরিবার হিসাবে ) যদি প্রায় এক লক্ষ টাকা ব্যয় করে নদী ভাঙ্গন কবলিতদেরকে পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নেয়া হতো তাহলে ৫০ লাখ নদী ভাঙ্গণ কবলিত মানুষের পুর্নবাসনের জন্য ব্যয় হতে পারত মাত্র ১০হাজার কোটি টাকা যা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সন্মিলিত নদী তীর সংরক্ষন ও শহর রক্ষা প্রকল্প ব্যয় হতেও কম । তাই কথা হল পাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নদী গুলিকে কোন রকম বাঁধাহীন ভাবে বিনা প্রতিকুলতায় পাকৃতিকভাবেই বয়ে চলতে দেয়া উচিত , এতে করে নদী গুলির স্বাভাবিক প্রবাহমান ধারা ও নাব্যতা বজায় খাকবে , নদীগুলি ন্বাভাবিক গতিতে চললে এর বুকে পলিউ জমতে পারবেনা , ফলে এদের গতিপথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার ড্রেজীং কর্মসুচী পরিচালনার প্রয়োজনও ক্রমে ক্রমে হ্রাস পাবে এমনকি ড্রেজিং এর প্রয়োজনই হবেনা, নদীর স্বাভাবিক স্রোত তাদের ঠেলে নিয়ে যাবে বঙ্গোপসাগরের গহীনে। সাগর মোহনায় জমে উঠা পলিমাটির স্তরও বিদুরিত হয়ে আরো বেশী নেভিগেশন সুবিধা তৈরী করে দিবে দেশের সমুদ্র বন্দর গুলিকে ।
মোট কথা হল একটি নদীর তান্ডব লীলা লক্ষগোচর হয় কেবলমাত্র মনুষ্য সৃস্ট অশুভ কর্মের কারণে। নদী খোরেরা নদী খেয়ে ফেলে, দেশের অসচেতন জনতা বর্জ দিয়ে নদীর বুক ভরে ফেলে , সর্বোপরি হীনস্বার্থ চরিতার্থে অপরিনামদর্শী নদী বাঁধ সৃজনকারীরাই নদীর সর্বনাশা রূপ সৃজনের জন্য দায়ী । অন্যথায় নদীগুলি কেবল পরম দয়াময়ি হয়ে আমাদের এই ধরাকে সুজলা সুফলা শষ্যময়ী করে গড়ে তোলে মানব জীবনে এনে দিত নির্মল বাধাহীন সজিবতা , সর্বত্র জাগাত প্রাণের স্পন্দন , মানুষের জীবন ভরিয়ে তোলত আনন্দ গানে। এখনো সামান্য দুএকটি ব্যতিক্রম ছাড়া নদী গুলিই আমাদের জীবন , বলাই হয়ে থাকে নদী বাচলে বাঁচবে আমাদের জীবন । তাই, দেশের সুপ্রিয় কবি, সাহিত্যক, শিল্পী সহ সকলের কাছে বিনীত আবেদন রেখে গেলাম তাঁরা যেন এমন প্রাণময়ী , স্সেহময়ী , জীবনের সজিবতা দানকরী সত্বাকে নদীকে কোন প্রকারেই কোন অযুহাতেই সর্বনাশা অভিধায় অভিহিত না করেন । উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি হইকোর্টের রায়ে নদীকে দেয়া হয়েছে জীবন্ত সত্বার অধিকারী । তাই এহেন উপকারী জীবন্ত সত্বার অধিকারী নদীকে কেহ যদি সর্বনাশা নাম দিয়ে তার গলায় কলংকের কালিমা লেপন করে দিতে চায় , তাহলে সে কিন্তু আইনের আশ্রয় নিয়ে প্রতিকার দাবী করতেই পারে , এর দায় কিন্তু নিতে হবে অভিযুক্ত মানুষদেরকেই !!!

ধন্যবাদ এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ।

তথ্যসুত্র : লেখার সাথে লিংক আকারে দেয়া হয়েছে
ছবি সুত্র : ব্যক্তিগত সংগ্রহ ও গুগল অন্তরজাল

মন্তব্য ৫৮ টি রেটিং +২২/-০

মন্তব্য (৫৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১:২১

শ্রেষ্ঠ অফিসার বলেছেন: সাবাশ ভায়া সাবাস

১৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: প্রথম মন্তব্যকারী হিসাবে অশেষ ধন্যবাদ ।
জিবন্ত সত্বা পদ্মার মনোযাতনা নিরসনে
চলুন সকলে মিলে প্রতিবাদ মুখরিত হয়ে এর
উপরে থাকা মরনফাঁদ ফারাক্কা ডেমোলিশনে
ভারতীয় দাবীর সাথে সুর মিলাই ।
শুভেচ্ছা রইল

২| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৪:৪৬

অর্থনীতিবিদ বলেছেন: পদ্মা সর্বনাশা তো নয়ই বরং বিশুদ্ধ রক্তবাহী ধমনীর মতো, পদ্মা হলো মমতাময়ী মায়ের মতো। আসলে সব নদীই এমন তবে পদ্মা নদীর গুরুত্ব আলাদা। ফারাক্কার কারণে পদ্মা এখন শীর্ণকায়। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অনেকগুলো খাতে। ভারতের রাজনীতিবিদদের সাথে সাথে আমাদেরও জোর দাবী তোলা দরকার ফারাক্কা ভেঙ্গে ফেলার জন্য। পদ্মা নিয়ে অনেক কিছুই তুলে ধরেছেন পোস্টে। ইতিহাস, প্রকৃতি, গুরুত্ব, সৌন্দর্য, সাহিত্য, অর্থনীতিসহ অনেক বিষয় উঠে এসেছে এখানে। আপনার পোস্টটি মুগ্ধ করার মতো।

১৬ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:১৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
পদ্মাকে নিয়ে অতি অল্প কথায় সুন্দর মুল্যায়ন করেছেন । আপনি ঠিকই বলেছেন পদ্মা সর্বনাশা তো নয়ই বরং বিশুদ্ধ রক্তবাহী ধমনীর মতো, পদ্মা হলো মমতাময়ী মায়ের মতো। তার পরেও কবিতা ও গানে একে সর্বনাশা অভিধায় দেখলে
কেন জানি মনটা ব্যতিত হয়ে পরে । ফারাক্কা বাঁধ কে ভেঙ্গে ফেলার জন্য ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও পানি বিশেষজ্ঞদের
দাবীর সাথে আমাদের সংহতি প্রকাশ একান্ত জরুরী হয়ে পরেছে বলেই মনে করেন আমাদের সচেতন পরিবেশবাদীগন ।
পোষ্ট মুগ্ধ হওয়ার মত শুনে খুশী হলাম ।
শুভেচ্ছা রইল

৩| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:২১

বলেছেন: বিস্তারিত জানতে পারবো আপনার লেখা থেকে।

পদ্মা এত দুঃখী কেন জানতে চাই আশাকরি সমাধান পাওয়া যাবে।।।

১৬ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:৫৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: এসে দেখার জন্য ধন্যবাদ ।
পদ্মার নীজের দু:খ একটাই
মানূষের কর্ম তার গায়ে
দূ:খ তৈরীর উপাদান যোগায় ।
তারমত তাকে চলতে দিলে
তার সুখের সীমা থাকবেনা ।
শুভেচ্ছা রইল

৪| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৭:৪৫

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:
প্রথমদিকে মনে হয়েছে গানের বিশ্লেষণ নিয়ে লিখলেন কিন্তু ধীরে ধীরে এমন ভাবে লেখার শাখা প্রশাখা বিস্তৃত করলেন একেবারে পদ্মার নাড়ি-ভুড়ি সব আলোচনায় নিয়ে আসলেন।
আমরা কোনো কালে কোন কিছুর যত্ন নিতে পারেনি বরং উল্টো সেইসব দয়াময়ীকে ধ্বংস করেছি এবং ধ্বংসের জন্য সেইসব দয়াময়ীকেই দোষী সাব্যস্ত করেছি।

ফারাক্কা বাঁধের কারণে এককেন্দ্রিক ভাবে শুধু মাত্র ভারতই লাভবান হয়েছে। প্রথমদিকে বঙ্গবন্ধুর সময়ে আমরা যতটুকু হিস্যা পেতাম জিয়ার আমলে এসে হ্রাস পায়। এই হ্রাস পাওয়ার গতি এতই দ্রুত ছিল যে এখন বলতে গেলে ফারাক্কা বাঁধের বিষযটি এখন পুরাটাই ভারতের ইচ্ছার উপর দাঁড়িয়ে।


