নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

মুক্তমনা

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

নগরবধু আম্রপালী মহাকাব্য

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৪


ভুমিকা: উপনিষদে নারীর স্বাধীন ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণে বানপ্রস্থ এবং সন্যাস গ্রহণের বর্ণনামূলক অনেক বিবরণ পাওয়া যায়। প্রাচীন ভারতে কিছু রাজ্যে নগরবধূর মতো প্রথা প্রচলিত ছিল। নারীরা নগরবধূর ঈপ্সিত শিরোপা জয় করতে প্রতিযোগিতা করতো। বৈশালীর শ্রাবস্তিতে বেড়ে উঠা আম্রপালী (আমগাছের নীচে পেয়েছিল বলে নাম রাখা হয়েছিল আম্রপালী) এরকমই একজন জনপ্রিয় নগরবধূ যার কাহিণী কাব্যকারে সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরা হয়েছে ।

শ্রাবস্তির আম্রবনে গাছের নীচে পরিত্যক্ত
একটি কন্যাশিশু পেয়েছিল মালী দম্পতি
সন্তানসম স্নেহে বড় হতে থাকে শিশুটি
কৈশোরে পা রাখতেই পরে সংকটে।
ছবি৩: সুন্দরী আম্রপালী ( রূপকল্প )

সংকটের কারণ মেয়েটির আগুনে রূপ
সকলেই দিতে চায় সেই আগুনে ঝাঁপ
জনপদের রাজা শহরের বণিক গ্রামের মহাশয়
নগরের শ্রেষ্ঠী কে নেই তাঁর প্রণয়ীর তালিকায়।

বৈশালী ছিল অধুনা ভারতের বিহারের
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের সমৃদ্ধ এক নগরি
ক্ষত্রিয় সম্প্রদায় লিচ্ছবিদের রাজধানী
কায়েম ছিল সেথায় বজ্জিয়ান গণতন্ত্র।

বৈশালী ছিল বিশ্বের প্রাচীন গণতন্ত্রের একটি
রাজা হতো নির্বাচনের মাধ্যমে জনতার ভোটে
ছিলনা কোন পরিবারতন্ত্র, যোগ্য হলে তবেই
নির্বাচিত হয়ে বসার সুযোগ পেত রাজ্যপটে।

বৈশালীর এক রাজা মনুদেবের অসির ঘাতে
কতল হয়েছিল আম্রপালীর বাল্য প্রেমিক
বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তাদের সে রাতে
বিচারের তরে তাই সভা বসে বৈশালী সংসদে।

আম্রপালীকে সভায় তলবের পরে তাকে দেখে
সমস্বরে বলে সবে এ যে স্বর্গের অপ্সরা- স্ত্রীরত্ন
ঐশ্বরিক সৌন্দর্য উপভোগের অধিকার সবার
ঈশ্বর সৃষ্ট চাঁদ হতে পারেনাতো কারো একার।

গণতন্ত্র দেয় বিধান বৈশালীর আম্রপালী
কোন দিন পারবে না করতে বিয়ে কারণ
এত রূপ-যৌবন নিয়ে সে কেবল একজন
পুরুষের ভোগ্যা হতে পারেনা ইচ্ছা মতন।

বৈশালীর গণতন্ত্রের সর্বসন্মত রায়
অপরূপা সুন্দরী নৃত্যপটিয়সি নারী
আম্রপালী হবেন বৈশালীর নগরবধূ
অর্থাৎ নগড় পুরুষদের জন্য ভোগ্যা ।

বৌদ্ধ ও জৈন গ্রন্থেও তাঁকে জনপদ-কল্যাণী
তথা নগরবধু হিসাবে হয়েছে বলা এছাড়া
জনপদ-কল্যাণী নগরবধূ শুধু এক সামান্য
গণিকাই নহেন, নৃত্যগীতেও তিনি অসাধারন।

অভিজাত সব আদব কায়দা রপ্ত এই সুন্দরীর
সঙ্গসুখ উচ্চবংশের পুরুষই কেবল পাবে তার
নিজের সঙ্গী নিজেই নির্বাচন করতে পারবে তবে
জনপদ-কল্যাণী বলে তাঁর বিয়ে কভু নাহি হবে ।

নগরবধু সুবাদে তিনিই ছিলেন বৈশালীর রাজনর্তকী
ছিল তার বিশাল উদ্যান আর মর্মর পাথরের অট্টালিকা
শর্ত মতে আম্রপালীর সঙ্গে এক আন্দঘন নিশিযাপনের
দাম ছিল পাঁচশত কার্শপণ (মুদ্রা) রাজসিকতো বটেই ।
ছবি-৪ আম্রপালীর নৃত্যগীত দৃশ্য(ছায়াছবি অবলম্বনে)

জগতখ্যাত আম্রপালীর রূপের আগুনে ঝাঁপ
দিতে চাইলেন মগধের গুণধর সম্রাট বিম্বিসার
এদিকে দুই রাজ্য আবার ঘোরশত্রু একে অপরের
শত্রুর নগরবধূ সনে মিলনের তরে খুঁজলেন ফাঁক ।
ছবি-৫ মগধ সম্রাট বিম্বিসার

বনিকের বেশে মুসাফির সেজে রাতের আঁধারে
ঘোড়সওয়ারী হয়ে বিম্বিসারের বৈশালীতে প্রবেশ
ভোরেও আম্রকুঞ্জের সামনে বিশাল তাবুর বহর
অর্থের লেন দেন সেরে গেলেন আম্রপালীর ঘর।

দিবস-রজনী কেটে গেল ধ্রপদি সঙ্গিত আর নৃত্য গানে
বিম্বিসার সাথে আম্রপালীর হয়েছিল গভীর প্রেম তবে
বিম্বিসারের বিবাহ প্রস্তাব আম্রপালি হেলায় দিয়েছিল ঠেলে
তা না হলে দুই রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ যে ছিল অবিসম্ভাবি।

যদিও বৈশালী দখল করে নেয়ার ক্ষমতা ছিল বিম্বিসার
প্রেয়সীর অনুরোধে বৈশালী ছেড়ে চলে যায় মগধরাজ
তবে বিম্বিসার ঔরসজাত পুত্র এক জন্মে আম্রপালী গর্ভে
পুত্রটির নাম বিমল কোদান্না বলে হয়েছিল বিশ্বময় প্রচার ।

কিছুদিন বাদেই বিম্বিসাপুত্র আক্রমণ করেছিল বৈশালী
ইতিহাস কুখ্যাত অজাতশত্রুর হাতে বন্দি হল আম্রপালী
বন্দিনী নগরবধূর রূপমুগ্ধ অজাতশত্রু পুড়িয়ে দিয়েছিল
গোটা বৈশালী, শুধু বাদ রেখেছিল আম্রপালীর বাড়ীটি ।

দেশের এহেন অবস্থায় বিধ্বস্ত হয়েছিলেন বৈশালীর নগরবধূ
কিন্তু তবু তিনি মগধ রাজ অজাতশত্রুর কুক্ষিগত হননি কভূ
অজাতশত্রুর ধ্বংসলীলার পর ফের মাথা তুলে দাঁড়ায় বৈশালী
দু:খ সুখের দোলায় দুলে দুলে দিবস রজনী কাটায় আম্রপালী।

আনন্দ বিধুর আম্রপালী এক বর্ষা সজল দিনে
মহলের অলিন্দ হতে দেখল সৌম্যদর্শন এক সন্ন্যাসীকে
তাঁর রূপে মুগ্ধ রাজ নর্তকী ভাবল একেই করবে সে বশ
দেশবিদেশের পুরুষসিংহের তুলনায় সেতো এক সন্ন্যাসী!
ছবি-৬ অলিল্দ হতে আম্রপালীর দৃশ্য লোকন(রূপক চিত্র)

আম্রপালী খবর পেল বৈশালীতে এসেছেন তথাগত বুদ্ধ
সঙ্গে কয়েকশো শ্রমণ বর্ষার চারমাস কাটাবেন এখানেই
বর্ষায় তাঁরা করেন না ভ্রমন যতি টানেন নগরের উদ্যানে
আর নগরবাসীর গৃহে গৃহে যান ভিক্ষা ও আশ্রয় সন্ধানে।

সেই তরুণ সন্ন্যাসী বৌদ্ধ শ্রমণ ভিক্ষা ও আশ্রয়প্রার্থী হলে
আম্রপালী তাঁকে ভিক্ষা দিয়ে বলে করতে যাপন বর্ষাকালে
তাঁর প্রাসাদবাসী হয়ে, শুনে এ কথা সন্যাসী জানায় তাঁরে
তথাগতর আদেশ ছাড়া নেয়া যাবেনা আশ্রয় আ'ম্লির ঘরে ।

বৈশালীতে তথাগত বুদ্ধর কাছে অনুমতি চাইল তরুণ শ্রমণ
সবাইকে বিস্মিত করে তথাগত বুদ্ধ অনুমতি দিলেন তারে
এনিয়ে ভিক্ষুসঙ্ঘে বইল আলোচনা আর সমালোচনার তুফান
এক নগরবধূর বাড়িতে কি করে থাকবেন বৌদ্ধ তরুন শ্রমণ ?

