নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার গ্রাম আমার স্বপ্ন

আরিনি

আরিনি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমরা একটা সাঁকো দেখতে গিয়েছিলাম

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৮:২২


অচেনা একটা গ্রাম। যে গ্রামে আমরা একটা সাকো দেখতে গিয়েছিলাম, সে গ্রামটার নাম ‘দীর্ঘগ্রাম’।
ঢাকার নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী ইউনিয়ন সদরে যেতে পথে পড়ে সোহেল রানার চায়ের দোকান। এখানে চা বানানো হয় বৃষ্টির পানি দিয়ে। স্থানীয় ভাষায় মেঘের পানির চা। অনেক দুর থেকে নাকি লোকে এখানে চা থেতে আসে। সোহেল রানার চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে মাটির রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে জলা আর বিস্তিৃত ধান ক্ষেত। কোথাও আবার কুমড়ো ফুলের মাচা। শেষ বর্ষায় ছোট ছোট ডিঙি নৌকা এঁদো বিলে বাধা থাকে। সেই দীর্ঘ রাস্তা হেটে দীর্ঘগ্রামে পৌছাতে হয়। আমরা পৌছুই একটা নিঝুম দুপুর বেলা। পথে পথে দ্যাখা হয় সরল কিছু মুখ। কিছু সহজ সহজ কথা বলি। হাই ইশকুলের ছেলেমেয়েরা ইউনিয়ন সদর থেকে এই পথ দিয়েই বাড়ি ফিরে তখন।

আগেই বলেছি, আমরা একটা সাকো দেখতে গিয়েছিলাম। খালের উপর জরাজীর্ন একটা কাঠের সাকো।
গ্রামের বড় অংশটা খালের ওপাড়ে। ওপাড়ে আরো দশ বরোটা গ্রামের প্রায় হাজার মানুষকে রোজ এই খাল পেরুতে হয়। গ্রামের মানুষ হাট বাজারে যায়, কেউ কাজে যায়, স্কুলে মাদ্রাসায় ... যেতে হয় প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে। অথচ মাত্র আশি ফুট প্রশস্ত খালের উপর কাঠের সাকোটা জরাজীর্ন হয়ে পড়ে থাকে বছরের পর বছর।
দীর্ঘগ্রাম প্রাইমারী স্কুলের হেডমাস্টার নূরুল ইসলাম স্বপ্ন দ্যাখেন, স্থায়ী একটা সাকো এখানে তৈরী হবে। সাকো পেরুলেই বাচ্চাদের স্কুল। তিনি ভাবেন তার বাচ্চারা এক ছুটে ইশকুলে চলে আসবে। বছরের পর বছর গ্রামের মানুষ তাকিয়ে থাকে প্রশাসনের দিকে। নুরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ভাবি ছোট ছোট সব দায় শুধুই কি সরকারের? এই ছোট্ট স্বপ্নটাতো আমরাই পূরণ করতে পারি। মাষ্টার সাহেবের গ্রাম আমাদেরও গ্রাম। আমার গ্রাম আমার স্বপ্ন, তো গ্রামকে নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরনেরই প্লাটফর্ম।

দীর্ঘগ্রামের অনেকই নাকি ইতালি প্রবাসী। দীর্ঘগ্রামের অনেক স্বচ্ছল মানুষ ঢাকায় ব্যবসা করেন। আর আমরা বিশ্বাস করি, হাত বাড়ালে বন্ধু পাবোই। আমাদের আর্কিটেক্ট বন্ধু সাকোর একটা ডিজাইন তৈরী করছে। এগিয়ে চলছে আমাদের প্রস্তাবনা পরিকলপনা আর বাস্তবায়নের কাজ। আমরা ছুটতে শুরু করছি ছোট্ট একটা স্বপ্নের পেছনে। যে কেউ হতে পারেন এই স্বপ্নের সারথী। আর...

আর, নিজের গ্রামকে নিয়ে আপনার স্বপ্নের কথা আমাদের জানান। আমাদের স্বপ্ন আমরাই পূরণ করবো।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৮:৩৭

দীঘল গঁাােয়র েছেল বলেছেন: নামটি তার দীঘল গাঁও। বর্ষা কালে লাগে নাও। এলাকার লোকজন গ্রামটিকে দীঘল গাঁও বলেই জানে। আমার বাড়ীও আশেপাশেই। ধন্যবাদ ওখানে যাওয়ার জন্য

১০ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৯:৫২

আরিনি বলেছেন: ধন্যবাদ পরার জন্য

২| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১০:০৮

অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: মেঘের পানির চা খাওয়ার লোভ হচ্ছে ।

আপনাদের উদ্যোগে সাধুবাদ জানাই ও সাফল্য কামনা করছি ।

ভালো থাকবেন সবসময় :)

৩| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১১:১৪

মুক্তগদ্য বলেছেন: আমার বাড়ী আশেপাশের একটি গ্রামে। আপনাদের সাফল্য কামনা করছি।

৪| ১১ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৮:৪০

দীঘল গঁাােয়র েছেল বলেছেন: মান্যবর কি রাজধানী ঢাকা থেকে ঐ সাকো দেখতে গিয়েছিলেন? খোঁজ পেলেন কিভাবে? যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটা কি নিজ থেকে না কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে? জানতে পারলে ভাল লাগত। গ্রামের প্রতি দরদ দেখে ভাল লাগল। যদি প্রয়োজন হয়:[email protected]

১১ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৯:৪১

আরিনি বলেছেন: জি ঢাকা থেকেই গিয়েছিলাম। আমাদের একটা ফেসবুক পেজ আছে http://www.facebook.com/amargramamarshopno প্রয়োজন তো হবেই। আপনাদের বাদ দিয়ে তো আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়ব করা সম্ভব না।

৫| ১১ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৯:৪৯

সুমন কর বলেছেন: চমৎকার পোস্ট। এ পোস্টটা অাগে দেখলে, অাজই মেঘের চা ট্রাই করতাম। :P

৬| ১২ ই অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৪:১১

নুরএমডিচৌধূরী বলেছেন: ভাল লিখেছেন
খুব করে পড়লাম
দারুন উপভোগ করলেন কবি
এভাবে কত লোকিতো যায় আসে
সেতু পার হ্্য়
কিনতু কয়জন-ই বা মনে রাখে
দারউন
হয়েছে

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.