| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী
লেখাপড়া ও জানার প্রতি আগ্রহ আমার সেই মাধ্যমিক সময়ের মতোই রয়ে গেছে। নিজেকে আমি লেখাপড়া থেকে কখনো সরিয়ে নিতে চাই না।
প্রারম্ভিকা
"শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড " - অতি পুরাতন কিন্তু খাঁটি কথা। সৃষ্টির ঊষালগ্ন হতেই শিক্ষার গুরুত্ব অনুভুত হয়েছে অনুক্ষণ। একবিংশ শতাব্দীর এ বিজ্ঞান বিভাসিত যুগে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা মনের অন্ধকার দূর করে, জাতিকে পৌঁছে দেয় উন্নতির স্বর্ণশিখরে। মূলত একটি দেশের শিল্প, সাহিত্য, পেশা, সভ্যতা সবকিছু দাঁড়িয়ে থাকে শিক্ষা নামক সোপানের উপর। সঙ্গত কারণেই বলা হয় - পৃথিবীতে যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত। শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজ তার সমগ্র উন্নতি এবং প্রবৃদ্ধি সাধন করতে পারে। কোন জাতিই শিক্ষা ছাড়া তাদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারেনি; ভবিষ্যতেও পারবেনা। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা সমপ্রসারণশীল কিন্তু গুণগতমান সন্তোষজনক নয়। শিক্ষার ব্যবস্থাপনা ও মান, দু'টিই এখন সংকটের মুখে। শিক্ষার মান ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে ধাবিত হওয়ায় শিক্ষা সম্পর্কে জনসাধারণের আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং জাতীয় জীবনে ব্যাপক অবক্ষয় নেমে আসছে। অভিজ্ঞ ও মেধা সম্পন্ন শিক্ষকের অভাব, শিক্ষকদের আদর্শচ্যুতি, শিক্ষাঙ্গনে অপরাজনীতি, সন্ত্রাস, ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পাসের বাধ্যবাধকতা, শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতির বেহাল অবস্থা ইত্যাদি কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় নেমেছে ধ্বস।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের দীর্ঘদিন পরও আজ পর্যন্ত এখানে আদর্শ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়নি। বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবার ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থা চলে আসছে আরো আগে থেকে। মুসলিম শাসনামলে ভারত উপমহাদেশে চালু ছিলো ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা। সে শিক্ষা ব্যবস্থায় তৈরি হতো আদর্শ নাগরিক, আদর্শ মুসলিম এবং দেশ পরিচালনার যোগ্যাসম্পন্ন দক্ষ নেতৃত্ব ও জনশক্তি।
কিন্তু ১৭৫৭ সাল থেকে যখন ইংরেজরা ভারতবশর্ষ দখল করে নিতে থাকে, তখন থেকে তারা এ দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার ব্যবস্থা করে, যে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার ব্যবস্থা থেকে তারা এ দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার ব্যবস্থা করে, যে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শিক্ষা লাভকারীরা তাদের মানসিক গোলাম হিসেবে তৈরি হবে। তাদের খাদেম ও সেবক হয়ে কাজ করবে এবং মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলেও সত্যিকার খাদেম ও সেবক হয়ে কাজ করবে এবং মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলেও সত্যিকার মুসলিম হয়ে গড়ে উঠবেনা। শেষ পর্যন্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাহীন ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা তার শৌর্যবীর্য হারিয়ে স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং কার্যকারিতা হারয়ে ফেলে। অপরদিকে বৃটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থা জমে উঠে। চাকুরি বাকরিসহ বস্তুগত জীবন ধারণ ও জীবন যাপনের জন্যে তখন এই শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়ে।
দ্বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা
সেই থেকে এদেশে চালু হয় দ্বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা। অর্থ্যাৎ দুই ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা। একটি হলো বৃটিশদের বস্তুবাদী দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। আর অপরটি হলো পূর্ব থেকে চলে আসা মুসলামানদের ধর্মীয় তথা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে তার উপযোগিতা হারিয়ে ফেলে।
এ সময় মুসলমানরা রাষ্ট্র ও ক্ষমতা হারিয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে সম্পর্কহীন হয়ে পড়ার কারণেই তাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে সেকেলে হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের পরিচালিত মাদ্রাসাগুলো শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য লোক তৈরি করবার উপযুক্ততা হারিয়ে ফেলে।