বুদ্ধ বলেছিলেন ওই শ্রমণের চোখে কোনও কাম দেখিনি
নিশ্চিত তিনি বর্ষা অতিবাহিত হলে নিষ্কলুষ হয়েই শ্রমণ
ফিরবেন তাঁর কাছে এ এক অগ্নিপরীক্ষা , নিশ্চিত তিনি
এতে জয়ী হবে শ্রমণই,তবে এ কথায় কেও আশ্বস্ত হলনা।

বর্ষা কাটলে পর একে একে জড়ো হলেন সকল শ্রমণেরা
বৈশালীতে যাঁরা ছিলেন সমবেত হলেন বুদ্ধর কাছে তারা
নগরবধূর প্রাসাদে কাটিয়ে চার মাস এল সেই তরুণ ভিক্ষু
আগের মতোই নিষ্কলুষ দাঁড়ালেন তথাগতবুদ্ধের সন্মুখ ।

পিছন পিছন এলেন আম্রপালী যার গায়ের রং দুধে আলতা
বেদানার মতো লাল ঠোট,আভাযুক্ত কপোল, হরিণ হরিণ নয়ন
রূপযৌবনে পরিপূর্ণা সেই আম্রপালীর পরনে মোটা কাষার বস্ত্র
চাঁপাফুলের মতো আঙুল জোরে করল প্রণাম গৌতম বুদ্ধকে।

জানালেন তরুণ শ্রমণকে প্রলুব্ধ করার জন্য হেন কোন
চেষ্টাই রাখেননি বাকি কিন্তু এই প্রথম কোন পুরুষকে
বশ করতে হয়েছেন ব্যর্থ বৈশালীর নগরবধূ আম্রপালী
উল্টে সর্বত্যাগী তরুণ শ্রমণের কাছেই বশীভুত তিনি ।

আজ সর্বস্ব ত্যাগ করে বুদ্ধর চরণে আশ্রয় চান আম্রপালী
বাকি জীবন কাটাতে চান প্রব্যজ্যা নিয়ে তবে তার আগে
আম্রপালীর সঙ্গে তাঁর ঘরে অতিথি হয়ে তাঁর হাতে অন্নগ্রহণ
করবেন তথাগত বুদ্ধ এটা তাঁর প্রতি আম্রপালীর অমর দাবী।

নিজের সব সম্পদ‚ প্রাসাদ‚ উদ্যান বৌদ্ধ সঙ্ঘে করে দান
মোহমুক্ত হয়ে বাকি জীবন উৎসর্গই করেছিলেন আম্রপালী
জীবনের অর্ধাংশ ভিক্ষুনী হয়েই বৌদ্ধ সঙ্ঘে করেন অর্পণ
হিংসা-লালসা জাত কুপ্রবৃত্তিকে দূর করে হলেন সর্বত্যাগী।


কাহিনীর দ্বিতীয় অধ্যায় :ভিক্ষুনী আম্রপালী

শহরবাসী অনেকেই আজো তাঁকে সেই বাঁকা চোখেই দেখে
কিশোরী কালের রূপ যৌবনের কথা কেউ রাখেনি স্মরণ
রূপোজীবিনী হননি তিনি নীজের শখে,বৈশালীর গনতন্ত্রের
সবটাই ছিল গণরাজের খেয়ালীপনা, বানালো তাকে নগরবধু ।

ভিক্ষুনী আম্রপালী একদিন বেরিয়েছিলেন ভিক্ষার তরে
মুণ্ডিত মস্তক, পরণে কাষার বস্র ,ঠোঁটে বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি
বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা করে ফিরার কালে কানে এল কথা
যুবকেরা পথে একে অপরে বলছে বুড়ি হয়েছে, চুল পেকেছে,
চামড়া ঝুলেছে অথচ এক কালে রূপে বৈশালী কাঁপিয়েছে !।

ছিল সে বৈশালী রাজ্যের নগরনটী
পুরুষেরা সে কথা ভুলতেই পারেনি
শিশু আম্রপালী মা বাবাকে যে দেখেইনি
হল নগরনটী সে তো পুরুষেরই কারণে।

তথাগতর দর্শন সেরে সে দিনের ফেরাটা
এখনও দিব্বি মনে গেথে আছে তাঁর
পুরুষেরা রথে চড়ে বুদ্ধ দর্শনে যাচ্ছেন
সুন্দরী নগরনটী এমনি এমনি যাবে ফিরে?।

হবে না কিছু খেলা? আম্রপালীর রথ ছুটছে
আচমকা চাবুক খেয়ে কোন কোন ঘোড়া
সামনের পা দুটো ওপরে দিকে দিচ্ছে তুলে
আম্রপালী যেন পড়ে যায় রথ থেকে ছিটকে ।
ছবি -৯: রথের ঘোড়ার কান্ডকির্তী( রূপক চিত্র)

কিছু কিছু পুরুষের রথ ইচ্ছা করে
উঠে পরছে আম্রপালীর রথের পরে
ছুটন্ত রথে ‘ইভটিজিং’-এর কৌশল
ঐ সব পুরুষদের ভালই করায়ত্ত ।

তবে আম্রপালী আজ দমবেনা
তিনি আর সেই মেয়েই নন
যাকে এখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও
মানতে হবে বহুবল্লভা জীবন।

আক্রমণ শুরু করতেই হবে এখন
ধাবমান রথের অক্ষের সঙ্গে অক্ষ
চক্রের সঙ্গে চক্র স্বেচ্ছাকৃত ভাবে
লাগিয়ে দিচ্ছেন আম্রপালী কৌশলে।

একটা সময় উঠল চিৎকার
আম্রপালী, একি করছ তুমি ?
আমাদের এ জীবন যে যায়
গণিকার উত্তর যেতে দাও আগে।

কাল সকালে ভিক্ষুসঙ্ঘ নিয়ে
গৌতম আসবেন আমার ঘরে
ব্যস্ত আছি তাঁদের ভোজের তরে
সে সুখেই আছি কেটে পর এক্ষনে।

এবার রথারূঢ় পুরুষদের চিৎকার,
হে আম্রপালী, লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে
এই নেমন্তন্ন আমাদের দাও ছাড়ি
আমরা সভাগৃহে ওঁদের করাব আহার।

ঘোড়া ছোটাতে ছোটাতে আম্রপালী দিলেন উত্তর
সারা বৈশালী নগর আমাকে দিলেও হবে না সেটি
গণরাজ্যের পুরুষরা নিজেদের মধ্যে করছে বলাবলি
ইস একটা মেয়ে তাও গণিকা তারি কাছে গেলাম হারি।

এই জয়ের পরদিনইতো আম্রপালী
প্রব্রজ্যা নিয়ে হয়েছিলেন ভিক্ষুণী
জয়? পরাজয়? এ সবের বাইরেও
তো আছে নারীর নিজস্ব স্বর।

ভিক্ষুণী বেশে থাকলেও কি তাঁর
পক্বকেশ আর শিথিল স্তন নিয়ে
হাসি ঠাট্টা করবে বৈশালী নগরী?
দর্পণে নিজেকে দেখেও সে দিন
একদন্ড শান্তি পাননি তিনি।

জানিয়েছিলেন তার দুঃখ গৌতম বুদ্ধকেও
আমার চুল ছিল কালো, আজ তা শনের নুড়ি
সত্যবাদী বুদ্ধ বলেন, কখনও বা এক দিন
আমার ঘাড় ছিল মসৃণ আজ বেঁকেচুরে একসা ।

সত্যবাদী বুদ্ধ বলেন, এতে কোনও তফাৎ নাই
বহু স্তবকে লেখা আম্রপালী কবিতা একটাই
এতে কোনও তথাগত বুদ্ধ নির্বাণের কথা নাই
আছে শুধু নারীর নিজস্ব স্বরটুকু জানিয়ে দেয়াই।

আজ যে সুন্দর কাল সে তা থাকে না
তাই জীবনে হা-হুতাশ আর করো না
সত্যবাদী বুদ্ধ বলেন তফাত কোন নাই
তাবত জীব জগতে অনিত্য সবাই।
ছবি -১১: হাতীর দাতে খোদাই করা গৌতম বুদ্ধের সাথে আম্রপালী

উল্লেখ্য ১৯৬৬ সালে হিন্দী ভাষায় মুক্তিপ্রাপ্ত লেখ ট্যান্ডন পরিচালিত ‘আম্রপালী’ নামক চলচ্চিত্রটি বেশ পরিচিতি পেয়েছিল ।


ছবিসুত্র: কৃতজ্ঞতার সহিত গুগল অন্তরজাল (৬টি ছবি) ও ৩টি ( ১, ২ ও ৫) সামুর ব্লগার ইসতিয়াক অয়ন
তথ্য সুত্র : জৈন ধর্মগ্রন্থ ,অশ্বঘোষের ‘বুদ্ধচরিত’ , বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ , পালি ভাষায় লেখা আম্বপালিকাসূত্র ,
শ্রী শান্তিকুসুম দাশ গুপ্ত রচিত বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্ম এবং প্রাচীন বৌদ্ধসমাজ,গুগল অন্তরজাল ।

মন্তব্য ৮৪ টি রেটিং +১৭/-০

মন্তব্য (৮৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আম্রপালির বিস্তারিত জানলাম।
জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা ।

অনুবাদ কি মূল ভাষা থেকে? না ইংরেজী থেকে?

+++++++

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
প্রথম মন্তব্যে জন্য কৃতজ্ঞতা । কিছু জানাতে পেরে ধন্য হলাম ।
আম্রপালী নিয়ে কোন মহাকাব্যের দর্শন এখনো পাইনি ।
তাই এটা কোন অনুবাদ কর্ম নয় । তবে অন্তরজালে তাঁকে
নিয়ে রয়েছে বিক্ষিপ্ত বিবরণ বিভিন্ন ভাষাতে। তাকে নিয়ে
১৯৬৬ সনে হিন্দি ভাষায় হয়েছে চলচিত্রও ।তাকে নিয়ে
যে যেভাবে পারে করেছে রচনা । তাদের মধ্য হতেই
ভাবনা গুলো নিয়ে কিছুটা নীজেরমত করে একটু কাব্যকারে
এখানে তুলে দিলাম সকলের সাথে শেয়ার করার মানষে ।

শুভেচ্ছা রইল


২| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৪৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আগে থেকেই আম্রপালির কাহিনী কিছু কিছু জানতাম। আপনার লেখা থেকে আরও বিস্তারিত জানলাম। ধন্যবাদ ডঃ এম এ আলী।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
সামু ব্লগের উজ্জল নক্ষত্র সুসাহি্ত্যিক হেনা ভাই এর কাছে আম্রপালী যে পরিচিত সেতো জানা কথাই ।
তাকে নিয়ে অন্তরজালে বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্ম সংক্রান্ত লেখাগুলিতে আছে অনেক কথা ।দু্‌ই হাজার বছর আগে
নগরবধু হিসাবে পরিচিত একজন গনিকা কিভাবে বিখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষুনীতে পরিনত হয়েছে তা নিয়ে আছে
বহুবিধ কথা । রাজশাহী এলাকার বিখ্যাত আম্রপালী আম তারই নামে রাখা ।

শুভেচ্ছা রইল

৩| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৩

হাবিব স্যার বলেছেন: চাঁদ একার হতে পারে না বলে স্ত্রীও সবার হবে?

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর প্রশ্ন রাখার জন্য ।
এ জন্যইতো পরে বলা হয়েছে এটা বৈশালী গনতন্ত্রের ধোকা বা খামখেয়ালি ।
আম্রপালীকে করা হয়নি কারো বধু , তাকে করা হয়েছিল সকলের ভোগ্যা ।
পুরানো বেদ উপনিশদে এমনি রয়েছে অনেক কথা । তবে তাকেই
আবার বলা হয়েছে নারী স্বাধিনতা !!

