| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
[img|http://cms.somewhereinblog.net/ciu/image/130996/small/?token_id=e81a84e3e02fc61df3bf89ece3b40d4bসৈয়দ মুজতবা আলীর নামের সাথে আমার পরিচয় আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। বাংলায় পাঠ্য ছিলো তাঁর ‘পণ্ডিতমশাই’ গল্পটি। ( যেটি আসলে ‘পাদটীকা’ গল্পের ঈষৎ সংক্ষেপিত রূপ)।
গল্পটি এখনো আমার খুব প্রিয়। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ আমলে ইংরেজ শিক্ষার ক্রমবর্ধমান প্রসারের ফলে সংস্কৃত বিষয়ে অভিজ্ঞ পণ্ডিতদের কি দুর্দশার সূচনা হয়েছিলো- এই গল্পটি তারই ভাষ্য। গল্পের কাহিনীর চেয়েও লেখকের ভাষার কারিগরি, তাঁর রসবোধ আমাকে আকর্ষণ করেছিলো প্রবলভাবে। বিদ্রূপ যে কত শ্লেষাত্মক হতে পারে- এই গল্প তার উদাহরণ। সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর অতুলনীয় ভাষার আভিজাত্য রক্ষা করেও এই গল্পে দারিদ্র্যের করুণ রূপ যেমন প্রকটভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি তৎকালীন ব্রিটিশ প্রভুদের একচোখা শিক্ষানীতির কড়া সমালোচনাও এখানে বিধৃত রয়েছে।
আলী সাহেবের সব প্রকাশিত লেখাই পড়ে উঠতে পেরেছি বলে নিজেকে ধন্য মনে করি। তবে তাঁর ‘চাচা কাহিনী’ বইটিই আমার বেশি প্রিয়।
এই বইয়ের প্রধান চরিত্র ‘চাচা’, যিনি বার্লিনের বড় রাস্তা কুরফুর্স্টেন-ডাম্ যেখানে উলাণ্ড-স্ট্রাসের সাথে মিশেছে, তার কাছাকাছি “Hindusthan Haus” অর্থাৎ “Hindusthan House” অর্থাৎ “ভারতীয় ভবন”-এ স্বরূপে বিরাজমান। এইটি আসলে ভারতীয় খাবারের একটি রেস্তোরাঁ, যেখানে নিয়মিত-অনিয়মিত খদ্দেরের পাশাপাশি দেশীয় কিছু ব্যক্তি নিয়ে চাচার আড্ডা; রেস্তোরাঁর কাউন্টারের অন্য পাশে কয়েকটি আরামকেদারা আর চৌকি নিয়ে যে আড্ডার প্রধান ব্যক্তি চাচা আর গোটা ছয় বঙ্গসন্তান।
চাচা কাহিনী, স্বয়ংবরা, কর্নেল, মা-জননী, তীর্থহীনা, বেল-তলাতে দু-দুবার- এই ছটি গল্প নিয়ে দ্ব্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানীর কাহিনী এখানে। হাস্যরস, করুণরস সবই আছে এই গল্পগুলোতে এবং তা বারবার পড়ার মতো।
চাচার এইসব কাহিনীর বাইরেও আরো ছটি গল্প রয়েছে ‘চাচা কাহিনী’তে; যেগুলোর পটভূমি প্যারিস, বঙ্গদেশ এবং আবারো জার্মানী।
আমার ভালো-লাগা একটি বইয়ের কথা জানালাম খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে; অন্যরা যারা পড়েনি, পড়ে নেবে- এই আশা রাখছি।
(বাংলাদেশের প্রকাশকঃ স্টুডেন্ট ওয়েজ)
©somewhere in net ltd.