নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অলস আমি।

অনিক দাশ।

ভাবুক আমি

অনিক দাশ। › বিস্তারিত পোস্টঃ

লাইফ অফ পি - যে উপন্যাস পড়লাম।

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৯:২৭

রিচার্ড পার্কার নামের এক বিশাল রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে নিয়ে পিসিন মলিটর প্যটেল ওরফে পাইয়ের টানা ২২৭ দিনের এক অদম্য সমুদ্র সফরকে উপজিব্য করে রচিত লাইফ অভ পি বইটা শেষ করলাম। অনুবাদক ইফতেখার আমিন কেন নামটা পাইয়ের পরিবর্তে পি রাখলেন সেটা বোধগম্য হল না। পণ্ডিচেরির এক তামিল পরিবার যারা ৭০ দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে কানাডা যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। সাথে করে নিয়ে যায় তাদের পারিবারিক চিড়িয়াখানার কিছু প্রানীকে। পথিমধ্যে জাহাজ ডুবির কারনে পাই তার পরিবারকে হারায়।

লাইফ বোটে তার সাথে থাকে খালি একটা হায়েনা, একটা ওরাং ওটাং, একটা জেব্রা আর একটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। একে একে সব প্রানী মারা গেলেও বেঁচে থাকে রিচার্ড পার্কার নামক বাঘটা। সেই সাথে শুরু হয় পাইয়ের এই বিশাল দেহি প্রাণীটাকে নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে বেঁচে থাকার লড়াই। কাঁচা মাছ রোদে শুকিয়ে, কখনো ডায়রি লিখে, কখনো বাঘটাকে বাঁশীর সাহায্যে ট্রেনিং দিয়ে সাগরের বুকে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যায় পাই। মীরকেট সমৃদ্ধ এক অজানা দ্বীপে একসময় থামে লাইফ বোট। কিন্ত কয়েকদিন সেখানে থাকার পর রাতের বেলা নামজানা এক ফলের মধ্যে একটা মাড়ির দাঁত খুঁজে পায় পাই। পরের দিনই সে বিষাক্ত শৈবাল সমৃদ্ধ দ্বীপটা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। ভাসতে ভাসতে মেক্সিকান উপকুলে পৌছায়। তীরে আসার সাথে সাথে রিচারড পার্কার জঙ্গলের মধ্যে একবারও পিছনের দিকে ফিরে না তাকিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। ২২৭ দিনের রোমহর্ষক সমুদ্র যাত্রার সঙ্গী পাইয়ের সাথে আর দেখা হয় না পারকারের।

মেক্সিকোর হাসপাতালে থাকাকালীন জাহাজ ডুবির কারন অনুসন্ধানে আসা জাপানী কর্মকর্তাদেরকে সব খুলে বলে পাই। কিন্তু কেও বিশ্বাস করে না। পাই তখন অন্য একটা কাহিনী বলে। লাইফ বোটে তার সাথে কুক, নাবিক আর তার মার থাকার কথা বলে। জাহাজের কুক মেরে ফেলে নাবিককে, পরে তার তার মাকেও, সর্বশেষে পাই মেরে ফেলে কুককে। জাপানী কর্মকর্তাদেরকে উপরের দুইটা গল্পের মধ্যে যে কোন একটা বেছে নিতে বলে পাই।

ছোটবেলায় গডের সন্ধানে পাইকে দেখা যায় হিন্দু, খ্রিস্টান আর ইসলাম তিনটা ধর্মের প্রতি সমানভাবে উৎসাহিত হতে। একটা বাঘকে নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে কাঁচা মাছ খেয়ে আর সমুদ্র ঝড়কে উপেক্ষা করে বেঁচে থাকার এ লড়াইকে পিসিন মলিটর প্যটেলের সাঁতারু মামা ফ্রান্সিস আদিরুবাস্বামী মনে করেন স্রষ্টার অস্তিত্ত বিদ্যমান থাকার এক প্রমান হিসেবে। অ্যাং লি পরিচালিত লাইফ অভ পাই মুভিটা দেখারও সৌভাগ্য হয়েছে, এক কথায় দুর্দান্ত। কিন্ত পাইয়ের প্রেমিকা হিসেবে আনন্দিকে মুভিতে দেখানো হলেও বইয়ের পাতায় তাকে কোথাও খুঁজে পাইনি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.