| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি : দ্বিতীয় পত্র
শখের জাদুকর আমি। শখের বশে মাঝে মাঝে জাদুর থলেটা নিয়ে বসে পড়ি। হারিয়ে যাই জাদুর দুনিয়ায়। তারপর দেখা যায় দীর্ঘদিন ব্যাগের ধারে কাছেও ঘেঁষছি নাহ। জরাজীর্ণ আমি টা কখন যে জাদুমন্ত্রের ভিড়ে আঁটকে পড়েছি, নিজেও খেয়াল করি নি।
এক পড়ন্ত বিকাল।
দীর্ঘদিন পর সম্রাট শাহজাহান বের হইয়াছেন তাজমহলের চারিপাশে সান্ধ্যভ্রমণ করিতে।
যেদিকে তাকাইতেছেন চোখ টা জুড়িয়া যাইতেসে , আনন্দে মন ভরিয়া উঠিতেছে। সাড়ে তিনশ বছর পরেও যে তাজের রূপ এক বিন্দু কমিয়া যায় নাই। নিন্দুকেরা বলিতেছিল বেশিদিন টিকিবে নাহ। শকুনের দোয়ায় যে গরু মরিবে নাহ, তাহা তিনি ভালোভাবেই জানিতেন।
প্রশান্তিতে ঘুম আসিতে শুরু করিল সম্রাটের।
হঠাৎ কোথা হতে এক বোটকা গন্ধে সম্রাটের চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটিল। কী ব্যাপার!
কিছুদূর গিয়ে থমকাইয়া দাঁড়াইলেন। একি দেখিতেছেন তিনি!
হস্তি বিলুপ্ত হইয়া তেলাপোকা টিকিয়া থাকার কথা থাকিলেও, সব হস্তি যে বিলুপ্ত হয় নাই, তাহা তিনি নিশ্চিত হইলেন। ব্যাপারখানা কী! এই বিশাল বপু রমণী কি তাহার তাজ মহলে আগুন ধরাইবার চক্রান্ত করিয়াছে নাকি!
সামনে আগাইয়া গেলেন সম্রাট।
"............অই সাজাইন্ন্যা! ব্যাটা ফাজিলের ফাজিল! ক্যামেরা আশেপাশেও ফোকাস কর। এত গুলান টাকা খরচ কইরা আইসি, একটু তাজ মহলের দিকেও ক্যামেরা ধর গাধা! "
ইতঃপূর্বে নিজের নামের সাথে এতো গুলান বিশেষণ আগে কখনো শ্রুত হয় নি সম্রাটের। তাই হজম করিতে সময় লাগিলো। যুগের এ কী অবস্থা! তাহার নাম নিয়াও মানুষ এতো অবজ্ঞা করিতে পারে। কষ্টে হু হু করে উঠিলো সম্রাটের মন।
এদিকে ক্যামেরাম্যান সাহজাহানের ঘাম ছুটিয়া যাইতেছে। কোনোভাবেই তাজ মহল ক্যামেরায় আসিতেছে নাহ।
"...............স্যার, ম্যাডামরেই তো ক্যামেরায় আটকে রাখা যাচ্ছি নে। ম্যাডামের পিছে তাজ মহল চাঁপা পড়ি যাচ্ছি যে। "
ডিরেক্টরের কোনো বোধোদয় হইল বলিয়া মনে হইলো নাহ, জায়গায় গিয়া শুধু বলিলেন- "অ্যাকশন"।
"..............দর্শকবৃন্দ, ‘প্রান গুঁড়া মশলা রান্নাঘর’ অনুষ্ঠানে আজ আমি আপনাদের রান্না করে দেখাবো একটি ঐতিহ্যবাহী মোঘল ডিস- নুডুলসের আচার!................................................।"
বাপের জন্মে এই খাবারের নাম শুনিয়াছেন বলিয়া স্মরণ করিতে পারিলেন নাহ সম্রাট। এতো জায়গা থাকিতে, তাহার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালোবাসার এই তাজ মহলে শেষমেশ নুডুলসের আচার রান্না দেখিতে হইবে তাকে! কষ্টে আবার হু হু করিয়া উঠিল সম্রাটের মন।
আর থাকিতে পারিলেন নাহ সম্রাট।
"মমতাজ! ও মমতাজ!"
"কী হইসে! কও!" বিরক্ত হইয়া উত্তর করিলেন মমতাজ।
দরজায় আসিয়া থমকে দাঁড়াইলেন সম্রাট। এ কী! তাহার প্রাণপ্রিয় মমতাজও দেখি বোকাবাক্সে সেই উজবুক রমণীকে দেখিতেছে। পাশে গিয়া শুধু চুপ করিয়া বসিয়া পড়িলেন সম্রাট।
অতঃপর সময়ে সময়ে আগুন জ্বলিতে থাকিলো তাজমহলের সামনে, পুড়িতে থাকিলো সম্রাটের মন। নাহ! কোনো রমণী-ই পারিল নাহ তাহার ভালোবাসার কদর করিতে! ইহা আগে জানিলে কোটি টাকা খরচ করিয়া রন্ধন শিল্পেই মনোনিবেশ করিতেন।
"ভুল হইয়া গিয়াসে, বড় ভুল হইয়া গিয়াসে…………" অস্ফুটস্বরে বলিয়া উঠিলেন সম্রাট।
" কিসু কইলা তুমি?"
"ভুল হইয়া গিয়াসে, বড় ভুল হইয়া গিয়াসে ‘প্রাণ মশলা’ আনিতে…………।"
মমতাজের রাগান্বিত চক্ষু দেখিয়া নিজেকে সামলাইয়া লইলেন সম্রাট।
পাশে রিমোট খানা পড়িয়া থাকিলো, হাত দেবার সাহস হইলো নাহ সম্রাটের। কষ্টে আবার হু হু করিয়া উঠিলো সম্রাটের মন।
.
৩১ শে মে, ২০১৭ রাত ৮:২১
আমি : দ্বিতীয় পত্র বলেছেন: ধন্যবাদ। সবাই সব খেতে পারে নাহ।
২|
৩১ শে মে, ২০১৭ রাত ৯:০৪
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ। আরও ভালো কিছু লিখুন।
৩১ শে মে, ২০১৭ রাত ৯:৩২
আমি : দ্বিতীয় পত্র বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও। সামনে আরো ভাল কিছু হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে মে, ২০১৭ রাত ৮:১৭
সুমন কর বলেছেন: ভালো লাগেনি।