ভালবাসা।

১৬ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:০৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মনযোগ দিয়ে পুরাটা লেখা পাঠের জন্য ধন্যবাদ ।
বিষয়টির উপর মুল্যবান মন্তব্য রেখেছেন ।
ইন্দিরা গান্ধীর সাথে ফারাক্কার পানির হিস্যার
ব্যপারে বঙ্গবন্ধুর যে চুক্তি হয়েছিল তা কেন
পরবর্তী সময়ে আরো কমে গেল তার
স্বরূপটিও বিশ্লেশনের দাবী রাখে ।
বিষয়টি নিয়ে পরে কোন এক
সময়ে আলোচনা হবে বলে
আশা রাখি । ইতিহাস
থেকে কোন কিছুই
মুছে যায়না ।

শুভ কামনা রইল

৫| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:৩৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: বিশাল লেখা আলীভাই। পুরোটা না পড়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে আপনার লেখা মানেই প্রচুর প্রাসঙ্গিক তথ্যের সমাহার। এ'জন্যেই আপনার লেখা বা যেকোনও মন্তব্য আমার ভালো লাগে।

সময় নিয়ে আস্তে ধীরে পড়তে হবে......তাই আপাততঃ প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম। :)

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১:১৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , আসুবিধা নেই , সময় নিয়ে পড়ুন ।
তবে নদীর এই মরনফাঁদ বাঁধ ভেঙ্গে মেলার মিছিলের সাথে সংহতি
প্রকাশ করলে খুশী হব । নদীকে নদীর মত করে চলতে দিতে হবে ।
প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞত জানবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

৬| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:১৮

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম দুই তিনবারে পড়বো ইনশাআল্লাহ

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১:২৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: মাশাল্লাহ , াআপনার মত এমন তুখোর মেধাবীকে এটা দু তিনবার পড়তে হবেনা
এক ঝলক ভাল করে দেখলেই সব জলের মত পরিস্কার হয়ে যাবে আপনার কাছে ।
বন্যা কবলিতদের ছবি তুলে তাদের পাশে দাঁড়াবার তরে সকলের
পরে আপনার স্নেহময়ী কথাগুলি তুলে ধরেন । এই দুর্যোগময়
দিনগুলিতে অসহায় বন্যা কবলিত মানুষের জন্য এটা
যে কত কল্যানকর হবে তা আমরা বুঝব সকলে ।
শুভেচ্ছা রইল

৭| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:৩১

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: বরাবরের মত দারুন তথ্যবহুল সময়োপযোগী পোস্ট।

ভারত আমাদের প্রিয় প্রতিবেশি রাষ্ট্র ;পদ্ম নদীর আপস্ট্রিমে আন্ত নদী সংযোগ করলো । একবার ভেবে দেখার প্রযোজন বোধ করলো না নদীগুলো আন্তর্জাতিক নদী। এমনিতে প্রকৃতির উপর হাত দেয়া নিষেধ। তার উপর প্রতিবেশি রাষ্ট্রের ও তো হিস্যা আছে। গায়ের জোরে তার এটা করে সীমাহীন ক্ষতি করেছে। বড় ধরণের অন্যায় করেছেন তারা। এর নিন্দাজ্ঞাপন করি।

বাংলাদেশ ও চীন কে সঙ্গে নিয়ে পরামর্শ করে তার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। কে শুনে কার কথা?

কবিতায় গদ্যে দারুন পোস্ট প্রিয়তে নিয়ে গেলাম । :)

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ২:৫৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ সুপ্রিয় কবি ।
ভারত আমাদের প্রিয় প্রতিবেশি রাষ্ট্র ;পদ্ম নদীর আপস্ট্রিমে আন্ত নদী সংযোগ করলো । একবার ভেবে দেখার প্রযোজন বোধ করলো না নদীগুলো আন্তর্জাতিক নদী। এমনিতে প্রকৃতির উপর হাত দেয়া নিষেধ। তার উপর প্রতিবেশি রাষ্ট্রের ও তো হিস্যা আছে। গায়ের জোরে তার এটা করে সীমাহীন ক্ষতি করেছে। বড় ধরণের অন্যায় করেছেন তারা। এর নিন্দাজ্ঞাপন করি।
সহমত । তবে এই নিন্দা জ্ঞাপনতো সেই ষাটের দশক থেকেই করে আসা হচ্ছে ।ফলাফলতো চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে ।
এ বিষয়ে অনেক কথা বলার আছে । আজ শরিরটা একেবারেই ভাল যাচ্চেনা । পরে কোন একসময়ে এবিষয়ে আলোচনার আশা রাখি ।

প্রিয়তে নেয়ার জন্য শুভেচ্ছা জনবেন ।

৮| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



পদ্মার আগ্রাসী ভাব নিয়ে দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিকরা অনেক লিখেছেন। রচনা হয়েছে অসংখ্য গান। মানিক বন্ধোপাধ্যায়ের "পদ্মা নদীর মাঝি" সবকিছু ছাড়িয়ে বাংলা কথা সাহিত্যে অমরত্ব পেয়েছে। পদ্মার এই আগ্রাসী ধ্বংসলীলার জন্য ফারাক্কা বাঁধ অনেকটাই দায়ী। তবে আমি মনে করি, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, স্রোতের গতিশীলতার জন্য নদীর ডেঞ্জার জোন হঠাৎ হঠাৎ বাঁক নেওয়া, এসব এলাকা চিহ্নিত করে কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া ইত্যাদি কারণগুলো বিদ্যমান। এছাড়া পদ্মার মতো আগ্রাসী নদীর দুই কূলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার কোন বিকল্প নেই। গত বছর শরীয়তপুরে যে ভয়াবহ ভাঙ্গন হয়েছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা না নিলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।

বাংলাদেশের বাকি সবগুলো নদী মিলিয়ে যে পানি প্রবাহিত হয়; শুধু পদ্মা দিয়ে তার চেয়ে বেশি হয়। কারণ, নেপাল, তিব্বত, বিহার উত্তর প্রদেশ থেকে হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে হিমালয়ের গলিত বরফসহ পানির ধারা এই পদ্মা দিয়ে বঙ্গপোসাগরে পৌছে। হোয়াংহো চিনের কান্না, আমাজন ব্রাজিলের কান্না; পদ্মাও বাংলাদেশের কান্না।

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৩৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
পদ্মা নদীর পানি প্রবাহ নিয়ে অতি সংক্ষেপে গুরুত্বপু্র্ণ তথ্য তুলে ধরে পোষ্টটিকে আরো অনেক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন।
আমার পোষ্ট দির্ঘায়ীত হয়ে যাবে বিবেচনায় অনেক গুরুত্বপুর্ণ তথ্যই সন্নিবেশ করতে পারিনি । তবে মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম ব্লগের কোন গুনী ব্লগারের মন্তব্যের সুত্র ধরে সযোগ পেলে প্রতি মন্তব্যের ঘরে সকলের সাথে তা শেয়ার করব । পদ্মার পানি প্রবাহ নিয়ে আপনার তথ্যভান্ডার ও কথামালা আমাকে সে সুযোগ করে দিয়েছ ।
পদ্মার প্রবাহ নিয়ে কথা বলতে হলে এর উৎস হতে শুরু করলে আমাদের অনেকের বুঝতে সুবিধা হবে ।
হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গা । উল্লেখ্য যে গঙ্গোত্রী হিমবাহ ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশী জেলায় চীন সীমান্ত বরাবর ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত । এই গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকেই গঙ্গা নদীর উৎপত্তি ,তবে তখনো সেটা মুল গঙ্গা নয় ।
হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ

গঙ্গার জলের উৎস আরো অনেকগুলি ছোট ছোট নদী ও জলধারা এর মধ্যে ছটি ধারা দীর্ঘতম।এই ছটি ধারা হল অলকানন্দা, ধৌলীগঙ্গা, নন্দাকিনী, পিণ্ডার, মন্দাকিনী ও ভাগীরথী। পঞ্চপ্রয়াগ নামে পরিচিত পাঁচটি সঙ্গমস্থলই অলকানন্দার উপর অবস্থিত। এগুলি হল বিষ্ণুপ্রয়াগ ,নন্দপ্রয়াগ , কর্ণপ্রয়াগ ,রুদ্রপ্রয়াগ এবং সবশেষে দেবপ্রয়াগ, যেখানে ভাগীরথী ও অলকানন্দার মিলনের ফলে মূল গঙ্গা নদীর জন্ম হয়েছে। মূল গঙ্গা নদীর উৎসস্থল ভাগীরথী ও অলকানন্দা নদীর সঙ্গমস্থল, ভাগীরথীর উৎস গোমুখের গঙ্গোত্রী হিমবাহ আর অলকানন্দার উৎসস্থল নন্দাদেবী, ত্রিশূল ও কামেট শৃঙ্গের বরফগলা জল।
এখান হতেই মুল গঙ্গার শুরু

গঙ্গার সাথে ভারতের অপরাপর নদীগুলি কেমনভাবে যুক্ত তা দেখা যাবে নীচের চিত্র হতে
গঙ্গা ও তার উপনদীগুলির ১৯০৮ সালের মানচিত্র।