৪| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৬

শের শায়রী বলেছেন: আলী ভাই আমার জানার ভুল না হলে আম্রপালি পালি ভাষায় লিখিত। আর নগরবধু তো আসলে "বারবনিতা" অনেক টা এখানকার হাই সোসাইটির "সোসাইটি গার্ল।" এর আগে ও পড়ছিলাম অনেক আগে কিন্তু আপনার মত ছন্দে ছন্দে না। ভালো লাগছে, তবে মাঝে মাঝে কিছু বানান বিভ্রাট তাল কেটে দিয়েছে।

ভালো লাগা।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
তাল কেটে যাওয়ার পরেও ভাল লাগা
প্রাপ্তির চেয়েও বড় প্রাপ্তি ।

শুভেচ্ছা রইল

৫| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৩

আসোয়াদ লোদি বলেছেন: আম্রপালি সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। আম্রপালি কঠিন স্বাধীনতা ভোগ করেছে বলে মনে হল।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আম্রপালি সম্পর্কে অনেক কিছু জানাতে পারার কথা শুনে ভাল লাগছে ।
শুভেচ্ছা রইল

৬| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৫

ইসিয়াক বলেছেন: আম্রপালি সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। ভালো লাগা রেখে গেলাম ।
শুভকামনা রইলো।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ভাল লাগা রেখে যাওয়ায় খুশী হলাম ।
শুভেচ্ছা রইল

৭| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: এই শহর এখনও তাঁকে বাঁকা চোখে দেখে!
কেউ খেয়াল রাখে না, নিজের শখে রূপোপজীবিনী তিনি হননি।
গোটাটাই ছিল গণরাজ্যের খেয়ালখুশি।
আম্রপালী ভিক্ষায় বেরিয়েছিলেন।
মুণ্ডিত মস্তক, পরণে কাষায় বস্ত্র।
ঠোঁটে বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি মন্ত্র।
এক বাড়ি থেকে ভিক্ষা নিয়ে বেরিয়ে আসছিলেন,
কানে এল অন্য কথা।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
তারপর কি ?

শুভকামনা রইল

৮| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:১২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ডঃ এম এ আলী ভাই,
আপনি স্মরণকালের ভয়াবহ কাজ করেছেন। আগুন আম্রপালীর রুপে ছিলো জানতে পারছি আপনার লেখা মহাকাব্যে। আজ ব্লগেও আগুন লেগেছে।

আম্রপালী মহাকাব্য পড়ছি এখনো শেষ হয়নি মাঝে মনে প্রশ্ন জেগেছে তা প্রশ্ন করছি “আম্রপালীর কোনো উত্তরসূরী ছিলো? তাঁর
কোনো সন্তান, প্লিজ জানাবেন। আমি আবার মহাকাব্যে ফিরে যাচ্ছি।



১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ছিল একজন ,
পুত্র বিমল কোন্নও পরবর্তীতে হয়েছিল বিখ্যাত বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ।
এটাও বিশাল এক কাহিনী। চাইলে তা জানাতে পারি।
বিশাল এ কাহিনী , আড়াই হাজার বছর ধরেই
এ কাহিনী অনেকের কাছে জানা ।তবে আমরা
অনেক ব্লগারগনই তাঁর বিষয়ে খুবই কম জানি।

৯| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:০৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আমি জানতাম না, শুনিনি কোনোদিন। আপনার লেখা মহাকাব্য পড়ে আজ জানতে পেরেছি।
পুত্র বিমল কোন্নও এর কোনো বংশধর অর্থাৎ আম্রপালী ও তার বংশধর পর্যায়ক্রমে উত্তরসূরী - আমি উইকি খোঁজ করে কিছুই পাইনি। আনন্দবাজার অনলাইনে কিছু তথ্য আছে তবে তা আপনার দেয়া মহাকাব্যর চেয়ে বেশী নয়।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৫১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আম্রপালীর সন্তান ছিল কিনা সে কথা বলতে হলে অনেক কথাই বলতে হয়। মহাকাব্যের পরিধি বিশাল হয়ে যাবে বলে তা বিস্তারিতভাবে হয়নি বলা । তবে জানতে চেয়েছেন বলে এখানে হল বলা ।

মহাকাব্যে পুর্বেই বলেছি বৈশালীর বিধান সভার আইন অনুযায়ী আম্রপালীর বিয়ে কোনওদিনও নয় | তাঁকে লক্ষ্য করে সে আমলে বৈশালীতে নতুন আইন তৈরি হয়, অনিন্দ্য সুন্দরী নারী কখনও পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হতে পারবেন না। জনসাধরণের আনন্দের জন্য তাঁকে উৎসর্গ করা হবে। বিশ্বের প্রাচীন গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র বৈশালীতে রাস্ট্রের নির্দেশে দেহ ব্যবসার ঘটনা পৃথিবীতে এই একটিই।আম্র-পালী অবশ্য ৫টি শর্তসাপেক্ষে তাকে বহুভোগ্যা নগরনটী করার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।
আম্রপালীর শর্তগুলি ছিল নিম্নরূপঃ
(ক) নগরের সবচেয়ে মনোরম স্থানে তাঁর গৃহ নির্মিত হবে।(খ) একবারে মাত্র একজন তাঁর গৃহে প্রবেশাধিকার পাবেন।(গ) তাঁর দর্শণী হবে প্রতি রাত্রির জন্য পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা (ঘ ) শক্র বা কোনো অপরাধীর সন্ধানে সপ্তাহ অন্তে মাত্র এক দিন তাঁর গৃহে অনুসন্ধান করা যাবে।(ঙ) তাঁর গৃহে আগত ব্যক্তিগণের সম্বন্ধে কোনো অনুসন্ধান করা চলবে না।
আম্রপালীর উক্ত পাঁচটি শর্তই সভা কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছিল।

এরপর বারবিলাসিনীরূপে আম্রপালীর জীবনের নতুন অধ্যায় আরম্ভ হৃ। কালক্রমে তিনি প্রচুর অর্থ-সম্পদের অধিকারিণী হলেন। রাজাদের থেকে কম ছিল না আম্র-পালীর সম্পদ | জনপদ-কল্যাণী হওয়ার সুবাদে তিনি ছিলেন বৈশালীর রাজনর্তকী | সুবিশাল উদ্যান, মর্মর অট্টালিকা ছিল তাঁর সেবায় নির্মিত ।

আম্রপালীর রূপের আগুনে ঝাঁপ দিতে চাইলেন মগধরাজ বিম্বিসার । রাজা বিম্বসার ছিলেন মগধের প্রথম ঐতিহাসিক রাজা। আমাদের কবি জীবনানন্দ দাসের ”বনলতা সেন ” -কবিতাটির প্রথম স্তবকের তৃতীয় লাইনে কিন্তু এই বিম্বিসার –এর নাম লেখা আছে।”বনলতা সেন ” -কবিতাটির প্রথম স্তবকে যে বিম্বিসার –এর নাম লেখা আছে সেই রাজা বিম্বিসার
‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
....................
অনেক ঘুরেছি আমি;...........বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে...........চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,.......আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।
এই ক্লান্তিময় ভ্রমনকালে অল্প সময়ের জন্য শান্তির ঝলক নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল এক জন রমণী। কবি নাটোরের বনলতা সেন কাকে বুঝিয়েছেন তা কিছুটা বুঝার জন্য কাহিনীর প্রয়োজনে প্রসঙ্গক্রমে আমাকে এখানে বলতে হচ্ছে আম্রপালীর বেড়ে উঠা বৈশালীর ”শ্রাবস্তী” নামক শহরে । ঐ যে কবি জীবনানন্দ দাশ এর বনলতাসেন কবিতার একটি লাইন, ‘মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য’ জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অসাধারণ কবিতা ‘বনলতা সেন’। কে ছিলেন এই বনলতা সেন? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এবার ভেবে দেখতে পারেন ,সেই বিখ্যাত বনলতাসেন ,কবিতার সে লাইন গুলি আবার দেখা যাক
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা/মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর/হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা/ সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,/তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

পুর্ব কথায় ফিরে যাই মহাকাব্যে বলা হয়েছে সমগ্র বিকেল জুড়ে ক্লাসিকাল সঙ্গীত ও নিজের অপূর্ব নৃত্যকলায় আম্রপালী মগধ সম্রাট বিম্বসারকে মুগ্ধ করে রেখেছিল । মহারাজ মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। একসম তিনি আম্রপালীর হাত থেকে সেতার টেনে নেন। নিজ হাতের আঙুল সেতারের তারের ওপর চলে গেল কখন যেন । সেতারের তারে যেন ঝড় বইতে লাগলো । সেই ঝড়ের সঙ্গে সম্রাটের সুমধুর কন্ঠ আম্রপালীকে মোহাচ্ছন্ন করে ফেলে । এক পর্যায়ে আম্রপালী বলেছিল আপনার রাজ্য জয়ের প্রায় সমস্ত কাহিনী আমার মুখস্ত । আমি আপনাকে না দেখেই আপনার ভক্ত হয়ে আছি। মনে মনে ভাল বেশেও ফেলেছি। আজ আপনার সঙ্গীত-সুরেও আমাকে মুগ্ধ করল । কোন সম্রাট যে এতো মধুর করে গাইতে জানে ,বাজাতে জানে এ আমার ধারনাতেই ছিল না । আপনার গলায় সুর। হাতে সেতার আবার অন্য হাতে তরবারী । কি নেই আপনার? আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না, সম্রাট বিম্বিসার আজ স্বয়ং আমার সামনে দাঁড়িয়ে । মহারাজ আম্রপালীর কথায় মোহিত হয়ে একান্তভাবে কাছে টেনে নিলেন। তিনি আম্রপালীকে নিজ বাহুবন্ধনে জড়িয়ে ফেলেন । আর আম্রপালী তো তার ছোঁয়ায় মোমের মত গলেই গেছেন। ভুলে গেলেন তারা জগতের সবকিছূ।

