নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

"সবাই আল্লাহওয়ালা, আল্লাহওয়ালী হয়ে যাও"

আমার ঘুম পায় না

আমার ঘুম পায় না › বিস্তারিত পোস্টঃ

হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এখন জানার বিষয় হচ্ছে- আমি কি প্রকৃতপক্ষেই গোলামের ছেলে গোলাম হয়েছি?

০৮ ই জুন, ২০১২ রাত ২:২৭

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতদেরকে বলুন, তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাইনা। তবে আমার যারা ঘনিষ্ঠজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ও হযরত আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।’নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমার আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদগণ উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য।’হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতই হচ্ছে ঈমান। আর হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত হচ্ছে জুযে ঈমান।তাই উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং উনাদেরকে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে আইন।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, (সূরা শূরা : আয়াত শরীফ- ২৩) এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না। তবে (তোমাদের প্রতি আমার নির্দেশ হলো) তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদগণ উনাদের প্রতি মুহব্বত রাখবে এবং (যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে।



মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে কতটুকু তা’যীম-তাকরীম ও মুহব্বত করতে হবে সে প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- রঈসুল মুহাদ্দিছীন হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে চলাচল করতেন, উঠাবসা করতেন। কোনো এক প্রসঙ্গে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে বলেছিলেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এটা শুনে তিনি বিষয়টার শরঈ ফায়সালার জন্য উনার পিতা যিনি খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনাকে জানালেন যে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এখন জানার বিষয় হচ্ছে- আমি কি প্রকৃতপক্ষেই গোলামের ছেলে গোলাম হয়েছি? খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, বেশ ভালো কথা। এ বক্তব্যের শরঈ ফায়সালা করতে হলে মৌখিকভাবে বললে হবে না বরং লিখিত আনতে হবে, কাগজে-কলমে থাকতে হবে।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট গিয়ে বললেন, হে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম! আপনি যে আমাকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’ এটা লিখিত দিতে হবে কারণ এ বক্তব্যের শরঈ ফায়সালার জন্য আমি খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার কাছে আরজি পেশ করেছি। তিনি বললেন হ্যাঁ, আমি লিখিত দিবো। সত্যিই তিনি একটা কাগজে লিখে দিলেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। সেটা নিয়ে পেশ করা হলো খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার কাছে। তিনি বললেন, ঠিক আছে, আমি এর শরঈ ফায়ছালা বর্ণনা করবো। বিষয়টি নিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সকলেই চিন্তিত হলেন। উনারা চিন্তিত হলেন যে, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি জালালী তবিয়তের, তিনি ইনছাফগার হিসেবে মশহূর, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট ছাহাবী, নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের পরে দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব।

একদিকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম, আরেকদিকে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম। সকলেই চিন্তিত হলেন, বিষয়টির শরঈ কী ফায়সালা? খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি তো অনেক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তাহক্বীক করে শরঈ ফায়সালা দিয়ে থাকেন। তিনি কী ফতওয়া দিবেন? নির্দিষ্ট স্থান, সময়, দিন, তারিখ সব ঘোষণা করা হলো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম যাঁরা ছিলেন সকলেই সেখানে জমা হয়ে গেলেন যে, কী ফতওয়া দেয়া হয় সেটা জানার জন্য।

এদিকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত হলেন। তিনি যখন উপস্থিত হলেন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম করে একটা সম্মানিত স্থানে বসালেন। আর হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন আসলেন, উনাকেও এক পাশে বসালেন। শরঈ ফায়সালার নিদিষ্ট সময় যখন উপস্থিত হলো, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার পকেট থেকে কাগজটা বের করে বললেন যে, একটা কাগজ আমার কাছে পেঁৗঁছানো হয়েছে, এ কাগজের মধ্যে লিখিত রয়েছে ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। কাগজটা দিয়েছেন আমার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। উনার বক্তব্য হচ্ছে- হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে বলেছেন- ‘গোলামের ছেলে গোলাম’।

