| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
...................................মহাশুন্যে উর্ধালোকে ভ্রমনের একটি কাল্পনিক বাহন.
পোস্টের শুরুতেই এখানে প্রচ্ছদে থাকা ছবিটি সম্পর্কে বিনয়ের সঙ্গে পরিষ্কার করতে চাই এই ছবিটি কোনো
বাস্তব ঘোড়া বা জীবজন্তুর রূপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। এটি বোরাক সম্পর্কে বর্ণিত অসাধারণ গতি ও
বজ্রপাতের সঙ্গে তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি প্রতীকী ও কল্পনাভিত্তিক শিল্পরূপ মাত্র।
আমার পোস্টে বোরাকের একটি বর্ণনা দিতে গিয়ে যথাস্থানে আমি পরিস্কার ভাবে বলেছি “ নবিজী (সা,) এর ইসরা ওয়াল
মিরাজে ভ্রমনে ব্যাবহৃত বাহন বুরাক এর বর্ননায় বলা হয়ে থাকে আল-বুরাক আরবী শব্দ বারক থেকে এসেছে ,
যার অর্থ বজ্রপাত। বোরাকের চলার গতিবেগ সম্পর্কে বলা হয়েছে তার চোখ যতদুর দেখতে পারে এর প্রতি
পদক্ষেপের গতি ছিল তারো বেশী। (সহিহ বুখারী শরীফ, হাদিস নম্বর ৩৬০০ )”।
আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজ (রাত্রির যাত্রা ও আরোহণ) একটি অলৌকিক ঘটনা যা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ঐশরিক মুজেযার পর দ্বিতীয় বিস্ময়কর মুজেযা।
মিরাজ বিষয়ে বিভিন্ন ইসলামি পুস্তকে বিস্তারিত বিবরণ দেখতে পাওয়া যাবে। এই ব্লগে ব্লগার নতুন নকিবের এই বিষয়ে একটি পোস্টে আরো বিন্তারিত তথ্যমালা ও বিবরণ রয়েছে ।
আমি এখানে মিরাজ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সুরা আল নাজম ও আল ইসরা এবং সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিম হাদীসে থাকা বর্ণনাগুলিকে মূল হিসেবে অবলম্বন করে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যবহুল এই ঘটনার মোটামুটি একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছি । এছাড়াও মিরাজ বিষয়ে প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় অন্যান্য বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থে থাকা বিবরণ সেই সাথে বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলিতে ইন্টারনেট ও গুগলে থাকা প্রাসঙ্গিক তথ্য চিত্রের সহায়তা নিয়েছি।
আল ইসরা ওয়াল মিরাজের ঘটনা রাসুল হযরত মোহাম্মদ (সা.)এর জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, নবীজীর রিসালাতের অনেক বড় মুজিযা আর উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত একটি বড় নিয়ামত। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলা যেমন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান আরো বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি তাঁর উচ্চ মর্যদা সম্পর্কে অবগত করেছেন সৃষ্টিজগৎকে। এই ঘটনা যেভাবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ও সীরাতের সাথে সম্পর্কিত, সেভাবে তা ইসলামী আক্বীদা ও বিশ্বাসেরও অংশ।
এই ঘটনায় একদিকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও নির্দেশনা, অন্যদিকে সেখানে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য ইলাহী হিকমত ও রহস্য। কিন্তু নবীজীর সশরীরে ইসরা ও মিরাজের বাস্তবতার উপর ঈমান আনার পর মুমিনের জন্য যে প্রয়োজনটি সর্বাগ্রে অনুভূত হয় তা হল কুরআনে কারীম ও সহীহ হাদীসের আলোকে ইসরা ও মিরাজের পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ইলম হাসিল করা।
মিরাজ সংঘঠিত হয়েছিল নবিজী(সা.)মদিনায় হিজরতের আগে। মতান্তরে অনেকেই দিনটিকে ২৭ রজব হিসাবে তাদের লেখায় তুলে ধরেন । সহি মুসলিম হাদিস গ্রন্থের ১ম পর্ব , পৃষ্ঠা ২৬৬ এ মিরাজের বর্ণনা প্রসঙ্গে ফুট নোট ৪২ এ বলা হয়েছে ‘’নবুয়ত প্রাপ্তির দ্বাদশবর্ষের ২৭ এ রজব এবং হিজরতের তের বছর পুর্বে মিরাজের ঘটনা সংগঠিত হয়েছিল । হযরত খাদিজা ( (রা.) ইন্তেকালের পর এই ঘটনা ঘটে।
আমরা অনেকেই আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজের মৌলিক গল্পটি জানি - যে নবী (সাঃ) কে মক্কআর আল-মসজিদ আল-হারাম থেকে জেরুজালামে অবস্থিত আল-মসজিদ আল-আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখান থেকে তিনি (সা,) উর্ধাকাশে আরোহণ করেছিলেন। আসলে, এই অভুতপুর্ব যাত্রায় অনেক যাত্রাবিরতি ছিল, এবং কাহিনীটি বিস্ময় এবং অলৌকিকতায় ভরপুর।
আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজ এমন এক সময়ে সংঘটিত হয়েছিল যখন নবী (সা,) তীব্র কষ্ট ও যন্ত্রণার মুখোমুখি ছিলেন। কুরাইশরা, যারা তাঁর গোত্র এবং তার পরিবার ছিল, তারা ক্রমাগত নবী (সাঃ) ও তার অনুসারীদের উপহাস, অপমান ও নিপীড়ন করত। অধিকন্তু, নবী (সাঃ) সবেমাত্র দুঃখের বছরের ('আম আল-হুজন) মুখোমুখি হয়েছিলেন, যে সময়ে রাসুল (সা,) তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) এবং তাঁর চাচা আবু তালিবকে হারিয়েছিলেন, যিনি ছিলেন তাঁর অভিভাবক এবং সহযোগী।
এই সমস্ত দু:খ ভারাক্রান্ত বিষয় ছাড়াও, যখন নবী (সা,) ইসলামী বাণী প্রচারের জন্য তায়েফ ভ্রমণ করেছিলেন, তখন তায়েফের লোকেরা তাকে সবচেয়ে নিষ্ঠুরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাদের সন্তানদেরকে নবিজীর প্রতি পাথর মারতে রাস্তায় পাঠিয়েছিল। তিনি শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।
এত দুঃখ ও কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা,) কে সত্যিই একটি সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক উপহার দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে কেবল পবিত্র কাবা শরীফ এবং আকাশের মধ্য দিয়েই নয়, শেষ পর্যন্ত ঐশ্বরিক উপস্থিতিতে, সমস্ত সান্ত্বনা এবং আশাদায়ী উৎসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাই আল-ইসরা ওয়াল-মি’রাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার মধ্যে একটি হল, ‘প্রত্যেক কষ্টের সাথেই স্বস্তি থাকবে’ فَاِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ یُسۡرً সুতরাং কষ্টের সাথেই রয়েছে সুখ ( সুরা আল ইনসিরাহ আয়াত ৫)।
আল-ইসরা: কাবা থেকে আল-আকসা পর্যন্ত ঘটনাবলী
মালেক ইবনে সা’সাআ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন নবী সাল্লালাহু আলাইহেসসাল্লামকে যে রাতে আকাশ ভ্রমন করানো হয়েছিল সে রাতের বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি সাহাবাদের বলেছেন : আমি কাবার হাতিম অংশে ( মক্কার কাবা ঘরের সংলগ্ন উত্তরের অর্ধচন্দ্রাকার বৃত্ত দ্বারা ঘেরাও করা অংশটি হাতিম বা হিজরে ইসমাইল নামে পরিচিত। ৯০ সেন্টিমিটার উচ্চতা ও ১.৫ মিটার প্রস্থের একটি স্থান যা এই পোস্টের প্রচ্ছদ ছবিতে দেখানো হয়েছে) শুয়েছিলাম, হঠাত একজন আগন্তক (জিবরাইল)আমার কাছে আসলেন (সহি বুখারী,৩য় খন্ড , হাদিস নং ৩৬০০)। বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়কারী ইসলামি আলেমগন বলেন, নবী (সাঃ) কে তখন কাবায় যমযমের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কাবার অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীর, যেখানে নবী (সাঃ) বলেছিলেন যে জিব্রাইল(আঃ) আমার বক্ষ খুলে দিয়েছিলেন এবং ধুয়েছিলেন জমজমের পানি দিয়ে। তারপর তিনি জ্ঞান ও বিশ্বাসে ভরা একটি সোনার খাঞ্জা এনেছিলেন এবং এর বিষয়বস্তু আমার বুকে ঢেলে দিয়ে তিনি তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। (বুখারী ইংলিশ ভার্সান , প্রথম খন্ড বুক ৮ হাদিস নং ৩৪৯)।
এখানে প্রসঙ্গক্রমে একটি বিষয়ের অবতারনা করার ইচ্ছা পোষন করি। জনান্তিকে বলে রাখি এটা নেহায়েতই এই পোস্ট লেখকের একটি ধারণা মাত্র , এর সাথে কোন ইসলামিক স্কলারের লেখা বা কথা যুক্ত নয় ।
আমার ব্লগের অন্য একটি পোস্টে দেখানো হয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেশনা সংস্থা নাসা প্রেরিত পার্কার সোলার প্রব নামক একটি মহাকাশযান এবছরের জানুয়ারীতে সুর্যের পৃষ্ঠদেশের বেশ কাছাকাছি পর্যন্ত গিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ২০২৪ এর শেষ দিকে সুর্যকে স্পর্শ করা ।
ঐ মিসনে তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কিভাবে মহাকাশযানটি সুর্যের কাছে গিয়ে সূর্যের প্রচন্ড উত্তাপে গলে না গিয়ে অক্ষত থাকতে পারে । উল্লেখ্য সূর্যের পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা প্রায় ১০৪৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট( প্রায় ৫৬০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) আর সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা ২ কোটি ৭০লক্ষ ডিগ্রী ফারেনহাইট (প্রায় ১কোটি ৫০লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস )।
সুর্যপৃষ্টের তাপমাত্রা । ধনুকের মত দেখায় ছবিটি সুর্য হতে উত্থিত জলন্ত করুনা
বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বৈজ্ঞানিক গবেষনা করার পর সুর্যের কাছে গিয়ে তার বিশাল তাপমাত্রায় মহাকাশযানটি গলে না গিয়ে টিকে থাকার জন্য Thermal Protective Symtem(TPS) কৌশল/প্রযুক্তিটি বিজ্ঞানীগন উদ্ভাবন করে ফেলেন । উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা পার্কার সোলার প্রব নামক মহাকাশযানটির ভিতরে নিন্মের চিত্রের মত খুবই ছোট ও সুক্ষ কার্বন প্লেট সংস্থাপন করেন ।
এর ফলে মহাকাশযানটিকে শুধুই যে সুর্যের পৃষ্টদেশের তাপমাত্রা সহনীয় করে তুলে তাই নয় এটির নীজের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী সেলসিযাস( ৮৬ ডিগ্রী ফারেনহাইটে) নিয়ে আসে যাতে করে এর নীজ বডিসহ ভিতরের সকল ইকুইপমেন্টসই অক্ষত ও কার্যকরী থাকে।
আগ্রহী পাঠকগন নীচে দেয়া লিংকটি কপি করে কম্পিউটারে ব্রাউজ করে দেখতে পারেন স্পেসক্রাফ্টটি সুর্যের কাছে গিয়েও কেন প্রচন্ড তাপমাত্রায় গলে যায়নি https://www.youtube.com/watch?v=q1A6JRy9sWY

এখন কথা হলো মানুষ বিজ্ঞানীগনই যদি আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানে বলিয়ান হয়ে কারিগরী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ১০০০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টিকে থেকে উর্ধাকাশে সুর্যের তাপমাত্রাকে এড়িয়ে তার যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারে, সেখানে মহাকৌশলী সৃস্টিকর্তা আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসুল সাল্লালাহু আলাইহের সাল্লামের কালবে একটি অতীব ক্ষমতাশীল ও হিকমতময় ধাতব পিন্ডটি তারঁ ফেরেসতার মাধ্যমে সংস্থাপন করে দিয়েছেন তাতে আশ্চর্য হওয়ার মত কিছু নেই। এটা নিশ্চিত যে এর ফলেই আল্লাহর অশেষ হিকমতে ও রহমতে তিনি বোরাকের মত দ্রুতগামী (যা আলোর গতির থেকেও বেশী দ্রুতগামী ) এবং মহাকাশের যেকোন মাত্রার প্রচন্ডতম তাপ ও পরিবেশের মধ্য দিয়েও গমন করতে পারার সক্ষমতার অধিকারী হয় । অসীম ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর কাছে কোন কিছুই অসম্ভব নয় ।
যাহোক, ফিরে যাই আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজ বিষয়ক পুর্ব কথায় ।
রাসুল (সা,) বলেন, 'তারপর আমার কাছে একটি সওয়ারী বহনকারী বাহন ( উল্লেখ্য পোস্টের প্রচ্ছদ ছবিতে দেখানো ছ বুরাকের ছবিটি কোন বাস্তব ফটোগ্রাফ নয়, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি একটি শৈল্পিক ইমেজ) আনা হয়েছিল যাকে বলা হয় আল-বুরাক (আরবী শব্দ বারক থেকে, যার অর্থ বজ্রপাত) বোরাকের চলার গতিবেগ সম্পর্কে বলা হয়েছে তার চোখ যতদুর দেখতে পারে এর প্রতি পদক্ষেপের গতি ছিল তারো বেশী। (সহিহ বুখারী শরীফ, হাদিস নম্বর ৩৬০০ )
এখানে উল্লেখ্য আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩০০০০০ কিলোমিটার, এই গতিতে আলো একবছরে পারি দেয় ( ৩৬৫দিন X ২৪ ঘন্টা X ৬০ মিনিট X ৬০ সেকেন্ড = ৩১,৫৩৬,০০০ সেকেন্ড =১ আলোক বর্ষ )। এ হিসাবে এক আলোকবর্ষ সমান দুরত্ব হলো ৩১,৫৩৬,০০০ সেকেন্ড X ৩০০০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড =
৯,৪৬০,৮০০,০০০,০০০ কিলোমিটার)তথা ৯লক্ষ ৪৬হাজার ৮০কোটি কোটি কিলোমিটার। এখানে আরো উলেখ্য, বিজ্ঞানিগন হিসাব করে দেখেছেন যে মানুষ খালি চোখে রাতের আঁধারে ২.৫মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরে থাকা আকাশের তারাটি পর্যন্ত দেখতে পায় ছোট এক উজ্জল বিন্দুর মত ।
আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী তারা প্রক্সিমা সেন্টরাই প্রায় ৪.২৪ আলোক বর্ষ দুরে। অপর দিকে এনড্রমিডো গ্যালাক্সিটি আমাদের পৃথিবী হতে ২.৫০ মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরে । অর্থাৎ সেখান হতে পৃথিবীতে আলো পৌঁছতে ২.৫০ মিলয়ন আলোকবর্ষ সময় লেগেছে । অথচ রাতে খোলা আকাশের নীচে আমরা চোখের পলকেই আকাশে সেই তারাটি দেখতে পাই কারণ মানুষের চোখ দুরবীন ছাড়াই খালি চোখে ২.৫০ মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরের তারা দেখতে পারে।
On a clear, dark night, if a person with good eyesight has an unobstructed view, they can see the Andromeda Galaxy, around 2.5 million light-years away. The human eye can also see the Triangulum Galaxy. At around 3 million light-years away, it’s thought to be one of the farthest objects visible from Earth by the human eye.
