| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
~~অপরিচিত অধ্যায়~~
আমি একজন পজেটিভ মনোভাবের মানুষ। ভালবাসি লিখতে গান শুনতে আর বসে বসে অনেক কিছু চিন্তা করতে...
ক্লাসে ঢুকেই সপ্তক দেখল সারা ক্লাসে শুধু প্রীতি আর মনামির পাশের সিটটাই খালি আছে। ওদের পাশে গিয়ে বসা উচিত হবে কিনা সেটা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেল ও। কিন্তু সারা ক্লাসে আর কোন সিট খালি নেই। অগত্যা প্রীতির পাশের সিটে গিয়েই বসল ও। ওর দিকে একবার তাকিয়ে একটু হেসে আবার বোর্ডের দিকে তাকালো প্রীতি।
.....................................................................
ক্লাসের পর। তন্ময়ের সাথে কথা বলতে বলতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিল ও। কথা বলতে বলতে কখন যেন সিঁড়ির দিকে থেকে মনোযোগ সরে গিয়েছিল ওর। তখনি ঘটল কান্ডটা। সিঁড়ির শেষ ধাপ মনে করে পা ফেলতে গিয়ে জায়গামত পা ফেলতে পারলনা ও। পা পড়ল একেবারে সিঁড়ির গোড়ায়। আর এতেই ভারসাম্য হারিয়ে উলটে পড়ল ও। প্রচন্ড ব্যথায় কুঁকড়ে গেলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিল। ব্যথার প্রচন্ডতাই ওকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল পা টা ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু ও প্রাণপণ চেষ্টা করল যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকতে। মুখে হাসি আনবার চেষ্টা করে তন্ময় কে বলল- কিছু হয়নিরে... মনে হয় মচকে গেছে। তুই যা, আমি একটু পরে আসছি।
তন্ময় ওকে ধরে নিয়ে যেতে চাইল, কিন্তু সপ্তক কিছুতেই রাজি হলনা। আসলে ও কিছুতেই নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করতে চায়না। কেউ ওকে দূর্বল ভাবুক সেটা ও সহ্যই করতে পারেনা। অনেকবার অনুরোধের পর ও রাজি না হওয়াতে রেগেমেগে তন্ময় বলল- ঠিক আছে... থাক তুই এখানে , আমি গেলাম।
তন্ময় চলে যাবার পর ও কিছুক্ষণ সিঁড়িতে বসে রইল। পায়ের ব্যথাটা আসলেই মারাত্মক। প্রচন্ড ব্যথায় মাঝে মাঝেই কুঁকড়ে উঠছে ও। মনে হচ্ছে পা টা বোধহয় শরীর থেকে আলাদা হয়ে যাবে।
এমন সময় ও দেখল মনামি আর প্রীতি সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে। ওদের সামনে ওর এভাবে বসে থাকতে ইচ্ছা করলনা, তাই সিঁড়ি ধরে উঠে দাঁড়ালো।
প্রীতি আর মনামি ওকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খুবই অবাক হল। মনামি হঠাৎ লক্ষ্য করল সপ্তকের বাম পা টা কেমন যেন কাঁপছে।
- তোর পায়ে কী হয়েছে সপ্তক?
মনামি ক্লাসের সবাইকেই তুই করে বলে তাই ওর ওকে তুই করে বলাতে বেশি অবাক হলনা সপ্তক।
- কিছুনা, জাস্ট একটু মচকে গেছে। প্রবলেম নাই, একটু পরে আস্তে আস্তে যাবো।
মনামি আর প্রীতি নিজেদের মাঝে কী যেন বলাবলি করল, তারপর ওর দিকে তাকিয়ে বলল- আচ্ছা সাবধানে থাকিস, বলে চলে গেলো ওরা দুজন। ওদের ব্যবহারে একটু অবাক হল ও ।
এইবার ও আস্তে আস্তে পা টা নড়াবার চেষ্টা করল ও। কোনরকমে গেট পর্যন্ত গিয়ে একটা রিক্সা নিতে পারলেই হয়। কিন্তু প্রথম পা ফেলতে গিয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গেল ও। মনে হল ওর বাম পায়ের ওপর দিয়ে কেউ স্টীমরোলার চালিয়ে দিয়েছে। অনেক কষ্ট করে দ্বিতীয় পা ফেলতে গিয়েও আর পারলোনা, আবার বসে পড়ল সিঁড়ির ওপর।
এমন সময় একজন স্বাস্থবান লোককে ওর দিকে আসতে দেখল ও। কাছে এসে কথা নেই বার্তা নেই ওকে কোলে তুলে নিল লোকটা। ও অবাক হয়ে কিছু বলার আগেই লোকটা ওকে নিয়ে একটা গাড়ির সিটে বসিয়ে দিয়ে বলল
- এই অবস্থা নিয়ে তুমি হাঁটার চেষ্টা করছিলে? তোমার সাহস ত কম না!