গঙ্গা নদীর প্রধান শাখাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, এবং এখান থেকে নদীটি পদ্মা নাম ধারণ করেছে। পদ্মা মূলত গঙ্গার প্রধান শাখা নদী , গঙ্গার অন্য শাখাটি ভাগীরথী নামে ভারতে হুগলীর দিকে প্রবাহিত হয়। এর বাঁ তীরের প্রধান উপনদীগুলি হল গোমতী, ঘর্ঘরা, গণ্ডকী ও কোশী অর ডান তীরের প্রধান উপনদী হল যমুনা, শোন, পুনপুন ও দামোদর।

গঙ্গা তার উৎপত্তিস্থল হতে ২২০০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের গোয়ালন্দের কাছে যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মিলিত প্রবাহ পদ্মা নামে আরো পূর্ব দিকে চাঁদপুর জেলায় মেঘনানদীর সাথে মিলিত হয়েছে। সবশেষে পদ্মা-মেঘনার মিলিত প্রবাহ মেঘনা নাম ধারণ করে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়।


পদ্মার প্রধান উপনদী মহানন্দা এবং পুনর্ভবা । মহানন্দা উপনদীটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং পুনর্ভবা বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার বিভিন্ন শাখানদীর মধ্যে গড়াই, বড়াল আড়িয়াল খাঁ, কুমার, মাথাভাঙ্গা, ভৈরব ইত্যাদি অন্যতম। আবার পদ্মার বিভিন্ন প্রশাখা নদীসমূহ হলো- মধুমতী, পশুর, কপোতাক্ষ ইত্যাদি। এই নদীগুলো কুষ্টিয়া,রাজবাড়ী,যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর বরিশাল, পটুয়াখালি ইত্যাদি জেলার উপর দিয়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে।

গঙ্গা (হলুদ), ব্রহ্মপুত্র (গোলাপি) ও মেঘনা (সবুজ) নদীর অববাহিকা।
এইতো হলো গঙ্গা , পদ্মা আর মেঘনা বিদৌত বাংলাদেশের নদনদীর অবস্থা । উপরের সহ এই চিত্র গুলি দৃশ্যে দেখা যায় যে এই নদীগুলি দিয়েই এর উজানের অংশের সকল দেশ সমুহের পানি ও অবক্ষেপ ( পলিমাটি) সমুহ বঙ্গোপসাগরে পতিত হয় । এই স্রোতধারা ও প্রবাহ যদি কোনভাবে সে উজানে কিংবা ভাটিতে যেখানেই হোক না কেন বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে তার প্রভাব কিন্ত উজান -ভাটির সকলকেই ভোগ করতে হবে । বিধাতা সুষ্ট প্রকৃতিক নিয়ম যদি কেও অপরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করে তবে প্রকৃতির নিয়মেই একদিন তারা দ্বিগুন কুফল ভোগ করে । তাইতো ভারতেও এখন দেখা যাচ্ছে ফি বছর ভয়াবহ বন্যা, এখন তাদের মাঝেও শুরু হয়েছে কান্না । বায়না ধরেছে তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ফর ডিমোলিশন অফ ফারাক্কা ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৯| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৭

রাজীব নুর বলেছেন: চমৎকার একটি পোষ্ট।
সাবলীল ভাষা। বেশ ভালো লাগলো।

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৪৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: পোষ্টটি চমৎকার অনুভুত হ ওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
সুন্দর মন্তব্যে প্রীত ও অনুপ্রানীত হলাম ।
শুভেচ্ছা রইল ।

১০| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



আমি প্রথমবারের মতো শুনছি যে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার পদ্মার উপর থেকে ফারাক্কা সরানোর কথা বলছেন; ফারাক্কার কারণে বিহার কিভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে?

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৫৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: গুরুত্বপুরোর্ণ তথ্যসমুহের সুত্র লেখাটির সাথে লিংক করে দেয়া হয়েছে । তাছাড়া গুগলে একটু সার্চ করলে এ সম্পর্কিত আরো অনেক তথ্য জানা যাবে ।
বিহারে বিভিন্ন বছরে সংগঠিত বন্যার সাথে ২০১৫ সনের যে বন্যাটির রেশ ধরে সেখানকার রাজনীতিবিদেরা ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ার দাবী তুলেছিলেন তার ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিত্র
The flood situation in Bihar has worsened Around 165 people have died so far and nearly 5.4 million people in 20 districts are affected by floods. There is widespread fear of state capital Patna also going under water.

১১| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৪:৫০

নতুন নকিব বলেছেন:



যথারীতি অসাধারণ আরেকটি পোস্ট।

অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় আলী ভাই।

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:০২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: পোষ্টটি চমৎকার অনুভুত হ ওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
সুন্দর মন্তব্যে প্রীত ও অনুপ্রানীত হলাম ।
আপনার একটি পোষ্টে আমার বেশ বড়
সাইজের একটি মন্তব্য ছিল।
শুভেচ্ছা রইল ।

১২| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: নদী আমার ভীষন প্রিয়।
আসলে নদী একটি দেশের বড় সম্পদ।

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:৪৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ অবার এসে মুল্যবান কথা বলে যাওয়ার জন্য ।
শুভেচ্ছা রইল

১৩| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,




সেই পদ্মা আর নেই, তার বুক জুড়ে এখন তপ্ত বালুর হাহাকার। ত্রিশ টপকে গেলে মেয়েদের শরীর যেমন ইস্তিরি না-করা শাড়ীর মতো হয়ে আসে তেমনি ফারাক্কার ছোবলেও পদ্মা আজ তার উচ্ছল রূপ টপকে অশতিপর বৃদ্ধার মতো মলিন জরাজীর্ণ।
কেন?
এই "কেন"র উত্তর নিয়ে আমি একটি পোস্ট দিয়েছি।
সকালে আপনার এই লেখাটি দেখে তড়িঘড়ি করে পোস্টটি এখনই দিয়েছি আপনার লেখার বক্তব্যকে তা আরো জোরালো করে মানুষের কাছে তুলে ধরবে ভেবে।


সব বিদগ্ধ মানুষদের পায়ের আওয়াজ নিয়ে দারুন লেখা হয়েছে। তথ্য আর ত্ত্ত্ব নিয়ে মানুষকে জাগানোর একটি অনবদ্য লেখা।

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:৫৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: নীজকে ধন্য মনে করছি , আমার পোষ্টটির বক্তব্যকে আরো জোড়ালো করার জন্য
অতি কম সময়ের মধ্যে খুবই মুল্যবান তথ্যের সমাহার ঘটিয়ে সুন্দর একটি পোষ্ট
সামুতে উপস্থাপন করেছেন দেখে। এ শুধু আপনার মত গুণী জনের পক্ষেই
সম্ভব , অন্তরের অন্তস্থল হতে শ্রদ্ধা রইল ।

আমি আপনার মন্তব্যটি দেখার পুর্বেই আপনার পোষ্টটি দেখেছি ,
যা বলার সেখানে বলেছি,কাল সকালে ঘুম হতে উঠে আবার
বসব সেটা পাঠে । কথা হবে সেখানেই ।
শুভেচ্ছা রইল

১৪| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৫৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: আদমের দেশ মালয়েশিয়া ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত আছে। বলেনতো পদ্মা নদীর তীরে ২০০-৪০০ একর কোনো খাস জমির সন্ধান থাকে তো খোঁজ খবর দিলে একটু ভালো হয়। তিন একর জমিতে ধর্মীয় উপাসনালয় একটা তৈরি করে আগে ধর্মীয় একটি প্যাঁচ তৈরি করবো তারপর বাদবাতী জমিতে রিসোর্ট পার্ক, কোল্ডস্টোর, মিল বসিয়ে দিবো। আফটার অল দেশের লোকজনের কিছু কর্মসংস্থান হবে !!!

