| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি : দ্বিতীয় পত্র
শখের জাদুকর আমি। শখের বশে মাঝে মাঝে জাদুর থলেটা নিয়ে বসে পড়ি। হারিয়ে যাই জাদুর দুনিয়ায়। তারপর দেখা যায় দীর্ঘদিন ব্যাগের ধারে কাছেও ঘেঁষছি নাহ। জরাজীর্ণ আমি টা কখন যে জাদুমন্ত্রের ভিড়ে আঁটকে পড়েছি, নিজেও খেয়াল করি নি।

১.
ধোঁয়া ওঠা কফির মগ হাতে শুভ্রা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। মানুষজন দোকানগুলোর নিচে একসারিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছে। কেউ কেউ গল্প জুড়ে দিয়েছে। হঠাৎ করে এভাবে গল্প করার সুযোগ সহজে আসে নাহ।
অন্যকোন সময় হলে শুভ্রা বৃষ্টিতে হাত বাড়িয়ে দিত। আজ কিছুই ইচ্ছা হচ্ছে নাহ। মোবাইলটা বের করে দেখল। কই ! একবার হলেও তো কল দিয়ে সরি বলতে পারতো অর্ণব !
- আফা ! এই কাগজগুলান ফেলে দিতাম?
চমকে উঠলো শুভ্রা !
- কই? কী কাগজ?
- আফনের আগে যে আফায় থাকতো হেতার মনে হইতাসে।
- দেখি তো।
এই গুলো তো চিঠি!
আচ্ছা, এক কাজ করো, চিঠিগুলো আমার কাছে থাকুক। তুমি বরং খাটের পেছন টাতে যাও, ধূলার পাহাড় জমে গেছে, ঝটপট ঝাঁট দিয়ে নাও। দুপুরের আগেই শেষ করতে হবে। অনেক কাজ বাকি।
২.
এই রুমটা শুভ্রার বেশ পছন্দ হয়েছে। দু’পাশে জানালা। আগের রুমটায় কেমন যেন একটা বদ্ধ বদ্ধ ভাব ছিলো। জানালা যাও একটা ছিলো, আলামারিতে ঢাকা পড়ে গিয়েছিলো। সেই তুলনায় এই রুমটা অনেক খোলামেলা। ভাগ্য ভালো যে ঠিক টাইমে বলেছিল, নাহলে রুমটাই পাওয়া হতো নাহ।
- আফা, গেট ভিড়ান দেন, আইতাসি আমি।
- গেট টা টেনে রেখে যাও, খালা। পরে আটকাচ্ছি।
মোবাইলটা আবার দেখলো শুভ্রা। আগের মতোই তো নিশ্চুপ।
বিরক্ত লাগছে শুভ্রার। চেয়ারে রাখা চিঠিগুলোই চোখ গেল তার। অধিকাংশই মানি লন্ডারিং-এর বোঝা যাচ্ছে। ঠিকানাও সবগুলো একই। একটাই শুধু ভিন্ন!
ছয় মিনিট ধরে চিঠিটা কোলের উপর নিয়ে বসে আছে শুভ্রা। অন্য সময় হলে নিজেকে সামলে নিতো সে, আজ যেন কি হয়েছে তার! চিঠিটা পড়তে খুব ইচ্ছা হচ্ছে। তাছাড়া যেহেতু আপু ফেলে গেছেন, তারমানে চিঠিগুলো তার দরকার নেই- সহজ হিসাব! সুতরাং পড়া যেতেই পারে।
৩.