(source:https://www.warbyparker.com/learn/how-far-can-the-human-eye-see )
যে কেও নিকশ কালো আঁধার রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রথমে একবার দেখে তারপরে চোখ বন্ধ করে দ্বিতীয় বার ঠিক একই তারকা রাজি দেখতে পাবেন । এই যদি হয় আমাদের মত সাধারণ মানুষের চোখের এক পলকের দৃষ্টি ক্ষমতা, তাহলে আল্লার সৃস্ট এত দ্রুতগতি সম্পন্ন বোরাক প্রতি পদক্ষেপে কত পথ পারি দিতে পারে চোখের পলকে তা একমাত্র রাব্বুল আলামীন আল্লাই ভাল জানেন । আমাদের চোখের দৃষ্টিকেও এমন পাওয়ারফুল করে তৈরী করার জন্যও মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লার কাছে শোকরিয়া জানাই ।
যাহোক, ফিরে যাই আবার আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজ বিষয়ক পুর্ব কথায় ।
বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ ও প্রভাবশালী আলেমতের মতামত হল যে নবীজি জিবরাইলল (আ.) এর সাথে তারপর আস-সাখরাহ আল-মুশাররাফাহ এর দিকে অগ্রসর হন যেটি বর্তমানে রক মসজিদের পবিত্র গম্বুজ দ্বারা অচ্ছাসিত। বরকতময় মসজিদ আল-আকসার হারাম আশ-শরীফ।
রাসুল ( সা.) আল-আকসায় পৌঁছান
অবশেষে, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) পবিত্র শহর আল-কুদস (জেরুজালেমে) এলেন এবং তিনি বাইত আল-মাকদিসে পৌঁছলেন (আক্ষরিক অর্থে 'পবিত্র ঘর' বরকতময় মসজিদ আল-আকসার অপর নাম) জিবরাইল (আঃ) বুরাককে মহান পবিত্র স্থানের পশ্চিম দেয়ালের কাছে রেখেছিলেন' (সহিহ মুসলিম )।
( অমার ব্লগের অন্য একটি পোস্টে আল আকসার বিষয় অলোচনায় এই বিখ্যাত ইসলামী ঐতিহ্যময় স্থানগুলি চিত্র দেখানো হয়েছে। )
মিরাজ বিষয়ে আল্লাহ বলেন-
لَقَدۡ رَاٰی مِنۡ اٰیٰتِ رَبِّهِ الۡکُبۡرٰی
‘নিশ্চয়ই সে তার প্রভুর সবচেয়ে বড় নিদর্শন দেখেছে’।(সুরা আন নজম আয়াত ১৮ )
এখন দেখা যাক জিবরাইল (আঃ) কে নিয়ে নবী (সাঃ) যখন আকাশের স্তরে স্তরে উঠেছিলেন তখন কি হয়েছিল আর কি কি দেখেছেন।
প্রথম আকাশ থেকে সপ্তম আকাশ পর্যন্ত ভ্রমন বিবরণ
প্রথম আকাশ
আল্লাহ রাসুল (সা,) পবিত্র পাথরের গম্ভুজ থেকে আকাশের মধ্য দিয়ে আরোহণ করেছিলেন, যেখানে তিনি কেবল অনেক অলৌকিক দৃশ্য এবং অসংখ্য ফেরেশতাই দেখেননি, তিনি অতীতের নবীদের সাথেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। যাত্রা পথের মাঝে, রাসুল (সাঃ)কে উত্তেজনা ও আনন্দের সাথে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল, কারণ তাঁর আগমনটি অনেক প্রত্যাশিত ছিল।
তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এই শব্দে, ‘স্বাগত হে ধার্মিক নবী ও পরহেজগার ভাই!’ ( সহি বুখারি)। (আদম (আ.) এবং ইব্রাহীম (আ.) অবশ্য তাকে ‘ধার্মিক পুত্র’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন)।
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতঃপর প্রথম আসমানে আরোহন করলেন (আকাশের প্রথম স্তর এবং পরিচিত মহাবিশ্বের শেষ)।
এখানে কুরআনে বর্ণিত খোদা সৃষ্ট এই মহাবিশ্ব যার আকার ও বিস্তৃতি বিশাল তারকারাজী আর গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত, এবং জ্যোতিবির্জানীরা এখন পর্যন্ত এ মহাবিশ্বের যতটুকু দেখেছেন, জেনেছেন ও কল্পনা করেছেন তা এই প্রথম আসমানের নীচে থাকা তারকারাজী তথা গ্রহ ,নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিষয়গুলি এই পুস্তকের ২য় অধ্যায়ে সচিত্র আলোচনা করা হয়েছে । আল্লাহ কুরআনে বলেছেন আমি অকাশকে সুসুভিত করেছি উজ্জল তারকা রাজি দিয়ে এবং সেগুলিকে সুরক্ষিত করেছি যমিনের উপর আসমান স্থাপন করে ।
আল্লাহ বলেন,
تَبٰرَکَ الَّذِیۡ جَعَلَ فِی السَّمَآءِ بُرُوۡجًا وَّ جَعَلَ فِیۡهَا سِرٰجًا وَّ قَمَرًا مُّنِیۡرًا
কতই না কল্যাণময় তিনি যিনি আসমানে নক্ষত্ররাজির সমাবেশ ঘটিয়েছেন আর তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ আর আলো বিকিরণকারী চন্দ্র(সুরা ফুরকান, আয়াত ৬১)।
আকাশে ঊর্ধ্বগমনের পথ সম্পর্কে সুরা আম্বিয়ার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন,
وَ جَعَلۡنَا السَّمَآءَ سَقۡفًا مَّحۡفُوۡظًا ۚۖ وَّ هُمۡ عَنۡ اٰیٰتِهَا مُعۡرِضُوۡنَ
এবং আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ। কিন্তু তারা আকাশস্থিত নিদর্শনাবলী হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়( সুরা আম্বিয়া , আয়াত ১৭)।
তিনি কুরআনে অন্য একটি আয়াতে বলেছেন,
وَحَفِظْنَاهَا مِن كُلِّ شَيْطَانٍ رَّجِيمٍ
অর্থাৎ, আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান হতে সুরক্ষিত করেছি। ( সুরা হিজর, আয়াত ১৭)।
সুরা আরাফের ৪০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,
اِنَّ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَ اسۡتَکۡبَرُوۡا عَنۡهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمۡ اَبۡوَابُ السَّمَآءِ وَ لَا یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ حَتّٰی یَلِجَ الۡجَمَلُ فِیۡ سَمِّ الۡخِیَاطِ ؕ وَ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُجۡرِمِیۡنَ
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দেই( সুরা আরাফ , আয়াত ৪০)
আকাশমন্ডলী সৃজন করা নিয়ে আল্লাহ বলেন,
فَقَضٰهُنَّ سَبۡعَ سَمٰوَاتٍ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ وَ اَوۡحٰی فِیۡ کُلِّ سَمَآءٍ اَمۡرَهَا ؕ وَ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ ٭ۖ وَ حِفۡظًا ؕ ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করলেন দু’দিনে আর প্রত্যেক আকাশকে তার বিধি-ব্যবস্থা ওয়াহীর মাধ্যমে প্রদান করলেন। আমি আলোকমালার সাহায্যে দুনিয়ার আকাশের শোভাবর্ধন করলাম আর সুরক্ষারও ব্যবস্থা করলাম। এ হল মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর সুনির্ধারিত (ব্যবস্থাপনা) (সুরা ফুরসিলাত , আয়াত ১২ )।
আসমানের বিবরণ, প্রথম আসমানে তথা আমাদেরকে যতটুকু তিনি জ্ঞাত করিয়েছেন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীগন যতটুকু জানেন সেই আসমানের বিষয়বস্তু এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কুরআনে উপরে বর্ণিত আয়াতসমুহে বলা কথামালার বাস্তবসম্মত প্রমান পাওয়া যায় মিরাজের আলোচনায় আসমানসমুহের নিরাপত্তা রক্ষী ও তাদেরকে আল্লাহর আদেশের কথা বলে আসমানের দরজা খুলে দেয়ার বিবরণগুলি হতে। যা এ লেখাটি পাঠে এগিয়ে গেলে দেখা যাবে।
যেমনটি হাদিসের বর্ণনায় জানা যায় যখন জিব্রাইলল (আ,) তারপর (আকাশের দরজা) খুলে দিতে বললেন (এর একটি দরজায় ধাক্কা দিয়ে)। (সহিহ বুখারী ৩৪৯)
বলা হলো, "আপনি কে?" তিনি বললেন, জিবরাইলল (আ,)।
বলা হলো, "এবং তোমার সাথে কে আছে?" তিনি বললেন, "মুহাম্মদ [সা,]"।
বলা হল, "তাকে কি পাঠানো হয়েছে?" তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তাকে পাঠানো হয়েছে”।
এবং এটি (আকাশের দরজা) "আমাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তিনি (নবী) আদম (আ.) এর দেখা পেলেন। অতঃপর রাসুল (সা.) স্বাগত জানালেন এবং তাঁর জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করলেন"। ( সহিহ মুসলিম , ১ম পর্ব , হাদিস নম্বর ৩১৯)।
অন্য বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রিয় নবী (সাঃ) এর আগমনে ফেরেশতা দারোয়ানরা আনন্দিত হয়েছিল এবং ঘোষণা করেছিল, 'তাঁকে স্বাগতম! কী আশ্চর্যজনক আগমন ঘটেছে!' (মুসলিম, হাদিস নম্বর ৩১৯) এবং 'তিনি স্বাগত এই পরিবারের মধ্যে!' ( সহিহ বুখারী ৩৪৯ )।
অন্যান্য বর্ণনায় আমরা নবী (সা,) এবং হযরত আদম (আ,) এর সাক্ষাতের আরও বিশদ বিবরণ পাই:
’ সেখানে আমরা দেখলাম একজন লোক বসে আছেন কিছু লোক তার ডানদিকে আর কিছু লোক তার বামে। যখন তিনি তার ডান দিকে তাকান, তিনি হাসতেন এবং যখন তিনি তার বাম দিকে তাকান তখন তিনি কাঁদতেন। অতঃপর তিনি বললেন, হে পূণ্যবান নবী ও সৎ পুত্রকে স্বাগতম! (অথবা অন্য বর্ণনায়, "স্বাগত তোমাকে পরিবারের মধ্যে, হে বৎস! কি আশ্চর্যজনক পুত্র তুমি!" ( সহিহ বুখারি ,ইংলিশ ভার্ষান , ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩৪৯)।
আমি জিবরাইল (আ,)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কে? তিনি উত্তর দিলেন,
“তিনি আদম [আ,] এবং তার ডান ও বাম দিকের লোকেরা তার বংশধরের আত্মা। তার ডানদিকে যারা জান্নাতী এবং যারা তার বাম দিকে তারা জাহান্নামী এবং যখন সে তার ডান দিকে তাকায় তখন সে হাসে এবং যখন সে তার বাম দিকে তাকায় তখন সে কাঁদে।" (সহিহ মুসলিম, ১ম খন্ড , হাদিস নম্বর ৩২৩)