ফর্মালিন খাদক জনতা জাগবে না। এই দেশ বন্যায় ডুবে যাবে আর গরমে মুরু অঞ্চলের স্বাদ দিবে। আসছি আবার চলুক আলোচনা।

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৭:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ফর্মালিন খাদক জনতা জাগবে না। এই দেশ বন্যায় ডুবে যাবে আর গরমে মুরু অঞ্চলের স্বাদ দিবে। আসছি আবার চলুক আলোচনা।
আমিউ এখন উঠব , ঘুমে চোখ ডুলু ডুলু
দেখা হবে আবার ।
শুভেচ্ছা রইল

১৫| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৪০

করুণাধারা বলেছেন: মন খারাপ হয়ে গেল পুরো লেখাটা শেষ করে, পদ্মা নদীর সাথে প্রথম পরিচয় হয়েছিল যে কবিতার মাধ্যমে, সেই কবিতায় পদ্মা দুপুরের রোদে রুপোর মতো ঝলকায়, নদীর চরে যেন সবুজ কার্পেট বিছানো, কত ছবি পদ্মার- আজকের শীর্ণকায়া পদ্মা নিয়ে আলোচনা করার আগে পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের পড়া কবিতাটা আর একবার পড়ি।

নদীর স্বপ্ন
বুদ্ধদেব বসু
কোথায় চলেছো? এদিকে এসো না! দুটো কথা শোনা দিকি
এই নাও- এই চকচকে ছোটো, নুতন রূপোর সিকি
ছোকানুর কাছে দুটো আনি আছে, তোমারে দেবো গো তা-ও,
আমাদের যদি তোমার সঙ্গে নৌকায় তুলে নাও।
নৌকা তোমার ঘাটে বাঁধা আছে- যাবে কি অনেক দূরে?
পায়ে পড়ি, মাঝি, সাথে নিয়ে চলো মোরে আর ছোকানুরে
আমারে চেনো না? মোর নাম খোকা, ছোকানু আমার বোন
তোমার সঙ্গে বেড়াবো আমরা মেঘনা-পদ্মা-শোন।

দিদি মোরে ডাকে গোবিন্দচাঁদ, মা ডাকে চাঁদের আলো,
মাথা খাও, মাঝি, কথা রাখো! তুমি লক্ষী, মিষ্টি, ভালো!
বাবা বলেছেন, বড় হয়ে আমি হব বাঙলার লাট,
তখন তোমাকে দিয়ে দেব মোর ছেলেবেলাকার খাট।

চুপি-চুপি বলি, ঘুমিয়ে আছে মা, দিদি গেছে ইস্কুলে,
এই ফাঁকে মোরে-আর ছোকানুরে- নৌকোয়া লও তুলে।
কোন ভয় নেই – বাবার বকুনি তোমাকে হবে না খেতে
যত দোষ সব, আমার- না, আমি একা ল'ব মাথা পেতে।

নৌকো তোমার ডুবে যাবে নাকো, মোরা বেশি ভারি নই,
কিচ্ছু জিনিস নেবো না সঙ্গে কেবল ঝন্টু বই।
চমকালে কেন! ঝন্টু পুতুল, ঝন্টু মানুষ নয়,
একা ফেলে গেলে, ছোকানুরে ভেবে কাঁদিবে নিশ্চয়।

অনেক রঙের পাল আছে, মাঝি? বাদামী? সোনালী? লাল?
সবুজও? তা হলে সেটা দাও আজ, সোনালীটা দিয়ো কাল।
সবগুলো নদী দেখাবে কিন্তু। আগে চলো পদ্মায়,
দুপুরের রোদে রূপো ঝলমল সাদা জল উছলায়
শুয়ে' শুয়ে' - মোরা দেখিব আকাশ- আকাশ ম-স্ত বড়,
পৃথিবীর যত নীল রঙ- সব সেখানে করেছে জড়।
মায়ের পূজোর ঘরটির মত, একটু ময়লা নাই,
আকাশেরে কে যে ধোয় বারবার, তুমি কি জানো তা ভাই?

কালো-কালো পাখি বাঁকা ঝাঁক বেঁধে উড়ে চলে যায় দূরে,
উঁচু থেকে ওরা দেখিতে কি পায় মোরে আর ছোকানুরে?
রূপোর নদীতে রূপোর ইলিশ- চোখ ঝলসানো আঁশ,
ওখানে দ্যাখো না- জালে বেঁধে জেলে তুলিয়াছে একরাশ।

ওটা চর বুঝি? একটু রাখো না, এ তো ভারি সুন্দর।
এ যেন নতুন কার্পেট বোনা! এই পদ্মার চর?

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:২৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ক্লাশ ফাইভে পড়াকালীন সময়ের কবিতার কথা স্মরনে আছে । আপনার স্মৃতি শক্তিকে তো তারিফই করতে হয় । প্রখর মেধাবী তাতে কোন সন্দেহ নাই । বুদ্ধদেব হতে কোন অংশে কম নয় । বুদ্ধদেব ঢাকা কলেজ হতে বৃটিশ আমলে ইন্টার মিডিয়েটে আনডিভাইডেড বেঙ্গলে প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। ইংরেজীতে বি এ অনার্সে প্রথম স্থান ও রেকর্ড পরিমান মার্ক অর্জন করেছিলে, যে রেকর্ড ২০০৯ পর্যন্ত কেও ভাঙতে পারেনি ।
যাহোক, খ্যাতিমান কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য-সমালোচক বুদ্ধদেবের বসুর নদীকে নিয়ে লেখা এই সুন্দর কবিতাটিকে এখানে তুলে ধরে এ পোষ্টটিকে যে ভাবে শিল্পসুষমামন্ডিত করেছেন তাতে অভিভুত । বিংশ শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকের নতুন কাব্যরীতির সূচনাকারী কবি হিসেবে তিনি সমাদৃত। আমাদের কুমিল্লার ছেলে বুদ্ধদেব বসু যার পৈতৃক আদি নিবাস ছিল পদ্মা নদী বিদৌত বিক্রমপুরের মালখানগর গ্রামে এবং শৈশব কেটেছে পদ্মার পাড়েই তার পক্ষেইতো সম্ভব নদীকে নিয়ে এমন কবিতা লেখা। তুখোর মেধাবি এই কবি ও সাহিত্যিক যেভাবে আমাদের সাহিত্য জগতকে সমৃদ্ধ করে গেছেন তার তুলনা তিনি নীজেই । তার প্রতি রইল শ্রদ্ধাঞ্জলী ।

আপনার প্রতিউ শুভেচ্ছা রইল

১৬| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৫০

করুণাধারা বলেছেন: নদী বিষয়ক এই পোস্টে কি নেই!!! কবিতা, গান, গায়ক, পৌরাণিক চরিত্র, কবি, রাজনৈতিক নেতা এবং সবার উপরে নদী ভাঙ্গনে সব হারানো মানুষগুলোর কথা। আমাদের এই নদী ভাঙ্গন রোধ করার জন্য গবেষণা করার প্রয়োজন। কোন কোন দেশে এক ধরনের উদ্ভিদ লাগানো হয় নদী তীরে, যার শিকড় মাটি আটকে রাখে, তাতে কিছুটা হলেও ভাঙ্গন রোধ হয়। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন রোধ করার নামে যা করে তাকে "সরকারকি মাল দরিয়া মে ঢাল" বলা চলে। লাভ কিছুই হয় না, বরং আপনি যেটা বলেছেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে স্থাপনা এবং মানুষ দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে ,সেটাই কার্যকর পদ্ধতি বলে আমার মনে হয়। আপনাকে ধন্যবাদ এমন একটি পদ্ধতি কথায় ভাবার জন্য।

ছবিগুলোর সংযোজন পোস্টটিকে আরো আকর্ষণীয় করেছে। পোস্টে প্লাস।

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:৩৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: এই পোষ্টে যা ছিল না তা আপনি
সংযোজন করে গেছেন :) তা উপরেই বলেছি ।
আমার প্রস্তাবে সমর্থন দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জনবেন ।
একটি চিত্র অনেক কথা বলে , বুজাতে ও বুঝতে সহজ হয়
তাই লেখাতে চিত্র সংযোজন করতে আমার ভাল লাগে ।
শুভেচ্ছা রইল

১৭| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৫৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: চোখের জল শুকিয়েছে কেবল
চোখে ফেটে যেদিন নামবে রক্ত ধারা
অনুরোধ অনুনয় ছেড়ে রক্তে উঠবে নাচন
মাওলানা ভাসানীর কথা পড়বে মনে

নদী অধিকারের দাবীতে
নদী রক্ষার দাবীতে
নদী বাঁচানোর দাবীতে আসবে জাগরন
বায়ান্ন, একাত্তরের চেতনায় -দ্বিধাহীন
মনে মননে, কলমে, আইনে তুলে নেবে শানিত অস্ত্র ।

সেদিনই বাঁচবে স্ব-দেশ
বাঁচবো আমি তুমি আমরা
আবার বইবে পদ্মা কুলনাশিনী হয়ে
আদরের সর্বনাশী হয়ে
প্রকৃতি পরিবেশের প্রাণ হয়ে
গাইবে মাঝি গলা ছেড়ে-: পদ্মার ঢেউরে - - - -

অসাধারন ঋদ্ধ প্রবন্ধটা প্রিয়তে রাখতেই হলো।
++++

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:৪৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অসাধারন কবিতায়
দৃঢ় প্রত্যয় দেখে
নতুন প্রত্যাশায়
নতুন আশার আলো
হলো প্রভাসিত ।

সেদিন আর বেশী দুরে নয়
যেদিন জনতা উঠবে ফুসে
পাথবের তৈরী বাঁধ
ভেসে গিয়ে ঠাই নিবে
বঙ্গোপসাগরের অথৈ
জলে, নদী পাবে প্রাণ
মানুষের হবে জয়গান
বাচবে প্রকৃতি বাঁচবে
মানুষের প্রাণ।