১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার সময় ভারত বিভক্ত হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। আর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে গঠিত হয় ভারত।
মুসলমানরা স্বাধীন পৃথক রাষ্ট্র দাবি করেছিল ইসলাম অনুযায়ী দেশ পরিচালনার জন্যে। তাদের আদর্শিক ঐতিহ্য ও শিক্ষা সংস্কৃতি চালু করবার জন্যে। কিন্তু যারা পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় আরোহণ করে, তারা মুসলামনদের এই প্রাণের দাবির সাথে গাদ্দারি করে। তারা পাকিস্তানে কিছুতেই ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত ও চালু করেনি। ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেনি। তারা ইংরেজদের চালু করেনি। ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেনি। তারা ইংরেজদের চালু করে যাওয়া রাষ্ট্র ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা সবই হুবহু বহাল রাখে। কিছু সংস্কার সংশোধন করলেও ইসলামের পক্ষে তেমন কিছুই করেনি। কেবল মুসলমান জনগণের প্রবল চাপের মুখে বাধ্য হয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান নামের সাইন বোর্ডটি গ্রহণ করে। ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা করেননি। অতপর চব্বিশ বছরের মাথায় পাকিস্তান ভেংগে যায়। পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যায় পাকিস্তান হিসেবে।
একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা
স্বাধীন বাংলাদেশেরও চব্বিশ বছর বিগত হলো। আদর্শ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা এখানে চালু হয়নি। জনগণের প্রাণের দাবি ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণীত ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
১৯৭১-র স্বাধীনতার পর কয়েকবারই জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে। ডঃ কুদরাত-এ-খুদা, মজীদ খান ও প্রফেসর মফিজ উদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। প্রথম কমিশনটি ছিলো ডঃ কুদরাত-এ-খুদা কমিশন। এ কমিশনের রিপোর্টের উপর বিগত ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৭ তারিখে ঢাকাস্থ হোটেল সুন্দরবনে একটি আলোচনা হয়েছিল যে,
আপনারা জানেন, ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই তৎকালীন সরকার কর্তৃক ড:কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। একই সালের ২৪ সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এ কমিশনের উদ্বোধন করেন। কমিশন সদস্যগণ ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে ভারত সরকার কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে ভারত সফর করেন। এক মাসব্যাপী সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অতপর কমিশন সরকারি প্রস্তাবের নির্দেশনানুযায়ী ১৯৭৩ সালের ৮জুন প্রধানমন্ত্রীর নিকট অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী রিপোর্ট গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। (বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট ভূমিকা-)
আপনারা একথাও অবগত আছেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরির্তনের পর উক্ত শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট আর বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়টিও নিশ্চয়ই আপনাদের দৃষ্টি এড়ায়নি যে, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই উক্ত কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কিমিশনই রিপোর্টকে গণমুখী ও যোগপযোগী করে একটি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়নে উদ্দেশ্যে অধ্যাপক শামসুল হকের নেতৃত্বে ৫৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটিও গঠন করেছে।
একথাতো তো কোন প্রকার সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশের জন্যে অবশ্যি একটি যুগোপযোগী বাস্তবভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রয়োজন। কিন্তু যুগোপযোগী এবং বাস্তবভিত্তিক কথা দুটি আপেক্ষিক। এ দুটি কথাই দৃষ্টিভংগি দ্বারা বিবেচিত ও প্রভাবিত হয়ে থাকে। যেমন, কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টকেও গণমুখী, যুগোপযোগী এবং বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা রিপোর্ট বলা হয়েছিল।
এ রিপোর্টের ভূমিকায় বলা হয়: আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের সুপারিশসমূহ বাস্তাবায়িত হলে শিক্ষা ক্ষেত্রের এ অবঞ্চিত পরিস্থিতির অবসান ঘটবে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে নব দিগন্তের সূচনা হবে।
