নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ANSARUL ISLAM

ANSARUL ISLAM › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইংলিশ ফুটবলে মুসলিম প্রভাব

১০ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:৪৬

মোহাম্মদ আলী আমর নাঈম। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার টটেনহ্যামে খেলেছেন ১৯৮৮-৯৩ সময়ে। ১৯৯২ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ যখন নতুন নামে যাত্রা করে, সাকল্যে এই একজন মুসলিম ফুটবলারই ছিল লিগ জুড়ে। এরপর গত দুই দশকে ইংলিশ লিগে মুসলিম ফুটবলারের সংখ্যাই কেবল বৃদ্ধি পায়নি সেইসঙ্গে ফুটবল মাঠেবৃদ্ধি পেয়েছে মুসলিমসংস্কৃতির চর্চাও। বিবিসিরতথ্যমতে, বর্তমানে ৪০ জন মুসলিম ফুটবলার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বিভিন্ন ক্লাবের জার্সিতে খেলছেন। এদের মধ্যেসামির নাসরিরের মতো বিখ্যাত তারকারাও রয়েছেন।

গত বছরের ১৯ আগস্ট। ম্যানসিটির ফরাসি তারকা সামির নাসরি খেলছিলেন সাউদ্যাম্পটনের বিপক্ষে। ম্যাচের ৮০মিনিটে দলের পক্ষেজয়সূচক গোল করেই জার্সি কিছুটা উপরের দিকেতুলে 'ঈদ মোবারক' লেখা টি-শার্ট দেখিয়ে ভক্তদের জানিয়েছিলেন ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা। এরও আগে ২০১২ সালের৫ ফেব্রুয়ারি সেন্ট জেমস পার্কে খেলা হচ্ছিল নিউক্যাসল-অ্যাস্টন ভিলার। ত্রিশ মিনিট পর নিউক্যাসলের পক্ষে দেম্বা বে গোল করেই তার সেনেগাল সতীর্থ প্যাপিস সিসের সঙ্গে সিজদায় যোগ দিলেন।এভাবেই মুসলিম সংস্কৃতি ইংলিশ প্রিমিয়ারলিগের মাঠে ছড়িয়ে পড়ে। অনুশীলনের সময় সবুজ ঘাসে নামাজপড়ার দৃশ্য কিংবা গোল উদযাপনে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য সিজদা, এই দৃশ্যগুলো নিয়মিত হয়ে পড়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। মুসলিম ফুটবলারদের এই ধর্মপ্রীতি প্রভাব ফেলেছে অমুসলিম ফুটবলারদেরউপরও। ম্যানইউর মেঙ্কিকান তারকা হার্নান্দেজ বলছেন, 'আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব হজরত মোহাম্মদ (সা.)। আমি মুসলমান নই। তবে তাঁর নীতি আমার ভালো লাগে। তার ব্যক্তিত্ব আমাকে আকর্ষণ করে।'

মুসলমানরা যে কেবলমাত্র সিজদা করেইথেমে থাকে তাই নয়। রমজান মাসেতারা রোজাওরাখে খেলারপ্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও। বেশিরভাগ ফুটবলারই সারা মাস রোজা রাখে।বিবিসি অবশ্য বলছে, কিছু ফুটবলার আছেন, যারা কেবল অনুশীলনের মধ্যে রোজারাখেন। ম্যাচের দিনে তারা রোজা রাখেননা। আর্সেনালের মুসলিম মিডফিল্ডার আবু দিয়াবি বলছেন, 'ক্লাব আমাকে রোজারাখার ক্ষেত্রে নিষেধ করে।তবে তারাও বুঝতে পেরেছে এই মুহূর্তগুলো আমার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আমারকাজ সহজ করার জন্য তারাও চেষ্টা করে।' আর্সেনালের মতোই অন্যান্য ক্লাবগুলোও তাদের মুসলিম ফুটবলারদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিয়েছে। মুসলিম ফুটবলারদের অনেকেই ধর্মের ব্যাপারে খুবই সচেতন। তারা একাগ্রচিত্তে ধর্ম পালন করার চেষ্টা করেন। এদেরমধ্যে এমনইএকজন দেম্বাবে।সেনেগালের এই স্ট্রাইকার সদ্য চেলসিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি ক্লাবের নির্দেশ অমান্য করেহলেও ধর্ম পালনের ব্যাপারে সব সময় অবিচল থাকেন বলে সংবাদ দিয়েছে বিবিসি। এছাড়া ইসলাম ধর্মের বিধান মতে, মদ পান নিষিদ্ধ হওয়ায় মুসলিম ফুটবলার মদজাতীয় কোনো পানীয়ই পান করেন না। এখন পর্যন্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ সেরার পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়শ্যাম্পেনের বোতল। ২০১২সালেরমে মাসে ম্যানসিটির আইভরিয়ান তারকা ইয়াইয়া তোরে ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে শ্যাম্পেনের বোতল গ্রহণ করতেঅস্বীকার করেন।

মুসলিম সংস্কৃতির এই প্রভাব ইংলিশ লিগেবেশ ভালোভাবেই পড়েছে। একদিকে মুসলিম ফুটবলারের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে সেনেগাল, ঘানা, আইভরি কোস্ট ইত্যাদি দেশের ফুটবলারের সংখ্যা বাড়ছে। এদের আগমনের ফলেইসলামী সংস্কৃতিও বিকশিত হচ্ছে ইংলিশ ফুটবলে। এইবিষয়টি সহজ করে তুলেছে ইংল্যান্ডের সহনশীল সমাজ। ধর্মনিরপেক্ষতা বলতেকি বুঝায়, এর উৎকৃষ্টপ্রমাণ হতেপারে ইংল্যান্ড। এর অর্থ যে সব ধর্মকে স্বাধীনতা দেওয়া, বিষয়টি প্রমাণ করেছে ইংলিশরা। এমনকি এই স্বাধীনতা ফুটবল মাঠেও তারাসমানভাবেই দিয়েযাচ্ছে। গতদুই দশকে ইংলিশ লিগেমুসলিম ফুটবলারের সংখ্যা ১ থেকে ৪০-এ উত্তীর্ণ হওয়াই হয়ত তার প্রমাণ ।



http://www.bd-pratidin.com/2013/08/08/9933

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.