অমর দাবী রইল
আপনার এ কবিতাখানি
যেন ঠাই পায় আপনারই
নতুন কোন পোষ্টের আকারে ।

প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

১৮| ১৭ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৭:০৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আপনার অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টে ছোট্ট করে কমেন্ট করার সময় খুব অনুশোচনা হচ্ছিল। কি লিখবো কিংবা কোনটা বাদ দিয়ে কোন বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করবো। কিন্তু আপনার দীর্ঘ জ্ঞানগর্ভ কমেন্ট পেয়ে আবারো আলোচনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ এলো।

গবেষকদের মতে, নদী ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতি বছর প্রায় বাংলাদেশে ২৫ হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে; যার অর্ধেকের বেশি পদ্মার উপকূলে। সহায়-সম্বল হারিয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব মতে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রায় ৪০ লাখ লোক নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। সে সঙ্গে ২ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। বর্তমানে প্রতিবছর নদী ভাঙনে গৃহহীন উদ্বান্তু লোকের সংখ্যা দুই থেকে আড়াই লাখ হারে বাড়ছে। এতে বছরে ৩শ’ থেকে ৫শ’ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোবাইটি (আইএফআরসিএস) এর দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান বব ম্যাকরো গত ২০১৫ সাল নদী ভাঙনকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, নদী ভাঙন এ দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাকে যে কোন দুর্যোগের চেয়ে বেশি মাত্রায় ধ্বংস করছে, কিন্তু এ নিয়ে খুব কম সংখ্যক লোকই মাথা ঘামায়। তার ভাষায় এটি একটি, “Slow, Slient Disaster”.

নদী ভাঙন এদেশের একটি বড় ধরনের দুর্যোগ হওয়া সত্ত্বেও এ বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত। এমনকি ১৯৯৩ সালের পূর্বে নদী ভাঙন সমস্যা সরকারিভাবে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবেও চিহ্নিত ছিল না। ১৯৯৩ সালের জুন মাসে নদী ভাঙন সমস্যাকে জাতীয় দুর্যোগ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কিন্তু দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এ ব্যাপারে সঠিক কোন পরিসংখ্যান সরকারি বা বেসরকারি কোন সংস্থায় নেই। একটি জরিপে দেখা গেছে, নদী ভাঙনে উদ্বাস্তু গৃহহীন ভাসমান মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর ২ লাখ ৫০ হাজার করে বাড়ছে। এ বিপুলসংখ্যক মানুষ বাঁধ, রাস্তা, পরিত্যক্ত জমি প্রভৃতি স্থানে ভাসমান এবং মানবেতার জীবন-যাপন করছে। এদের মধ্যে বৃহদাংশ হচ্ছে শহরমুখী। ঢাকা শহরের বিপুল সংখ্যক বস্তিবাসীর প্রায় ২৫ শতাংশ নদী ভাঙনজনিত কারণে রাজধানী শহরে ছুটে এসেছে (তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রতিবেদন ২০১৪। ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হারে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। ঢাকা শহরের রিকশাওয়ালাদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে যে, এই রিকশাওয়ালাদের শতকরা দশভাগ নদী ভাঙন কবলিত হয়ে এই পেশা বেছে নিয়েছে। এদের এক বড় অংশ আবার হিজলা, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, চিলমারী, কুড়িগ্রাম প্রভৃতি নদী ভাঙন প্রকট এলাকা থেকে এসেছে।

২০১৮ সালের অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) আর্থ অবজারভেটরির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মার তীব্র ভাঙনের দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত- পদ্মা প্রাকৃতিক ও মুক্ত প্রবাহিত নদী, যেখানে ঘরবাড়ি রক্ষায় কখনো কখনো বালির বাঁধ দেওয়া ছাড়া সুরক্ষার তেমন ব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়ত- বিস্তৃত বালুকাবেলায় বসে থাকা নদীর তীর দ্রুতই ক্ষয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে আঁকাবাঁকা ও মুচড়ানো পথে পদ্মা বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রতিটি আঁকাবাঁকা গতি ও মোড় বড় বন্যা বা কাছাকাছি কোনো বাঁধ খুলে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনার কথা বলে।

আর এসব ঘটনা নদী তীরের তীব্র ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে ঘরবাড়ি, জমাজমি এমনকি মানুষকে ভাসমান করে দেয়। এভাবে প্রতিবছর ভাঙতে ভাঙতে ১৯৬৭ সাল থেকে ৬৬ হাজার হেক্টর বা ২৫৬ বর্গমাইলের বেশি (প্রায় শিকাগোর সমান) এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে নাসার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিগুলোতে পদ্মার গঠন, আকৃতি ও অবস্থানের পরিবর্তন দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইটের ছবিতে পদ্মা নদীর প্রস্থ, গভীরতা, গঠন ও আকারের পার্থক্য থেকে ভাঙনের পরিমাপ করেন।

সময় সুযোগে নিয়মিত লিখবেন আশা করি; আপনার সুস্থতা প্রত্যাশা করছি।

১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৩:৪৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আবার এসে মুল্যবান পরিসংখান সন্নিবেশ করার জন্য ধন্যবাদ ।
নদী ভাঙ্গন কবলিত সহায় সম্বলহীন ভাসমান মানুষদেরকে পুর্ণবাসন করা একান্ত জরুরী ।
সমাজের সচেতন সকলকে এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হবে ।
তাদের পুর্ণবাসনের জন্য যথাযথ কর্মসুচী কিংবা প্রকল্পের কথা গনমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে,
এক্ষেত্রে আমাদের সামুর বিজ্ঞ ব্লগার বৃন্দও বেশ গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারেন .
সকলের সন্মিলিত চিন্তাভাবনা হতে একটি উপযুক্ত প্রকল্প কিংবা কর্মসুচী বেরিয়ে আসতে পারে ।
তৃনমুল পর্যায় হতেই উঠে আসতে পারে ভাল ভাল প্রকল্প প্রস্তাবনা ।
নদী ভাঙ্গন কবলিত ভাসমানদের পুর্ণবাসনের জন্য একটি বেশ বড় সর প্রায় ১০হাজার কোটি টাকার
বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব বছর দুয়েক আগে এই সামুতেই আমি ছেড়েছিলাম ।
নীচের লিংক ফলো করে দেখে আসতে পারেন ।
পূর্বাচলে উচ্চবিত্তের ১৪২ তলার আকাশ চুম্বী স্বপ্ন :: পাশের গায়ে দরিত্র তাঁতী প্রজন্মের স্বপ্ন: একটি ছোট্ট তাঁত পল্লী
প্রকল্প প্রস্তাবনাটি সে সময়ে সংস্লিষ্ট কতৃপক্ষের নজরে পরেছিল ।
তারা প্রকল্প প্রস্তাবটির আদলে বেশ বড় আকারের একটি প্কল্প প্রনয়ন করেছে ,
এবং সেটা শেখ হাছিনা তাঁত পল্লী স্থাপন নাম দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ।
তাতঁ বোর্ডের অনুমোদিত প্রকল্পটির সংক্ষিপ্ত বিবরন নিন্মরূপ ।
(৪) শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি স্থাপন।
বাস্তবায়নকালঃ জানুয়ারি ২০১৭ - ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত।
প্রকল্প এলাকাঃ শিবচর, মাদারিপুর; জাজিরা, শরিয়তপুর।
উন্নত পরিবেশে তাঁতি এবং তাঁতি পরিবারের আবাসনসহ অন্যান্য নাগরিক সুযোগ সুবিধা প্রদান; দরিদ্র ও প্রান্তিক তাঁতিদের পুনর্বাসন; তাঁতিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বয়নপূর্ব ও বয়নোত্তর সেবা প্রদান এবং উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন; তাঁতিদের ন্যায্য মূল্যে সুতা ও কাঁচামাল সরবরাহ করা; উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রদান; দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁত বস্ত্র সরবরাহ; এবং তাঁতিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফলাফলঃ
o প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ জন তাঁতি পরিবারকে পুনর্বাসনের নিমিত্ত আবাস-কাম-কারখানা স্থাপনের জন্য ফ্ল্যাট ও তাঁত শেড বরাদ্দ প্রদান;
o ৮০৬৪ টি তাঁত বয়নশেড নির্মাণ করা হইবে। ৮০৬৪ জন তাঁত কারিগরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান;
o নারী ও পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ গ্রামীণ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে;
o বছরে প্রায় ৪.৩১ কোটি মিটার কাপড় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পটি গত ১৮.০৯.২০১৮ তারিখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

যাহোক, আমার ভাল লাগছে যে আমার প্রস্তাবিত প্রকল্পের নীল নকশা অনুযায়ী সমাজের দরিদ্র অংশের মানুষদের জন্য একটি প্রকল্প প্রনীত হয়েছে ও তা জাতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হওয়ার পর এখন বাস্তবায়নাধীন আছে । এই প্রকল্পটিতে নদী ভাঙ্গন কবলিত হতদরিদ্র তাতী পরিবার সহ অন্যদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষন দিয়ে প্রকল্পের কাজের সাথে সম্পৃক্ত করনের সুযোগ থাকবে ।

