![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিজ্ঞানীর ঈশ্বর ।।
বিজ্ঞানীদের ঈশ্বর বিশ্বাস নিয়ে প্রায়ই আইনস্টাইনের বিখ্যাত উক্তি-- ‘বিজ্ঞান ধর্ম ছাড়া খোঁড়া, আর একইভাবে ধর্ম বিজ্ঞান ছাড়া অন্ধ’ ব্যবহার করা হয় । কিন্তু কেন এবং কোন আলোকে তিনি তা বলেছিলেনন তা অনেকেই জানিনা । এবং তাকে একজন বিশ্বাসী ভেবে আত্মপ্রসাদ লাভ করি । কিন্তু তিনি যে এই প্রথাগত প্রচলিত সংগঠিত ধর্মের বিশ্বাসের কথা বলেন নাই, বিশ্ব ব্রম্মান্ডের নিয়মকেই ঈশ্বর বলেছিলেন এবং সাথে এও বলেন যে ঈশ্বর কখনও স্বেচ্ছাচারী হতে পারেন না এবং তিনিও ইচ্ছে করলেই এই নিয়মের বাইরে যেতে পারেন না ।তিনি স্পিনোজার সেই ঈশ্বর মানতেন যে ‘পাশা খেলে না’ । তার সেই মতামতের কথা বলেছেন সেই একই সাক্ষাৎকারে । নিম্নে তারই অনুবাদ দেয়া হলো । সাক্ষাৎকারটি পিটার বুকি’র ‘ The Private Albert Einstein’ গ্রন্থ থেকে নেয়া ।.
আইনস্টাইন ও বুকি’র -সাক্ষাৎকার
বুকি: এটি একটি আইরনি যে,একদিকে যেমন আপনার নাম বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের একসাথে উচ্চারিত হয়, আবার সেই আপনারই ধর্ম বিষয়ে বক্তব্য নিয়েও নানা বিতর্ক। এইরকম একটা অস্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি, বিশেষ করে যেখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে ?
আইনস্টাইন: আসলে,আমি মনে করিনা যে ধর্ম ও বিজ্ঞান একেবারে একে অন্যের বিপরীত, তেমন কিন্তু নয় । দুটোর মধ্যে একটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক আছে । এছাড়াও আমি মনে করি যে- বিজ্ঞান ধর্ম ছাড়া খোঁড়া, আর একইভাবে ধর্ম বিজ্ঞান ছাড়া অন্ধ । দু’টোই প্রয়োজনীয় এবং দু’জনেরই হাতে হাত ধরে কাজ করা উচিৎ । আমার মনে হয় যে কেউ ধর্ম ও বিজ্ঞানের সত্যের ব্যপারে যে বিস্ময় প্রকাশ না করে,সে মৃতের সমতুল্য।
বুকি: তাহলে কি আপনি নিজেকে একজন ধার্মিক ব্যক্তি মনে করেন ?
আইনস্টাইন : আমি রহস্য পছন্দ করি । এবং খোলাখুলি ভাবে যদি বলি - আমি খুব ভয়ে ভয়েই এই রহস্যের মুখোমুখি হই । আমি মনেকরি বিশ্বব্রম্মান্ডে এমন অনেক কিছু আছে যার ধারণাও আমরা করতে পারিনা, যার ভেতরে ঢুকতে পারিনা । এবং আমরা আমাদের জীবনে অনেক সুন্দর অভিজ্ঞতা অর্জন করি একেবারে তাদের আদিম রূপে । কেবল এইসব রহস্যের পরিপ্রেক্ষিতেই আমি নিজেকে একজন ধার্মিক ব্যক্তি মনে করি । আমি এইসব বিষয় গভীরভাবে অনুভব করি । তবে আমি যা একদম বুঝি না তা হলো- এইটি কি করে একজন ঈশ্বর হয় , যে তাঁর সৃষ্টিকে শাস্তি বা পুরস্কার দেবেন,অথবা যিনি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে উন্নতির জন্যে সাহায্য করবেন ?
বুকি : তার মানে আপনি ঈশ্বর বিশ্বাস করেন না ?
