নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

গ্রামীণ এলাকায় হরাইজনটাল এবং ভার্টিকেল গৃহ নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সৃজনের লক্ষ্যে একটি রূপকল্প

১৫ ই জুলাই, ২০২০ ভোর ৫:১২


আমার পুর্বের পোষ্ট পরশ পাথর প্রাপ্তি ১ম পর্বে দেশে বিলুপ্তপ্রায় মাটির ঘরের পুনরুজ্জীবন প্রসঙ্গ আলোচনায় অনেক পাঠকই গঠনমুলক অসংখ্য মুল্যবান মতামত রেখেছেন। মাটির ঘরকে সকলেই ভালবাসেন ও অকুণ্ঠচিত্তে ঐতিহ্যমন্ডিত এ ঘরের প্রসংসা করেছেন । তবে স্থায়ীত্বতা ও আধুনিক গৃহনির্মাণ প্রযুক্তির তুলনায় মাটির ঘর অনেক পশ্চাতে থাকার পাশাপাশি আগামী দিনগুলিতে দেশে জনসংখা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বর্দ্ধিত গৃহায়নের চাপের মুখে অনুভুমিক ভাবে মাটির ঘরের সম্প্রসারনের ফলে কৃষি জমির পরিমান আশংকাজনক ভাবে কমে যাওয়ার কথাও উঠে এসেছে । এ প্রসঙ্গে এ ব্লগের জনপ্রিয় গুনী ব্লগার শ্রদ্ধেয় আহমেদ জী এস এর বক্তবটি গুরুত্বের সাথে প্রনিধান যোগ্য । আমি একান্ত ভাবে তাঁর মুল্যবান বক্তব্যের সাথে সহমত পোষন করি। নীচে তাঁর বক্তব্যটি তুলে ধরা হলঃ

বাংলাদেশের সীমিত বসতস্থলের ( আবাসিক ) কারণে শহর অঞ্চলে মাটির ঘর এখন অযৌক্তিক । কারন মানুষ বাড়ছে "নাফ নদীর বানের লাহান"। সীমিত আবাসিক জায়গার কারনেই এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিন্ন ভিন্ন , আলাদা আলাদা করে গৃহ নির্মান সম্ভব নয়। তাহলে চাষের জমি সব যাবে ঘরবাড়ী তোলার রাক্ষসী ক্ষুধার পেটে। তাই এখন মানুষের গৃহায়নে হরাইজন্টাল স্প্রেড এর সুযোগ নেই-ই বলতে গেলে । সেক্ষেত্রে লংজিচুডিনাল ( আকাশমুখী ) বাড়ী নির্মান সময়ের দাবী , সেটা সরকারী ভাবেই হোক আর বেসরকারী লেভেলেই হোক।

তাঁর এই মুল্যবান মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই ব্লগের আরেক গুণী ব্লগার জনাব ঠাকুর মাহমুদ প্রায় একই ধরনের মতামত রেখেছেন। সেই পোষ্টে দুজনের দুটো মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার কিছু কথা বলতে গিয়ে ( সাথে প্রাসঙ্গিক চিত্রসহ ) দেখি এর কলেবর একটি পুর্ণাঙ্গ পোষ্টের থেকেও বড় হয়ে যাচ্ছে । তাই সেখানে এত বড় মন্তব্য না লিখে এখানে তুলে নিয়ে এসে পৃথক একটি পোষ্ট আকারে তুলে ধরলাম । এছাড়া গৃহায়ন প্রসঙ্গে এ ব্লগের আর একজন গুনী ব্লগার সকলের সুপ্রিয় কবি সেলিম আনোয়ারের সম্ভাব্য ভুমিকম্পের কথাটি মনে রেখে গৃহায়নের পরামর্শ সম্বলিত মন্তব্যটিও খুবই গুরুত্বপুর্ণ বলে মনে করেছি । তাই একদিকে কৃষি ভুমি গ্রাসকারী আবাসন কর্মকান্ড, অন্যদিকে হাইরাইজ দালানের উপ্র ভুমিকম্পের সম্ভাব্য আঘাতের বিষয়টিকে মাথায় রেখে বাংলাদেশে হরাইজনটাল বনাম ভার্টিকেল গৃহায়নের বিষয়টি বেশ ভাবনায় ফেলে , কোন দিক রেখে কোন দিকে যাই ।

একথা অনস্বীকার্য যে ঘনবসতিপুর্ণ কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে গৃহায়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে কৃষি জমির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশের সীমাবদ্ধ মোট আবাদযোগ্য কৃষি ভুমির ব্যবহার প্যাটার্ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি হারের সাথে ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি রেখে ভবিষ্যত পরিকল্পনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত । এপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ মেয়াদে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হারের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের মোট খাদ্য শস্যের চাহিদা ও যোগানের দিকটি আলোচনার বিশেষ প্রয়োজন আছে । তাই প্র দীর্ঘ মেয়াদে দেশে জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির গতি ধারাটি কেমন হবে তা একটু খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতের জন্য গৃহায়ন রুপকল্প প্রনয়ন এখন সময়ের দাবী বলে অনেকেই মনে করছেন।

বাংলাদেশে গৃহ নির্মানের গতি অনুভুমিক না উলম্ব হবে এবং মানুষ গ্রামমুখী হবে না শহরমুখী হবে তা আলোচনার পুর্বে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোর উল্লেখযোগ্য উপাদানগুলির দিকে একটু কথা বলে নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। আমরা সকলেই জানি বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো গ্রামীণ ও নগর সমাজের একটি সমন্বিত রূপ । যদিও দেশের ৭০ ভাগ মানুষ (অনেকেই বলে থাকেন ৬৫ ভাগ) এখন গ্রামে এবং অবশিষ্ট মানুষ আরবন/ উপজেলা ভিত্তিক সেমি আরবানে বসবাস করেন । তাই বাংলাদেশে এখন কৃষি ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক শিল্প ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থাও কার্যকর অবদান রাখছে । কৃষির পাশাপাশি দেশের শিল্পোৎপাদন ব্যবস্থা ক্রমশ বিকষিত হচ্ছে । দেশের মোট শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ শিল্প খাতে নিয়োজিত । অবশ্য দেশে এখন ব্যক্তিগত মালিকানায় উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থায় পুঁজিবাদের প্রভাবে শ্রেণী শোষণ ও বৈষম্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই বেশ প্রকট আকার ধারণ করছে ।দেশের পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ধনী আরো ধনী হচ্ছে ,দরিদ্র হচ্ছে আরো নিঃশ্ব , সবার মাথাপিছু গড় আয় বাড়লেও ধনীর আয় দরিদ্র মানুষের তুলনায় অনেক গুণ বেশি, ফলে ধনীদের বিলাসবহুল জীবন যাত্রার পাশেই ছিন্নমূল মানুষের বসবাস পরিলক্ষিত হয় ।অপর দিকে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থার ভিত হচ্ছে বর্ধিত ও যৌথ পরিবার । কিন্তু সামাজিক পরিবর্তনের অনিবার্য ফল হচ্ছে অনু পরিবার। গ্রাম কিংবা শহর, শিক্ষিত কিংবা নিরক্ষর, কৃষক শ্রমিক কিংবা পেশাজীবী সবাই অনু পরিবারের অংশ। বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো থেকে যৌথ পরিবার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং স্থান করে নিয়েছে অনু পরিবার।শিক্ষা, শিল্পায়ন ও শহরায়ন এর ফলে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী বিকশিত হচ্ছে। সমাজকাঠামোর এ সমস্ত উপাদান গুলিকে বিবেচনায় রেখেই বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গতির সাথে মিল রেখে তাদের নীজের জন্য একটি স্বপ্নের বাসগৃহ নির্মাণ প্রসঙ্গে হরাইজনটাল বনাম ভার্টিকেল গৃহায়নের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে, কেননা ভার্টিকেল আবাসিক ভবন নির্মান বেশ ব্যয় বহুল সে তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় কম দামী জমির উপরে হরাইজনটাল গৃহনির্মাণ কম ব্যয়বহুল এবং গ্রামীণ সমাজের সিংহভাগ মানুষের কাছে তা অনেকটাই এফর্ডেবল ।

উপরোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনায় রেখে হরাইজনটাল বনাম ভার্টিকেল গৃহায়ন প্রসঙ্গে অলোচনার প্রয়াস নেয়া হয়েছে । আলোচনার সুবিধার্থে লেখাটিকে তিনটি শাখা যথা(ক)দেশে জনসংখ্যা ও খাদ্যশষ্য উৎপাদন বৃদ্ধির গতি ধারা,(খ) ভবিষ্যত গৃহায়ন চাহিদা,(গ)ক্রমবর্ধমান জনসংখা ও খাদ্য নিরাপত্তার সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে দেশে ভবিষ্যত গৃহায়ন চাহিদা পূরনের লক্ষ্যে একটি রূপকল্পের প্রস্তবনা, সে সাথে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বিকেন্দ্রীকরনের একটি রূপরেখাও সংক্ষেপে তুলে ধরে সচিত্র এই নিবন্ধটির কাঠামো বিন্যাস করা হয়েছে।

(ক) দেশে জন সংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধারা

বাংলাদেশ হিসাবে পরিচিত এখনকার এই অঞ্চলটিতে বিগত ১১০ বছরে জনসংখার চিত্রটি নীচের লেখ চিত্রে দেখা যেতে পারে।
ছবি-১ : Population figure of the territory now forming Bangladesh , 1901-2011( source : Click This Link)

লেখ চিত্রে দেখানো তথ্য হিসাব করে দেখা যায় যে বিগত ১৯০১ সন হতে ২০১১পর্যন্ত ১১০ বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫গুণ ।
পক্ষান্তরে জনসংখ্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে ২০১১ সন হতে ২০২০ সন পর্যন্ত জনসংখ্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১.১৭ গুন ।
২০১১ সনের আদম শুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা ছিল ১৪কোটি ২৩লক্ষ ১৯ হাজার । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ি ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ও ১৬ কোটি৬৫লাখে । ফলে ২০১৯ সালে দেশে জনসংখ্যা বেড়েছে ১৯ লাখ। জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ২০১৮ সালে ছিল ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সে তুলনায় ২০১৯ সালে জনসংখ্যা দশমিক ০১ শতাংশ কমেছে বলেও বিবিএস প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।
এছাড়া জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি হার সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক এর এক প্রতিবেদনে নিন্মরূপ লেখ চিত্র দেখা যায় ।
ছবি-২ :Population growth (annual %) Bangladesh (Click This Link )
Derived from United Nations Population Division. World Population Prospects: 2019

ছবি-৩ :Population growth (annual %) Bangladesh ( সুত্র :https://data.worldbank.org/indicator/SP.POP.GROW?locations=BD )
Derived from United Nations Population Division. World Population Prospects: 2019

উপরে দেয়া বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনের লেখ চিত্র দুটি হতে দেখা যায় ১৯৭৯ সনে বাংলাদেশে জনসংখ্যার বৃদ্ধি হার ছিল ২.৭১৮% যা মাত্র ৪০বছরে কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১.০৫% এ, যা ধারাবাহিকভাবে জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হার কমারই দিক নির্দেশনা দিচ্ছে । মোদ্দা কথা হল বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন হতে দেখা যায় যে দেশে মোট জনসংখ্যা বাড়লেও জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হার পুর্বের বছরগুলির তুলনায় ক্রমেই কমছে।
বিবিধ প্রকারের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন কর্মসুচী বাস্তবায়ন সেসাথে পরিবারের আকার ছোট রাখার জন্য মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হার কমছে । বাংলাদেশে ১৯৯১ সনে পরিবারের আকার ছিল ৫.৫০ জন , এখন সেটা কমে ৪.৪০ জনে নেমে এসেছে। পরিবারের আকার আরো কমবে সে সাথে তাদের বসবাসের জন্য গৃহের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে বলে ধারনা করা যায়।এখন একটু দেখা যাক কৃষি জমি ও খাদ্যশষ্য উৎপাদনের গতি ধারাটি কি রকম।

দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির গতি ধারা

ছবি -৪ : বিবিএস প্রণীত কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০১৭ অনুসারে এক নজরে কৃষি পরিসংখ্যান

দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমান ৮৫.৭৭ লক্ষ হেক্টর , এর মধ্যে নিট ফসলি জমির পরিমান ৭৯.৪৭ লক্ষ হেক্টর ।এই নীট ফসলি জমির মধ্যে এক ফসলী ২২.৫৩ লক্ষ হেকটর, দুই ফসলি ৩৯.১৪ লক্ষ হেক্টর , তিন ফসলি ১৭.৬৩লক্ষ হেক্টর ও চার ফসলি ০.১৭ লক্ষ হেক্টর , সব মিলিয়ে মোট ফসলি জমির পরিমান ৭৯. ৪৭ লক্ষ হেক্টর ।

আজ থেকে মাত্র ৫০ বছর আগে দেশে হেক্টর প্রতি ধানের গড় ফলন ছিল মাত্র ১.৬০টন এখন তা হেক্টর প্রতি গড়ে ৩ টনের কাছাকাছি । দেশে প্রধান খাদ্য শষ্যের (ধান গম ভুট্টা ) উৎপাদন গত ৪৫ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে তিনগুণের বেশী । ১৯৭০-৭১ অর্থবছরে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য( ধান গম ও ভুট্টা ) উৎপাদন হয়েছিল এক কোটি ৯ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে খাদ্য উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮১ লাখ ৪১ হাজার টনে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খাদ্যশস্য নিয়ে করা সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে। গত ৫০ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণের সামান্য বেশি বাড়লেও এ সময়ে খাদ্য উৎপাদন তিনগুণের বেশি বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। নীচে দেয়া সারনী-১ এ ২০১৬-১৭ সনে দেশে খাদ্য শস্য উৎপাদন পরিসংখ্যান দেখা যেতে পারে।
সারণী-১ : কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০১৭ অনুযায়ী খাদ্য শস্যের আবাদি জমির পরিমান ও উৎপাদন ২০১৬-১৭

ছবি-৫ : বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইন্সটিটিউট

অপরদিকে বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনসস্টিটিউ কতৃক বর্তমানে হেক্টর প্রতি ৯ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন উচ্চফলনশীল বোর ব্রিহাইব্রিড ধান৫,
হেক্টরপ্রতি ৭ টন ফলন ক্ষমতা সম্পন্ন রোপা আউস ব্রি হাইব্রিড ধান৭ এবং এবং হেক্টর প্রতি ৬.৫০ টন ফলন ক্ষমতা সম্পন্ন রোপা আমন ব্রি হাইব্রিড ধান৬ উদ্ভাবিত হয়েছে।
ছবি-৬: বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের জাত

সে হিসাবে সচেষ্টহলে উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ করে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান/গম/ভুট্টা চাষ করে এই মহুর্তেই দেশে ৮ কোটি ৭৫ লক্ষ টন খাদ্য শস্য ফলানো যেতে পারে। নিন্মের সারণী-২ এ তৈরীকৃত হিসাবটি দেখা যেতে পারে।
সারনী-২ :বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাতের শস্যের বাৎসরিক উৎপাদন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইন্সটিটিউট উদ্ভবিত উচ্চফলনশীল জাতের ধান ফলনের তথ্যের ভিত্তিতে গঠিত ২ সারণীতে দেখানো তথ্য অনুযায়ি দেখা যায় দেশে যে পরিমান জমি আছে তাতে সচেষ্ট হলে এখনই প্রায় আরো দ্বিগুনেরও বেশী ফসল ফলানো সম্ভব হতে পারে। তবে এ হিসাব অনুযায়ী উচ্চফলনশীল জাতের ফলন পেতে হলে আইডিয়েল কন্ডিশন প্রয়োজন হবে । প্রয়োজন হবে উপযুক্ত মানের সয়েল কন্ডিশন, প্রয়োজনীয় সেচ ব্যবস্থা, যথাসময়ে যথাযথ মানের ব্যলেন্সড সার প্রয়োগ, যথাসময়ে কীট নাশক প্রয়োগ, আগাছা দুরীকরন ,ফসলের পরিচর্যা ও সহায়ক আবহাওয়া যা নিয়ন্ত্রিত ল্যাবরেটরী কন্ডিশনেই সম্ভব হতে পারে । তাই আমাদেরকে ফসল উৎপাদন প্রক্ষেপনে অবশ্যই বাস্তববাদী হতে হবে।

প্রমঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে দেশের দুইজন বিজ্ঞ কৃষিবিদ প্রফেসর ড.এস এম ফকরুল ইসলাম ও প্রফেসর ড.রেজাউল করিম তালুকদার প্রনীত
projection of food demand and supply in Bangladesh:Implications on food security and water demand
প্রতিবেদনে বিভিন্ন পরিমাপক মডেল বিশেষ করে Household demand model : almost ideal demand system ( AIDS)model প্রয়োগ করে তৈরীকৃত হিসাবে আগামী ২০৫০ সনে দেশে মোট খাদ্য শস্যের ( ধান ,গম ভুট্টা) চাহিদার পরিমান দেখানো হয়েছে ৪ কোটি৬০ লক্ষ মেট্রিক টন। অপর দিকে ঐ সময়ে দেশে মোট খাদ্য শস্য যোগানের পরিমানও দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন। তার মানে ৫০ বছর পরেও খাদ্য শস্যের চাহিদার সাথে যোগানের (দেশীয় ভাবে)ভারসাম্য থাকবে, তাই উক্ত সময় পর্যন্ত আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে তেমন ভাবতে হবে না বলেই মনে হয়।বিজ্ঞানীদের নিরন্তর গবেষনায় ভবিষ্যতে আরো উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান উদ্ভাবিত হবে তা আশা করাই যায় । উল্লেখ্য ইজরাইল হেক্টরে প্রায় ৩০০ টন আলু ফলাচ্ছে যদিও They don't have fertile soil and they have only little water, yet the Israeli farmers in Arava, the southernmost part of the Negev desert in Israel, are producing just that । প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি হার কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা আল্লাই জানেন। তবে বাংলাদেশ নানাবিধ কারণে জমির পরিমান কমে যাওয়াসহ অপরিকল্পিতভাবে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়া, সেচের পানির অভাব, দক্ষিনাঞ্চলে লবনাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ফসলের জমি ও ফলনের উপরে মারাত্বক প্রভাবের ফলশ্রুতিতে দীর্ঘমেয়াদে দেশে তীব্র খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না ।
এ কথা সত্য যে প্রতি বছর গৃহ, শিল্পকারখানা, রেলপথ ও সড়ক প্রভৃতি অবকাঠামো নির্মাণসহ অন্যান্য কাজে ১(এক) শতাংশ হারে কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি জমি হারাতে হচ্ছে, লবণাক্ততা, বন্যা, খরাসহ নানা কারণে কৃষিজমি কমছে। তার পরেও বলা যায় যে দেশে এখন শস্য উৎপাদন নিবিরতা (cropping intensity)১.৯৪%, এটাকে আরো বাড়ানোর জন্য অব্যাহত প্রয়াসের সাথে গবেষনার মাধ্যম উচ্চ্ফলনশীল জাতের খাদ্য শস্য উদ্ভাবন ক্রমান্বয়ে আরো বাড়বে বই কমবেনা । সে সাথে সরকার অনুমোদিত ডেল্টা প্লান ২১০০ বাস্তবায়িত হলে সাগর মোহনায় ভেসে উঠা বিভিন্ন চর মিলিয়ে আরো প্রায় কয়েক হাজার হাজর বর্গমাইল এলাকা আবাদি কৃষি ভুমিতে পরিনত হতে পারে ।

উল্লেখ্য বিভিন্ন সূত্রমতে গত ৫০ বছর ধরে বঙ্গোপসাগর মোহনায় ভূমি জাগরণের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এ অঞ্চলে প্রায় ছয় লাখ হেক্টর নতুন ভূমি জেগে উঠেছে। কখনও প্রকৃতির আপন খেয়ালে আবার কখনও ক্রসবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এ সকল ভূমির কিছুটা উদ্ধার হয়েছে । পানি উন্নয়ন বোর্ডের মেঘনা সমীক্ষা-২০০১ এর মতে প্রাকৃতিকভাবে প্রতি বছর প্রায় ২০০০ হেক্টর ভূমি এ মোহনায় জেগে উঠছে। তবে বর্তমানে এর পরিমাণ আশাতীতভাবে বেড়ে চলছে। সন্দ্বীপের তিন পাশে গড়ে উঠা নতুন চর ছাড়াও এর পশ্চিমে হাতিয়া দ্বীপ সংলগ্ন নিঝুম দ্বীপ, চর কবিরা, চর কালাম, চর আলীম, চর সাগরিকা, উচখালী, নিউ ঢালচরসহ প্রায় ৫০০০ বর্গ কিলোমিটার নতুন ভূমি জেগে উঠেছে। ভূমি পুনরুদ্ধার ও চর উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মতে, উক্ত এলাকায় প্রতি বছর গড়ে অন্তত ১৫-২০ বর্গ কিলোমিটার নতুন চরের সন্ধান মিলছে।( সুত্র : Click This Link )
ছবি-৭: বঙ্গাপসাগরে জেগে উঠা চরে ভুমি পুণরোদ্ধার করে বৃক্ষ রোপন

ছবি-৮ : চর বিজয়ে ভাটার সময় দৃস্টিনন্দন কাকরার বিচরন

ছবি-৯ :মেঘনা মোহনায় জেগে ওঠা একটি চর,এধরনের চর নিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই

নোয়াখালীর দণিাঞ্চলীয় সাগর মোহনায় জেগে উঠা নতুন নতুন চরে ইতোমধ্যে অন্তত এক হাজার বর্গকিলোমিটার চরাঞ্চলে মানব বসতি গড়ে উঠেছে। আগামী ২০ -২৫ বছরে আরো বিশাল চর জেগে ওঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এসব চরে পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ, বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য প্রকল্পসহ বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হলে জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির দ্বার উন্মোচিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এরই মধ্যে এসব দ্বীপ ও চরের ভূমি গঠনে নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়াও হচ্ছে।নতুন চর ও দ্বীপগুলোয় ২০/৩০ বছরের মধ্যে ভূমির মান উন্নত হলে দেশ একদিকে যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে অন্যদকে এসকল চরের ভূমি প্রয়োজন অনুসারে পরিকল্পিত আবাসন, শিল্পায়ন ও লবনাক্ততা সহিষ্নু কৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে।

হরাইজনটাল বনাম ভার্টিকেল গৃহায়ন প্রসঙ্গ

একথা অনস্বিকার্য যে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোয় এখন গ্রামীণ ও নগর সমাজের ব্যবধান অনেক হ্রাস পেয়েছে , ভৌত ও তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষা, পেশা ইত্যাদি নগর ও গ্রামীণ সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করছে। গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক নিবিড় থেকে নিবিরতর হচ্ছে । গ্রামীণ ও নগর সমাজে এর দৃশ্যমান প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে । গ্রামীণ এলাকায় হরাইজনটাল ও ভার্টিকেল গৃহনির্মাণ ক্ষেত্রেও তা প্রতিফলিত হচ্ছে।

তবে উপরের আলোচনা অনুযায়ী জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির তুলনায় অধিক মাত্রায় খাদ্য শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গতিধারা ও কৃষি জমি সম্প্রসারনের সম্বাবনার প্রেক্ষিতে এ কথা বলা যায় যে বর্তমানে ফসলি জমিতে অনুভুমিকভাবে (হরাইজনটাল) প্রয়োজনীয় নতুন নতুন বাড়ীঘরের বিস্তার ঘটলেও খাদ্য নিরাপত্তার উপর নিকট ভবিষ্যতে এর তেমন কোন ক্ষতিকর প্রভাব পরবেনা বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, তবে দীর্ঘ মেয়াদে মিরাকল কিছু না ঘটলে দেশের বিদ্যমান ও সম্ভাব্য কৃষিজমি ক্রমবৃদ্ধিমান জনসংখ্যার চাপ কোনমতেই সইতে পারবেনা । এ অবস্থা বিবেচনায় রেখে কৃষি জমি গ্রাসকারী দেশের সার্বিক গৃহায়ন পরিকল্পনার বিষয়টি এখনই গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে । এমনিতেই এখন শহরাঞ্চলে নাফ নদীর বানের লাহান জনসংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে । নীচের সারণীতে বিগত অর্ধশতকে দেশের শহরাঞ্চলে জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির চিত্রটি দেখা যেতে পারে ।
সারনী-৩ : Inter –Censal Growth of urban Population in Bangladesh, 1974-2011 ( Source : Click This Link )

উপরের সারণীতে দেখা যায় ২০০১ হতে ২০১১ সনে ১০ বছরে শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা ৩ কোটি১০ লক্ষ থেকে বেড়ে ৪ কোটি১৯ লক্ষ তথা ১ কোটিরও বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ২০২০ সনের মাঝামাঝিতে শহরাঞ্চলের মোট জনসংখ্যার পরিমান বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে/প্রতিবেদনে ৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে মর্মে বলা হয়ে থাকে।

গ্রামীণ এলাকাসহ শহরাঞ্চলে লাগামহীন জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষতি মানুষের বাসস্থানের চাহিদা পুরণের জন্য ভার্টিকেল গৃহায়নের কোন বিকল্প এই মহুর্তে দেশে নেই । তবে বিপদটা হল, একদিকে দেশে সম্ভাবনাময় উচ্চ মাত্রার ভুমিকম্পের ঝুঁকি আরদিকে হাইরাইজ ভবনে মনুষ্য সৃষ্ট ঝুঁকির কারণে ভবন ধ্বসে পড়া ,হেলে পড়া, ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া, আগুনে পুড়া যথা তাজরিন ফ্যাসান, গুলসান অগ্নিকান্ড ,চকবাজার অগ্রিকান্ড প্রভৃতি ম্যসাকার কান্ড ঘটে চলেছে বিরামহীনভাবে। ইত্যাকার জীবনঘাতি ও সম্পদহানীর মত মহা দুর্যোগের হাত হতে বাঁচার জন্য শহরাঞ্চলে জনবসতির চাপ কমিয়ে মানুষকে উপযুক্ত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও উন্নতমানের যোগাযোগ অবকাঠামো সৃজনের মাধ্যমে শহরাঞ্চলের মানুষকে গ্রামমুখী আর শহর মুখী মানুষকে গ্রামে ধরে রাখতে হবে। গ্রামীণ এলাকায় বসবাস ও গৃহায়নকে আকর্ষনীয় করে তুলতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে রাজধানী শহর ঢাকার সাথে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের যোগাযোগের সময় মাত্র এক থেকে দেড় ঘন্টায় নামিয়ে আনা যায় ২৫০/৩০০ কিলোমিটার বেগের দ্রুতগামী ইলেকট্রিক নিরাপদ ট্রেন সার্ভিস প্রচলনের মাধ্যমে।
ছবি -১০ : The "Bullet Train" of Japan: speeds of up to 320 km/h

গ্রামীণ এলাকায় দেশের জনসংখার প্রায় ৭০ জন বাস করেন । দেশে গৃহহীন মানুষের প্রকৃত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে । ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ সনে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ভুমি মন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে বর্তমানে দেশে দুই লাখ ৮১ হাজার মানুষ গৃহহীন এবং ১০ লাখ ৬৯ হাজার মানুষ ভূমিহীন অবস্থায় রয়েছে ( সুত্র : Click This Link )।
অপর দিকে বিভিন্ন মিডিয়া ভাষ্যে দেখা যায় দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষই ভুমিহীন ও প্রায় কোটি খানেক মানুষ গৃহহীন। প্রকৃত তথ্য যাহাই হোক সকলের জন্য মাথা গোজার ঠাই হিসাবে গৃহের প্রয়োজন। এ কথা সত্য যে গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী সিংহভাগ মানুষেরই নীজের বাড়ীঘর আছে যদিউ কাঁচা বাড়ী ঘরের সংখ্যাই বেশী।অঞ্চলভেদে গ্রামীণ জনগনের শতকরা ৫-১০ জনের বেশী পরিবারের ইটের তৈরী পাকা বাড়ী করার সমার্থ নেই,অথচ এদের পাকা বাড়ী নির্মানের জন্য ইটের চাহিদার যোগান দিতে গিয়ে ইট ভাটার কালো বিষাক্ত ধোয়ার প্রভাবে গোটা এলাকার জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র মারাত্বক হুমকীর সন্মুখীন।

এ অবস্থার হাত হতে নিস্কৃতির জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ বান্ধব গৃহ প্রয়োজন সেটা মাটিরই হোক কিংবা অন্য যে কোন উপকরনেরই হোক ।গ্রামীন এলাকায় কৃষি জমির সংকোচন রোধ করা যায় প্রতিটি ইউনিয়ন বা গ্রামকে গ্রোথ সেন্টার/ভিলেজ সেন্টারে পরিনত করার মাধ্যমে সেখানে পরিকল্পিতভাবে গৃহায়ন করে ।