এ বিষয়ে শরঈ ফায়সালার জন্য এ কাগজটা আমার নিকট পেশ করা হয়েছে। তখন খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি আপনি লিখেছেন? তিনি বললেন যে, হ্যাঁ। এটা আমার লিখিত, আমি বলেছি এবং লিখেছি। যখন জিজ্ঞাসা করে উনার স্বীকৃতি মুবারক নেয়া হলো তখন বিষয়টা সবাইকে জানানো হলো যে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি দয়া করে এ কথা বলেছেন এবং দয়া করে লিখেও দিয়েছেন। এটা সকলেই শুনলেন। তখন খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, এখন এ বিষয়ে শরঈ ফায়ছালা করা হবে। সকলেই অত্যান্ত মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকলেন। মনে হয়েছে যেনো বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, সকলেই একদৃষ্টিতে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার দিকে চেয়ে রয়েছেন। এ বিষয়টা তিনি কীভাবে ফায়সালা করেন, এবং এর কী ফায়সালা রয়েছে শরীয়তে?

খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি ঘোষণা করলেন, এই যে কাগজটা যার মধ্যে লিখিত রয়েছে, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। অর্থাৎ হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিনি অন্যতম ব্যক্তিত্ব হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমার ছেলেকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এর অর্থ হচ্ছে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন গোলাম আর উনার ছেলে হচ্ছে ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এর শরঈ ফায়সালা হচ্ছে- আপনারা সকলেই সাক্ষী থাকুন, আমি আমার যিন্দিগীর অনেক সময় অতিবাহিত করেছি, পূর্ববর্তী কুফরী যিন্দিগী বাদ দিয়েছি, আমার অতীতের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যা ছিলো সেটা আমি ত্যাগ করেছি, শরীয়তের নির্দেশবহির্ভূত আহলিয়া ছিলো তাদেরকেও পরিত্যাগ করেছি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্য। আমার চাওয়া এবং পাওয়ার বিষয় এটাই ছিলো যে, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যতোটুকু দিয়েছেন ততোটুকু পাওয়া হয়েছে। তবে আমার একটা লিখিত দলীল প্রয়োজন ছিলো, যে লিখিত দলীলের আমি প্রত্যাশা করেছিলাম। আজকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি এটা লিখিত দিয়েছেন। এখন থেকে আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম আমি উনাদের গোলাম। সুবহানাল্লাহ!



কাজেই, বর্তমানে আমার ওছীয়ত হচ্ছে আপনাদের প্রতি, আমি ইন্তিকাল করলে এই কাগজখানা আমার কাফনের ভিতরে, আমার সিনার উপর রেখে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! আমি ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাছে আরজু করবো যে, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার যিনি লখতে জিগার হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনি আমাকে লিখিত দিয়েছেন যে, ‘আমি গোলাম’। কাজেই, আমার আমল যা-ই রয়েছে কমপক্ষে এই দলীলের খাতিরে আমাকে গোলাম হিসেবে কবুল করুন। সুবহানাল্লাহ!



উনি যখন এটা ফায়সালা করলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত তাবিয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে সেখানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন সকলেই হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বত ও তা’যীম দেখে আশ্চর্য হয়ে হাক্বীক্বী ইবরত ও নছীহত হাছিল করলেন।।



মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলত এ ঘটনাটির মাধ্যমে যে বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে ফুটে উঠেছে তা হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি লাভ করতে হলে প্রত্যেক উম্মতের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা, উনাদেরকে মুহব্বত করা ও সম্মান-ইজ্জত করা। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত হচ্ছে ঈমান। আর হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত জুযে ঈমান। উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে আইন।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই জুন, ২০১২ রাত ৩:১৬

েমা আশরাফুল আলম বলেছেন: হাসান ও হোসেন (রাঃ) কে ভালোবাসি।

০৮ ই জুন, ২০১২ ভোর ৫:১৯

আমার ঘুম পায় না বলেছেন: হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতই হচ্ছে ঈমান। আর হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত হচ্ছে জুযে ঈমান।তাই উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং উনাদেরকে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে আইন।