তখন ও দেখতে পেল ওর পাশের সিটে বসে মিটিমিটি হাসছে মনামি আর প্রীতি।
তোর পায়ের দিকে তাকিয়েই বুঝেছিলাম কী পরিমান ব্যথা পেয়েছিস তুই। - বলে উঠল মনামি। -জানতাম বললে তুই রাজি হবিনা তাই গাড়িতে এসে মামাকে বললাম তোকে তুলে নিয়ে আসতে ।
যে লোকটি তাকে তুলে নিয়ে এসেছে উনি তাহলে মনামির মামা হন- ভাবল সপ্তক। মনামির দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করল ও। যদিও তখন ওর কিছু বলার মত অবস্থা নেই। প্রচন্ড ব্যথায় ক্ষণেক্ষণে কুঁকড়ে উঠছে ও। মামা ওকে নিয়ে না আসলে এতক্ষণে বোধহয় অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকত ও সিঁড়িতে।
হঠাৎ পাশ থেকে মনামি বলে উঠল- তুই এমন কেন রে বল তো! আমাদের কী ফ্রেন্ড মনে করিসনা? তোর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল কীরকম ব্যথা পেয়েছিশ তুই। এত কষ্ট লাগছিল যে বলার না... প্রীতি তো প্রায় কেঁদেই ফেলছিল তোর মুখ দেখে।।
- ওই আমি আবার কখন কাঁদছিলাম? মিথ্যা কথা বলার আর জায়গা পাস না।।
- চুপ কর্ । আমি দেখেছি তোর চোখে প্রায় পানি এসে গিয়েছিল।
- মোটেই না!! বলে প্রীতি জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো।
সপ্তক কিছু না বলে জানালা দিয়ে রাস্তার দিকে তাকালো। প্রীতির জন্য তার মনে একটা উইক পয়েন্ট আছে। মেয়েটাকে সে মনে মনে বেশ পছন্দ করলেও কখনই সেটা বাইরে প্রকাশ করেনি। কিন্তু আজ প্রীতি ওর কষ্ট দেখে কষ্ট পেয়েছে শুনে ওর খুব ভাল লাগলো। পায়ের ব্যথাটাও বোধহয় খানিকটা কমে গেল।
মনামি বলতে থাকল –এখন তোদের মন ভাল করার মত একটা খবর দেই। আমার এই মামাকে দেখছিস না? মামা না একটা আস্ত পাগল...।
- বাহ কি সুন্দর খবর দিলিরে... আমাকে পাগল বানিয়ে ছেড়ে দিলি? সামনে থেকে বলে উঠলেন মামা, - তবে হতেও পারে, অনেকেই বলে আমার মাথায় নাকি ছিট আছে- বলে মৃদু হাসলেন তিনি।
- আরে শোন্না কেন পাগল বলছি। মামা ঠিক করেছে তার সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটা হাসপাতাল বানাবে , যেখানে সবার ফ্রীতে চিকিৎসা হবে। বল্ পাগল না হলে কেউ এরকম কিছু করে?
