নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সিনেমা পাগল। সিনেমায় খাই, সিনেমায় ঘুমাই, সিনেমায় পড়ি, সিনেমায় স্বপ্ন দেখি। জীবন সিনেমাময়।

লেখাজোকা শামীম

গল্প লেখার নেশা আমার আশৈশব। মাধ্যমগুলো বদলে গেছে সময়ে সময়ে - কখনও গল্প, কখনও উপন্যাস, কখনও নাটক, কখনও চলচ্চিত্র কিংবা কখনও টিভি নাটক। যে মাধ্যমেই কাজ করি না কেন, একই কাজ করেছি - গল্প বলেছি। আমি আজন্ম গল্পকার - এক সাদামাটা গল্পকার। মুঠোফোন : ০১৯১২৫৭৭১৮৭. বৈদ্যুতিক চিঠি : [email protected]ফেসবুক : http://www.facebook.com/shajahanshamim.scriptwriterদৃষ্টি আকর্ষণ : আমার নিজের লেখা সাহিত্যকর্ম যেমন উপন্যাস ও নাটক - যা এই ব্লগে পোস্ট করেছি, তার সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত। আমার লিখিত অনুমতি ছাড়া এসবের কিছুই কোনো মাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ করা যাবে না।

লেখাজোকা শামীম › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা নারায়ণগঞ্জ থেকে

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫১

ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা নারায়ণগঞ্জ থেকে

রফিউর রাব্বি



ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার, প্রথম প্রকাশনা, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবীতে প্রথম লেখা- এসব নিয়ে তর্ক এখনো চলছে। এখনো বিভিন্ন অজানা তথ্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে। এইটিই আসলে ইতিহাসের নিয়ম। আর এভাবেই আমরা ক্রমান্বয়ে সত্যের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছি। বলা হয়ে থাকে ১৯৪৮ সালে তমুদ্দুন মজলিসের অধ্যাপক আবুল কাশেমই প্রথম ভাষা আন্দোলনের প্রবক্তা। তাঁর লেখাটিই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য প্রকাশিত প্রথম দাবী। অথচ এ তথ্যটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বরিশালের ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন নান্নু।



মোশারফ হোসেন নান্নুর জন্ম ১৯২৭ সালে বরিশাল জেলায়। ১৩ বছর বয়সে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ছাত্রাবস্থায় ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। বিপ্লবী দেবেন ঘোষ, নরেণ দাস, তারাপ্রসাদ গুপ্ত, শাহ আলম চৌধুরী, মজিবুর রহমান প্রমুখ বিপ্লবীদের সহকর্মী তিনি। কুমুদ বন্ধু ঠাকুরতা, যতীন্দ্র গুহ রায়, শামসুদ্দিন আবুল কালাম, মোজাম্মেল হক, মুজাফ্ফর আহমদ, শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে একযোগে কাজ করেছেন। ভাষা আন্দোলন ও ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির সকল আন্দোলনের সাথেই তিনি যুক্ত ছিলেন। বর্ণাঢ্য তাঁর জীবনচিত্র। কিন্তু মোশারফ হোসেন নান্নুর জীবন পর্যালোচনা এ লেখার প্রতিপাদ্য নয়। বিষয়টি তাঁর দেয়া একটি তথ্য।



‘ধ্রুবতারা’ নামে বরিশাল থেকে একটি ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্র প্রকাশিত হয়। পত্রিকার সম্পাদক অভিজিৎ দাস। সাগরদী সালাম চেয়ারম্যানের বাড়ি, সাগরদী বাজার, বরিশাল - ৮২০০ থেকে প্রকাশিত। পত্রিকাটি প্রথম বর্ষ ধ্রবতারার দ্বিতীয় সংখ্যা জুলাই-সেপ্টেম্বর ১৯৯৯-এ ‘মোশারফ হোসেন নান্নু : অকুতোভয় বিপ্লবীর জীবন সংগ্রামের কাহিনী’ শিরোনামে একটি সাক্ষাৎকারধর্মী লেখা প্রকাশিত হয়। মোশারফ হোসেন নান্নুর বক্তব্য নিয়ে লেখাটি তৈরি করেছেন সুশান্ত ঘোষ। মোশারফ হোসেন নান্নু সেখানে এক জায়গায় বলছেন, ১৯৪৮ সালে তমুদ্দুন মজলিসের প্রফেসর আবুল কাশেমই প্রথম ভাষা আন্দোলনের প্রবক্তা কথাটায় একটু ভুল আছে। সে প্রবক্তা ঠিকই, সে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে এটাকে সামনে নিয়ে এসেছেন; কিন্তু এর আগে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার ওপারে একটি প্রেস ছিল। বিজলী প্রেস। সে সময় বিজলী প্রেস থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় প্রবন্ধ বেরোয় ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা কেন?’ প্রবন্ধটি অসমাপ্ত ছিল এবং পরবর্তী দুই সংখ্যায় এটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মুসলিম লীগ সরকার প্রেসটি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। নারায়ণগঞ্জের এই ছোট প্রেসের ছোট কাগজই যে ভাষা আন্দোলন বিষয়ক প্রথম পুস্তিকা তাতে কোনও সন্দেহ নেই।



