| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলা ভাষার শ্রেণীবিভাগ এইরকমঃ
১) লিখিত ভাষা এবং
২) কথ্য ভাষা।
বাংলার লিখিত রূপ মূলত সাধু ভাষা বা শুদ্ধ ভাষা। বর্তমানে এটি লেখ্য রূপে আবেদন সৃষ্টিতে অক্ষম।
কথ্য ভাষার চলিত বা চলতি রূপটি লিখিত ভাষার মর্যাদা দান করেন প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সবুজপত্র'তে। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেন। তবে তার আগেও ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা 'ছিন্নপত্র'-তে রবীন্দ্রনাথ চলিত ভাষার আশ্চর্য সুন্দর লেখ্য রূপের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
কথ্য ভাষার আরেকটি রূপ আঞ্চলিক ভাষা, যেটি প্রতিভাবান লেখকের হাতে লেখ্য রূপে প্রকাশিত হতে পারে। 'পদ্মা নদীর মাঝি'তে কুবের, কপিলা, ধনঞ্জয় কিংবা হোসেন মিয়ার মুখের ভাষা এর উদাহরণ।
বাংলা ভাষার ধর্ষণকারী হিসেবে আমরা ব্রাত্য রাইসু, নাসির আলী মামুন কিংবা এবাদুর রহমান-এর নাম করতে পারি। এঁরা বহু চেষ্টা করেও ঢাকাইয়া (মূল ঢাকাইয়া নয়; ঢাকার খিচুড়ি ভাষা) প্রাকৃত ভাষার কোনো শক্ত অবস্থান বাংলা সাহিত্যজগতে তৈরি করতে পারেননি। এঁদের সীমিত পাঠককেরা এঁদের নিয়ে উচ্ছ্বসিত; তবে দশ বা পনেরো বছর ধরে এঁদের এই প্রচেষ্টা মাঠে মারা গেছে।
ফেসবুকে কিছু ‘পাগলা’ ব্লগার আছে, যাদের হাজার হাজার ফলোয়ার। এদের ভাষাও বাংলা নয়, বরং সিনেমার আইটেম গানের মতো এদের ভাষাও ‘আইটেম বাংলা ভাষা’। এর ধ্রুপদী উদাহরণ- অমি রহমান পিয়াল।
এরা ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথার বন্যায় ভাসিয়ে দেয় ফেসবুকের পাতা; তবে শুদ্ধ বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা করাই যে ছিলো ভাষা-সৈনিকদের সংগ্রামের লক্ষ্য, এই কথা তারা মানতে চায়না।
এরাই বর্তমানের ‘বাংলা ভাষা ধর্ষণকারী’।
এদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু তুচ্ছ মানুষ শুদ্ধ বাংলা ভাষা লেখাই ভুলে গেছে। ফেসবুক আর টুইটারে এদের বমন-উদ্রেককারী ভাষার উপদ্রব চলছেই।
©somewhere in net ltd.