- আচ্ছা যা তাহলে আমি পাগল ই – বলে হাসলেন মামা
- আরে এইজন্যই তো তোমাকে আমি এত পছন্দ করি মামা। তুমি হলে গিয়ে আমার পাগল অ্যান্ড সুইট মামা।
একটু থেমে আবার বলতে শুরু করল মনামি- বুঝলি সপ্তক, মামার অই হাসপাতালের জন্য মামা জায়গা-টায়গাও কিনে ফেলেছে। যদিও কয়েকদিন ধরে একটু প্রবলেম হচ্ছে। ওই জায়গাটা নাকি কয়েকটা গুন্ডা মাস্তান দখল করে রেখেছে। তারা নাকি আবার কোন এমপির সাগরেদ। এইনিয়ে মনে হয় একটু ঝামেলা চলছে।।
-কেন এইসব বলে ওদের মনে ভয় ঢুকাচ্ছিস রে মনামি? বলে উঠলেন মামা, - ওই জমি আমি নগদ টাকা দিয়ে দলিল করেই কিনেছি। কারো বাপের সাধ্যি নেই ওই জমি ছিনিয়ে নেয়।
............................................................
সপ্তক বাইরের দিকে তাকিয়ে আকাশ পাতাল ভাবছিল, এমন সময় হঠাৎ দেখল সামনে রাস্তার মাঝখানে একটা ছেলে নিচু হয়ে কী যেন খুঁজছে। ড্রাইভার বোধহয় প্রথমে দেখতে পায়নি ছেলেটিকে , তাই দেখে যখন ব্রেক করল তখন ছেলেটি থেকে মাত্র ২-৩ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে পড়ল গাড়ি।
মনামির মামা গাড়ি থেকে মাথা বের করে বললেন- এইছেলে তুমি রাস্তার মাঝখানে কী করছ?
- আমার বলটা না হারিয়ে গিয়েছে। কিছুতেই খুজে পাচ্ছিনা
- রাস্তার মাঝখানে কেউ বল খুঁজে নাকি?
- আমার একটাই বল। এইটা হারিয়ে গেলে ওরা আমাকে আর খেলায় নিবেনা
৪-৫ বছরের হবে ছেলেটা। ওর কান্না কান্না মুখের দিকে তাকিয়ে মায়া লাগলো মামার। বললেন- আছছা আমি তোমাকে একটা বল কিনে দেব।
বলে ড্রাইভার কে বললেন- যাওতো ছেলেটাকে ওই দোকান থেকে একটা বল কিনে দিয়ে আসো তো।।
ড্রাইভার চলে যেতেই হঠাৎ কয়েকটা লোক কোথা থেকে যেন উদয় হল। জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়ে মামাকে উদ্দেশ্য করে বলল- ভাল আছে মাশফিক সাহেব?
লোকগুলোর ভাবভঙ্গি কেমন যেন লাগছিল সপ্তকের। হঠাৎ ব্যাকভিউ মিররের দিকে চোখ যেতেই ও যা দেখল তাতে অর সন্দেহটা আরো ঘণীভূত হল ওর। ২-৩ টা লোক এগিয়ে আসছে। একজনের হাতে একটা ধারালো ছুরি। আর আকজনের হাতে একটা বেশ মোটা দড়ি। দড়ি হাতে লোকটা দড়ির একপ্রান্ত গাড়ির সাথে আর একপ্রান্ত কাছের একটা গাছের সাথে বেধে ফেলল।
মূহুর্তেই ও ওর পরিকল্পনা স্থির করে ফেলল। লোক গুলো নিশ্চয়ই কোন ভাল মতলব নিয়ে অস্ত্র হাতে আসছেনা। ওদের পেলে নিশ্চয়ই এমনি এমনি ছেড়ে দেবেনা... যে করেই হোক এখান থেকে পালাতে হবে!
মনামি আর প্রীতির দিকে তাকিয়ে ও বলল- তোমাদের কাছে ছুরি আছে?
-ছুরি দিয়ে কী করবি?
-আছে দরকার আছে, এখন বলার সময় নাই। থাকলে দাও।
-ছুরি নাই কিন্তু এই পেন্সিল কাটার তা আছে- ব্যাগ থেকে পেন্সিল কাটার টা বের করে দিল মনামি।
সপ্তক গাড়ির দরজা একটু ফাক করে খুব আস্তে আস্তে নামতে নামতে বলল- তোমরা চুপচাপ বসে থাক। আমি এখনি আসছি।
- কোথায় জাস তুই? এই পা নিয়ে?