যাহোক নদী ভাঙ্গন কবলিতদের প্রতি আপনার দরদ , সহানুভুতি ও তাদের জন্য সমাজের সকলকে সচেতন করার প্রচেষ্টা দেখে ভাল লাগল , তাদের জন্য যে কোন ধরনের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নে আমার সহযোগীতার হস্ত সমসময়ই প্রসারিত থাকবে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

১৯| ১৭ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:০৬

সুমন কর বলেছেন: কিছুদিন ব্লগে ছিলাম না। তাই কেমন আছেন?
+।

১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৩:৫১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আপনি কেমন অছেন ,
দু একবার গিয়ে ঘুরে এসেছি আপনার বাগান বাড়ী হতে।
আমি বেশি ভাল নেই, সর্দী কাশি যেন জীবন নাশী ।
শুভেচ্ছা রইল

২০| ২০ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:১৮

নীলপরি বলেছেন: অসাধারণ ও পরিশ্রমী পোষ্ট । প্রিয়তে রাখলাম ।
++

শুভকামনা

২০ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:১৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অসাধারণ ও পরিশ্রমী পোষ্ট অনুভুত হওয়ায়
ও প্রিয়তে তুলে রাখায় অনুপ্রানিত হলাম।

শুভেচ্ছা রইল

২১| ২৪ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ৯:১৪

রোকসানা লেইস বলেছেন: পদ্মা নদীর সাথে যোগ সুত্র ছিল খুব ছোট থেকে। কতবার এপাড় ওপাড় দেখা না যাওয়া পদ্মা নদী পার হয়েছি। লেখা পড়তে পড়তে মনে পরে গেল অনেক স্মৃতি। প্রমত্তা পদ্মা থেকে ধূধূ বালুচরের পদ্মার সাথেও অনেক বার দেখা হয়েছে।
সেই পদ্মা নিয়ে আপনার বিশাল আকারের লেখাটি পড়তে পড়তে ঘুম এসে গেল রাত অনেক হয়েছিল তাই। মন্তব্য দিতে পারলাম না।
আপনার লেখার বৈশিষ্ট নিয়ে দারুণ হয়েছে লেখাটা তথ্য উপাত্তে ভরপুর।
তবে আমার একটা নতুন কথা মনে হচ্ছে এই পদ্মা সেতু তৈরি নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পর। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে টাকা না নিয়ে, নিজের দেশের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করার চ্যালেঞ্জ ঘোষণা দেশের প্রধানমন্ত্রী। কাজ প্রায় অনেক হয়েছে। এখন এই পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা লাগবে এই হুজুগ তুলে, দেশে যে ছেলেধরার উপর্যপরি আক্রমণ চলছে। মানুষকে ধরে এবং পিটিয়ে মেরে ফেলার একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে। এটা ঠিক স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। অন্যরকম একটা কিছুর আভাস দিচ্ছে এই সব কাণ্ডকারখানা।
বিষয়টা আমার কাছে গভীর ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে। কেউ চাচ্ছে পদ্মা সেতু শেষ না হোক অথবা মানুষের মনে ভীতি তৈরি হোক। এত বড় একটা কাজ এই সরকার শেষ কেরে ফেলছে অন্তত ছেলে ধরা মানুষ মেরে ফেলার বদনাম তো দেয়া যাবে আর কিছু না হলে।
মিলন বিরহ সংকটের বেশ বড় একটা ঘটানা পদ্মা ঘিরে ঘটছে।

২৪ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ।
পদ্মার সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে শুনে খুশী হলাম ।
পদ্মা সেতু নিয়ে কি তুলকলাম কান্ড হয়েছিল তা আমার মনে আছে ।
প্রধানমন্ত্রীর সাহসী উদ্যোগের ফলে এটা আজ মাথা তুলে দাঁড়াত পেরেছে ।
পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকের মাঝে যে
উল্লাস দেখেছিলাম তাতে বিস্মিত না হয়ে পারি নাই । আমার মনে আছে
ইউকের নামকরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মা্টার্স লেভেলে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিশ্রত অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এতই খুশী হয়েছিল যে পদ্মা সেতুর উপর বাঁশের সেতু দিয়ে মানূষ পাড়াপাড়ের একটি ছবি ( ইউ টি্‌উবের ) দেখিয়ে আমার সাথে ব্যঙ্গ তামাসা করতে এসেছিল , কারণ আগের দিন কথাচ্ছলে তাকে আমি জোরের সহিত বলেছিলাম পদ্মা সেতু হবেই। যাহোক কিছু মানুষের বুকে পদ্মা সেতু নির্মান শেলের মত বিধে থাকবে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই । আর পদ্মা সেতুতে মানুষের কল্লা সংক্রান্ত যে গুজবের কথা বলেছেন , তার স্বরূপটি বিশ্লেষন করলে অনেক কিছুই অতি সহজে বোধগম্য হবে । গুজব তৈরীর পর তাকে বহুলভাবে অভিনব কায়দায় মানুষের দোর গড়ায় পৌঁছিয়ে দেয়ার বিবিধ কৌশলটিও দুর্দান্ত বলে মনে হচ্ছে । কি পরিমান কুশিলব যে এর পিছনে কাজ করছে তা কে জানে । প্রথমে সেতুর জন্য মানুষের কল্লা লাগার গুজব রটানো , তার পর শিশুর বস্তাবন্দি গলাকাটা দেহ, তারপর ছেলে ধরা , তার পরে একদিকে গনপিটুনি , আরদিকে বিবিধ মাধ্যমে তার বহুল প্রচারের আয়োজন । অভিনব ইত্যাদি কৌশল দেখার পরেও কেও যদি তা বুঝতে না পারে তার মাসুলতো সরকার ও জাতিকে দিতেই হবে । ঠিকই বলেছেন মিলন বিরহ সংকটের বেশ বড় একটা ঘটনা পদ্মা ঘিরে ঘটছে। সকলের মাঝে সঠিক সচেতনতা আসা প্রয়োজন । কামনা করি জাতি মুক্তি পাক যাবতীয় অশুভ শক্তির হাত থেকে ।



২২| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৬

বিজন রয় বলেছেন: কি বলতে পারি!!
কিছুই না!!

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৩৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: কানে দিয়েছি তুলা
পিঠে বেধেছি ছালা
যতপারেন বিদ্রোপ করেন :)
দেখা এ জীবনে হয়ত আর
হবেনা । গত মার্চে ঢাকায় ছিলাম,
ব্লগে লগ এন করতে পারিনি বলে
উপস্থিতি জানান দিতে পারিনি ।
দিন কয়েক পরে আবার ঢাকায়
যেতে পারি , দেখার সুযোগ পেলে
পিঠ পেতে দিব , যত পারেন
দিয়েন , বেদনার উপসম হলেও
হতে পারে :)
শুভেচ্ছা রইল

২৩| ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:১৭

জুন বলেছেন: প্রিয় পদ্মার ইতিহাস, ঐতিহ্য রূপ যৌবন, অকাল বার্ধক্য সাথে তার ভালোলাগা মন্দ লাগা সমস্ত কিছু তুলে এনেছেন একটি লেখায় ডঃ এম এ আলী ভাই এখানেই আপনি সবার থেকে ব্যাতিক্রম । আমার তো এক বিষয় নিয়ে লিখতে গেলে কম পক্ষে তিনটি পোষ্ট হয় । আমার মায়ের দেশ পদ্মার পাড়ে এখন যেটা মাওয়া ফেরীঘাট । কত যে গল্প কাহিনী শুনেছি পদ্মা নিয়ে । কলকাতা থেকে স্টীমারে গোয়ালন্দ ঘাট হয়ে ভাগ্যকুল তারপর মাওয়া । কিন্ত গোয়ালন্দ থেকে মাওয়া কি করে আসতো সে কথা কখনো জানা হয়নি । একবার অনেক ছোটবেলায় একবার মাত্র সেখানে গিয়েছিলাম আমার নানা নানুর সাথে । রাতে ধুপধাপ শব্দ শুনে ভয়ে নানুকে জিজ্ঞেশ করে জানলাম পদ্মা তার পাড় ভাংছে বাড়ী থেকে সামান্য দূরে। সেই কথা মনে হলে এখনো বুকের ভেতর ধুপধাপ শব্দ শুনতে পাই আর কানে বাজে আবদুল আলীমের গাওয়া সর্বনাশা পদ্মা নদী তোর কাছে শুধাই .।