অতঃপর নবী (সা,) জিব্রাইল (আ.)-এর সাথে আকাশের ২য় স্তরে আরোহণ করতে থাকেন। আবার প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হল এবং ফেরেশতা রক্ষীরা আনন্দিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে স্বাগত জানাল।
দ্বিতীয় আকাশে, নবী ঈসা (আ.) এবং ইয়াহিয়া (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ )
তৃতীয় আকাশে, নবী (সা,) হযরত ইউসুফ (আ,)এর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন।(সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ )
চতুর্থ আকাশে, রাসুল (সা,) হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন, তিনি নবী সাল্লালাহু আলাইহেস সাল্লামকে খোশ আমদেত জানিয়ে তাঁর জন্য মঙ্গল প্রার্থনা করেন (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ ) । উল্লেখ্য ইদ্রিস (আ.) এ বিষয়ে কুরআনে প্রশংসা করা হয়েছে:
وَّ رَفَعۡنٰهُ مَکَانًا عَلِیًّا
'আমরা তাকে একটি উচ্চ অবস্থানে উন্নীত করেছি'। ( সুরা মরিয়ম আয়াত ৫৭)
পঞ্চম আকাশে তিনি হযরত হারুন (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন((সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ )
ষষ্ঠ আকাশে তিনি হযরত হারুনের ছোট ভাই হযরত মুসা (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।(সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ )
উপরে বর্ণিত প্রতিটি স্তরে, এই নবীগণ আমাদের রাসুল (সাঃ) কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁর জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন এই বলে যে, ‘স্বাগত হে ধার্মিক নবী ও পরহেজগার ভাই!’ ( সহিহ বুখারি ১ম খন্ড হাদিস ৩৪৯)
সপ্তম আকাশ
সপ্তম আকাশে, নবী (সা,) তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি ‘আল-বাইত আল-মামুর’-এর দিকে পিঠে হেলান দিয়ে ছিলেন। আর এই মসজিদে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন , আর কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের কেও দ্বিতীয়বার সে ঘরে ফিরে আসবেন না। (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯) আল্লাহর সৃষ্ট ফেরেসতাদের সংখ্যা যে কি বিপুল সংখক তা এর থেকেই বুঝা যায়। মিরাজে নবীজির স্বচক্ষে দেখার মধ্যে আমাদের জন্য কুরআনের বাণী সমুহের যতার্থতা যাচাই এর অপুর্ব সুযোগ রয়েছে। যথা কুরআনে প্রতিটি আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতার আলোচনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে –
اَمۡ یَحۡسَبُوۡنَ اَنَّا لَا نَسۡمَعُ سِرَّهُمۡ وَ نَجۡوٰىهُمۡ ؕ بَلٰی وَ رُسُلُنَا لَدَیۡهِمۡ یَکۡتُبُوۡنَ
তারা কি মনে করে যে আমি তাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণার খবর রাখি না। অবশ্যই রাখি।ামার ফেরেসতারা তাদের সঙ্গে থেকে সব কিছু লিপিবদ্ধ করে।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত ৮০)।
অপর আয়াতে া আল্লাহ বলেন
اِذۡ یَتَلَقَّی الۡمُتَلَقِّیٰنِ عَنِ الۡیَمِیۡنِ وَ عَنِ الشِّمَالِ قَعِیۡدٌ
‘যখন দু’জন লিপিবদ্ধকারী (ফেরেশতা) লেখক ডানে ও বামে বসে (মানুষের আমল লিখছে( সুরা কাফ , আয়াত ১৭)
مَا یَلۡفِظُ مِنۡ قَوۡلٍ اِلَّا لَدَیۡهِ رَقِیۡبٌ عَتِیۡدٌ
মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে( সুরা কাফ , আয়াত ১৮)
সপ্তম আকাশে বাইত আল মামুরের মসজিদে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেসতার আগমনের কথা ও উপরের আয়াতে বলা প্রতিটি মানুষের ( উল্লেখ্য সারা বিশ্বে এখন ৮ বিলিয়ন তথা ৮০০ কোটি মানুষ রয়েছেন ) দেনিক সার্বক্ষনিক আমলনামা লিবিবদ্ধ করার জন্য আল্লাহর ফেরেসতার সংখার কোন সীমা পরিসীমা যে নেই তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই ।
যাহোক ফিরে যাওয়া যাক আবার মিরাজ কাহিনীর আলোচনায় -
বাইত আল-মা’মুর আক্ষরিক অর্থ হল 'অনেক পরিদর্শন করা ঘর'। এটি সরাসরি পৃথিবীর কাবা ঘরের উপরে জান্নাতি কাবাঘর ( সহি বুখারী, ৩য় খন্ড , হাদিস নম্বর ৩৬০০ এর বিবরণীর পৃষ্ঠা নং ৬৮৭ তে থাকা ফুট নোট ৭৮ এ বর্ণিত ) ।
আদম (আ.)এর মতো ইব্রাহিম(আ.) নবী (সা.)-কে অভিবাদন জানিয়ে বলেছেন, ‘হে ধার্মিক নবী ও পূণ্যবান পুত্রকে স্বাগতম!’ [সহি বুখারি, তয় খন্ড , হাদিস নম্বর ৩৬০০ পৃষ্ঠা ৬২৭)।
অন্য বর্ণনায়, ইব্রাহীম (আ.) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উম্মতকে তাঁর সালাম জানিয়েছিলেন এবং আমাদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, 'জান্নাতে রয়েছে বিশুদ্ধ মাটি এবং সুস্বাদু পানি, এবং এটি একটি সমতল সমভূমি), সুবহানাল্লাহ (আল্লাহর মহিমা), আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই), এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)। [তিরমিযী]
সিদরাহ তিল-মুন্তাহা
নবী (সাঃ) তাঁর যাত্রা চালিয়ে সিদরাতিল মুনতাহার নিকটে পৌঁছেছিলেন।
عِنۡدَ سِدۡرَۃِ الۡمُنۡتَهٰی
সিদরাতিল মুনতাহার নিকট (সুরা আন নাজম আয়াত ১৪) ।
অভিধানে ‘সিদরাহ' শব্দের অর্থ কুল বৃক্ষ। মুন্তাহা শব্দের অর্থ শেষপ্রান্ত। পৃথিবী থেকে যা কিছু নীত হয় তা ওখানে গিয়েই থেমে পড়ে অতপর তার অপরপারে যারা রয়েছেন তরা সেখান হতে তা গ্রহণ করে উপরে নিয়ে যান ( সহিহ বুখারী , তয় খন্ড , হাদিস নম্বর ৩৬০০ এর বিবরণীর ফুট নম্বর ৭৭, পৃষ্ঠা ৬২৭)
মহানবী (স,) এই বিশাল বৃক্ষের বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন!
‘[এর] পাতা ছিল হাতির কানের মতো এবং এর ফল বড় মাটির পাত্রের মতো’( সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড নং ৩১৯]
‘অত:পর যখন তা আল্লাহর নির্দেশে আচ্ছাদিত হল, তখন এমন পরিবর্তন হল যে সৃষ্টির মধ্যে কেউই এর সৌন্দর্যের প্রশংসা করার ক্ষমতা রাখে না’। (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস ৩১৯)
তিনি আরও বলেছেন: 'অনেক রঙ এটিকে ঢেকে দিয়েছে যা আমি জানি না (অর্থাৎ এই গাছের রঙগুলি বর্ণনাতীত ছিল)'। [ সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নং ৩১৯]
সুবহানআল্লাহ, মহানবী (সা,) আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যিই এক আশ্চর্য নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেছেন।
নবিজীর দেয়া উপরের ঐসব বিবরণ ছাড়া কোনো মানুষের সাধ্য নেই সিদরাতিল মুনতাহার সৌন্দর্য বর্ণনা করার। নবিজির এই সব বিবরনের উপর অনেক শিল্পীই কল্পনায় আঁকেন সিদরাতিল মুনতাহার কিছু দৃষ্টি নন্দন কাল্পনিক ছবি, সিদরাতিল মুনতাহার প্রকৃত দৃশ্য সেসল থেকে আরো অনেক অবর্ণনীয় সুন্দর ।
শিল্পীর তুলিতে আঁকা সিদরাতিল মুনতাহার একটি দৃষ্টি নন্দন কাল্পনিক চিত্র(এটি সত্যিকার কোন ছবি নয় )
রাসুল (সা.) এর উর্ধাকাশে ভ্রমনের স্তর ও যে সমস্ত নবীদের সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়েছ
সপ্তম আসমান ভ্রমনে অনুষ্ঠিত হয় ঐশ্বরিক মিলন /যোগাযোগ সভা
এই যাত্রার শেষে, মহানবী (সা,) এর সন্নিকটে ঐশ্বরিক উপস্থিতিতে আনা হয়েছিল, শক্তি ও স্বস্তির চূড়ান্ত উৎস। ঐ দৃশ্যের সৌন্দর্য মহানবী সাল্লালাহু আলাইহেস সাল্লাম যে কতটা সম্মানিত ও বিনীতভাবে আনন্দ চিত্তে অনুভব করেছিলেন তা কল্পনা করাও অসম্ভব ।
আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় হাবিব রাসুল (সা,) এর মধ্যে কি বার্তা আদান প্রদান হয়েছিল সে সম্পর্কে আমরা খুব বেশি কিছু জানিনা তবে সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমে দেখা যায় পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের বিধানকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধানে পরিনত করার বিষয় নিয়ে আল্লাহর কাছে তাঁর কয়েকবার প্রার্থনা জানানোর পর পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বিধান প্রাপ্তির উল্লেখ রয়েছে (সহিহ বুখারী , হাদিস ৩৪৯ , সহিহ মুসলিম হাদিস ৩১৯)।
পবিত্র কুরআনেও উল্লেখ দেখা যায় যেখানে আল্লাহ বলেন-
فَاَوۡحٰۤی اِلٰی عَبۡدِهٖ مَاۤ اَوۡحٰی
‘অত:পর আল্লাহ তাঁর বান্দার কাছে যা অবতীর্ণ করেছেন তা প্রকাশ করলেন।
( সুরা আন নাজম আয়াত ১০)
এখানেই আল্লাহ তাঁর উম্মতকে বাধ্যতামূলক সালাহ উপহার দিয়েছিলেন, যা মুসলমানদের জন্য একটি দৈনিক শক্তির উৎস, কারণ এটি আমাদেরকে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করার এবং তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ দেয় - এটি মুমিনের আরোহন তথা মিরাজ!