- এখন বলার সময় নাই। জাস্ট চুপ করে বসে থাকো।
দরজার ফাঁক দিয়ে আস্তে করে মাটিতে নামতেই ওর পা টা আবার তীব্র যন্ত্রণায় কেপে উঠল। কিন্তু কিছু করার নেই। ও যেটা করতে চলেছে তার জন্য এই কষ্ট সহ্য করা ছাড়া কোন উপায় নেই।
ছুরিটা নিয়ে ও সাবধানে হামাগুড়ি দিয়ে গাড়ির পেছনের দিকে এগিয়ে গেল। পেছনের লোকগুলো ততক্ষণে সামনের লোকগুলোর সাথে যোগ দিয়েছে তাই ওকে কেউ দেখতে পেলোনা। সাবধানে ও গাড়ির পেছনে বেধে রাখা দড়ি গুলো কাটতে শুরু করল। তিনটা দড়ির মাঝে ২ টা কেটে ফেলে যখন ৩য় টা কাটতে যাবে এমন সময় একটা লোক দেখে ফেলল ওকে। দৌড়িয়ে ওর দিকে আসতে শুরু করল লোকটা। উপায় না দেখে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৌড়ানোর চেষ্টা করল ও যে করেই হোক গাড়ির ড্রাইভিং সীটে ওকে পৌছাতেই হবে। কিছুতেই ও ধরা দেবেনা।
গাড়ির পেছন থেকে গাড়ির সামনের সীট এই সামান্য দূরত্ব যেতে যেতেই ওর অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। প্রতি পদক্ষেপেই প্রচণ্ড ব্যথায় কেঁপে উঠছে ও। কোন ক্রমে গাড়ির দরজার কাছে পৌছে দরজা খুলে উঠতে যাবে এমন সময় প্রচন্ড শব্দের সাথে কী যেন ওকে প্রচন্ড ধাক্কা দিল। প্রথমে হকচকিয়ে গেল ও। পরমূহুর্তে পায়ের দিকে তাকাতেই ওর শরীর দিয়ে যেন একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল । গলগল করে রক্ত পড়ছে ওর বাম পা থেকে । গুলি খেয়েছে ও!!
প্রয়োজনের তাগিদ যেন হাতির বল এনে দেয় শরীরে। প্রচন্ড ব্যথা উপেক্ষা করে ড্রাইভিং সিটে উঠে বসল ও। পালাতে হবে যে করেই হোক। ইগনিশন কী ঘুরিয়ে স্টার্ট দিল গাড়ি। মাত্র ক’দিন আগে ও গাড়ি চালানো শিখেছে ও। সেটা যে এইভাবে কাজে লেগে যাবে কে জানত?
গাড়ির ক্লাচে চাপ দিতেই ওর পা যেন অবশ হয়ে আসতে চাইল। কোনরকমে দাঁতে দাঁত চেপে গীয়ার বাড়িয়ে অ্যাক্সিলারেটরে প্রাণপনে চাপ দিল ও। যে করেই হোক বেরিয়ে যেতে হবে এখান থেকে।
প্রচন্ড গর্জন করে উঠল গাড়ি। প্রবল স্বরে প্রতিবাদ জানাচ্ছে যেন। একটু ঝাকি দিয়ে চলতে শুরু করল। হঠাৎ পেছনে বেধে রাখা দড়িতে টান পড়তেই আর্তনাদ করে উঠল গাড়ী টা। গায়ের জোরে আবার আক্সিলারেটর চেপে ধরল সপ্তক। গাড়ির শক্তিশালী ইঞ্জিনের সাথে আর পারলনা দড়ি। ছিটকে বেরিয়ে এল গাড়ি।
ব্যাক ভিউ মিররে তাকিয়ে দেখল লোকগুলো ও একটা গাড়িতে উঠছে। নিশ্চয়ই ধাওয়া করে আসবে। সামনের দিকে তাকিয়ে প্রাণপণে স্টীয়ারিং হুইল ঘোরানো শুরু করল ও।
হঠাৎ খেয়াল করল ওর বাম পায়ে কোন অনুভূতি নেই , গুলি খাবার কারনে অবশ হয়ে গেছে বাম পা। ফলে ও আর ক্লাচে চাপ দিতে পারবেনা এর মানে একটাই। হয় ওকে ব্রেক করে গাড়ী থামিয়ে দিতে হবে অথবা এই গতিতেই চলতে হবে, গতি কমানো চলবে না। মূহুর্তেই ঠিক করে নিল ও এর শেষ দেখে ছাড়বে। অ্যাক্সিলারেটরে চপা আরো বাড়ালো ও। পেছনের গাড়িটাও এগিয়ে আসছে।
হঠাৎ সপ্তক দেখল সামনে একটা ট্রাক মুখোমুখি এগিয়ে আসছে। একদম সোজাসুজি। এদিকে পিছনের গাড়িটাও এগিয়ে আসছে। ফাঁদে পড়ে গেছে ও।
এমন সময় রাস্তার পাশের দিকে তাকিয়ে একটা ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ওর মাথায় উঁকি দিয়ে গেল । কাজটা মারাত্মক ধরনের বিপদজনক। একটু ভুল হলেই সব শেষ। কিন্তু ওকে একবার চেষ্টা করে দেখতেই হবে...
