নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কোন এইম ইন লাইফ নাই আমার, এখন দু মাস বয়সী মেয়ে আমার পৃথিবী। ২০০৫ সালে আব্বা ঢাকা পাঠায় ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির প্রস্তুতির জন্য। শেষে হিসাব শাস্ত্র ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় এম বি এ করি অনেকটা পেটের তাগিদে।৬ বছর ধরে খেলাপী ঋন নিয়ে কাজ করছি। সম্প্রতি আইন পড়ার চেষ্টা

জগন্নাথের আারিফ

আরিফ মনজুরুল

জগন্নাথের আারিফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

উবারনামা ১ঃ রাজপথের জীবনযোদ্ধা

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:১৪



এক মেয়ে আর লক্ষী বউ নিয়ে মজিবুল বেপারীর সুখের সংসার। আয় রোজগার ভালো, সারাদিন বাস শ্রমিকদের সাথে বেশ ঠাটবাটের সাথেই কাজ করেন বেপারী। নিজের তিনটি বাস আছে তার যাত্রাবাড়ী - গাজীপুর রূটে চলে এবং সে শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি। আওয়ামীলীগের প্র‍য়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহবএর ঘনিষ্ঠ সহচর। নিজে নামাজ কালাম পড়ে, অন্য শ্রমিক নেতাদের মত অসংগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট তার নেই। একমাত্র মেয়ে মহানগর মহিলা কলেজের মেধাবী ছাত্রী।

সাইদ খোকন ঢাকার নতুন মেয়র। সংঘত কারনেই হোক আর লোক দেখানোই হোক প্রয়াত আনিসুল হক তাদের আইডল। একজন তো কাগজ ছিটিয়ে পরিস্কার করতে গিয়ে দূর্ণামের ভাগিদার। যাইহোক, খোকন সাহেবের হঠাৎ ভোদোদয় হলো যাত্রাবাড়ী বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ অভিযানের। অনেক টা আনিসুল হক সাহেবের তেজগাঁও স্ট্যান্ড উচ্ছেদ অভিযানের ন্যায়, যেটা ছিল প্রয়াত মেয়রের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যেই ভাবা সেই কাজ, সাইদ খোকন উচ্ছেদ করে দিলেন যাত্রাবাড়ী বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ড। মজিবুল বেপারীর মতো শত পরিবার দিন ঘরাতেই বেকার, কর্মহীন।

আজ আমার জরুরি মিটিং, ১০ মিনিট লেট অলরেডি। উবার এপসে ঢুকে রাঈড বুক করার সময় পর্যন্ত আমার নেই। চোখের সামনে ৩-৪ জন কে দেখলাম বাইকে বসা মানে খ্যাপের জন্য অপেক্ষ মান। মজিবুল বেপারীর দিকে প্রথমেই চোখ গেল, বেশ পরিপাটি পোশাক, মেহেদী লাগানো দাড়ি। দেখেই ভালো লাগলো, বললাম চাচা মগবাজার কত? দিয়েন বাবা ইন্সাফ মতো। এক মূহুর্তে উঠে বসলাম বেপারীর সাইকেলে। খুব কৌতুহল হলো মাঝবয়সী ভদ্রলোক উবার চালায় কেনো? জিজ্ঞেস করতেই শুনলাম নগর উন্নয়নের বলির পাঠা মজিবুল বেপারীর কষ্টের কাহিনী।

মাসিক ইনকাম প্রায় ১ লাখ থেকে নেমে এসেছে ২০ হাজারে। তিন রুমের বাসা ছেড়ে ৫ হাজার টাকার ১ রুমের মধ্যে কোন রকমে থাকে বেপারী পরিবার। মজিবুল বেপারীর এখন একমাত্র ইচ্ছা মেয়ের একটা ভালো বিয়ে। মেয়ের বিয়ের পর স্ত্রী সহ গ্রামে ফিরে যাবেন এক সময়েরর শ্রমিক নেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ী বেপারী। কথা বলতে বলতে গন্তব্যে পৌছে যাই। ভাড়া মিটিয়ে মিটিং এর জন্য ভো দৌড় দেই। লিফটে উঠার আগে নিজের ভূল মনে পড়ে - বেপারীর ফোন নাম্বার নেওয়া হয়নি। আবার আসি ড্রপ অফ পয়েন্টে। এসে দেখি বেপারী নাই, জীবিকার তাগিদে বেপারী রাজপথের ভীড়ে হাওয়া। এখনো মাঝে মাঝে মজিবুল বেপারীর কথা মনে হলে বুকের ভিতরে হু হু করে___
কিভাবে পাই উনার দেখা?

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: বাস্তব জীবন অনেক কঠিন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.