কিন্তু এ সময় প্রেমের চেয়ে তার দেশ প্রেমই বড়ও হয়ে উঠলো। শুধু তার জন্য বৈশালী শক্তিশালী মগধরাজার অধীনে চলে যাবে এটা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। একদিকে মহারাজা বিম্বিসারের প্রেম অন্যদিকে বৈশালীর স্বাধীনতা । প্রেম বড় না দেশ বড় ? কি করবে এখন আম্রপালী ? বৈশালী থেকে চলে যাওয়ার জন্য আম্রপালি সম্রাটকে অনুরোধ করলো ।বিম্বসার মগধে ফিরে গেলেন । তবে যাওয়ার বেলায় তিনি আম্রপালীকে একটি আংটি দিয়ে বললেন আমাদের প্রনয়ের ফলে যদি মেয়ে হয় তাহলে তাকে তোমার কাছে রেখো আর ছেলে হলে আংটিটি আমার সন্তানকে পড়িয়ে আমার কাছে ততক্ষনাত পাঠিয়ে দিও , যাতে দেখা মাত্র তাকে চিনতে পারি । তোমার পুত্র রাজপুত্র হিসাবে সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হবে । বিম্বিসার আম্রপালীর জন্য বৈশালী অভীমুখে কোন যুদ্ধ যাত্রা করেছিলেন কিনা জানা যায়নি । তবে আম্রপালীর গর্ভে বিম্বিসার ঔরসজাত একটিপুত্র সন্তান জন্ম লাভ করেছিল।এই পুত্রকে অতন্ন্ত গোপনে বনিকদের কাফেলায় করে বিম্বসারের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় । এই পুত্রের নাম বিমল কোনদান্না । তিনি পরে বিখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু হন ।

যাহোক, রাজা বিম্বিসারের পর আম্রপালীর জীবনে আসার চেস্টা করে অজাতশত্রু। অজাতশত্রু আবার রাজা বিম্বিসারের পুত্র। অজাতশত্রু কাহিণী কিছু হয়েছে বলা মহাকাব্যে ।

সুখে দু:খে বৈশালীতে আম্রপালীর দিবস রজনী কেটে যাচ্ছিল । রূপবতী আম্রপালীর কাছে সবাই প্রেম-ভিক্ষা করতো । কেউ পেত কেউ পেত না। এই আম্রপালীই একবার এক সাধারণ ,সাধারন বলতে মন্ত্রী-রাজা নয়-অর্থাৎ ক্ষমতাশীন কেউ নয় ,তিনি ছিলেন সাধারণ বৌদ্ধ শ্রমন ( অল্প বয়সি বৌদ্ধ ভিক্ষুকে বলা হয় শ্রমণ ) মানুষের কাছে প্রেম-নিবেদন করে ব্যর্থ হন। এ ঘটনা আম্রপালীর জীবনের মোড়ই ঘুরিয়ে দেয়। এ বিষয়টি বলা হয়েছে সংক্ষেপে এ মহাকাব্যে।এ তরুণ সন্নাসী কি পেরেছিল রুপে যার আগুণ জ্বলে সেই আম্রপালীর মত সুন্দরী রমণীর এ আহবান উপেক্ষা করেতে ?সে কাহিনীসহ আম্রপালীর ভিক্ষু জীবন কাহিনী বলা হয়েছে এ মহকাব্যের শেষাংসে।

ধৈর্য্য ধরে এ মহাকাব্য পাঠের জন্য ধন্যবাদ ।

১০| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:১৮

রাজীব নুর বলেছেন: তারপর আরো আছে।
অনেক লম্বা। তাই বিরত থাকলাম।
তখন দেখা যাবে সূর্যের চেয়ে বালু গরম।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সূর্যের চেয়ে বালি গরম!!
নদীর চেয়ে প্যাক ঠান্ডা!! -
ক্ষণার একটি বিখ্যাত বচন
স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

১১| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:০২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ডঃ এম এ আলী ভাই,
আমার মন্তব্যর প্রত্তুত্যর করা আম্রপালীর জীবন ইতিহাস আপনার মহাকাব্যর শেষে যুক্ত করার জন্য অনুরোধ করছি। এটি প্রয়োজন। এই লেখা অনেকে পড়বেন। পড়ার মতোই একখানা লেখা।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:৩০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আমার এ কাব্যকথনটি বলতে গেলে একটি অতি প্রথমিক লেখা ।
বিজ্ঞ গুণী পাঠকদের মতামতের আলোকে এর পুর্ণতা দিয়ে পুস্তক আকারে প্রকাশের ইচ্ছা আছে ।
আপনার অনুরোধ আমি যথাযথভাবে সেখানে প্রতিফলিত করব ইনসাল্লাহ ।

শুভেচ্ছা রইল ।

১২| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:০৩

বিজন রয় বলেছেন: এটা নিয়ে ব্লগে পোস্ট দিলেন!!! আমি অবাক!!

এযুগে তো এগুলোর চর্চাই হয় না।
আজকালের ছেলে মেয়েরা এসব কিছু জানেই না ।

বাংলাদেশে তো প্রশ্নই আসে না।
মানুষ ভুলে যাচ্ছে তার আদি আর প্রাচীন শিঁকড়।

অনেক কঠিন একটি কাজ করেছেন।
অনেক ধন্যবাদ।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:৩৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
অনেক কঠিন রাস্তা পাড়ি দিতে হবে যে দাদা।
এই গুরু দায়িত্বটা শুধু দাদার জন্যই মানায়।
অপেক্ষায় থাকলাম ভারতীয় পুরাণের কাহিনী
অবলম্বনে দাদার নিকট হতে সুখপাঠ্য
কবিতা পাবার আসায়।

শুভেচ্ছা রইল

১৩| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:০৫

জুন বলেছেন: এত বড় লেখাটি পড়া হলো একটানে ডঃ এম এ আলী সে শুধু আপনার লেখার গুনে । পুরুষরাই তাদের লোভ লালসা চরিতার্থ করার জন্য কত ছল চাতুরীর আশ্রয় নিতে পারে আম্রপালির জীবন কাহিনীই তার প্রমাণ। এমন যুগ যুগ ধরেই চলে এসেছে। এই একটি ক্ষেত্রে ধর্মের কোন ভেদাভেদ নেই। আম্রপালির কথা জানা থাকলেও আপনার লেখায় বিস্তারিত জানা হলো। আম্রপালি আমাদের কাছে সুস্বাদু একটি আমের জাত হয়েই থাকুক। ভিক্ষু জীবনে আসল আম্রপালি শান্তি পেয়েছিলেন বলেই বিশ্বাস আমার।
অনেক ভালো লাগার একটি লেখায় অনেক ভালোলাগা রইলো।
১ নং ভালোলাগাটি আমার ছিল :)

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
নগরবধু তথা অনেকের মতে একজন বারবনিতার জীবন জীবনগাথা তাও আবার চিত্র সহকারে পোষ্ট দেয়া নিয়ে বেশ ভীতই ছিলাম । মনে মনে ধরে নিয়েছিলাম পাঠকের কিছু তীর্যক কথাতো শুনতেই হবে । কিন্তু পাঠক হিসাবে আপনার প্রথম লাইকের চিহ্ন দেখে কিছুটা আশ্বস্থ হয়েছিলাম ।

হ্যাঁ আম্রপালীকে নিয়ে সঠিক কথাই বলেছেন । সেকালের পুরুষ শাসিত সে যুগে রূপবতীর সতীত্বের মূল্য সমাজপতিদের কাছে ছিল না । বৈশালী রাজসভার সিদ্ধান্ত শুনে আম্রপালী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন । আম্রপালীর পালক পিতা মহানমা আম্রপালীর মনের কথা বুঝেছিলেন । তিনি আম্রপালীর মাথায় স্নেহমাখা হাত রেখে বলেছিলৈন, ‘মাগো ! তুমি হয়তো আজ আত্মহত্যা করে মুক্তি পেয়ে যাবে । কিন্তু আমি আর তোমার মা রাজদন্ড মতে শূলবিদ্ধ হবো । এমন শাস্তি আমাদের দিও না ।’ আম্রপালী সেদিন কি ভেবেছিলেন আজ আর জানার উপায় নাই।

তবে আম্রপালী তার পালক পিতা-মাতার মুখের দিকে চেয়ে আত্মহননের চেষ্টা থেকে নিজেকে বিরত রাখলেন। । তাকে ‘নগরবধূ’ ঘোষনা করা হলো। নগরের সবচেয়ে সুন্দর স্থানে প্রাসাদ নির্মাণ করে দেয়া হলো । প্রাসাদের নাম দেয়া হয়েছিল ‘আম্রকুঞ্জ’।
আম্র-পালী তখন কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে তাকে বহুভোগ্যা নগরনটী করার সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন।

আমার মনে হয় ভিক্ষু জীবনেই তিনি কিছুটা শান্তি পেয়েছিলেন । তবে ভিক্ষুনী কালেও তাকে শুনতে হয়েছিল মানুষের কথা । সে কথাগুলিও এ মহাকাব্যে তুলে ধরা হয়েছে। তাই ঠাকুর মাহমুদের কথাও সত্য, শান্তি তিনি পাননি। বাকীটা আমরা কিভাবে বলি, পরকালের কথাতো আমাদের জানার নয় ।

শুভেচ্ছা রইল

১৪| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:২০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




জুন আপা,
আম্রপালীর ইতিহাস পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে তার কোনো জীবনেই শান্তি হয়নি। না নগরবধু জীবন, না ভিক্ষু জীবন! মৃত্যুতে তার সকল মর্মব্যথার অবসান হওয়ার কথা।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:৩০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এই মন্তব্যটি জুন আপু দেখেছেন ।
তিনিও মনে করেন মৃত্যুতেই আম্রপালি পরিপুর্ন নির্বান লাভ করেছিল।

১৫| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:২৬

জুন বলেছেন: @ ঠাকুর মাহমুদ আমারও তাই মনে হয় মৃত্যুতেই আম্রপালি পরিপুর্ন নির্বান লাভ করেছিল।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:৩৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপু আপনার এই মন্তব্যটি ঠাকুর মাহমুদ দেখেছেন ।

১৬| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪১

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
অসাধারণ কাহিনী তুলে ধরেছেন সাথে বিম্বিসার, শ্রাবস্তির কথাও যা জীবন বাবুর কবিতায় উঠে এসেছে।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ভোর ৪:৩৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
একবাক্যে এত চমৎকার একটি মন্তব্য রাখার জন্য ধন্যবাদ ।
অনেক অনুপ্রেরণা পেলাম ।

শুভেচ্ছা রইল

১৭| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৬

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: এই অজানা একটি বিষয় এতো সুন্দর করে মহাকাব্যকারে আপনি তুলে ধরেছেন, চমৎকার ঢংয়ে এতো প্রাচীন একটি ঐতিহাসিক গল্প আমাদের জানানোর জন্য গুরু আপনাকে অনেক বার ধন্যবাদ।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ভোর ৪:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য । আমি শুধু পতাকা তুলে ধরেছি ।
আশা করি এ ব্লগের কোন শক্তিমান কবির হাতে কোন একদিন
আম্রপালীকে নিয়ে লেখা হবে কবিতা ।

শুভেচ্ছা রইল

১৮| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০৬

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: েআজানা কাহিনী জানা হয়ে গেলো মহাকাব্যের মাধ্যমে