নবদিগন্ত সূচনাকারী সেসব সুপারিশ কি? উক্ত শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট থেকে আমি কয়েকটি সুপারিশ আপনাদের সামনে উল্লেখ করছি:
১. কাজেই দেশের কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্তসহ সকল শ্রেণীর জনগণের জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের উপলব্ধি জাগানো, নানাবিধ সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জন এবং তাদের মাঝে বাঞ্চিত নতুন সমাজতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টির প্রেরণা সঞ্চারই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান দায়িত্ব ও লক্ষ্য। (অধ্যায়: ১:১)
২. আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবোধ শিক্ষার্থীর চিত্তে জাগ্রত ও বিকশিত করে তুলতে হবে এবং তার বাস্তব জীবনে যেন এর সম্যক প্রতিফলন ঘটে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। (অধ্যয় : ১: ২)
৩. সাম্যবাদী গণতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টির সকল নাগরিকদের ....শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। (অধ্যায় : ১:২)
৪. নতুন সমাজতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন চিন্তা, সৃজনশীল, সংগঠন ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুনাবলী বিকাশের উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। (অধ্যায়: ১:৯)
৫. প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশেকে গভীরভাবে ভালবাসতে হবে এবং বাঙালী জাতীয়তাবাদ আদর্শের সম্যক উপলব্ধি অর্জন করতে হবে। (অধ্যায় ২:৩)
৬. সমগ্র দেশে সরকারী ব্যয়ে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত একই মৌলিক পাঠ্যসূচি ভিত্তিক এবং অভিন্ন এবং অভিন্ন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। (অধ্যায় ৭:৯)। (অর্থ্যাৎ মাদ্রাসা শিক্ষা থাকবেনা)।
৭. প্রাথমিক শিক্ষার পঠিতব্র বিষয় : সাপ্তাহিক পিরিয়ড:
প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পর্যন্ত ধর্ম শিক্ষা থাকবেনা। ৬ষ্ট, ৭ম ও ৮ম শ্রেণীতে সপ্তাহে ধর্ম শিক্ষার ২টি করে পিরিয়ড থাকবে। (অধ্যায় ৭:১০)
৮. মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর হবে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। এ স্তরের শিক্ষার্থীদের বয়সের প্রেক্ষিতে ধর্ম শিক্ষার একই শিক্ষা পরিবেশ শিক্ষাদানের সুযোগ সৃষ্টি শিক্ষা মনোবিজ্ঞান সম্মত। (অধ্যায় : ৭:১০) । অর্থ্যাৎ সহশিক্ষা।
৯. নবম শ্রেণী হতে শিক্ষা কার্যক্রম মূলত দ্বিধাবিভক্ত হবে: (ক) বৃত্তিমূরক শিক্ষা ও (খ) সাধারণ শিক্ষা। (অধ্যায় ৮:৫)। (ধর্মীয় শিক্ষা থাকবেনা)।
১০. মাদ্রসা শিক্ষা পদ্ধতি অনেকটা একদেশদর্শী। কেননা সকল শিক্ষার্থীকেই ইসলাম সম্পর্কে বিশেষ শিক্ষা প্রদান মাদ্রাসার লক্ষ্য। (অধ্যায়: ১১:২)
১১. বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষার আমূল সংস্কার ও যুগোপযোগী পূর্ণগঠনের প্রয়োজন। আমাদের সুপারিশ হচ্ছে দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টের সপ্তম আধ্যায় বর্ণিত একই প্রাথমিক শিক্ষাক্রম (১ম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত) প্রবর্তিত হবে। (অধ্যায় ১১:৩)। অর্থ্যাৎ মাদ্রাসা থাকবেনা।
এ শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তব ও কর্মমূখী করার জন্যে অনেকগুলো প্রস্তাবই আছে। তবে সেই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতির ঈমান আকীদা, ধ্যান ধারণা, দৃষ্টি ভংগি ও ইতিহাস ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত করার একটা পরিকল্পনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জাতির ভবিষ্যত প্রজন্মকে ইসলামী আদর্শের বিপরীত বিশেষ ধ্যান ধারণা ও দৃষ্টিভংগিতে গড়ে তোলার সুস্পষ্ট সুপারিশ এই রিপোর্ট রয়েছে। সুতরাং এ রিপোর্টকে কতটা গণমুখী ও বাস্তব ভিত্তিক বলা যায়?
বর্তমান সরকার উক্ত কমিশনের সুপারিশমালাকে বাস্তবভিত্তিকে করে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্যে যে কমিটি গঠন করেছে, সে কমিটি কি কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের সুপারিশমালায় সন্নিবেশিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভংগি পাল্টাবে? জাতির ঈমান আকীদা,দৃষ্টিভংগি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা কি তারা চিন্তা করবে? তারা কতি পারবে ইসলামী আদর্শভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে? দীনি শিক্ষার অস্তিত্ব বজায় রাখতে?