কলকাতায় বেড়াতে গেলে বিদ্যাসাগর সেতুর কাছে উন্মত্ত যৌবনা ভাগিরথী নদী দেখে আমার স্বামী ছিটকে উঠে আসলো। কারন জিজ্ঞেশ করলে বল্লো "আমাদের নদীকে শুকিয়ে মেরে তাদের নদীর ভরভরন্ত রূপ দেখার আমার শখ নেই "
সুন্দর লেখায় অনেক ভালোলাগা রইলো ।
+

০৩ রা আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যে আপ্লুত হলাম। আপনার পোষ্টে যেমনভাবে কাব্যিক ছন্দে ইতিহাস উঠে আসে তা আমার লেখায় একেবারেই কল্পনাতীত , চাছাছোলা কথায় লেখা আমার পোষ্ট আপনাদের কাছে ভাল লাগে সেটাই আমার বড় প্রাপ্তি ।

ঠিকই বলেছেন বৃটিশ শাসনামলে পদ্মা নদী হয়েই ঢাকা-বরিশাল, বরিশাল-গোয়ালন্দ যোগাযোগ রক্ষা হতো । তখনকার মানুষ স্টিমারে করেই গোয়ালন্দ গিয়ে ট্রেনে কোলকাতা যেতো।বিশাল বিশাল সব স্টিমার চলাচল করতো এ ঘাট দিয়ে। বাহারী নাম ছিলো সে সবের- ফ্লেমিংগো, ফ্লোরিকান, বেলুচি ইত্যাদি ।

কলকাতায় বেড়াতে গিয়ে বিদ্যাসাগর সেতুর কাছে উন্মত্ত যৌবনা ভাগিরথী নদী দেখে আপনার পতিদেবের ছিটকে উঠার কথা শুনে ভাগীরথী নিয়ে কিছু প্রাসঙ্গীক কথা মনে পরে যায় । কিংবদন্তী অনুযায়ী, রাজা ভগীরথ মর্ত্যলোকে গঙ্গা নদীর পথপ্রদর্শক ছিলেন বলে গঙ্গার অপর নাম ভাগীরথী। ভাগীরথীর দক্ষিণভাগের প্রবাহটি এখন হুগলি নামে অভিহিত , এই হুগলীকে নাব্য করার জন্যই ভারত ফারাক্কায় বাধ দিয়ে গঙ্গার পানিকে ডাকাতের মত হরণ করছে । তবে কথা হল ভাগীরথী-হুগলি গঙ্গার মূল প্রবাহপথ নয়। গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহটি পদ্মা নামে বাংলাদেশের অভ্যন্তর দিয়েই প্রবাহিত। কেবলমাত্র লোকবিশ্বাসে ভাগীরথী-হুগলি গঙ্গার ধারা, এবং সেই অর্থে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র ও পূজ্য হলেও সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীই মুল গঙ্গা নদী, পবিত্র ও পুজ্য হতে হলে এই অংশটুকুর প্রতিই তাদের বেশী মনোযোগী হওয়া উচিত ।

উল্লেখ্য যে রাজমহল পাহাড়ের উত্তর-পশ্চিমে তেলিগড় ও সকরিগলির সংকীর্ণ গিরিপথটি ঘেঁষে মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুর মহকুমায় গঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের সমভূমিতে প্রবেশ করে। এরপর ধুলিয়ান শহরের নিকটে এটি ভাগীরথী ও পদ্মা নামে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে ভাগীরথী-হুগলী নাম ধারন করে নবদ্বীপ থেকে প্রবাহিত হয়ে সাগরদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে গঙ্গাসাগরের মোহনায় বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়। কিংবদন্তি আছে,গঙ্গাসাগরের মোহনায় সাংখ্যদর্শনের আদি-প্রবক্তা কপিলমুনির আশ্রম ছিল। একদা কপিলমুনির ক্রোধাগ্নিতে সগর রাজার ষাট হাজার পুত্র ভস্মীভূত হয় এবং তাঁদের আত্মা নরকে নিক্ষিপ্ত হয়। সগরের পৌত্র ভগীরথ স্বর্গ থেকে গঙ্গাকে নিয়ে এসে সগরপুত্রদের ভস্মাবশেষ ধুয়ে ফেলেন এবং তাঁদের আত্মাকে মুক্ত করে দেন (রামায়ণ, বালকাণ্ড, ৪৩ অধ্যায়)। গঙ্গা নদীর মূর্তিস্বরূপ হিন্দু দেবীই গঙ্গা । আপনিতো জানেনই যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিশ্বাস করেন গঙ্গায় স্নান করলে সমস্ত পাপ মুছে যায় এবং জীব মুক্তিলাভ করে, তাই গঙ্গাসাগরে প্রতিবছর ঘটা করে গঙ্গা স্নান ও মেলার আয়োজন করা হয় । শুনেছি থাইল্যান্ডের লয়-ক্রান্তং উৎসবে পূণ্যার্থীরা নদীতে প্রদীপযুক্ত ছোটো ছোটো নৌকা ভাসিয়ে বুদ্ধ ও গঙ্গা দেবীকে শ্রদ্ধা জানান।

যাহোক, এখন কথা হল গঙ্গা দেবীর নামাংকিত এই পবিত্র নদীটির মুল প্রবাহ গঙ্গা তথা আমদের পদ্মা হতে এক তরফাভাবে অযৌক্তিকভাবে পানি হরন করে নিয়ে ভাগীরথী-হুগলী দিয়ে গঙ্গাসাগরের মোহনা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে নিয়ে যাওয়ার মত অমানবিক আচরন করার কারণে কপিলমুনি যদি রাগান্বিত হয়ে সগর রাজের ষাট হাজার পুত্রের মত ভাগীরথী-হুগলী অববাহিকার কোটি কোটি মানুষকে ভস্মীভূত করে ফেলেন তাহলে আবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা । তাই ভারতের এখনো সময় আছে সচেতন হওয়ার , তাদের নীজেদের জীবন মরনের তাগিদে ও মুনিবর কপিলমুনির আসন্ন অভিসস্পাত হতে মুক্তি লাভের জন্য তাদের উচিত হবে এখনই ফারক্কা বাধ ডিমোলিস করে গঙ্গার প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে কোন রূপ বাধা সৃস্টি না করে গঙ্গা দেবীর পথ নির্দেশিত আদি প্রবাহ ধারাটিই বজায় রাখার ব্যবস্থা করা । আপনার পতিদেব সঠিক অনুধাবনই করেছেন , উনার এই অনুভুতির জন্য টুপি খোলা অভিবাদন রইল ।

আরো একটি কথা, সম্ভব হলে থাইল্যান্ডের লয়-ক্রান্তং পানি উৎসব নিয়ে একটি পোষ্ট দেয়ার জন্য অনুরোধ থাকল ।

লয় ক্রান্তং এর পানি উৎসব এর শুভেচ্ছা রইল

২৪| ০৬ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৫০

জুন বলেছেন: অসাধারন এক প্রতি মন্তব্যে আমি মুগ্ধ ডঃ এম এ আলী ভাই । আপনি আমার নতুন পোষ্টে আমাকে ডেঙ্গু নিয়ে লিখতে বলেছেন । ঐ হাসি ঠাট্টার লেখায় আমি আমাদের জান প্রান নিয়ে টানাটানি করা সিরিয়াস বিষয়টি ইচ্ছা করেই এড়িয়ে গেছি । তবে আপনাকে উৎসর্গ করে খুব শীঘ্রই আমি ডেঙ্গু নিয়ে ছোট একটি পোষ্ট দেবো কথা দিলাম । আর লয় ক্রা থং মাথায় থাকলো :) আমি আসলে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি যদি সেই জিনিসটি আমি স্বচক্ষে দেখি । নাহলে কল্পনা করে লিখলে আমার লেখা অতটা ভালো হয়না বলেই আমার মনে হয় :``>>
শুভেচ্ছা রাত্রির । ভালো থাকবেন অনেক ।

০৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:২৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
এসে দেখে সুন্দর মন্তব্য করায় খুবই ভাল লাগছে ।
ঠিক আছে , বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে নীজ চোখে দেখার পরই লয় ক্রান্তং নিয়ে পোষ্ট দেন ,
তারাহুরার কিছু নেই । নীজ দেখা পোষ্টইতো চাই দেখতে ।

