![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সঙ্গীত ,শিল্পসাহিত্য চর্চা ও ইসলাম ।।
মুসলিম বিশ্বে সবাই গান শুনছে, গাইছে । একসময় মুসলিমদের মনে ভয় সঙ্কোচ থাকলেও আজ আর সেই ইসলামের নিষেধাজ্ঞা কেউ মানছে না । হয়তো-‘ গান শোনা বা গাওয়া জায়েজ ’-এই মর্মে ইসলামকে নিজের মতকরে সংস্কার করে নিয়েছে । কিন্তু, তাহলে ‘ ইসলামেরও সংস্কার করতে হয়’- এই ধারণা হবে এবং অনেক মুসলমানই মানতে চাইবেন না । কেন না সব ধর্ম সংস্কার করেই তো পারফেক্ট ধর্ম ইসলামের আবির্ভাব-তারও যদি সংস্কার লাগে তাহলে তো পারফেক্ট তকমা খাটেনা ।
তাই এখনও আবু জফর সাহেবের মত লোকের অভাব নাই যারা গান গাওয়ার জন্য স্ত্রী ফরিদা পারভীন এর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ পর্যন্ত করেছেন । অথচ এই আবু জফর এই পদ্মা এই মেঘনা’র মত গানের স্রষ্ঠা ,লিখেছেন ‘তোমরা কি ভূলেই গেছ মল্লিকাদি’র নাম –এর মত প্রতিবেশী হিন্দু বোনকে নিয়ে একটি আবেগঘন অসাম্প্রদায়িক গান । আজ তিনি বলেন,প্রাকটিসিং মুসলমান হবার পর, যে-
-‘আল্লাহ মেয়েদের কেবল পর্দার ভেতরেই থাকতেবলেন নাই,তাদের গলাকেও নীচুস্বরে রাখতে বলেছেন যাতে পরপুরুষ না শোনে । আমি ফরিদা পারভীনের জন্য দোয়া করি এবং তার গানের প্রেরণা হিসেবে কিছু করে থাকি তো তার জন্য কাফফারা দিতেও রাজী আছি । ’
সেই কাফফারা দিতেই বোধকরি তার ছোট ছেলেকে সীরাত মিশনে এ ভর্তি করিয়ে একজন ক্বেরাতি বানানোর প্রয়াস নিয়েছেন ।
ইসলামে সঙ্গীত কি নিষিদ্ধ ? আসল ইসলাম কি বলে ?
হযরত ইবনে আব্বাস কুরতবী গ্রন্থে জানাচ্ছেন-
-শয়তানের আওয়াজ কি ?
-গান বাজনা ও রঙ তামাশার আওয়াজই শয়তানের আওয়াজ।এর মাধ্যমেই সে সত্যকে মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে।’
এর থেকে জানা গেল বাদ্যযন্ত্র ও গান-বাজনা হারাম ।
ইবনে মাজা থেকে জানা যায়, বর্ণনা আবু দাউদ -রসুল বলেছেন-‘আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পাল্টিয়ে পান করবে । তাদের সামনে গায়িকারা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহকারে গান করবে । আল্লাহ তাদের ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন এবং কতককে আকৃতি বিকৃত করে বানর ও শুকরে পরিণত করবেন ।’
দাউদ আরও জানাচ্ছেন,রসুল বলেন- ‘আল্লাহ মদ, জুয়া, তবলা ও সারেঙ্গী হারাম করেছেন । নেশাগ্রস্ত করে এমন সকল বস্তু হারাম ।’
মুফতি শাফী জানাচ্ছেন,-‘তবলা ,সারিন্দা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র , নারীকন্ঠ নি:সৃত গান হারাম। কিন্তু সুললিত কন্ঠে যদি কবিতা পাঠ করা হয় ,বিষয়বস্তু যদি পাপ বা পঙ্কিলতা মুক্ত হয় এবং পাঠকারী যদি নারী বা কিশোর না হয়-তবে জায়েজ ।’ [বাংলা মারেফুল কোরান- পৃ: ১০৫৪]