পেছনের গাড়িটা ঠিক পেছনেই ধাওয়া করে আসছে। ড্রাইভার বুঝে গেছে সপ্তকদের আর পালানোর উপায় নেই। তাই গাড়িটা আরো জোরে ছুটে আসছে। এগিয়ে আসছে...
সপ্তক স্টীয়ারিং হুইলে হাত রেখে মনে মনে একটা আন্দাজ করে নিল। এক সেকেন্ডের ভুল মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। চোখটা একবার বন্ধ করে আবার খুলল ও। আর ৩ সেকেন্ডো বাকি নেই সাম্নের ট্রাকের সাথে লেগে চুরমার হয়ে যাবে ওদের গাড়িটা! পেছনের গাড়িটা ওদের গাড়ির ৪ হাতের মাঝে এসে পড়েছে ...
হঠাৎ স্টীয়ারিং হুইল হালকা বামে ঘুরিয়ে প্রচণ্ড শক্তিতে হ্যান্ডব্রেক টেনে ধরল ও। শক্তিশালী হ্যান্ডব্রেক সামনের চাকা দুটোকে যেন দাঁতে দাঁত চেপে কামড়ে ধরল। মুহুর্তেই সাম্নের চাকার উপর ভর করে প্রচন্ড শব্দে পাগলের মত ঘুরে গেল পুরো গাড়িটা । রাস্তার পাশের খাদথেকে মাত্র একহাত দূরে দাঁড়িয়ে পড়ল গাড়িটা। হঠাৎ ঘুরে জাবার কারনে সপ্তকের মাথা প্রচন্ড জোরে আঘাত করল জানালার কাচে। মনে হল এখনি জ্ঞান হারাবে ও।
হঠাৎ প্রচন্ড শব্দে চারিদিক কেঁপে উঠল। সপ্তকদের পেছনে ধাওয়া করে আসা গাড়িটা সোজাসুজি ধাক্কা খেয়ে সামনের ট্রাকের সাথে। ট্রাকের তেমন কিছু না হলেও মাইক্রোবাসটা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। হঠাৎ ই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠল গাড়িটাতে। মূহুর্তেই পুড়ে কয়লা হয়ে গেল ওটা।
সপ্তক আর সহ্য করতে পারলোনা। পুরো পৃথিবীটা যেন ওর চোখের সামনে দুলে উঠল। জ্ঞান হারালো ও।
.........................................................
জ্ঞান ফিরতেই সপ্তক আবিষ্কার করল ও এখন হাসপাতালে। পুরো বাম পা ব্যান্ডেজ করা। ও উঠে বসার চেষ্টা করতেই কেউ একজন ওকে আবার জোর করে শুইয়ে দিল। ঘাড় ঘোরাতেই দেখল একজন স্নেহময়ী চেহারার নার্স। ওর কপালে হাত বুলিয়ে দিয়ে তিনি বললেন- একহ একটু চুপচাপ শুয়ে থাকো তো! তোমার উপর যা ধকল গিয়েছে!
নার্সের কথাতে ও আবার চোখ বন্ধ করল। কী যেন মনে হতেই আবার চোখ খুলতেই দেখল সামনে প্রীতি আর মনামি দাঁড়িয়ে আছে।
প্রীতিই প্রথমে বলে উঠল- কেমন লাগছে এখন?