এখন এই গৃহায়ন কর্মসুচীর সম্প্রসারণটি হরাইজন্টাল হবে না ভার্টিকেল হবে সেটা বিরাট ভাবনার বিষয় । উল্লেখ্য বাংলাদেশে ৮টি ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি এলাকা বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে, । এই জোনের ভিতরে অবস্থানকারি এলাকাগুলি অপেক্ষা করছে বড় ধরনের ভুমি কম্পের । এদেশের ভিতরে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিগত প্রায় ২৫০ বছরের ভূমিকম্পের নথিভুক্ত তালিকা পাওয়া যায়। এ তালিকা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে ২০০৪ পর্যন্ত বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে ১০০'রও বেশি ভূমিকম্প, তন্মধ্যে ৬৫টিরও বেশি ঘটেছে ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দের পরে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিগত ৫০ বছরে ভূমিকম্প সংঘটনের মাত্রা বেড়েছে। মতবিরোধ থাকলেও অনেক ভূতাত্ত্বিকগন ছোট ছোট ভূমিকম্প সংঘটনকে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বলে উল্লেখ করেছেন। অতীতের এসব রেকর্ডকে প্রাধান্য দিয়ে গবেষকরা জানিয়েছেন , যে কোনও সময় বাংলাদেশে রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির ভূতাত্ত্বিকরা জানাচ্ছেন বাংলাদেশের নিচে জমে ওঠা টেকটনিক প্লেটে চাপ জমে উঠছে কম করে হলেও বিগত ৪০০ বছর ধরে। এই চাপ যখন মুক্ত হবে তখন সৃষ্ট ভূমিকম্পের মাত্রা দাঁড়াবে প্রায় ৮.২ রিখটার, এমনকী তা ৯ রিখটারেও পৌঁছতে পারে।এই চাপ যখন মুক্ত হবে তখন সৃষ্ট ভূমিকম্পের মাত্রা দাঁড়াবে প্রায় ৮.২ রিখটার, এমনকী তা ৯ রিখটারেও পৌঁছতে পারে। প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তবে এই ভূমিকম্প ঠিক কখন হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এটা এখনই হতে পারে, আবার ৫০০ বছর পরেও হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাটি বিবেচনায় রেখেই গৃহায়নের রূপকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

ভার্টিকেলি গড়ে উঠা ভবনে কৃষি জমির ক্ষতি কম হবে । তবে এ ক্ষত্রে উল্লেখ্য যে বুয়েটের গবেষকদের প্রস্তুতকৃত ভূ-কম্পন-এলাকা ভিত্তিক মানচিত্রে বাংলাদেশকে তটি জোনে ভাগ করা হয়েছে । রাজধানী শহর ঢাকার অবস্থান জোন ২ এবং ঢাকাতেই হাইরাইজ বিল্ডিং সবচেয়ে বেশী ।
ছবি - ১১: বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের তীব্রতার ভিত্তিতে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। (তথ্যসূত্র:GSB)

ভুতাত্বিকদের মতে যদিও জোন-২-তে থাকা রাজধানী শহর ঢাকায় ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হবার মতো ভূতাত্ত্বিক ফাটল রেখা বা ফল্টলাইন নেই। তবে ঢাকা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে মধুপুর অঞ্চলে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হবার মতো ভূতাত্ত্বিক ফাটল রেখা রয়েছে। সরকারি তথ্যসূত্রমতে, ঢাকায় রাতের বেলায় ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৯০,০০০ লোক হতাহত হবে। দিনের বেলায় হলে হতাহতের সংখ্যা হবে ৭০,০০০। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন অঞ্চলের ৩,২৬,০০০ ভবনের উপর পরিচালিত সমীক্ষা থেকে দেখা গেছে, এমন তীব্রতার ভূমিকম্পে প্রায় ৭২,০০০ ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, আরও ৮৫,০০০ ভবন মাঝারি ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে । ভুমিকম্পে শুধু দালান ভাঙার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হবে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য সম্পদ।

ঢাকার সম্প্রসারিত অংশে জলাশয় ভরাট করে গড়ে তোলা আবাসন এলাকা রয়েছে অনেক । ভূমিকম্পের সময় নরম মাটি ও ভরাট করা এলাকার মাটি ভূমিকম্পের কম্পন তরঙ্গকে বাড়িয়ে দেয়, ফলে ভূমিকম্পের তীব্রতা বাড়ে। মাটির বৈশিষ্ট্যের সাথে যোগ হয় ভবনের বা স্থাপনার কাঠামো। এই দুইয়ের সম্মিলনে ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্যতা বাড়ে-কমে। গবেষকরা তাই ঢাকার বর্ধিতাংশের আলগা মাটিসমৃদ্ধ জনবসতিকেও যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। (সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)

রাজধানী ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা কত তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রায় ৭০ হাজার ভবন ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আছে ।ভূগর্ভস্থ নরম মাটি, বিল্ডিং কোড না মানা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণসহ নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ থাকা এসব ভবন চিহ্নিত করার নির্দেশ দেয়া হলেও অপসারণের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ভবনগুলোতে এখনো বসবাস করছে লাখ লাখ মানুষ। এদের সরিয়ে নেয়ারও উদ্যোগ নেই কারো। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুই সিটি করপোরেশন এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কেউই এর দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না। ভবন অপসারণের দায়িত্ব নিয়ে সংস্থা তিনটি একে অপরকে কেবল দোষারোপই করছে।
ছবি-১২ : বড় ধরনের ভুমিকম্পের আঘাতে রাজধানীশহর ঢাকার ঝুঁকি পুর্ণ হাইরাইজ ভবনের একটি দৃশ্য

ভুমিকম্প ছাড়াও নিন্মমানের নির্মান কাজ ও অনুমোদিত নক্সা বহির্ভুত ভবনের কাঠামো তৈরীর জন্য অনেক ভবন ইতোমধ্যে দেবে গেছে ,হেলে গেছে ও ভেঙ্গে গেছে
ছবি - ১৩: রাজধানী শহরে বহুতল ভবন ভেঙ্গে পরা ও হেলে যাওয়া বহুতল ভবনের দৃশ্য

শুধু কি তাই রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহরাঞ্চলে বহুতল ভবনের পাশেই গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বস্তি। এসকল বস্তিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
কিছুদিন পরে পরেই দেখা যায় দুর্ঘটনা কিংবা ঘ্টনাক্রমে প্রলয়ংকরী আগুনে পুরে অনেক বস্তিবাসীর জীবনহানীসহ ঘটিবাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন ।

রাজধানী শহর ঢাকায় বস্তি ও বস্তিবাসীর সংখ্যা কত? তা কেও সঠিক বলতে পারেনা । বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১৪ সালে বস্তি শুমারি করেছিলো পরিসংখ্যান ব্যুরো। এরপর সেনিয়ে আর কোন তথ্য পাওয়া যায়না। প্রতিবছর নদী ভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা শুধু কাজের খুঁজেই হাজার হাজার মানুষ ঢাকা আসছেন। ১৯৯৭ সালে মোট ২ হাজার ৯৯১টি বস্তি থাকলেও ২০১৪ সালে বস্তি শুমারি অনুযায়ী ঢাকা শহরের দুই সিটি কর্পোরেশনে সেটি বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৯৪টিতে ।বর্তমানে এসব বস্তিতে বাস করছে ২২ লাখ ৩২ হাজার ১১৪ জন মানুষ । মূলত দারিদ্র্যতা, কাজের সন্ধান, নদী ভাঙ্গন, ডিভোর্স এবং নিরাপত্তাহীনতা জনিত কারণে গ্রাম ছেড়ে শহরাঞ্চলের বস্তিবাসি হচ্ছেন মানুষ । অন্যদিকে দেশে ঠিকানাবিহীন (ভাসমান) মানুষ রয়েছে প্রায় অর্ধকোটি। যাদের কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
ছবি-১৪ : রাজধানী শহরে বহুতল ভবনের পাশেই গড়ে উঠা বস্তি

ছবি- ১৫: দিন যাপনের গ্লানি নিয়ে রেললাইনের পাশে ও পতিত জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা মানুষের বাস
ছবি -১৬ :পচা আবর্জনা ও পুতিগন্ধময় জলাশয়ের উপর ঝুপরি ঘরে বস্তিবাসী ও নিন্ম আয়ের মানুষের বাস

স্বাধীনতার পর থেকে সকল সরকারই দারিদ্র নিরসন কল্পে কিছু অর্থনৈতিক কর্মকান্ড- পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু সরকারের এসব দারিদ্র্য নিরসন কার্যক্রমের সঙ্গে মাঝে মাঝে কিছুদিন পরপর বস্তি উচ্ছেদ চরম সাংঘর্ষিক। সরকার একদিকে দরিদ্র জনগণকে শহরে-নগরে আসার সুযোগ দিচ্ছে, শ্রম নিচ্ছে, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো নাগরিক জীবনযাপনের সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নগরে গড়ে তুলতে সহায়তা দিচ্ছে, বাজেটে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে অথচ সেখানে দরিদ্রদের বসবাসের কোন ব্যবস্থা করছে না। ফলে দরিদ্ররা বাধ্য হয়ে অস্থায়ী বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে। বিবিধ প্রক্রিয়ায় বস্তি উচ্ছেদ,ঘটনাকিংবা দুর্ঘটনায় বস্তি পুড়ে গিয়ে বস্তিবাসিরা নিঃস্ব হচ্ছে । দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের দারিদ্র্য নিরসন প্রক্রিয়ায় দুই ধাপ উপরে উঠেতো তিন ধাপ নিচে পড়ে যাচ্ছে এবং দেশে দরিদ্ররা কেবল দরিদ্রই থেকে যাচ্ছে। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না এবং অর্জিত সম্পদ রাতারাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। শুধু দরিদ্র মানুষের একটু নিশ্চিত ও নিরাপদ আবাসনের অভাবে সরকারের দারিদ্র্য নিরসন সংক্রান্ত সকল বিনিয়োগ বিফলে যাচ্ছে।

বর্তমানে মেগাসিটি ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় পৌনে দুই কোটি। আজ থেকে ২০ বছর আগে যা ছিল এক কোটিরও কম। সুতরাং এ থেকে ধারণা পাওয়া যায়, আগামী ২০ বছর পর কত হবে ঢাকার জনসংখ্যা। ২০১৪ সালে গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রতি হাজারে শহরে আসত ২৮ দশমিক ২ জন। ২০১৮ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৬ জনে। দেশের জেলা, বিভাগীয়, থানা শহর বাদ দিয়ে ইউয়িন থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত কি যেন এক শূন্যতা মানুষের মনে বাসা বেঁধেছে তা নির্ণয় করা এখন সময়ের দাবি। গ্রামের মানুষ শহরমুখী হওয়ার কারণে ২০৩০ সাল নাগাদ ঢাকা শহরে জনসংখ্যা ২ কোটি ৭৪ লাখে দাঁড়াবে। বিশ্বে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহর গুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান নিচের দিক থেকে এখন তিন নম্বর।
ছবি -১৭ : হাইরাইজ বিল্ডিং নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরের একটি হল ঢাকা

বাংলাদেশের হাইরাইজ বিল্ডিংগুলি কতটুকু ভুমিকম্প সহনশীল তা আলিমুল গাইব আল্লাতায়ালাই জানেন । তাছাড়া রাজুক যে কত টুকু কি তা সকলেই জানেন । ভবনের ডিজাইন অনুমোদনে রয়েছে বহুত তেলেশমাতি কান্ড , সে জন্য মাঝে মাঝেই দেখা যায় কতক ভবন মাটিতে ধেবে গেছে ,অনেক ভবন হেলে গেছে,অনেক ভবন আচমকা ফেটে দো ভাগ হয়ে গেছে । তারপরে সঠিকভাবে স্থাপত্য ডিজাইন পাশ হলেও গুনগতমানের নির্মান উপকরণ ব্যবহৃত হয়না, অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মান কাজ করা হয় ।অর্থাৎ একদিকে ভবনসমুহ রয়েছে ভুমিকম্পের মত পাকৃতিক ঝুঁকিতে অন্যদিকে রয়েছে মনুষ্য সৃষ্ট ঝুঁকির মাঝে এবং এটা যে কোন মহৃর্তে ঘটতে পারে। মনুষ্য সৃষ্ট ঝুঁকি হয়তবা এড়ানো যাবে আইন ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে । কিন্তু উচ্চমাত্রার ভুমিকম্পকে প্রতিরোধ করার কোন রাস্তা নেই মানুষের হাতে। তবে ভুমি কম্পের হাত হতে কিছুটা রক্ষার একটি উপায় হতে পারে পরিকল্পিত নগরায়ন ও গ্রামীণ এলাকায় ভুমিকম্পে টিকে থাকাপযোগী ও ভুমিকম্পের সময় সহজে তরিতবেগে গৃহ হতে নিস্ক্রান্ত হয়ে উন্মোক্ত স্থানে নিরাপদে গমন উপযোগী উপযুক্ত মানের ব্যয় মাশ্রয়ী গৃহায়ন ।

উপরে বর্ণিত দুরাবস্থা সমুহের কারণে শহরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য সুপরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলে সেখানে আবাসন ব্যবস্থা করা যে কারোর জন্যই নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং ও খুবই ব্যয়বহুল ব্যাপার। প্রয়োজন একটি সমন্বিত কার্যক্রম। গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে । গ্রামকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শহরের উপর চাপ কমাতে হলে গ্রাম থেকে শহরে মানুষের ছুটে আসা কমাতে হবে, শহরের মানুষকে গ্রামে ফেরাতে হবে । এ লক্ষ্যে প্রয়োজন বহুমুখী উদ্যোগ । গ্রামে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে , নদী ভাঙ্গন রোদ করতে হবে , চর জীবিকায়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে , ঘরে ফেরা কর্মসূচি, গৃহায়ন প্রকল্প, ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প জোড়দার করতে হবে ।

রাজধানীসহ বড় বড় শহড় হতে মানুষের চাপ কমাতে হলে বিকেন্দ্রিকরণের কোন বিকল্প নেই। অর্থনৈতিক ,সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডের বিকেন্দ্রিকরন করা গেলে বড় বড় শহর গুলিতে গৃহায়নের জন্য চাপ কমবে।তবে মানুষকে ফের গ্রামমুখী করার প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে সেখানে গৃহায়নের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ফসলি কৃষিজমির উপরে চাপ পড়বে। খাদ্য নিরাপত্তা হুমকীর সন্মুখীন হবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা ফসলের উৎপাদন বাড়াতে পারব যা উপরে বিস্তারিত ভাগে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সহযোগে অলোচনা করা হয়েছে ।

গ্রামীণ এলাকায় কৃষি জমির সংকোচন রোধ করা যায় প্রতিটি ইউনিয়নকে বা গ্রামকে গ্রোথ সেন্টার/ভিলেজ সেন্টারে পরিনত করে সেখানে পরিকল্পিতভাবে ভুমি সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব একতল , দ্বিতল, ত্রিতল ও বহুতল বিশিষ্ট ভবন ( উন্নতমানের সান ড্রাইড কমপ্রেসড মাটির ব্লকের মাটির ঘর, আর সেটা একান্তই সম্ভব না হলে সানড্রাইড কংক্রিট ব্লকের তৈরী দোতলা/তিনতলা ও বহতল ভবন) নির্মাণ করে । উন্নতমানের টিকসই মাটির ঘর নির্মানের কিছু দৃশ্য পরশ পাথর প্রপ্তি পর্ব-১এ দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য গ্রাম পর্যায়ে ভিলেজ সেন্টার নির্মাণ করা হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আবাসন কেন্দ্র সহ একটি করে ইন্ডাসট্রিয়েল এস্টেট নির্মান করা যায়,যা শিল্প হাব হিসাবে কাজ করবে ।
প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারের রূপকল্প

বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রামীণ এলাকায় দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বসবাস করেন । এর সাথে শহরাঞ্চল হতে গ্রামমুখি বস্তিবাসী, ভাসমান মানুষ ও ফ্রাট বাড়িতে এক/দুই কামড়ায় গাদাগাদি করে বসবাসকারী নিন্ম অআয়ের প্রায় ১০ ভাগ মানুষকে যুক্ত করে প্রায় ৮০ভাগ জনগুষ্ঠির বসবাসের জন্য ভিলেজ সেন্টার সৃজন করা যেতে পারে । বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা এখন ১৬কোটি ৬৫ লক্ষ । এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ তথা ১৩ কোটি৩২লক্ষ মানুষের জন্য(প্রতি পরিবারে/খানায় ৪.৪০জন ধরে) মোট ৩ কোটি ২লক্ষ গৃহ ইনিটের প্রয়োজন ।উল্লেখ্য বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৫৭১ টি ইউনিয়ন ও প্রতি ইউনিয়নে ৯টি করে ওয়ার্ড ধরে মোট ৪১,১৩৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৯০হাজার গ্রাম রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোটবড় বিভিন্ন আকারে ২/৩টি গ্রাম রয়েছে। এমতাবস্থায় ২/৩ গ্রামগুলিকে নিয়ে গঠিত প্রতিটি ওয়ার্ডের কেন্দ্রস্থলে বন্যামুক্ত অপেক্ষাকৃত উচু স্থানে একটি করে ভিলেজ সেন্টার স্থাপন করা যেতে পারে।দুই/তিনটি গ্রাম নিয়ে গঠিত প্রতি ওয়ার্ড প্রায় গড়ে ৭৩৪টি পরিবার বসবাস করেন । এর মধ্যে নীজ বাড়ীতে থাকতে চাওয়া অবস্থাসম্পন্ন ও অনিচ্ছুক শতকরা ২০ ভাগ হাউজহোল্ড বাদ দিলে বাদবাকী প্রায় ৬০০ পরিবারকে প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারে গৃহায়নের জন্য স্থানান্তর করা যেতে পারে।

প্রতিটি ভিলেজ সেন্টারে ৪টি টি ব্লক যথা (ক) ১০০টি মাটির /কাঠের/ সানড্রাইড কংক্রিট ব্লকের তৈরী সৌখীন ঘরের জন্য একটি ব্লক, (খ ) ২০০টি দোতলা ভবনের জন্য একটি ব্লক এবং (গ) ১০০টি ত্রিতল/বহুতল ভবন নির্মাণের ব্লক রাখা যেতে পারে ( তবে এর জন্য প্রতিটি গ্রামে একটি নীড বেইসড ফিজিবিলিটি স্টাডি অবশ্যই করতে হবে)। বিভিন্ন আকারের তবে গড়ে ৯০০বর্গফুটের নীচেনয় এমন একটি করে ইউনিট ধরে প্রতিটি ভবনের জন্য জমির পরিমান হবে গড়ে ৫শতক(সামনে পিছনে বাগানের জন্য জায়গা রেখে)। সে হিসাবে প্রতিটি ভিলেজ সেন্টারে গৃহের জন্য জমির পরিমান দাঁড়াবে প্রায় ৩০ একর, এর সাথে রাস্তা ,খেলার মাঠ, স্কুল, কলেজ মসজিদ,ক্লিনিক ,কমিউনিটি সেন্টার, ইউটিলিটি সেন্টার, শপিং সেন্টার ও খোলা সবুজ চত্তরের জন্য প্রয়োজন হবে আরো প্রায় ২০ একর ,সে হিসাবে প্রতিটি ভিলেজ সেন্টারের জন্য প্রয়োজন হবে ৫০ একর তথা প্রায় ২০ হেক্টর জমির । নীচের ছবিতে একটি প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারের খসড়া মাষ্টার প্লান প্রদর্শন করা হলো ।
ছবি-১৮ একটি ভিলেজ সেন্টারের খসড়া মাষ্টার প্লান

এখানে প্রসঙ্গগত উল্লেখ করা যায় যে রাজধানী শহর ঢাকার গুলশানের একটি আলীশান ভবনের গোটা কয়েক ফ্লাট/এপার্টমেন্টের মুল্য দিয়েই উপরে প্রস্তাবিত একটি ভিলেজ সেন্টারে পরিবেশ বান্ধব সকল গৃহ নির্মান করা যেতে পারে ।
ছবি-১৯ : গুলশানের একেকটি এপার্টমেন্টের দাম দেখা যায় ৩ কোটি টাকার উপরে

আমি হলফ করে বলতে পারি দেশের সাধারণ মানুষদেরকে বিবিধ প্রকারে শোষন বচ্ছনা করে এবং নানাবিধ উপায়ে অর্জিত সাদা কালো অর্থে বিশেষ একশ্রেণীর বিত্তবানেরা ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, বসুন্ধরায় যে সমস্ত আলীশান বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন তা দিয়ে প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারে পরিবেশ বান্ধব ব্যয় সাশ্রয়ী গৃহ নির্মাণ করে সারা দেশকে গুলশান বনানীতে পরিনত করা যায়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে তথ্য উপাত্ত দিয়ে বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছে আছে।

বিভিন্ন সংবাদ ভাষ্যে দেখা যায় ১৪২ তলা বিশিষ্ট ‘আইকনিক টাওয়ার নামে একটি আকাশচুম্ভী ভবন নির্মিত হবে ঢাকার পুর্বাচল নতুন শহরে , এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে $৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫হাজার৫০০কোটি টাকা । আকাশচুম্বী ভবনটি নির্মাণের প্রথম প্রস্তাবনা করে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আবাসন নির্মাণ কোম্পানি কেপিসি গ্রুপ,প্রতিষ্ঠাতা কালী পি. চৌধুরী।১৪২ তলা এই টাওয়ারের নকশা এমনভাবেই নাকি তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ভবনের দিকে তাকালে মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে পড়বে এবং এটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে দুইপাশ থেকেই ’৭১ লেখা ফুটে উঠবে (ভোরের কাগজ, অনলাইন তারিখ: ২২/০৬/২০১৬) । তবে কষ্ট করে ডান দিকে একটু দুরে তাকালে দেখা যাবে পুর্বাচলের পাশেই তারাবো জামদানী তাঁতী এলাকার তাঁতী প্রজন্মের দরিদ্র শিশু তাঁত শ্রমিকটির চোখে আঁকা রয়েছে একটি ছোট্ট তাঁত পল্লীর স্বপ্ন ।
ছবি-২০ :পুর্বাচলের ১৪২ তলা ভবনের পাশে দরিদ্র শিশু তাঁত শিল্পীর চোখে একটি ছোট্ট তাঁত পল্লীর স্বপ্ন

যাহোক কথা হলো এমন একটি আকাশ চুম্বী ভবনের নির্মান ব্যয় দিয়ে হাজার খানেক ভিলেজ সেন্টার স্থাপন করা যায় দারিদ্র পিড়িত এ দেশে। বিত্তশালীরা আকাশ চুম্বী ভবন নির্মাণ করে দেশের মান মর্যাদা বৃদ্ধি করুন তাতে কোন আপত্তি নাই, তবে তাঁরা যদি গ্রামীণ জনগুষ্ঠির জন্য প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারে গৃহায়ন কর্মসুচীর অর্থায়নে এগিয়ে আসেন তবে কতই না ভাল হয়।

প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারের জন্য মোট প্রয়োজনীয় জমির পরিমান

সারা দেশের গ্রামীন এলাকায় মোট ৪১১৩৯টি ভিলেজ সেন্টারের জন্য মোট জমির প্রয়োজন হবে ৮ লক্ষ ২৩ হাজার হেক্টর যা দেশের মোট আবাদযোগ্য জমির মাত্র প্রায় ১০ ভাগ । অপরদিকে বর্তমানে গ্রামীন এলাকায় বসবাসকরী দেশের ৭০ ভাগ বা প্রায় ১০ কোটি মানুষের ২ কোটি ২৮ লক্ষ পরিবার ( পরিবার প্রতি গড়ে ২০ শতক হিসাবে) প্রায় ১৬.৮৩ লক্ষ হেক্টর আবাদযোগ্য ভুমি বসতভিটার জন্য দখল করে আছেন যা মোট আবাদযোগ্য ভুমির শতকরা প্রায় ২০ ভাগ । তাই প্রম্তাবিত ভিলেজ সেন্টারের মাধ্যমে সাশ্রয়কৃত ১০ভাগ ভুমি আবাদযোগ্য কৃষি কাজের জন্য নতুন করে যুক্ত হতে পারে । এর ফলে দেশে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় দিকেই খাদ্য নিরাপত্তা আরো জোরদার হতে পারে ।
এ সমস্ত ভিলেজ সেন্টারের পাশেই সৃষ্টি করা যেতে পারে কৃষিকাজ তথা পরিবারের প্রাত্যহিক সবজী চাহিদা পুরণের জন্য কৃষি এলটমেন্ট প্লট । প্রতি প্লটের সাইজ ১৫ফুট × ৩০ফুট হলে প্রতি প্লটের জন্য প্রয়োজন হবে ৪৫০ বর্গফুট যা প্রায় এক শতক পরিমান জমির সমান । সে হিসাবে প্রতিটি ভিলেজ সেন্টারে সুবিধাজনক স্থানে ৬০০টি পরিবারের কৃষি প্লটের জন্য জমির পরিমান হবে প্রায় ৬ একর, এর সাথে কৃষি এলটমেন্ট সাইটে আভ্যন্তরিন রাস্তার জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৪ একর জমির , মোট কথা ৬০০প্লটের একটি কৃষি এলটমেন্ট সাইটের জন্য প্রয়োজন হবে মাত্র ১০ একর জমির। এটা সম্পুর্ণ ভাবে কৃষির জন্য ফসলী জমি। এর ভিতরে প্রতিটিতে থাকতে পারে সারা বছরই মৌসুমী/অমৌসুমী সবজি ফলানোর জন্য ব্যয় সাস্রয়ি গ্রীন হাউজ, একটি ওয়ার হাউজ ( যেখানে থাকবে বীজ ও সারসহ কৃষি সরঞ্জামের স্টক। সমবায়ের ভিত্তিতে এখান থেকে প্রতিটি প্লট মালিক সবজি বাগান করার জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরন ও সরঞ্জাম যথা কোদাল, নিরানী প্রভৃতি সংগ্রহ করে নিতে পারবে ) থাকবে ব্যয় সাশ্রয়ি ড্রিপিং ইরিগেশন ব্যবস্থা ।
ছবি-২১: কৃষি এলটমেন্ট সাইটের প্লট লে-আউট

বর্তমান বিশ্বে কৃষি ক্ষেত্রে ড্রিপিং ইরিগেশন ও ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করে অনেক দেশ ফশলের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।কৃষি এলটমেন্ট প্লটে ব্যয় শাস্রয়ীইরিগেশন ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ড্রিপিং ইরিগেশন ও ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করে ইজরাইল কৃষিতে ঈর্ষনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে , উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় তারা হেকটর প্রতি ৩০০ টন টমেটু উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে ।
ছবি-২২: ড্রিপিং ইরিগেশন ব্যবস্থায় সবজী চাষের একটি ছবি।
এই লিংক গিয়ে ব্যয় সাস্রয়ি ড্রিপিং ইরিগেশন ব্যবস্থটি দেখা যেতে পারে

হরাইজনটাল ও ভার্টিকেল উভয়দিককে যথাযথভাবে সমন্বয় করে গ্রামীন এলাকায় পরিবেশ বান্ধব টিকসই নিরাপদ গৃহায়নের ব্যবস্থা করা যায় । উল্লেখ্য চীন এ ব্যবস্থায় সফলতা পেয়েছে । ভারত পরীক্ষামুলকভাবে ভিলেজ সেন্টারের মাধ্যমে গৃহায়নের ব্যবস্থা করে কৃষি জমির সংকোচন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিচ্ছে। কৃষি জমির মালিকানা গ্রামীণ কৃষক পরিবারের হাতেই যথারীতি থাকবে তবে কৃষিকাজ হতে হবে সমবায়ের ভিত্তিতে । ভিলেজ সেন্টার থেকে গ্রামান্তরে কৃষিকাজের জন্য যাতায়াতের সুবিধার্থে থাকতে হবে উপযুক্ত কাঁচা পাকা রাস্তা । প্রতি গ্রামে জনসংখ্যার অনুপাতে কৃষিক্ষেত/খামার সংলগ্ন স্থানে ওয়ার হাউজ তথা খামার বাড়ী তৈরী করে সেখানে রক্ষিত সার,বীজ ও কৃষি সরঞ্জাম যথা ট্রাকটর/পাওয়ার টিলার ও বপন যন্ত্র ,ফসল মারাই যন্ত্র প্রভৃতি সমায়ের ভিত্তিতে ভাড়া নিয়ে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশে সেচের জন্য নদী নালা ,খাল, বিলে সারফেস ওয়াটারের দুষ্প্রাপ্যতা এখনই প্রকট আকার ধারণ করছে। অপরদিকে আন্ডার গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল ক্রমান্বয়ে আশংকা জনকভাবে হচ্ছে নিন্মমুখী । এমতাবস্থায় পানি ও ব্যয়সাশ্রয়ী স্প্রীংকলার ইরিগেশনের বিকল্প নেই । তাই প্রতিটি গ্রামে পরিকল্পিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় এই ষ্প্রিংকলার ইরিগেশন সিসটেম এর প্রচলন করা আবশ্যক হবে ।তা না হলে সেচের অভাবে ফসলী জমির উৎপাদন মারাত্বকভাবে ব্যহত হবে।
ছবি -২৩ : ফসলের মাঠে স্প্রিংকলার ইরিগেশনের একটি দৃশ্য

ভিলেজ সেন্টারের জন্য প্রস্তাবিত গৃহের ধরণ ও নির্মাণ উকরণ

ভিলেজ সেন্টারে একতলা,দ্বিতল, ত্রিতল ও বহুতল ভবন নির্মানের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ বান্ধব নির্মাণ উপকরন দিয়ে গৃহ নির্মান করা যেতে পারে । ঐতিহ্য রক্ষার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর মাটির ঘর হতে শুরু করে সান-ড্রাইড কমপ্রেসড কংক্রিট ব্লক এবং ঢালাই ছাদের ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। তবে গ্রামীণ এলাকায় পরিবেশ বিনষ্টকারী ইট ভাটায় পুড়ানো ইট দিয়ে ভবনাদি তৈরীকে কঠোরতর বিধি নিষেধের মাধ্যমে নিরোৎসাহিত করা প্রয়োজন হবে।