চিঠির কিনারাগুলি জোড়া লেগে আছে, কতদিনের পুরানো কে জানে! একপাশ তো হলুদ-ই হয়ে গেছে, কিনারা থেকে লেখাগুলো হালকা হালকা। কষ্ট হলেও পড়া যাচ্ছে বেশ।
“”
অনিন্দিতা,
বলতে পারবে আজ মাসের কত তারিখ? জানি পারবে নাহ, তুমি কখনোই দিনকাল মনে রাখতে পারো নাহ। যেদিন আমাদের দেখা হয়েছিল, সেদিন কী বার ছিল মনে আছে? মনে আছে গ্রীষ্মের সেই দুপুরের কথা ! ক্লান্ত-ঘর্মাক্ত হয়ে আমি যখন তোমার সামনে এসে দাঁড়ালাম, তখন তুমি কী বলেছিলে মনে পড়ে- “ চলো, রিকশা নিই। ” হা হা হা, এই আমাদের প্রথম কথা, তুমি পারো ও!
জানো সেদিনে সেই দুপুরটা নিঃসন্দেহে আমার জীবনের আশ্চর্য এক সুন্দর দুপুর। বৃষ্টিভেজা পিচঢালা রাস্তায় আমার লাজুক স্বভাবটা এক কাঠি যেন বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ! আমি কতবার আড়চোখে তোমাকে দেখছিলাম, খেয়াল করেছো? কতবার যে ইচ্ছা হচ্ছিলো হাত দিয়ে তোমার কানের উপর পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দেই। হাতটা ধরে তোমাকে বলতে ইচ্ছা করছিলো- এ আনন্দ ছেড়ে আজ আমি কোথাও যাবো নাহ! কী ক্ষতি হতো দুপুরটা আর একটু বড় হলে?
মনে আছে, অনিন্দিতা? সেদিনটার নাম দিয়েছিলে তুমি- ‘ফুচকা দুপুর’। আশেপাশের একটা চটপটি-ফুচকার দোকানও সেদিন বাদ যায় নি। ফুচকা মুখে দেয়ার পর মেয়েদের চোখে-মুখে যে সৌন্দর্য্য ফুটে উঠে তা হয়তো কেউ খেয়াল করে নি। করলে কন্যাপক্ষ ‘কনেদেখা’র বদলে ফুচকা-সন্ধ্যা দিয়ে বরপক্ষের চোখে ধূলা দিত। হা হা হা।
মজার কথা কি জানো? যতবার তুমি টকের বাটিতে ফুচকা ডুবিয়ে ডুবিয়ে খাচ্ছিলে, আমি ততোবার তোমার চোখে ডুবে যাচ্ছিলাম! আমিই মনে হয় সেই একমাত্র ডুবন্ত ব্যক্তি, যে কিনা সৃষ্টিকর্তার কাছে বাঁচার জন্য কোন আশ্রয় প্রার্থনা করি নি। হা হা হা ! সত্যি কথা কিন্তু ! মনে হচ্ছিলো- এ আনন্দ ছেড়ে আজ আমি কোথাও যাবো নাহ!
তোমার কি মনে আছে অনিন্দিতা, আমার জন্য নুডুলস বানিয়ে এনে কী টেনশনই নাহ তুমি করেছিলে! আজো তোমার সেইদিনের মুখটা চিন্তা করলে আমার হাসি আসে। তোমার কী চিন্তা- আলুগুলো সিদ্ধ হয়েছে কিনা। বিশ্বাস করো, সেদিনের সেই আধাসিদ্ধ নুডুলস আমার জীবনে খাওয়া সব থেকে মজার নুডুলস। যতবার খাচ্ছিলাম, ততবার মনে হচ্ছিল- এ আনন্দ ছেড়ে আজ আমি কোথাও যাবো নাহ!
তোমার সেদিনের হারিয়ে যাওয়া চুলের ক্লিপটা কিন্তু আমার কাছে আছে, অনিন্দিতা। চুলগুলো খুলে দেবার পর যতবার বাতাসে আমাকে স্পর্শ করছিলো, আমি যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিলাম। কী এক আড়ষ্টতা যেন পেয়ে বসেছিল আমাদের বলো তো ! বারবার তোমার চুল আর আমার আধা ইস্ত্রি শার্টের কুঁচ ঠিক করতে করতেই যেন দুপুরটা টুপ করে বিকাল হয়ে গেল।
জানো অনিন্দিতা, আজো আমি তোমাকে সেই বৃষ্টিভেজা পিচঢালা পথে মেঘফেনা রঙের জামাটা পড়ে হেঁটে আসতে দেখি। মনে মনে তখন নিজেকে বলি- কী ভয়ানক! কী ভয়ানক! এতো সুন্দর হয় কীভাবে?