২| ০৮ ই জুন, ২০১২ ভোর ৪:০০

addabuzz বলেছেন: শিয়া

০৮ ই জুন, ২০১২ ভোর ৫:৩৯

আমার ঘুম পায় না বলেছেন: ধারণা করে কোন মন্তব্য করা কি ঠিক?
৬ষ্ঠ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গাউছূল আ’যম, সাইয়্যদুল আওলিয়া, হযরত শাইখ সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল ক্বাদির জীলানী হাম্বালী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি -এর লেখা বিশ্ব বিখ্যাত কিতাব ‘গুনিয়াতুত্ ত্বলিবীন’ এর ‘আল্ আক্বায়িদ ওয়াল ফিরক্বুল ইসলামিয়্যাহ’ অধ্যায়ে ৭২টি বাতিল ও গোমরাহ ফিরক্বার নামের তালিকা সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, ৭২টি বাতিল, গোমরাহ ও জাহান্নামী ফিরক্বা মূলত ৯টি ফিরক্বার শাখা-প্রশাখা।

মূল ফিরক্বা তার শাখা-প্রশাখা
১. খাওয়ারিজ (খারিজী) ------------ ১৫টি
২. শীয়াহ বা রাফেদ্বী --------------- ৩২ টি
৩. মু’তাযিলাহ --------------------- ৬ টি
৪. মুরজিয়াহ ---------------------- ১২ টি
৫. মুশাব্বিহাহ্ --------------------- ৩ টি
৬. জাহমিয়াহ ---------------------- ১ টিই
৭. দ্বারারিয়াহ --------------------- ১ টিই
৮. নাজ্জারিয়াহ -------------------- ১ টিই
৯. কালাবিয়াহ --------------------- ১টিই

সর্বমোট বাতিল ফিরক্বা ------------- ৭২ টি।

এর মধ্যে ‘শীয়াহ’ বাতিল ফিরক্বার ৩২টি শাখা
শীয়াহ ফিরক্বার আরো কয়েকটি নাম: শীয়াহ, রফিদ্বাহ, গালিয়াহ ও ত্বাইয়ারাহ। ‘শীয়াহ’ ফিরক্বার মূল শাখা ৩টি। যথা: (ক) গালিয়াহ: যা ১২টি শাখায় বিভক্ত (খ) যাইদিয়াহ: যা ৬টি শাখায় বিভক্ত (গ) রাফিদ্বাহ্: যা ১৪টি শাখায় বিভক্ত।

(ক) গালিয়াহ: যার ১২টি শাখা: (১) বায়ানিয়াহ (২) ত্বাইয়্যারিয়াহ (৩) মুগীরিয়াহ (৪) মানছূরিয়াহ (৫) খত্ত্বাবিয়াহ (৬) মুয়াম্মারিয়াহ (৭) বাযীয়িয়াহ (৮) মুফাদ্্দ্বালিয়াহ্ (৯) মুতানাসিখাহ (১০) শারীয়িয়াহ (১১) সাবায়িয়াহ (১২) মুফাব্বিদ্বিয়াহ (মুফাব্বিদ্বাহ, মাফূদ্বাহ)।

(খ) যাইদিয়াহ: যার ৬টি শাখা: (১) জারূদিয়াহ্ (২) সুলাইমানিয়াহ (৩) বাত্বরিয়াহ্ (৪) নঈমিয়াহ্ (৫) ইয়া’কূবিয়াহ্ (৬) রাজয়িয়াহ (তানাসূখিয়াহ)।

(গ) রাফিদ্বাহ : যার ১৪টি শাখা: (১) ক্বাত্বয়িয়াহ (২) কাইসানিয়াহ (৩) কারীবিয়াহ (৪) উমাইরিয়াহ (৫) মুহম্মদিয়াহ (৬) হুসাইনিয়াহ (৭) নাবিসিয়াহ (৮) ইসমাঈলিয়াহ্ (৯) ক্বারামিত্বাহ্ (১০) মুবারাকিয়াহ (১১)শামীত্বিয়াহ (১২) মামতূরিয়াহ (১৩) মূসাবিয়াহ (১৪) ইমামিয়াহ। আরো অতিরিক্ত ২টি শাখা হল: (১৫) মুয়াম্মারিয়াহ (আম্মারিয়াহ, আফত্বাহিয়াহ) (১৬) যারারিয়াহ।