রাতে পড়লাম আর মন্তব্য দিতে ভুলে গেলাম অফিসে

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:৫৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
"রাতে পড়লাম আর মন্তব্য দিতে ভুলে গেলাম অফিসে"
ভুলে যাবারই কথা, নাম হারা ফুল প্রাসাদ কাননে বলেন
ঠাই পেয়েছে কবে ?
যাহোক আপনার "নারীকে নয় অবহেলা" শীর্ষক কবিতাটি
পাঠে মনে হয়েছিল সমাজের লাঞ্ছিত কোন নারীকে
নিয়ে মহাকাব্য লিখি একটা । কথাঠি মন্তব্যের ঘরে
লিখেও ছিলাম । যাই ভাবা তাই, কাজ শুরু করে
দিলাম , সেটাই এটা । ভাল হয়েছে কিনা
সেটা পাঠকই বিবেচনা করবেন। এ কাব্যের
ভাবনা উদয়ের পিছনে আপনার কবিতাটির
ভুমিকা থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন।

শুভেচ্ছা রইল

১৯| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৮

নীল আকাশ বলেছেন: আম্রপালির কাহিনী আমি জানতাম না। অসাধারণ লিখেছেন। মুগ্ধ হয়ে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লাম।
একদম শেষ আমার খুব প্রিয় একজন নায়িকা, বৈজন্তিমালার নাম দেখে কিছুক্ষন চুপ করেছিলাম।
She was my heroine for very long time. So sweet and so cute.
আম্রপালি সিনেমা আমার দেখা হয়নি। সিনেমাটা আগে দেখে নেই।
ধন্যবাদ ভাই।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
লেখাটি অসাধারণ অনুভুত হওয়ায় ভাল লাগল।
অআপনার প্রিয় নায়িকাকে উপরে তুলে দিলাম।
সিনেমাটি দেখলে ভাল লাগবে । আমি অনেক
বছর আগে দেখেছিলাম ।

শুভেচ্ছা রইল ।

২০| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪২

মুক্তা নীল বলেছেন:
শ্রদ্ধেয় স্যার ,
আপনি এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন যা , সামান্যতম কিছু পড়েছিলাম অনেক আগে। তখন পড়ে ভেবেছিলাম আসলে কি সত্যি? এ নিয়ে পরবর্তীতে আর কখনো তেমন কিছু জানা হয় নাই।
আপনার কাছ থেকে বিশদভাবে জানতে পেরে , ভালো লাগলো পুরনো এক মহা কাব্য সম্পর্কে পরিষ্কার জানা হলো। আমিও অনেকটা এরকম শুনেছিলাম ,
মহানমা সামন্ততান্ত্রিক, বাড়ির পাশের বাগানে একটি আম গাছের নীচে এক শিশুকে কান্না অবস্থায় দেখতে পেয়ে, মহানমা তাকে নিজ গৃহে পালিত সন্তানের আশ্রয় দেন। আমবাগানে কুড়িয়ে পেয়েছে বলেই নাম রাখেন "আম্রপালি"। যা আম্বপালিকা বা অম্বা নামেও পরিচিত। তিনি ভীষণ রুপবতী ছিলেন। চাঁদ কারো একার হতে পারে না --আম্রপালি কে প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক পুরুষের স্ত্রী হিসেবে মনোনীত করে নববধূ করে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সেজন্য আম্রপালি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েও পালক পিতা মাতার জন্য তা করতে পারেননি। নগরবধূ ঘোষণা করে আম্রকুঞ্জ প্রাসাদ আরো বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে একদিনে কেবল একজন পুরুষ প্রবেশাধিকার উচ্চ মুদ্রার বিনিময়ে। পতিতা থেকে শেষ পর্যন্ত (রাজ নর্তকী) খেতাব দেয়া হয়।
এত কষ্ট করে আপনি আমাদের সাথে এই আম্রপালীর বিশদভাবে আলোচনা করেছেন সেজন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা । অনেক অজানা সুস্পষ্টভাবে জানা হলো।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: মুক্তা নীল, আপনিতো দেখি পুরাটাই জানেন ।
একথা আগে জানলে আম্রপালীর বিষয়ে অনেক কথাই আপনর সাথে শেয়ার করা যেতো ।
যাহোক, আম্রপালীর কথা তাহলে এখানেইইতি টানি। তবে বলে রাখি প্রাচীন ভারতে নারী যে কেবল পুরুষ কতৃক নিগৃহিতই ছিল তা কিন্তু নয় । বৈদিক যুগের আদি পর্বে নারীরা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই পুরুষের সঙ্গে সমানাধিকারও ভোগ করেছে। পতঞ্জলি বা কাত্যায়ণের মতো প্রাচীণ ভারতীয় বৈয়াকরণের লেখা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে আদি বৈদিক যুগে নারীরা শিক্ষিত ছিলেন। ঋক বেদের শ্লোক থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে নারীরা পরিণত বয়সে বিবাহ করতেন এবং স্বয়ম্বরা নামক প্রথায় নিজের স্বামী নির্বাচনের বা গান্ধর্ব বিবাহ নামক প্রথায় সহবাসের স্বাধীনতা তাদের ছিল। ঋক বেদ, উপনিষদের মতো আদি গ্রন্থে বহু প্রাজ্ঞ ও ভবিষ্যদ্রষ্টা নারীর উল্লেখ আছে, গার্গী ও মৈত্রেয়ী যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সামনের দিনগুলিতে সময় সুযোগ পেলে এদের কাহিনীও সবিস্তারে কিছু লিখব । আপনাদের কাছ হতেও আমাদের দেশের প্রাচীন কালের নারীদের সুকির্তির বিবরণ /কাহিনী সম্বলিত লেখা কামনাা করি ।

শুভেচ্ছা রইল ।

২১| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০১

রাজীব নুর বলেছেন: মন্তব্য গুলো পড়তে আবার এলাম।
মন্তব্য থেকেও অনেক কিছু জানা যায়।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৪৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
সামু ব্লগের জনপ্রিয় ব্যস্ত ও গুণী ব্লগারের পুণরাগমনে সত্যিই ধন্য আমি। আপনার দুরপাল্লার ছবি ধারণ যন্ত্রই বলে দেয়
আপনি বহুদুর পর্যন্ত দেখতে পারেন যা আমরা খালি চোখে ভাল দেখিনা। আপনার ক্ষমতাবান অন্তর দৃষ্টি ও বহি:দৃষ্টির মনোলোভা ফসল দেখার জন্যতো আমরা সর্বদা মুখিয়েই থাকি ।

শুভেচ্ছা রইল

২২| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০

অপ্‌সরা বলেছেন: ভাইয়া আমি ভেবেছিলাম তুমি বুঝি গ্রীস্মের আম আম্রপলি শীতে এনেছো! এখন দেখলাম মহাকাব্যের মহাকাব্য! প্রিয়তে নিয়ে গেলাম! ম্যুভিটাও দেখবো! আর বৈজয়নতী মালা তো মনে হয় আম্রপলীর আত্মা দিয়েই তৈরী! এত সুন্দর!!!!!!!!!!!!!!!

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: কি যে বল আপু অআমের আমের এখন
শীত গ্রীস্ম বলে কিছু আছে নাকি।
ব্রাজিলের আম সারা বছরই পাওয়া যায়!
নাও তোমার জন্য রইল কাঁচা পাকা আমের ভর্তা ।

হ্যাঁ মুভিটা দেখে নিতে পার ,ভাল লাগবে।
কি যে কথা বল ,রাখ তোমার বৈজয়নতী মালা আর আম্রপলী ,আমাদের অপ্‌সরা কম কিসে।

শুভেচ্ছা রইল

২৩| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০১

মনিরা সুলতানা বলেছেন: চমৎকার ভাইয়া ! আমি এ গল্প জানতামই না।
আজকেই মুভি টা দেখবো ।
ধন্যবাদ দারুন এক মহাকাব্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপুমনির কাছে চমৎকার অনুভুত হওয়ায় ভীষন ভীষন খুশি হয়েছি।
অআম্রপালী কাহিণীর কি কোন শেষ আছে ,এর যে আরো কত শত
ডালা পালা রয়েছে তা বলে শেষ করা যাবেনা । বিশ্ব ভারতীতেতো
তিনি রীতিমত গবেষনার বিষয় । ইতিহাস দর্শন , সাহিত্য ,চারুকলা
নৃত্যকলা ,ধ্রপদি সঙ্গীত, সমাজত্ব, ধর্মতত্ব ,নারীতত্ব,যোগীতত্ব ,রূপতত্ব
ইত্যাদি শাখাতে তাঁকে নিয়ে চলছে গবেষনা আর পড়াশুনা ।
জানা যায় আম্রপালী চিত্রকলাররো ভক্ত ছিলেন । তিনি বিভিন্ন দেশের নামকরা চিত্রকরদের উপযুক্ত
অর্থের বিনিময়ে তার আম্রকুঞ্জে নিয়ে এসে নিঁখুঁত ভাবে চিত্রকর্ম তৈরী করবার কাজে
নিয়োজিত করে জনপদ-কল্যাণী হিসাবে বৈশালীতে চিত্র কলার প্রসার ঘটিয়েছিলেন ।

শুভেচ্ছা রইল

২৪| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২১

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনার পোস্ট পড়ার আগে আম্রপালি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না।
প্রথম ছবিটি আনার কলি মুভির 'পেয়ার কিয়াতো ডরনা কেয়া--' গানের একটি দৃশ্য।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের কাহিনী। কাহিনীর পাত্র পাত্রীর চিত্র কোথায় পাব , তাই অন্তরজাল হতে খুঁজে খুঁজৈ কাহিনীর সাথে কিছুটা মিল রেখে কিছু ছবি দিয়েছি তুলে। ছবি কর্তার মুল পরিচয় মিলাতে না পেরে অন্তরজাল থেকে পাওয়া গিয়েছে বলে অন্তরজালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েই সেগুলি নেয়া হয়েছে। গুগলে আম্রপালীর ছবি ইমেজ ব্লগে ব্রাউজ করে ছবিটি পাওয়ায় এত বাছবিচার না করে রাজপ্রাসাদের নৃত্যশালায় নৃত্যরত একজন সুন্দরী নর্তকীর ছবি ছবি দেয়া হয় প্রচ্ছদে । ভুলটি ধরিয়ে দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন । প্রচ্ছদের ছবিটা সরিয়ে দিয়েছি । আশা করি এমনি ভাবেই পাশে থাকবেন ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