সরকার কমিটি সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করার পর জাতি হতাশ হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ কমিটির ব্যাপারে পত্র-পত্রিকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ কমিটি জাতির প্রত্যাশিত শিক্ষানীতি প্রণয়ন করবে বলে সচেতন মহল মনে করতে পারেছনা। ফলে ইসলামী শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।১
সরকার ড: কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টকে বাস্তবভিত্তিক ও যুগোপযোগী করার জন্য যে কমিটি গঠন করেছে (জানুয়ারি ৯৭তে), সে কমিটিকে প্রস্তাব ও সুপারিশমালা প্রদানের জন্যে সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিজ ২১
১. দ্রষ্টব্য : জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নে প্রস্তাব ও সুপারিশমালা গ্রন্থ প্রকাশক: সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিজ, জুন ১৯৯৭।
মার্চ ৯৭ তারিখে ন্যাম এ এক সেমিনার কাম ওয়ার্কশপের বলা হয়েছিল যে,
নীতিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে বিভ্রান্ত করে। শিক্ষা অবশ্যই এমন হতে হবে, যে, শিক্ষা মানুষকে স্রষ্টামুখী করে এবং সাথে সাথে জীবন ও জগতকে সঠিক নীতি ও দক্ষতার সাথে পরিচালিত করার উপযুক্ত করে গড়ে তোলে। তাই শিক্ষানীতি আমাদের লাগবেই। আমাদের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে। তাই শিক্ষানীতি আমাদের লাগবেই। আমাদের শিক্ষানীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে একথা সুস্পষ্ট করে বলে দিতে হবে যে, আমরা আমাদের সন্তানদের মধ্যে কোন দৃষ্টিভংগি, ধ্যান-ধারণা, আকিদা, কোন ঐতিহ্য চেতনা এবং কিসের প্রেরণা সৃষ্টি করতে চাই? অর্থ্যাৎ আমরা আমাদের শিক্ষা দর্শনকে কোন ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে চাই? একথাতো পরিষ্কার, মানুষের দৃষ্টিভংগি ও নৈতিক চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে যদি ধর্মীয় বিশ্বাসকে ভিত্তি বানানো না হয়, তাহলে Stanly Hull এর কথাই যথার্থ। তিনি বলেছিলেন, তিনটি R অর্থ্যাৎ Reading, Writing এবং Arithmetic এর সাথে যদি ৪র্থ R মানে Rascal-ই পাবেন। অর্থ্যাৎ সেক্ষেত্রে শিক্ষাথীর্রা Rascal হতে বাধ্য। বিশ্বের অবশ্যি এক আল্লাহমূখী হতে হবে। তিনি এবং তাঁর বিধানই মানুষের সত্যিকার কল্যাণ সাধন করতে পারে। মানুষের সত্তাকে তিনিই সোনালি চুলকে নয়, আমার সত্তাকে ভালোবাসবে প্রেমিকার এ দাবির প্রেক্ষিতে মহাকবি W.B.Yeats বলেছিলেন:
I heard an old religious man
But yester night declare
That he had found & text to prove
That only God, my dear,
Could love you for your self alone
And not for your yellow hair.
হ্যাঁ, কেবল আল্লাহই মানুষকে সত্যিকার ভালোবাসেন। তাই কেবল তাঁর বিধানই মানুষের ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণের গ্যারান্টি। মানব কল্যাণের শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল আল্লাহ বিধানের ভিত্তিতেই গড়ে উঠতে পারে।অপরদিকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে এতোটা উন্নত একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করেছে। এ প্রতিবেদনের শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বল হয়েছে:
১. ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে নৈতিক, মানবিক,ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকল্পে শিক্ষার্থীদের মননে, কর্মে ও ব্যবহারিক জীবনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা।
২. বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভোমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীকে সচেতন করা।
৩. মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রণিত করে তোলা এবং তাদের চিন্তা চেতনায় দেশাত্মবোধ, জাতীয়তাবোধ এবং চরিত্র সুনাগরিকের গুলাবলির বিকাশ ঘটানো।
৪. দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য শিক্ষাকে প্রয়োগমুখী, উৎপাদনক্ষম, সৃজনশীল করে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন, দায়িত্ববান ও কর্তব্যপরায়ণ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা।
৫. কায়িক শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আগ্রহী করে তোলা এবং শিক্ষার স্তর নির্বিশেষে আত্মকর্ম সংস্থানে নিয়োজিত হওয়ার জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষার দক্ষতা অর্জনে সমর্থ করা।
