নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা পড়শি বসত করে, একঘর পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য

মানুষ পথিক বেশে ঘুরছে দেশে দেশে একটু ছায়াতলে থমকে দাঁড়ায়, স্মৃতিটুকু রেখে শুধু একদিন তো চলে যায়।

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধী - কারা ভালো লেখে-মন্তব্য করে ব্লগে

১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫


আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।

স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা যোগ করেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে সুনীল দা কিংবা অনিল কাপুরকে অনিল দা ডাকেন; এর কারণ কী?’

জবাবে কোলকাতার ভদ্রলোক বললেন— ‘দাদা মানে ভাই। দাদাকে ছোট করে দা বলি আমরা। তাতে কোনো সমস্যা আছে আপনার?’

বিরস বদনে নীরস কণ্ঠে মিনমিন করে জাপানি নাগরিক জবাব দিলেন— ‘না, তেমন কোনো সমস্যা না। আমার নাম বোকাচো আর আমার বাবার নাম আচো। এই আর কী।’

আরেকবার, স্বল্প-বাংলা-জানা এক পাকিস্তানি ছাত্র মগবাজারে জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেল বেড়াতে। গিয়ে জামায়াতের এক নেতাকে জিজ্ঞেস করল— ‘আচ্ছা, ইদানীং ঢাকায় এলেই যে আপনাদের মুখে রঠা-রঠা শুনি, এই রঠা জিনিশটা কী?’

জবাবে জামায়াতনেতা বললেন— ‘বাংলা অভিধানে বিভিন্ন শব্দের অর্থ পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের জনপ্রিয় উক্তি ব্যবহার করা হয়, উক্তির শেষে সংক্ষেপে লেখকের নামও উল্লেখ করা হয়; যেমন— ব চ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়), মা ম দ (মাইকেল মধুসূদন দত্ত), ঈ বি (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর), কা ন ই (কাজী নজরুল ইসলাম), র ঠা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। আমরা রবীন্দ্রবিদ্বেষী তো। রবীন্দ্রনাথের নাম শুনলেই আমাদের জ্বর আসে। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা রঠা বলি। বলে এক ধরনের আনন্দ পাই। ভালো লাগে। কেন? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে রঠা বললে তোমার কোনো সমস্যা আছে?’

উত্তরে সেই পাকিস্তানি ছাত্র বলল— ‘না, তেমন কোনো সমস্যা না। কিন্তু আমার প্রিয় নেতা তো আবার গোলাম আজম।’

ব্লগে অনেকেই আছে, যাদের পোস্ট বা মন্তব্য পড়ে বোঝা যায় তারা কারা এবং কী তাদের পরিচয়। যারা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি সমর্থন করে, তারা পরিচয় গোপন করে না। আরেকটা দল আছে যারা পরিচয় গোপনের কারণে গুপ্ত হিসেবে স্বীকৃত। এই শ্রেণিটা রবীন্দ্রনাথকে রঠা বলে, কিন্তু গোলাম আজমকে গোআ বলতে দিতে চায় না। এরা নিজেরা সারাদিন জিন্নাহর গুণকীর্তন করলেও সমস্যা নেই, কিন্তু কেউ যদি রবীন্দ্রনাথের প্রশংসা করে, ওদের পশ্চাৎদেশে আগুন ধরে যায়। যারা রবীন্দ্রনাথের প্রশংসা করে তারা সাহিত্যবোধ থেকেই করে, রবীন্দ্রনাথকে পীর মানে না। কিন্তু যারা জিন্নাহ বা গোআর প্রশংসা করে তারা তাদের বাপ মানে।

১৯৪৭ বা ১৯৭১ কোনোটাই ওদের পছন্দের দল চায়নি, অথচ ওরা বলে রবীন্দ্রনাথ নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চায়নি। কানায় আরেকজনকে কানা বলে। রবীন্দ্রনাথ ঢাবি বিরোধিতা করলেন আর ঢাবি তাকে দুইবার সংবর্ধনা দিলো আবার আজীবন সদস্য করলো?