২৫| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি এক অমর মহাকাব্য রচনা করেছেন, এটাই আপনার সেরা সৃষ্টি। আপনি নারীকে তাঁর আপন মহিমায় ধরে রেখেছেন, এটাও বিশাল ভাবনার বিষয়। মেঘনাধ বধ কার‌্যের পর, আপনার এই লেখাটি আমার মনে দাগ কেটেছে।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
পোষ্টটি আপনার মনে দাগ কেটেছে জেনে খুশী হলাম ।
দেশের নারীদের শিক্ষা, টেকনোলোজী, সামাজিক, অর্থনৈতিক রাজনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে অগ্রগতি , উন্নতি ও সাবলম্বী
করার জন্য আপনি এ ব্লগের একজন অন্যতম সেরা কলম সৈনিক ।

২৬| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,




কবিতার ঢংয়ে লেখার কারনে পালি সাহিত্যের হৃদয়গ্রাহী আম্রপালীর কাহিনীটি নতুন করে ভালো লাগলো। আগেও যখন পড়েছি তখন সহব্লগার "জুন" এর করা মন্তব্যের মতোই মনে হয়েছিলো - কত রঙ্গ জানোরে যাদু (পুরুষ) , কতো রঙ্গ জানো !
আসলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যে যুগে যুগে এমন কতো যে "নখরা" বানিয়েছে যেখানে আম্রপালীরা দেহ ছেনে শুধু চাঁদের মতো সবাইকে আলো বিলিয়েছে।

প্রাসঙ্গিক কারনেই এই লিংকটি দিলুম --“প্রেমবধ”

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
কম কথায় বিশাল কাহিনী বলার জন্য কবিতার ঢংগের আশ্রয় নেয়া হয়েছে ।
কবিতার প্রধান সুবিধা হলো এখানে বাধ্যবাধকতা অনেক কম । রামের জন্মের
আগেই বাল্মিকী লিখেছিলেন রামায়ন । কবিতায় নেয়া যায় ভাবের সাথে, তথ্যের
সাথে রূপকের আশ্রয় । আর তথ্যের সত্যতা কি আর বলব আমি, ভাষা ও ছন্দ
কবিতায় রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন -
দেবতার স্তবগীতে দেবেরে মানব করি আনে,
তুলিব দেবতা করি মানুষেরে মোর ছন্দে গানে।
ভগবন্‌, ত্রিভুবন তোমাদের প্রত্যক্ষে বিরাজে–
কহ মোরে কার নাম অমর বীণার ছন্দে বাজে।
কহ মোরে বীর্য কার ক্ষমারে করে না অতিক্রম,
কাহার চরিত্র ঘেরি সুকঠিন ধর্মের নিয়ম
ধরেছে সুন্দর কান্তি মাণিক্যের অঙ্গদের মতো,
মহৈশ্বর্যে আছে নম্র, মহাদৈন্যে কে হয় নি নত,
সম্পদে কে থাকে ভয়ে, বিপদে কে একান্ত নির্ভীক,
কে পেয়েছে সব চেয়ে, কে দিয়েছে তাহার অধিক,
কে লয়েছে নিজশিরে রাজভালে মুকুটের সম
সবিনয়ে সগৌরবে ধরামাঝে দুঃখ মহত্তম–
কহ মোরে, সর্বদর্শী হে দেবর্ষি, তাঁর পুণ্য নাম।”
নারদ কহিলা ধীরে, “অযোধ্যায় রঘুপতি রাম।”
“জানি আমি জানি তাঁরে, শুনেছি তাঁহার কীর্তিকথা”–
কহিলা বাল্মীকি, “তবু, নাহি জানি সমগ্র বারতা,
সকল ঘটনা তাঁর– ইতিবৃত্ত রচিব কেমনে।
পাছে সত্যভ্রষ্ট হই, এই ভয় জাগে মোর মনে।”
নারদ কহিলা হাসি, “সেই সত্য যা রচিবে তুমি,
ঘটে যা তা সব সত্য নহে। কবি, তব মনোভূমি
রামের জনমস্থান, অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।”


তাই হাজার বছর আগের অম্রপালীর জীবনগাথার জন্য কবিতাই ভরসা ।

জুন আপু ও আপনার সাথে কন্ঠ মিলিয়েই আমিও কত রঙ্গ জানোরে যাদু (পুরুষ) , কতো রঙ্গ জানো !
তবে মেনকার মত নারীও কিন্তু কম যায়না , অবশ্য মুলত তা দেবরাজ ইন্দ্ররই লীলা ।
আপনার দেয়া লিংক ফলো করে দেখে এসেছি ও সেখানে ছোট্ট করে কিছু কথা বলে এসেছি,
দেখে নিতে পারেন ।

শুভেচ্ছা রইল

২৭| ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:৪৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




Amrapali আপনি যেহেতু এটি পাবলিশ করতে চাচ্ছেন। যে কেনো সহযোগিতায় প্লিজ জানাবেন যতোটুকু সম্বব আমি আপনার পাশে থাকবো। এই লিংকে আপনার প্রয়োজনীয় আম্রপালিকা সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য ও ছবি পাবেন।

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ মুল্যবান সহযোগীতার জন্য। বেশভাল কাজে লাগবে।
শুভেচ্ছা রইল

২৮| ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:০৮

সোহানী বলেছেন: নারী মানেই সব যুগেই পুরুষ সমাজ দ্বারা নিগৃহিত। আর সে যদি হয় অপরুপা তাহলে তার উপর অত্যাচারের খর্গ আরো ধারালো হয়। আম্রপলিরা কোন যুগেই ভালো থাকে না।

আহ্ আলী ভাই, কি যে লিখলেন একটানে গভীল মনোযোগে শেষ করলাম। সামান্য কিছু জানা ছিল ও সাথে নিজের মনে অনেক প্রশ্ন ছিল। আজ সব কিছু জানলাম সাথে সব প্রশ্নের উত্তর। অসাধারন শব্দটা অনেক কম মনে হয় আমার কাছে মাঝে মাঝে......

কে বলে ব্লগে মৈালিক লিখা নেই, ব্লগ মানে আমার কাছে উইকিপিডিয়া........।

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১:৪৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
পোষ্ট টি অসাধারণ হয়েছে শুনে ভাল লাগল ।
ঠিকই বলেছেন বিশ্বের নারী সমাজ সুদীর্ঘকাল ধরে পুরুষ কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে আসছে,বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছে সে সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই।বিশ্বজুরে পশ্চাৎপদ দেশে ও সমাজে নারীদের পারিবারিক সামাজিক নিপিড়ন একই রকম।
দীর্ঘ অত্যাচার নির্যাতন আর যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত বেদনার্ত নারীদের জীবন আমাদের কাম্য নয়। নারীদেরকে অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে তাদের জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়,তা মেনে নেয়া যায় না ।

নারীরা প্রতিনিয়ত ধর্ষণ,অপহরণ,শ্লীলতাহানি ও চরম লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে তাদেরকে সামাজিক বৈষম্য, গন্ডিবদ্ধ জীবন যাপন ও পুরানো ধ্যান ধারণায় নিমজ্জ্বিত করে রাখা হচ্ছে ।কাজেই নারীকে শোষণ নির্যাতন থেকে মুক্ত করতে হলে বিচ্ছিন্নভাবে শুধু নারীমুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। নারীদের আত্ননিয়ন্ত্রণাধিকার ব্যতিত মুক্তি হতে পারে না।

এ মুক্তি পুরুষ ও নারী জাতির একে অপরের মুক্তির সাথে সম্পকির্ত। তাই নারী ও পুরুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে, আত্ননিয়ন্ত্রাণাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। রণাঙ্গণের সারিতে, মুক্তির মিছিলে নারীদের সাথে পুরুষদেরও সামিল হতে হবে।

কামনা করি আপনাদের মত গুণীলেখক লেখিকাদের মৌলিক লেখায় পুর্ণ হোক সামুর এ ব্লগ।

শুভেচ্ছা রইল

২৯| ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:০০

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আপনাকে বিরক্ত করার জন্য আবার এলাম আলী ভাই। রাজশাহীর আম্রপালি আম সম্পর্কে দু'একটা কথা বলি। এই আমটা কিন্তু এই অঞ্চলের বেশিদিনের আম নয়। মোটামুটি দুই আড়াই দশক আগে থেকে এই আমের চাষ হচ্ছে এই অঞ্চলে। তার আগে রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোথাও এই আমটি দেখা যেত না।
আম্রপালি খুব কড়া মিষ্টি আম। অত্যাধিক মিষ্টতার কারণে অনেকে এই আমটি খেতে চায় না, আবার একই কারণে অনেকে আমটি পছন্দ করে।

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

আপনার আগমনে বিরক্ত হব ভাবলেন কি করে হেনা ভাই । আপনার শুভাগমনে আমি ধন্য।
আপনি ঠিকই বলেছেন আম্রপালী আম খুবই মিষ্টি । নব্বই দশকের প্রথম দিকে আমি বিষয় কর্মে রাজশাহী বিভাগ চষে বেরিয়েছি । দশহোরি ও নিলাম-এই দুটি আমের মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে আম্রপালি আমের জাত উদ্ভাবন এর পর রাজশাহী এলাকায় সে সময় এর প্রসার হতে দেখছি । আমাদের দেশের আবহাওয়ার কারণে উন্নত জাতের আম এক গাছে এক বছর ফলেতো পরের বছর ফলে না তবে আম্রপালি প্রতিবছর ফলে। এর মিষ্টতার পরিমাণ ল্যাংড়া বা হিমসাগরের চেয়ে বেশি। গাছ বামন আকৃতির। ফলনও বেশি। যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা জেলায় আম্রপালির বেশ বড় বড় বাগান দেখতে পেয়েছি।

শুভেচ্ছা রইল

৩০| ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ডঃ এম এ আলী ভাই,
অনেক মন্তব্য জমে আছে তার উত্তর পর্ব শেষ হোক তারপর আপনার সাথে শীতের জমজমাট আলোচনা শুরু করবো ভাবছি। বিষয়: আম্রপালী। শীতের আলোচনা তাই স্বাভাবিক গরম গরম আলোচনা হবে এবং “মুক্তদ্বার আলোচনা” তাই যে কেউ আলোচনায় যুক্ত হতে পারেন।


১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: উত্তম প্রন্তাব ।
সকল মন্তব্যের জবাব দিয়ে এখানে আসতে বেশ রাত হয়ে যাবে আমার।
এই ফাকে চাঁদগাজীর এই পোষ্টে সরকারের লোকদের ভাবনাশক্তি আসলে খুবই সীমিত
আপনাকে এটেনশন করে কিছু বলে এসেছি । ইত্যবসরে সময় হাতে থাকলে সেটা
দেখে আসুন ।