পবিত্র কোরান বলছে-‘---যদি আল্লাহকে ভয় কর তবে বাক্যালাপে কোমলতা অবলম্বন করিও না যাতে দুষ্টলোকের মনে লালসা জন্মিতে পারে ।’
এই আয়াতের ব্যখ্যায় মওদুদী বলছেন,-‘যে দ্বীন পরপুরুষের সাথে মিষ্টসুরে আলাপ করার অনুমতি পর্যন্ত দেয় নাই,তা কি কখনও স্ত্রীলোকের স্টেজে আসিয়া নাচ গান করা পছন্দ করিতে পারে ? রেডিও টিভিতে প্রেমের গান গাহিয়া ভিন্ন পুরুষের মনে লালসার আগুন জ্বালাইবে ? -তাফহিমুল কোরান
তবে আল্লাহ ভক্তি বা ইসলাম প্রচার সংক্রান্ত বাদ্যহীন গান চলতে পারে বলে অনেকে মত দেন ।
পাকিস্তানের বিখ্যাত পপ গায়ক জুনায়েদ গান ছেড়ে আতরের ব্যবসা ধরেছেন । মুসলম হবার পর ক্যাট স্টীভেন গান ছেড়ে ইসলাম প্রচারে নেমেছেন।
তবে গানের পক্ষের মানুষগন বলেন -নবীজী একবার ঈদের সময়ে আয়েশার নিগ্রো দাসদের গান শোনাকে ওমরের নিষেধ স্বত্তেও যে অনুমতি দিয়েছিলেন সেই উদাহরন এনে গানকে জায়েজ করার এক যুক্তি দেন । তবে অধিকাংশ ধর্মবেত্তাগনের কাছে ওটি দুর্বল হাদিস । ওইটি দিয়ে এই শিল্পচর্চা জায়েজ করা যাবেনা ।
তাছাড়া শুধু তো গান নয়,অধিকাংশ শিল্পচর্চাই-যা মানুষকে তথাকথিত ধর্মপালন থেকে দুরে রাখে বলে মনে করা হয় , তা হারাম । ভাস্কর্য, ছবি আঁকা হারাম কারন যে কোন জীবন্ত প্রতিকৃতি আঁকা হারাম । শুধু গান বা ছবি আঁকা নয় যে কোন রকম শিল্পচর্চার বিরুদ্ধই যেন ইসলামের অবস্থান । সাহিত্যেও একই অবস্থা-একমাত্র ইসলাম ও পর্দা সহকারে প্রেম করা ছাড়া শিল্পসাহিত্য চলবে না।
ইসলাম যে কী রকম শিল্পহীন রমজান মাস এলে তা খুব ভালোভাবে উপলব্ধ করা যায় । ওই পবিত্র মাসে সমস্ত সাহিত্য সভা ,সমিতি আলোচনা, সম্মেলন , সাংস্কতিক অনুষ্ঠান বাতিল,কারণ সে সবযেন অপবিত্র কাজ ।
যে সব দেশে ইসলাম পূর্ণ মাত্রায় বহাল সে সব দেশের দিকে তাকালেই এই অবস্থা টের পাওয়া যায় । মধ্যপ্রাচ্যের আমির শাসিত দেশসমুহ সৌদি আরব ,আফগানিস্থান, এবং আফ্রিকায় মুসলিম শাসিত অঞ্চল সুদান সহ দেশগুলোতে একই অবস্থা । পাকিস্তানের লাহোর, একদা বোম্বের সাথে পাল্লা দিত শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে । আজ তাদের ভারত থেকে ছবি আমদানি করে হল চালাতে হয় ।
এতসব কিছুর পরেও যারা শিল্পসাহিত্য চর্চা করেন তারা ইসলামের থেকে এক বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়ে তা করেন অথবা ইসলামের সংস্কার বা নয়া ব্যখ্যা দিয়ে তা জায়েজ করেন ।
সমস্যা হলো ,-সে ব্যখ্যা সর্বজনগ্রাহ্য হবে না । ফলে তাদের ইসলাম পন্থাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে ।
©somewhere in net ltd.