দেশী ও প্রবাসী বিত্তশালীরা ভিলেজ সেন্টারের একটি ব্লকে নীচের মত সৌখীন মাটির ঘর নির্মাণ করতে পারেন
ছবি-২৪: ব্র্যক ও লিনজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সহযোগীতায় নির্মিত দোতলা মাটির ঘর

এছাড়াও প্রস্তবিত ভিলেজ সেন্টারে দেশি ও প্রবাসী বিত্তবানেরা নিন্মের চিত্রে দেখানো জাপানী ষ্টাইলের ভুমিকম্প সহনশীল গৃহের আদলে পরিবেশ বান্ধব পাকৃতিক উপকরন যথা কাঠের খুটি বেড়া, পাটাতন, দরজা, জানালা ও খরের ছাউনী দিয়ে তিনতলা সৌখীন বাড়ী নির্মান করতে পারেন ।
ছবি-২৫ : জাপানী স্টাইলে ভুমিকম্পের আঘাত সহনশীল কাঠ ও খরের তৈরী ঘরের ভিতর ও বাহিরের দৃশ্য

উল্লেখ্য এ ধরনের প্রায় ২৫০ বছরের পুরাতন বাড়ীঘর সমৃদ্ধ জাপানের Gokayama Historic ভিলেজ সেন্টারটি ইউনেস্কো ওয়ার্লড হেরিটেজ সাইট হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ।
ছবি-২৬ : জাপানের Gokayama Historic ভিলেজ সেন্টার

এছাড়া ভিলেজ সেন্টারে ব্যয় সাশ্রয়ী শিপিং কনটেইনারে একতল ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে ।
ছবি-২৭: একটি Shipping Container village

ছবি২৮ :একটি দ্বিতল শিপিং কনটেইনার হাউজ : মুল্য $২৫০০ মার্কিন ডলার/সেট

ছবি ২৯ : বায়ো-কম্পোজিটের তৈরী(পাট,ছোবরা,বাঁশ তন্তু) রুফ টাইলস ঘরের ছবি


দেশে জুট কম্পোজিট শিল্প কারখানা স্থাপন সম্ভাবনা প্রসঙ্গ

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদ ভাষ্য হতে দেখা যায় যে শ্রমিকদের শতভাগ পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার।
ছবি-৩০: খুলনার খালিশপুরের একটি রস্ট্রায়ত্ব জুট মিলের ভিতরের দৃশ্য (ছবিসুত্র : প্রথমআলো )

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অবশ্য বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন মিছিল-সমাবেশের মত কর্মসূচী চালিয়ে আসছিল গত কয়েকদিন ধরে। বিশ্বে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা যেখানে বাড়ছে, সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনে বৈচিত্রতা আনা হলে শ্রমিক ছাঁটাই নয়, বরং নতুন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে যুক্তি দিয়ে আসছেন প্রতিবাদকারীরা।
ছবি-৩১ : এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খুলনার খালিশপুরে ৯ টি জুট মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা অনশন ধর্মঘটও পালন করেন

বিদায়ী শ্রমিকদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০১৫ সালের সর্বশেষ মজুরি কাঠামো অনুযায়ী প্রায় ২৫ হাজার পাটকল শ্রমিককে অবসরকালীন সুবিধাসহ সকল পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে গত ২রা জুলাই প্রধানমন্ত্রীর এক ঘোষনায়উল্লেখ করা হয়েছে ।

বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে থাকা ২৬টি পাটকলে ২৪ হাজার ৮৬৬ জন স্থায়ী শ্রমিকের বাইরে তালিকাভুক্ত ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক আরো প্রায় প্রায় ২৬ হাজার শ্রমিক আছে। এই ২৬ হাজার শ্রমিকের বিষয়ে কি করা হবে তা অবশ্য এখনো জানা যায়নি ।উল্লেখ্য গত ৪৮ বছরে এই পাটকলগুলোর পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ নাকি ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা ।
সরকার দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পঞ্চাশ শতাংশ নগদ এবং বাকি অর্ধেক মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয় পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে জানা যায় । সরকার এবং প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে মিলগুলো চালু থাকবে বলে বলা হয়েছে । পিপিপি’র আওতায় আধুনিকায়ন করে এ সকল পাটকলকে উৎপাদনমুখী করা হবে। যারা সুস্থ, সক্ষম শ্রমিক তাদের দিয়েই মিলগুলো চালানো হবে। শ্রমিকদের গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ চাকরিবিধি অনুযায়ী পরিশোধের পাশাপাশি নির্ধারিত হারে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের সুবিধাও নাকি দেয়া হবে

দেশর লোকসানী রাস্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলির বিহিত করনের বিষয়ে এটা একটি মন্দের ভাল উদ্যোগ ,তবে এটা আরো অনেক আগে করা হলে লোকসানের পরিমান অনেক কম হতো। এসাথে যুগের পর যোগ ধরে চলে আসা এসব লোকসানের জন্য দায়ীদের নামে বেনামে গড়ে তোলা সম্পদের হিসাবটাও খতিয়ে দেখলে ভাল হত । যাহোক, এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য এসমস্ত জুট মিলে যে সমস্ত যন্ত্রপাতি আছে তা বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় আধুনিকিকরণ করাহলেও তা দিয়ে সনাতনি পন্য যথা দড়ি, রসি, চট, ছালা, ব্যগ ছাড়া আর কিছু তৈরী করা যাবে বলে মনে হয়না । আন্তর্জাতিক বাজারে এখন এ সমস্ত পাটজাত পণ্যের চাহিদা নাই বললেই চলে । দেশীয় বাজারেও পাটজাত পণ্যের চাহিদা ক্রমেই কমছে । তাই এই জুট মিল গুলিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে জুট কম্পোজিট ম্যনুফেকচারিং মিলে পরিনত করা এখন সময়ের দাবী।
ছবি-৩২ : প্রস্তাবিত জুট কম্পোজিট মিলের একটি ছবি

জুট কম্পোজিট দিয়ে সুলভে টিকসই গৃহ নির্মান করা যাবে বিধায় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে জুট কম্পোজিট মিলে পরিনত করা গেলে সেখানকার উৎপাদিত জুট কম্পোজিট মেটেরিয়েলস প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারে গৃহায়নের কাজে বহুলাংশে ব্যবহার করা যাবে ।বিশেষ করে শিপিং কনটেইনার জাতীয় গৃহগুলির দেয়ালের জন্য জুট কম্পোজিট শীট ও ছাদের জন্য জুট কম্পোজিট টাইলস ব্যবহার করা যাবে।
ছবি -৩৩: পাকৃতিক তন্তু (জুট, ছোবরা) কম্পোজিট ম্যটেরিয়েলস দিয়ে তৈরী একটি ঘরের ছবি

এ ধরনের জুট কম্পোজিট দ্রব্যের বিপুল চাহিদা দেশেই তৈরী হবে, পাটজাত পন্য রফতানীর জন্য বিদেশের বাজারের মুখাপেক্ষী হতে হবেনা বরং এটা আমদানী বিকল্প হিসাবে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে আমদানী খাতের জন্য বিপুল পরিমান কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটাবে।
উল্লেখ্য প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশীপে (পিপিপি)(A Public-private partnership (PPP) is defined as a long-term contract between a private party and a government agency for providing a public asset or service, in which the private party bears significant risk and management responsibility (World Bank, 2012). পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত এ সমস্ত পাটকলগুলির জন্য পুঁজি বাজারে বন্ড/শেয়ার ছেড়ে দেশে রেমিটেন্স প্রদানকারী প্রবাসীদেরকে আগ্রহী করে তুলতে পারলে কম্পোজিট জুট মিল স্থাপনের জন্য অর্থায়নের কোন অভাব হবেনা।

ভিলেজ সেন্টারে গৃহায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় ইন্ডাসট্রিয়াল এস্টেট/শিল্প পার্ক স্থাপন

গ্রামের মানুষকে শহর বিমুখ ও শহড়ের মানুষকে গ্রাম মুখী করতে হলে গ্রামীন এলাকায় শহরের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত গৃহায়নের পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতেও আধুনিক অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা সৃজন করা একান্ত প্রয়োজন। সে লক্ষে একদিকে (ক) প্রতিটি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে সুবিধাজনক স্থানে ইন্ডাসট্রিয়াল এস্টেট তথা শিল্প পার্ক স্থাপন, অন্যদিকে (খ) প্রতিটি গ্রামে সুবিধামুলক স্থানে কৃষিকাজ ও গবাদীপশু খামার (যথা হাস, মুরগী , গবাদি পশু , প্লান্ট নার্সারী, বৈচিত্রময় অধীক মুল্য সংযোজনকারী ও রপ্তানী উপযোগী সবজি এবং ফুলের (যথা রজনী গন্ধা, অর্কিড জাতীয় ফুল, জারবেরা ফুল ইত্যাদি)বাগান সৃজন বিষয়টিকেও প্রাধান্য দিতে হবে

ক) ইন্ডাসট্রিয়াল এস্টেট/গ্রামীণ শিল্প পার্ক

প্রতিটি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে সুবিধাজনক স্থানে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ একর জায়গায় একটি করে ইন্ডাসট্রিয়াল এস্টেট বা শিল্প পার্ক স্থাপন করা যেতে পারে ।
ছবি-৩৪ : প্রস্তাবিত ইন্ডাসট্রয়াল ইউনিট/গ্রামীন শিল্প পার্কের ছবি

এমস্ত শিল্পপার্কে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনসহ বড় বড় শহরাঞ্চল হতে শিল্প কারখানা এ সমম্ত গ্রামীন শিল্প পার্কে স্তানান্তরিত করা যেতে পারে । এখানে উল্লেখ্য যে তৈরী পোশাক শিল্প কারখানা গুলি বলতে গেলে রাজধানী শহর ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ও শহর উপকন্ঠে অবস্থিত । শহরের প্রাণকেন্দ্র ও শহর উপকন্ঠে স্থাপিত বহুতল বিশিষ্ট পোশাক কারখানা গুলির ফেকটরী ভবনসহ অন্যান্য সকল প্রকার ভৌত অবকাঠামোর ব্যয় মাত্রাতিরিক্তভাবে বেশী।শহরাঞ্চলে অবস্থিত পোশাক শিল্পকারখানার ভৌত অবকাঠামোর পিছনে ব্যাংক লোনের মাধ্যমে বিপুল পরিমান বিনিয়োগকৃত অর্থের ঋণের সুদ আসল পরিশোধের অর্থ পন্যের উৎপাদন ব্যয়ের সাথে যুক্ত হয়ে পন্যটির ইউনিট কষ্ট অনেক বেশী হয় যা শ্রমিকদেরকে নিন্মহারে মজুরী দিয়ে পুষিয়ে নেয়া নেয়া হয় ।শহরাঞ্চলে অবস্থিত ব্যয় বহুল ভৌত অবকাঠামো ব্যবহারের কারণে মোটা অংকের ব্যাংক লোন নিয়ে পিপলস মানির অপচয়সহ শ্রমিক শোষনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলা হয় । অপর দিকে কারখানাগুলি শহর কেন্দ্রিক হওয়ায় পোশাক কর্মীরাও বাধ্য হয়ে নিন্মমানের ঘরে কষ্টে শিষ্টে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু তাই নয় শহরকেন্দ্রিক পোশাক শিল্পটি আরো বহুবিধ নাগরিক সমস্য যথা ট্রাফিক জ্যাম কেননা ৪/৫ জনের পার্টনারশীপে গড়ে উঠা প্রায় হাজার পাচেক ছোট বড় পোশাক শিল্পের মালিক তাদের পরিবার পরিজন এবং তৈরী পোশাক সহায়ক অন্যান্য শিল্প ও আমদানী রপ্তানীকারক বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক প্রাইভেট কার রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণও বটে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৭৩ হাজার ১৬০। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই প্রায় অর্ধেক। আর ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ২ লাখ ৫২ হাজার ৬৭৪। বাস আছে ৩৯ হাজার ৭৮২টি। সাম্প্রতিক সময়ে সব ধরনের যানবাহনের সংখ্যা আরও বেড়েছে। কারণ, প্রতি মাসে প্রায় দেড় হাজার শুধু ব্যক্তিগত গাড়িই নিবন্ধিত হচ্ছে বলে জানা যায় ।

ঢাকা মহানগরের মোট সড়কের প্রায় ৫০ শতাংশ জুড়েই চলাচল করে ব্যক্তিগত গাড়ি, অথচ এগুলো বহন করে মাত্র ১২ শতাংশ যাত্রী। ফ্লাইওভার দিয়েও যানজট কমানো যাচ্ছেনা ।রাজধানীতে নিন্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য ব্যয় সাশ্রয়ী পরিবেশ বান্ধব ও ব্যপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী রিক্সাকে যানজটের জন্য দায়ী করে তাদের উপর দমন পিড়নমুলক ব্যবস্থা নেয়ার পরেও রিক্সামুক্ত রোটগুলিতে যানজটের জন্য প্রাইভেট কারগুলিই বেশী দায়ী। যানজট নিরসনে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রনের জন্য অনেকেই অনেক ধরনের পরামর্শ রাখছেন , কেও বলছেন নিবন্ধন ফি বাড়ানোর জন্য, কেও বলছেন গাড়ীর উপরে উচ্চহারে টেক্স বসিয়ে একে দুঃপ্রাপ্য করার জন্য। কেও কিন্তু বলছেননা প্রসাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে বিকেন্দ্রীকরন করে গাড়ীর মালিকদেরকে তাদের ব্যক্তিগত গাড়ী সমেত শহরহতে নিস্ক্রান্ত করে গ্রামমুখী করার কথা। বরং অনেকেই বলছেন গ্রামের মানুষকে শহরমুখী হওয়া বন্ধ করতে হবে। নিন্ম আয়ের বস্তিবাসী , দিনমজুর ,রিক্সাওয়ালা, ফেরিওয়ালা , ভাসমান মানুষদের বিবিধ পন্থায় গ্রামে ফেরত পাঠাতে হবে । রাজধানীর আলিসান বিলাসবহুল ভবনে যারা কোনমতে মাথা গুজার ঠাই করে নিয়েছেন তারা তারস্বরে বলছেন ঠাই ঠাই ছোট সে তরী, আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি। প্রাইভেট গাড়ীর সংখ্যা কমানোতো দুরে থাক বরং বিভিন্ন ধরনের প্রনোদনা দিয়ে (যথা সরকারী ও করপোরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ী কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋনের ব্যবস্থা করা ) প্রাইভেট গাড়ীর সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যাদের ক্ষমতা আছে তারা যত পারুন গাড়ী কিনুন কোন অপত্তি নাই ( শুধু গাড়ী ক্রয়ের অর্থটা অবশ্যই সাদা হতে হবে ) তবে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে শহর হতে গ্রামে স্থানান্তরিত করা গেলেই কেবল রাজধানী শহর ঢাকাসহ বড় বড় শহরের যানজট কমবে।নগর সমাজে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
ছবি- ৩৫ : রাজধানী শহরে রিক্সামুক্ত সড়ক ও ফ্লাই ওভারে মহা সমারোহে প্রাইভেট কার সৃষ্ট যানজটের দৃশ্য

বিবিধ ধরনের কড়াকড়ি বিধি নিষেধের ভেড়াজালে ফেলে ও উপযুক্ত ভৌত কাঠামো ও আর্থিক প্রনোদনা দিয়ে পোশাক কারখনা গুলিকে সহজেই প্রস্তাবিত গ্রামীণ ইন্ডাসট্রিয়েল এস্টেটে/শিল্পপার্কে স্থানান্তর করা যেতে পারে ।শুধু প্রয়োজন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন বিশেষ করে দেশে চারলেইন মটর হাইওয়ে নেট ওয়ার্ক গড়ে তোলা ।উল্লেখ্য শ্রীলংকায় তৈরী পোশাক শিল্পগুলিকে শহরাঞ্চল হতে গ্রামীন এলাকায় স্থানান্তর/স্থাপনের প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছে।
ডেইলি মিরর রিপোর্ট করেছেযে শ্রীলংকা ২০০৬ সনে তাদের নতুন প্রস্তাবিত রপ্তানীমুখী ৩০০ পোশাক কারখানার মধ্যে ৫০ টিই স্থাপন করবে গ্রামীন এলাকায় ।
ছবি-৩৬ : শ্রীলংকায় শহড় হতে দুরে গ্রামীন এলাকায় স্থাপিত তৈরী পোশাক শিল্প কারখানা

যাহোক, শহর কেন্দ্রিক শিল্প কারখানা গুলিকে গ্রামীণ শিল্প পার্কে স্থানান্তরিত করা হলে শিল্প শ্রমিকদের বাসস্থানের সমস্যাও থাকবেনা, কারণ তারা প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারে নির্মিত গৃহে বসবাস করেই তাদের কর্মস্থলে সহজেই যাতায়াত করতে পারবে । উল্লেখ্য রাজধানী শহর ঢাকাসহ অন্যান্য বড় বড় শহরাঞ্চলে অবস্থিত পোশাক শিল্প কর্মীগন মাসিক আয়ের সিংহভাগই ব্যয় করে তাদের বাসস্থানের ভাড়া মিটাতে । গ্রামীণ শিল্প পার্কে পোশাক শিল্প কারখানা স্থাপন করা হলে এ শিল্প খাতের ভৌত অবকাঠামোগত ব্যয় সংকোচন ছাড়াও অপেক্ষাকৃত স্বল্প মজুরীতেও কর্মী পাওয়া যাবে । এমন অবস্থায় এদেশের তৈরী পোশাক এর দামের সাথে পৃথিবীর কোন দেশই টেক্কা দিতে পারবেনা মহজে । এখাতের রফতানী আয় বর্তমানের ৩৪ বিলিয়ন ডলার হতে ৫০/৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে অল্প সময়ের ব্যবধানে।

অপরদিকে প্রস্তাবিত শিল্প পার্কে এ ধরনের কারখানা ভবনের নির্মাণ কাজে জুট কম্পোজিট মেটেরিয়েলস ব্যবহার করে দেশের পাট শিল্পকে দেয়া যায় নতুন মাত্রা , পাটকলগুলি হতে শ্রমিক বিদায় না করে তাদেরকে আকর্ষনীয় মজুরীতে নিয়োজিত করা যায় সহজেই।
ছবি -৩৭ : জুট কম্পোজিট মেটেরিয়াল দ্বারা নির্মানকরা যাবে নীচের ছবির মত ব্যয় সাস্রয়ী কারখানা ভবন

গ্রামীন শিল্প পার্কে শুধু যে শহরাঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলিকেই স্থানান্তর করা যাবে তাই নয় , সনাতন প্রযুক্তি ব্যবহার করে লুপ্তপ্রায় গ্রামীন কুটির শিল্পগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে শিল্প পার্কে গড়ে তুলে লাভজনক শিল্প হিসাবে পরিনত করা যায় ।বাংলাদেশে কুটিরশিল্পের মধ্যে হস্তচালিত তাঁত শিল্প এখনো প্রধান ।দেশের তাঁত নিবির এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাঁতের উৎপাদন ব্যবস্থা । প্রতক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাঁত শিল্পে জড়িত আছে প্রায় অর্ধকোটি মানুষ ।দেশের প্রায় ৫ লক্ষ তাঁতের মধ্যে যথাযথ পৃষ্ট পোশকতার অভাবে প্রায় এক তৃতিয়াংশ তাঁত অলস হয়ে আছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায় ।তাই গ্রামীণ শিল্প পার্কে পরিকল্পিত ভাবে তাতঁ শেড নির্মান করে ও সেখানে তাঁত বস্ত্রের বয়ন পুর্ব ও বয়নোত্তর সেবার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সহায়ক যন্ত্রপাতি দিয়ে সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করা যায় । এ ব্লগে জুন ২০১৬ সনে পূর্বাচলে উচ্চবিত্তের ১৪২ তলার আকাশ চুম্বী স্বপ্ন :: পাশের গায়ে দরিত্র তাঁতী প্রজন্মের স্বপ্ন: একটি ছোট্ট তাঁত পল্লী শীর্ষক পোষ্টে বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছিল দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁত পল্লী সৃজন করে কিভাবে সেখানে তাঁত শেড নির্মান করে উৎপাদন কর্মকান্ড পরিচালনা করা যায় এবং সেখানে তাঁত শিল্পকর্মীদেরকে আবাসনের সুবিধা দেয়া যায়।

তাঁত পল্লীটির ভিতরে নিন্মের চিত্রের মত তাঁতশেড ও তাঁতীদের আবাসনের জন্য একটি লে-আউট প্লান দেয়া হয়েছিল ,যার আদলে প্রস্তাবিত গ্রামীন শিল্প পার্কে কর্মসুচী বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
ছবি-৩৮ : তাঁতশেড ও তাঁতীদের আবাসনের জন্য একটি লে-আউট প্লান

সেই পোষ্টে থাকা প্রকল্প বিবরণীতে তুলে ধরা হয়েছিল যে মাত্র ৯৫৮৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে ( প্রতিটি পল্লীর জন্য ৩২ কোটি টাকা ) দেশের ৩০০ তাঁত নিবীড় এলাকায় ৩০০ তাঁত পল্লী স্থাপন করা যায় ।এই বিনিয়োগ ব্যয় পুর্বাচলের একটি আকাশচুম্বি ভবনের রিভাইসড বিনিয়োগ ব্যয়ের এক তৃতিয়াংশ মাত্র । এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ১.৫০ লক্ষ হত দরিদ্র ও নদী ভাংগন কবলিত সহায় সম্বলহীন পরিবারের পুর্ণবাসন সহ ৬.০০ লক্ষ তাঁতীর প্রত্যক্ষ পুর্ণ কর্ম সংস্থান করা যাবে যারফলে দেশে বাৎসরিক প্রায় ৭৪ কোটি মিটার অতিরিক্ত তাঁত বস্র উৎপাদন সম্ভব হবে ।

সামুতে প্রকাশিত সেই পোষ্টটি দেশের নীতিনির্ধারকগন দেখেছেন কিনা জানিনা । তবে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে দেখেছি গত ১৮.০৯.২০১৮ তারিখে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি স্থাপন শীর্ষক একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়েছে। প্লকল্পটির কার্য পরিধির মধ্যে ২০১৬ সনে সামুতে প্রকাশিত আমার প্রস্তাবিত প্রকল্প রুপরেখার অনেক বিষয়ের প্রতিফলন দেখে খুশি হয়েছি । প্রকল্পটির বাস্তায়নকাল জানুয়ারি ২০১৭ - ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ জন তাঁতি পরিবারকে পুনর্বাসনের নিমিত্ত আবাস-কাম-কারখানা স্থাপনের জন্য ফ্ল্যাট ও তাঁত শেড বরাদ্দ/নির্মান; ৮০৬৪ টি তাঁত বয়নশেড নির্মাণ করে প্রায় ১০ লক্ষ গ্রামীণ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষমাত্রা রয়েছে বলে দেখা যায়।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে দেখে ভাল রাগছে । কামনা করি এখন দেশের নীতি নির্ধারকেরা তাতঁ নিবির এলাকার গ্রামীন শিল্প পার্কে তাঁত শেড ও অবাসন সুবিধা সৃজন করেন।

আধুনিক বৈচিত্রময় কৃষি খামার সৃজন

দেশের গ্রামীন এলাকায় গবাদি পশু ও হাসমুগরী পালন একটি লাভজনক উৎপাদন কর্মকান্ড ।প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো ও অর্থের অভাবে গ্রামীণ এলাকার আগ্রহী উদ্ধোক্তাগন এধরনের খামার স্থাপন করতে পারছেন না। তাই গ্রামীণ শিল্প পার্কে কোলাহল মুক্ত এক কর্ণারে হাসমুরগী ও গবাদিপশুর জন্য বনিজ্যিকভাবে লাভজনক মিনিখামার উপযোগী নিন্মের চিত্রের মত অবকাঠামো সৃজনকরা যায় ।এর জন্য খুবই সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন হবে ।
ছবি –৩৯: ছবি – প্রস্তাবিত গ্রামীণ শিল্প পার্কের কৃষি জোনে ছোট একটি গরুর খামার

ছবি –৪০: প্রস্তাবিত গ্রামীণ শিল্প পার্কের কৃষি জোনে ছোট একটি মুরগীর খামার

কৃষি নির্ভর শিল্প কর্মসুচী

দেশের ভিতরে নিবিরভাবে অধিক আম ও আনারস উৎপাদনকারী এলাকায় অবস্থিত গ্রামীন শিল্পপার্কে আম ও অনারস প্রক্রিয়াকরন করে অধীক মুল্যসংযোজনকারী দ্রব্যাদি যথা জুস ও জ্যাম তৈরী করার জন্য নিন্মের চিত্রের মত মিনি প্লান্ট স্থাপন করা যেতে পারে ।
ছবি-৪১ : আম ও আনারসের জুস ও ফলের জ্যাম তৈরীর জন্য একটি মিনি প্লান্টের ছবি


গ্রীন হাউজে/ স্বচ্ছ নেট ঘেরা হাউজ ফুলের চাষ

উল্লেখ্য দেশে এখন অধিক মুল্যসংযোজনক্ষম দেশী বিদেশী ফুলের চাষ হচ্ছে। লাভজনক অনেক ফুলের জন্য প্রয়োজন আলো বাতাস নিয়ন্ত্রনক্ষম গ্রীন হাউজ বা নেট হাউজের ।
উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় ইউরোপের মুল্যবান জারবেরা ফুল এখন বাংলাদেশেই চাষ হচ্ছে,জানা যায় জারবেরা ফুলের চাষে এক বিঘা জমি থেকে কোটি টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে ।
ছবি –৪২: অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত রঙ্গীন জারবেরা ফুল

এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ যে ময়মনসিংহের ত্রীশালের গ্রামীণ এলাকায় নেটহাউজে বানিজ্যিক ভিত্তিতে জারবেরা (gerbera)ফুলের চাষ হচ্ছে বলে দেখা যায় ।
ছবি -৪৩: নেট-হাউজে জারবেরা ফুলের আবাদ (ভিতরাঙ্গনের দৃশ্য)

ছবি -৪৪ : ইউরোপিয়ান বাজারে জারবেরা ফুলের খুচরা বিক্রয় মুল্যের একটি নমুনা (সুত্র ফুলের নীচে দেয়া আছে)

এটার খুচরা বাজার দামের নমুনা দেখে যে কেও এর লাভজনক অধিক মুল্যসংযোজন ক্ষমতা সম্পর্কে ধারনা পেতে পারেন।উল্লেখ্য এর খুচরা বাজার দাম অবশ্য সুপারষ্টোর টু স্টোর উঠা নামা করে ব্যপক হারে । তবে এর এক একটি স্টিকের দাম কোন অংশেই বাংলাদেশী মুদ্রায় ২০০ টাকার নীচে নয় । বাংলাদেশের অভিজাত ফুলের বাজারে এই ফুলের একটি স্টিকের দাম ২০টাকা বলে জানা যায় । এই ফুলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট হলো কাটফ্লাওয়ারগুলি ফুলদানীতে অনেক দিন পর্যন্ত তাজা থাকে ।দেশের অর্কিড ও রজনী গন্ধাফুলের রপ্তানী সম্ভাবনার কথা সকলেরই জানা তাই এর কথা আর নাই বা বললাম । তবে অর্কিড ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য দর্শন আর রজনী গন্ধার সুবাস নীতে নিতে না হয় আজকের এই লেখাটির ইতি টানার দিকেই এগিয়ে যাই ।
ছবি-৪৫ : রজনীগন্ধা ও টবে চাষকৃত অর্কিড ফুলের ছবি


তবে এই সমস্ত অধিক মুনাফা অর্জনকারী ফুলকে ইউরোপীয়ান বাজারে রপ্তানী করতে হলে দেশে আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক টেস্টিং সরঞ্জাম ও বিশেযজ্ঞ সম্বলিত একটি পুর্ণাঙ্গ সাইটোসেনিটারী টেষ্টিং লেবরেটরী ও নিন্মের ছবির মত রপ্তানী উপযোগী ফুল প্যকেজিং কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে এবং বিশ্সস্ততার সহিত সাইটোসেনিটারী টেষ্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হবে। এর অন্যথা হলে সাম্প্রতিক সময়ে করোনা মুক্ত( কোভিড১৯) ভুয়া সনদধারী যাত্রী বুঝাই প্লেনের ইটালী হতে দেশে ফেরত আসার মত করুন দশা বরণ করতে হবে।
ছবি-৪৬:সাইটোসেনিটারী টেষ্টিং লেবরেটরী ও রপ্তানী উপযোগী ফুল প্যকেজিং কেন্দ্র

উল্লেখ্য গ্রহনযোগ্য আন্তর্জাতিক মানের সাইটোসেনিটারী টেস্টের কারণে থাইল্যান্ড প্রতি বছর প্রায় কোটি ১০ কোটি ডলার মুল্যের (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮৫০কোটি টাকা ) শুধু অর্কিড জাতীয় ফুলই বিদেশে রপ্তনী করে থাকে এছাড়া অন্য ফুল রপ্তানীতো তাদের আছেই । তাই থাইল্যন্ডের মত আন্তর্জাতিক মানের সাইটোসেনিটারী লেবরেটরী স্থাপন ও পরিচালন করতে পারলে রপ্তানী বাজারে কৃষিখাতে মহাবিপ্লব ঘটে যাবে। গ্রামীণ এলাকাতেই প্রফিটেবল রপ্তানী মুখী কর্মকান্ড শুরু হয়ে যাবে ব্যপক হারে । মানুষ শহরমুখী না হয়ে বরং গ্রামমুখী হবে, তখন তাদের বাসস্থানের বর্ধিত চাহিদা মিটাতে হলে প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টার গুরুত্বপুর্ণ সহায়ক ভুমিকা পালন করবে ।

