![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অপেক্ষা করছিলাম । প্রশস্থ করিডোরের মধ্যদিয়ে হাজার লোক যাচ্ছে আসছে-কিন্তু সেখানেই একপাশে দড়ি দিয়ে ঘেরা এক জায়গায় দেশী বিদেশী মিলে জনা দশেক তবলিগী একসাথে খাওয়া দাওয়া করছেন ।
আমি একটু অবাক হয়েছিলাম, -কেননা এদের কারনে যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য জায়গাটা খুব ছোট হয়ে যায়, তাতেসবারই অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু ওদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই, যেন এটা তাদের অধিকার। পরে বুঝলাম জায়গাটা আসলে পাশের মসজিদের এক্সটেনসন,-দড়ি দিয়ে ঘেরা । এগিয়ে দেখলাম করিডোরের ওই পাশটায় মসজিদ । নামাজের সময় না থাকায় সেটা তখন খালিই ছিল –কিন্তু তবু তারা মসজিদের ভেতরে না বসে বাইরেই খাচ্ছে-
কৌতুহল হলো । ওদের মধ্যে এক বিদেশীকে জিজ্ঞেস করলাম,
-কোথা থেকে ?’
একজন আমার ইংরেজি বুঝলো না । অপেক্ষাকৃত তরুন একজন উত্তরে বললো,
-সিরিয়া ।’ অবাক হলাম সেই কোথায় সিরিয়া, আজ সারা পৃথিবীর চোখ যেখানে,চলছে এক গৃহযুদ্ধ । আমি তাই বললাম,
-‘তোমাদের দেশ বোমায় ব্রাশফায়ারে জ্বলছে -লক্ষ লক্ষ সিরিয়ান উদ্বাস্তু ,মুসলমান মুসলমানকে মারছে- দেশের ক্রান্তিকাল আর এরা এখানে তোমরা - ?’
উত্তরে কাধ দু’টো ঝাঁকিয়ে কি যেন বললো বুঝলাম না । আধো ভাঙ্গা ইংরেজি, আরবি মিশিয়ে যা বললো তা এই যে- ‘ওসব দুনিয়দারি ব্যপার আমরা কি আর করবো। আমরা তো রাজনীতি করিনা। আল্লাহর দাওয়াত দিই।’ আমি বললাম,
-‘তোমাদের দেশের ওই অসহায় মানুষগুলো –তাদের সন্তানেরা রাসায়নিক বোমায় মরছে- কি হবে ? তোমাদের পরিবারের লোকরাই বা কোথায় ? তোমাদের কি স্ত্রী পুত্রকন্যা নেই? তোমাদের কি দেশেই এখন থাকা উচিৎ ছিল না ? দেশেই তো এখন কাজ , মৃত্যুর মিছিল থেকে মানুষদের উদ্ধার করা, তাদের আহার বাসস্থান সাহায্য করা উচিৎ না ? স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কি তোমাদের সংগ্রাম করা উচিৎ না ?’
কিন্তু ওরা নির্বিকার,শুধু শুনলো, তারপর জবাব এল,
–ওসব আল্লাহ দেখবে’।
- আমাদেরও তো আল্লাহরই দেখার কথা –তবু তোমরা কেন এসেছ ?
-দাওয়াত দিতে আমরা সারা পৃথিবী যাই ।
-তোমাদের দেশে যারা নিজেরা মরছে তাদের দাওয়াত দরকার নেই ? আমাদের এখানে কি আর দাওয়াত দেবার মানুষ নেই ? তোমরা দাওয়াত দিতে এসেছ,যাচ্ছ অজ পাড়াগাঁয়ে -তাদের ভাষাও জান না । কি লাভ ? বরং তোমার দেশে যারা তোমার ভাষা বোঝে- তাদের দাওয়াত দাও ।’
-সেখানে অন্য মানুষ আছে। আর এখানেও মানুষ দরকার দাওয়াত দেবার, এটিই দরকার ।
- তোমার দেশের মানুষদের আল্লাহর হাতে রেখে এসেছ , আর আমাদের এসেছ উদ্ধার করতে ?
