| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক

গত১৫ ই অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের খলিফাপট্টি পূজামণ্ডপের থিম ‘রক্তাঞ্জলি’তে যে চিত্রকর্ম, দেয়ালচিত্র ও প্রতিবাদী স্লোগানে নির্যাতনের চিত্র ও অপরাধীদের বিচারের দাবি তুলে ধরা হয়েছে তার উপলব্দিতেই লেখা হয়েছে এ কবিতাটি । প্রথম আলোতে প্রকাশিত বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত ভিডিও লিংক ফলো করে দেখা যাবে Click This Link
এসো, আজ মানুষ হই
নারীর চোখের জলের কাছে
নত করি অহংকার
অন্যায়ের বিরুদ্ধে জ্বালাই
সহস্র প্রতিবাদের অগ্নি মশাল!
শরতের আকাশে কাশফুল দোলে
ঢাকের বাদ্যি ওঠে পূজার তালে
আলোয় আলোয় সেজে ওঠে নগর
দেবি দুর্গার আগমনে আনন্দিত ঘর।
তবু কেন আজ উৎসবের মাঝে
কান্নার ছায়া নামে সমাজের বুকে?
কেন কোনো মায়ের কন্যা
ফিরে আসে না সন্ধ্যার মুখে?
কেন কোনো বোনের আর্তনাদ
হারিয়ে যায় জনতার কোলাহলে?
কেন নারীর নিরাপত্তা আজও
প্রশ্ন হয়ে থাকে ঘরে ও পথে?
এই যে রক্তাঞ্জলি-
এ কোনো পূজার অর্ঘ্য নয়
এ কোনো দেবীর চরণে
নীরব অশ্রু ঢালার আয়োজন নয়।
এ সেই নারীর রক্তাক্ত আর্তি
যার কণ্ঠ রুদ্ধ করেছে হিংস্রতা
এ সেই কন্যার অসমাপ্ত স্বপ্ন
যার পথে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্বরতা।
হে দেবী দুর্গা, শক্তির প্রতীক তুমি
তোমার দশ হাতে অসুর বধের গান
তবে আজ মর্ত্যের নারীর চোখে
কেন এত ভয়, কেন অপমান?
যে হাতে মমতার প্রদীপ জ্বলে
সে হাত কেন মুঠিবদ্ধ হবে ভয়ে?
যে পায়ে পৃথিবী জয় করার স্বপ্ন
সে পা কেন থমকে যাবে সংশয়ে?
যে কণ্ঠে গান, যে চোখে আলো
যে প্রাণে আগামী দিনের ডাক
তাকে বাঁচতে দাও, মানুষ হতে দাও
ভেঙে দাও নির্যাতনের কালো ফাঁক।
আমরা বিচার চাই
শুধু প্রতিশ্রুতির ফুল নয়
আমরা নিরাপত্তা চাই
শুধু বক্তৃতার বাণী নয়।
আমরা এমন এক সমাজ চাই
যেখানে নারী মানুষ হিসেবে সম্মান পায়
যেখানে অপরাধীর পরিচয় নয়
অপরাধই বিচারের মুখোমুখি দাঁড়ায়।
হে পিতা, কন্যাকে শেখাও
তার স্বপ্নের আকাশ অসীম
হে মাতা, পুত্রকে শেখাও
সম্মান ছাড়া প্রেম হয় না মহিমান্বিত।
হে শিক্ষক, পাঠ্যবইয়ের পাতায়
মানবিকতার বীজ বুনে দাও
হে সমাজ, নীরবতার দেয়াল ভেঙে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও।
যে চোখ দেখেও চোখ ফেরায়
যে মুখ জেনেও কথা কয় না
যে সমাজ নির্যাতিতাকে প্রশ্ন করে
কিন্তু নির্যাতককে জবাবদিহি করায় না।
তার উৎসব অসম্পূর্ণ
তার সভ্যতা কলঙ্কিত
তার প্রার্থনা অর্থহীন
যদি মানুষের মর্যাদা থাকে লাঞ্ছিত।
ধর্ম যার যার, উৎসব সবার
মানবতা হোক সবার পরিচয়
মন্দির, মসজিদ, গির্জা, বিহারে
উঠুক একই সত্যের নির্ভয় স্বর।
নারীর প্রতি সহিংসতা নয়
নারীর প্রতি সম্মান চাই
ভয় নয়, অধিকার চাই
করুণা নয়, সমান মর্যাদা চাই।
এসো, হাতে হাত রাখি সবাই
পাড়া থেকে নগর, গ্রাম থেকে দেশ
নির্যাতিতার পাশে দাঁড়াই
ভেঙে দিই অবিচারের আবেশ।

আইনের শাসন হোক সুদৃঢ়
বিচার হোক নিরপেক্ষ ও দ্রুত
প্রতিটি কন্যা জানুক নিশ্চিন্তে
তার পাশে আছে মানুষ
তার পাশে আছে রাষ্ট্র
তার পাশে জাগ্রত সমাজের বিবেক।
আজ তাই কোন পুজা মন্ডপের রক্তাঞ্জলি
শুধু শোকের প্রতীক হয়ে না থাক
হোক প্রতিবাদের শপথ
হোক পরিবর্তনের প্রথম ডাক।
দেবীর আরাধনা পূর্ণতা পাক
জীবন্ত নারীর সম্মান রক্ষায়
পুষ্পাঞ্জলির সঙ্গে কণ্ঠ মেলাক
অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণজাগরণে।
আসুন, আমরা শপথ করি
কোনো নারী একা নয়
কোনো কন্যার কান্না তুচ্ছ নয়
কোনো নির্যাতনই স্বাভাবিক নয়
কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
যত দিন একটি নারী ভয়ে কাঁপে
তত দিন আমাদের উৎসব অসম্পূর্ণ
যত দিন একটি কন্যা ন্যায়বিচারহীন
তত দিন আমাদের বিবেক দায়বদ্ধ।
রক্তের দাগ মুছে যাক ন্যায়ের আলোয়
অশ্রুর নদী শুকাক নিরাপত্তার আশ্বাসে
নারী-পুরুষ পাশাপাশি গড়ে তুলুক
সমতার, সাহসের, ভালোবাসার বাংলাদেশ।
আজকের এই রক্তাঞ্জলি
আগামীর শপথ হয়ে থাক
নারী বাঁচুক, মানুষ জাগুক
নির্যাতন থামুক, ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হোক।
জয় হোক মানবতার
জয় হোক সাম্যের
জয় হোক সেই সমাজের
যেখানে নারী শুধু পূজিত প্রতিমা নয়
স্বাধীন, নিরাপদ, মর্যাদাবান মানুষ।
©somewhere in net ltd.