নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিষাদ

আমি জানি আমি জানি না

ব্যতীপাত

স্থপতি

ব্যতীপাত › বিস্তারিত পোস্টঃ

জামাত শিবিরের হরতালে বৃক্ষ কর্তন মনস্তত্ব।।

১৫ ই মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৩৯



সাম্প্রতিককালে হেফাজৎ , জামাত শিবিরের হরতাল বা অবরোধে বৃক্ষ কেটে রাস্তায় ফেলে ব্যরিকেট দেয়া হচ্ছে। খবরে বেরিয়েছে প্রায় প্রতিটি জনপদে হরতাল চলা কালে গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হচ্ছে ।





সর্বশেষ ৫ই মে’র ঢাকা অবরোধের সময় মতিঝিল এলাকায় যে ক’টি গাছ ফুটপাথ এবং মেডিয়ানে দাঁড়িয়েছিল- ব্যাটারি চালিত হ্যান্ড স’ দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে । পথে পথে ব্যরিকেট করার হাজারো জিনিষ থাকতে বৃক্ষ কেটে কেন তা করতে হবে ?

নগরের ইটপাথর কংক্রিটের স্তুপের মাঝে ওই গাছ মানুষের ছায়া , শীতল হাওয়া দিত । তারা ছিল যান্ত্রিক সভ্যতার রুক্ষতার মাঝে মমতাভরা পৃথিবীর প্রাণের পরশ । এসব গাছ বড় হতে কত সময় নেয়, কত যত্ন করতে হয় । এইসব বৃক্ষ নিধন করে যে ক্ষতি হলো তা কখনও পূরণ করা সম্ভব নয় । নির্মম ভাবে নিমেষে তাদের কেটে ফেলা হল ,অথচ একটি গাছ বড় করতে কত কত বছর লাগে তা কি তারা ভাবেনা ? এই ক্ষতি তো তাদেরও-গাছ কি কেবল আওয়ামী দেখে ছায়া দেয় ,বাতাস দেয়,কার্বন শুষে অক্সিজেন দেয় ?

লোকগানের চারণ কবি একটি গোলাপ নিহত হলে তার বিচার চেয়েছিলেন- আর শত শত এইসব বৃক্ষ হত্যার বিচার কে করবে ?

জামাত শিবির কর্তৃক বৃক্ষনিধনের এই মনস্তাত্বিক ব্যখ্যা খুঁজতে আমার মনে হল তাদের বিশ্বাসের ভেতরে কোথাও কি এই বৃক্ষনিধনের ইতিহাস থেকে থাকবে । ভারতবর্ষে মুসলিম আগমনের পর নানা সময়ে বিভিন্ন জনপদে যে সংঘর্ষ হয় সে সবের কিছু বিবরণ পাওয়া যায় আমাদের সাহিত্যে । মিথিলার কবি বিদ্যাপতির কীর্তিলতায় মুসলমান কর্তৃক বৃক্ষনিধনের চিত্র পাই- বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলেও আছে। জয়ানন্দ চৈতন্যমঙ্গলে’ লিখছেন-

‘দেউলে দেহজ ভাঙ্গে উপাড়ে তুলসী,

প্রাণভয়ে স্থির নহে নবদ্বীপ বাসী

গঙ্গায়ান বিরোধিল হাটঘাট যত

অশত্থ পনস বৃক্ষ কাটে শত শত ।’ - বাংলা সাহিত্য পরিক্রমা । ড, দিলীপ মজুমদার



ইসলামের ইতিহাসেও এটি নতুন নয় । ইসলামের প্রাথমিক কালেও এর কিছু উদাহরণ পাওয়া যায় । ইবনে হিসামের ‘সীরাতে রসুলুল্লাহ’র বর্ণনায় আছে- ‘ইহুদী গোত্র বনু নাদিরের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধের এক পর্যায়ে ইহুদীরা দূর্গে আশ্রয় নিল । সেখান থেকে তাদের বের করা মুশকিল। তখন রসুল তাদের সমস্ত খেজুরবাগানের গাছ কেটে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তাই দেখে ওরা চীৎকার করে বললো- ‘আপনি বিনা প্রয়োজনে ধ্বংস করতে নিষেধ করেন, যারা করে তাদের নিন্দা করেন। তাহলে আমাদের খেজুর গাছ কেটে পোড়াচ্ছেন কেন ?’

- সীরাতে রসুলুল্লাহ - ইবনে ইসহাক । পৃ:৪৭৯ বাতায়ন প্রকাশন । বাংলাবাজার ঢাকা

অনুবাদ-শহীদ আখন্দ ।

ইরানী লেখক আলী দাস্তি তার ফার্সী ভাষার লিখিত গ্রন্থ ‘ 23 years : A study of the prophetic of Mohammad ‘ এ বনু নাদিরের একই ঘটনার সম্পর্কে লেখেন-‘হিজর ৪ সনে বনু নাদিরের খেজুর গাছ কেটে পোড়ান সমসাময়িক মানদন্ড অনুসারেও ছিল একটি অসম্মানজনক কাজ । প্রতিপক্ষের প্রতিবাদ সত্বেও কাজটি করা হল কারণ সেটাই একমাত্র উপায় ছিল তাদের গোষ্টিকে [বনু নাদির] বশ্যতা স্বীকার করার জন্যে । কোরানের সুরা ৫৯ :২-১৭ এই কাজের সমর্থনে নাজেল করা হয় ।

-‘তোমরা যে কতক খেজুর গাছ কর্তণ করেছ এবং কতক কর্তন না করে রেখে দিয়েছ , তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে । এটি এই জন্য যে এর দ্বারা আল্লাহ্ সত্যত্যাগীদের লাঞ্ছিত করবেন ।’ ৫৯:৫