ডেঙ্গু নিয়ে আপনার আগত মুল্যবান পোষ্টটি আমাকে উৎসর্গ করার কথা শুনে উৎসর্গের যোগ্য নই জেনেও খুবই খুশী হলাম এবং গর্ব অনুভব করছি । আমাকে উৎসর্গ করতে চেয়েছেন এটাই আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি ও আমি এতেই তৃপ্ত ।
তবে একটি বিশেষ অনুরোধ থাকল মহামারী আকারে চলমান ভয়াবহ মরনঘাতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অনেক অমুল্য প্রাণ ঝরে যাচ্ছে । ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইডেন কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার শান্তার(২০) মত অনেক প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে । বাবা-মায়ের আদরের দুলালী ছিল শান্তা। কলিজার টুকরা মেয়ের নিথর দেহ দেখে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন শান্তার বাবা শামসুদ্দিন মিয়া। ইতালি প্রবাসি এক নারী তার দু সন্তান রেখে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন । সে পরিবারেও শোকের ছায়া । শুধু তারাই নয় সকল মৃতদের পরিবারে আজ শোকের মাতম । তাই আমার অনুরোধ থাকল আপনার ডেঙ্গু বিষয়ক পোষ্টটি যদি ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য উৎসর্গ করেন তবে সেটাই হবে মহত্তর কাজ । আমাকে যদি আপনার কোন মুল্যবান পোষ্ট উৎসর্গ করার বাসনা থাকে তবে তা অন্য যে কোন পোষ্টই করতে পারেন । তাই ডেঙ্গু বিষয়ক পোষ্ট তাদের প্রতিই উৎসর্গের জন্য বিনীত অনুরোধ থাকল ।

শুভেচ্ছা রইল

২৫| ০৭ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:১৮

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: অগ্রিম ঈদ মোবারক জানিয়ে গেলাম

০৭ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনার প্রতিউ অগ্রিম ঈদ মোবারক রইল ।

২৬| ০৭ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৩

জুন বলেছেন: শান্তা রায়হান আরো কত শত জন চলে গেল পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে দুদিনের জ্বরে । তাদের হয়তো কত কথা বলার ছিল, গলায় কত না গাওয়া গান ছিল, মনের ভেতর কত কল্পনা, কত বেদনা আর কত অভিমান ছিল তা অজানাই রয়ে গেল ডঃ এম এ আলী ।
আমার পোষ্টে আপনার মন্তব্যের উত্তরটি দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করে গেলাম ।

০৭ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




শান্তা রায়হান আরো কত শত জন চলে গেল পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে দুদিনের জ্বরে । তাদের হয়তো কত কথা বলার ছিল, গলায় কত না গাওয়া গান ছিল, মনের ভেতর কত কল্পনা, কত বেদনা আর কত অভিমান ছিল তা অজানাই রয়ে গেল এ সকল অজানা কথাইতো আপনার সুন্দর আবেগগন কথামালায় পাঠককুলের কাছে তুলে ধরার কথা বলেছি ।
দেখে এসেছি সেটি ।
শুভেচ্ছা রইল

২৭| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৩:৫১

চাঁদগাজী বলেছেন:


ফারাক্কা থেকে পানি নিয়ে ভারত কি পরিমাণ জমিতে সেচ দিচ্ছে, এটা কোথায় পেয়েছেন?

১৬ ই আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ফারাক্কা থেকে পানি নিয়ে ভারত কি করছে তা সুত্র সহ তুলে দেয়া হল নীচে
The main purpose of the barrage is to divert 1,100 cubic metres per second (40,000 cu ft/s) of water from the Ganges to the Hooghly River for flushing out the sediment deposition from the Kolkata harbour without the need of regular mechanical dredging. After commissioning the project, it was found that the diverted water flow from the Farakka barrage was not adequate to flush the sediment from the river satisfactorily. In addition, there are regular land/bank collapses in to the Ganga river due to the high level back waters of the Farakka barrage. Substantial high land is already converted into low level river bed causing displacement of huge population.The Barrage serves water to the Farakka Super Thermal Power Station. There are also sixty small canals which can divert some water to other destinations for drinking and irrigation purposes etc.
Source :
The Encroaching Ganga and Social Conflicts: The Case of West Bengal, India

২৮| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:১২

সোহানী বলেছেন: শতকোটি স্যালুট আপনাকে।

ভাসানীর সে মিছিলে আমার বাবাও ছিলেন। হাঁ, একজন ভাসানীর খুব দরকার এখন......... আবার দরকার জেগে উঠার।
-
-
-
যা লিখেছেন তা পড়ে হ্রদঙ্গম করতে অনেক সময় নিয়েছে। আব্দুল লতিফ থেকে মানিক বন্দোপাধ্যায়, সেখান থেকে রবীন্দ্রনাথ কিংবা মহা কবি মধুসুদনের বিখ্যাত মেঘনাদবাদ কাব্য, নদীর পাড়ের সুখ দু:খ, রাজনৈতিক পারপ্যাচ ও সর্বোনাশের মূল হোতা ফারাক্কার ব্যবচ্ছেদ..................... কি নেই এ লিখায়।

বাবার মুখেই প্রথম সনেট জেনেছি মেঘনাদবাদ শুনে। চমৎকার আবৃত্তির গলা ছিল বাবার। এবং মেঘনাদবাদ কাব্য পড়ে বাবা বুঝিয়েছিলেন ভিলেনকে কিভাবে নায়ক আর নায়ককে কিভাবে ভিলেন বানাতে হয়.... প্রথম জানলাম রাবননের দু:খবোধ আছে, কষ্ট আছে । তারপর দারুন আগ্রহ জন্মে এ লেখক নিয়ে।। একে একে অনেক পড়তে লাগলাম এ মহান লেখকের। কি অসাধারন ভাবনা চিন্তা চেতনা..... নতুন করে ভাবাতো অনেক কিছু।

জন্ম থেকেই ফারাক্কা সম্পর্কে শুনে আসছি বাবার মুখে। এ নিয়ে অনেক সেমিনার ও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বাবার কাছেই জানতে চেয়েছিলাম এর সমাধান। তখনই বাবা বুঝিয়েছিলেন পলিটিকেল সীমাবদ্ধতা, জাতিসংঘের ব্যার্থতা কিংবা আমাদের পা চাটা স্বভাব। তারপরও উনি চমৎকার সমাধান বলেছিলেন যে আমরা যদি ঠিক কাপ্তাই লেকের মতো ড্যাম বানাই ও নদীর ড্রেজিং করতে থাকি তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে পারবে।....... হায় সে যে কিছুরই দিকে আমাদের নজর নেই। দিন দিন আমরা আরো ধ্বংসমুখী হচ্ছি। জাস্ট শেয়ারিং, বাবা কিন্তু স্বনির্ভর ন্বর্ণপদক পেয়েছিলেন।.....

অনেক ভালো থাকেন আর নেক্সট্ নায়াগ্রা দেখতে আসলে আওয়াজ দিবেন।

১৬ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৯:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ মুল্যবান মন্তব্যের জন্য । এই মাত্র টরেন্টোতে থাকা আমার এক ভাই এর সাথে ফোনে কথা বলার পরে সামুতে এসে দেখা পেলাম আপনার মন্তব্যখানি । খুব সহসাই হয়ত যাওয়া হবে । গেলে আওয়াজ দিব আশা করি ।

মধু কবির গুণের কথা বলে শেষ করা যাবেনা । সর্বদিক বিচারে বাংলা ভাষায় মহাকাব্য বলতে গেলে মাত্র তিনটি । এর একটি হলো মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'বিষাদ-সিন্ধু' যা মুলত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস। কারবালার যুদ্ধ ও এর পূর্বাপর ঘটনাবলী এই মহাকাব্যিক উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়।

দ্বিতিয়টি হলো ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ নিয়ে কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' । ঐ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা; যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস।

তৃতীয়টি হলো মাইকেল মধুসূদন রচিত মেঘনাদবধ মহাকাব্য ।মেঘনাদ বধ মহাকাব্যটি মধুসূদন সর্বাংশে আর্য রামায়নকে অনুসরণ করে রচনা করেন নি। প্রতিটি চরিত্রের উপরই বাল্মীকির থেকে ইংবেঙ্গলের প্রভাব অনেক বেশী৷ মানুষ অনেক সময় অভিযোগ করে বলে যে কবির হৃদয়কে মেঘনাদ এবং রাক্ষসরা অধিকার করেছে । কবিও বলেন এটিই আসল সত্য । তিনি বলছেন আমি রাম ও অনুচরদের ঘৃণা করি , কিন্তু রাবণ এর ধারণা আমার কল্পনাকে উজ্জীবিত করে । মধুসূদনের মতে রাবন একজন মহান সহকর্মী ছিলেন। ফারাক্কা প্রসঙ্গে ভারতের কর্মকান্ড বিষয়ে মহাকবি মধুসুদন বেঁচে থাকলে কি বলতেন সে দিকটি তুলে ধরার জন্য মেঘনাদবদ কাব্য থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি ।

আপনার বাবার কৃতি ও প্রাজ্ঞতার প্রতি রইল শ্রদ্ধাঞ্জলী ।

শুভেচ্ছা রইল ।

২৯| ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:০৪

নজসু বলেছেন:




আপনার পোষ্ট মানে আমাদের কাছে অন্য রকম কিছু্।
তথ্য ভান্ডারে পরিপূর্ণ।
লেখাটি প্রিয়তে রেখে দিলাম।

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৭:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
নতুন একটি পোষ্ট দেয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকায় উত্তর দানে বিলম্বের জন্য দু:খিত ।
লেখাটি প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.