নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এম, কে, এনামুল করিম

তরুনের শক্তি তারুন্য

এম, কে, এনামুল করিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাশিয়া বাংলা অস্ত্র পরমাণু চুক্তি ও আমাদের পররাষ্ট্রনীতি

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:৩৩

সম্প্রতি রাশিয়া বাংলা অস্ত্র পরমাণু চুক্তিসহ বিভিন্ন চুক্তি হয়েছে এবং বিষয়টি বিয়ে নানা মহলে নানা মতামত এসেছে। তবে চুক্তি এখানে মুখ্য নয়, মূখ্য হল বাংলাদেশ একটি পরাশক্তির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করল। এটি আমাদের মত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কারন যত বেশি উন্নত রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবে তত বেশি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দরকষাকষির সুযোগ তৈরী হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ম্যাচিউরড পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। যদি ম্যাচিউর পররাষ্ট্রনীতি আমাদের না থাকে তাহলে এই ইতিবাচক সম্পর্কটি আমাদের উপর নেতিবাচক আঘাত হানতে পারে এদিকটা আমাদের লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। অস্ত্র চুক্তি নিয়ে নানা নেতিবাচক মতামত থাকলেও অস্ত্র আমাদের জন্য প্রয়োজন। অনেকে বলেন এখন আমাদের অস্ত্রের প্রয়োজন নাই কারন আমরা কাদের সাথে যুদ্ধ করবো? অনেকের মতামত সরকার সামান্য কয়েক কোটি টাকা খরচ করে শিক্ষকদের এম,পি,ও ভুক্তি দিতে পারছেনা অথচ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র কিনছে এটি অপ্রয়োজনীয়। এখানে আমাদের তথ্য বিভ্রাট ঘটতে পারে, যে হাজার কোটি টাকার অস্ত্র বাংলাদেশ কিনছে তার বেশিরভাগ অস্ত্র ব্যবহার হবে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে এবং সেখানে ব্যবহৃত অস্ত্রের মূল্য বাংলাদেশ ফেরত পাবে, সুতরাং এই হাজার কোটি টাকাকে খরচ হিসেবে না ধরে আমাদের ইনভেষ্টমেন্ট ধরা উচিত। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনা বাহিনির কৃতিত্ব এবং বাংলাদেশের প্রাপ্তি অপরিসীম। সুতরাং সেনাবাহিনিকে এ অস্ত্রের যোগান না দিলে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে বলে বেশিষজ্ঞরা মনে করেন। এ সমস্ত দিক থেকে বিবেচনা করলে অস্ত্র চুক্তি আমাদের জন্য ইতিবাচক তবে অস্ত্রের মান যেন আমাদের পূর্বের মিগ-২০ এর মত অভিজ্ঞতায় না ফেলে সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।



সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের আর্থিক দূর্নীতি সামান্য কমিয়ে আনলেই সামান্য কয়জন শিক্ষক এর এম,পি,ও ভুক্তি সম্ভব এবং এটা তাদের ন্যায্য দাবি এবং এ দাবির পক্ষে সমস্ত জাতির সোচ্চার হওয়া উচিত তবে এটাকে অস্ত্র কেনার অর্থের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের দেশ এর ঘনবসতি, বিভিন্ন রাষ্ট্রের পরনাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া, বর্জ্য নিষ্কাশন পদ্ধতি, নিরাপত্তা প্রশ্ন ইত্যাদি বিষয়ে বিশ্লেষণ করার থেকেও বেশি বিশ্লেষণ করা উচিত পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ঘাটি তৈরী করার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা এক্ষেত্রে বড় বড় রাষ্ট্রগুলির ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলির প্রতি, এই নে রবিন মিষ্টি খা আর তোর ধানের গোলা চৌকি দিলে তোর ঘুম নষ্ট হবে। সুতরাং আমিই পারাবা দেব চিন্তা নিসনে - এই প্রবাদ এর মত পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন যা আমাদের পাশ্ববর্তি রাষ্ট্র ধ্বংশের ক্ষেত্রে জলজ্যান্ত প্রমাণ। এমন যেন আমাদের ক্ষেত্রে না হয় সেজন্য দুরদর্শি চিন্তা ভাবনা করে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যথায়, এই ইতিবাচক সম্পর্ক নেতিবাচক সম্পর্কে পরিণত হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ এর পররাষ্ট্রনীতি মজবুত করার সময় আমাদের এসেছে। এ পররাষ্ট্রনীতি মজবুত করার জন্য স্থিতিশীল রাজনীতি একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায়, আমাদের অসংখ্য ত্যাগ এবং প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে গড়ে তোলা বিভিন্ন সাফল্য যে কোন মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

সুতরাং রাজনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য এ জাতির এখনই বিভাজন ভুলে গিয়ে একতাবদ্ধভাবে জেগে ওঠা একান্ত প্রয়োজন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.