৩১| ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ডঃ এম এ আলী ভাই,
আমরা কি আম্রপালী’কে নিয়ে আলোচনায় যেতে পারি? আমি আপনার অপেক্ষায় আছি ভাই।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:০৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
শুক্রবার দিন প্রেয়ার ডে বিধায় দিনটি আমার লেখালেখির জন্য ডে অফ,
তাই আপনাকে রেসপন্স করতে পারিনি , আপনার আধ্যাত্মিক পোষ্টটি
দেখে তা্ই ভাল লাগা জানিয়ে মন্তব্য লেখায় সময় দিতে পারি নাই ।
আধ্যাত্মিকতা নিয়েই দিনটি পারি দিলাম । যাহোক আম্রপালী নিয়ে
আমরা আলোচনায় যেতে পারি । তবে গুরুগম্ভীর ও বেতাল বিষয় কিছু
আলোচনায় উঠে তা সামলানোর ভার আপনার উপরই ছেড়ে দিলাম ।

৩২| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:১৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




একটি মেয়ের জীবনে সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে দেন তার পরিবার তথা মাতাপিতা সহ মায়ের দিকের আত্মীয় পরিজন মা’য়ের বোন, বোনের বোন (নানা বাড়ীর গোষ্টি) তারা। সন্তানের জন্য মাতাপিতা আর্শিবাদ তবে আমি অসংখ্যবার দেখেছি সন্তানের বিনাশের কারণ হয়েছেন মাতাপিতা। সেই ক্ষেত্রে মাতাপিতা সন্তানের অভিশাপের কারণও বটে। আম্রপালীর ক্ষেত্রে কোনটি হয়েছে তা আমাদের ইতিহাস জানাবে আর ইতিহাস জানতে আপনার কাছে স্বরণাপন্ন হয়েছি ডঃ এম এ আলী ভাই।

আলোচনায় বেতাল কিছু হবার সম্ভবনা নেই। তারপরও ব্লগ বলে কথা বেতাল হলে এর দায় ভার আমার।
আমি সামলাবো। আম্রপালীকে ডঃ এম আলী ভাইয়ের প্রকাশিত বইয়ে দেখতে চাচ্ছি।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ বেতাল অংশের দায়ভার নেয়ার জন্য ।
আপনি ঠিকই বলেছেন একটি মেয়ের জীবনে সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে দেন তার পরিবার তথা মাতাপিতা সহ মায়ের দিকের আত্মীয় পরিজন মা’য়ের বোন, বোনের বোন (নানা বাড়ীর গোষ্টি) তারা। সন্তানের জন্য মাতাপিতা আর্শিবাদ তবে আমি অসংখ্যবার দেখেছি সন্তানের বিনাশের কারণ হয়েছেন মাতাপিতা। সেই ক্ষেত্রে মাতাপিতা সন্তানের অভিশাপের কারণও বটে।

আম্রপালীর ক্ষেত্রে
যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন তা সমাজতত্বের আওতাভুক্ত । ঐতিহাসিক সমাজতাত্বিক বিষযে তথ্য নির্ভর আলোচনা বেশ দুরুহ ব্যপার কারন অতি সীমিত তথ্যসুত্র তাদের প্রাপ্যতা । যাহোক জনতে যখন চেয়েছেন তাহলেতো ইতিহাসতো কিছুটা বিস্তারিতভাবেই বলতেই হয় । আম্রপালী বাস করতেন বৈশালী শহরে । বৈশালী ছিল প্রাচীন ভারতের একটি শহর। এটি বর্তমানে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের বিহার রাজ্যের অন্তর্গত একটি প্রত্নক্ষেত্র । গৌতম বুদ্ধ একাধিকবার বৈশালীতে এসেছিলেন। তাঁর সমসাময়িক কালে বৈশালী ছিল একটি সমৃদ্ধ ও বর্ধিষ্ণু শহর। চীনা পর্যটক ফাহিয়েন (খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতাব্দী) ও হিউয়েন সাংয়ের ভ্রমণবিবরণীতে বৈশালী শহরের কথা উল্লিখিত হয়েছে।

বৈশালী রাজ্যের শ্রাবস্তী নামক স্থানে মহানামা নামের এক দম্পতি বসবাস করতেন তিনি একদিন এক কন্যা শিশুসন্তানকে ক্রন্দনরত অবস্থায় একটি আমগাছের নীচে পড়ে থাকতে দেখেন । মহানামা তাকে কুড়িয়ে পেয়ে নিজের বাসায় নিযে যান। স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে এ নিঃসন্তান দম্পতী তাকে নিজের সন্তান হিসেবে লালন-পালন করবার সিদ্ধান্ত নেন । তার নাম রাখা হয় ‘আম্রপালী’ । আম্রবাগনে কুঁড়িয়ে পাওয়াতেই এই নাম ।

যত বয়স বাড়তে লাগলো আম্রপালী তত বেশী রূপবতী হয়ে উঠতে লাগলো । আম্রপালীর বয়স যখন এগারো /বার বছর, মহানমা তখন আম্রপালীর বিয়ের জন্য পাত্রের সন্ধান শুরু করেন। আম্রপালীকে বিবাহ করার জন্য জনপদের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে কোন্দল বেঁধে গেল । আশে-পাশের বহু দেশের রাজা , রাজপুত্র, মন্ত্রীপুত্র, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, কাফেলার দলপতি , শহরের বণিক, গ্রামের মহাজন,আম্রপালিকে বিয়ে করতে চাইলেন । সাধারণ মানুষ তো একবার তার দর্শন পেলেই কৃতার্থ হয়ে যায় । আম্রপালীর রূপে সবাই এতটাই মুগ্ধ যে একে অন্যের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করে হলেও প্রত্যেকেই আম্রপালীকে নিজের করে নিতে রাজী ছিলেন ।

আম্রপালীকে নিয়ে এই বিতর্ক বৈশালী প্রজাতন্ত্রের হর্তাকর্তা গণের কানে গিয়ে পৌঁছুলে তারা তাদের এ বিষয়টিকে নিয়ে বিধানসভাতেই আলোচনা শুরু করেন । পিতা সহ আম্রপালীকে সভায় ডাকা হয় । এতোদিন তারা আম্রপালীর অসামান্য যে রূপের কথা কেবল লোকমুখে শুনে এসেছেন তা এই প্রথম তারা সামনাসামনি প্রত্যক্ষ করলেন । সবাই মুগ্ধ । স্বর্গের অপ্সরাও বুঝি আম্রপালীর তুলনায় নগন্য । সবাই উত্তেজিত হয়ে মত দিল আম্রপালী কারো একার হতে পারেনা। তার ঐশ্বরিক সৌন্দর্য উপভোগের অধিকার সবার । চাঁদ কারও একার হতে পারে না । তাই আম্রপালীকে একজন পুরুষের সঙ্গে বিবাহের অধিকার দেয়া ধর্মসম্মত নয়। একে প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক পুরুষের স্ত্রী হিসেবে মনোনীত করে ‘নগরবধূ’ করে রাখা হোক ।’

বৈশালীতে তৎকালীন প্রচলিত নিয়মানুসারে সর্বাঙ্গসুন্দরী রমণী বিবাহ করতে পারতেন না তিনি হতেন গণভোগ্যা। অতএব সর্বাঙ্গসুন্দরী রমণীরুপে স্বীকৃতা আম্রপালীকেও এই প্রচলিত নিয়ম শৃঙ্খলে আবদ্ধা হতে হবে। সমাজপতিরা বিধান দেয়, আম্রপালী কোনওদিন বিয়ে করতে পারবেন না। কারণ এত রূপ যৌবন নিয়ে তিনি কোনও একমাত্র পুরুষের ভোগ্যা হতে পারেন না ।
সেদিনের সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হল, আম্রপালী হবেন বৈশালীর নগরবধূ অর্থাত্ বহু পুরুষের ভোগ্যা । বৌদ্ধ ও জৈন গ্রন্থে তাঁকে জনপদকল্যাণী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ।এই জনপদকল্যাণী বা নগরবধূ কিন্তু সামান্য গণিকা বা দেহপসারিণী নন । তিনি হবেন নৃত্যগীতে পারদর্শী, অভিজাত আদবকায়দায় রপ্ত এক সুন্দরী । উচ্চবংশের পুরুষই পেতে পারবেন তাঁর সঙ্গসুখ । জনপদকল্যাণী নিজেই নিজের সঙ্গী নির্বাচন করতে পারবেন । কিন্তু বিয়ে কোনওদিনও নয় । তাঁকে লক্ষ্য করে সে আমলে বৈশালীতে নতুন আইন তৈরি হয়ে গেল, অনিন্দ্য সুন্দরী নারী কখনও পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হতে পারবেন না। জনসাধরণের আনন্দের জন্য তাঁকে উৎসর্গ করা হবে।

এইসব সিদ্ধান্ত সে দিনের সভায় গৃহীত হলে আম্রপালীর পিতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে পড়লেন,কিন্ত সভায় গৃহীত এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রতিবাদ করতেও সাহসী হলেন না। স্নেহময় পিতার মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে আম্রপালী তখন কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে সভায় এই সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছায় শিরোধার্য করে নিলেন। আম্রপালীর উক্ত শর্তগুলি ( পুর্বে আপনার মন্তব্যের প্রতি উত্তরে শর্তগুলি দেয়া হয়েছে ) ভীষণ অশ্লীল মনে হলেও তার কোন উপায় ছিলনা । বিচারকেরা রায় দিলেন,
আম্রপালীকে নিয়ে লড়াইয়ের দরকার নাই। ও সকলের হবে । রাস্ট্রের নির্দেশে দেহ ব্যবসার ঘটনা পৃথিবীতে এই একটিই।

মাতাপিতাও দেখা যায় বাধ্য হন সমাজ ও দেশের ভ্রস্ট ও অনৈতিক বিধিবিধানের কাছে। পাওয়ার স্ট্রাকচারে যারা ক্ষমতাবান তারা তাদের পছন্দ্য ও চাওয়া পাওয়া অনুযায়ি বিধান চাপিয়ে দেয় নির্যাতিত ও মজলুমদের প্রতি। এখন আসুন সকলে মিলে বিচার করি দায় কার বেশী।

আম্রপালী নিয়ে বই প্রকাশের বিষয় নিয়ে আলোচনায় পরে আসছি।

৩৩| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:২৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ডঃ এম এ আলী ভাই,
দায়ভার বা দায়ী কে? দায়ী সমাজ ব্যবস্থা, দায়ী রাষ্ট্র, দায়ী কন্যা দায়গ্রস্ত মাতাপিতা। এখনো অনেক পরিবারের কাছে কন্যা সন্তান জন্ম নেওয় আজন্ম এক পাপ। আর সুন্দরী জন্ম নেওয়া মহাপাপ। আসলে সুন্দরী হলেও পাপ অসুন্দরী হলেও পাপ। মুক্তি নেই।

আধুনিক রাষ্ট্র ঘোষিত বাংলাদেশে এখনো যৌতুক ছাড়া একটি বিয়েও হয় না। আমি আবারো বলছি বাংলাদেশে যৌতুক বিহীন একটি বিয়েও হয়না। এখন যৌতুকের নাম পরিবর্তন হয়ে নাম হয়েছে উপহার!