অপর একটি ঘটনায় অন্য একটি ইহুদী সম্প্রদায় ‘বনু ছাকিফ’কেও প্রায় একই ধরণের ধ্বংসাত্মক রকমের অবরোধ করা হয় । প্রথমে তাদের খাদ্য সরবরাহের পথ বন্ধ করা হয় । । প্রায় বিশ দিন অবরোধ করে রাখার পরেও তারা দূর্গ থেকে বের না হলে বুঝতে পারলেন তাদের পর্যপ্ত খাদ্য মওজুদ আছে । কিন্তু অনির্দ্রিষ্টভাবে অপেক্ষা করাও সম্ভব ছিল না, কারণ তাতে মুসলিম সেনারা ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে চলে যেতে পারে ।

তাই রসুল তাদের বলেন বেরিয়ে আসতে, নয় তো তাদের দেয়াল ভেঙে ফেলা হবে । তবুও তারা বের হয় নি । তারপর তিনি তাদের তার প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন । কিন্তু ভাঙার জন্য তারা প্রাচীরের কাছে যেতেই পারছিল না । গেলেই ইহুদীরা তীর দিয়ে মেরে ফেলছিল । উপর থেকে গলান তপ্ত লোহা ছেড়ে অনেক লোক হত্যা করলো । উপায়ন্তর না দেখে এরপর রসুল নির্দেশ দিলেন ছাকিফদের প্রাণের ধন তাদের দ্রাক্ষাবন কেটে পুড়িয়ে ফেলার জন্য । সে কথা শুনে সাহাবীরা সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো ।

ওই সব খেজুর বাগান ইহুদীদের এবং সেই সাথে উপত্যকার সব মানুষের জীবিকার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিল । যদি এর সব গাছ কেটে নেয় তাহলে ওখানে আর কোনদিনই চাষবাস হবে না । তাই এবার তারা আত্মসমর্পণের জন্য দূতের মাধ্যমে খবর পাঠালো যেন এই কাজ থেকে বিরত থাকে । তারা এমন কি মুসলিমদের মালিকানা দেবার প্রস্তাব করে তবুও যেন গাছ না পোড়ান হয় ।

-সীরাতে রসুলুল্লাহ : ইবনে ইসহাক ও আলী দাস্তির ‘২৩ বছর’ থেকে সংক্ষেপিত ।

শওকত ওসমান একটি অটোগ্রাফ খাতায় লিখেছিলেন-

‘বাঙালি মুসলমান বোঝে না যুগের ফারাক স্বদেশের শ্যামলিমা ছেড়ে তাই শোনে মরুভূমির ডাক ।’

মরুভুমিতে যেতে না পেরে তাই কি আপন দেশটাকেই মরুভুমি বানানো পায়তারা করছি ?

অবিভক্ত ভারতে খিলাফত আন্দোলন’ ও পরে ‘ওহাবী আন্দোলনে’ মুসলমানরা অনেকে এদেশ ছেড়ে আরব দেশে চলে গিয়েছিল । কেননা অমুসলিম [বৃটিশ] শাসিত ভারতবর্ষ মুসলমানদের নিজ দেশ নয় বলে ফতোয়া দেয়া হয় । বলা হয় এই দেশ ‘দারুল হরব’, -শত্রুর দেশ । সবাইকে হিজরত করে কোন মুসলিম দেশে চলে যেতে বলা হলো । কিন্তু সব মুসলমানের তো আর চলে যাওয়া তো সম্ভব ছিল না,অবাস্তবও বটে। তাই গাছ কেটে এখন এদেশটাকে মরুভূমির মত বানানো তাদের ঈমানি কর্তব্য। এখনও সেই মানসিকতা যায়নি বোধহয় ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীরা সেই পোড়ামাটি নীতি নিয়েই সত্য সত্যিই বহু গাছ কেটেছিল । আমাদের গ্রামের হাটে যাবার একটি পথের দুপাশে কাঁটা ওয়ালা বেড়ী বাঁশের ঝাড় ছিল । পাক বাহিনী সেসব গাছ কেটে সাফ করে দেয় যাতে মুক্তি বাহিনী ওইসব আড়াল থেকে তাদের আক্রমন করতে না পারে । এভাবে বহু বন বাদাড় গাছ কেটে সাফ করা হয় মুক্তিযুদ্ধে ।

আশির দশকে জিয়াউর রহমানের আমলে গাছ কেটে রাস্তা বাড়ানোর জন্য ঢাকা শহরের বহু বিখ্যাত গাছ কেটে ন্যাড়া করে ফেলা হয় । রমনার বিখ্যাত রেইন ট্রি ,শাহবাগ থেকে শেগুনবাগিচা , নিউ মার্কেট এর আজিমপুর গেটের দিকে নীলক্ষেত অঞ্চলে বড় বড় বটগাছ সহ অসংখ্য গাছপালা তখনই কেটে ফেলা হয় । এ নিয়ে তখনও অনেক বাদ প্রতিবাদ হয় । কিন্ত গাছ কাটা রোধ করা যায় নি ।



জামাত শিবির হেফাজতিরা গাছ কেটে তাদেরই যোগ্য উত্তরসুরীর প্রমান দিচ্ছে সন্দেহ কি !

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই মে, ২০১৩ রাত ৮:০০

আল-মুনতাজার বলেছেন: আওয়ামী লীগ দিগম্বর করে আর জামাত-শিবির গাছ কাটে।

২| ১৫ ই মে, ২০১৩ রাত ৯:০৩

কলাবাগান১ বলেছেন: গাছ নাস্তিক

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.