শীয়াহ (রাফিদ্বী) বাত্বিল ফিরক্বা তা’রীফ বা পরিচিতি:
‘শীয়াহ’-এর লুগাতী অর্র্থ: ‘শীয়াহ’ শব্দটি একবচন। এর বহুবচন ‘শিয়াউন’ ও ‘আশ্ইয়াউ’। এর লুগাতী বা আভিধানিক অর্থ হল: শীয়াহ, শীয়াহ সম্প্রদায়, শীয়াহ মতাবলম্বী, দল, সম্প্রদায়, অনুসারী, ভক্ত ইত্যাদি।

‘শীয়াহ’-এর ইছতিলাহী অর্থ: শরীয়তের পরিভাষায় ঐ বাত্বিল জাহান্নামী ফিরক্বা (সম্প্রদায়) কে শীয়াহ বলা হয়, যারা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অনুসারী দাবী করে তবে শুধু ৪ (চার) জন ছাহাবী ব্যতীত সকল ছাহাবীকে কাফির ও মুরতাদ বলে থাকে। তাঁরা ৪ (চার) জন হলেন: (১) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২) হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩) হযরত মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও (৪) হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।
শীয়াহ (রাফিদ্বী) বাত্বিল ফিরক্বার আরো কয়েকটি নাম:
রাফিদ্বাহ, গালিয়াহ ও ত্বাইয়ারাহ।
উক্ত নামসমূহে নামকরণের কারণ:
‘গুনিয়াতুত্ ত্বালিবীন’ কিতাবে বর্ণিত আছে, অর্থাৎ: ‘শীয়াহ’ নামকরণের কারণ হল: যেহেতু তারা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর অনুসারী দাবী করত এবং তাঁকে সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের থেকে শ্রেষ্ঠ বলে জানত। ‘রাফিদ্বাহ’ বলার কারণ: যেহেতু তারা অধিকাংশ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দ্বয়ের খিলাফতকে অস্বীকার করেছিল। কারো কারো মতে: ‘রাওয়াফিদ্ব’ বলার কারণ হল: যেহেতু তারা হযরত যায়েদ ইবনে আলী যাইনুল আবিদীন রহমতুল্লাহি আলাইহিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। যখন তারা হযরত যায়েদ ইবনে যাইনুল আবিদীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জবান মুবারক থেকে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রশংসা শুনেছিল এবং তিনি তাঁদের দু’জনের খিলাফত সত্য বলেছিলেন তা শুনেছিল, তখনই তারা (রাফিদ্বীরা) তাঁকেও প্রত্যাখ্যান করেছিল। তখন হযরত যায়েদ ইবনে আলী যাইনুল আবিদীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছিলেন: তারা আমাকেও ছেড়ে গেল। তাই তাদের নামকরণ করা হয় ‘রাফিদ্বাহ’। কারো কারো মতে, ‘শীয়াহ’ বলার কারণ হল: নিশ্চয়ই শীয়াহ-রা হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর উপর মর্যাদায় প্রাধান্য দেয়না। এজন্য যে, রাফিদ্বীরা (শীয়াহ-রা) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর উপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ মনে করে থাকে।
শীয়াহ বা রাফিদ্বীদের একটি শাখার নাম ‘কাত্বয়িয়াহ’। এ নামে নামকরণের কারণ হল: কেননা তারা হযরত মূসা কাযিম ইবনে জা’ফর ছাদিক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ওফাতের পর দলত্যাগ করেছিল। অন্য আর একটি শাখার নাম ‘গালিয়াহ’। এ নামে নামকরণের কারণ হল: এ ফিরক্বার লোকেরা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্পর্কে অতিরিক্ত কিছু কথা বলে ও মত পোষণ করে। তাদের মতে, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ভিতরে রুবূবিয়াত (প্রভুত্ব) ও নুবুওওয়াতের অংশ বিরাজমান।
শীয়াহ বা রাফিদ্বীদের বসবাস যেখানে ছিল: ‘গুন্ইয়াতুত্ ত্বালিবীন’ কিতাবে আছে, অর্থাৎ: শীয়াহ বা রাফিদ্বী ফিরক্বার অধিকাংশ লোকেরা তৎকালীন সময়ে বিলাদে কুম, ক্বাশান, বিলাদে ইদ্রীস ও কূফা ইত্যাদি এলাকায় বসবাস করত।