প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারে আবাসন ও শিল্পায়ন কর্মসুচী বাস্তবায়ন রূপরেখা

উপরের আলোচনায় হরাইজন্টাল বনাম ভার্টিকেল গৃহায়নের বৈপরিত্বের ( Dichotomy) প্রেক্ষাপটে দেশের আবাসন ও খাদ্য শস্যের দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার একটি ধারণাপত্র তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় অধিক হারে গৃহায়ন ও কৃষিভিত্তিক অবকাঠামো সৃজনে প্রস্তাবিত রূপকল্পের সম্ভাবনা, এর অর্থায়ন পক্রিয়া ও সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে দেশের নীতিনির্ধারকসহ সকল সচেতন নাগরিকের চিন্তাভাবনার দোয়ারে প্রাথমিক পর্যায়ে খানিকটা ছোয়া লাগানোর প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে মাত্র।বড় আকারের অর্থ বিনিয়োগের প্রেক্ষিতে প্রস্তবনাটি আপাতত অনেকটা ইউটুপিয়ান মনে হতে পারে। তার পরেও বলব গ্রামীণ এলাকায় যত্র তত্র হরাইজনটাল গৃহায়ন বিস্তৃতি ঘটিয়ে বাড়ীঘর নির্মাণ করা হলে দেশের কৃষি ভুমি গ্রাস কোন মতেই ঠেকানো যাবেনা। অন্যদিকে বর্তমান হারে নাফ নদীর বানের লাহান মানুষের শহরমুখী হয়ে সেখানে জীবনের সব অর্জন দিয়ে হাইরা্ইজ ভবনের চাহিদা ও যোগান বাড়ালে সম্ভাব্য ভুমিকম্পের বিশাল আঘাততো দুরের কথা, বর্তমানে ক্রমবর্ধমানহারে বেড়ে চলা অন্যান্য নাগরিক অসুবিধাসমুহ কোনমতেই এড়ানো সম্ভব হবেনা । ইত্যাকার অবস্থার প্রেক্ষিতে একদিকে যেমন বাপ দাদার ভিটামাটি ছেড়ে প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারে আবাস গড়ার জন্য মানুষকে প্রলুব্ধ কিংবা বাধ্য করা সহজ কর্ম নয় তেমনি নগর জীবনে অভ্যস্ত জনগুষ্ঠিকে গ্রামমুখী করাও একটি বিরাট চ্যালেঞ্জিং ব্যপার বটে।

তার পরেও বলব প্রস্তাবিত রূপকল্পটি বাস্তবায়ন একেবারেই অবাস্তব ও অসম্ভব কোন ব্যাপার নয় ।উল্লেখ্য অনেক উন্নত দেশও বর্তমানে তাদের রুরাল এলাকায় গৃহায়ন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক, ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো সৃজনে কর্মসুচী গ্রহন ও বাস্তবায়ন করে চলেছে।উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় আজ থেকে পাঁচ বছর পুর্বে যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডে অবস্থিত নর্থ ল্যানার্কশায়ারর্কশায়ার কাউন্সিলের পরিকল্পনাবিদগন £২০০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ ব্যয়ে(বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২.১ হাজার কোটি টাকা) ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ভিলেজ সেন্টারে১০৪০ টি নতুন গৃহ নির্মানের অনুমোদন দিয়েছে

সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ব্যপার হলো এই ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের প্রথম প্রস্তাবটি Hamilton-based Banks Property নামক একটি অর্থলগ্নীকারী বেসরকারী বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সেখানকার গ্রামীন এলাকার কমিউনিটি গ্রুপের সাথে ঘনিষ্টভাবে আলাপ আলোচনা ও মতামত জরীপের মাধ্যমে প্রণয়ন করে ল্যানার্কশায়ার কাউন্সিলের কাছে দাখিল করেছিল।
উল্লেখ্য,সেখানে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০০০বাড়ী নির্মাণের লক্ষমাত্রা তাদের রয়েছে। এই ভিলেজ ডেভলপমেন্ট প্রকল্পটি সেখানে সরাসরি ২৫০০জন নির্মাণ শ্রমিকের পুর্ণ কর্মসংস্থানসহ নর্থ ল্যনার্কশায়ার সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকার অর্থনীতিতে সামগ্রীক ভাবে ১ বিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ) অবদান রাখতে পারবে মর্মে বলা হয়েছে যা মোট বিনিয়োগ ব্যয়ের প্রায় পাঁচ গুণ।
ছবি -৪৭ : Hamilton-based Banks Property ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের মাষ্টার প্লান

এ পোষ্টে প্রস্তাবিত গৃহায়ন রূপকল্পটি আপাতদৃষ্টিতে অবাস্তবায়নযোগ্য মনে হলেও সরকারী ও এনজিও পর্যায়ে দেশে বিদেশে প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কর্মকান্ডের সাথে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে এটা একেবারেই অসম্ভব নয় বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আশির দশকের শেষ ভাগে সরকারী উদ্যোগে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলা ভিত্তিক গ্রোথ সেন্টারে আবাসন ও শিল্পপার্কে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচলালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলায় একটি সম্ভাবতা সমীক্ষা পরিচালনা করে । উক্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা স্টাডির সাথে কনসালটেন্ট হিসাবে কিছুটা সংস্লিষ্ট ছিলাম । চান্দিনা এলাকার কর্মসুচীটির বিষয়ে চান্দিনা ও আশেপাশের ক্রস সেকশন অফ পিপলের সাথে ঘনিষ্টভাবে আলাপ আলোচনায় ও খোলামেলা মতবিনিময়ে সকলের অকুণ্ঠ সমর্থন, সহযোগীতা ও প্রকল্প এলাকায় সৃজিত অবকাঠামোতে তাদের আবাসন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় সম্মতি থাকবে বলে প্রতিভাত হয়েছিল । পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন ও উপজেলা পদ্ধতি রহিত হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম আর বেশি দুর আগায়নি। যাহোক, সরকারী ও বেসরকারী যৌথ উদ্যোগে প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টার কর্মসুচীটি বাস্তবায়ীত হতে পারে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও দেশী বিদেশী অর্থায়নের বিষয়ে অন্য একটি পোষ্টে বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছা আছে।

একথা অবশ্য অনস্বীকার্য যে, প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টার ভিত্তিক আবাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডসমৃদ্ধ রূপকল্পটি একসাথে দেশের সকল স্থানে বাস্তবায়ন করা একটি বিশাল ব্যয় বহুল কর্মকন্ড । তাই একে পর্যায়ক্রমে ১০/২০ বছর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তবে গ্রামীণ এলাকায় মোটামোটি ভাবে বহুতল বিশিষ্ট বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ বান্ধব বাড়ী/ভবন/দালানে গৃহায়ন কর্মসূচী এখন থেকেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ অবশ্যই নিতে হবে । অপরিকল্পিতভাবে যত্র তত্র গৃহ নির্মাণ করে ভবিষ্যত প্রজন্মকে ভয়াবহ বিপর্যয়ে নিপতিত হওয়ার অশনিসংকেতগুলি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে এখন থেকেই গণসচেতনতা সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন। আসন্ন বিপর্যয় প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুর্বাহ্নেই গণসচেতনতা সৃজন আমাদের সকলেরই প্রাথমিক দায়ীত্ব ও কর্তব্য।



দীর্ঘ সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে পোষ্টটি পাঠের জন্য ধন্যবাদ

ছবিও তথ্য সুত্র লেখাটির ভিতরে যথাস্থানে লিংক আকারে উল্লেখ করা হয়েছে, সকলের প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা ।

উৎসর্গ :
এ ব্লগের জনপ্রিয় ও গুণী ব্লগার শ্রদ্ধেয় আহমেদ জী এস, ঠাকুরমাহমুদ, খায়রুল আহসান, আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, শায়মা, জুন, বিদ্রোহী ভৃগু,মনিরা সুলতানা, রোকসানা লেইস , কাজী ফাতেমা ছবি, সোহানী, মলাসইলমুইনা,সেলিম আনোয়ার, পুলকঢালী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, মাহমুদুর রহমান সুজন, পদাতিক চৌধুরি,পগলা জগাই, রাজীব নুর, নেওয়াজ আলি, কল্পদ্রুম, জোবাইর, নতুন নকিব, মাহমুদ রহমান (মাহমুদ),মোঃ মাইদুল সরকার, পুলক ঢালী,তারেক ফাহিম, কাওসার চৌধুরী, সুপারডুপার, করুণাধারা,মুক্তা নীল, স্বপ্নের শঙ্খচিল, অন্তরন্তর, মিরোরডডল, সোহানাজোহা,নজসু ও চাঁদগাজী(যিনি বিশেষ একটি অবস্থার প্রেক্ষাপটে ভিন্ন একটি পোষ্ট দিয়ে অনুপ্রাণীত করেছেন) ও কাল্পনিক_ভালবাসাসহ সকল ব্লগার। মাটির ঘর প্রসঙ্গে তাঁদের মুল্যবান লাইক ও গঠনমুলক বিভিন্ন প্রাসঙ্গীক মন্ত্যব্যগুলি এ নিবন্ধটি লেখার বিষয়ে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে। সকলের প্রতি জানাই অন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

মন্তব্য ১০১ টি রেটিং +৩৪/-০

মন্তব্য (১০১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৭:৫৯

সোহানী বলেছেন: ও মাই গড, এইটা কি লিখলেন! কি নেই এখানে.... দেশের সমস্যা, সম্ভাবনা সব কিছুই আছে (নেই শুধু পরশ পাথরের খোঁজ :(( )।

লিখাটি নিয়ে অনেক অনেক কিছু আলোচনার সুযোগ যেমন রয়েছে তেমনি আপনার ভাবনাগুলোর বাস্তবায়নের ও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু শুধু দু:খ কেউ কি একটু পড়বে, কেউ কি ভাববে এ অভাগা দেশ নিয়ে। যারা ভাবার কথা তারাতো সম্পদের পাহাড় গড়ায় ব্যাস্ত এ হাড়ি জিড়জিড়ে কৃষকের দিকে তাকানোর সময় কোথায়?

আমি সব বিষয় নিয়ে কথা বলার মতো জ্ঞান নেই। শুধু এতোটুকু বলি যে মিরাকল হবার কোনই সম্ভাবনা নেই। তাই যা আছে তা দিয়েই চলতে হবে। তবে আমার মতে, যেহেতু জনসংখ্যা সবচেয়ে বড় অভিশাপ তাই এ অভিশাপকেই সবচেয়ে আশীর্বাদ হিসেবে লাগাতে পারি। যেমন চীনের আদলে আমরা ইন্ডাস্ট্রি বেইজড্ ইকোনমি গড়ে তুলতে পারি। প্রচুর ইন্ডাস্ট্রি, শ্রমিকদের জন্য স্বল্প মূল্যের আবাসন, প্রয়োজনীয় রেশন, স্কুল, হাসপাতাল, ডে কেয়ার সহ প্রয়োজনীয় সুবিধা দিয়ে রিমোট এরিয়ায় জোন তৈরী করতে পারি। এতে যেমন কর্ম সংস্থান হবে তেমনি এক্সপোর্ট বাড়াতে পারবো।

কৃষিজমি যেমন কমছে তেমনি কৃষকও মধ্যষত্বভোগীদের কারনে হয়রানীর স্বীকার হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারী পৃষ্ঠপোসকতা খুব দরকার নতুবা আমদানী করে এতো বিশাল লোকবলকে আমরা খা্ওয়াতে পারবো না।

আর সব কিছুর জন্য দরকার সত্যিকারের একজন নেতা ও দেশপ্রেম, আইনের শাসন, দূর্নীতি রোধ...................।

আমরা এতো চাওয়া পারবো কি??????????????

১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:৪৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


সামনের পর্বে আসতেছে পরস পাথর প্রসঙ্গ কথা ।
আপনার মুল্যবান মন্তব্যের বিষয়ে আলোচনার জন্য
আমি আবার আসব এখানে ।
শুভেচ্ছ রইল

২| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:০৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি একই পোষ্টে বাংলাদেশের শহর ও গ্রামীন আবাসন সমস্যা ও তার সমাধা; কৃষি জমি উদ্ধার ও পরিকল্পিত গ্রাম, পরিকল্পিত ইন্ডাষ্ট্রিয়েল পার্ক, পরিকল্পিত কৃষি মিলে একটি বিশাল পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এই ধরণের পরিকল্পনা করলে জাতির সবাই নিজ বাড়ীতে থেকে, পরিবারের সাথে থেকে, আয় করে, শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।

আমাকে আরো ২/১ বার পড়তে হবে পোষ্টটা।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
একটি বিষয় এখনো তুলে ধরা হয়নি
সেটি হলো গ্রামীণ ও শহরের বৈষম্য
মুলক শিক্ষা ব্যবস্থা । এই বৈষম্য
কিভাবে দুর করা যায় সে সম্পর্কে
আপনার মুল্যবান অভিমতটুকু
জানতে আগ্রহী । এটা নিয়ে
একটি পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছা রাখি

৩| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৬

রানা আমান বলেছেন: অসাধারণ লেখা । আবারো পড়বো এখুনি এবং পরেও । প্রিয়তে নিলাম ।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:৫৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



পোষ্ট অসাধারণ হয়েছে শুনে ভাল লাগল
প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

৪| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:২২

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,




তথ্যবহুল বিশাল এই পোস্টটি পড়ছি। শুরুতেই আমার মন্তব্যটি জুড়ে দেয়াতে এই পোস্টের জন্যে একটা অলিখিত দায়িত্ব সম্ভবত এসে যায় আমার। সে কারনেই এখন পর্যন্ত যেটুকু পড়েছি তা থেকে এটা মোটা দাগে নজরে এসেছে যে , বুলেট ট্রেনের ছবির ঠিক নীচের ২টি প্যারা তার পরবর্তী প্যারার পরেই দ্বিতীয় বার এসেছে একত্রে। এতে কলেবর খানিকটা হলেও বেড়ে গেছে।
আপাতত এই ---

১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ভ্রমটা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ । লেখাটির এ পর্যায়ে যখন ছিলাম তখন একটি ফোন কল আসায় মনযোগ বিঘ্নিত হয়ে গিয়েছিল।তারপরেও চোখে ছিল কিছুটা ঘুম ঘুম ভাব । এবারকার মত এডিট করে দিয়েছি । জানিনা আর কত জায়গায় এমনতর ভুল করেছি।
আপনার সুচিন্তিত মতামতের অপেক্ষায় রইলাম ।

৫| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:১৩

নিয়াজ সুমন বলেছেন: এই লেখাটা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসা উচিত। দারুন উপস্থাপনা। আর সুন্দর আগামীর প্রতিচ্ছবি।
অকৃত্রিম ভালোবাসা ....

১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


আপনার মুল্যবান মন্তব্যে অনুপ্রানীত।

আপনার জন্যও রইল শুভেচ্ছা ও ভালবাসা।

৬| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:২৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মুল্যবান মন্তব্যে অনুপ্রানীত।

আপনার জন্যও রইল শুভেচ্ছা ও ভালবাসা।

৭| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:১১

শাহ আজিজ বলেছেন: বিরাট গবেষণা পত্র ।
সময় নিয়ে পড়ব ।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৪৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ধন্যবাদ । সময় নিয়ে পাঠ করে আপনার মুল্যবান মত দিলে খুশী হব।

৮| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৩৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,




পোস্টের মূল কথা একটিই - গৃহায়ন । গৃহায়ন নিয়ে কেন ভাবতে হবে ? সকল ধরনের উৎপাদনমূখি শিল্পতে বাঁচিয়ে রাখতে, সম্প্রসারিত করতে হলে শ্রমিকের প্রয়োজন হবে আর তাদের কর্ম পরিবেশ এবং উৎপাদনে গতিশীলতার স্বার্থেই আসবে গৃহায়নের প্রসঙ্গ।
সে কারনেই আপনার দেয়া তথ্যের আলোকেই বলতে চাই-
জনসংখ্যার গ্রোথ হয়তো কমেছে কিন্তু তাতে কি মোট সমষ্টিগত সংখ্যা কমবে? আগে যদি ১০০ জন মানুষের বার্থরেট ৭% হতো তবে লোক বাড়তো ৭ জন। এখন এই জনসংখ্যা যদি ৫০০ হয় আর বার্থরেট কমে ২%ও হয় তবে মোট লোক বাড়বে ১০ জন।
আমার মনে হয়, বর্তমানের জনসংখ্যার গ্রোথ ১.৩% হলেও তাতে আমাদের আশ্বস্ত হবার কারন নেই । যতো কম করেই বাড়ুক জনসংখ্যা বাড়বেই। কিন্তু ভূমি তো সীমিত ! এটা তো আর বাড়ছেনা।

খাদ্যের গ্রোথ প্যাটার্ণ দেখিয়েছেন। সন্দেহ নেই, সামনের বছরগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরেও আমাদের খাদ্য ঘাটতি হবেনা। কিন্তু এমন আশা নিয়ে বর্তমানের আবাদযোগ্য জমিকে কমিয়ে ফেলাটাও বোকামী হবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কথা মাথায় রেখেই এমনটা ভেবে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

জমির প্রসঙ্গে আপনার দেয়া তথ্যে হোচট খাচ্ছি। তথ্যে বলা হয়েছে দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমান ৮৫.৭৭ লক্ষ হেক্টর অথচ সব মিলিয়ে মোট ফসলি জমির পরিমান দেখানো হয়েছে ১৫৪.৩৮ লক্ষ হেক্টর । আমার বুঝতে কোথাও ভূল হলো কি ? আবাদযোগ্য আর ফসলি জমি কি আলাদা আলাদা কিছু ?

যাই হোক, আসল প্রসঙ্গ কিন্তু গৃহায়ন। গৃহায়নের সাথে সম্পৃক্ত সব উপাদানকেই আপনি তুলে এনেছেন যথেষ্ট পারদর্শিতায়।

মানুষ কেন শহর বা নগরে যায় ?
কাজের জন্যে, রুটি রোজগারের জন্যে। রুটি রোজগারের ধারাবাহিকতা রাখতে তাদের দরকার একটি মাথাগোঁজার ঠাঁই। শহর বা নগরাঞ্চলে যা নিতান্তই অপ্রতুল। তাহলে এদের কোথায় পাঠানো যায় যেখানে এক সাথে রুটি রোজগার ও মাথাগোঁজার ঠাই মিলবে ?
প্রথম মন্তব্যটিতে" সোহানী" তেমন একটা ধারনাই দিয়েছেন -“ চীনের আদলে আমরা ইন্ডাস্ট্রি বেইজড্ ইকোনমি গড়ে তুলতে পারি। প্রচুর ইন্ডাস্ট্রি, শ্রমিকদের জন্য স্বল্প মূল্যের আবাসন, প্রয়োজনীয় রেশন, স্কুল, হাসপাতাল, ডে কেয়ার সহ প্রয়োজনীয় সুবিধা দিয়ে রিমোট এরিয়ায় জোন তৈরী করতে পারি। এতে যেমন কর্ম সংস্থান হবে তেমনি এক্সপোর্ট বাড়াতে পারবো।"

এসব কোথায় হবে ? শহরাঞ্চল এবং গ্রাম মিলিয়ে চাষের জমিকে বাঁচিয়ে। কিন্তু তার আগে যে সমস্ত প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে! এতোদিনে শুধু মাত্র ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরগুলোতেই যে রুটি রোজগার ও কর্মসংস্থান গড়ে তোলা হয়েছে সেই মনোপলি সিষ্টেমটাকে ভাঙতে হবে। অঞ্চল ভেদে মন্ত্রনালয়গুলোকে সরিয়ে নিতে হবে বিভিন্ন শহরে এবং তার চারপাশ ঘিরে থাকা গ্রামগুলোতে সন্নিবেশিত করতে হবে ঐ সংক্রান্ত শিল্প-কৃষি-শিক্ষা ইত্যাদির কর্মসংস্থান প্রকল্প। গুচ্ছ গুচ্ছ সব প্রকল্প। তা হলেই অতি উলম্ব বা মাঝারী উলম্ব গৃহায়ন তেমন একটা প্রয়োজন হবেনা। তিন চার তলা বিল্ডিং হলেই চলবে। আর যদি ভূমিকম্প সহনীয় প্রযুক্তির ব্যয়বহুলতা বহন করতে পারি তাহলে অল্প জায়গাতেই একটি গুচ্ছ শিল্প এলাকাকে এঁটে দেয়া যাবে।
আপনিও দিয়েছেন তেমন একটি রূপরেখা - “গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে । গ্রামকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শহরের উপর চাপ কমাতে হলে গ্রাম থেকে শহরে মানুষের ছুটে আসা কমাতে হবে, শহরের মানুষকে গ্রামে ফেরাতে হবে । রাজধানীসহ বড় বড় শহড় হতে মানুষের চাপ কমাতে হলে বিকেন্দ্রিকরণের কোন বিকল্প নেই। অর্থনৈতিক ,সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডের বিকেন্দ্রিকরন করা গেলে বড় বড় শহর গুলিতে গৃহায়নের জন্য চাপ কমবে। “

আপনার মতো আমিও বলি, ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং ও খুবই ব্যয়বহুল । এই চ্যালেঞ্জ নেবেনা কেউ। সরকার যখন আমলাদের পকেটে চলে যায় তখন কোনও মন্ত্রনালয় এবং দপ্তর আপনি ঢাকা থেকে কোথাও সরাতে পারবেন না। আমলারা বহু যুক্তি দেখিয়ে ( এরশাদের সময়ও একই তেলেসমাতি ঘটিয়েছে তারা ) মন্ত্রীদের দিয়ে এর বিরোধীতা করিয়ে ছাড়বেন। আর কেইবা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছেড়ে দূরে যেতে চাইবে?

দূরাশা ...........................

১৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ধন্যবাদ আবারো একটি ভ্রমের দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য । মোট ফসলি জমির পরিমানটি আসলে হবে ৭৯.৪৭ একর ( এক ফসলি ২২.৫৩+দুই ফসলি ৩৯.১৪+তিন ফসলি ১৭.৬৩+চার ফসলি = ৭৯.৪৭) । এটা আমার একটি টাইপিং এরর । এডিট করে ঠিক করে দিয়েছি ।
তবে কৃষি মন্ত্রনালয়ের সরকারী ওয়েব সাইটে ( পোষ্টে দেয়া লিংক এ গিয়ে দেখতে পারেন তারা মোট ফসলী জমির পরিমান দেখিয়েছে ১৫৪.৩৮ লক্ষ হেকক্টর ,এটা দেখে আমিউ আপনার মত হোচট খেয়েছি ,তাইতো তাদের দেয়া তথ্যগুলিকে আমি রেডলাইট করে রেখেছি পরে খতিয়ে দেখব বলে কিন্তু পরে বিষযটি ভুলে যাই ।
যাহোক, আপনার মন্তব্যের বাকি কথাগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য পরে আবার আসব।

শুভেচ্ছা রইল

৯| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:৫৪

নূর আলম হিরণ বলেছেন: বেশ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছেন। এগুলো বাস্তবায়ন অসম্ভব না, সঠিক পরিকল্পনাকারী নেই এসব বাস্তবায়নের জন্য।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
আসলেই দেশে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
একে কাজে লাগাতে হবে দেশের তৃণমুলের
মানুষদেরকে নিয়ে। তাদের মতামতের
ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা
প্রনয়ন ও বস্তবায়ন করতে হবে ।

শুভেচ্ছা রইল

১০| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৩৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শ্রদ্ধেয় ভাই,

আপনার পোস্ট মানেই অন‍্য স্বাদের। পরিকল্পনা মত নগরায়ন যে কোন সভ্যতার পক্ষেই খুবই কাঙ্খিত।কিন্তু জনসংখ্যার আধিক্য ও আর্থিক স্বচ্ছলতার​ অভাব জনিত কারণে উপমহাদেশের শহরগুলিতে নগরায়ন যেখানে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে সেখানে পরিকল্পিত নগরায়ন কতটা সম্ভব সে বিষয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়।তবে এ বিষয়ে নগর কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে অনেকাংশে সুফল আসতে বাধ‍্য।
এত বিশদ পোস্টের জন্য রেলিস করে পড়ে আবার আসার প্লান আছে।

শুভেচ্ছা আপনাকে।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:০৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ধন্যবাদ সুচিন্তিত মতামতের জন্য ।
আপনি ঠিক কথাই বলেছেন " জনসংখ্যার আধিক্য ও আর্থিক স্বচ্ছলতার​ অভাব জনিত কারণে উপমহাদেশের শহরগুলিতে নগরায়ন যেখানে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে সেখানে পরিকল্পিত নগরায়ন কতটা সম্ভব সে বিষয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়।তবে এ বিষয়ে নগর কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে অনেকাংশে সুফল আসতে বাধ‍্য"।

একথা সত্য যে দেশে বিদ্যমান নগরগুলির কেন্দ্রস্থলে পরিকল্পিত নগরের কোন সুযোগ নেই যেমন পুরাতন ঢাকা , মাঝে মাঝে আগুন লেগে মহল্লার পর পর মহল্লা পুড়ে গেলেও সেখানে কোন পরিবর্তন আসছেনা এবং কোন কালে আসবে বলেও মনে হয়না।
তবে শহর উপকন্ঠে কিছুকিছু পরিকল্পিত নগরায়ন হচ্ছে তবে তা কেবল অতি বিত্তবানদের জন্য । এগুলি দেশের কোন সার্বিক কল্যান বয়ে আনছে বলে মনে হয়না ।বরং ধনী দরিদ্রের মধ্যে আকাশ সম শ্রেনী বৈষম্য সৃজন করছে । অনুৎপাদনশীল খাতে দেশের সাদাকালো টাকা কেন্দ্রীভুত হচ্ছে। অথচ গ্রামীন এলাকায় আবসনের জন্য এমন অবকাঠামো সৃজন করা হলে দেশ কৃষি ও শিল্প দুদিক হতেই এগিয়ে যেতো।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ১৯৯৭ সনে একবার ভরতের পশ্চিম বঙ্গের নদিয়া জেলারশান্তিপুর ও ফুলিয়াতে গিয়েছিলাম ।

নদিয়ার ছোট শহর ফুলিয়া তাঁত শিল্পের কারণে পৃথিবী বিখ্যাত। ফুলিয়ার তাঁতের কাপড়ের ওপর এলাকার অর্থনীতি অনেকটা নির্ভরশীল। শান্তিপুর এর নিকটবর্তী ফুলিয়া একটি পুরোনো জনপদ যেখানে আদি কবি, রামায়ন রচয়িতা কৃত্তিবাস ওঝার জন্ম। ফুলিয়া রসগোল্লার জন্য বিখ্যাত। এখানে রসগোল্লা উৎসব পালিত হয়।আমি যখন সেখানে গিয়েছিলাম তখন মিষ্টির উতসব চলছিল । দেখতে পেয়েছিলাম ফুলিয়ার প্রায় প্রতিটি ঘরে তাঁত । শান্তিপুর ও ফুলিয়া এলাকায় প্রায় ১২ হাজারের বেশি তাঁত রয়েছে। শহরের মোট ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে৩০ হাজার মানুষ এ কাজের সঙ্গে যুক্ত। সেখানকার তাঁত জাত পন্য বিশেষ করে শাড়ী ভারতের বিভিন্ন প্রদেশসহ আমেরিকা, যুক্তরাজ্য , মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডে রপ্তানি হয় আর জাপানে কিমনো তৈরীর জন্য ফুলিয়ার বিশেষ ধরনের সিল্ক জাতীয় তাতের কাপর রপ্তানী হয় বলে জানা গিয়েছিল। সেখানে সমবায়ের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি আধুনিক মানের "হ্যান্ডলুম সেন্টার" নাকি তাদের এই অভুত পুর্ব উন্নয়নের পিছনে ভুমিকা রেখেছে। গ্রামীন জনপদে কুটির শিল্প সহায়ক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও ভৌত অবকাঠামো সৃজন করলে যে কিরকম ষুফল দেয় নদিয়ার ফুলিয়া তার একটি সুন্দর উদাহরন ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

১১| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৩৪

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
পোস্টটি সরকারের বিশেষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দেশ, জাতীর উপকারে আসবে।

অনেক সুন্দর প্ল্যান নষ্ট হয়ে যায় পৃষ্টপোষকতার অভাবে।

একের ভিতর দশ সবই আছে এতে। সুন্দর হোক আগামী, সুন্দর হোক দেশের ভবিষ্যৎ।

ধন্যবাদ।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৩৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

ধন্যবাদ কামনা করি আপনার কথামালা বাস্তবয়িত হোক ।
সরকারী লোকজন তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
লেগেই আছেন কোথায় কি লেখা হচ্ছে তা দেখার জন্য।
হয়ত লেখাটি তাদের কারো নজরে পড়েও যেতে পারে।