আইনস্টাইন : আহ ! আমি এটাকে বলি ধর্ম ও বিজ্ঞানের হাতে হাত ধরে চলা । প্রত্যেকের একটা নিজস্ব জায়গা আছে ।কিন্তু প্রত্যেককেই তার নিজস্ব ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে । ধরা যাক, একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ, যিনি বিশ্ব ব্রম্মান্ডের নিয়ম গুলো বিশদ ভাবে ওয়াকিবহাল , যেমন কিভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলো আবর্তিত হচ্ছে, আবার উপগ্রহগুলো গ্রহের চার পাশে , সেই তিনি কিভাবে বিশ্বাস করবেন যে কোন একজন ঈশ্বর ইচ্ছে করলেই পারেন এই আবর্তনের পথকে ভন্ডুল, বিশৃঙ্খল করতে ? না , বিজ্ঞানের এই সব প্রাকৃতিক নিয়মগুলো শুধু যে তাত্ত্বিকভাবে ঘটছে তাই নয়,এসব রীতিমত প্রমানিত করা হয়েছে । তাই আমি প্রাকৃতিক নিয়ম হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতাসম্পন্ন এইরূপ ‘মানুষের ব্যক্তিত্বরূপী ঈশ্বরে’র ধারনাকে [anthropomorphic God] কখনও বিশ্বাস করতে পারি না- ।
তবে যেমনটা আগে বলেছি- সবচেয়ে সুন্দর এং গভীর যে ধর্মীয় আবেগ আমরা উপলব্ধি করি তা হচ্ছে রহস্যের সংবেদনশীলতা । আর এই রহস্যময়তাই হচ্ছে সব সত্যিকারের বিজ্ঞানের ক্ষমতা । যদি ঈশ্বরের এইরকম কোন ধারণা থাকে তবে সেটা হবে এক সুক্ষ্ম মন বা আত্মা’র । সেটা কোন মানুষের মত কেউ হবে না, যেরকম বেশীর ভাগ মানুষের ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা ।
সার কথা এই যে- আমার ধর্ম হচ্ছে সৃষ্টির এই ‘নিয়মে’র প্রতি আমার ভালবাসা মিশ্রিত বিস্ময় । ওই যে আলোকোজ্জ্বল এক সুপেরিয়র স্পিরিট, যা নিজেই প্রকাশিত বিশ্বের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় , প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ের শৃঙ্খলায়- আমাদের ভঙ্গুর ও ভীরু মন প্রতিদিন যা প্রত্যক্ষ করে ।
বুকি : আপনার কি মনে হয় না মানুষের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে তাদের একজন ঈশ্বরের প্রয়োজন যাতে তারা সাহস পাবে,এবং আত্মনিয়ন্ত্রন দ্বারা সমাজে বসবাস করবে ?
আইনস্টাইন : না, কখনই নয় । আমি বিশ্বাস করিনা যে একজন মানুষের তার প্রতিদিনের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মৃত্যুর পর শাস্তির ভয় বা ভালো কাজের পুরস্কারের লোভ দেখানোর প্রয়োজন আছে । এটা বিজ্ঞজনিত কোন কাজ নয় । একজন মানুষের জীবনের সঠিক পথপ্রদর্শক হওয়া উচিৎ তার নিজস্ব নৈতিকতার ভার এবং অন্যের জন্য সে কতটুকু করতে পারছে তার উপর । অর্থাৎ নৈতিকতা এবং পরোপকার। মৃত্যুভয় বা বেঁচে থাকার ভয়ের সাথে ধর্মের কিছু করার নেই- বরং সকলের উচিৎ যৌক্তিক জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রাণপন চেষ্টা করা ।
বুকি : এইসব কিছু চিন্তার পরেও কিন্তু সাধারনের মনে আপনার সম্পর্কে ধারণা এরকম যে আপনি একজন ঐতিহ্যবাহী ইহুদী ধর্মের মানুষ ।
আইনস্টাইন: সত্যি বলতে কি আমার কোন প্রথম ধর্মীয় ট্রেনিং হয় ক্যাথলিক প্রশ্নোত্তর শিক্ষাদানের মধ্যে । এটা অবশ্যই ছিল অপ্রত্যাশিত একটি যোগাযোগ ,কেননা আমি প্রথম যে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হই সেটা ছিল একটি ক্যাথলিক স্কুল । আর আমি সে স্কুলে একমাত্র ইহুদী ছাত্র । অবশ্য ,এটি আমার জন্য ভালোই হয়েছিল । আমি সহজেই ক্লাশের অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করতে পেরেছিলাম আর পেয়েছি একাকীত্বের স্বস্তি- যা আমি বহুদিন ধরেই চাইতাম ।
বুকি : কিন্তু আপনার আগের এক ধরনের ‘ধর্ম বিরুদ্ধ’ বক্তব্য, আর এখন যেভাবে নিজেকে সাধারণের কাছে ইহুদী হিসেবে মধ্যে পরিচিত করাতে চাইছেন তার মধ্যে কোন গরমিল দেখতে পান না ?