সপ্তম আকাশ হতে ঘরে ফেরা
ছবি: পবিত্র রক মসজিদে আল-আকসা কমপ্লেক্সের কেন্দ্রে ।
অবশেষে, মহানবী (সা,) কে বরকতময় মসজিদ আল-আকসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি বুরাকে করে মক্কায় ফিরে আসেন।
তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময়, তিনি মক্কার দিকে বিভিন্ন কাফেলাকে যাত্রা করতে দেখেছিলেন, যা তিনি পরে কুরাইশদের কাছে বর্ণনা করবেন যে তিনি সত্যিই এই অলৌকিক যাত্রা করেছিলেন। এমনকি বায়তুল মাকদিসকে নবী (সা,) এর কাছে আল্লাহ প্রদর্শন করিয়েছিলেন, যখন কুরাইশরা কাবাঘরের হিজরে তাঁকে জেরা করছিল । পুরো যাত্রাটি একটি রাতের একটি ছোট অংশে সংঘটিত হয়েছিল, এবং এমন অনেক লোক ছিল যারা এই ধরনের দাবি করার জন্য নবী (স,)-কে উপহাস করবে।
এ প্রসঙ্গে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, মিরাজের ব্যাপারে কুরাইশরা যখন আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চেষ্টা করল তখন আমি কাবার হিজর অংশে দাঁড়ালাম। আর আল্লাহ বাইতুল মাকদিসকে আমার সামনে উদ্ভাসিত করলেন। ফলে আমি তার দিকে তাকিয়ে তার চিহ্ন ও নিদর্শনগুলো তাদেরকে বলে দিতে থাকলাম। (সহিহ মুসলিম,১ম খন্ড হাদিস নং ৩৩৬)।
মুসলমানদের জন্য মিরাজের এই কাহিনীটি হলো বিস্ময় ও আশার উৎস, যেমনটি আজও আমাদের জন্য অব্যাহত রয়েছে। এই রাতে, সৃষ্টির সেরা মানবকে পৃথিবীর বিভিন্ন বরকতময় স্থানে ভ্রমণের সম্মান দেওয়া হয়েছিল, তারপর আকাশের সর্বশেষ স্তরে আরোহণ করানো হয়েছিল এবং অবশেষে সপ্তম আসমানে সিদরাতিল মুনতাহায় স্বাগত জানানো হয়েছিল! এই সব প্রিয় নবী (স,)-কে সম্মান করার জন্য এবং ‘তাঁকে আল্লাহর সৃষ্ট কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য!’ যেমনটি কুরআনে বলা হয়েছে
سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِهٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِیۡ بٰرَکۡنَا حَوۡلَهٗ لِنُرِیَهٗ مِنۡ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡر
পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ( সুরা আল ইসরা ,আয়াত ১)
এই হল মিরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র। এর মাঝে জান্নাত ও বৈচিত্র্যময় সৃষ্টির অনেক কিছুই প্রত্যক্ষ করেছেন নবীজী। নবিজীর মিরাজের আরো অসংখ্য বিচিত্র ঘটনাবলির বিবরণ জানার জন্য নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থসমুহ পাঠ করা যেতে পারে।
মিরাজ এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ
মিরাজের মাধ্যমে নামাজের এই ৫ টি ওয়াক্ত পবিত্র কুরআনুল কারিমের আরো আয়াত দ্বারাও বলা হয়েছে । দিন এবং রাতের যেই যেই সময় গুলোতে এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে তারও নির্দেশনা এসেছে কুরআনুল কারিমে। যদিও অজ্ঞতার কারণে কেউ কেউ বলে থাকেন যে, কুরআনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশনা কোথায়? কুরআনে তো এ কথা উল্লেখ নেই।
উহাদের কথার ভিত্তি নেই, কুরআনের আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় নির্ধারিত।পবিত্র কুরআনুল কারিমের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি দিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়গুলো সুস্পষ্ট করে দিয়ে বলেন-
فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ
সুতরাং, তোমরা আল্লাহর তাসবিহ তথা পবিত্রতা ঘোষনা কর, যখন সন্ধ্যায় (মাগরিব ও ইশার নামাজ দ্বারা) উপনীত হবে এবং সকালে (ফজর নামাজ দ্বারা) উঠবে। (সুরা রূম আয়াত ১৭)
وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ
আর অপরাহ্নে (আসর নামাজ দ্বারা) ও জোহরের সময়ে। আর আসমান ও জমিনে সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই (সুরা রূম আয়াত ১৮)।
আল্লাহ তাআলা সুরা রূমের উল্লেখিত দু'টি আয়াতে তাসবিহ বলতে নামাজ পড়াকে বুঝিয়েছেন। এ আয়াতদ্বয়ে যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তাহলো- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ের কথা।
প্রথম আয়াতে 'তুমসুনা' (সন্ধ্যা) শব্দ দ্বারা মাগরিব ও ইশা, 'তুসবিহুন' (সকাল) শব্দ দ্বারা ফজর নামাজকে বুঝিয়েছেন। আর দ্বিতীয় আয়াতে 'আশিয়ান' (বিকাল/অপরাহ্ন) শব্দ দ্বারা আসর নামাজ এবং 'তুজাহিরুন' (দুপুর) শব্দ দ্বারা জোহর নামাজের সময়ের উল্লেখ করেছেন।(ফাতহুল কাদির, আহসানুল বয়ান)
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রাসূলে কারিম(সা.)আজীবন নিয়মিত আদায় করেছেন।
যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কুরআনে নির্ধারিত নেই বলে নামাজীদের অন্তরে ওয়াসওয়াসা দিতে চান তাদের জন্য আরেকটি বিষয় জেনে রাখা উচিত যে, রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সারা জীবনের প্রাকটিস ছিল দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। মুসলিম উম্মাহ তো তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শই অনুসরণ করে থাকেন। সুতরাং,যারাই বিভ্রান্তির বীজ যতই বুনতে চান না কেন, প্রকৃত মুসলিম কোনও অবস্থায়ই ষড়যন্ত্রের জালে আটকে যাবেন না। তাঁরা রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ অনুযায়ী প্রতি দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। করেই যাবেন ইনশাআল্লাহ।
তাওফিক প্রার্থনা করছি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকটে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যাবতীয় ওয়াসওয়াসা ও কুমন্ত্রণা সৃষ্টিকারীদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ইবাদতে মগ্ন-নিমগ্ন হওয়ার তাওফিক দান করুন। তাদের পেতে রাখা ঈমান বিধ্বংসী আকর্ষনীয় ও লোভনীয় বহুমাত্রিক রঙিন ফাঁদে পা না দিয়ে এবং সকল বিভ্রান্তির হাত থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে যথাসময়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
নামাজের উপকারীতা
১. একজন পরহেজগার ইমামের অধীনে চলার অভ্যাস আনে
২. নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজ করার অভ্যাস আনে
৩. সমাজে সাম্য একতা ও ভ্রাতিত্ব আনে
৪. বাহ্যিক নৈতিক আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা আনে
৫. একাগ্র চিত্ততার অভ্যাস আনে
৬. পাপ হতে মুক্তি দেয় ও পুণ্য কর্মে শক্তি দেয়
৭. আল্লাহ তাআলার সহিত কথোপকথনের দার খুলে দেয় এবং নিত্য ইমান বদ্ধক নিদর্শন সু দর্শনের সৌভাগ্য আনে
৮. এর সাহায্যে মানুষের সকল মুশকিল দূর হয় এবং সৌভাগ্যের ধার উন্মুক্ত হয় এবং আত্মার শান্তি নেমে আসে
৯. এর সাহায্যে মানুষ নিজের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে এবং অপরের জীবনে এমনকি জাতীয় জীবনেও পরিবর্তন সাধিতে পারে যেমন নবীদের জীবনে পরিদৃষ্ট হয়
১০ নামাজ মানুষ ও জাতিকে মহা সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করে ইহকালে চিরস্মরণীয় এবং পরকালে মহা সাফল্যের অধিকারী করে।
সকলের প্রতি শুভেচ্ছা রইল । আল্লাহ সকলের মঙ্গল করুন। আমীন
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মন্তব্যের ঘরে মুল্যবান প্রশ্ন রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
আপনার প্রশ্নগুলো গুরুত্বহীন নয়; বরং এগুলো বহু যুগ ধরেই ইসলামী আকীদা ও কালামের আলোচ্য বিষয়।
তবে কিছু মৌলিক বিভ্রান্তি পরিষ্কার করা জরুরি।
প্রথমত, ইসরা ও মেরাজ স্বপ্ন না বাস্তব এ বিষয়ে সাহাবা, তাবেয়িন ও আহলে সুন্নাহর সুস্পষ্ট অবস্থান হলো
ইসরা (মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস) এবং মেরাজ (আসমানে গমন) উভয়ই আল্লাহর কুদরতে জাগ্রত অবস্থায়,
স্বশরীরে সংঘটিত হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ বলেন
سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِهٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِیۡ بٰرَكۡنَا حَوۡلَهٗ لِنُرِیَهٗ مِنۡ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ
পবিত্র তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিকালে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন…।
(সূরা ইসরা , আয়াত ১)
এখানে আবদিহি (তাঁর বান্দা) শব্দটি আত্মা ও দেহ উভয়ের সমন্বিত সত্তাকে বোঝায়। স্বপ্ন হলে এতো তীব্র
বিরোধিতা কুরাইশদের পক্ষ থেকে আসতো না।
দ্বিতীয়ত, নবী রাসুলদের ইমামতি প্রসঙ্গ। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আকীদাগত নীতি উপেক্ষিত হয়েছে
মৃত মানেই অস্তিত্বহীন নয়। নবীগণ সাধারণ মানুষের মতো মৃত নন। সহিহ হাদিসে আছে
নবীগণ তাঁদের কবরে জীবিত, তাঁরা সালাত আদায় করেন।
অতএব, নবীদের উপস্থিতি আমাদের দুনিয়াবি জীবনের নিয়মে নয়, বরং বরযখি জীবনের বিশেষ মর্যাদায়।
এটি পুনরুত্থান (কিয়ামত) নয়, বরং আল্লাহর বিশেষ ইজনে এক অলৌকিক সমাবেশ যা মুজেজার সংজ্ঞার
মধ্যেই পড়ে।
তৃতীয়ত, ১,২৪,০০০ নবীর শারীরিক উপস্থিতি এ ধারণাটিই নির্ভুল নয়। সহিহ হাদিসে এসেছে নবীগণ উপস্থিত
ছিলেন কিন্তু সবাই যে দুনিয়ার দেহ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন,এরকম কোনো অকাট্য দলিল নেই।অনেক আলেমের
মতে এটি ছিল রূহানী বা বরযখি উপস্থিতি, যা আল্লাহর জন্য মোটেও অসম্ভব নয়।
চতুর্থত, লক্ষাধিক মানুষ এলো, কেউ দেখলো না? এই প্রশ্নটি আসলে গায়েব ও শাহাদাতের পার্থক্য না বোঝার ফল।
ইসরা ও মেরাজ ছিল গায়েবি জগতের ঘটনা, যেখানে আল্লাহ চাইলে কাউকে দেখান, চাইলে আড়াল করেন।
যেমন জিবরাইল (আ.) বহুবার এসেছেন, সবাই দেখেনি ।
আল্লাহর কুদরতের জন্য মানুষের প্রত্যক্ষ দেখা কোনো শর্ত নয়।
সবশেষে বলা যায় যদি কেউ বলে স্বপ্নে হলে সমস্যা নেই ,তবে তা ব্যক্তিগত বুদ্ধির আরাম হতে পারে, কিন্তু
আকীদা গড়ে ওঠে কুরআন, সহিহ হাদিস ও সালাফদের ব্যাখ্যার ওপর, মানবীয় কল্পনার উপর নয়।
আর যদি কেউ আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে এটা কীভাবে সম্ভব? প্রশ্ন তোলে
তবে মনে রাখতে হবে, মুজেজা ঠিক সেখানেই মুজেজা, যেখানে মানবীয় যুক্তি থেমে যায়।
সংক্ষেপে কথা হল ইসরা ও মেরাজ অসম্ভব নয়, নবীদের উপস্থিতি কবরভাঙা গণ-সমাবেশ নয়
এটি ছিল আল্লাহর বিশেষ কুদরতে সংঘটিত এক অনন্য মুজেজা আর ঈমানের মূল কথাই হলো:
আমান্তু বিল গায়েব আমি অদৃশ্যে বিশ্বাস করি,এই বিশ্বাস ছাড়া ঈমান পূর্ণতা পায় না।
যাহোক এখন বিশ্বাস করা বা না করা এটা একান্তই ব্য়ক্তিগত বিষয় ।
আমি আমার বিশ্বাস থেকেই এখানে কথা বলছি ।
শুভেচ্ছা রইল
২|
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২
নতুন বলেছেন: ৫০ ওয়াক্ত নামাজ সৃস্টিকর্তা আদেশ দিয়েছিলেন।
অর্থ প্রতি ৬০ মিনিটে ২ বার নামাজ। যেটা যৌক্তিক না। রাসুল সা: সেটা মেনে নিলে কি মানুষ সেটা অনুসরন করতো?
সৃস্টিকর্তা মানুষের জন্য ২৪ ঘন্টায় ৫০ বার প্রার্থনার কথা ভেবেছিলো!!!