শুভেচ্ছা রইল

১২| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৪৩

ফুয়াদের বাপ বলেছেন: বাপরে! অনেক পরিশ্রমী গভেষনাধর্মী লেখা। চোখ বুলিয়ে পড়ে গেলাম পুরোটা। ভালো ভাবে বুঝতে মনোযোগ দিয়ে পরে আবার পড়বো। গৃহায়ন সমস্যা সমাধানে আলোকপাত করতে গিয়ে অনেকগুলো বিষয়ের উজ্জল সম্ভ্যাবনা তুলে ধরেছেন। মা-মাটি-মানুষ নিয়ে চিন্তা করার দেশপ্রেমসমৃদ্ধ মানুষগলো দিন দিন কমে যাচ্ছে। আপনার জন্য দোয়া রইলো যেন আপনার খুরধার এই গভেষনাধর্মী লেখনী কখনো থেমে না যায়।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৪০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ধন্যবাদ অনুপ্রেরনাদায়ী মন্তব্যের জন্য ।
আরো মনযোগ দিয়ে পড়ার পরে আপনার
মুল্যবান মন্তব্য পাব বলে আশা করি।

কামনা করি আপনার দোয়া যেন আল্লাহ
কবুল করেন ।

শুভেচ্ছা রইল

১৩| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্ট টি পড়তে আমার ৩৫ মিনিট সময় লাগল।
৩৫ মিনিট এ আমি উপলব্দি করলাম আমি গত দশ বছরে এরকম একটি পোষ্ট লিখতে পারি নাই।
কত সুন্দর করে, কত সময় নিয়ে, কত পরিশ্রম করে লিখেছেন তা পোষ্ট টি পড়লেই বুঝা যায়। এই পোস্ট আমাকে মুগ্ধ করেছে। এত সুন্দর বিচার বিশ্লেষন!
এই পোষ্ট উতসর্গ তালিকায় আমার নাম দেখে আমার চোখে পানি চলে এসেছে।

আপনি ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
আমার এ বিশ্বাস আবার ফিরে এসেছে লিখে লিখে দুনিয়াটা বদলে ফেলা সম্ভব।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:০২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার মুল্যবান প্রায় ৩৫মিনিট লাগিয়ে এই পোষ্টের লেখা পাঠ করেছেন শুনে
আমার পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে বলে মনে হলো।অনেকেই আমাকে বলেন বড় কলেবরের
পোষ্টগুলিকে পর্বাকারে প্রকাশের জন্য।কিন্ত আমি দেখেছি পর্বাকারে প্রকাশ করা
আমার পোষ্টগুলির পরবর্তী পর্বগুলি পাঠক সংখ্যা আর প্রথমটির মত থাকেনা,
অথচ পরের পর্বগুলিতেই থাকে পোষ্টের মুল কথাগুলি। তাই আমার মনে হয় যা
বলতে চাই তা এক পর্বেই দিয়ে দিব । যদি ভাল লেখতে পারি তবে পোষ্টের কলেবর
বড় হলেও ব্লগের গুণী ব্লগারগন কষ্ট করে পাঠ করবেন।

আপনি ঠিক্বই বিশ্বাস করেছেন লিখে লিখে দুনিয়াটা বদলে ফেলা সম্ভব।
আপনার মুল্যবান জীবনদর্শী লেখাতেও সমাজ পরিবর্তনের অনেক মুল্যবান
দিক নির্দেশনা সচিত্র উঠে আসে।

আপনিও ভাল থাকুন এ দোয়া রইল ।

১৪| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৩৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন: মোবাইলে এত বড় পোষ্ট পড়তে সমস্যা হয় তবুও পড়লাম। তবে আরো পড়তে হবে। যারা দেশ পরিচালনা করে তাদের এমন চিন্তা মাথায় আসুক।
উৎসর্গীকৃত নামের মাঝে আমার নাম দেখে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আপনাকে । আমি অনেক নতুন একজন এই বগ্লে । তবুও আপনি দশজনের একজন করেছেন । অকৃত্রিম ভালোবাসা আপনাকে ।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


আপনার ভালবাসা সাদরে গৃহীত ।
আমার নীজের লেখালেখির চাপে পরে
অনেকের মুল্যবানলেখা অনেক সময় পাঠ
করা হয়ে উঠেনা ।

ব্লগের লেখা মোবাইলে পড়ে তেমন তৃপ্তি পাওয়া
যায়না ।তবু অনেক সময় মোবাইলে পড়তে হয়।
তবে লেপটপ বা নোটবুকে পড়লে অনেকটা
পুষিয়ে নেয়া যায় ।

শুভেচ্ছা রইল

১৫| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:০৯

নতুন নকিব বলেছেন:



অনেক খাটুনির পরেই কেবল এমন একটি পোস্ট আলোর মুখ দেখতে পারে। অনেক অনেক কল্যাণের দুআ আপনার এবং আপনার পরিবারের সকলের জন্য।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ।
পোষ্টটি সাজাতে একটু পরিশ্রমই করতে হয়েছে।
আমাদের সকলের মঙ্গলার্থে দোয়া করার জন্য
কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

১৬| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:১৫

নতুন নকিব বলেছেন:



বলা হয়নি বলে আবারও এলাম, লাইকসহ পোস্ট কিন্তু প্রিয়তে নিয়ে রেখেছি। আর গুরুত্বপূর্ণ এই সুদীর্ঘ পোস্টটির সমাপনীতে এসে গুণীজনদের সাথে আমাকেও স্মরণ করেছেন বলে সবিশেষ কৃতজ্ঞতা।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:০৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
আপনি গুণীজনদের কাতারে সব সময়
ছিলেন এবং থাকবেন । আপনার ইসলামী
বিষয়াবলী নিয়ে পোষ্টগুলি জানার পরিধি
বাড়ায় ।
শুভেচ্ছা রইল

১৭| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:৫৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ডঃ এম এ আলী ভাই,
৮০’র দশকের কথা বলছি আমাদের গ্রাম অঞ্চলের প্রচুর লোকজন প্রবাসে থাকেন ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত - প্রবাস থেকে দেশে আসার সময় আর কিছু আনুক আর না আনুক একটি রঙিন টিভি ও ভিডিও সেট নিয়ে আসতেন অথবা বিশালাকার স্টেরিও সেট। হয়তো বাড়ি ঘরের অবস্থা দুর্বিষহ, অনেকে ফসলের জমি বিক্রি করে প্রবাসে গেছেন তারা প্রবাসে গিয়ে ফসলি জমি কিনতে পারতেন, গাভী কিনতে পারতেন। অর্থাৎ অন্ন - ব্স্ত্র - বাসস্থান - শিক্ষা - চিকিৎসার নূন্যতম ব্যবস্থা না করে সৌখিনতা নিয়ে আসতেন। ছুটিশেষে আবার প্রবাসে ফিরে যাবার সময়ে সেকেন্ডহ্যান্ড দরে সেই টিভি, ভিডিও স্টেরিও সেট বিক্রি করে ধার দেনা ঋণ করে আবার যেই কে সেই প্রবাস জীবন!

- আমি কখনো সৌখিনতাতে বাধা নই কিন্তু মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো নূন্যতম পূরণ করার অবস্থা থাকতে হবে। পূবাঞ্চলে শততলা ভবনে দেশের মৌলিক চাহিদা কতোটুকু পূরণ হবে জানিনা - জানিনা সৌখিনতাই বা কতোটুকু হবে। কারণ দিনশেষে জানা যায় বিলিয়ন ডলার অনাদায়ী ঋণ

আমি বিস্তারিত মন্তব্য নিয়ে আবার আসবো। অত্যন্ত মূল্যবান লেখা আমাদের উপহার দিয়েছেন আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন - নিরাপদ থাকুন।



১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:০৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ধন্যবাদ মুল্যবান মন্তব্য রেখে যাওয়ার জন্য ।
আমার জানা মতে আপনাদের এলাকার অনেক মানুষ এখন আমিরিকা , কানাডা , অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপ প্রবাসী ।
তাঁদেরকে প্রলুব্ধ করতে পারলে তাঁরা গ্রামীণ এলাকায় কৃষি , শিল্প ও গৃহায়নখাতে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন ।
তাঁদের জন্য উপযুক্ত প্রকল্প প্রস্তাবনা ও বিনিয়োগকৃত অর্থের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে ।

ব্যাংক ঋণ খেলাপী বন্ধ করতে না পারলে পুরা দেশ দেওলিয়া হয়ে যাবে,ঋণ খেলাপীরা বিদেশে পারি জমাবে ।
এই অবস্থার প্রতিকার হতে পারে উৎপাদনশীল খাতের ভৌত অবকাঠামোর বিনিয়োগ খাতে তাদের বৈধ অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে । যেন তারা বিদেশে পারি জমালেও উৎপাদনশীল খাতের ভৌত অবকাঠামো দেশেই থাকে ।

আপনার বিস্তারিত মুল্যবান মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম
শুভেচ্ছা রইল




১৮| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৪৮

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মানুষের মৌলিক দাবী অন্যতম বাসস্থান।

একটি পরিপূর্ণ গোছানো, তথ্যভিত্তিক এবং দিকনির্দেশনা মূলক প্রস্তাবপত্র।
যা অনুসরন করলে বাংলাদেশের গ্রাম গুলো হয়ে উঠবে দর্শনীয়, সুবিধাসমৃদ্ধ, পরিবেশ বান্ধব আদর্শগ্রাম।

সরকার যদিবা নাও এগিয়ে আসে বেসরকারী পর্যায়ে কি এটাকে দারুন ভাবে এগিয়ে নেয়া যায় না?
হ্যামিলটন বেইজড ব্যাংক প্রোপার্টিজের মতো দেশীয় উদ্যোক্তার উদ্যোগে!

আহা! অমিত সম্ভাবনার দেশ অসীম সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে, স্রেফ অপরাজনীতির কারণে।
দৃষ্টিভঙ্গি আর দূরদর্শীতার অভাবে।
এমন পরিকল্পনা করার কথা তথাকথিত পরিকল্পনা কমিশনের।
তারা কি ঘাস খেয়ে বেতন নেয় জানি না? জবাব দিহীতা কার কোথায়? কে জানে?
অনন্ত বাইরের চিন্তাকে গ্রহণ করার মতো সুযোগ টুকুতো রাখতে পারে।

স্মৃতি স্মারক হিসেবে প্রিয়তে ।
উৎসর্গে অনন্য গুনিজনদের পাশে অধমকে স্মরনে রাখায় কৃতজ্ঞতা।
অনেক অনেক শুভকামনা

১৬ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৭:১৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ধন্যবাদ মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ।
গৃহায়ন সমস্যা সমাধানে সরকার যা করছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য । আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের জন্য গ্রামীন এলাকায় কিছু গৃহ নির্মান করছে । তবে নগরাঞ্চলে গৃহায়নের জন্য যা করছে তা মুলত দেশে ধনী দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্যের মাত্রাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যার প্রভাব কোন দিন কাটিয়ে উঠা যাবেনা । উত্তরায় পানির দামে বরাদ্ধ দেয়া পাঁচ কাঠার একটি প্লটের জমির দাম এখন ১৫কোটি দিয়ে শুরু করা হয় বলেজানা যায় যা দিয়ে গ্রামীন এলাকায় ছোট একটা গ্রামের অর্ধেকটা কেনা যায়।

অপর দিকে বেসরকারী পর্যায়েও গ্রামীণ গৃহায়নের তেমন কোন উদ্যোগ নেই । আপনি ঠিক প্রশ্নটিই রেখেছেন সরকার যদিবা নাও এগিয়ে আসে বেসরকারী পর্যায়ে কি এটাকে দারুন ভাবে এগিয়ে নেয়া যায় না?হ্যামিলটন বেইজড ব্যাংক প্রোপার্টিজের মতো দেশীয় উদ্যোক্তার উদ্যোগে!

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে রিয়েল এস্টেট সেক্টর বর্তমানে বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্ষেত্র। নগরায়নের হার বাংলাদেশে এখন বার্ষিক ১০% এর মত । বাংলাদেশের প্রায় ৩৫% মানুষ এখন শহরাঞ্চলে বাস করছেন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০% বাস করবে (সুত্র : Singha D., 2001, Social Intermediation for the Urban Poor in Bangladesh, DFID Regional Livelihoods Workshop: Reaching the Poor in Asia, May 08-10. ) । রিয়েল এস্টেট এবং হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, বিকাশকারী এবং বিল্ডারদের একমাত্র সংগঠন। এটিতে প্রায় হাজারখানেক নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রিয়েল এস্টেট এজেন্টস ডেভেলপার ও বিল্ডার্স রয়েছে ।এই খাতে বছরে প্রায় ৫০০০হাজার কোটি টাকার মত ব্যবসা হয় । এদের মধ্য হ্যামিলটন বেইজড ব্যাংক প্রোপার্টিজের মতো দেশীয় উদ্যোক্তা বের করা যেতে পারে । তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারী নির্দেশনা ,আইন ও প্রনোদনা এবং গ্রামীণ এলাকায় গৃহায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করা ।উল্লেখ্য যে বর্তমানে প্রবাসী রেমিটেন্সের উপর নির্ভর করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ন প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই দেশের গ্রামীন এলাকার প্রবাসীদের অর্থ । এই অর্থের বিপরীতে একদিকে যেমন ইস্যু করা হয় দেশে লোকাল কারেন্সি তেমনি দেশের আমদানী ব্যয় মিটানোর নিয়ামক হিসাবেও ব্যবহৃত হয় । আমদানীকৃত দ্রব্য কি কি খাতে ব্যবহৃত হয় তা আপনার বিলক্ষন জানার কথা । এমতাবস্থায় যদি নিয়ম করা হয় যে রেমিটেন্সের একটা বড় অংশই নির্ধারিত থাকবে গ্রামীন উন্নয়ন ,শিল্পায়ন ও গৃহায়নের জন্য ,এর বাইরে রেমিটেন্সের অর্থ ব্যয় করা যাবেনা, তাহলে বেইজড ব্যাংক প্রোপার্টিজের মতো দেশীয় অর্থ লগ্নীকারী প্রতিষ্টান ও বিল্ডার্স পাওয়া কোন কঠিন কাজ হবেনা ।
বিষয়টি নিয়ে পরে আরো বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল



১৯| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৫২

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: এক নজর দেখে নিলাম। পোস্ট প্রিয়তে রেখে দিলাম সময় নিয়ে পড়তে হবে। ঢাকা মহানগরীতে মাঝারি মানের ভূমিকম্প হলেও ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হওয়ার আশংকা। বড় মাত্রার হলে সঙ্কটাপন্ন অবস্থা হবে । মূলত বিল্ডিং কোড না মানাতে এ অবস্থা। তাছাড়ার নির্মান সামগ্রী নিম্নমান হওয়া ত্রুটিপূর্ণ নক্সাও এর জন্য দায়ী । আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করে । বড় আকারের কোন ভূমিকম্প যেন না হয় । দারুন পোস্ট । অতী্‌ব গুরুত্বপূর্ণ । টেকসই উন্নয়নের জন্য টেকসই পরিকল্পনা পূর্বশর্ত। আর প্রয়োজন পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন সততার চর্চা ছাড়া তা অসম্ভব ।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



পোষ্টটি প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
যতার্থই বলেছেন ঢাকা মহানগরীতে মাঝারি মানের ভূমিকম্প হলেও
ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হওয়ার আশংকা। বড় মাত্রার হলে সঙ্কটাপন্ন অবস্থা হবে

ভুমিকম্প নিয়ে আপনার বলা কথাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে আমার পোষ্টে
তুলে ধরেছি।

প্রাজ্ঞতার সহিত প্রকল্প প্রনয়ন এবং দক্ষতা
ও সততার সহিত বাস্তবায়ন করা হলে সুফল
পাওয়া যাবেই যাবে ।

শুভেচ্ছা রইল

২০| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শ্রদ্ধেয় ভাই,

মনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ব্লগিং করছি।জোর করে চেষ্টা করছি মনটাকে সচল রাখার। এতদিন দূরে এখানে ওখানে করোনা আক্রান্তের খবর পেয়ে এসেছি।কিন্তু আজ সকালে পরিচিত একজন যার সঙ্গে বাজারে প্রায়ই​ কথাবার্তা হতো, মৃত্যুর খবর পেয়ে জীবনটা যেন থমকে গেছে।পেশায় শিক্ষক। চুয়াল্লিশ বছর বয়স।‌বারবার মুখটা সামনে ভেসে আসছে।
মনের বিপরীতে গিয়ে জোর করে ব্লগিং করছি। আপনার প্রতিমন্তব্যটি ভীষণ ভালো হয়েছে। আবার ভারতে এলে বলতাম আমাদের একটুকরো ক্ষুদ্র কলকাতা মানে যত্রতত্র জংলি নগরায়নের​ বারাসাতকে দেখার কথা। কিন্তু জানিনা করোনা আমাদের সেই সুযোগ দেবে কিনা। এখনতো শুনছি,ড্রপলেটস নয়,করোনার ভাইরাস বাতাসে ছড়ায়। ব‍্যার্থ হু নাকি সেটা মেনে নিয়েছে। ভয়ঙ্কর অবস্থা....
শুভেচ্ছা নিয়েন শ্রদ্ধেয় ভাই।



১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আবার এসে কথা বলায় খুশী হলাম ।
মনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ব্লগিং করছেন শুনে ব্যতিথ হলাম । তবে জোর করে মনটাকে সচল রাখার চেষ্টা দেখে ভাল লাগছে ।
পেশায় শিক্ষক পরিচিত জনের করোনায় মৃত্যুর খবর ব্যথিত করবেই , তার মৃত্যুতে সমব্যদনা জানাই । দিন কয়েক আগে
আমার ছোট মামা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেছেন ।করোনায় মৃত নিকটাত্মীয় ও পরিচিত জনের মৃত্যু কতটা বিষাদময় তা আমি বুজি ।

একটুকরো ক্ষুদ্র কলকাতা মানে যত্রতত্র জংলি নগরায়নের​ বারাসাতকে দেখার জন্য আমন্ত্রনের কথায় আপ্লুত হলাম ।
তবে বারাসতে জংলী নগরায়নের কথা শুনে খারাপ লাগল।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যে ক'জন বাঙালি বিদ্রোহ করে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন তীতুমীর। সমর শক্তি ছাড়া মানসিক শক্তির দ্বারা বিদ্রোহ করা বা আন্দোলন করা যে সম্ভব তিনি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। নারিকেল বাড়িয়ায় তীতুমীরের ঐতিহ্যমন্ডিত বাঁশের কেল্লার ইতিহাস খ্যাত স্থানের সুন্দর প্রকৃতিক লিলাভুমি আর সবুজ বনবিছালির প্রান্তর নিয়ে বিস্তৃত এককালের বারাসাত কেন জংলী নগর হতে যাবে তা ভাবতেই অবাক লাগে ।

সেখানে সবুজ বনানীর পাশে রয়েছে শ্রী শ্রী জগদাশ্রম

আর রয়েছে তারা পীঠে কালী মন্দীর ।সেখনে দীপাবলী উৎসবে আলোর ছটায় দূর হয়ে যায় সকল অন্ধকার আর গ্লানি, দীপাবলির অন্যতম পীঠস্থান বারাসাত অঞ্চল, সেরার সেরা সব পূজ মন্ডপ ছড়িয়ে আছে সারা বারাসাতের বিবিধ এলাকায়, তাই বারাসাতে খুঁজে পাওয়া বাংলার ঐতিহ্য ও রূপ । এমনসুন্দর স্থানের অমন্ত্রন কি উপেক্ষা করা যায় । করোনার ভয়ংকর দিনগুলি পার হয়ে গেলে নিশ্চয়ই যাব বারাসাতে।এমনিতেও ৯৭ এ স্টেট ডেলিগেশনে গিয়ে অর্ধেকটা ভারত ঘুরে এসেছি। স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে সেখানকার সরকারী অভ্যর্থনা ও যে সকল জায়গায় গিয়েছিলাম সেখানকার মানুষের আন্তরিক আথিথেয়তা।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

২১| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৫৭

সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: যত যাই বলেন, সবার আগে দরকার দক্ষ শাসক, সু শাসক, সুজ্ঞানী শাসক। তার পরে বাকী সব।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:১৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ধন্যবাদ । কামনা করি তবে তাই হোক
শুভেচ্ছা রইল

২২| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৩৭

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অসাধারণ পোস্টটি দু কিস্তিতে পড়লাম।
এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়,আপনার পরিশ্রমী পোস্টগুলি বাংলা ভাষার তথ্যভান্ডারকে সমৃদ্ধ করছে।
শুভ কামনা জানবেন আলী ভাই।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় লিটন ভাই ।
পোষ্টটি অসাধরণ অনুভুত হওয়ায় আমি অনুপ্রানীত ।
আমার পোস্টগুলি বাংলা ভাষার তথ্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করছে
শুনে ভাল লাগছে ।

আপনার মুল্যবান পোষ্টগুলিও এ ব্লগ ও বাংলা ভাষা সাহিত্যের জন্য
অমুল্য সম্পদ হিসাবে পরিগনিত ।

শুভেচ্ছা রইল


২৩| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:১৪

মা.হাসান বলেছেন: জন সংখ্যা নিয়ন্ত্রনে সরকার অনেক সফল। আগে মৃত্যুহার বেশি ছিলো, জন্ম হারও বেশি ছিলো। এখন মৃত্যু হার কমেছে, জন্ম হার তার চেয়ে অনেক কমেছে। শ্রমিক শ্রেনী (যেমন গার্মেন্ট শ্রমিক) কঠিন অবস্থার মধ্যে দিন যাপন করছে। এদের জন্য সন্তান জন্ম দান করাটা বিলাসিতা হয়ে যাচ্ছে। কিছু দিন পরে বাংলাদেশ নেগেটিভ জন্ম হারের দেশের মধ্যে চলে আসলে অবাক হবো না।

মোট ফসলি জমির পরিমানটা মনে হয় ঠিক নেই, সেচকৃত জমিতো আবাদ যোগ্য জমির মধ্যেই পড়ার কথা, কাজেই দুটা যোগ হবার কথা না।

অন্য দেশের মডেল আমাদের দেশে পুরোপুরি ফলো করা যাবে না, আমাদের আবহাওয়া এবং প্রকৃতি অনুসারে অ্যাডাপ্টেশন করতে হবে।

কুড়িগ্রাম, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, ভোলা- এসব বন্যা প্রবন/নদী ভাঙন এলাকা। এখানকার জন্য ভিন্ন স্ট্র্যাটেজি দরকার। উপকুলীয় এলাকায় জলোচ্ছাসের ভয়। সেখানকার জন্য ভিন্ন স্ট্র্যাটেজি। আবার সিলেট এলাকায় খুব শক্ত মাটি। কিন্তু ভূমিকম্পের ভয়। ওখানকার জন্য আলাদা স্ট্র্যাটেজি দরকার। করে কে?

আবাসান মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। আপনার অতীতে কিছু পোস্টে অনেক প্রয়োজনীয় ভালো কিছু দিক নির্দেশনা ছিলো, এর মধ্যে কিছু সরকার বাস্তবায়নও করেছে। ক্ষমতাসীনদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এই কামনা করি।
আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনি যতার্থই বলেছেন "কিছু দিন পরে বাংলাদেশ নেগেটিভ জন্ম হারের দেশের মধ্যে চলে আসলে অবাক হবো না"।
অভাবের কারণেই হোক আর স্বাচ্ছন্দময় একটি ছোট পরিবারের জন্য সমাজের সকল স্তরের শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্য অনুপরিবারের জন্য সচেতনতা ও কার্য পন্থা অবলম্বন করতে দেখা যায় তাতে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই নিগেটিভ
জন্ম হারেরদেশে পরিনত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেয়া যায়না ।

আমার পোষ্টের ৪ নং ছবিতে দেখানো মোট ফসলি জমির পরিমানটা মনে হয় ঠিক নেই, বিষয়টি আমার কাছেও তাই মনে হয় ।
নীচের লিংকে ক্লিক করে দেখতে পারবেন যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০১৭ অনুসারে কৃষি মন্ত্রনালয়ের সরকারী ওয়েব সাইটে মোট ফসলী জমির পরিমান দেখানো হয়েছে ১৫৪.৩৮লক্ষ হেক্টর । দেশের দুটি গুরুত্বপুর্ণ অফিসের অফিসিয়াল তথ্যভান্ডারে থাকা তথ্য নিয়ে আমিউ দ্ধিধান্বিত ছিলাম । তাইতো তাদের তথ্যগুলিকে আমি লাল কালীতে হাইলাইট করে রেখেছি বিষয়টি পরে খতিয়ে দেখব বলে ।
বিবিএস প্রণীত কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০১৭ অনুসারে এক নজরে কৃষি পরিসংখ্যান

"সেচকৃত জমিতো আবাদ যোগ্য জমির মধ্যেই পড়ার কথা, কাজেই দুটা যোগ হবার কথা না।" আপনার এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলতে চাই যে মোট আবাদ যোগ্য ৮৫.৭৭ লক্ষ হেক্টর জমির মধ্যে ৭৪.৪৮ লক্ষ হেক্টর জমি হলো সেচকৃত জমি । এটা মোট জমির মধ্যে যুক্ত হয়নি । তবে কৃষি মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইটে মোট জমির পরিমান কিভাবে ১৫৪.৩৮ লক্ষ হেক্টর দেখানো হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয় ।
বিষয়টি নিয়ে কৃষি মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি তাদের গোচরীভুত করার আশা রাখি। উল্লেখ্য লেখালেখির সময় সরকারী অফিসিয়াল ওয়েব পেইজে থাকা অনেক ভুল তথ্য তাদের গোচরীভুত করে সংশোধনের উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রেই আমি নিয়ে থাকি ।

২৪| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: আমার মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

পোষ্ট বড় হলে সমস্যা নাই। আপনার পোষ্ট পড়ে কিছু জানা যায়। শেখা যায়। এরকম পোষ্ট পড়তে কোনো সমস্যা নাই।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:৩০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

ধন্যবাদ রাজিব নুর ভাই ।
শুনে খুশী হলাম
শুভেচ্ছা রইল

২৫| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:০৫

কল্পদ্রুম বলেছেন: প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারের পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে ভালো লেগেছে।একসময় বাংলাদেশকে এই পথেই হাঁটতে হবে বলে আমার মনে হয়।শহরকে পুনরায় সাজানো কঠিন।খরুচে ব্যাপারও বটে।সেই তুলনায় গ্রামগুলো নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অধিক বুদ্ধিমানের কাজ হবে।আমার মনে হয়,ভবিষ্যতে সরকারিভাবে যদি উদ্যোগ না নেওয়া হয় তবে বেসরকারিভাবে গ্রামকেন্দ্রিক ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল এরিয়া গড়ে উঠবে।এক্ষেত্রে সরকারিভাবে যত দ্রুত এগিয়ে আসবে তত দেশের জন্য মঙ্গল।শেষে উৎসর্গ অংশের জন্য কৃতজ্ঞতা রইলো।আর এরকম চমৎকার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারের পুরো ব্যাপারটা আপনার
কাছে ভালো লেগেছে শুনে খুশী হলাম ।

গ্রাম গুলিকে নিয়ে পরিকল্পনার সময় এসেছে, আশা করি দেশ বিদেশে
অবস্থানরত সকল বিজ্ঞ পরকল্পনাবিদদের সুচিন্তিত পরিকল্পনা প্রস্তাবনা
নিয়েএগিয়ে আসতে হবে ।

শুভেচ্ছা রইল

২৬| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৩১

জোবাইর বলেছেন: পাঠকের জন্য লেখা অনেকেই লিখতে পারে, কিন্তু লেখকদের জন্য লেখা সবাই লিখতে পারে না। আপনার এই লেখাটি পাঠক ও লেখক সবার কাজে আসবে। লেখায় ++ এবং প্রিয়তে রাখলাম। ভবিষ্যতে আমার নিজের লেখার জন্যও হয়তো রেফারেন্স হিসাবে প্রয়োজন হবে।

আপনার এত গুরুত্বপূর্ণ এই লেখাটি আরেকটু দেরি হলে আমার চোখেই পড়তো না। এই লেখাটি স্টিকি না হওয়ায় খুব মর্মাহত হলাম। কোন লেখাটি স্টিকি হবে এবং কোন লেখাটি নির্বাচিত পোস্ট হবে ব্লগে এ ধরনের কোনো নীতিমালা না থাকায় সবকিছু ব্যক্তি বিশেষের পছন্দের ওপর নির্ভর করে। এটি খুবই দুঃখজনক!