৬. বিশ্বভ্রাতত্ব, অসাম্প্রদায়িকতা, সৌহার্দ্য ও মানুষে মানুষে সহমর্মিতাবোধ গড়ে তোলা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা।
৭. গণতান্ত্রিক চেতনাবোধের বিকাশের জন্য পারষ্পরিক মতাদর্শের প্রতি সহনশীল হওয়া এবং জীবনমুখী, বস্তুনিষ্ঠ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশে সহায়তা করা।
৮. শিক্ষার প্রত্যেক স্তরে পূর্ববর্তী স্তরে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতাও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত দৃঢ় করা ও এগুলো সম্প্রসারণে সহায়তা করা এবং নবতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সমর্থ করা।
৯. জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির ধারা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকশিত করে বংশ পরস্পরায় হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা।
১০. দেশর জনগোষ্ঠীকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।
১১. বৈষম্যহীন সমাজ সৃষ্টির লক্ষ্যে মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী শিক্ষালাভের সমান সুযোগ-সুবিধা অবারিত করা।
১২. শিক্ষার জাতি, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে নারী পুরুষ বৈষম্য (Gender bias) দূর করা।
১৩. শিক্ষার সর্বস্তরে সাংবিধানিক নিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটানো।
১৪. পরিবেশ-সচেতনতা সৃষ্টি করা। ৩
৩. পরিবেশ : জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি ১৯৯৭, পৃষ্ঠা: ৯,৪০।
এখানে ২নং পয়েন্ট সুস্পষ্ট ও অকাট্য কথা বলে দেয়ার পর ৩ নং পয়েন্ট মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি, তা উহ্য ও অস্পষ্ট রেখে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া ৬,৭ ও ৯ নং পয়েন্টসমূহ খুবই বিভ্রান্তিকর। এছাড়া এ প্রতিবেদনের ভেতরেও মাঝে মাঝে বেশ বিভ্রান্তিকর সুপারিশ করা হয়েছে।
এযাবত যতোগুলো শিক্ষা কমিশন রিপোর্টেই প্রকাশ হয়েছে, তার কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। তবে শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিকে বিভিন্ন সময় সংস্কার করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময় কিছু কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইসলাম, বিজ্ঞান,প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভংগির সমন্বয়ে এখনো ঢেলে সাজানো হয়নি।
আমাদের দেশে এখনো মূলত সেই ইংরেজ আমল থেকে চলে আসা দুই ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। একটি হলো ট্রেডিশনাল মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা আর অপরটি ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত বস্তুবাদী শিক্ষা ব্যবস্থা। একটি আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে বিবর্জিত আর অপরটি ইসলামী আদর্শ বিবর্জিত। একটি জাতির লোকেরা দুই ধারায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আরেক ধারার শিক্ষার্থীরা সুধারণা পোষণ করেনা। আদর্শ মুসলিম জাতি গঠনের জন্যে এর কোনো ধারাই এখন আর উপযুক্ত নয়। উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকেই আমাদের বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার।
আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করার পরও অত্যন্ত সাধারন অনেক বিষয়ে কোনরকম জ্ঞ্যান অর্জন করা আমাদের হয় না। তাহলে আমরা কোথা হতে এসব বিষয় শিখব ? সামাজিক ব্যক্তিগত , পারিবারিক ইত্যাদি সমস্যাগুলো এ জন্যই তৈরি হয় এবং প্রতিদিন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা দেখি কিভাবে আমাদের দেশ সামাজিক মুর্খের দেশে পরিনত হচ্ছে। কিভাবে একটি সংসার, একটি সমাজ একটি গোষ্টি একটি ব্যক্তি অন্য আরেকটি সংসার, সমাজ, গোষ্টি ও ব্যাক্তিকে তির মাধ্যমে সর্বপুরী দেশের তি সাধন করছে। মুল কথা আমাদের ভালবাসতে হবে দেশকে দেশের মানুষকে দেশের পরিবেশকে আর এজন্যই প্রয়োজন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশকে ভালবেসে কিভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে বিশ্বের মানচিত্রে একটি সর্বশ্রেষ্ট জাতিতে পরিনত করা যায় তার সুস্পষ্ট উল্লেখ।
কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা
জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা। সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার অগ্রযাত্রার ফলেই পৃথিবী আজ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যে শিক্ষা ব্যবস্থায় মানুষ কোনো একটা বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা লাভ করে জীবিকার্জনের পথ নির্দেশনা পায় তাকেই আমরা বলতে পারি কারিগরি শিক্ষা বা কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা অর্থাৎ কারিগরি শিক্ষা হচ্ছে জীবিকা অর্জনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য পেশাগত কর্মের কাছে সম্পর্কিত শিক্ষা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণ হিসেবে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বহুলাংশে দায়ী করা যায়। ইংরেজ শাসনের সময় একশ্রেণীর কর্মচারী সৃষ্টির জন্যে শিক্ষার ব্যবস্থা পরিকল্পিত হয়েছিলো। সেই কাল থেকেই স্বনির্ভর জাতি সৃষ্টি হয়নি। সাধারণ শিক্ষার একটা প্রবল মোহ অতীতের ঐতিহ্য নিয়ে আজকের দিন পর্যন্ত বিরাজ করছে। বিশেষ বিশেষ বৃত্তির ওপর নির্ভর করে যে সমাজ অতীতে গড়ে উঠেছিলো তার অস্তিত্ব আজকে আর নেই। দেশে বর্তমানে যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত তাতে জাতির জীবনে উন্নতি আসতে পারে না। সেই জন্যে দরকার দেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সাধারণ শিক্ষার পরিবর্তে কারিগরি শিক্ষার প্রবর্তন করতে পারলে জাতীয় জীবন হতে বেকার সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হবে। বিশ্বের উন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায় যে, তাদের পরিকল্পিত কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে তারা অনেক বেশি কর্মমুখী ও স্বনির্ভর। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় স্বল্প সময়ে চীন, জাপান, কোরিয়া ও মালয়েশিয়া সহ যে সকল দেশ আজ উন্নতির চরম শিখরে তাদের কারিগরি শিক্ষার গড় মোট শিক্ষিতের হারের ৬০%-এর ওপরে, যা আমাদের দেশে মাত্র ১০% প্রায়। সেটা লক্ষ্য করলে আমরা সহজেই বুঝতে পারি কতোটা পিছিয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশে তীব্র বেকার সমস্যা রয়েছে। সাধারণ শিক্ষায় বিএ, এমএ পাস করা অগণিত হতভাগা যুব সমাজ চাকরি নামক সোনার হরিণের আশায় দ্বারে দ্বারে ধরণা দিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের চাকুরির ক্ষেত্র একেবারেই সীমিত। তাই দিন দিন বেকার সমস্যা প্রকটতর হচ্ছে। অথচ কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে সহজেই জীবিকার সংস্থান করা যায়। আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষা একেবারে সমপ্রসারিত হয়নি এ কথা বলা যাবে না। বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্র ক্রমেই সমপ্রসারিত হচ্ছে। দেশে প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২২টি মেডিকেল কলেজ ও একাধিক ডেন্টাল কলেজের মাধ্যমে চিকিৎসা বিদ্যার প্রসার ঘটেছে। এছাড়া ৪টি প্রকৌশল ইনস্টিটিউট, ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। এছাড়াও অনেকগুলো টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, লেদার টেকনোলজি কলেজ, টেঙ্টাইল টেকনোলজি কলেজ, গ্রাফিক আর্ট ইনস্টিটিউট ইত্যাদির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এতদ সত্ত্বেও দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তা যথেষ্ট নয়। দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের জন্যে আরো অধিক হারে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষার উপকরণ সরবরাহ, অন্যান্য লোকবল, আর্থিক ব্যয় সঙ্কুলানের ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও প্রকট সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আর সে লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি শিক্ষা হতে পারে অন্যতম মাধ্যম। তাই আমরা আশা করতে পারি, সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি নিঃসন্দেহে অধিক মনোযোগী হবে।
শিশু
[
আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যদি তা-ই হয় তাহলে এই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য শিশুরাতো কোন ভুমিকা পালন করতে পারবে না কারন তার অবুঝ। প্রয়োজন বাবা/মায়ের যথাযথ ভুমিকা । দেশের প্রতিটি মা/বাবা তাদের সন্তানদের মঙ্গল চান কিন্তু আমাদের দেশের অনেক শিতি মাও জানেন না তার সন্তানদের কিভাবে পরিচর্চা করতে হবে। কিভাবে একটা শিশুকে তার শারীরিক মানসিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে লালন পালন করতে হবে কি কি বিষয় একটি শিশুর জন্য তিকারক এবং কি কি বিষয় উপকারী । এ বিষয় গুলো শুধুমাত্র ডাক্তারদের জানলেই হবে না। জানতে হবে আমাদের দেশের প্রতিটি শিতি বাবা/ময়ের। কিন্তু আমাদের শিা ব্যবস্থায় এসব বিষয়ের উল্লেখ নেই। এ জন্য একজন মাকে দারস্ত হতে হয় অনেক অশিতি অভিজ্ঞ মা-দের । এতে করে শিশু বয়সেই শিশুদের মধ্যে তৈরি হয় বৈষম্য । আমার জানা মতে অনেক মা-ই শিশুকে ৩ বছর হতেই বিদ্যালয়ে/নার্সারীতে ভর্তি করিয়ে দেন তারা জানেন এটাই শিশুর জন্য মঙ্গল । আবার অনেক মা ৬ বছর পূর্ন হবার পূর্বে কিছুতেই স্কুলে দিতে আগ্রহী নন তারা জানেন এটাই শিশুর জন্য মঙ্গল। আমার কথা হচ্ছে এ বিষয় গুলো প্রতিটি শিতি বাবা মায়ের জানা উচিত , জানা উচিৎ কিভাবে শিশুর পরিচর্যা করতে হয়, জানা উচিৎ শিশুর খাওয়া দাওয়ার বিষয়ে অর্থাৎ শিশুদের সমস্ত বিষয়ে আমাদের দেশের শিা ব্যবস্থায় স্পষ্ট উল্লেখ থাকা প্রয়োজন যেন আমাদের বাবা/মায়েরা প্রকৃত শিতি হয়ে শিশুর পরিচর্যা করতে পারেন।
বাবা-মা
আমাদের সমাজে একটি সংসার হওয়ার পর সাধারনত এই সংসার নিয়েই প্রতিটি স্বামী স্ত্রী জীবন অতিবাহিত করে থাকে। যেহেতু ভিন্ন দুটি পরিবার হতে ১টি ছেলে ১টি মেয়ে মিলে ১টি সংসার হয় সেহেতু এই সংসারে শিক্ষার গুরুত্ব প্রতিটি মানুষের জীবনে অনেক অনেক বেশী। কিন্তু এই সংসারকে সুচারুরূপে পরিচালনার জন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোথাও উল্লেখ নাই। একটি সংসারে স্বামীর কি ভুমিকা থাকা উচিৎ স্ত্রীর কি ভুমিকা থাকা উচিৎ, একান্নবর্তী সংসারকে কিভাবে শান্তিময় করা যায় এবং স্বামী স্ত্রী শশুর শাশুরী ননদ ভাসুর অর্থাৎ একটি সংসারের প্রতিটি সদস্যের কিকি আচরনের মাধ্যমে একটি সংসারে বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এইসব বিশৃংঙ্খলা হতে কিভাবে উত্তরন হওয়া যায়। মনে রাখা দরকার সংসারে শান্তি না থাকলে সমাজে কখনো শান্তি আসবে না। তাই সংসার কিভাকে শান্তিময় রাখা যায় আমাদের পাঠ্য বইগুলোতে তার কিছু বাস্তব উদাহরন বিশদ উল্লেখ করা প্রয়োজন। এতে করে এই শিা সাংসারিক জীবনে কাজে লাগিয়ে দেশ ও দশের উন্নয়ন করা যাবে।
কিশোর, যুবক ও কর্মজীবী
দেশ সমাজ সংসার ব্যাক্তি স্বার্থে আমাদের দেশের কিশোর ও যুবকদের কি ভুমিকা থাকা প্রয়োজন। দেশ ও সমাজ উন্নয়নে এই বয়সেই প্রয়োজন কর্মজীবনে কিভাবে চেইন অব কমান্ড অনুসরন করতে হয়। কিভাবে সবেেত্র ইর্ষামুক্ত হয়ে চলতে হয়। আমরা জানি অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসা এই পাচটি হচ্ছে প্রতিটি নাগরীকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু আমরা জানিনা ট্রাফিক আইন না মানলে কি শাস্তি পেতে হবে, খুন খারাবি করলে কি শাস্তি পেতে হবে, মেয়েদেরকে উত্যক্ত করলে কি শাস্তি পেতে হবে, যেীতুকের কি শাস্তি , ধর্ষনের ফলে কিভাবে কয়েকটি জীবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, কর্মজীবনে অনগ্রসর নারীদেরকে নিরুৎসাহিত না করে উৎসাহিত করলে কিভাবে দেশের উন্নয়ন হয়, ঘোষ কিভাবে সমাজের তির কারন হয়ে দাড়ায়, কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ঘোষ আবদার করলে কিভাবে তা প্রতিহত করতে হয়। আইন শৃংখলা বাহিনীর কি ধরনের মানব বন্ধুসুলভ আচরন করা উচিৎ এবং রাষ্ট্রসেবায় বসে কেউ দুর্নীতি করলে তা প্রতিহত করার জন্য কোথায় নক করতে হবে। মোট কথা এসব বিষয়ে যারা অপরাধী তাদেরকে নিন্দনীয় ব্যক্তি হিসাবে পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে। বাস্তবে দেখা যায় দুর্নীতিবাজ এবং অন্যায়কারীরাই সমাজের উচ্চ শিষরে আহরন করতে পারে এর জন্য আমরাই দায়ী কারন তাদেরকে আমরাই স্বীকৃতি দেই। এটাই স্বাভাবিক কারন এ বিষয়ে যথাযথ জ্ঞ্যান অর্জনের আয়োজন আমাদের শিা ব্যবস্থায় নাই। তাই প্রয়োজন আমাদের ভোটাধিকার কোথায় প্রয়োগ করব। ভোটাধিকার প্রয়োগে ভুল করলে কিভাবে আমরাই এই ভুলের মাসুল দিব সে বিষয়ে যথাযথ জ্ঞ্যান অর্জনের ব্যবস্থা পাঠ্য বইয়েই উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
ইরেজী ভাষাজ্ঞান
