নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

গণতন্ত্র এবং মানুষ

ৰোহিতাশ্ব

তাসে ধানের শব্দ শুনিয়াছি, - ঝরিতেছে ধীরে ধীরে অপরাহ্ন ভরে; সোনালী রোদের রঙ দেখিয়াছি, - দেহের প্রথম কোন প্রেমের মতন রূপ তার - এলোচুল ছড়ায়ে রেখেছে ঢেকে গুঢ় রূপ - আনারস বন

ৰোহিতাশ্ব › বিস্তারিত পোস্টঃ

মেট্রো, ট্রাম, বাস, রাস্তার ফুটপাথ স্বাধীনতার উদযাপন

১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:৪৯

ভাই রে, অর্থোডক্স ঠিক নই ভাই। আলিঙ্গন তো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। আলিঙ্গন দেখি নি, বা কাওকে আলিঙ্গন করি নি, তা তো নয় রে ভাই। এয়ারপোর্ট, হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদাহ স্টেশন, ধর্মতলা, সেক্টর ৫, পুরো কলকাতা থেকে সমগ্র বিশ্ব, বিজয়া দশমী থেকে ঈদের শুভেচ্ছা সবেতেই তো আলিঙ্গনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বিশ্বের সাধারণ মানুষ থেকে তাবড় সব রাষ্ট্রনেতারা, বিজ্ঞানী থেকে কবি, সমাজের সকল স্তরের মানুষরা। ভাই, তবে মেট্রো ঘটনা সত্যি কি হয়েছে, তার একটা ভিডিও ফুটেজ পেলে ভালো হতো। বলছি না, বৃদ্ধ মানুষ গুলি ঠিক কাজ করেছেন, তবু আমার কি মনে হয় যে অতো গুলো লোক শুধু মাত্র আলিঙ্গন করতে দেখেই নিজের রিপুর তাড়নায় ক্ষেপে গেল? নয়তো বা, হিরোইনের বাদামী ধোঁয়া বৃদ্ধ মানুষগুলির মস্তিষ্কের ধুষড় কোষ গুলি কে ধুমায়ামান করে দিয়েছিল। তাই হবে হয়তো। স্বাধীনতা সবার আছে, মেট্রোর প্রেমিক প্রেমিকা থেকে বাসের দাদুর, সবার। একবিংশ শতাব্দীর কলকাতা বলে কথা, কেন যেতে হবে ভিক্টোরিয়া, সেন্ট্রাল পার্ক, বা অঞ্জন দার ছোট্ট কেবিনে বেলা বসু কে নিয়ে একটু নিভৃতে সময় কাটানোর জন্যে? এসি মেট্রো, ট্রাম, বাস, রাস্তার ফুটপাথ তো আছেই, আর সেখানেতেই স্বাধীনতার উদযাপন হতে তো বাধা নেই। কি তাই তো? কলকাতা তো কবেই লন্ডন হতে হতে লস-ভেগাস হয়ে গেছে, তার খোঁজ ঠিক রাখি নি।

একটা নিদারুন প্রবণতা চলছে দেশ জুড়ে, বা বিশ্ব জুড়ে। তা হলো- নিজের চিন্তা ভাবনা জোড় করে হলেও অন্যকেও মেনে নিতে হবে, আর তা না হলেই কু-কথার জোয়ার। এটাও হয়তো বা একটা স্বাধীনতার অন্য এক বিশেষ ধাপ। যে ধাপে এখনো হয়তো আমি উঠতে পাড়ি নি। আমি বরাবর পিছিয়েই রইলাম রে । ফাঁকা মেট্রো তে একটা টাইট আলিঙ্গন দিয়ে প্রটেকশন দিতে পারলাম না নিজের বান্ধবী কে। যাক গে, তাও বান্ধবী থেকে তিনিই একদিন আমার বিবাহিত স্ত্রী হয়ে গেলেন। কিছুই শিখতে পারলাম না, এমন কি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়েও পারলাম না। তবে এটা বুঝি, যখন ছোট ছিলাম , তখন আমার মনটাও মানে একটু ' ইয়ে দিল মাঙ্গে মোড়'। তাও কোনোমতে সামলে নিতাম ☺️ আসলে স্বাধীনতা যুদ্ধে কোনোদিন লিপ্ত হতে চাইতাম না। বা স্বাধীনতা টা কি জিনিষ তা বুঝতাম না। তবে মেট্রোর ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গন যদি স্বাধীনতা হয়, তবে বাসের দাদুর ও স্বাধীনতা আছে। নাকি, স্বাধীনতা আছে সেই সব প্রেমিক প্রেমিকার, আর বাকি সব পরাধীন? তবুও আমি মনে করি, কারুর স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে মারধর করা টা একটা বাজে কাজ। সবার স্বাধীনতা আছে ভাই, তবুও বিশ্বাস রাখি সোনাগাছির যৌনতা, হোটেল বা পাভের একটু উষ্ণতা, ভিক্টোরিয়ার নস্টালজিয়া, বাড়িঘর তার সুখী দাম্পত্য জীবনের , একদিন এই এসব এই সব কিছুই তার গুরুত্ব হারাবে। থাকবে শুধু মেট্রো , বাস, ট্রাম, ট্যাক্সি, আর রাস্তার ফুটপাথ। তবেই দেশ প্রকৃত স্বাধীন। তবেই আমরা , মানে সকল বাঙ্গালী আধুনিক। ইনক্রিডিবিল ইন্ডিয়া। ☺️যদি রাস্তার ধারে ১২ সেমির চেন খুলে উষ্ণ জলধারা তে মাটি, দেওয়াল ভিজিয়ে দেওয়ার স্বধীনতা থাকে তবে চেন না খুলেও নিজের ভীতর স্বনির্ভর বা পরনির্ভর ভাবে উষ্ণ রাখার স্বধীনতাও একান্ত ভাবে কাম্য, তা সে মেট্রো হোক, ট্যাক্সি বা বাস। তাতে যদি কারুর চোঁখে খারাপ লাগে, তবে সে প্রগতিশীল নয়। সমস্যা টা শুধু তাঁদের, যারা হিসি পেলে পাবলিক টয়লেট না পাওয়া অবধি সাবধানে পা ফালে। তবে এদের সংখ্যা কম। একদম ভাববেন না এদের নিয়ে, এরা এমনিই জন্মায় আর এমনিই মরে যায়। স্বাধীনতার উদযাপন যে কি জিনিস তা এই সব ভীতু মেরুদণ্ডহীন মানুষ গুলি বোঝে না। এরা শুধু মাথা ঝাঁকায়, আর অন্যের স্বাধীনতা দেখে বিড়বিড় করে। তখন, হয়তো বা, নিজের মনেই নিজেকে জিজ্ঞেস করে ,'শালীনতা বলে কোনো শব্দ কি বাংলা ভাষা তে আছে'? নেই হয়তো।
নোংড়া ঘটনা গুলি শুধু মাত্র একজন ব্যক্তি কে অপমানিত করে না, কলুষিত হয় একটা পরিবেশ, সমাজ। আমি ধিক্কার জানাই সেই সকল ঘটনা গুলিকে, যেটা সাধারণ মানুষের মন কে বিচলিত করে। নোংড়া মানুষগুলি কে যেন কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেওয়া হয়, এই আশা রাখি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.