আইনস্টাইন: না ,এটি এমন কোন জরুরী না । আসলে কি জানেন,ইহুদি ধর্মের সংজ্ঞা দেয়াই মুশকিল। ধরুন একটি শামুক, যাকে আপনি সমুদ্রে দেখেন একটি কঠিন আবরণের মধ্যে , চলাচল করার সময়ও তার ভেতরেই থাকে, তাকে যদি সেই আবরণ থেকে বের আলাদা করেন- তখন সেই অরক্ষিত শরীরটাকেও কি শামুক বলবো না ? ঠিক একই ভাবে ,একজন ইহুদী যদি তার চলার পথে আপন বিশ্বাসকে একদম ঝেড়েই ফেলে ,এমন কি অন্য কিছুও বিশ্বাস করে - তবুও সে একজন ইহুদীই।
বুকি :আপনার ইহুদীত্বই তো জার্মান নাজীদের চক্ষুশূল ছিল । আপনার কি মনে হয় বা এ বিষয়টি কিভাবে ব্যখ্যা করবেনে যে- কেন ইহুদীরা ইতিহাসে এত ঘৃণিত ?
আইনস্টাইন: আমার মনে হয় ইহুদীরা হচ্ছে এক আদর্শ বলির পাঁঠা , যখনই কোন একটি দেশ কোন সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সমস্যার মধ্যে পড়ে ,তখন তারা তাকে ব্যবহার করে।
এর দু’ধরণের কারণ থাকতে পারে- প্রথমতঃপৃথিবীতে এমন কোন দেশ নাই যেখানে ইহুদী নাই । দ্বিতীয়তঃ যেখানেই তারা থাকুন তারা সেখানে সংখ্যালঘূ । আর সংখ্যালঘূ মানে তারা একটি দুর্বল সম্প্রদায় , তাদের এমন ক্ষমতা থাকেনা যে তারা কোন গনআক্রমন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। যে কোন সরকার বা কোন রাজনৈতিক আদর্শের - যেমন কম্যুনিজম বা সোশিয়ালিজম, তাদের পক্ষে খুবই সহজ নিজেদের দোষ ঢাকার জন্য বা দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য ইহুদীদের উপর দোষ দেয়া । উদাহরণস্বরূপ -প্রথম মহাযুদ্ধের পর অনেক জার্মান ইহুদীদের উপর দোষ চাপিয়েছিল যুদ্ধ লাগানোর এবং সে যুদ্ধে হারার জন্য । এটা নতুন কিছু নয় । ইতিহাসে সবসময় ইহুদীদের উপর দোষ দেয়া হয়েছে সবরকম বিশ্বাসঘাতকতার- যেমন পানিতে বিষ মেশান অথবা ধর্মীয় উৎস্বর্গের জন্য শিশু হত্যা । তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এসবের কারণ এক ধরণের হিংসা । কেননা এতসব কিছুর পরে ইহুদীরা একটা দেশের ক্ষুদ্র কমিউনিটি হয়েও ওরা সংখ্যার দিক থেকে বড় বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অধিকারী ।
২| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৪৬
সরদার হারুন বলেছেন: লেখাটি আমার প্রিয় পোস্টে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি ।
৩| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:১১
ব্যতীপাত বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে । আপনি সহজেই প্রিয়তে নিতে পারেন ।
৪| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৪৭
সরদার হারুন বলেছেন: প্রিয়তে নিয়েছি । ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৪১
সরদার হারুন বলেছেন: লেখাটি অতি উত্তম । এমনি লেখাই কাম্য ।
++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++