ডঃ এম এ আলী ভাই আমার জানার যা ছিলো তা আপনি এক মন্তব্যে সব লিখে দিয়েছেন। আশা করবো সংকলনে সকল তথ্য আপনার কাজে লাগবে। তাছাড়া তথ্য সংগ্রহে যদি কোনো সহযোগিতা করতে পারি জানাবেন।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:৪৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ , দায়ভার সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন ।
তবে শুধু বাংলাদেশইনয় বিশ্বের সকল নারী সমাজই সুদীর্ঘকাল ধরে পুরুষ কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে আসছে,বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছে । দীর্ঘ অত্যাচার নির্যাতন আর যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত বেদনার্ত নারীদের জীবন আমাদের কাম্য নয়। নারীদেরকে অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে তাদের জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়,তা মেনে নেয়া যায় না ।

নারীরা প্রতিনিয়ত ধর্ষণ,অপহরণ,শ্লীলতাহানি ও উপহারেরাআড়ালে যৌতুকেরনামে চরম লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে আমাদের দেশে। সামাজিক বৈষম্যের যতাকলেপরেতাদেরকে গন্ডিবদ্ধ জীবন যাপন করতে বাধ্যকরা হচ্ছে ।কাজেই নারীকে শোষণ নির্যাতন থেকে মুক্ত করতে হলে নারীদের আত্ননিয়ন্ত্রণাধিকার ব্যতিত মুক্তি হতে পারে না। এ মুক্তি পুরুষ ও নারী জাতির একে অপরের মুক্তির সাথে সম্পকির্ত। তাই নারী ও পুরুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে, আত্ননিয়ন্ত্রাণাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। রণাঙ্গণের সারিতে, মুক্তির মিছিলে নারীদের সাথে পুরুষদেরও সামিল হতে হবে এটাই এখন সময়ের দাবী ।

৩৪| ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:০০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




সামহোয়্যারইন ব্লগের ১৪ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আমার এই পোষ্টে আপনাকে নিয়ে কি লিখেছি তা পড়ে দেখার জন্য অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১:২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
দেখে এসেছি ।
শুভেচ্ছা রইল

৩৫| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১:১৮

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: অসাধারণ পোস্ট ..... ...... প্রিয়তে

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১:২৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
পোষ্ট অসাধারণ অনুভুত হওয়ারজন্য ধন্যবাদ
প্রিয়তে নেয়ায় ভীষনভাবে অনুপ্রানীত ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৩৬| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:১৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আলী ভাই,
আম্রপালির পুরো কাহিনীর এতো কিছু জানতাম না । পড়ে লা জবাব ।
কত কিছু যে দেখা হলো না চক্ষু মেলিয়া আর পড়া হলো না গ্রন্থ খুলিয়া তা আর কি বলবো !
জুন আর সোহানীর মন্তব্যে আম্রপালি নির্যাতনের দায়ভার নিয়ে অবনত মস্তক ।
আজ লা জবাব লেখায়, লা মন্তব্য ---।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:০২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




লা মন্তব্য..... মন্তব্য পাওয়ার যোগ্য হয়নি লেখাটি
তা আমি বিলক্ষন জানি। এসে দেখেছেন তাতেই ধন্য আমি
আপনি যা বলেছেন তার সাথে আমি একমত ।
আমি সবকিছু জানি না এবং আমি সবকিছু বুঝতেও পারি না।
আবার এ বিষয়টি অন্য কেও জানেনা বা জানবেনা তাও ভাবিনা ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৩৭| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:১৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আলী ভাই,

স্যরি স্যরি ----খুবই লজ্জা পেলাম আপনার মন্তব্যে ।
মন্তব্য পাওয়ার যোগ্য হয়নি লেখাটি সেটা মোটেই বলতে চাইনি । লা মন্তব্য মানে আপনারেএই লেখায় আমার মন্তব্য করার যোগ্যতাই নেই কাৰণ আম্রপালী সম্পর্কে আমার জানার পরিধি খুবই কম বলে । আপনার এই লেখা মন্তব্য পাবার কেমন যোগ্য সেটাতো যারা বিষয়টা জানে তারাই বলছে । আহমেদ জিএস ভাই, জুন, সোহানী আর আরো সবাইতো বলছেই সেই থেকেই জানি লেখাটা আপনার অন্য সব লেখার মতই অসাধাৰণ ।আমি বিষয়টা খুব জানিনা সেটাই বলেছিলাম ।আপনার লেখায়তো না জেনে শুধু শুধু মন্তব্য করা যায় না । তাই বিষয়টা যে জানিনা সেটা বলবার জন্যই লা মন্তব্য কথাটা বলা ।ওর আর কোনো অর্থ কোনো ভাবেই ভাবিনি । আবারো স্যরি আমার মন্তব্যে ভুল করেও যদি আপনাকে আহত করে থাকি । আপনার লেখা সবসময়ই অনেক ভালোলাগার, অনেক অনুপ্রেরণার ।ভালো থাকুন ।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মলা ভাই লজ্জা পাওয়ার কিছু নাই ।
আমি আপনার লেখার গুণমুগ্ধদের মাঝে একজন ।
আপনর উচ্চ মার্গীয় লেখার অর্থ বুঝতে না পারার জন্য
বরং আমিই লজ্জিত । যাহোক এখন বুঝে নিয়েছি ।
বুঝতেছি বয়স হলে বোধ শক্তি কমে যায় ।
আমার জন্য দোয়া করবেন ।

শুভেচ্ছা রইল ।

৩৮| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৩

রূপম রিজওয়ান বলেছেন: আপনার পোস্ট নিয়ে কমপ্লিমেন্ট করার মত যথেষ্ট যোগ্যতা আমার নেই.....
যাহোক,শ্রদ্ধেয় ঠাকুরমাহমুদ সাহেবের পোস্ট থেকে জানতে পারলাম,আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
আপনার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম..........

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৩৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনি আমর থেকে অনেক অনেক বেশী যোগ্য
এটা শুধু কথার কথা না আপনার লেখা আমি
আপনার ব্লগে গিয়ে দেখে এসেছি ।
আপনার প্রতিও শ্রদ্ধা রইল।


৩৯| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৩৯

ভ্রমরের ডানা বলেছেন: লেখাটা অনেক দেরিতে নজরে এলো! বিজ্ঞ একজন ব্লগারের হাতে লেখা সুদীর্ঘ মহাকাব্য স্বরূপ এই সাহিত্যকর্মে সুপ্রাচীন ইতিহাস উঠে এসেছে। আম্রপালির জীবনের যে রেখাচিত্র তা স্তবকে স্তবকে প্রকাশিত হল সুনিপুণ হাতে! লেখাটি বেশ মনোমুগ্ধকর! ইতিহাসের আপনার এমন লেখনী আমাকে বারবার মুগ্ধ করে। কতটা সমৃদ্ধ ছিল এই উপমহাদেশের অতীত তা এই লেখাগুলোর মাধ্যমেই ফুটে ওঠে! আম্রপালিকে ব্লগ পাতায় তুলে এনে এক নতুন দিগন্তের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যে সুপ্রিয় লেখক আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা!

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



লেখাটি যে সুপ্রিয় কবির নজরে পরেছে তাতেই আমি কৃতার্থ ।
গদ্যাকারে লিখলে অনেক বিস্তারিত লিখতে হয় , লেখার কলেবর বেড়ে যায়,
তাই কলেবর ছোট রাখার জন্য কাব্যের ডংয়ে এটি লেখা ।কাব্যই যেটি হয়নি
তার আবার মহাকাব্য, কানা ছেলের নাম পদ্ম লোচনের মত আর কি। তবে
গালভরা নাম একটি দিয়ে শুরু করলাম । কামনা করি আপনাদের মত
শক্তিমান কোন কবির হাতে এটা যেন সত্যিকারের একটি মহাকাব্য
হতে পারে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৪০| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:৫৬

মিরোরডডল বলেছেন: খুবই মন দিয়ে লেখাটা পড়লাম । আম্রপালিকে জানলাম ।
আপনার লেখা এক কথায় অসাধারণ ।
ইউ ডিড লটস স্টাডিজ । ওয়েল ডান ।
আম্রপালির জন্য কষ্ট পেলাম ।
তার জীবনে কোন স্নেহ মায়া মমতা সত্যিকারের ভালোবাসা পায়নি ।

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:০২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



খুশী হলাম এসে দেখায়
আম্রপালীকে নিয়ে কষ্ট পাওয়ারই কথা
নীজে সুখ না পেলেও সে অন্যকে সুখ বিলিয়েছে
হাসনা হেনা ফুলের মত নিরবে গন্ধ বিলিয়ে গেছে।

শুভেচ্ছা রইল

৪১| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫২

নজসু বলেছেন:



আস সালামু আলাইকুম।
আপনার লেখা মানে আমার কাছে বিশাল এক জানার ভান্ডার।
আমি সবসময় আপনার লেখার ক্ষেত্রে ভাবি যে, আপনার লেখা পাঠ করলে আমার জানার পরিধি বিস্তৃত হয়।
ভালো লাগে। তাই ভালেবাসি আপনার লেখা এবং আপনাকে।

০৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ ভোর ৬:১২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বিলম্বিত উত্তরের জন্য দু:খিত ।
আমার লেখা আপনার ভাল লাগে জেনে খুবইখুশী হলাম।
আপনার প্রতি রইল অফুরন্ত ভালবাসা।

শুভেচ্ছা রইল

৪২| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:৩০

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:


আম্রপালী আমের নামকরণ কি এ নাম থেকেই ?

০৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ ভোর ৬:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার ধরণা সঠিক ।
আম্রপালী আমের নামকরণ এই আম্রপালি'র নাম অনুসারেই।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.