আমি একটু ক্ষোভের সঙ্গে বললাম । কিন্তু তরুণটি এবার একটু রেগেই গেল মনে হল ।
-দেখ , এখানে সবাই দুনিয়াদারি বেশি করে ,আখেরাত ভাবে না ,তাই মারামামরি । তোমাকে দাওয়াত দিলাম । আমাদের সময় নাই । কাকরাইল এসো । তুমি বুঝে যাবে সব কিছু- শুধু তিনদিন সময় লাগবে, তোমাকে বোঝাতে । তখন আর এসব বলবে না ।’
ওরা চলে গেল । করিডোরে রাখা অজস্র লোটা কম্বলের লটবহর সাথে নিয়ে। পড়ে থাকলো ওদের খাবারের উচ্ছিস্ট গুলো । অনেকগুলো পলিথিনে মোড়া, এক পাশে পড়ে ।
কয়েকটা পথশিশু ,ভাসমান কিশোরী । ওদের ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্টের ব্যাগগুলো ঘেটে বের করছে -দলে যাওয়া কমলার খোসা,আপেলের টুকরা ,জুসের বোতলগুলোর তলে থেকে যাওয়া দু একফোঁটা জুস---।
আমি মুখ ঘুরিয়ে নিলাম । কি দরকার –এই সব দীন দুনিয়ার ব্যপারগুলোর দিকে না তাকানোই ভালো । এসব তো আল্লাহই দেখবে।
২| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩৮
মো কবির বলেছেন: কুরআন বুঝুন , নামায পড়ুন পারলে তাবলীগিদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন ।
কেননা এরা গুরু মানে কিন্তু হাদিস মানে না কুরআন পড়ে শুধু গুরুর লেখা ফাজায়েলে আমল ।
৩| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫৯
কাফের বলেছেন: তাবলীগে লোকজন দাওয়াদ দিতে যায় না পিকনিকে যায় বুঝিনা! মাঝে মাঝে এদের দেখি, খায় দায় ঘোরে ফেরে আর মানুষকে জোর করে মুখস্ত কিছু বুলি আউরাইয়া বিরক্ত করে। যার যার নিজেস্ব এলাকা রেখে এরা অন্য এলাকায় যায় ইসলামের দাওয়াত দিতে আজব!
২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:০৮
ব্যতীপাত বলেছেন: ঠিক বলেছেন-তবে আমি ওদের বুঝিয়ে দিই -আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিবার অথরিটি কে দিল ? আপনি কোন ইসলাম প্রচার করছেন আগে বলেন ।
ওরা শুধু বলে মসজিদে আসেন । আমি বলি আমার ঘরে বসেন । ওরা বসেনা । তোতা পাখীর বুলি ছাড়া আর কিছু জানে না যে । বসলে বিপদ আছে ।
৪| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৪৮
শীতের সকাল বলেছেন:
তাবলীগি দর্শন নয় তাবলীগকে ধর্ষন।
ক্ষোভেও ভাল! দায় মোচনেও ভাল। এড়িয়ে যেতেও জুড়ি নেই!!!
আসলেই সথ্যকে বহুমূখী গলাটিপে ধরা হয়েছে, হচ্ছে!!
আর মেকি জিনিষকে নানা মোড়কে চকচকে করে তুলে ধরা হচ্ছৈ!!!!
বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াত রইলো।
ইনশাআল্লাহ
আগামী জানুয়ারী ৩১ ও ফেব্রুয়ারীর ১, ২ । পুরো পৃথিবী থেকে সব মুসলিম ভাই আসবে কিভাবে পুরো পৃথিবীতে দ্বীন কায়েম হয়ে যায়। পুরো পৃথিবীর মানুষ কিভাবে রাসূলের সা: এর পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে পারে।
আরেকটা কথা কি গাট্টিওয়ালাদের যতই বিরোধিতা করা হউক না কেন তাদের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। ঢাকার সবচেয়ে বড় মাঠ তাবলীগিদের বিশ্বইজতেমায় ব্যবহার হয়।
আগে তাবলীগিদের মসজিদেই উঠতে দিতো না এখন মসজিদ কমিটি থেকে শুরু করে , হিজড়া, রিক্সাওয়ালা, মাস্তান, শিক্ষিত, মুর্খ, মাজহাবী, লা-মাজহাবী, কাল-সাদা, দেশী , বিদেশী এক কথায় সর্ব স্তরের মানুষ এই মেহনতের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজের জীবনকে পরিবর্তন করছে। সমাজে শান্তি কায়েম হচ্ছে। আর শীতের সকালদের জীবন পরিবর্তন হচ্ছে।
আল্লাহ্ র দ্বীন আল্লাহ সমুন্নত করবেন আর তাতে বাতিলের দৌড়ঝাপ কিবোর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এখনও সময় আছে সময়কে শুধরে নেওয়ার........
৫| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:১৪
ইনফা_অল বলেছেন: শীতের সকাল বলেছেন:আসলেই সথ্যকে বহুমূখী গলাটিপে ধরা হয়েছে, হচ্ছে!!
আর মেকি জিনিষকে নানা মোড়কে চকচকে করে তুলে ধরা হচ্ছৈ!!!!