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
নিতান্ত আমার নীজ ভানায় মনে হয় সৃস্টি কর্তার কাছে আরজী না জানিয়ে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ
মেনে নিলে হয়তবা সুবিধাই বেশী হত । কত ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে সে বিধান তখন
দিয়েছিলেন কিনা তা এখনো আমি জানতে পারিনি ।পরে বিভিন্ন অহিতে প্রাপ্ত ( অহি উনার কাছে
বিবিধভাবে আসতো) নামাজের পরিপুর্ণ বিধান জারি হয় । তাই প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ
মেনে নিলে হয়ত বা দেখা যেতো যে ২৪ ঘন্টার দিনে রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমের জন্য রেখে
বাকী ১৬ ঘন্টায় দিনের বিভিন্ন অংশে কোন বিশেষ পদ্ধতিতে :
দিনের শুরুতে ১ বার সুরা ফাতেহা = ১ওয়াক্ত
আর দিনের বিভিন্ন অংশে
২ বার X ১৬ঘন্টা (ঘন্টায় ২ বার) আল্লাহু আকবর ( আল্লাহ সর্ব শ্রেষ্ট ) = ৩২ওয়াক্ত
১ বার X ১৬ ঘন্টা ( ঘন্টায় ২ বার) সুবহানাল্লাহ ( আল্লাহ পবিত্র ) = ১৬ ওয়াক্ত
আর রাতে ঘুমানোর আগে ১ বার সুরা ফাতেহা = ১ ওয়াক্ত
হয়তবা এ নিয়মে নামাজ কড়লে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয়ে যেতে পারতো ।
এখানে স্পস্ট করে বলতে চাই উপরে দেয়া ৫০ ওয়াক্ত নামাজের বিবরণটি শুধু কথার পৃস্টে
কথা বলা , এর বাইরে কিছু নয় । এটা বিধান নয় কিংবা ইসলাম ধর্মের কোন কথাও নয় ।
যাহোক কথা হল ৫০ ওয়াক্তকে কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত করে নিয়ে আসার পরেও অনেকে তা ঠিক মত আদায়
করতে পারেনা বলেই দেখা যায় ।
তাই আল্লাহ বলেন আমি যা জানি তোমরা তা জাননা , নীজেরা চেয়ে নিয়ে আমরা বরং বিপক্তি বাধাই ।
যাহোক আল্লাহর অশেষ রহমতে তাঁর নির্দেশ মত এখনকার ৫ ওয়াক্ত নামাজ আমরা সুন্দরভাবেই
আদায় করতে পারছি যথা নিয়মেই । আর ৫ ওয়াক্ত নামাজের কত যে সুফল তা এই পোস্টের নীচে
তুলে ধরা হয়েছে।
শুভেচ্ছা রইল
৩|
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৫
হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ লেখাটির জন্য ।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
লেখাটি পাঠের জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
৪|
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০১
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: কয়েকদিনে পড়তে হবে। মূল্যবান পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ আপনাকে
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
কয়েকদিনে পড়তে হবে আপনার এই কথার মধ্যেই এক অঘোষিত সত্য লুকিয়ে আছে। কিছু লেখা আছে, যা
এক বসায় শেষ হয় না; যেমন কিছু চিন্তা আছে, যা এক মুহূর্তে ধরা দেয় না। এ লেখা সময় চায় , পড়ার সময়
নয় শুধু, ভাবার সময়ও। কারণ যে ভাবনা সহজে শেষ হয়ে যায়, তা অনেক সময় হৃদয়ে স্থায়ী হয় না। ধীরে,
থেমে থেমে, মনোযোগ নিয়ে পড়ার মধ্যেই এর আসল পাঠ উন্মোচিত হবে এই বিশ্বাসেই লেখাটি আপনার
বিবেচনার হাতে ছেড়ে দিলাম।
কয়েকদিনে পড়তে হবে এই বাক্যটি নিশ্চয় লেখাটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়, বরং সময় নিয়ে পাঠের
স্বীকারোক্তি। যেমন প্লেটোর সংলাপ এক পাঠে নিঃশেষ হয় না, যেমন অ্যারিস্টটলের ভাবনা ধৈর্য ছাড়া
আত্মসমর্পণ করে না, তেমনি কিছু লেখা আছে যাদের সঙ্গে পাঠকের সম্পর্ক তৎক্ষণাৎ নয়, ধীরে গড়ে ওঠে।
এ লেখাটি আপনার কাছ থেকে সময় নয়, সচেতন উপস্থিতি কামনা করে। কারণ যে ভাব চিন্তার অনুশীলন
দাবি করে না, সে ভাব আত্মাকে দীর্ঘদিন আন্দোলিতও করে না। অতএব, কয়েকদিনে পড়া মানে যে বিলম্ব
নয় বরং চিন্তার সঙ্গে সহবস্থানের এক প্রকার অনুশীলন তার প্রমান আশা করি কোন একসময় এসে দিয়ে
যাবেন ।
শুভেচ্ছা রইল
৫|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:১৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ওমর খাইয়াম, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৪@ বলছেন :
=========================================
আমি এই ছবিতে বিশ্বাস করি না ইহা মানুষের কল্পনার ফসল;
ঘোড়ার পাখা থাকে না, ঘোড়া উড়তে পারেনা।
......................................................................................
আপনার সুচিন্তিত মতামত জানতে চাই !
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মন্তব্যটিতে আমি লাইক দিয়েছি
আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ। এখানে একটি বিষয় বিনয়ের সঙ্গে পরিষ্কার করতে চাই এই ছবিটি কোনো
বাস্তব ঘোড়া বা জীবজন্তুর রূপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। এটি বোরাক সম্পর্কে বর্ণিত অসাধারণ গতি ও
বজ্রপাতের সঙ্গে তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি প্রতীকী ও কল্পনাভিত্তিক শিল্পরূপ মাত্র।
আমার পোস্টে বোরাকের একটি বর্ণনা দিতে গিয়ে আমি পরিস্কার ভাবে বলেছি “ নবিজী (সা,) এর ইসরা ওয়াল
মিরাজে ভ্রমনে ব্যাবহৃত বাহন বুরাক এর বর্ননায় বলা হয়ে থাকে আল-বুরাক আরবী শব্দ বারক থেকে এসেছে ,
যার অর্থ বজ্রপাত। বোরাকের চলার গতিবেগ সম্পর্কে বলা হয়েছে তার চোখ যতদুর দেখতে পারে এর প্রতি
পদক্ষেপের গতি ছিল তারো বেশী। (সহিহ বুখারী শরীফ, হাদিস নম্বর ৩৬০০ )”।
ইসরা ও মিরাজের ঘটনা নিজেই একটি মু‘জিযা, যা সাধারণ প্রাকৃতিক নিয়মের ঊর্ধ্বে। তাই একে দৈনন্দিন
প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করা উদ্দেশ্য নয়। এখানে বিশ্বাস আর শিল্পকল্পনা দুটিকে আলাদা করে দেখার
চেষ্টা করা হয়েছে।
আপনার ভিন্নমতকে সম্মান করি। এই পোস্টের উদ্দেশ্য কেবল ভাবনার খোরাক ও আলোচনার সুযোগ তৈরি করা
এর বেশি কিছু নয়। সম্পুর্ণ পোস্টটি মনযোগ দিয়ে পাঠ করলে বুঝতে পারবেন ।
শুভেচ্ছা রইল
৬|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০৬
অগ্নিবাবা বলেছেন: গ্রক মামারে জিগাইলাম,
আমি ধার্মিক নই, আমি সত্যঅন্বেষী, আমি পক্ষপাতহীন, আমি বিশ্বাসের উপর নয়, তথ্যের উপর নির্ভর করি। অনুগ্রহ করে এই ব্লগটি পড়ো এবং আমাকে বাংলায় বলো — এটা কী বৈজ্ঞানিক?
লিনঙ্ক; Click This Link
গ্রক মামা কইলো;
ব্লগটি পড়েছি। এটি ইসলামী ধর্মীয় ঘটনা "আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ" (নবী মুহাম্মদের রাত্রিযাত্রা ও আকাশারোহণ) নিয়ে লেখা, যা কুরআন এবং হাদিস (সহীহ বুখারী, মুসলিম) থেকে নেয়া অলৌকিক বর্ণনা। লেখক ড. এম এ আলী এতে ধর্মীয় কাহিনী বর্ণনা করেছেন এবং কিছু বিজ্ঞানীয় উদাহরণ (যেমন আলোর গতি, নাসার সোলার প্রোবের তাপ সুরক্ষা প্রযুক্তি, মহাকাশের স্তর) দিয়ে অলৌকিকতাকে যৌক্তিক করার চেষ্টা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, বুরাকের গতিকে আলোর চেয়ে দ্রুত বলে বর্ণনা করে আলোকবর্ষের হিসাব দিয়েছেন, এবং নবীর বুকে সোনার খাঞ্জা স্থাপনকে মহাকাশের তাপ সহ্য করার অলৌকিক ক্ষমতা হিসেবে নাসার প্রযুক্তির সাথে তুলনা করেছেন।
এটি কি বিজ্ঞানীয়? না, এটি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক। বিজ্ঞানীয় তথ্যগুলোকে নির্বাচিতভাবে ব্যবহার করে ধর্মীয় অলৌকিকতাকে সমর্থন করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ছদ্মবিজ্ঞান (pseudoscience) বলে বিবেচিত হয়। বিজ্ঞানে দাবি প্রমাণ করতে পরীক্ষা, প্রমাণ এবং পিয়ার রিভিউ দরকার, কিন্তু এখানে কোনো সত্যিকারের বিজ্ঞানীয় যাচাই নেই—শুধু ধর্মীয় গ্রন্থের সাথে বিজ্ঞানের সমন্বয়ের প্রচেষ্টা। তাই, এটি বিজ্ঞানীয় নয়, বরং ধর্মীয় এবং বিশ্বাসভিত্তিক।
আপনে কি কইবেন? কোরান থেকে এইবার টেলিপোর্ট আবিস্কার করে দেখান, কাফেরদের আবিস্কারের পরে কইবেন যে কোরান থেকে চুরি করছে। আপনারা শিক্ষিত মুসলমানেরা পারতেন এই পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীকে সত্য জানিয়ে আলোর পথে আনতে, আপনারাই এখন শুধুমাত্র বাহবা পাওয়ার জন্য তাদের পিঠে চাক্কু মারছেন, ছদ্মবিজ্ঞানের সাহায্যে তাদের বোকা বানাচ্ছেন। আফসোস!
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৩১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বেশ প্রয়াসলব্দ মন্তব্যটির জন্য ধন্যবাদ ।
আমি এতক্ষন আপনার আগমনেরই অপেক্ষায় ছিলাম ।
আমার সাধনা ধর্মবিশ্বাসকে বিজ্ঞানের অলোতে দেখার জন্য
নব প্রজন্মকে প্ররোচিত করা । ধর্ম বিশ্বাসের পাশাপাশি
বিজ্ঞানের ধর্ম ও কর্মকে বুঝা। আগে অনেক ক্ষেত্রেই
ধর্ম ছিল শুধু একপেশে।
এখন এর মধ্যে আলোচনা ও গবেষনার বহুমাত্রিতা
যুক্ত হোক । আপনাদের মত বিজ্ঞজনদের আলোচনা
সমালোচনা একে সত্যিকার চলার পথের গতি দিবে
এ বিশ্বাস আমার আছে ।
আলোচনা , সমালোচনা ও যথাযথভাবে সমন্বয়তা এ নীতিতে
আমি বিশ্বাসী ।
শুভেচ্ছা রইল
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আমি কোথাও বলিনি কোরান থেকে কায়েররা নিয়েছে ।
আমি শুধু চেয়েছিলাম ভাবতে আধুনিক বিজ্ঞানিরা যা
করেছে সেই মতই কি বোরারকে মহাশুন্যে চলার মত
বাহন হিসাাবে তৈরী করা হয়েছিল কিনা । পোস্টে
পরিস্কার করে বলেছি এটা নিছক আমার ব্যক্তিগত
ধারনা । সেই সাথে বলেছি মহান সৃস্টিকর্তা তার
কুদরত ও মুজেযার মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই করতে
পারেন । তার সৃস্টি কৌশল বুঝার সাধ্য কারো নেই।
৭|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৮
অগ্নিবাবা বলেছেন: পোস্টটি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক, এবং বিজ্ঞানীয় তথ্য (যেমন আলোর গতি, আলোকবর্ষ, NASA-এর প্রোবের তাপমাত্রা সহ্যক্ষমতা, মহাকাশের স্তর) নির্বাচিতভাবে ব্যবহার করে অলৌকিক ঘটনাকে যৌক্তিক বা "সমর্থিত" দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এটি ছদ্মবিজ্ঞানের (pseudoscience) একটি উদাহরণ, কারণ:
নির্বাচিত তুলনা (cherry-picking): বিজ্ঞানের কিছু ধারণা (যেমন তাপ-সুরক্ষা প্রযুক্তি) নিয়ে অলৌকিকতাকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো পরীক্ষণযোগ্য প্রমাণ বা বিজ্ঞানীয় পদ্ধতি (যেমন হাইপোথেসিস টেস্টিং, পিয়ার রিভিউ) ব্যবহার করা হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, বুরাকের গতিকে আলোর চেয়ে দ্রুত বলে বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু বিজ্ঞানে আলোর গতির বাইরে কোনো বস্তু (relativity-এর নিয়ম অনুসারে) অসম্ভব, এবং এটি কোনো প্রমাণিত ফ্যাক্ট নয়—শুধু ধর্মীয় বর্ণনা।
ফলসিফাইয়েবিলিটির অভাব: লেখক নিজেই বলেছেন যে আল্লাহর সৃষ্টি বোঝার সাধ্য নেই, যা বিজ্ঞানের মূল নিয়মের বিপরীত। বিজ্ঞানে কোনো দাবি পরীক্ষা করে ভুল প্রমাণ করা যায় (falsifiable), কিন্তু এখানে সবকিছু "অলৌকিক" বলে অপরীক্ষিত রাখা হয়েছে।
ব্যক্তিগত ধারণা vs. বিজ্ঞান: লেখকের এটাকে "নিছক ব্যক্তিগত ধারণা" বলা সঠিক, কারণ এটি বিশ্বাসের ভিত্তিতে। কিন্তু যখন বিজ্ঞানের শব্দ বা উদাহরণ (যেমন NASA-এর প্রোব) ব্যবহার করে এটাকে "ভাবতে" বলা হয়, তখন এটি ছদ্মবিজ্ঞানী হয়ে যায়—কারণ এটি বিজ্ঞানের মতো দেখতে চায়, কিন্তু বিজ্ঞানের কঠোরতা মানে না।
সত্যান্বেষী হিসেবে, আমি বলব: এটি ধর্মীয় অনুপ্রেরণা দিতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞানীয় প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার বিশ্লেষণ সত্যিই যুক্তিসঙ্গত এবং বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে খুব স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে।
আপনার বলার মতো বিষয়গুলো যেমন নির্বাচিত তথ্যের ব্যবহার, ফলসিফাইয়েবিলিটির অভাব এবং
ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও বিজ্ঞানকে মিশিয়ে দেওয়া সত্যিই খেয়াল করার মতো।
পোস্টটি মূলত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপট থেকে লেখা, যেখানে পাঠককে অনুপ্রেরণা দেওয়ার লক্ষ্য বেশি।
এখানে বিজ্ঞানের উদাহরণগুলো মুলত অলৌকিক বর্ণনার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে, যা
বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-পদ্ধতির সঙ্গে মিল নেই। তাই, আপনার মত অনুযায়ী এটি প্রমাণিত বিজ্ঞান হিসেবে নয় বরং
বিশ্বাসভিত্তিক ব্যাখ্যা হিসেবে বেশি উপযুক্ত।
আপনার মন্তব্যটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যা আমাকে ধর্মীয় অনুপ্রেরণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য
বুঝতে সহায়তা করবে । ধন্যবাদ এ বিশ্লেষণ শেয়ার করার জন্য।
শুভেচ্ছা রইল
৮|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫
রাজীব নুর বলেছেন: খুবই সুন্দর লেখা।
মেরাজের কাহিনী আমাকে আনন্দ দেয়। নবীজির মহাকাশ ভ্রমন আমাকে পুলকিত করে। ভাবায়।
এই বিষয়টা নিয়ে আমি সামুতে লিখেছি।
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মেরাজের কাহিনী আপনাকে আনন্দ দেয় শুনে ভাল লাগল ।
মেরাজের অনুভুতি ও সেখান হতে শিক্ষা নিয়ে ২ য় পর্ব
আসছে শীঘ্রই । পোস্ট করা হলে আশা করি দেখে
যাবেন ।
শুভেচ্ছা রইল
৯|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সুন্দর আলোচনা, যুক্তি ব্যাখ্যা পড়লাম
খুবই ভালো লাগল । সবচেয়ে আনন্দের বিষয়
এখানে কেউ কাউকে আক্রমন করে কথা বলেনি
...........................................................................
এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই ।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:০৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
খুবই মুল্যবান কথামালার জন্য ধন্যবাদ ।
এ ধরনের সংযত ও সৌজন্যপূর্ণ মন্তব্যই একটি সুস্থ ব্লগ সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও যখন
আলোচনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যুক্তি ও ধৈর্যের পরিচয় পাওয়া যায়, তখন তা কেবল একটি লেখাকেই নয়
পুরো পাঠকমহলকেই সমৃদ্ধ করে। ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করে বিষয়কেন্দ্রিক আলোচনার এই ধারা
সকল ব্লগার ও পাঠকের জন্যই অনুকরণীয় হয়ে থাকুক এমনই প্রত্যাশা।
শুভেচ্ছা রইল
১০|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩
রাজীব নুর বলেছেন: ''অলৌকিক নয় লৌকিক'' প্রবীর ঘোষের লেখা। বইটা পড়েছেন?
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
হ্যাঁ াআম দে’জ পাবলিশিং (ভারত) কতৃক প্রকাশিত অলৌকিক নয় লৌকিক এর ১ম থেকে ৫ম খন্ড
সব কটি পড়েছি ।
প্রবীর ঘোষ ছিলেন কলকাতাভিত্তিক একজন বিজ্ঞানসম্মত চিন্তাবিদ, যুক্তিবাদী লেখক এবং ভারতীয় বিজ্ঞান ও
যুক্তিবাদী সমিতি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। তার লেখালেখির লক্ষ্য ছিল অলৌকিক দাবি, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা
ও জ্যোতিষ-অলৌকিক বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও তত্ত্বসমূহ উন্মোচন করা।
বিভিন্ন খন্ডে থাকা তার বইগুলি রয়েছে
ভূতের গল্প, ডাইনি, তান্ত্রিক প্রথা ও লোকবিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
জ্যোতিষ, মানসিক শক্তি, প্যারাসাইকোলজি ও অতিপ্রাকৃত দাবি–সমূহের বিশ্লেষণ।
সমাজ-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কুসংস্কারের ভূমিকা।
কিভাবে বহু রহস্যজনক ঘটনা বাস্তবে “লৌকিক”অর্থাৎ প্রাকৃতিক/সাধারণ কারণ দ্বারা
ব্যাখ্যাত,যা হতে পারে সাধারণ মানুষকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার আহ্বান ও
বিজ্ঞানমনস্ক জীবনচর্চার প্রেরণা।
ভাল একটি বই এর কথা এখানে বলে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
১১|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৭
নতুন নকিব বলেছেন:
অসাধারণ, হৃদয়গ্রাহী এবং জ্ঞানসমৃদ্ধ একটি পোস্ট!
আপনার এই বিস্তারিত, আন্তরিক এবং অত্যন্ত যত্নসহকারে লেখা বর্ণনা পড়ে সত্যিই অন্তর ভরে গেল। আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ এর অলৌকিক ঘটনাকে এত সুন্দরভাবে কুরআন, সহীহ হাদীস এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে উপস্থাপন করেছেন, যা সাধারণ পাঠকের কাছে খুব সহজে বোঝা যায় এবং ঈমানকে আরও মজবুত করে। বিশেষ করে বোরাকের গতি, সিদরাতুল মুনতাহা, সপ্ত আসমানের ভ্রমণ এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মহান উপহার, সবকিছু এত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন যে পড়তে পড়তে ভাব ও ভাবনার জগতে হারিয়ে যাওয়ার অনন্য অভিজ্ঞতা হয়েছে।
আপনার পোস্টে কিছু ছবি ব্যবহারের সাথে সাথে এটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে এগুলো প্রতীকী ও শৈল্পিক চিত্র, বাস্তব ছবি নয়, এই সতর্কতা ও স্পষ্টতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ।
আল্লাহ তাআ'লা আপনাকে এমন সুন্দর জ্ঞান ছড়ানোর তৌফিক আরও বাড়িয়ে দিন। এই পোস্ট অনেকের ঈমানকে আলোকিত করুক। জাযাকাল্লাহু খাইরান কাসীরান।
আল্লাহ তাআ'লা আমাদের সকলকে সিরাতুল মুস্তাকিমে অটল রাখুন এবং মিরাজের মতো অলৌকিক নিদর্শনের প্রতি ঈমানকে আরও গভীর করুন। আমীন।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এই গভীর, আন্তরিক ও সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনার অনুভব ও
উপলব্ধির ভাষা থেকেই বোঝা যায় লেখাটির মূল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ জ্ঞান ও ঈমানের সংযোগ স্থাপন,
আলহামদুলিল্লাহ আপনার অন্তরে পৌঁছাতে পেরেছে।
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজের মতো মহান ও অলৌকিক ঘটনাকে কুরআন, সহীহ হাদীস এবং সীমিত
মানব-বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে উপস্থাপন করার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে আপনি যেভাবে মূল্যায়ন করেছেন,
তা আমার জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। বিশেষত আপনি যে অংশগুলো আলাদা করে উল্লেখ করেছেন
বোরাক, সিদরাতুল মুনতাহা, সপ্ত আসমান ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উপহার,এসবই মিরাজের সেই দিক,
যা হৃদয়কে নীরবে নত করে দেয়।
প্রতীকী চিত্র ব্যবহারের বিষয়টি লক্ষ্য করে সতর্কতাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্যও আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
দ্বীনের বিষয়ে স্পষ্টতা ও সতর্কতা বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআ’লা যেন আমাদের সবাইকে এই ধরনের জ্ঞানচর্চা থেকে সত্য উপলব্ধি ও আমলের তাওফিক দান
করেন, এবং মিরাজের শিক্ষাকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব রূপ দিতে সাহায্য করেন। আপনার দোয়া
ও শুভকামনার জন্য জাযাকাল্লাহু খাইরান কাসীরান।
আমাদের মানব কুলের জন্য আল ইসরা ওয়াল মিরাজের উকারীতা নিয়ে ২য় পর্ব এর একটি পোস্ট এর জন্য
লেখার কাজ চলছে । পোস্ট দেয়ার পরে দেখে যাওয়ার আমন্ত্রন রইল ।
আল্লাহ তাআ’লা আমাদের সবাইকে সিরাতুল মুস্তাকিমে অবিচল রাখুন । আমীন।
১২|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
ঠাকুরমার ঝুলি পড়তে কার না ভালো লাগে?
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ঠাকুরমার ঝুলি পড়তে কার না ভালো লাগে’এই কথাটির মধ্যে এক ধরনের স্নিগ্ধতা ও শৈশবস্মৃতির আবেশ
আছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। গল্প মানুষের কল্পনাকে উসকে দেয়, মনে সাময়িক আনন্দ জাগায়।
তবে ইসরা ওয়াল মিরাজের ঘটনাকে সেই অর্থে রূপকথার গল্পের সঙ্গে এক কাতারে রাখলে বিষয়টির প্রকৃত
স্বরূপ কিছুটা আড়াল হয়ে যায়।
ইসরা ওয়াল মিরাজ প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে সংঘটিত একটি অলৌকিক ঘটনা, যা একক কোনো কল্পনাপ্রসূত
বর্ণনা নয়; বরং কুরআনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত, সহিহ হাদিসের ধারাবাহিক বর্ণনা এবং ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য সূত্রে
সংরক্ষিত। যুগে যুগে অগণিত আলেম, মুহাদ্দিস ও চিন্তাবিদ এই ঘটনাকে বিশ্লেষণ করেছেন, প্রশ্নের মুখোমুখি
করেছেন এবং যুক্তির আলোয় ব্যাখ্যা করেছেন।
রূপকথা মানুষের কল্পনাকে আনন্দ দেয়, কিন্তু ইসরা ওয়াল মিরাজ মানুষের বিশ্বাস, বোধ ও দায়িত্ববোধকে
গভীরভাবে নাড়া দেয়। এতে রয়েছে ইবাদতের দিকনির্দেশনা, নবীজী (সা.)-এর মর্যাদার ঘোষণা এবং
মানবজীবনের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা। তাই একে কেবল গল্পের আনন্দে সীমাবদ্ধ না রেখে, ইতিহাস, বিশ্বাস
ও যুক্তির সমন্বয়ে দেখলেই হয়তো এর গভীরতা ও সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তাই পারলে লেখাটিকে আরেকবার সে রকম মনোভাব নিয়ে পাঠ করে দেখতে পারেন । পাঠান্তে আপনার নীজের
মত করেই তা উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করি ।
শুভেচ্ছা রইল
১৩|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৭