বিপ্লবী এ ভাষা সৈনিক ১৯৪৮ সালে ঢাকায় চলে আসেন। এবং সে সময় থেকেই সরাসরি ভাষা আন্দোলনের প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হন। ’৪৮ সালেই তিনি কারাবরণ করেন ও পরে মুক্তি পান। এ সময় হাইকোর্টের গেটের সামনে বিক্ষোভকালে পুলিশ শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হকের উপর লাঠি চার্জ করতে উদ্যত হলে মোশারফ হোসেন নান্নু ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে রক্ষা করেন। লাঠিত আঘাতে তাঁর আঙুল ভেঙে যায়। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের আন্দোলন ও ভাষা আন্দোলনের সকল প্রক্রিয়ার সাথে মোশারফ হোসেন নান্নু যুক্ত ছিলেন। গত নভেম্বরে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।



মোশারফ হোসেন নান্নুর এ তথ্যটি বহুদিক থেকেই গুরুত্ব বহন করে। এক : পাকিস্তান হওয়ার সাথে সাথেই ভাষার প্রশ্নে সৃষ্ট আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের অগ্রণী ভূমিকা, দুই : বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য তমুদ্দুন মজলিসের অধ্যাপক আবুল কাশেম কর্তৃক উত্থাপিত দাবীর পূবেই নারায়ণগঞ্জে এ দাবীটি উত্থাপিত হওয়া, তিন : ১৯৪৭ সালে নারায়ণগঞ্জে ‘বিজলী’ নামে একটি ছাপাখানা ছিল এবং সে ছাপাখানা থেকে তখন নিয়মিত একটি পত্রিকা প্রকাশিত হত, চার : পাকিস্তান সৃষ্টির প্রায় সাথে সাথেই ১৯৪৮ এর শুরুতে এদেশের বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীরা ‘ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়’ বলে যে সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেছিলেন প্রায় তখনি শাসকগোষ্ঠীর সে চক্রান্ত সম্পর্কে এখানে সচেতন একটি গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল এবং এর বিরুদ্ধে তারা সোচ্চারও হয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের জন্য এ তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।



‘বাঙালি ইতিহাস বিস্মৃত জাতি’ বলে যে দুর্নাম আমাদের রয়েছে তা ঘুচাতে হবে। উত্তর প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের অনুদ্ঘাটিত এসব তথ্যাবলী উদ্ঘাটন করা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।



বিশেষ দ্রষ্টব্য : এই লেখাটিও আমার নয়। লিখেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। আবারও আপনারদের সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +৪/-১

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৯

শূন্য আরণ্যক বলেছেন: ওয়াও ....... নারাগন্জের পোলা হিসাবে গর্ব বোধ করতাছি :)

ধন্যবাদ চমৎকার এই পোষ্টের জন্য :)

প্রিয়তে ~

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৭

লেখাজোকা শামীম বলেছেন: রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জ চিরকালই অগ্রগামী।

২| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:২২

শূন্য আরণ্যক বলেছেন: এই জন্য নারানগন্জ সব ব্যাপারে পিছায়া আসে .....

ব্যাপার কি এত দারুন পোষ্টে কেউ কমেন্ট দিলো না ?

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৯

লেখাজোকা শামীম বলেছেন: আপনি সঠিক কারণটি ধরতে পেরেছেন।

৩| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৭

রাজনীতি বলেছেন: ধণ্যবাদ। আমিও নারায়নগঞ্জ এর হয়ে ধন্য

৪| ০১ লা মে, ২০০৯ রাত ৮:৩৫

হাসান মাহবুব বলেছেন: চরমভাবে আন্ডাররেটেড একটা লেখা।

০২ রা মে, ২০০৯ রাত ১২:২০

লেখাজোকা শামীম বলেছেন: হ।

৫| ০৪ ঠা জুন, ২০০৯ রাত ১:৫১

আকাশ অম্বর বলেছেন:

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এইরকম একটা তথ্য জানানোর জন্য।
শুভকামনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.