নজরুল, মুজতবা আলী, জসীম উদদীন এমনকি ওই গুপ্তদের প্রিয় কবি আল মাহমুদও কিন্তু রবীন্দ্রপ্রেমী ছিলেন। অথচ কোথাকার কোন সলিমুদ্দির ছেলে বলে রবীন্দ্রনাথ নাকি মুসলিমবিরোধীও ছিলেন। নজরুল, মুজতবা আলী, জসীম উদদীনরা রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য ছিলেন।

ব্লগের কয়েকজন রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধীর নাম লিখছি। তাদের সম্পর্কে ব্লগারদের মতামত চাই। আমাকে বলুন কারা কেমন লেখে? কী লেখে? সোনা না বিষ্টা?

রবীন্দ্রপ্রেমী

শায়মা
শ্রাবণধারা
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ
নতুন
কলাবাগান১
ওমর খাইয়াম
স্বপ্নের শঙ্খচিল
সৈয়দ কুতুব
কিরকুট
মহাজাগতিক চিন্তা
রাজীব নুর

রবীন্দ্রবিরোধী

সৈয়দ মশিউর রহমান
দেশ প্রেমিক বাঙালী
তানভির জুমার
অনন্য দায়িত্বশীল আমি
অপলক
সামছুল আলম কচি
সুলাইমান হোসেন
পুরানমানব
আলামিন১০৪

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: যেহেতু আমার নাম আছে, সুতরাং আমার বয়ান দেয়া আবশ্যক :
....................................................................................
আমি যেহেতু কবিতা , গল্প, চলমান ঘটনা দেখতে, পড়তে, শুনতে
ভালবাসি, তাই সাহিত্য অঙ্গন আমার প্রিয় । আমি যেখানেই যাই সেখানে লাইব্রেরী
খুঁজে বের করি । যেমন আমি বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়া সফরে আছি, এখানকার লাইব্রেরী সদস্য হয়ে গেলাম,
প্রতিদিন সময় করে যাই তাদের ইতিহাস, সাহিত্য ,কারু ও চারূকলা ও ছোটদের বই পুস্তক দেখি ,
অনেক চমকপ্রদ তথ্য আহরন করি ।
তেমনি বাংলা সাহিত্যে, রবীন্দ্রনাথ , নজরুল, শরৎচন্দ্রসহ অনেক লেখক আমার পসন্দ
এখানে যারা রাজনীতি আনতে চায়, আমি মনে করি তারা মূর্খ ও তারা অল্প বিদ্যার লোক ।

মানুষের মনে যদি তার স্বদেশের সাহিত্য ভালো না লাগে তাহলে,
সে অমানুষ ও পাষাণ হৃদয় নিয়ে ঘুরছে, এদের থেকে দূরে থাকুন ।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: রবীন্দ্রনাথের লেখা যারা পড়ে তারা সাহিত্যবোধ থেকেই পড়ে আপনার মতোই। আর যারা কোনো সাহিত্যই পড়ে না, তারা হয় রবীন্দ্রবিদ্বেষী। নজরুলকে মাথায় তুলে রাখলেও ওরা নজরুলের কোনো লেখা পড়েনি পাঠ্য গল্প-কবিতা ছাড়া।

২| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৫

শায়মা বলেছেন: যাক বাবা এই পোস্টে রবীন্দ্রনাথের শুধু প্রেমিকরা আছে ........ প্রেমিকারা নেই ....... :)

১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: রবীন্দ্রপ্রেমীর লিস্টে আপনি এক নাম্বার। স্যরি। ভুল হয়ে গেছে। আপডেট করে নিলাম।

৩| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: আমার কমেন্ট মডারেশন তালিকায় বাদ পরা তিন জনকে যুক্ত করে নিলাম।

এরা হয় রবীন্দ্রানাথ বিরোধী নয় বাংলাদেশ বিরোধী।

বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধীদের সাথে কোন আলাপই নাই।


ধন্যবাদ।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪১

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: রবীন্দ্রপ্রেমীর লিস্টে আপনিও আছেন। তাড়াহুড়ায় তোলা হয়নি। অ্যাড করে নিলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.