অপু তানভীর বলেছেন: ব্লগের চাড়ালদের জন্য আপনি একটু বেশি ভদ্র। আমার ব্যক্তিগত মনভাব হচ্ছে, আপনি যেহেতু সজ্জন এবং বয়স্ক মানুষ, এদের সাথে বৃথা কথা বলার কোনো মানে নেই। বিশেষ করে ধর্ম আর রাজনীতির ব্যাপারে। কেবলই সময় নষ্ট। বিশ্বাস করুন আপনি এতো সময় নিয়ে আপনি যে উত্তর দিচ্ছেন আপনার কি মনে হয় বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আপনি আনতে পারবেন? এর থেকে বই পড়ুন, কোরআর পড়ুন গান শুনুন কিংবা খোলা বাতাসে বসে সময়টাকে উপভোগ করুন। সেটা বেশি কাজে দিবে।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:২৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার আন্তরিক মন্তব্য ও শুভকামনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনি যে জায়গা থেকে কথাগুলো বলেছেন,
সেখানে যে স্নেহ ও মঙ্গলচিন্তা আছে তা আমি অনায়াসেই অনুভব করি। নিঃসন্দেহে ধর্ম ও রাজনীতির মতো
বিষয়ে অনর্থক বাক্বিতণ্ডা সময়ের অপচয় হয়ে উঠতে পারে, সে বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
তবে আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো সব ভিন্নমতই যে অচলাবস্থা বা বৃথা বিতর্কে গড়ায়, তা নয়। কিছু কথোপকথন
থাকে, যা তাৎক্ষণিক পরিবর্তন না আনলেও ভবিষ্যতের জন্য একটি বীজ বপন করে। হয়তো আজ নয়, হয়তো
সরাসরি নয় কিন্তু বিনয়ের ভাষা, যুক্তির আলো আর শালীন আচরণ অনেক সময় মানুষের মনে নীরবে প্রশ্ন জাগায়।
সেই প্রশ্নটাই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। অবশ্য আপনার ধারনামত পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষিন ।
আমিও এই প্রত্যাশা নিয়ে উত্তর দিই না যে সবাই সঙ্গে সঙ্গে আমার মত গ্রহণ করবেন। বরং এই আশায় উত্তর
দিই অযথা কঠোরতা, বিদ্বেষ বা বিকৃতি যেন একমাত্র ভাষা হয়ে না ওঠে। যদি একজন পাঠকও বুঝতে পারেন যে
ভিন্নমত মানেই শত্রুতা নয়, তাহলেই আমার সময়টুকু সার্থক মনে করি।
আর বই পড়া, কোরআন পড়া, গান শোনা বা খোলা বাতাসে সময় কাটানো এগুলো আমি গভীরভাবে উপভোগ
করি এবং এগুলোকেই জীবনের মূল শক্তি মনে করি। তবে কখনো কখনো মনে হয়, সেই অর্জিত শান্তি ও
উপলব্ধির দায় আছে সমাজের কথোপকথনেও সামান্য হলেও প্রতিফলিত করার।
আপনার পরামর্শ ও শুভেচ্ছার জন্য আবারও ধন্যবাদ। অপনার এমন সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি ও সৌহার্দ্যই আমাদের
সবার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল
১৪|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: সুখপাঠ্য এবং মূল্যবান।
১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
পোস্টটি সুখপাঠ্য ও মুল্যবান অনুভুত
হওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল ।
১৫|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: অপু তানভীর বলেছেন: 'ব্লগের চাড়ালদের জন্য আপনি একটু বেশি ভদ্র। আমার ব্যক্তিগত মনভাব হচ্ছে, আপনি যেহেতু সজ্জন এবং বয়স্ক মানুষ, এদের সাথে বৃথা কথা বলার কোনো মানে নেই। বিশেষ করে ধর্ম আর রাজনীতির ব্যাপারে। কেবলই সময় নষ্ট।' [
বিশ্বাস করেন ডঃ আলী, আমি আপনার ধৈর্য্য এবং সহ্য শক্তি দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি।
১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
একেবারেই সীমা লঙ্গন না করলে বিনয়, নম্রতা ও শালীনতার
ভিতর প্রতিমন্তব্য লেখা আমার সহজাত প্রবৃত্তি ।
উপরে অপু তানভীর এর মন্তব্যের প্রতিমন্তব্যে বিয়ষটি
আরো একটু বিষদভাবে উল্লেখসকরেছি ।
শুভেচ্ছা রইল
১৬|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫
হুমায়রা হারুন বলেছেন: পোস্টে দেয়া আগের ছবিটা বেশী সুন্দর লেগেছিল।
সাদা ঘোড়া আমার খুব পছন্দের। পংখীরাজ হলে তো কথাই নেই।
আমি শুনেছি আমার নানাজান তাঁর জীবদ্দশায় এমনি একটি সাদা ঘোড়া চাঁদের আলোতে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন।
১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
পুণরায় এসে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । পুর্বের পংখীরাজ ঘোড়াটি ভাল লেগেছিল শুনে খুশি হলাম ।
এন ধরণের পোস্টে কাল্পনিক ছবির সমাহার খেমন ফল দেয় তা হয়ত আপনি খেয়াল করেছেন ।
তাই বুরাকের বিবরণ অনুযায়ী একটি কাল্পনিক ঢ়োড়ার ছবি দিয়ে পুর্বেরটি রিপ্লেস করেছি ।
তবে আবারো পরিস্কার করে বিনয়ের সহিত জানাচ্ছি যে ছবিটি কোন বাস্তব ছবি নয় ।
পুরাটাই একটি কাল্পনিক ছবিমত্র , এর বেশি কিছু নয় ।
আমার নানাজান তাঁর জীবদ্দশায় এমনি একটি সাদা ঘোড়া চাঁদের আলোতে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে
দেখেছিলেন কথাটি শুনে ভাল লাগল । এখানে বলা আপনার এই কথাগুলি শুনে আমারই বাল।যকালের কিছু
কথা মনে পড়ে যায় ।
গ্রামে আমার দাদা বাড়ির পূর্ব প্রান্তে ছিল এক রহস্যময় খাল।
বাড়ির পূর্ব প্রান্তে, উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে যাওয়া ছোট্ট একটি খাল ,লম্বায় বড়জোর কোয়ার্টার কিলোমিটার।
খালটা গিয়ে মিশেছিল দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে চলা ছোট নদীতে। খালের দুই পাড়েই ছিল ঘন বন, এমন বন
যেখানে দুপুরেও আলো ঠিকমতো ঢুকত না।
শৈশবে সেই খাল আমাদের কাছে ছিল ভয় আর কৌতূহলের এক অদ্ভুত মিলনস্থল। বিশেষ করে রাত নামলে।
অমাবস্যার নিশিতে, যখন চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে যেত, তখন হঠাৎ হঠাৎ শোনা যেত বাতাসের শন শন শব্দ।
তার সঙ্গে মিশে আসত ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজ টকটক করে যেন কেউ ছুটে চলেছে। কখনো শোনা যেত
ঘোড়ার হ্রেশা হ্রেশা ডাক, আবার কখনো ডানা ঝাপটানোর মতো শব্দ।
গ্রামের লোকেরা বলত ওই খালের উপর দিয়ে ভুতুরে ঘোড়া উড়ে যায়। আমরা ছোটরা সে কথা অন্ধবিশ্বাসের
মতোই মেনে নিয়েছিলাম। আমিও ছোটবেলায় একাধিকবার নিশি রাতে সেই শব্দ শুনেছি। আজ ভাবলে বুঝি,
তখন ভয়টা ততটা ছিল না ছিল এক ধরনের রোমাঞ্চ।
একবার আমি আর আমার ছোট কাকা ঠিক করলাম, নিজের চোখেই ভুত দেখব। ঘোর অমাবস্যার রাত। চারদিকে
অন্ধকার, যেন আকাশটাও চোখ বন্ধ করে আছে। আমরা দু’জন খালের ধারে ঘাপটি মেরে বসে রইলাম। ঝিঁঝিঁ
পোকার ডাক ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছিল না।
হঠাৎ বাতাসের দম বদলে গেল। পরিচিত সেই শব্দ,ক্ষুরের আওয়াজ, ডানার ঝাপটা সব একসঙ্গে এসে বুকের
ভেতর কাঁপন ধরিয়ে দিল। চোখের সামনে ছায়ার মতো কিছু একটা নড়ে উঠল। সত্যিই কি ভুত ছিল, না
আমাদের কল্পনা আজ আর নিশ্চিত করে বলতে পারি না। কিন্তু তখন মনে হয়েছিল, ভুতের দেখা পেয়েছি।
আমি আশ্চর্যভাবে শান্তই ছিলাম। কিন্তু ছোট কাকা ভয় পেয়ে জ্ঞান হারালেন। পরে দেখা গেল, তাঁর মুখের
চোয়াল বেঁকে গেছে লোকজন বলল, ভুতের থাবা লেগেছে।
পরদিন ওঝা ডাকা হলো। কুল গাছের শক্ত শুকনো ডাল পুড়িয়ে সে আগুনে কোদাল গরম করে, কোদাল
থেরাপি দিয়ে কাকার চোয়ালে ছেক দেওয়া হলো। ধীরে ধীরে চোয়াল সোজা হলো। কাকা সুস্থ হলেন, কিন্তু
সেই রাতের ভয় আর গল্প আমাদের সবার মনে গেঁথে রইল।
আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে বুঝি ভুতুরে ঘোড়ার চেয়েও ভয়ংকর ছিল না কিছুই। ভয়, বিশ্বাস আর
কল্পনার মিশেলেই আমাদের শৈশব ছিল এত রঙিন। খালটা, বনটা, সেই অমাবস্যার রাত সবই এখন
স্মৃতির ভেতর নীরবে বয়ে চলে, ঠিক সেই ছোট নদীটির মতো।
শুভেচ্ছা রইল
১৭|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৪
হুমায়রা হারুন বলেছেন: ডঃ আলী,
ভূতুড়ে ঘোড়ার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে সাংঘাতিক অভিজ্ঞতা।
আরো অনেকের লেখা ও অভিজ্ঞতার গল্পে জেনেছি যে, লোহা গরম করে ছ্যাকা দিলে energy field clean হয়ে যায়।
by the by লোহা খুব সম্ভবত earthly element না। কোথাও থেকে আনা হয়েছে।
ঠিক মনে পড়ছে না কিন্তু এমন তথ্য শুনেছিলাম বা পড়েছিলাম।
ধন্যবাদ।
২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
অবাক হয়ে ভাবি গ্রমীন ওঝা/কবিরাজরা কেমন করে জানত যে লোহা গরম করে ছ্যাকা দিলে
energy field clean হয়ে যায় । সম্ভবত এই গুণটির কারনেই কাকার বাকা চোয়াল লোহা
সেকের মাধ্যমে পুর্বাবস্থায় ফিরে এসেছিল । মুল্যবান এই তথ্য জানানোর জন্য ধন্যবাদ ।
আরেকটি কথা সম্ভবত নয় , পরিস্কারভাবে iron is an earthly (terrestrial) element.