আপনার সুচিন্তিত ও তথ্যসমৃদ্ধ এই পোস্টটি মূলতঃ বাংলাদেশের আবাসন ও আবাসিক সমস্যা নিয়ে হলেও আপনি এই সমস্যার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যান্য বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তাই এই বিষয়ে এটি একটি পরিপূর্ণ লেখা। আমরা পুরো জাতিটাই চিন্তা-ভাবনায় নেতিবাচক। এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ দেশের যে কোনো সমস্যায় সমাধানের চিন্তা না করে আগে থেকেই হাত-পা তুলে বলতে থাকে 'এ দেশ রসাতলে গেছে, এ দেশে কিছু হবে না।' আবার যারা সমাধানের কথা বলেন সেখানেও গদবাঁধা কিছু কথাবার্তা ছাড়া নিজের চিন্তাপ্রসূত পরিকল্পিত কোন বিষয়বস্তু থাকে না। আপনি অনেক তথ্য ও রেফারেন্স সংগ্রহ করে একটি পরিকল্পিত পূর্ণ সমাধান তুলে ধরেছেন।

আপনার লেখায় এ দেশে শত প্রতিকুলতার মাঝেও যে সমস্যার সমাধান সম্ভব তা ফুটিয়ে তুলেছেন। বঙ্গোপসাগরে হাজার হাজার বর্গকিলোমিটারের চর জাগছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে কমে আসছে - এই ইতিবাচক আশা জাগানিয়া তথ্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরে সময় নিয়ে আরো গভীরভাবে আপনার লেখাটি পড়তে হবে। অনেক পরিশ্রম ও সময় নিয়ে লেখা পোস্ট ও উৎসর্গের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করছি। শুভেচ্ছা রইলো, ভালো থাকুন।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ধন্যবাদ মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ।
নিবন্ধধর্মী লেখাগুলি সাধারন পাঠকদের তুলনায় লেখকগনই একটু বেশী মনযোগ দিয়ে পাঠ করেন , সেটি মাথায় রেখেই লেখাটির কাঠামো বিন্যাস করা হয়েছে । লেখাটি প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

লেখাটিকে স্টিকি করার জন্য আপনার মতআমত তুলে ধরেছেন দেখে ভাল লাগল ,তবে কোন লেখাকে স্টিকি করার বিষয় একান্তই সামুর বিজ্ঞ এডমিনদের ব্যপার।

আপনি ঠিকই বলেছেন এই পোস্টটি মূলতঃ বাংলাদেশের আবাসন ও আবাসিক সমস্যা নিয়ে হলেও আমি এই সমস্যার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যান্য বিষয়গুলোও তুলে ধরেছি ।

পরে সময় নিয়ে আরো গভীরভাবে এই লেখাটি পাঠের কথা শুনে খুশী হলাম ।

শুভেচ্ছা রইলো আপনিও ভাল থাকুন।

২৭| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:২৯

অন্তরন্তর বলেছেন: শ্রদ্ধেয় আলী ভাই এই পোস্ট সরকারের দেখা দরকার। আপনি যে পরশপাথর এর কথা বলেছেন আগের পোস্টএ আপনার বেশীরভাগ পোস্ট সেই পরশপাথর বলেই আমি মনে করি। আপনার পোস্ট পড়লে বুঝা যায় কত খাটুনীর পর এমন লিখা আসে। অনেক ব্লগার কমেন্ট করে অনেক কিছু বলেছেন তাই আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আর কিছু যোগ করতে পারছি না। তবে সরকার নজর দেক আপনার পোষ্টে এটা কাম্য। আমাদের সরকারে যে মানুষগুলো কাজ করে তারা কি কাজের উপযুক্ত আমি ভেবে পাই না। সৃষ্টিকর্তা আপনার মঙ্গল করুন।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:২২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


প্রিয় অন্তরন্তর ,আপনার কথামালায় আমি আপ্লুত
ও একই সাথে অনুপ্রানীত ।

দোয়া রইল সৃষ্টিকর্তা আপনারো মঙ্গল করুন।

২৮| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:২৯

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: স্যালুট আপনাকে, এত সুন্দর গবেষনামূলক পোস্ট। মাশা,আল্লাহ। দেশ নীতিনির্ধারকদের চোখে যেন পড়ে লেখাটি।

তাতশিল্প নিয়ে আপনার লেখার বিষয়ের প্রতিফলন হয়েছে জেনে খুবই ভালো লাগলো

আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দিন

১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



অনেক ব্যস্ততার মাঝেও এসে দেখে মুল্যবান
মন্তব্য রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

কামনা করি আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করুন ।

শুভেচ্ছা রইল

২৯| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:৩৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রতিমন্তব্যে আবার আসা শ্রদ্ধেয় ভাই। বেশ কয়েকবছর আগের কৌতুহলবশত মসলন্দপুর স্টেশনে​ নেমে অটো নিয়ে তিতুমীরের গ্রামে গেছিলাম।মসলন্দপুর- তেতুলিয়া রোড থেকে বেশ কিছুটা ভিতরে ঢুকতে হয় নারকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার​ স্থানটিতে যাওয়ার জন্য।কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওখানে কোনরকম ঐতিহাসিক চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। কয়েকজন গ্রামবাসীরা আঙ্গুল দিয়ে স্থানটিকে বাঁশেরকেল্লা হিসেবে নির্দেশ করলেও চারিদিকে হাঁটুসমান পাটক্ষেতে পরিপূর্ণ। নিতান্ত হতাশাব্যঞ্জক হয় বাঁশেরকেল্লা ন্যূনতম স্মারক দেখতে না পেয়ে সেদিন বাড়িতে চলে আসি।

তবে কথা বলে যেটুকু বুঝলাম গ্রামটি আজও শিয়া সম্প্রদায় অধ্যুষিত একটি গ্রাম।শিক্ষাদীক্ষায় গ্রাম কি আজও সেই​ মধ্যযুগীয় আমলেই আছে।আর প্রপার বারাসাত থেকে নারকেলবেরিয়ার দূরত্ব কমসেকম 45 কিমি তো হবেই।



শুভেচ্ছা নিয়েন শ্রদ্ধেয় ভাই।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:২৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


আবার এসে কথা বলায় খুশী হলাম ।
তিতুমীরের স্মুতি বিজরিত জায়গাটি
অবহেলায় পড়ে থাকার কথা শুনে
ব্যথিত হলাম ।

শুভেচ্ছা রইল

৩০| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:০৩

শায়মা বলেছেন: ক্ষ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফিরে পরশ-পাথর।
মাথায় বৃহৎ জটা ধূলায় কাদায় কটা,
মলিন ছায়ার মত ক্ষীণকলেবর।
ওষ্ঠে অধরেতে চাপি'
অন্তরের দ্বার ঝাঁপি রাত্রিদিন তীব্র জ্বালা
জ্বেলে রাখে চোখে।
দুটো নেত্্র সদা যেন নিশার খদ্যোৎ হেন
উড়ে' উড়ে' খুঁজে কারে নিজের আলােকে।
নাহি যার চাল চুলা গায়ে মাখে ছাই ধুলা,
কটিতে জড়ানাে শুধু ধূসর কৌপীন ...........

কবিতাটা মনে পড়ে। এই পরশ পাথর খুঁজতে খুঁজতে কি কখনও পাওয়া হবে? এই গবেষনা কার কাছে পৌছুলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে ভাইয়া?
যাইহোক, এত শত ভেবে আমাদের দেশে কেউ গৃহ নির্মান করেনি বলেই হয়ত আজ ভূমিকম্পের ভয়ে মরতে হয় ঢাকাবাসীকে। আরও শহরাঞ্চলেও একই চর্চা গড়ে উঠেছে। গ্রামে গঞ্জে ফসলি জমিগুলিও এখন হুমকীর মুখে পড়ে যাচ্ছে।

আবার কি ভেঙ্গে সব করা সম্ভব???

বিশেষ করে যারা ঢাকাতে বহুতল বানিয়েই ফেলেছে এত দিনে.....

১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৪৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ধন্যবাদ আপুমনি পরশ পাথর নিয়ে লেখা কবি গুরুর কবিতার কটি চরণ এখানে তুলে ধরার তরে।
এই কবিতাটি চয়ন করে রেখেছিলাম আমার পরশ পাথর প্রাপ্তির শেষ পর্বের পান্ডোলিপীতে ।

আমার অনেক লেখাই তাদের কাছে পৌঁছার কিছু বারতা আমার কাছে আছে,ধারণা করি উদ্দেশ্যপুর্ণ ভাবে
লগ ইন না করে শুধু পাঠক হিসাব এটাও পৌঁছে যাবে তাদের কাছে। পরিচিত অনেক পরিকল্পনা বিদের সাথে
ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এমন কথাই উঠে আসে । তাদেরকে বলি সামু পরিবারের সদস্য হয়ে সেখানেই দুচারটি
কথা বলে যাওনা কেরে । আভাসে ঈঙ্গিতে বুঝায় বিবিধ কারণসহ স্বনামে ব্লগার হিসাবে পরিচয় দিতে কারো
কারো কৌলিন্যে কিছুটা বাঁধে।

ঠিকই বলেছেন আজ ভূমিকম্পের ভয়ে মরতে হয় ঢাকাবাসীকে।
আবার কি ভেঙ্গে সব করা সম্ভব???
প্রেক্ষিতে বলতেই হয়
রাজধানীতে ভবন ভাঙ্গা গড়ার ইতিহাসতো আছেই।
বিবিধ কারনে রাজউক অনুমোদিত রেংগসের ভবনটির মতোই ভাঙা হবে বিজিএমইএ ভবন
আদালতের নির্দেশে।

জানা যায় উত্তরায় এর চেয়ে বড় বহুতলা ভবন নির্মাণের প্রস্তুতিও বিজিএমইএ নিচ্ছে।

বিজিএমই প্রস্তাবিত নতুন ভবন ( সুত্র: Click This Link )

তাই কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে ইট পাথরের নিষ্প্রাণ কিছু ভবন ভেঙ্গ
তা অবার নতুন করে ভুমিকম্প প্রতিরোধক ভাবে গড়া যেতেই পারে ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৩১| ১৮ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:১৮

করুণাধারা বলেছেন: এই অসাধারণ লেখাটি সময় নিয়ে পড়তে হলো, তাই মন্তব্য করতেও দেরি হলো।

শহরের এবং গ্রামীণ আবাসনের রূপরেখা বর্ণনা করতে গিয়ে আপনি প্রাসঙ্গিক সমস্ত বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন!! অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা দিক ভেবেছেন। এভাবে কখনো ভাবিনি, তাই আপনার ভাবনার পরিধি দেখে বিস্মিত হলাম... চর জাগবার ফলে ভূমি যোগ হচ্ছে, এই বাসযোগ্য ভূমির কথাটাও জানা ছিল না।

ভিলেজ সেন্টারের ধারণা অনন্য! এটার কার্যকারিতা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, তবে এইধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে মেধা এবং দেশপ্রেম দরকার আমাদের তার অভাব আছে। আমাদের ঢাকার কথাই ধরুন; রাজধানী হিসাবে একে সুন্দর বসবাস যোগ্য করে গড়ে তুলতে আমাদের সকলের আগ্রহ থাকা উচিত। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে একে নিয়ে পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়না দুর্নীতির কারণে। ঢাকার ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানিং বাস্তবায়িত হয়নি, পরিবেশ আন্দোলনের পুরোধা অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এটা করার অনেক চেষ্টা করেছিলেন, বিফল হবার পর হতাশ হয়ে বলেছিলেন,
"আমার চোখের সামনে দিয়ে একটা পরিচ্ছন্ন নগরকে বসবাসের প্রায় অযোগ্য মহানগরে পরিণত হতে দেখলাম। আমার কাছে মনে হয়, এই ঢাকা এখন জনসাধারণের চলাচলের জন্য সবচেয়ে বিপৎসংকুল মহানগরীর অন্যতম।"view this link

জলাশয় ও ফ্লাড ফ্লো জোন ভরাট করার কারণ হিসেবে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে দায়ী করে বলেছেন,
"- - - আমরা বলেছিলাম, বেআইনিভাবে যেগুলোতে মাটি ভরাট করা হয়েছে, কোনো দালান বানানো হয়নি, সেগুলোতে মাটিটা সরিয়ে ফেললেই হয়। পেশায় আইনজীবী মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘আমাদের আইনে একটা কথা আছে যে একটা অবৈধ শিশু যদি জন্মগ্রহণ করে, তার বেঁচে থাকার অধিকার আছে, তাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিতে হবে।’ তারপর তো আর এই ড্যাপের বাস্তবায়ন হলো না। ল্যান্ড ডেভেলপারস আর এক্সট্রিমলি পাওয়ারফুল। এদের বিরুদ্ধে কথা বললে জীবনের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।"

এদেশে ভূমি দস্যুতা একটা বড় সমস্যা। আপনার প্রস্তাবিত রূপকল্প বাস্তবায়নে এটা একটা বড় বাধা হতে পারে। তবে দেশপ্রেমিক  কেউ আপনার এই রূপকল্পের মূল্যায়ন করে এটা বাস্তবায়ন করতেই পারেন, সেই প্রত্যাশায় রইলাম...

এই পরিশ্রমী পোস্টটির যথাযথ মূল্যায়ন হোক সেই কামনা করি। পোস্টে আমার নাম উল্লেখ করায় অশেষ কৃতজ্ঞতা। ভালো থাকুন, শুভকামনা রইল।

২১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ৭:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



বিলন্বিত উত্তরের জন্য দুঃখিত ।
আপনার মুল্যবান কথামালা সমৃদ্ধ মন্তব্যে অনুপ্রানীত ।

দেশের আবাসন ও কৃষি নিয়ে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে কিছু ভাবনা ছিল বরাবরই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে দেশে আবাসনের চাহিদা বাড়ার ফলে দেশের কৃষি জমি কমে যাওয়ার করুন একটি চিত্র সকলের মনেই ভেসে উঠে । এছাড়া এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরো কিছু আশংকার কথা ।যথা বেশ কয়েক বছর ধরে বিদেশী বিভিন্ন সংবাদ ভাষ্য ও প্রতিবেদনে উঠে আসছিল যে বৈশ্বিক জলবায়ুর বিরোপ প্রভাবের ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ভূমির এক-তৃতীয়াংশ পানিতে নিমজ্জিত হবে। এর ফলে সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলগুলোর দুই কোটি মানুষ বাস্তুভিটা হারাবে। বাড়বে জলবায়ু উদা্বাস্তু শরণার্থীর সংখ্যা। নদ-নদীতে লোনা পানির পরিমাণ বাড়বে। জীব বৈচিত্র হবে ধংস, বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার সহ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ প্রজাতি হবে বিলুপ্ত।

অপর দিকে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উপকূলের বড় অংশ ডুবে যাওয়ার বিপরীতে সম্পূর্ণ নতুন তথ্যও প্রকাশ করেছেন । বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আগামী ১০০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে পলির পরিমাণ বাড়বে। এর ফলে দেশের বেশির ভাগ উপকূল ও নদী-তীরবর্তী এলাকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশ সরকারের প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) বলেছে, হিমালয় পর্বতমালা থেকে প্রতিবছর ১০০ কোটি টন পলি বঙ্গোপসাগরে এসে পড়ে। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার টানে তা বাংলাদেশের উপকূলে এসে জড়ো হয়ে নতুন ভূমি গঠন করে। এভাবে গত ৬৫ বছরে বাংলাদেশের উপকূলে এক হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি জেগে উঠেছে
ছবি ঃ বাংলাদেশের উপকূলে ভেসে উঠা জমি

তারা বলেছেন আগামী ১০০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গিয়ে দেশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোতে পানির পরিমাণ বাড়লেও একই সঙ্গে পলির পরিমাণও বাড়বে। ফলে দেশের বেশির ভাগ উপকূল ও নদী-তীরবর্তী এলাকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

তবে একথা সত্য যে দেশটি ডুবে না গেলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য সকল কুফল বিশেষ দেশের নিন্মাঞ্চল গুলিতে অবাসন সমস্যা প্রকট আকার ধারন করবে। তবে ধারে ভারে পোক্তা আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলির প্রতিবেদনে ভেসে আসা তথ্যগুলিকেই আমলে নেয়া আমাদের জন্য অধিক শ্রেয় হবে মনে করি। তাছাড়া ১০০ বছর অপেক্ষা করার মত সময় আমাদের হাতে নাই । যা করার এখনই করতে হবে ।

প্রায় সকল পরিবেশ বিজ্ঞানীরাই আশঙ্কা করেছেন আগামীতে বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে বাধ্য । এ প্রেক্ষিতে আমাদের করনীয় কিছু চিন্তাভাবনা তুলে ধরে ২০৫০ এ এসে কোন রকম বৈদেশিক সহায়তা ছাড়াই টিকে থাকার লড়ায়ে বিধাতার আশির্বাদে জয়ী আমরা হবোই বিবিধ প্রকারে। এ বিষয়ে সামুতে প্রকাশিত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সালে উদ্বাস্তু হয়ে আমাদের ঘোরতে হবেনা কারো দ্বারে দ্বারে শীর্ষক আমার পোষ্টটি অবলোকন করা যেতে পারে ।
আমরা বলতেই পারি বাঙ্গালী বীরের জাতি, চিরদিন উন্নত রবে তার শির জগতের বুকে ।

এটা প্রযুক্তির যুগ, সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি এগিয়ে চলেছে ।এখন গল্প কল্প না হয়ে সত্যি হওয়ার পথে জগত এগিয়ে চলেছে দৃপ্ত পদক্ষেপে । এতদিন ইউটোপিয়ান নগরীর কথা শুনছিলাম তবে তা ছিল স্থলভাগে, কিন্তু এখন তা হবে জলে, তাও আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর অবকাঠামোতে । সেরকমই একটি কাহিনীর সচিত্র বিবরণ সম্বলিত সামুর পাতাতে বছর কয়েক আগে।সামুদ্রিক বর্জ দিয়ে তৈরী ভাসমান জৈব-তরীতে আবাসনের জন্য ফরাসী স্থপতী উদ্ভাবিত একটি স্থাপত্য শৈলী পরিচিতি
শিরোনামে একটি পোষ্ট তুলে ধরেছিলাম সামুতে ।

সেখানে দেখানো হয়েছিল বিখ্যাত ফরাসী স্থাপত্য শিল্পী ভিনসেন্টে কিভাবে বিজ্ঞান সন্মত উপায়ে ভাসমান তরীতে আবাসন গড়ে যেখানে পানিতে থাকা প্লানটন ব্যাবহারের মাধ্যমে চাষাবাদ করে জৈবিক পুষ্টি চাহিদা পুরণ সহ সকল নাগরিক সুবিধার উপাদান সমাহার করে গৃহায়ন সম্ভব হতে পারে ।
ছবিঃ ভাসমান স্বয়ংসম্পুর্ণ গ্রামে আবাসন ও কৃষি চাষাবাদ ।

ভিলেজ সেন্টার ধারনাটি অনন্য অনুভুত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ । শহর ও গ্রামীণ এলাকায় আবাসনের রূপরেখা প্রনয়ন ও তা বাস্তবায়নের সমস্যা সংকুল কথা ভাবতে গিয়ে মনে পড়ে সদ্য প্রয়াত দেশ বরেন্য ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রকৌশলী জামিলুর রেজা চৌধরীর কথা। শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য পরিবেশ বান্ধব বাস্তব সন্মত আবাসন রূপরেখার জন্য কত কথাই না বলেছিলেন তিনি। দেশের ভুমিকম্প প্রতিরোধক হাইরা্জ বির্ডিং সহ গ্রামীন মানুষের জন্য উপকুলীয় এলাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের গৃহায়নের রূপায়ন কারীদের মধ্যে তিনিও অন্যতম একজন ছিলেন । দেশ বরেন্য প্রয়াত এই গুণী প্রকৌশলীর প্রতি রইল শ্রদ্ধাঞ্জলী।

আপনি ঠিকই বলেছেন এদেশে ভুমি দস্যুতা একটি বড় সমস্যা । দোয়া করি আমার প্রস্তবানাটি সম্পর্কে আপনার প্রত্যাশা আল্লা যেন কবুল করেন ।

আপনার প্রতিও ভাল থাকার শুভ কামনা রইল ।

৩২| ২০ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৪৪

বাংলার জামিনদার বলেছেন: আপনার কষ্ট যেনো একটু হলেও সফল হয়।

২১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ৭:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুল্যবান মন্তব্যের ধন্যবাদ ।
দোয়া করবেন কষ্ট যেন সফল হয় ।
শুভেচ্ছা রইল

৩৩| ২০ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১:০০

মুক্তা নীল বলেছেন:
ভাই,
আপনার এতো বড় পরিশ্রমী পোস্টটি পড়তে পারবো বলে
আমি গর্বিত । সময় নিয়ে পুরোটা পড়বো তাই এখন
প্রিয়তে তুলে নিলাম । আমার মতো সামান্য একজনের
নাম বড় বড় গুনী ব্লগারদের সাথে উৎসর্গ করায় আপনার
প্রতি কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
অনেক ধন্যবাদ ভালো থাকুন।

২১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ৭:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




পোষ্টটি পাঠে গর্বিত হয়েছেন খুশী হলাম ।

পোষ্টটি প্রিয়তে নেয়ায় কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

আপনিও একজন গুণী ব্লগার ।

শুভেচ্ছা রইল

৩৪| ২৩ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৩৯

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন:




প্রিয় স্যার, আমি একজন অনিয়মিত ব্লগার। তবে যখনি ব্লগ সাইট দেখি আমি লক্ষ্য করি আপনার কি নতুন কোনো পোস্ট আছে? নতুন পোস্ট থাকলে পড়ি। আমি বাংলাদেশ সরকারের একজন বেতনভুক্ত কর্মী। আপনি দেশ মাটি ও মানুষের জন্য যা চিন্তা করছেন - লিখছেন তার যদি সামান্যতম কাজও করতে পারি নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে পারবো যে দেশের জন্য কিছু কাজ করতে পেরেছি।

আপনি অসুস্থ্ ছিলেন তা আমি জানি, পরম করুণাময়ের কাছে পার্থনা করি আল্লাহপাক যেনো আপনাকে নেক হায়াত দান করেন। আপনি সুস্থ্ থাকুন আপনার মাধ্যমে দেশ ও জাতি উপকার পাবেন।

২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৩০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আমার পোষ্ট খুঁজ করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।

আপনার মত সচেতন সরকারী কর্মী বাহিনীর সকলেই দেশ সেবার মহান উদ্যোগ
নিয়ে কাজ করলে আমাদের দেশ ও সমাজ উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে । সরকারী কর্মীবাহিনী
নীজেদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সততা ও নিষ্টার সাথে দেশ সেবার কাজে নিয়োজিত থাকুন
এ দোয়ই করি । তাঁদের সামান্য একটি ভুলের কারণে জাতিকে অনেক বেশী খেসারত দিতে হয় ।

আমার সুস্থতার লক্ষ্যে দোয়া করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

৩৫| ২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ২:২৩

মা.হাসান বলেছেন: বাংলাদেশের সারফেস এরিয়া ১৪৪০০০ বর্গ কিলোমিটার, হেক্টরে তা হবে ১৪৪ লক্ষ হেক্টর। কাজেই বাংলাদেশের কৃষি জমি ১৫৪ লক্ষ হক্টর হবার তথ্য সরকারি ওয়েব সাইটে থাকলে তা ভুল। তবে যদি আমলারা দেশের বাইরে সরকারের নেতা -মন্ত্রী-আমলাদের জমি হিসেব করে বলে তাহলে আলাদা কথা।

দেশে আবাদি জমি ৭৯ লক্ষ হেকটর হলেও তা উদ্বেগ জনক।
দেশের মোট জমির ৯-১০% নদী-নালা। বাকি ১৩০ লক্ষ হেকটর স্থলভাগের মধ্যে ৭৯ লক্ষ হেক্টর চাষাবাদের কাজে ব্যবহৃত হলে তা হবে মোট জমির ৬০% এর বেশি। এর মানে দেশে বনাঞ্চল, রিক্রিয়েশনাল ল্যান্ড (পার্ক, উদ্যান, রিসর্ট ইত্যাদি) অস্বাভাবিক কম। একটা দেশে স্বাভাবিক অবস্থায় ২৫% বনাঞ্চল, ২৫% ফাকা জায়গা দরকার। আমাদের বনাঞ্চল আছে ৯% এর মতো । সরকারি খাতায় যা বন, বাস্তবে এর অনেক অংশে গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। ফাকা জায়গা কতটুকু আছে বলা মুশকিল।

২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৩৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ধন্যবাদ আবার এসে মুল্যবান তথ্য উপস্থাপন করার জন্য।
দেশে আবাদি জমি বর্তমনে যা আছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক।
এই জন্য দেশের সচেতন সকলে মিলে উপযুক্ত পরিকল্পনা
প্রনয়ণ ও বাস্তবায়ন করা আবশ্যক ।

৩৬| ২৪ শে জুলাই, ২০২০ ভোর ৪:২৬

মনিরা সুলতানা বলেছেন: লেখায় সময় নিয়ে ফিরবো ভাইয়া।

২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৯:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ঠিক আছে, অপেক্ষয় থাকলাম আপুমনি ।

শুভেচ্ছা রইল

৩৭| ২৪ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:৪৩

জুন বলেছেন: এত বড় তবে তথ্য পুর্ন লেখাটি পড়তে একটু সময়ই লাগলো ডঃ এম এ আলী। এত বিস্তারিত লিখেছেন যে তার ভেতরে সুই হয়ে ঢোকারও কোন অবকাশ রাখে নি B-) সব আপনিই লিখেছেন আমি শুধু প্রতিটি লাইনে লাইনে সহমত বলতে পারি।
আপনি গ্রামীণ জনপদে যেই পদ্ধতিতে নির্মান কাজের কথা বলেছেন তা আমাদের মত দেশ যেখানে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কম সেখানে এই পদ্ধতি যথেষ্ট উপযোগী। কিন্ত এটা আমাদের মানুষকে মাথায় ধারণ করতে হবে। বাড়ি বানানোর সময় আমাদের গ্রামে দেখি প্রথমেই বিশাল জায়গা নিয়ে পুবের ভিটা, পশ্চিমের ভিটা, বাইর বাড়ি, কাচারি ঘর, গোয়াল ঘর বানিয়ে যতখানি জায়গা দখল করে তাতে কৃষিকাজের জন্য জমির পরিমান কমতে বাধ্য। এছাড়া আরেকটা জিনিস আমি খেয়াল করেছি আমাদের দেশে ( আমাদের গ্রামে)সেটা হলো যারা একটু পয়সা আলা তারা প্রত্যেকে নিজ ভিটায় একটা করে মসজিদ। এতে দেখা গেছে পাশাপাশি বাসাতেই মসজিদ। আর বড়বাড়ির লোকরা মিয়াবাড়ির মসজিদে নামাজ পড়া ইজ্জ্বত কা সওয়াল। এটা শুধু একটা উদাহরণ দিলাম আমাদের এলাকার.৷। এভাবে সবার নিজের স্কুল, বাজার সবই মনে হয় এক সময় গড়ে উঠবে। অনেক দেশে দেখেছি একতালা দোতালা ঘরতো বটেই একতালা দোতালা বিছানা। যাদের অগাধ জমি রয়েছে সেসব দেশে।
আপনার প্রস্তাবটি সরকারের দৃষ্টিগোচর করতে পারলে খুব ভালো হতো আলী ভাই।
ভালোলাগা রইলো অনেক অনেক।
+

২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৪৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



এসে এই বড় কলেবরের পোষ্টটি পাঠ করে মুল্যবান মতামত রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
আপনি ঠিকই বলেছেন বাড়ি বানানোর সময় শুধু আপনার গ্রামেই নয় অনেক গ্রামেই দেখা যায় প্রথমেই বিশাল জায়গা নিয়ে পুবের ভিটা, পশ্চিমের ভিটা, বাইর বাড়ি, কাচারি ঘর, গোয়াল ঘর বানিয়ে যতখানি জায়গা দখল করে তাতে কৃষিকাজের জন্য জমির পরিমান কমতে বাধ্য। সেই জন্যইতো গ্রামে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা বাড়ীর পরিবর্ভিতে ভিলেজ সেন্টরে বহতলভবন তৈরী করে গৃহায়নের কথা বলেছি ।

আরো একটি কথা পোষ্টে বলতে ভুলে গিয়েছিলম, তা হলো গাছের ডালে পাখীর নীড়ের মত বাসা বাধার কথা । ছোটকালে আমি গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়াতাম। শুপারী বাগানে গাছের মাথায় চড়ে এক গাছকে দুলিয়ে আরেক গাছের সাথে লাগিয়ে অনায়াসে ২০/২৫ টা গাছ হতে শুপারী পাড়তে পারতাম । বাড়ীর পাশে আম বাগানের বড় গাছের ডালে চট বিছিয়ে দুলনার মত চাটাই পেতে বেশ আনন্দে দোল খেতাম আর গাছের পাকা আম পেড়ে এতম । ওটা যেন ছিল ছোট খেলার ঘর ।

একথা ট সত্য যে যখন সভ্যতার উন্মেষ হয়নি তখনো মানুষ থাকত গাছের ডালে, পাখির মতো৷ আবশ্য সেই সময় গত হয়েছে, অনেক কাল আগে ৷তবে পূর্ব পুরুষের সেই আবাস এখনো মানুষের মনে দোলা দিয়ে যায়৷ তাই হয়তো শৈশবে সবাই হতে চায়, পাখির মতো আকাশে উড়ে বেড়াতে, গাছে নীড় বেঁধে থাকতে৷ । গাছেরডালে নীড় বাধার স্বপ্ন হয়তবা অনেকের এখনো আছে তবে বড় হয়ে এখনো কাওকে দেখিনি আমাদের দেশ গাছের ডালে সুন্দর কোন ঘরবাড়ী তৈরী করে বসত গড়তে ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আমি দেখেছি ইউরোপ-অ্যামেরিকায় কিশোর-কিশোরীদের খেলার একটা বিশেষ জায়গা হলো ট্রি হাউস বা গাছ-বাড়ি৷ কিছুদিন আগে দেখেছি জার্মানির একেবারে পুব কোণায়, পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছে জঙ্গলের মধ্যে একটা গ্রাম, যেন কোনো ফ্যান্টাসি ফিল্মের দৃশ্যপট । গাছের সঙ্গে লাগোয়া বেশ কিছু কাঠের বাড়ি, যেগুলোতে সিঁড়ি কিংবা মই দিয়ে চড়তে হয়৷ যার পোশাকি নাম সংস্কৃতি-দ্বীপ তপোবন ৷ প্রত্যেকটি বাড়ি একক ও অনন্য; প্রতিটি বাড়িই ভিন্ন ভিন্ন স্থপতির নকশা অনুযায়ী তৈরি৷ কৃষি জমি বাঁচাতে বড় গাছের ডালে আমরাও গড়তে পারি তেমন কিছু বাড়ী ।


ভাল থাকার শুভ কামনা রইল

৩৮| ২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪১

মিরোরডডল বলেছেন:

