নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিষাদ

আমি জানি আমি জানি না

ব্যতীপাত

স্থপতি

ব্যতীপাত › বিস্তারিত পোস্টঃ

সম্বোধন।

১৬ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:৩৪

চলতে ফিরতে আঙ্কল ডাকটা শুনে শুনে যখন অভ্যস্ত হচ্ছি, তখন শান্তিনিকেতন থেকে সদ্য পাশ করা এক তরুণ শিল্পীর কন্ঠে ‘দাদা’ সম্বোধনটি শুনে ভীষণ প্রীত হয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল এখনও আছি তাহলে। ‘এখনও অনেক আছে বাকী’ ভেবে – বেশ ঘোরের মধ্যে ছিলাম।
এর মধ্যে একদিন প্রখ্যাত কবি,লোকগীতির সংগ্রাহক আমার শিক্ষক আশরাফ সিদ্দীকির লেখা শান্তিনিকেতনের উপর একটা স্মৃতিচারণমুলক রচনা পড়ছিলাম। তিনি সেখানে বছর দু’য়েক ছিলেন-। সেখানে তখন স্বল্প সংখ্যক বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে তিনি ছিলেন কনিষ্ঠ । মুজতবা আলী তখন পড়াতেন। ছাত্রদের মধ্যে ছিল আব্দুল আহাদ, জসীমুদ্দীন প্রমুখ। প্রথম দিকে তার সমস্যা হচ্ছিল কাকে কি বলে সম্বোধন করবেন । একদিন পথিমধ্যে সস্ত্রীক অনিল চন্দের সাথে দেখা, তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে কিছু একটা বলতে গেলে তিনি বললেন,-
‘শোন,শান্তিনিকেতনে কোন ‘স্যার’ নাই-এখানে সবাই অগ্রজ । এই যেমন আমি অনিলদা, আমার স্ত্রী হচ্ছেন রাণীদি, আর এইযে-, অধ্যক্ষ বিনয় চক্রবর্তীকে দেখিয়ে বললেন -‘ইনি হচ্ছেন বিনয়দা । তুমিও আমাদের সেভাবেই ডেকো ।’
পড়ে আমিও অবাক হলাম - প্রিন্সিপালও দাদা ! তারপর হঠাৎই মনে হলো- আমার সেই শিল্পী মেয়েটির দাদা ডাকার রহস্য কি তাহলে শান্তিনিকেতনের দাদা ডাকার নিয়মের বা অভ্যাসের প্রতিফলন মাত্র । হতে পারে, আবার নিজেকে সান্ত্বণা দেবার জন্য ভাবলাম- না’ও হতেও পারে । তবু সেটা ভেবে যদিও একটু কষ্ট পেলাম,মন খারাপ হয়েছিল -কিন্তু ব্যপারটা বেশ মনে লাগলো। পরে আমারও মনে পড়লো শান্তিনিকেতনের প্রাক্তনীরা অনেকেই কনিকা বন্দোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলতো- মোহরদি। যেমন তাদের মা বলছেন তেমনি তার মেয়েও বেড়াতে গিয়ে ডাকে - মোহরদি। সত্যজিত রায় ছিলেন অপর্ণা সেনের ‘মানিকদা, আবার পরের প্রজন্মের কঙ্কনা সেনেরও ।
ভাবছিলাম আমরাও যদি বড়দের সবাইকে দাদা বা দিদি বলে ডাকতাম তাহলে হয়তো আন্কেল-আন্টি ডাক শোনার কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকে থেকে রেহাই পেতাম । পশ্চিমে বড়দের সবাই নাম ধরেই ডাকে –তা সে যত বড়ই হোক বা বুড়োই হোক-তারা চিরকালই মিস্টার বা মিস -কদাচিৎ আঙ্কেল । এখানেও তেমনটি হলে ভালোই হতো । বুড়োরা নিজেকে সব সময় বুড়ো ভাবতো না, এতে প্রাণশক্তিও বাড়ত,মন প্রফুল্ল থাকত। হয়ত আরও দীর্ঘ হতো আরও আমাদের এই নশ্বর ভালবাসাময় জীবন-যৌবন। রবীন্দ্রনাথের প্রায় ষাটের কাছাকাছি বয়সকালে ১৪ বছরের রানুর ‘রবিবাবু’ ডাকবার সেই প্রেরণার আমরা কে না জানি ।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:৪৩

সুমন কর বলেছেন: লেখাটি ভালো লাগল।

২| ১৬ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:৫৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


বিরাট কিছু?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.