জানি অনিন্দিতা, এসবের কিছুই আজ তোমার মনে নেই। কি! পারলে নাহ তো বলতে আজ কতো তারিখ? নাহ, আজ আমার জন্মদিনও নাহ, আজ আমাদের দেখাও হয় নি। আজ খুব সাধারণ একটা দিন। আজকের দিনের পর আর কখনো তুমি তারিখটা ভুলবে নাহ।
ঠিক ওইদিনের মতোই বর্ষাদুপুরে আবারও আমাদের দেখা হবে। তবে সেদিন কিন্তু আমি কিছুই বলব নাহ। শুধু হাতে থাকা কাগজে লেখা থাকবে-
“দুঃখিত ! এই মুহূর্তে আপনি যাকে দেখতে এসেছেন তার সাথে দেখা করা সম্ভব হচ্ছে নাহ, অনুগ্রহ করে পরকালের জন্য অপেক্ষা করুন।”
দূরে চলে যাচ্ছি অনিন্দিতা, নিষ্প্রাণ এই নগরীতে এরপর আবারও ঝুপ করে বৃষ্টি নামবে। শুধু পিচঢালা বৃষ্টিস্নাত পথটা চেয়ে থাকবে তোমার আর আমার অপেক্ষায়।
ইতি
“আমি ”
৪.
বাইরে বৃষ্টি থেমে এসেছে। গাল বেয়ে পানি চিঠিতে গড়িয়ে পড়ছে। এরকম কোনো একদিন একসাথে থাকার স্বপ্নটা দেখেছিলো তারা। হয়তো একজন আজ হারিয়ে গেছে সবার কৌতূহলের বাইরে।
অর্ণবের নাম্বারটা বের করে বসে আছে শুভ্রা। কল দিবে নাহ বলে ঠিক করেছিল। থাক ! সেই নাহয় সরি বলবে এবার। একজনকে তো সরি বলতেই হয়।
কল দিতেই কেঁপে উঠলো শুভ্রার মন -
“দুঃখিত ! এই মুহূর্তে আপনি যাকে কল করেছেন তার সাথে............................................... ”
.
২৮ শে মে, ২০১৭ দুপুর ২:৩৩
আমি : দ্বিতীয় পত্র বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে!
২|
২৮ শে মে, ২০১৭ দুপুর ২:২৮
নাগরিক কবি বলেছেন: সুন্দর
২৮ শে মে, ২০১৭ দুপুর ২:৩৪
আমি : দ্বিতীয় পত্র বলেছেন: ধন্যবাদ!
৩|
২৮ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৪
দ্যা ফয়েজ ভাই বলেছেন: একটি ঘটনা দ্বারা আরেকটিকে প্রভাবিত করা,বাঃ
চমৎকার লাগলো।ফুস্কার জায়গা টায় +++
যাই করি,বালিকা দেখতে গেলে ফুস্কার দোকানের কাছেধারেও নিয়ে যাবো নাহ।কখন আবার চোখে ধূলো দেয়। ![]()
২৮ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১১
আমি : দ্বিতীয় পত্র বলেছেন: হা হা হা। ধন্যবাদ! ফুসকার ব্যাপারে সজাগ থাকলেই হবে!
৪|
২৮ শে মে, ২০১৭ রাত ৮:২৬
সুমন কর বলেছেন: মোটামুটি লাগল।
২৯ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১২:২১
আমি : দ্বিতীয় পত্র বলেছেন: ধন্যবাদ!
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে মে, ২০১৭ দুপুর ২:২৩
বে-খেয়াল বলেছেন: দারুন লেখা, লেখায় ভালবাসা রইল