গুড টু সি পর্ব ২ চলে আসছে । নিশ্চয়ই সেইরকম হবে ! যেহেতু অনেক বড়, তাই উইকেন্ডে সময় নিয়ে একবারে পড়বো ।

২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৫৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ধন্যবাদ এখন এসে একটু দেখার জন্য ।
ঠিক আছে উইক এন্ডে পরে আবার দেখুন ,অপেক্ষায় রইলাম ।
আপনার আবগতির জন্য জনাচ্ছি পর্ব-২ এখনো আসেনি ,সেটা লিখার কাজ চলছে ।
এটা প্রথম পর্বের কিছু গুণী পাঠকের মুল্যবান মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জন্ম নেয়া পোষ্ট ।

শুভেচ্ছা রইল

৩৯| ২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১১:০৮

মিরোরডডল বলেছেন:



Oops ! কারেকশন করে নিচ্ছি । পরশ পাথরের পর্ব-২ না ।
মাটির ঘর এবং গৃহায়ন প্রকল্পের কন্টিনিউশন ।
আসলাম যখন প্রিয় গান দিয়ে গেলাম

২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সংশোধন করার মত কোন কিছু ছিল না ।
আমারই ভুল হয়েছে কোন এক জায়গায় বলা উচিত
ছিল যে এ পোষ্টটি মাটির ঘর এবং গৃহায়ন প্রকল্পের কন্টিনিউশন ।
বিষয়টি মনে থাকবে পরের কোন পর্বে এমনটি হলে বলে দিব
এটা সেটার কন্টিনিউএসন ।
যাহোক, গানের লিংকটি দিয়ে খুব উপকার করে গেছেন
এখন প্রিয় গানটি শুনছি আর লিখছি । এই লিংকের পর
সহযোগী লিংকের গান চলবে আর আমি ঘন্টার পর ঘন্টা
লিখে চলব মনের সুখে । গান শুনতে শুনতে লিখলে
লেখার সময় ট্রেস রিলিজের ভুমিকা পালন করে
দারুন ভাবে ।

শুভেচ্ছা রইল

৪০| ২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১১:২৬

সোহানাজোহা বলেছেন:




ডঃ এম এ আলী স্যার, আপনাকে আশার কথা বলতে পারি, আপনি যা ভাবছেন ও লিখেছেন তার এপ্লিকেশন হবে তবে সময় লেগে যাবে এটিও একটি দুঃখ। হয়েছে কি পরিস্থিতি কখনো সময়ের পক্ষে ছিলো না, আর তাই দেশের অবকাঠামো দিন দিন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এগিয়ে যেতে বাধ্য। কারণ এই দেশে খারাপ মানুষের চেয়ে ভালো মানুষের সংখ্যা এখনো বেশী। শুধু কাজ করার জন্য সাম্যক জ্ঞান অর্জনে সময় ব্যয় হয়েছে একটু বেশী।

পাউবো - সরকারি প্রজেক্ট হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা ড্রেজিং করে নদীর নিচ থেকে যদি সব ময়লা উঠানো সম্ভব হয় তাহলে বুঝতে হবে সরকারি কাজ এগুবে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার সাথে আছে ঢাকা’র তুরাগ ও বালু নদী। অবৈধ দখল মুক্ত করণ এখন সময়ের জন্য অপেক্ষা।

আপনার অত্যন্ত পরিশ্রমী লেখার জন্য অনেক অনেক দোয়া রইলো।

২৭ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১০:০৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

মুল্যবান মন্তব্য রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

কামনা করি আপনার আশা যেন বিলস্বে হলেও বাস্তবের মুখ দেখে ।

পাউবো - সরকারি প্রজেক্ট হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা ড্রেজিং করে নদীর নিচ থেকে যদি সব ময়লা উঠানো সম্ভব হয় তাহলে বুঝতে হবে সরকারি কাজ এগুবে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার সাথে আছে ঢাকা’র তুরাগ ও বালু নদী। অবৈধ দখল মুক্ত করণ এখন সময়ের জন্য অপেক্ষা

সামুতে প্রকাশের জন্য অপেক্ষামান পরশ পাথার প্রাপ্তির তৃতীয় পর্বের লেখায় উপরের কথাগুলি নদী প্রসঙ্গে উঠে আসবে ।

করোনার হাত হতে মুক্ত হলেও তার কিছু ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছ দারুন ভাবে । মাথার চুল পড়ে যাওয়াসহ দো চোখের কোনে ব্যথাময় চুলকানী । চোখে দেখতে বড় কষ্ট । লেখার ছোট অক্ষরগুলি মদেখিনা ভাল করে। কিছু লিখতে গেলে তা ভরে যায় বানান ভুলে । চোখ দেখানোর জন্য আই স্পেশালিষ্টের এপয়েন্টমেন্ট পাওয়া গেছে দিন পনের পরের ।
এ কয়দিন বড় মাপের লেখা লেখি বন্ধ ।

দোয়া করবেন আমার জন্য ।

শুভেচ্ছা রইল

৪১| ২৮ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১০:১২

মনিরা সুলতানা বলেছেন: চমৎকার ভাবে খুব ই সুচিন্তিত এই পোষ্ট নিঃসন্দেহে গবেষণা পত্র !
আপনি শহর গ্রাম সব এলাকার সমস্যাই তুলে এনেছেন! এর চমৎকার বাস্তবায়ন করা গেলে শহরে আর বাঁয়ের পানির লাহান উদ্বাস্তু আসবে না; যে যার এলাকায় ই থাকতে পারবেন। এই করোনা কালে আমরা দেখেছি এই ভাসমান স্বল্প অ্যাঁয়ের মানুষের ভোগান্তি।

আমাদের দেশের মূল সমস্যা দুর্নীতি দল প্রীতি এসব কাটিয়ে যদি অবৈধ দখলদার মুক্ত প্রভাব মুক্ত হয়ে কাজ হয় তাহলে কিছুটা হলে ও শান্তি।

২৯ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৫৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




এসে দেখে মুল্যবান মন্তব্য রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

মুক্তিযুদ্ধের বিভিশিকাময় দিনের মত এইকরোনা কালেও
নাগরিক জীবনে বেকারত্বসহ বিবিধ প্রকরনে অভাব
অনটনের কারণে শহর ছেড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের
গ্রামমুখী হওয়ার দৃশ্য দেখে গ্রামীণ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা
সকলেই অনুভব করতেছেন বলে মনে হচ্ছে । তবে আপনি
যতার্থই বলেছেন আমাদের দেশের মূল সমস্যা দুর্নীতি দল
প্রীতি এসব কাটিয়ে যদি অবৈধ দখলদার মুক্ত, প্রভাব মুক্ত
হয়ে কাজ হয় তাহলে কিছুটা হলেও শান্তি।
আপনার
ব্ক্তব্যের সাথে আমি সহমত পোষন করি। এর হাত হতে
সহসা উত্তরনের কোন সম্ভাবনা আমি দেখিনা। দেশের
সকলেই জানেন ও ভাল করেই চিনেন কে বা কারা
দুর্নীতি পরায়ন । তাঁর পরেও তাদেরকে গোপনে
আড়ালে আবডালে অনেকে গালাগলি করলেও
সামনা সামনি তাদের প্রতি হন বিনয়ের অবতার ,
জান প্রাণ দিয়ে তাদের প্রতি জ্ঞাপন করেন শ্রদ্ধা ।
দেশের সকলেই কথায় কাজে এক না হওয়া পর্যন্ত
দেশ দুর্নীতি মুক্ত হবে বলে মনে হয় না ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল




৪২| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ সকাল ৮:২১

ইসিয়াক বলেছেন:





ঈদের শুভেচ্ছা রইলো।
ঈদ মোবারক প্রিয় ভাইয়া।
নিরন্তর শুভকামনা।

০৩ রা আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:২০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার জন্যও রইল বিলম্বিত ঈদ শুভেচ্ছা ।
চোখের ব্যথার কারণে সামুতে বিচরন দিন কয়েক ধরে কমে গেছে।
তাই নীজের পোষ্টসহ অন্য অনেক প্রিয়জনদের পোষ্ট দেখা
হয়ে উঠছেনা।

আমার জন্য দোয়া করবেন ।

৪৩| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:২৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: নানা রকমের তথ্য উপাত্তে সমৃদ্ধ একটি সুবিশাল পোস্ট! জানিনা এর শব্দসংখ্যা কত হতে পারে। যে ৪২ জন পাঠক এতে মন্তব্য করেছেন, তাদের ক'জনাই বা পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ে মন্তব্য করেছেন, তাও আন্দাজ করতে পারি না। তবে আমি সততার সাথে বলছি, আমি পোস্টের মাত্র এক তৃতীয়াংশ মাত্র মনযোগের সাথে পড়েছি। তাতেই এক বেলা কেটে গেল। সকালে পড়া শুরু করেছিলাম, এখন যোহরের আযান পড়ে গেল। তবে এতে এতসব মূল্যবান তথ্য রয়েছে যে একে অবহেলাও করা যায় না। তাই বাকিটুকু পরে কোন একসময় পড়ার আশায় পোস্টটিকে "প্রিয়" তালিকায় (১৯তম) তুলে রাখলাম।
উৎসর্গ এর অধীনে অন্যান্য গুণীজনদের সাথে নিজের নামটিকেও দেখতে পেয়ে ধন্য বোধ করছি।
প্রথম মন্তব্যটির জন্য সোহানীকে এবং ৭ নং সুচিন্তিত মন্তব্যটির জন্য আহমেদ জী এস কে ধন্যবাদ। ওনার বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ সকাল ৮:৫৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আমার পরশ পাথর প্রাপ্তি ১ম পর্বে থাকা মাটির ঘরের উপর ব্লগের কয়েকজন গুণী ব্লগারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে
প্রতিমন্তব্য লিখতে গিয়ে দেখা যায় যে লেখাটির কলেবর বেশ বড় হয়ে গেছে । তাই এত বিশাল একটি প্রতিমন্তব্য
শুভন দেখাবেনা মনে করে সেলেখাগুলি দিয়ে পৃথক একটি পোষ্ট দিতে গিয়ে দেখি এটাও কেবল লম্বাই হচ্ছে।
ভাবলাম যিনি যেভাবেই নিন না কেন আমি যা ভাবছি তা লিখেই যাব। অন্তত একজন পাঠকও যদি পুরাটা পড়েন
তাহলে লেখাটি স্বার্থক হয়েছে বলে মনে করব। উল্লেখ আগ্রহী কোন পাঠক যে একটিলেখা পুরাটা পড়বেন তাত নয়,
অনেক সময় লেখার ভিতরে সাবটাইটেল দেখে নীজের পছন্দনীয়/প্রযোজনীয় জায়গা টুকু পাঠ করে বাকী লেখা
স্কিপ করে লেখা পাঠে সমাপ্তি টেনে লেখাটির ভিতরে থাকা চুম্বক কথাগুলি নিয়ে তিনি লেখটিতে থাকা প্রাসঙ্গিক
বিষয় তুলে ধরে তাঁর মুল্যবান মতামত রেখে যান।যারা লেখাটি পুরাটা পাঠ না করে মন্তব্য রেখে যান উনাদের
মন্তব্যের জবাব দানটাও অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

এই পোষ্টের লেখাটিতে প্রায় ৮ হাজারের মত শব্দ আছে।

আপনি ঠিকই বলেছেন লেখাটির ভিতরে যে সমস্ত প্রাসঙ্গিক লিংক দেয়া আছে সেগুলি দেখে দেখে লেখাটির কিছু
অংশ পাঠ করতে একবেলা কেটে যাওয়ার কথা। লিংকে গেলে সেখানে আরো মজার মজার তথ্য ও অনেক নতুন
লিংক পাওয়া যায়, সেগুলি কেও দেখতে চাইলে লেখাটির অর্ধেকটুকু পড়তেও কারো দিনমান কেটে যেতে পারে।
আপনি কষ্ট করে লেখাটির কিয়দংশ পাঠ করেছেন শুনে অনুপ্রানীত হলাম।ধারণা করি লেখাটি পাঠের সময় আপনি
সাথে থাকা লিংকগুলিতেও বিচরণ করেছেন , তাতেই এত লম্বা সময় লেগে গেছে আপনার । আপনার সম্ভবত
মনে আছে আমাদের সময় ইন্টার মিডিয়েট ক্লাশের ইংরেজীর পাঠ্য বইএ “Reading for Pleasure” শীরোনামে
একটি নিবন্ধ ছিল । লেখকের নামটি মনে নেই,তবে লেখক সেখানে বলেছেন কোন লেখা পাঠের সময় যদি পাঠকের
ভাল লাগে তবে সেখানে থাকা একটি লাইন পাঠেও কোন একজন পাঠক দিনমান কাটিয়ে দিতে পারেন লেখাটির
ভাবার্থ ও নীজে নীজে সেটার ভাবসম্প্রনারণ করা নিয়ে, কিংবা সেখানে থাকা তথ্য উপাত্ত ও রেফারেন্স পুস্তক
ঘাটাঘাটি করে ।তবে এতে করে পাঠকের যত কষ্ট ও সময়ই লাগুক না কেন পরিনামে পাঠক তাতে সুখই পান ,
আর সে রকম পাঠকেই লেখক বলেছেন ‘রিডিং ফর প্লেজার’ । ধারণা করি লম্বা সময় নিয়ে এ লেখাটি পাঠ
করাটাও আপনার কাছে ছিল “রিডিং ফর প্লেজার :) । শুধু ধারনাই কেন, সুন্দর করে রেখে যাওয়া মন্তব্য
থেকেও বিষযটি পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

পোস্টটিকে প্রিয় তালিকায় তুলে রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

উৎসর্গকে বরণ করে নেয়ায় নীজকে গর্বিত মনে করছি ।

বোন সোহানীর প্লথম সুচিন্তিত মন্তব্যটি আমাকেও পুলকিত করেছে । এ ব্লগের অন্যতম
গুণী ব্যক্তিত্ব আহমেদ জী এস এর মুল্যবান বক্তব্যের সাথে আমিও সহমত পোষণ করি।

শুভেচ্ছা রইল

৪৪| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:৪৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টার এর অবকাঠামো অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য। বেঁচে থাকতে থাকতে এর অন্ততঃ শুরু হওয়াটা দেখে যেতে পারলে খুশি হ'তাম।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ সকাল ৭:৪১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আমিও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টার এর অবকাঠামো অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য।
প্রয়োজনে আমি আপনাদের সকলের সহযোগীতা ও দোয়ায় এই প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারটির
বিস্তারিত ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ এর ফিজিকেল ও ফাইনালসিয়েল ভায়াবিলিটি, সেসাথে বাস্তবায়ন
রূপরেখা তুলে ধরে একটি উপযুক্ত প্রকল্প দলিল প্রনয়ন করে দিতে পারব ইনসাল্লাহ।

বেঁচে থাকতে থাকতে এর অন্ততঃ শুরু হওয়াটা দেখে যেতে পারলে খুশি হতেন জেনে ভাল লাগল ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , দিন কয়েক আগে দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সচিত্র সংবাদ ভাষ্য হতে দেখা
যায় যে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে দেশের বিশাল আশ্রয়ণ
প্রকল্প। প্রকল্পে চারতলাবিশিষ্ট ২৪৫টি ভবন নির্মাণ করার কথা। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০টি ভবন নির্মাণ
সম্পন্ন করেছে। প্রতিটি ভবনে রয়েছে ৩২টি করে ইউনিট। নির্মিত এসব ভবনে আশ্রয় পাবে ৬৪০টি পরিবার।
পুনর্বাসিত এলাকায় স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদরাসাসহ সবই থাকবে বলে উল্লেখ দেখা যায়।
সুত্র Click This Link

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে আমার প্রস্তাবিত একটি ভিলেজ সেন্টারে ৬০০ পরিবারকে গৃহায়নের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে ।
প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারে যদি আশ্রয়ন প্রকল্পের মত ৪তলা ২০ টি ভাবন নির্মাণ করা হয় তাহলে একটি ভিলেজ
সেন্টারের আওতাধীন কয়েকটি গ্রামের শত খানেক বিত্তশালী ও অনিচ্ছুক পরিবার ব্যতিত প্রায় সকলেই গৃহায়নের
সুবিধা পাবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

৪৫| ০৩ রা আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:১৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,



৭ নং এ আমার মন্তব্যে বলেছেন - "মন্তব্যের বাকি কথাগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য পরে আবার আসব।"

আসেননি দেখে চিন্তিত।
ঈদ শুভেচ্ছা।

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আপনার করা উপরের ৭ নং মন্তব্যের ঘরে কথামত ফিরে আসায় বিলম্ব হল বলে ।
গত দুইসপ্তাহ আগে করুনাক্রান্ত হয়ে আমার ছোট মামার ইন্তেকাল ও গত সপ্তাহে আমার ভাগ্নে জামাতা মৃত্যু বরন করায়
মানসিক ভাবে ছিলাম বিপর্যস্ত ।মাত্র ৩৫বছর বয়সি ব্যাংক কর্মকর্তা ভাগ্নে জামাই দুটি ছোট ছোট ছেলে রেখে করোনা
সনাক্ত হওয়ার পরে মাত্র ৬ দিনের মাথায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করে। মানুষ মাত্রই মরনশীল
এটা জানা কথা, তবে কিছু মৃত্যু রেখে যায় পরিবারের সকলের প্রতি করুন বিষাদের ছায়া।

যাহোক গতকাল ব্লগে এসে দেখি আপনার মন্তব্যটি। বুঝতে পেরেছি কত বড় একটি ভুল হয়ে গেছে এরি মধ্যে ।
আপনি নীজে উপযাচক হয়ে আমার কোশল জানতে এসেছেন দেখে খুবই খুশী হয়েছি।

যাহোক, এবার আপনার সেই মন্তব্যেরজবাবে বলা অসমাপ্ত কথা প্রসঙ্গে ফিরে যাই ।
“পোস্টের মূল কথা একটিই - গৃহায়ন । গৃহায়ন নিয়ে কেন ভাবতে হবে” ?
ঠিকই বলেছেন পোস্টের মূল কথা একটিই – গৃহায়ন। আসলে তো এমনটিই হওয়ার কথা, কেননা পোষ্টের শীরোনামটিই
হলো “গ্রামীণ এলাকায় হরাইজনটাল এবং ভার্টিকেল গৃহ নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সৃজনের লক্ষ্যে একটি রূপকল্প”তাই শীরোনামের সাথে সঙ্গতি রেখেই পোষ্টের কথাগুলি এগিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।তাইতো গৃহায়নকে নিয়েই প্রথমে ভাবতে হয়েছে। তার পরে এর সাথে অবশ্যকীয়ভাবে যুক্ত হয়েছে গ্রামীণ ও
নাগরিক জীবনের গৃহায়ন সমস্যা, গৃহনির্মাণ কাঠামো , তাদের প্রকৃতি, সমস্যা ও সমাধানের কিছু কথামালা । এখানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের মুল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসাবে কৃষি ও শিল্পের কথা । কারণ গৃহায়নের সাথে বিষয়গুলি
অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত ।

জনসংখ্যার গ্রোথ রেট কমলে( যদি সেটা নিভেটিভ না হয় , অবশ্য যে হারে জনসংখ্যার গ্রোথ রেট কমতেছে তাতে করে এ সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না) যে মোট জনসংখা বাড়বে তা একটি সরল অংকের হিসাব , তাই আপনার হিসাবটি বুঝতে কোন অসুবিধা হয়নি । তবে এখানে মুল উপজিব্য বিষয়টি ছিল জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে খাদ্য উৎপাদনের
প্রবৃদ্ধির হার বেশী । জনসংখ্যা প্রৃদ্ধির হার যেখানে ক্রমাগত নিন্মমুখী সেখানে খাদ্য প্রবৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে উর্ধমুখী ।দেশে শিল্পায়নের হারও এখন উর্ধমুখী । বিশ্ব খাদ্য সংস্থার হিসাব মতে ১৯১৬ সনে দেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের
অবদান ছিল প্রায় ১৬% ।এখন মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপি’তে কৃষি খাতের অবদান ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ
( সুত্র Click This Link ) ।
অপর দিকে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ক্রমেই বাড়ছে ,২০১৯ সনে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল
প্রায় ৩০%( সুত্র Click This Link)

যাহোক কৃষির উপর নির্ভরশীলতা এখন আগের থেকে তুলনামুলকভাবে অনেক কম এবং তা ক্রমান্বয়ে কমেই যাচ্ছে,
যদিও কৃষি প্রধান দেশে এ লক্ষনটি ভাল নয়।তবে শিল্পখাতে উৎপাদনবৃদ্ধি পেলে মানুষের আয় ও জীবনযাপন উন্নত
হবে বেশী, দেশে খাদ্য চাহিদা অবশ্যই বাড়বে তবে বর্ধিত চাহিদা বা খাদ্য ঘাটতি হয়তবা মিটানো যাবে বিবিধ প্রকারে । উল্লেখ্য ইউরোপিয়ান অনেক দেশ বিশেষ করে যুক্তরাজ্য তার খাদ্য চাহিদার সিংহভাগই মিটায় আমদানি করে । তাই
দেশের সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য অন্যান্য সহায়ক থাতগুলিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করার কারণে যদি কিছু আবাদি কৃষি জমির পরিমান কমে যায় তাহলে চিন্তার কারণ থাকলেও তাতে করে দারুনভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে, প্রয়োজনে অধিক
আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য কৃষিজমির দিকে হাত বাড়াব না কমাব, তা ভেবে দেখার বিষয় বটে। এটা
বিষেযজ্ঞগনই ঠিক করুন তাঁরা কোন দিকে যাবেন। তবে আমি মনে করি শিল্পোৎপাদন, গৃহায়ন ও কৃষি জমি সংরক্ষনের
বিষয়ে উপযুক্ত নীতি ও তার বাস্তবায়ন কৌশল অবলম্বন প্রয়োজন। আমার পোষ্টে এ বিষয়গুলিকেই কিছুটা টেনে আনা
হয়েছে।

খাদ্যের গ্রোথ প্যাটার্ণ প্রসঙ্গে বলা আপনার বক্তব্য সম্পর্কে আমার পোষ্টে বলা কথাগুলির দিকে পুণরায় আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি ।সেখানে দেশের কৃষিবিদদের গবেষনা লব্দ ফলাফল তুলে দিয়ে পসঙ্গক্রমে বলা হয়েছে আগামী ৫০ বছর
পরেও খাদ্য শস্যের চাহিদার সাথে যোগানের (দেশীয় ভাবে)ভারসাম্য থাকবে। তাদের গবেষনার ফল দেখে বলা হয়েছে
উক্ত সময় পর্যন্ত আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে তেমন ভাবতে হবে বলে মনে হয় না । তবে একই সাথে বলা হয়েছে “বাংলাদেশে নানাবিধ কারণে জমির পরিমান কমে যাওয়াসহ অপরিকল্পিতভাবে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার
প্রয়োগের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়া, সেচের পানির অভাব, দক্ষিনাঞ্চলে লবনাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ফসলের জমি ও ফলনের উপরে মারাত্বক প্রভাবের ফলশ্রুতিতে দীর্ঘমেয়াদে দেশে তীব্র খাদ্য ঘাটতি
দেখা দেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না”


অপর দিকে “প্রতি বছর গৃহ, শিল্পকারখানা, রেলপথ ও সড়ক প্রভৃতি অবকাঠামো নির্মাণসহ অন্যান্য কাজে ১(এক)
শতাংশ হারে কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে।“ পোষ্টে এতসব আশংকা প্রকাশের পরে কিছু আশার কথাও বলা হয়েছে যথা “দেশে এখন শস্য উৎপাদন নিবিরতা (cropping intensity)১.৯৪%, এটাকে আরো বাড়ানোর জন্য অব্যাহত
প্রয়াসের সাথে গবেষনার মাধ্যম উচ্চ্ফলনশীল জাতের খাদ্য শস্য উদ্ভাবন ক্রমান্বয়ে আরো বাড়বে বই কমবেনা ।
সে সাথে সরকার অনুমোদিত ডেল্টা প্লান ২১০০ বাস্তবায়িত হলে সাগর মোহনায় ভেসে উঠা বিভিন্ন চর মিলিয়ে
আরো প্রায় কয়েক হাজার বর্গমাইল এলাকা আবাদি কৃষি ভুমিতে পরিনত হতে পারে" ।
এ আশার বানী শুধু
কথার কথাই নয় এটা ফলতে শুরু করেছে । যা পোষ্টে তথ্য উপাত্ত সহ কিছুটা তুলে ধরা হয়েছে ।

মোট ফসলী জমির তথ্যে হোচট খেয়েছেন শুনে খারাপ লাগছে । এটা ছিল আমার একটি টাইপিং এরর, কারণ
সেখানে মোট ফসলি জমির বিভাজন ব্রেকেটের ভিতরে দেয়া ছিল,একটু কষ্ট করে সেগুলি একটু যোগ দিলে
সহজেই বুঝা যেতো এটা একটি টাইপিং এরর । তাহলে হোচট খেয়ে কষ্ট পেতে হতোনা । যাহোক অনভিপ্রেত
কষ্ট দেয়ার জন্য দু:খিত ।

তবে একথা স্বীকার করতেই হবে সরকারী ওয়েব সাইটে থাকা এমন একটি তথ্য বিভ্রাট যে কোন পাঠককেই
হোচট খাওয়ানোর জন্য যথেষ্ট, এমনকি বিশ্ব খাদ্য সংস্থার ওয়েব সাইটটির দিকে তাকালেও দেখা যাবে সেখানেও
বিষ্ময়করভাবে তারাও মোট ফসলী জমির পরিমান সরকারী ওয়েব সাইটে থাকা তথ্যের কাছাকাছি ১৫০.৩৪ লক্ষ হেক্টর দেখিয়েছে (সুত্র Click This Link )। এখন তাদেরকেও বলতে হবে
তথ্যটির বিষয়ে সঠিক ব্যখ্যা কিংবা সঠিক তথ্যটি তাদের ওয়েব সাইটে সন্নিবেশিত করার জন্য , তা নাহলে অনেক
পাঠকই তাদের দেয়া তথ্য দেখে হোচট খাবেন ।

গৃহায়নের সাথে সম্পৃক্ত সব উপাদানকেই যথেষ্ট পারদর্শিতায় তুলে এনেছি বলায় তৃপ্তি পেয়েছি, তবে এই পারদর্শীতা
দেখাতে গিয়ে টাইপিং প্রমাদ জনিত তথ্য পরিবেশনে শ্রদ্ধেয় সহ ব্লগারকে হোচট খাওয়াছি ভেবে দু:খিতও হয়েছি ।

মানুষ কেন শহর বা নগরে যায় ? এ প্রশ্নের সাথে জোড়ে দেয়া আপনার বক্তব্যের সাথে সহমত পোষন করছি ।

প্রথম মন্তব্যে থাকা বোন সোহানীর ধারনাটি বেশ সহজ সরল ও আশাব্যঞ্জক তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা
রেখেই বলছি চীনের আদলে আমরা ব্যবস্থা নিতে গেলে মুদ্রার অপর পিঠটাও একটু ভাবতে হবে। চীনের এই মডেলটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে বিশেষ ধরনের রাস্ট্রীয় ও অর্থনেতিক শাসন ব্যবস্থাপনায় । চীনের রাজনীতি সমাজতান্ত্রিক
রাষ্ট্র কাঠামোতে গড়া একটি একক কম্যুনিস্ট পার্টি অব চায়না দ্বারা পরিচালিত । ক্ষমতায় থাকা কম্যুনিস্ট পার্টি প্রতিটা
ক্ষেত্রেই বেশ বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। আর কম্যুনিস্ট পার্টি অব চায়নার ৮/৯ কোটি সদস্য সরকারকে ডোমিনেট
করে থাকে। কমান্ড ইকোনমির অধীনে, প্রত্যেকটি রাষ্ট্র-চালিত এন্টারপ্রাইজেই পার্টি কমিটি থাকা বাধ্যতামূলক ।এখন
অবশ্য কিছুটা উদারিকরনের মাধ্যমে বাজার অর্থনিতি শুরু হওয়ায় কিছু কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে
রাষ্ট্রের ক্ষমতা সীমিত হয়েছে । তবুও সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে পার্টি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য
ভূমিকা পালন করে । কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র চীনে চলছে এখন ভীতির শাসন । চীনের সফল মডেলকে এ দেশে বাস্তায়ন করতে
গেলে আবার না বাকশালেই ফিরে যেতে হয়, সেটা কি খুব বেশী আশার বানী হবে?দেশের গনতন্ত্রকামী সচেতন জনতা
কি তা সহজে মেনে নিবে? তাই চীনের আদলে এ ধরনের কোন কর্মযজ্ঞ নেয়ার বিষয়ে আমাদেরকে অনেক বিষয়ই ভেবে
দেখতে হবে। আমাদেরকে আমাদের মত করেই ভাবতে হবে । তবে উপযুক্ত প্রকল্প গ্রহনের পুর্বে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের
সফল ভিলেজ সেন্টার প্রকল্পের/কর্মসুচীর পারফরমেন্স ও বাস্তবায়ন কৌশল পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন আছে ।
বোন সোহানী এ বিষয়ে চীনের ইন্ডাসট্রি বেইসড ইকনমি গড়ার ধারনা দেয়ার জন্য তাঁর প্রতি রইল ধন্যবাদ । পরিকল্পনা বিদগন বিষয়টি অবশ্যই ভেবে দেখতে পারেন। তাদের পদ্ধতি আমাদের দেশের রাষ্ট্রিয় ও সামাজিক ব্যবস্থায় যতটুকু খাপ খাওয়ানো যায় ততটুকু আমরা গ্রহণ করতে পারি। কারণ তারা আমাদের প্রস্তাবিত ইন্ডাসট্রিয়াল বেইসড ভিলেজ সেন্টার
প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপুর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে আভির্ভুত হতে পারেন ।