লোহা (রাসায়নিক সংকেত Fe) একটি প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান মৌল, যা পৃথিবীতে পাওয়া যায়। এটি পৃথিবীর
ভূত্বকে প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত এবং পৃথিবীর কেন্দ্রীয় অংশের (কোর) একটি প্রধান উপাদান। পৃথিবীর কোর
মূলত লোহা ও নিকেল দিয়ে গঠিত।
শুভেচ্ছা রইল
১৮|
২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আমি পেয়েছি খুঁজে। কোরানের ৫৭ নম্বর সূরার ২৫ নং আয়াতে বলেছে। সূরার নাম Surah Hadeed যার অর্থ লৌহ। এবং লৌহের atomic number -ও ৫৭। জাকারিয়া কামাল সাহেব তাঁর 'সাইন্টিফিক তাফসিরে' আলাপ করেছিলেন। সেই কত আগে। আশা করি তাঁর লেকচার সিরিজ শুনেছেন। ওনার লেকচার খুঁজে পেতে দেরী হবে বিধায় আমি এই লিঙ্ক খানা পাঠালাম। Surah Hadeed (Iron)
ধন্যবাদ
২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ আবার এসে প্রাসঙ্গিক লিংকটি যুক্ত করে দেয়ার জন্য । লিংকটি ফলো করে তা মনযোগ দিয়ে পাঠ
করে এলাম। আমরা সকলেই জানি কুরআন মানবজাতির জন্য নৈতিক ও আত্মিক নির্দেশনার সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।
সূরা হাদীদ ( কোরানে থাকা৫৭ তম সুরা) বিশেষভাবে লোহা এবং তার সামাজিক ও নৈতিক প্রভাবকে নির্দেশ
করে। সূরা হাদীদ এর ২৫ নম্বর আয়াতাংশে আল্লাহ তাআলা বলেন;
...আর আমরা লোহা নাযিল করেছি; এতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু উপকার…(সূরা হাদীদ: ২৫)
আধুনিক সময়ে আপনার দেয়া লিংকে থাকা তাফসির সহ অনেকেই এই আয়াতকে ভিত্তি করে বলেন যে, কুরআন
এখানে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা প্রকাশ করেছে; কারণ আধুনিক বিজ্ঞান মতে
পৃথিবীর লোহা নাকি সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে এসেছে, আর কুরআনে একে ‘নাযিল করা
বা “sent down” শব্দ ব্যবহার করেছে।
অলোচ্য বিজ্ঞ তাফসিরকারের প্রতি যথাযোগ্য সস্মান দিয়েই বলছি এই দাবিটি বিশ্লেষণ করার সময় আমাদের
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলাদা করে বোঝা জরুরি।
প্রথমত sent down তথা নাযিল করা শব্দটি শুধু আকাশ থেকে ভৌত বস্তু নামানোর অর্থে ব্যবহৃত হয় না। বরং
এটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে নিয়ামত দান করা বোঝাতে,ব্যবস্থার সূচনা করা বোঝাতে, মানুষের জন্য উপযোগী
করে দেওয়া বোঝাতে।উদাহরণস্বরূপ বলা যায় কুরআনে বলা হয়েছে, -আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি
( সূরা আল আ‘রাফ আয়াত: ২৬ , অথচ পোশাক আকাশ থেকে পড়েনি।
বলা হয়েছে, -চতুষ্পদ জন্তু নাযিল করেছি-( সূরা আজ জুমার আয়াত ৬ ) পশুও আকাশ থেকে আসেনি।
অতএব, লোহা নাযিল করেছি মানে এই দাবি করা বাধ্যতামূলক নয় যে লোহা আক্ষরিক অর্থে আকাশ থেকে
পতিত হয়েছে; বরং অর্থ হতে পারে লোহাকে মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি ও প্রাপ্য করে দিয়েছেন।
লোহা বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞান বলে যে- ভারী মৌল (যেমন লোহা) সুপারনোভা বিস্ফোরণে তৈরি হয় ,পরে তা
পৃথিবীর গঠনের অংশ হয়েছে ।এটি বর্তমানে একটি স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, কিন্তু বিজ্ঞান নিজেই পরিবর্তনশীল।
ইতিহাসে বহু নিশ্চিত তত্ত্ব পরে সংশোধিত বা বাতিল হয়েছে।
সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন আমরা কুরআনের আয়াতকে কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সঙ্গে একেবারে
একীভূত করে ফেলি। যদি বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে ভবিষ্যতে সেই তত্ত্ব বদলে যায়, তবে মানুষ ভাবতে পারে
কুরআন ভুল! অথচ ভুল ছিল আমাদের ব্যাখ্যায়।
সূরা হাদীদের মূল উদ্দেশ্য বা আলোচ্য বিষয় বিজ্ঞান নয়, বরং নবীদের প্রেরণ,ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, শক্তি ও ক্ষমতার
নৈতিক ব্যবহার, লোহার মাধ্যমে সভ্যতা, প্রতিরক্ষা ও ইনসাফ কায়েম। লোহা এখানে ক্ষমতা ও শক্তির প্রতীক;
এটি দিয়ে যেমন জুলুম হয়, তেমনি এটি দিয়েই ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়। আল্লাহ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন,
এই শক্তির উৎস মানুষ নয়, বরং আল্লাহ।
তবে এ কথা বলাও ঠিক নয় যে এখানে কোনো বিস্ময় নেই। বিস্ময় হলো কুরআন ১৪০০ বছর আগে লোহাকে
মানুষের সভ্যতার কেন্দ্রে স্থাপন করেছে,শক্তি ও কল্যাণ দুই দিকই একসঙ্গে উল্লেখ করেছে, বস্তুগত শক্তির সঙ্গে
নৈতিক দায়িত্বকে যুক্ত করেছে কিন্তু এই বিস্ময়কে বৈজ্ঞানিক মিরাকলে রূপ দেওয়া কুরআনের গভীর উদ্দেশ্যকে
আড়াল করে ।মুল কথা হল কুরআন কোনো বিজ্ঞান বই নয়, কুরআনের ভাষা বহুমাত্রিক Sent down বা নাযিল
করা শব্দটি কেবল আকাশ থেকে পতনের অর্থে সীমাবদ্ধ নয়।
বিজ্ঞান কুরআনের সত্যতা যাচাইয়ের মানদণ্ড নয় বরং কুরআন মানুষকে চিন্তা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে উন্নীত
করার গ্রন্থ ,আসল মিরাকল হলো কুরআন নীজেই ।
আলোচনার সাথে প্রামাণ্য ইসলামী তাফসির (ইবন কাসীর, ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী, কুরতুবী প্রমুখ) যুক্ত করা
প্রাসঙ্গিক মনে করছি । এতে স্পষ্ট বোঝা যাবে ক্লাসিক্যাল স্কলাররা এই আয়াতকে কীভাবে বুঝেছেন এবং
scientific miracle দাবির সাথে তার সম্পর্ক কোথায় সীমাবদ্ধ।
সূরা হাদীদ এর সম্পুর্ণ ২৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রাসূলদের পাঠিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণসহ, এবং তাদের সাথে নাযিল করেছি কিতাব ও মীযান, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। আর আমরা লোহা নাযিল করেছি তাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু উপকার; এবং যাতে আল্লাহ প্রকাশ করে দেন কে তাঁকে ও তাঁর রাসূলদের অদৃশ্য অবস্থায় সাহায্য করে।(সূরা হাদীদ- ২৫)
প্রখ্যাত তাফসিরকার ইমাম ইবন কাসীর (রহ.) তাঁর তাফসিরুল কুরআনিল আযীম-এ বলেন লোহা নাযিল করা
বলতে বোঝানো হয়েছে; আল্লাহ লোহাকে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের ব্যবহারযোগ্য করে দিয়েছেন লোহার
প্রচণ্ড শক্তি বলতে তিনি উল্লেখ করেন অস্ত্র,যুদ্ধসামগ্রী প্রতিরক্ষা ও শাস্তি কার্যকর করার উপকরণ হিসাবে।
ইবন কাসীর স্পষ্টভাবে বলেন, লোহা দ্বারা আল্লাহ ইনসাফ প্রতিষ্ঠার উপকরণ সৃষ্টি করেছেন, যেমন তলোয়ার
যা কখনো ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যম, আবার কখনো মানুষের জন্য পরীক্ষা।
লক্ষ্যণীয় বিষয় ইবন কাসীর কোথাও বলেননি যে লোহা আক্ষরিকভাবে আকাশ থেকে নেমে এসেছে। তাঁর দৃষ্টি
ছিল সামাজিক ও নৈতিক ব্যবস্থার দিকে।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহ.) তাঁর মাফাতিহুল গাইব (তাফসিরে কাবীর)-এ এই আয়াত নিয়ে অত্যন্ত দার্শনিক
আলোচনা করেছেন।তিনি বলেন কিতাব ও মীযান (বিধান ও ন্যায়নীতি) যথেষ্ট না হলে সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষার
জন্য ক্ষমতা (লোহা) অপরিহার্য ।
রাযী বলেন মানুষ কেবল যুক্তি দিয়ে নয়,কখনো কখনো শক্তি দিয়েও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হয়।তিনি লোহার
দুটি দিক উল্লেখ করেন যথাবাহ্যিক শক্তি (যুদ্ধ, প্রতিরক্ষা),উপকারিতা (কৃষি, নির্মাণ, সভ্যতা), রাযীর দৃষ্টিতে
আয়াতটি মূলত রাজনীতি, সমাজ ও ন্যায়বিচারের দর্শন।
ইমাম কুরতুবী (রহ.) তাঁর আল-জামি‘ লি আহকামিল কুরআন-এ বলেন, লোহা হচ্ছে মানুষের জন্য এক বিশেষ
নিয়ামত,এর দ্বারা: যুদ্ধ হয়,শাস্তি কার্যকর হয়, কৃষি ও নির্মাণ সম্ভব হয়।তিনি বলেন, আল্লাহ কিতাব দ্বারা হৃদয়
সংশোধন করেন, আর লোহা দ্বারা সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেন। এখানে নাযিল শব্দকে তিনি নিয়ামত দান
অর্থে নিয়েছেন।
ক্লাসিক্যাল তাফসিরে নাযিল শব্দের অর্থ বিষয়ে আলোচনায় সব প্রধান মুফাসসিরগন একমত । সুরাটিতে থাকা
“نَزَّلْنَا / أَنزَلْنَا” শব্দটি কেবল ভৌত অবতরণ বোঝায় না, বরং বোঝায়:সৃষ্টি করা,নিয়ামত হিসেবে দান করা মানুষের
আয়ত্তে আনা কেউই একে মহাকাশগত উৎসের দাবি হিসেবে ব্যাখ্যা করেননি।
এখন প্রশ্ন আসে তাহলে আধুনিক বিজ্ঞান যেটা বলছে, সেটা কি এই আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক?
উত্তর হল সাংঘর্ষিক নয়, কিন্তু আয়াতের মূল উদ্দেশ্যও নয়।কুরআন এখানে বিজ্ঞান শেখাতে আসেনি, বরং
বলছে শক্তি ও ক্ষমতার উৎস আল্লাহ, এবং তা মানুষের জন্য পরীক্ষা। আধুনিক তত্ত্বকে আয়াতের একটি
সম্ভাব্য সামঞ্জস্য হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবে চূড়ান্ত তাফসির হিসেবে মেনে নেয়ার বিষয়টি বিজ্ঞ
তাফসিরকারদের উপরই না হয় ছেড়ে দিলাম ।
শুভেচ্ছা রইল
১৯|
২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৩
হুমায়রা হারুন বলেছেন: চমৎকার আলোচনা।
অনেক ধন্যবাদ।
এই লেখাটি দিয়েই তো একটি পোস্ট হয়ে যায়। আর 'হাজরে আসওয়াদ' এর কথা বললে আরো ভাল হবে। এই পাথরটি ও out of our planet থেকে আসা শুনেছি।
২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আবার এসে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ ।
মন্তব্যের ঘর থেকে কথা তুলে নিয়ে পৃথক পোষ্ট দিলে
আমি গদ্যে পদ্যে প্রায় হাজার দশেক পোস্ট দিতে
পারতাম । তবে মন্তব্য কোন ভাবে খুব বড় হয়ে
গেলে তা মন্তব্যের ঘরে না লিখে পৃথক পোষ্ট
দিয়ে দেই যেমনটি নির্বাচন নিয়ে আমার
সামপ্রতিক পোস্ট । এটা নতুন নকিবের
পোস্টে মন্তব্য লিখতে গিয়ে লেখার ফল ।
তাই সেটা সেখানে না দিয়ে পৃথক পোস্ট
আকারে দিয়েছি ।
হাজরে আসোয়াদ এর উপরে আমার একটি
বেশ বড় আকারের পোস্ট আছে । সেটা
ব্লগে দিলে অনেকেই তার উপর বিরুপ
মন্তব্য দিতে পারেন । তাই লেখাটিকে
আরো ভাল করে কাটাঘসা করতে
হবে বলে মনে হচ্ছে ।
শুভেচ্ছা রইল ।
২০|
২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৪
কলাবাগান১ বলেছেন: পৃথিবীর সকল মেডিক্যাল গবেষনা বন্ধ করে কোদাল এর লোহা দিয়ে বাকা গাল সোজা করার পদ্ধতি নিয়ে গবেষনা আরম্ভ করার জোর দাবী জানালাম..লোহা দিয়ে এনার্জী ফিল্ড কে সোজা করার তরিকা পৃথিবীর তাবৎ বিজ্ঞানীদের জানা দরকার।
হায়রে মানব মনন এর এমন অবনতি অলৌলিক বিশ্বাসে
২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
সম্মান রেখেই বলছি, আপনি হয়তো মন্তব্যগুলি পড়েছেন, কিন্তু প্রেক্ষাপটটা পড়েননি বা বুঝতে চাননি। পুরো
আলোচনাই ছিল গল্পচ্ছলে বলা একটি রসিকতার ভেতরে আরেকটি রসিক মন্তব্য। এখানে কোথাও এটাকে
মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট, গবেষণাযোগ্য পদ্ধতি বা পেটেন্টযোগ্য বিজ্ঞান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
রসিকতায় বলা ভূত, এনার্জি ফিল্ড, আর গরম লোহা–কে যদি আক্ষরিক বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরিতে টেনে আনা হয়,
তাহলে দোষ রসিকতার নয়, রসিকতা বোঝার ঘাটতির। সব কথার উত্তর গবেষণার দাবিতে দিতে গেলে আগে
জানতে হবে কথাটা সিরিয়াস ছিল, নাকি নিছক গল্প আর হাসির খোরাক।
বিজ্ঞান যেমন যুক্তির জায়গা, তেমনি সমাজে গল্প, উপকথা আর রসিকতারও আলাদা জায়গা আছে। দুটো
গুলিয়ে ফেললে একজন বিজ্ঞানী হলেও উপলব্ধিটা দুর্বলই থেকে যায়।
আশা করি পরের বার মন্তব্য করার আগে কথার ভঙ্গি আর উদ্দেশ্য এই দুটো বিষয়ও বিবেচনায় আসবে।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১৮
নতুন বলেছেন: যদি মেরাজ স্বপ্নে হয়ে থাকে তবে সেটাতে সমস্যা নাই।
কিন্তু যদি সত্যিই স্বশরীরেই হয়ে থাকে তবে অনেক প্রশ্ন চলে আসে।
ইসলামী আকীদা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ ﷺ জেরুজালেমে (বায়তুল মুকাদ্দাস / মসজিদুল আকসা) সকল নবী–রাসুলদের ইমামতি করে নামাজ পড়িয়েছিলেন।
নবী রাসুলদের সংখ্যা অনেক এবং সবাই ( ইসা আ: বাদে) মারা গেছেন! তারা যদি স্বশরীরে মসজিদুল আকসায় এসে থাকেন? তাহলে সেটাও এক মুজেজার অংশ।
আমরা জানি: নবী (নবি) মোট সংখ্যা: প্রায় ১,২৪,০০০
রাসুল মোট সংখ্যা: প্রায় ৩১৩ বা ৩১৫ জন
এতো মৃত ব্যক্তি যারা হাজার বছর আগে মারা গেছেন তারা ঐখানে স্বশরীরে উপস্থিত হতে হলে কতগুলি ফ্যাক্টর লাগে ভেবে দেখেছেন কি?
এতো নবী রাসুল অবশ্যই কোন জানবাহনে করেই এসেছিলো, তারা তাদের কবর থেকে উঠে এসেছিলো এবং আবার কবরে ফিরে গেছেন। দুনিয়া অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
লক্ষাধিক মানুষের এই জমায়াত অন্য কেউই দেখবে না?