সপ্তক কিছু বলার আগেই মনামি বলে উঠল- কেমন আবার থাকবে ! একে ভাঙ্গা পা, তার উপর আবার গুলি খেয়েছে। এমন অবস্থায় কেউ ভালো থাকে নাকি?
- না না আমি ভালই আছি- সপ্তক বলে উঠল।
- বেশি কথা না বলে চুপচাপ শুয়ে থাক। তোর মত ড্রাইভার আমি জীবনেও দেখিনি! তোর তো রেসিং এ নাম দেয়া উচিত!
মনামির কথা শেষ না হতেই প্রীতি বলে উঠল- যে রেসিং দেখিয়েছে তাতে আর নতুন করে দেখার কিছু নেই!
একটু থেমে আবার বলল- আসলে আমরা তোমাকে থ্যাঙ্কস বলতে এসেছি। তুমি না থাকলে এখন আমরা বেঁচে থাকতাম কিনা কে জানে! আমাদের কারনে পায়ে গুলি খেয়েছ তুমি। আমার যে কী প্রমান কষ্ট লেগেছে তা বলার না!
মনামি বলে উঠল- জানিস ওরা ছিল ওই এমপির লোক। মামাকে আর আমাদের খুন করতে ওদের পাঠানো হয়েছিল। তোর জন্যই আজকে বেঁচে গেলাম। তোকে যে কী বলে থ্যাঙ্কস দেব বুঝতে পারছিনা। জানিস প্রীতি এতক্ষন বাইরে বসে বসে তোর জন্য কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে!
সপ্তক কিছু না বলে প্রীতির দিকে তাকালো। ও মাথা নিচু করে রেখেছে। সপ্তক দেখল প্রীতির চোখের কোণে এখনো একটু পানি চিকচিক করছে। সপ্তক জানালার দিকে তাকালো। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলার পাশ দিয়ে এক ঝাক পাখি উড়ে যাচ্ছে। হঠাৎ একঝলক বাতাস এসে প্রীতির চুলে একটা দোলা দিয়ে গেল। সপ্তকের মনে হল পৃথিবীটা যেন হঠাৎ করেই খুব সুন্দর হয়ে উঠেছে!
২৮ শে মে, ২০১৩ রাত ৩:২৭
~~অপরিচিত অধ্যায়~~ বলেছেন: অনেক অনেক থ্যাঙ্কস!
২|
২৮ শে মে, ২০১৩ রাত ২:৫৫
মিজভী বাপ্পা বলেছেন: হ্যাপি ইনডিং লাভলু স্টুরি+++++++++++++
২৮ শে মে, ২০১৩ রাত ৩:২৭
~~অপরিচিত অধ্যায়~~ বলেছেন: ধন্যবাদ!
৩|
২৮ শে মে, ২০১৩ রাত ৩:০৩
স্বপ্নবাজ অভি বলেছেন: ভালো লাগলো !
২৮ শে মে, ২০১৩ রাত ৩:২৮
~~অপরিচিত অধ্যায়~~ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ!
৪|
২৮ শে মে, ২০১৩ সকাল ৯:৪৭
রেজোওয়ানা বলেছেন: Valo likhchen . . .
৫|
২৮ শে মে, ২০১৩ সকাল ১০:৪৬
মামুন রশিদ বলেছেন: সিনেমাটিক ব্যাপার থাকলেও ঝরঝরে বর্ননার গুনে গল্পটি উপভোগ্য হয়েছে ।
২৮ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১:৪২
~~অপরিচিত অধ্যায়~~ বলেছেন: থ্যাঙ্কু !
৬|
২৮ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৭
লাইলী আরজুমান খানম লায়লা বলেছেন: ভাল লাগলো,,,,,,,,,ঝরঝরে লেখা
২৮ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১:৪৩
~~অপরিচিত অধ্যায়~~ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ
৭|
১৬ ই জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:২২
বটবৃক্ষ~ বলেছেন: খুব সুন্দর....
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে মে, ২০১৩ রাত ২:৪২
বাংলার হাসান বলেছেন: খুব সুন্দর।