আমাদের দেশের শিা ব্যবস্থা যে অবস্থায় গিয়েছে তার উন্নয়ন অতি সহজেই হয়ে যাবে এমনটি আশা করা ঠিক নয়। তবে এখনই উদ্যোগ না নিলে বাংলাদেশের মানুষ সারা বিশ্বের কৃতদাস হয়েই থাকবে। বাংলা ভাষার পাশাপাশি আমাদের দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন অষ্টম শ্রেনীর পূর্বেই ইংরেজীতে কথোপকথন করতে পারে সে বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। নট্রামস এর মত সরকারী ভাবে রাজধানীতে একটি ইংলিশ ভাষা শিা কোর্স চালু করা একান্ত প্রয়োজন এবং দেশের শিকদের ইংরেজী ভাষা শিায় পর্যায়ক্রমে একটি পুর্নাঙ্গ কোর্স সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করলে দেশের শিার্থীরা উপকৃত হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক নিয়োগে ভাবতে হবে ইংরেজী ভাষার দতা এছাড়া ইংরেজী ভাষা শিা বিষয়ে আমাদেরকে জাতীয় ভাবে এক হতে হবে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবশ্যই ইংরেজী ভাষায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হতে হবে।
দেশপ্রেম
দেশ আমাদের । ১৫ কোটি মানুষের কেন্দ্রীয় আশ্রয়স্থল । এই দেশের কোন এক পাড়াগায়ে যদি ১টি বৃ রোপন হয় তাহলে সার্বিক ভাবে এটা দেশেরই উন্নয়ন। আর যদি কোন এক পাড়াগায়ে একটি বৃ নষ্ট হয় তাহলে আমাদের দেশেরই তি। তাই আমাদের থাকতে হবে দেশপ্রেম। আর এজন্যই আমাদের পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে দেশপ্রেম। কিভাবে আমরা নিজেরাই আমাদের দেশের তি করি এবং কিভাবে আমরা নিজেরাই আমাদের দেশের উন্নয়ন করতে পারি এ বিষয়গুলো যেন অন্তরের অন্তস্থলে দেশের প্রতিটি নাগরিক উপলব্দি করে । আমরা যদি কিছুটা সচেতন না হই আমাদের দেশেরই সার্বিক তি। আমাদের দেশের মানুষ অনেক সময় খেতে পায় না পড়তে পারে না । অথচ এদেশেরই মানুষ ১ কোটি বা আরও অধিক মূল্যের গাড়ি মেনেটেন করে তা করতেই পারে কারন প্রত্যেকের ব্যক্তি সাধিনতা রয়েছে। কিন্তু উনাদের নিজেদের মধ্যে যদি আরও সচেতনতা তৈরী করা যায় দেখা যাবে উনারা সামর্থ থাকলেও ১ কোটি টাকার গাড়ি ব্যবহার না করে ১০ লাখ টাকার গাড়ি ব্যবহার করবে যার সামর্থ আছে দশ লাখ টাকার গাড়ি ব্যবহারের সে ব্যবহার করবে ৩ লাখ টাকার গাড়ি। আর বাকি টাকা দেশের দরিদ্র শ্রেনীকে উন্নয়নের জন্য দেশের মধ্যেই নিয়োজিত রাখবে এতে নিজের ও দেশের উন্নতি হবে। কিভাবে বিদেশী পন্য কম ব্যবহার করে দেশী ভাল পন্য ব্যবহার করলে দেশের উন্নতি হবে তারও উল্লেখ থাকা প্রয়োজন পাঠ্য বইয়ে। মুক্তবাজার অর্থনীতির ফলে হয়ত অন্য দেশের পন্যের এন্ট্রেন্স আমাদের দেশে থাকবে কিন্তু দেশের ভোক্তাদের অবশ্যই এই স্বাধীনতা রয়েছে যথাসম্ভব বিদেশী পণ্য বর্জন করা। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে আমরা দেখি এ বিষয়ে জনগনকে কিভাবে উদ্ভুদ্দ করা হচ্ছে। শিশু হতে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি মগজেই এ বিষয়টি সুস্পষ্ট। বর্তমানে আমাদের দেশের নাগরিকদের দেশপ্রেম নেই বিধায়ই খাদ্যে ভেজাল দ্রব্য মিশানো হয় । কিন্তু আমরাতো এমন ছিলাম না। আমরা বারবার প্রমান করেছি যে দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। সঠিক নের্তৃত্ত বজায় থাকলে একাত্তরের সেই দেশপ্রেম আমাদের মাঝে আবারও জেঁগে উঠবে। এছাড়া ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে দেশের নাগরিকদের যারা মৃত্যুর মুখোমুখি নিয়ে যাচ্ছে তাদের সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। মিডিয়াতে যারা বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন তাদের অবশ্যই কোন মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার হতে বিরত থাকতে বাধ্য করতে হবে। দেশী বিদেশী কোন মানুষকে যেন কোথাও হয়রানী করা না হয় মানুষের বিপদে আচরন যেন সৎমানুষের মত হয় তাও উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। কারন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিাই জীবনের ভিত গড়ে তুলতে পারে। আমাদের দেশেরই অনেক মানুষ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে উনাদেরকে স্পেশালভাবে সম্মান করার জন্য জনগনকে শিা দিতে হবে। কারন উনারা প্রিয় দেশ ছেড়ে অনেক দুরে অবস্থান করে দেশেরই উন্নয়নে অংশীদার হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উনাদের মাধ্যমে দেশে অনেক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে তাই কোন ক্রমেই উনাদেরকে হয়রানী করা যাবে না।
পর্ব - ১ (চলমান)
©somewhere in net ltd.