শীয়াহ (রাফিদ্বী) বাত্বিল ফিরক্বার কুফরী আক্বাদীহ

‘গুনইয়াতুত্ ত্বালিবীন’ কিতাবে আছে, অর্থাৎ শীয়াহ (রাফিদ্বী) ফিরকার প্রত্যেকটি শাখার সম্মিলিত আক্বীদাহ হল: (১) ইমামত (খিলাফত) প্রতিষ্ঠিত হবে বিবেক দ্বারা, আর নিশ্চয়ই ইমামত (খিলাফত) নির্দিষ্ট অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অবর্তমানে সর্বপ্রথম হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খিলাফতের হক্বদার। (নাঊযুবিল্লাহ) (২) ইমামগণ যাবতীয় বিপদ-আপদ যেমন ভূল, ত্রুটি ও গুনাহ থেকে নিষ্পাপ (পবিত্র)। (৩) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম থেকে আফযল বা শ্রেষ্ঠ। (নাঊযুবিল্লাহ)। (৪) সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অবর্তমানে সর্বপ্রথম হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু খিলাফতের হক্বদার। (নাঊযুবিল্লাহ)। (৫) শীয়াহরা হযরত আবূ বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও অন্যান্য ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। (নাঊযুবিল্লাহ)। তবে শীয়াহদের একটি ফিরক্বা ‘যাইদিয়াহ’ এতে একমত নয়, কেননা তারা এতে এখতিলাফ করেছে।
(৬) সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হস্ত মুবারকে ইমামতের (খিলাফতের) বাইয়াত না হওয়ার কারণে ছয়জন ব্যক্তি ছাড়া উম্মতের সকলেই মুরতাদ হয়ে গেছেন। সে ছয়জন হলেন: (১) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২) হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩) হযরত মিক্বদাদ ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪) হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও ৫-৬ আরো দু’জন। (নাঊযুবিল্লাহ)
(৭) শীয়াহ-রা মিথ্যা প্রকাশ সত্য গোপন করে, কিন্তু বলে থাকে যে, ইমামদের বলা উচিত আমি মিথ্যা প্রকাশ ও সত্য গোপনকারী নই।
(৮) কোন কিছু হওয়ার পূর্বে তা কেমন হবে আল্লাহ তায়ালা তা জানেন না। (নাঊযুবিল্লাহ)।
হিসাব-নিকাশের দিনের (ক্বিয়ামতের দিনের) পূর্বে মৃত ব্যক্তি আবার দুনিয়ায় ফিরে আসবে। (নাঊযুবিল্লাহ) তবে ‘গালিয়াহ’ ফিরকা এ আক্বীদায় বিশ্বাসী নয়। কিন্তু ‘গালিয়াহ’ ফিরক্বার আক্বীদাহ্ হল: হিসাব-নিকাশ ও হাশর-নশর বলতে কিছু নেই। (নাঊযুবিল্লাহ)।
(১০) হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস সালামগণের মত ইমামগণও মু’জিযা’র অধিকারী। (নাঊযুবিল্লাহ)
(১১) যারা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, তাঁরা কাফির হয়ে গেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ)

৩| ০৮ ই জুন, ২০১২ বিকাল ৩:৪৬

মুহম্মদ তুষার খান বলেছেন: এক শ্রেণীর গন্ডমুর্খ লোক আছে যারা "আহলে বাইত" শব্দ মুবারক দেখলেই শিয়া বলে আওয়াজ তুলে। এরা জানেইনা যে, শিয়ারা কাট্টা কাফির। আর আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা মতে, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতই হচ্ছে ঈমান।

৪| ০৮ ই জুন, ২০১২ বিকাল ৩:৫৮

তুষার মজুমদার বলেছেন: +++++

৫| ১০ ই জুন, ২০১২ রাত ৮:২৮

ঢাকা থেকে বলেছেন: শিয়ারা কাফির। শিয়াদের আক্বীদা জানার জন্য এখানে ঘুরে আসুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.