সত্য প্রকাশ হবে "জাজমেন্ট ডে"-তে। কুরআন/হাদিস প্রদর্শিত পথ কারা বাদ দিচ্ছে, তখনই জানা যাবে।
"আমরা তো রাজনীতি করিনা। আল্লাহর দাওয়াত দিই।’ আমি বললাম,
-‘তোমাদের দেশের ওই অসহায় মানুষগুলো –তাদের সন্তানেরা রাসায়নিক বোমায় মরছে- কি হবে ? তোমাদের পরিবারের লোকরাই বা কোথায় ? তোমাদের কি স্ত্রী পুত্রকন্যা নেই? তোমাদের কি দেশেই এখন থাকা উচিৎ ছিল না ? দেশেই তো এখন কাজ , মৃত্যুর মিছিল থেকে মানুষদের উদ্ধার করা, তাদের আহার বাসস্থান সাহায্য করা উচিৎ না ? স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কি তোমাদের সংগ্রাম করা উচিৎ না "?
-কঠিন বাস্তব কথা
৬| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:১৬
ইনফা_অল বলেছেন: লেখক বলেছেনঃ...।' লাকুম দীনকুম' (১০৯ : ৬)-এর অনুবাদ ইসলামিক ফাউন্ডেসনে- তোমার ধর্ম তোমার কাছে্ -- ।
কিন্তু মারেফুল কোরানের ম মুহিউদ্দিন খান কৃত অনুবাদে-'তোমার কর্ম তোমার কাছে--।
দীন এর অনুবাদ একজনের কাছে 'ধর্ম' ,আরেকজনের কাছে 'কর্ম । কি করে বুঝি কোনটা ঠিক ?
দীন শব্দটি ব্যাপক অর্থবহন করে। ।।
২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৩০
ব্যতীপাত বলেছেন:
দীন শব্দটি ব্যাপক অর্থবহন করে। ।। [/sb
ব্যপারটা কি আধ্যাত্মিক হয়া গেল না ? ব্যপক হলে শেরেকি হয়া যাবি না ত ? আসল মানেটা কি আপনে বুঝেছেন ?
৭| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:০৪
শীতের সকাল বলেছেন: ইনফা অল-
সেদিন তো বুজে আসবে । তার আগে কি যাচাই করার কোন রাস্তা নেই ? আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত এর বিষয়টা কি কখনো মাথায় আসবে না।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআতের কষ্টি পাথরটি কি আমাদের কাছে নেই। আখেরাত হবে প্রদানের বস্তু ভাল / খারাপ , নেক/ বদী। সৎ কর্ম/ অসৎ কর্ম। দুনিয়াতেই তো যোগার করে যেতে হবে। নাকি ? আমার যে বিষয় বুজে আসে না তার জন্য যারা জানে তার কাছে যেতে তো সমস্যা নেই ? গ্রহন করবো তা যা আমার জন্য কল্যান বয়ে আনবে।
ভালো থাকবেন।
৮| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:৫৩
ব্যতীপাত বলেছেন: যার কাছে বুঝের জন্য যাবেন সে নিজেই যদি বুজরুক হয়? ইসলামে কিন্তু স্রষ্ঠার সাথে সম্পর্কটা ডাইরেক্ট -কোরান সরাসরি প্রত্যেক মানুষের কাছেই দেয়া হয় । সেটা বোঝার জন্য নিজের ইনটেলেক্ট কে প্রয়োগ করতে হয় ।
৯| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৪০
আদম_ বলেছেন: সাববাস! এই ঘটনা থেকেই প্রমাণ হয় তাদের অসাড়তা। এই কারণেই তাবলীগদের বিরক্ত লাগে। আমার খালি মনে হতো কোথায় যেন একটা গ্যাপ আছে। এই সেই গ্যাপ।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৬
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ওরা চলে গেল । করিডোরে রাখা অজস্র লোটা কম্বলের লটবহর সাথে নিয়ে। পড়ে থাকলো ওদের খাবারের উচ্ছিস্ট গুলো । অনেকগুলো পলিথিনে মোড়া, এক পাশে পড়ে ।
কয়েকটা পথশিশু ,ভাসমান কিশোরী । ওদের ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্টের ব্যাগগুলো ঘেটে বের করছে -দলে যাওয়া কমলার খোসা,আপেলের টুকরা ,জুসের বোতলগুলোর তলে থেকে যাওয়া দু একফোঁটা জুস---।
আমি মুখ ঘুরিয়ে নিলাম । কি দরকার –এই সব দীন দুনিয়ার ব্যপারগুলোর দিকে না তাকানোই ভালো ।
"এসব তো আল্লাহই দেখবে। " কথাটি
ক্ষোভেও ভাল! দায় মোচনেও ভাল। এড়িয়ে যেতেও জুড়ি নেই!!!
আসলেই সথ্যকে বহুমূখী গলাটিপে ধরা হয়েছে, হচ্ছে!!
আর মেকি জিনিষকে নানা মোড়কে চকচকে করে তুলে ধরা হচ্ছৈ!!!!