“এসব কোথায় হবে ? শহরাঞ্চল এবং গ্রাম মিলিয়ে চাষের জমিকে বাঁচিয়ে। কিন্তু তার আগে যে সমস্ত প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে!” মর্মে কথাগুলির সাথে যুক্ত আপনার মুল্যবান বক্তব্যের সাথে সহমত পোষন করি ।
আপনার বক্তব্যের সাথে সঙ্গতিপুর্ণ একটি রূপরেখা আমি দিয়েছি শুনে ভাল লাগল । উপরে থাকা শ্রদ্ধেয় ব্লগার খায়রুল আহসানের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জবাবের ঘরে ছবি সহ দেখানো হয়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় মাত্র ১০ টি ৪ তলা ভবনে ৬০০ পরিবারের জন্য কিভাবে গৃহায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এমনভাবে প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টারে মাত্র ১০টি করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে দেশের গ্রামীণ এলাকার প্রায় সকল মানুষের গৃহায়ন সমস্যার সমাধান সহ উল্লেখযোগ্য
পরিমান কৃষি জমি উদ্ধার করাসহ ভবিষ্যতে দেশের কৃষি জমি গ্রাস রোধ করা যাবে ।

বহুতল ভবন নির্মান করে বাসস্থানের ব্যবস্থা ব্যয় বহুল হলেও তেমন চ্যালেঞ্জের সন্মুখীন হবে বলে মনে হয়না , উদাহরন
উপরে বর্ণিত আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় বহুতল গৃহ নির্মান এবং ভাষান চড়ে মানুষ থাকতে আগ্রহী না হলেও সেখানে
রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য বিশালাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্ত নিজস্ব অর্থায়নে মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগে অর্থের
অভাব হয়নি বলে দেখা যায় । উল্লেখ্য একটি ভিলেজ সেন্টারের জন্য পোষ্টে বর্ণিত সুযোগ সুবিধা সম্বলিত প্রকল্প একনেক সভায় পাশ হয়েছে শুনলে(যদিও সে সম্ভাবনা সুদর পরাহত) প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই প্লট বরাদ্ধ প্রাপ্তির জন্য বিবিধ
প্রকারের কান্ড কারখানা শুরু হয়ে যাবে ।আর সবগুলি ভিলেজ সেন্টারতো একসাথে করতে হবেনা ।বাজেটে প্রয়োজনীয়
অর্থ সংস্থান সাপেক্ষে পর্যায়ক্রম ১০/২০ বছর লাগিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে অর্থের অভাব হবে বলে মনে হয়না।

তবে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় তথা প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরন কর্মটি হবে খুবই চ্যলেঞ্জিং তাতে কোন সন্দেহ নেই। বিষয়টি আপনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন মন্তব্যের ঘরে । বলেছেন কেইবা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছেড়ে যেতে চাইবে দুরে ।কথা খাটি তাতে
কোন সন্দেহ নেই । তবে সব চ্যালেঞ্জেরই সমাধান আছে। উল্লেখ্য সচিবালয়ের উপ সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাগন
এক পায়ে খাড়া আছেন ডিসি হিসাবে জেলা শহড়ে পদায়নের জন্য। সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা
উপজেলায় পোষ্টিং এর জন্য উন্মোখ হয়ে থাকেন। পুলিশের লোকজন থানার অসি হিসাবে যাওয়ার জন্য ব্যকুল
থাকেন । কারণটা অনেকেরই জানা । তেমনিভাবে সুযোগ সুবিধা, গাড়ী বাড়ী দিয়ে প্রস্তাবিত ভিলেজ সেন্টার
বাস্তবায়নকালীন সময়ে প্রকল্প পরিচালক হিসাবে সচিবালয়ের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদেরকে পোষ্টিং দিলে
এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন পরবর্তীতে ভিলেজ সেন্টার এডমিনিসট্রেটর হিসাবে নিয়োগ দিলে ঢাকায় সচিবালয়ে কাজ
করার জন্য লোক পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ । তখন তারা রাজধানী শহড় ঢাকায় থাকার জন্য কোন অজুহাতও
দেখাবেন না ।

মন্ত্রীরা ঢাকায় থাকতে চাইলে থাকুন তাতে বিশেষ আপত্তি নাই । সচিবালয়ে অবস্থিত একটি মন্ত্রনালয় চালাতে খুব
বেশী লোক লাগেনা। এই ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে প্রত্যেকেই নীজের কম্পিউটারে নিজেই অনেক কাজ করে নিতে
পারেন । আজকের এই ভার্চুয়াল জগতে ইন্টারনেটেই ফাইল চালাচালি ও যোগাযোগ কর্ম সেরে নেয়া যায় ।
মন্ত্রনালয়ের সাথে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন বলে মন্ত্রনালয়ের অধিনস্ত যে সমস্ত অধিদপ্তর,ডিপার্টমেন্ট,
বিভাগ, সেক্টর কর্পোরেশন, সংস্থা, এজেন্সি তাদের সদর দপ্তর ঢাকায় রাখার পক্ষে কথা বলেন, তাদেরকে
বিকেন্দ্রীকরন করা হলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ, ফাইল চলাচালি কর্ম সমাধা করতে পারেন,
এমন কি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের মাসিক পর্যালোচনা বৈঠক গুলিও সেরে নিতে পারেন। এই করোনাকালে
মন্ত্রীরা ও উর্ধতন কর্মকর্তাগন নীজ ঘরে বসে যদি তাঁর মন্ত্রনালয়ের গুরুত্বপুর্ণ কাজ সমাধা করতে পারেন তবে
বিকেন্দ্রীকরনের ফলে মফস্বলে অবস্থিত তাদের দপ্তরে বসে দাপ্তরিক কাজ করতে না পারার বিষয়ে জোড়ালো যুক্তি
দাঁড় করাতে পারবেন না। বিদেশি কুটনৈতিক মিশনগুলিও রাজধানী ঢাকা শহর হতে হাজার হাজার মাইল দুরে বসে
ইন্টারনেট, টেলিফোন ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গুরুত্বপুর্ণ দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন ।তাতে তো তাদের কাজের
কোন অসুবিধা হয়না, গাড়ীতে পতাকা উড়িয়ে সেখানেও তারা ঘুরতে পারেন । মন্ত্রনালয় ও প্রশাসনিক বিভাগ সমুহ বিকেন্দ্রকরন করে সেখানে পোষ্টিং দিলে যে সমস্ত মন্ত্রীরা যাবেন না বলে অনিহা প্রকাশ করবেন তাদেরকে যদি সর্বোচ্চ
পর্যায় হতে বলা হয় না গেলে মন্ত্রিত্ব থাকবেনা, দলে অনেক যোগ্য লোক আছেন যাদের গাড়িতে পতাকা দিলে মফস্বলে
কেন, যে কোন জায়গায় যেতে প্রস্তুত আছেন। বর্তমান পর্যায়ে কোন কেবিনেট মিষ্টারের পক্ষে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিন্ধান্তের
বিপরীতে কথা বলার হিস্মত আছে বলে মনে হয়না ।যাহোক, বিকেন্দ্রীকরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিষয়ে আরো অনেক
পন্থাই আছে, তবে সব কিছু নির্ভর করে সরকার প্রধানের ইচ্ছার উপরে।অসলে সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ যা অতিক্রমের কোন
ক্ষমতা এই সময়ে কারো কাছে নেই বলেই ধরে নেয়া যায় ।
তাই আপনার সুরেই বলতে হয় বিকেন্দ্রীকরন এখনো সেই
দুরাশাই বটে ।

তবে আমি সকল প্রকার ভাল কাজের বিষয়ে প্রচন্ডভাবে আশাবাদী ,সে জন্য আশা করেই থাকলাম ।
দেখা যাক ভবিষ্যতে কি ঘটে । তবে যাবার বেলায় জাতীয় কবি নজরুলের ভাষায় বলে যাই
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।


অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৪৬| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:৩২

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ঈদ মোবারাক প্রিয় আলী ভাই !
আশা করছি সবাই কে সুস্হ্য সুন্দর ঈদ কাটিয়েছেন!
শুভ কামনা :)

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:১৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার প্রতিও রইল বিলম্বিত ঈদ মোবারক ।
ঈদ কাটিয়েছি তবে এবারকার ঈদের দিনগুলি ছিল নিরান্দময় বিষাদে ভরা ।
গত দুই সপ্তাহ আগে করুনাক্রান্ত হয়ে আমার ছোট মামার ইন্তেকাল ও গত সপ্তাহে আমার ভাগ্নে জামাতা মৃত্যু বরন
করায় মানসিক ভাবে পরিবারের সকলেই ছিলাম বিপর্যস্ত ।ছোট মামা ছিলেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি ছিলেন আমাদের পিতৃ মাতৃ কুলের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজেষ্ট ।
অপরদিকে মাত্র ৩৫বছর বয়সি ব্যাংক কর্মকর্তা ভাগ্নে জামাই করোনা সনাক্ত হওয়ার
পরে মাত্র ৬ দিনের মাথায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করে। মানুষ মাত্রই মরনশীল
এটা জানা কথা, তবে কিছু মৃত্যু রেখে যায় পরিবারের সকলের প্রতি করুন বিষাদের ছায়া। অল্প বয়সি
ভাগ্নে আর তার কচি ছেলে দুটির দিকে অশ্রু সজল চোখে চেয়ে থাকা ছাড়া শান্তনা দেয়ার কোন
ভাষা নেই ।তাদের জন্য সকলের দোয়া চাই ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৪৭| ০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ২:১৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:

প্রিয় ডঃ এম এ আলী ভাই,
সালাম নিবেন। ভাই সাহেব আমি কিছুদিন যাবত ব্যস্ততার কারণে ব্লগে আসতে পারিনি, কখনো কখনো ব্লগে আসলেও পাঁচ দশ মিনিট ব্লগে থেকে চলে গেছি। আপনার খোঁজ নিতে পারিনি, আপনার পোস্টে বিস্তারিত মন্তব্য করার কথা বলে মন্তব্যও করতে পারিনি বলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি, আপনি ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আর বিলম্বিত ঈদ মোবারক গ্রহণ করুন।

০৬ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ওয়ালাইকুম ছালাম।
নীজ কাজে ব্যস্ত থাকাটাই বেশী গুরুত্বপর্ণ
ও বলতে গেলে বাধ্যমুলক ।
সামুতে বিচরন অনেকটাই অপসনাল ও বিনোদনমুলক ।
যে টুকু সময় সামুতে দিতে পেরেছেন তাতেই মাশাল্ল্লহ।
পোষ্টটির বিষয়ে আপনার প্রথম মন্তব্যে যে সমস্ত
মুল্যবান কথা বলেছেন তাতেই আমি প্রিত ।
যদি সময় সুযোগ পান তবেই শুধু আবার আসুন
এর জন্য দুখিত হওয়ার কোন কারণ নাই ।

আপনার পরিবেশিত সুই পিঠা খেতে খুবই সুস্বাদু।
আমার মনে আছে ছোট কালে বারান্দায় লাইন ধরে
মা খালা , ফুফু ও ভাই বোনেরা বসে হাতের তালুতে
পিঠার কাইকে দুই হাতে ঘসে এমন সুই পিঠা
বানাতাম ।তারপরে এগুলিকে পাকা বিচি কলার
রসের সাথে পাটালী গুর দিয়ে রসলো পিঠা করে
পরিবেশন করা হতো। শীতকালে এটা খেতে বেশী
স্বাদের হয় । বিচি কলার রস তৈরী করাও ছিল
আরেক বেশ কৌশলী কান্ড । বিষয়টি মনে হয়
আপনার জানা, তাই এখানে আর বললাম না ।

আপনার প্রতিও রইল বিলম্বিত ঈদ মোবারক ।

ছালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন ।

৪৮| ০৭ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ২:০২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ডঃ এম এ আলী ভাই,
আপনার শারীরিক সমস্যার কথা জানতে পেরে কিছু তথ্য দিচ্ছি, প্লিজ সম্ভব হলে অনুসরণ করুন। আপনি এলার্জি জাতিয় যাবতীয় খাবার পরিত্যাগ করুন। বাহিরে যেহেতু যাওয়া সম্ভব না অর্থাৎ খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে বাতাশ নেওয়া যেহেতু সম্ভব না তাই বাসায় বেশী করে পানি পান করুন, পানি থেকে শরীর তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহ করে নিবে। আর প্রয়োজন ঘুম - পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম। মানুষের ঘুমে শরীর তার নিজস্ব ম্যাকানিজম চালু করে এবং শরীর নিজের মতো নিজে নিজে রিপেয়ার করে নেয়। আপনি পর্যাপ্ত ঘুমের অবহেলা করবেন না। আর চোখের সবচেয়ে ভালো ঔষধ হচ্ছে ফ্রেস পানি। আপনি নিয়মিত চোখে পানি দিবেন।

ভাই সাহেব, আপনার জন্য সব সময় দোয়া করি আপনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ফি আমানিল্লাহ।


০৯ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৭:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ঠাকুরমাহমুদ ভাই,
সুপরামর্শের জন্য ধন্যবাদ ।
হালাল কোন খবারেই এখন আমার এলার্জি নেই, তবে হারাম সব খাবারেই এলার্জি আছে ।
মনে পরে আজ হতে প্রায় ৪০ বছর আগে একবার ফাষ্টফুডের দোকান হতে একটা মাংসের
সেন্ডুইস খেয়েছিলাম । খাওয়ার পরে চিন্তায় পরে গেলাম সেটা হালাল না হারাম ছিল । কেন জানি
মনে হচ্ছিল সেন্ডুইসটা বোধ হয় হারাম মাংসেরই হবে। আর যায় কোথায় । শরীরে চুলকানী শুরু
হয়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন জায়গা ফুলে যায় । এর পর গরু, মহিষ, ছাগল ভেড়া যে কোন
ধরনের মাংসই খাইনা কেন সাথে সাথেই শরিরের বিভিন্ন অংশের চামড়া ফুলে গিয়ে বিশ্রি
আকার ধারণ করে। তবে আবার ঘন্টা কয়েক পরে মিলিয়ে যায় ।এমনটা চলে প্রায় মাস খানেক ।
অফিস হতে ছুটি নিয়ে ঘরে বসে থাকি । কোন ঔষধেই কাজ হয়না। এলার্জি টেষ্টেও ধরা পড়েনা
বিশেষ কোন খাবারটি হতে এলার্জি দেখা দেয় । পরে নিরোপায় হয়ে দেশের বাড়ীতে গিয়ে আমার
প্রিয় দাদীজান সৈয়দা হামিদা খাতুনের কাছে নীজকে সমর্পন করি । তিনি চোটকা ফাটকা
অনেক কবিরাজি চিকিৎসা জানতেন । তিনি বললেন সেইতো এলি তবে অনেক দেরী করে।
যাহোক, তিনি দাওয়াই দিলেন । বললেন খাবার থেকেই হোক কিংবা অন্য যে কোন কিছু হতেই
হোক ,এলার্জির কারণে যখন চামড়ার উপরটা ফুলে যায় তখন সেখানে যেন পিপড়ার বাসার গুড়া
মাটি হাতে নিয়ে ঘসে দেই তাতে করে নাকি ভাল ফল পাব ।

পিপড়ার বাসার উপরে গুড়া মাটি পাওয়া ছিল বেশ কঠিন কাজ । যাহোক , তাঁর এই চিকিৎসাটি
মেজিকের মত কাজ করে । দিন কয়েকের মধ্যেই এলার্জি সেরে যায় জনমের মত ।
এরপর হতে আল্লার রহমতে হালাল কোন খাবারেই আমার এলার্জি দেখা দেয়নি ।
পিপড়ার বাসার গুড়ামাটি যে এলার্জি নিরাময়ে এমন কাজ করে তা নীজের উপর
পরখ না করলে বিশ্বাসই করতে পারতাম না ।

চোখের ব্যথায় ঠান্ডা পানি থেরাপি বেশ উপকারে দেয়। আমার মনে আছে
মুক্তি যুদ্ধের সময় আমাদের এলাকায়পাক বাহিনীর গোলাবারুদের ধোয়ায়
মানুষের চোখে মারাত্বক ধরনের চোলকানী ও ব্যথা দেখা দেয়। তখন দাদীজানের
কবিরাজি পানি থেরাপি ভাল উপকার দেয়। তবে পানিটা ছিল বিষেষ ধরনের ।
তাহলো নদী নালা খাল বিল পুকুর হতে বড় শামুক ধরে এনে বড় একটি থালার উপরে
সরা রাত রেখে দিলে দেখা যেত শামুকের গা হতে বেশ স্বচ্ছল কিছু পানি থালায় জমে যেতো।
সেই পানি লাল চকটকে হয়ে যাওয়া চোখে দিয়ে ঠান্ডা পানিতে চোখ ধোয়ে দিলে দিন দুয়েকের
ভিতরে চোখের ব্যথা নিরাময় হয়ে যেতো । এখনতো তেমন শামুক পাওয়াই বড় দায় ।
চোখের জন্য শামুকের পানি থেরাপি এখন নাই বললেই চলে । তবে দেহের যৌবন ফিরে পেতে শামুক
ফেসিয়াল চলছে দুনিয়ার অনেক দেশে ।

মুখের উপর দিয়ে হেলতে দুলতে ঘুরে বেড়ায় কয়েকটি শামুক। কখনও নাকের পাশ বেয়ে নামে ঠোঁটে কখনও
আবার গাল বেয়ে উঠে কপালে৷ ওদের সর্পিল চলন-গমনে নাকি লাবণ্য ফুটে উঠে মুখমণ্ডলে ৷ উবে যায় বলিরেখা,
ব্রণর দাগ। বয়সের ছাপ মুছে গিয়ে জাগে তারুণ্যের দীপ্তি । সুন্দর থেকে আরও সুন্দর হয়ে উঠে মুখখানি । এই প্রাণীর
চলাচল ত্বকের পক্ষে নিরাপদ কি না, তা এখন অবশ্য পরীক্ষা করে দেখছেন স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞরা। তবে ইদানিং থাইল্যান্ড জাপান, চিন ও লন্ডনের স্পা গুলিতেও দিন দিন নাকি বাড়ছে শামুক-ফেসিয়ালের ব্যবহার ।

আপনি ঠিকই বলেছেন পানি আর ঘুম শরিরের জন্য খুবই প্রয়োজন । চেষ্টা করব এর মাত্রা বাড়াতে ।
তবে অফিসে যাওয়ার জন্য গতবাধা নিয়ম না থাকায় দির্ঘ দিন ধরে সারা রাত জেগে ভোরে ফজরের
নামাজ পরে এক টানা পাঁচ ছয় ঘন্টা ঘুম এখন নিয়মিত হয়ে গেছে ।

আমার জন্য দোয়া করায় কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

আপনার জন্যও রইল দোয়া ও শুভেচ্ছা ।



৪৯| ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৮:১৩

মিরোরডডল বলেছেন:



আবারও একটা মুগ্ধ করা লেখা । আকাশমুখী বাড়িঘর হচ্ছে জীবনের প্রয়োজনে । আর অপশন নেই তাই । কিন্তু হাইরাইজ বিল্ডিং সে যত সুন্দর আর সুবিধাই থাকুক না কেনো কেমন যেন প্রাণহীন লাগে । পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ধনী আরও ধনী হচ্ছে , দরিদ্র হচ্ছে আরও নিঃস্ব । কথাটা খুবই সত্যি আর দুঃখজনক । অথচ এমন একটা স্বপ্ন দেখি যেখানে দরিদ্র বলে কিছু থাকবে না, সবাই তার ব্যাসিক নিড পেয়ে একটা স্ট্যান্ডার্ড লাইফ পাবে । বাংলাদেশে ধনী দরিদ্রের ডিফারেন্সটা বড্ড বেশী প্রকট ।

উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশ যদি ডিসেন্ট্রালাইজ করা যায় তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয় । ইনফ্যাক্ট টুডে অর টুমোরো এটাতো করতেই হবে । কৃষি ভিত্তিক আর আধুনিক শিল্পভিত্তিক উৎপাদন দুটোই সাইড বাই সাইড হতেই পারে যদি প্রপার প্ল্যানিং করে করা হয় ।

ছোট চর বা দ্বীপ গুলো ডেভেলপ করলে লোকালই মানুষ লাভবান হবে প্লাস টুরিস্ট ডেসটিনেশন হিসেবে এগুলো টার্গেট করা যেতে পারে । ইন্দোনেশিয়ার বালি বা থাইল্যান্ড করতে পারলে, আমাদের দেশও পারে ওয়ান স্টোরিড কটেজ করে দ্বীপগুলোকে অর্গানাইজ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে । এতে লোকাল মানুষও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ওখানে ছড়িয়ে পড়বে আবার রেভিনিউ বাড়বে । ওগুলো মেইনটেইন করতে অনেক কর্মসংস্থানের দরজা ওপেন হবে ।

বহুতল বিল্ডিং ভেঙ্গে পরার ছবিগুলো কি ভয়ংকর । এরকম সে সামনে আরও হবেনা সেই গ্যারান্টি কোথায় । হুম দারিদ্র নিরসন প্রকল্পে হাত দেয় ঠিকই কিন্তু কোনকিছু লং রানে কন টি নিউ হয়না । তাই প্রবলেম আগের জায়গায় থেকে যায় ।এই প্রকল্প টা সবার আগে প্রায়োরিটি হওয়া উচিৎ , শুধু কাগজে কলমে না , সত্যিকারের বাস্তবায়ন করা ।

ওভারল ভিলেজ সেন্টারের স্বপ্ন খুবই ভালো লাগলো । বাংলাদেশে প্রবলেমের শেষ নেই কিন্তু যেকোনো প্রবলেমের সমাধান সম্ভব যদি প্রপার প্ল্যানিং থাকে । অসাধারণ লেখা, চমৎকার সব সাবজেক্ট তুলে ধরেছেন । আই উইশ আপনি বাংলাদেশের কর্ণধার হতেন । তাহলে এরকম প্রকল্প গুলোর বাস্তবায়ন হতো । এখনও আশা রাখি যে বা যারা সম্পৃক্ত তারা যেন এ লেখা পড়ে অনুপ্রানিত হয় । তাহলে আপনার কষ্ট করে লেখাটা সার্থক হবে ।


১২ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



বিলম্বিত উত্তরের জন্য দু:খিত

লেখাটি মুগ্ধতা দিয়েছে শুনে খুশী হলাম । হাইরাইজ বিল্ডিং তো অবশ্যই প্রানহীন লাগবে । ভুমি সমতলের ঘরেতে গাছ গাছালীর ছায়া , মাটির সোধাগন্ধ ও পাখীর কিচির মিচির আর কোকিলের কুহুতানে অলস দুপুর কাটানোর সুখই যে আলাদা । তাইতো গ্রামের মানুষ বলে এমন সুন্দর ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীর কোথায় তুমি পাবে ।

এখন তো দেখা যায় যেখানে পুঁজিবাদ সেখানেই সাম্যবাদ বেশী , সেখানেই ধনী দরিদ্রের ভেদাবেদ অনেক কম এটলিষ্ট দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় , বলতে গেলে একজন খয়রাতিও দালানে বাস করে,সেকন্ড হ্যন্ড হলেও নীজের গাড়ী চালায় । পুঁজিবাদি দেশ যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য , কানাডা, অস্ট্রেলিয়া , জাপান ,যে দিকেই তাকান না কেন সেখানেই দেখা যায় সাম্যবাদ ,সেগুলিই বেশী মাত্রায় ওয়েল ফেয়ার স্টেট । তবে পুঁজিবাদের নামের আড়ালে তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলিতে চলছে সুবিধা বাদ সেখানে মুলত মিক্সড ইকনমির নামে চলছে বিবিধ প্রকারে বিবিধ মাত্রায় লোটপাট ,আর তাতেই ধনী দরিদ্রের বৈষম্য হতেছে বিরাট।সঠিক ও যুতসই আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় সুসম আয় বন্টনের মাধ্যমে এই বৈষম্য দুর করা করা ।এখন পুজিবাদ বলুন আর সমাজবাদই বলুন জাতির সম্পদের সুসম বন্টন পদ্ধতি বের করা প্রয়োজন । এটাই বেশি জরুরী ।

আপনি যতার্থই বলেছেন উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে যদি ডিসেন্ট্রালাইজ করা যায় তাহলে অনেক সমস্যার সহজ সমাধান হয়।কৃষি ও শিল্পকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পাশা পাশি চলার জন্য কর্ম পদ্ধতি নির্ধারন ও বাস্তবায়ন করতে হবে জরুরী ভিত্তিতে । এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন । ।এ লক্ষ্যে প্রয়োজন একটি দক্ষ কর্মী বাহিনী । এর সাথে সততা , নিষ্ঠা ও সুশাসন প্রয়োজন ।

বাংলাদেশের সাগর মোহনায় জেগে উঠা চরগুলিকে আপনার পরামর্শ অনুযায়ী টুরিষ্ট ডেসটিনেশন হিসাবে গড়ে তুলতে পারলে
বাংলাদেশ বিবিধ প্রকারে লাভবান হবে । ঘনবসতিপুর্ণ দেশের জনবহুল এলাকা হতে অনেককেই সে সমস্ত নতুন করে জেগে উঠা
চরে স্থানান্তর করে তাদের অবস্থার উন্নয়ন সাধন করা যেতে পারে । নতুন কর্ম সংস্থানের দরজাতো অবশ্যই ওপেন হবে ।

বহুতল ভবন ভেঙ্গে পরার ছবিগুলো ভয়ংকর ,তবে তার থেকেও আরো ভয়ংকর ভয়ংকর ছবি হয়তবা দেখতে হতে পারে ভুমি কম্পের ঝুকিতে থাকা দেশে বিদ্যমান লক্ষ লক্ষ বিল্ডিংগুলি হতে । দোয়া করি তেমন দৃশ্য যেন আমাদেরকে দেখতে না হয়
কোনকালে । প্রকল্প প্রস্তাবনাটি প্রায়োরিটি পাওয়ার যোগ্যতা রাখা উচিত বলার জন্য ধন্যবাদ। কামনা করি বিষয়টি তাদের
নজরে আসুক ।

ভিলেজ সেন্টার প্রকল্টির মধ্যে আরো সুন্দর ও গুরুত্বপুর্ণ বিষয় অন্তভুক্তি ও সে গুলি বাস্তবায়নের জন্য আআপনার আরো কিছু ভাবনা কিংবা বাস্তব সম্পন্ন ধারনা থাকলে তা জানালে পোষ্টটির মধ্যে এডিট করে যুক্ত করে দিব । একটি উপযুক্ত মানের প্রকল্প প্রস্তবনা কতৃপক্ষের নজর এড়াবেনা বলে মনে করি ,কারণ অনেকেই বিবিধভাবে সামুতে বিচরণ করেন বলে মনে করি ।

শুভেচ্ছা রইল

৫০| ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৮:১৭

মিরোরডডল বলেছেন:
কমেন্টটা বড় হয়ে গেলো আর তাই অনেক স্প্লেলিং এরর হয়েছে :(

১২ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ২:০৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



কোন সমস্যা নাই, স্পেলিং এররে আমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন না :)
তাইতো বাংলায় লেখায় বানানের নিয়ম সংস্কার করার জন্য আমার অনেক লেখা রয়েছে ।
হাতে সময় থাকলে সামুতে প্রকাশিত আমার নীচের লেখাটি পাঠ করে দেখতে পারেন ।
হরির উপরে হরি হরিকে দেখে হরি হরিতে পালায় : বাংলা ভাষা হতে সমগোত্রীয় ও সমউচ্চারলমূলক বর্ণ লিপি কমানো প্রসঙ্গ

বাংলা বানান সংস্কারের বিষয়ে কবি গুরু রবিন্দ্রনাথের মনোভাবটাও দেখতে পাবেন নীচের লিংকটায় গেলে ।
বাংলা বানান সংস্কার - দেবপ্রসাদ ও রবীন্দ্রনাথের পত্রালাপ

অতএব স্পেলিং এরর নিয়ে চিন্তিত হওয়ার তেমন কোন কারণ নাই।
যে কারণে বানানে বেশী ভুল হয় সেগুলির অপসারণ এখন একান্ত প্রয়োজন
সমউচ্চারনমুলক বর্ণ সংখ্যা কমানোর সাথে সাথে সমউচ্চারণমুলক
আকারচিহ্ন যথা হ্রস্ব ইকার দির্ঘ ঈকার , হ্রস্ব ওকার দীর্ঘ ওকার এগুলি
কমালে বানান রীতি অনেক সহজ হয়ে যাবে । অনেকেই মুক্তি পাবে
বানান ভুলের হাত হতে ।

শুভেচ্ছা রইল






৫১| ১৩ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১০:০১

সোহানী বলেছেন: যতটুকু মনে পড়ে আমিই প্রথম মন্তব্যটা করেছিলাম। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি না .........

১৩ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



হায় হায় বলে কি?
আবার এসে ছু মন্তর ছু বলে পুর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন এ ক্লিক করে দেখুন পাওয়া যায় কিনা ।


৫১টি মন্তব্য ৪৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনি হয়তবা ভুলে গিয়েছিলেন যে মোট মন্তব্য ৫০ ছাড়ালে এমনটি হয় ।

আবার দেখতে এসেছিলেন দেখে ভাল লাগল ।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.