![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অমরত্বের ঠিকানা।
--- মৃত্যুর সাথে এখন আর কেবল যুদ্ধ নয়, বিজ্ঞানীরা বলছেন,-‘আমরা এখন জিততে চাই, কেন না ‘মৃত্যুর চাইতে বাঁচা তো অনেক ভাল। সিলিকন ভ্যালীর পিটার থিল বলেন: ‘মৃত্যুর অভিগমনে তিন প্রকার উপায় আছে-তুমি তাকে গ্রহন করতে পার,তাকে উপেক্ষা করতে পার, এবং তার মোকাবেলায় যুদ্ধ করতে পার। আমাদের সমাজে প্রথম দুই ধারার প্রাধান্য- গ্রহন করা বা অস্বীকার, কিন্তু আমি পছন্দ করি ‘-যুদ্ধ করতে মৃত্যুর সাথে’।
মৃত্যুর সাথেমানুষের এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে জেনেটিক প্রকৌশল,পুনরুত্থানকারী ঔষধ ও ন্যানো প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে। তারা এমন সব অভাবনীয় সাফল্যে অর্জন করেছে যে অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা মানবজাতি আগামী ২২০০ সালের মধ্যেই অমরত্ব অর্জন সম্ভব করে তুলবে । কারও কারও মতে সেটা এমনকি ২১০০ সালেও হয়ে যেতে পারে।। এখনই যে কেউ- যিনি স্বাস্থ্যবান এবং ভাল ব্যংক ব্যালেন্স এর অধিকারী- তিনি খুব সহজেই মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে তার আয়ু অমরত্ব আরও দশ(১০)বছর বাড়িয়ে নিতে পারেন।
প্রতি দশবছরে আমরা একবার করে ক্লিনিকে যাব,তারপর একধরনের পরিবর্তনমূলক চিকিৎসা (makeover treatment) নেব । তা যে শুধুমাত্র আমাদের অসুখের চিকিৎসা দেবে তাই নয়-সেখানে আমাদের ক্ষয়প্রাপ্ত টিস্যুগুলোকে পুনর্জাত করবে, হস্তদ্বয়, চক্ষু ও মস্তিস্কের পদোন্নতি (upgrade) করবে। এভাবে একসময় তারা হবে অমর মানুষের বদলে ‘অ-মৃত’ মানুষ । মানুষেরা তারপরেও মরবে। তবে সেসব হবে নানা ধরণের যুদ্ধে বা দূর্ঘটনায়।
তবে অদূর ভবিষ্যতের কথা বাদ দিয়ে আমরা বরং একটি বাস্তববাদী ধারণার কথা বলি- আমরা এখনই আমাদের আয়ু প্রায় দ্বিগুন করতে পারি । ইতিমধ্যে বিংশ শতাব্দীতেই আমরা আমাদের গড় আয়ু প্রায় দ্বিগুন করেছি -১৯০০ সালে গড়ে (৪০) থেকে ২০০০ সালে ৭০এ এনেছি। এবং খুব শীঘ্রই এই একবিংশ শতাব্দীর মধ্যেই আমরা আমাদের আয়ু প্রায় দ্বিগুণ করে ১৫০–এ উন্নীত করতে পারব-সেটা করার জন্য প্রায় সব টেকনোলজি আমাদের করায়ত্ত।
তবে অমরত্বের জন্য শুধু মেডিসিনে হবে না। আমাদের শরীরের মূল অংশ গুলি রি-ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হবে। আবিষ্কার করতে হবে আমাদের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও টিস্যুগুলিকে কিভাবে পুনর্জাতকরণ ( regenerate) করা যায়।এর সবটাই যে ২১০০ সালের মধ্যেই হবে তা নয়। জেনেটিক ম্যাপ সম্পূর্ণ করা ও ক্রিসপার (CRISPR) সম্পাদনা পদ্ধতি আবিস্কারের পর তা সহজ হয়েছে।
তবে মৃত্যু অতিক্রম করার প্রচেষ্টা’ই জয়ের পথে এক পা এক পা করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এখনও মঞ্জিলে পৌছেনি তবে ইতিমধ্যে সেল বায়োলজি,জেনেটিক মেডিসিন ও মানুষের শরীরের ইঞ্জিনিয়ারিং নানা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে যা সেই পথের দূরত্বকে ক্রমশ ছোট করে আনছে। নতুন প্রজন্মের গুগলাররা আরও অনেক নতুন মজবুত ও অবস্থান থেকে মৃত্যুকে আঘাত করছে।
আমাদের জীবদ্দশায় অমরত্ব যদি অর্জন করতে নাও পারি-মৃত্যু সাথে আমাদের লড়াই কিন্তু চলবেই।শুধু চলবেই না তা নয়-সামনের শতকে এটি হবে একটি পোত প্রকল্প- (Flagship project)। জীবনের অলঙ্ঘনীয়তাকে আমরা যখন হিসেবে নেব আর পুঁজিবাদী অর্থের গতিশীলতাকে যদি মনে রাখি- ‘মৃত্যুর সাথে লড়াই অবধারিত’। জীবনের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কখনও মৃত্যুকে গ্রহন করে নিশ্চুপ বসে থাকা মঞ্জুর করবে না। যতদিন কোন না কোন কারণের জন্য মানুষ মরবে- ততদিন তাকে জয় করার সংগ্রাম চলবেই।
বৈজ্ঞানিক প্রাতিষ্ঠানিকতা ও পুঁজিবাদী অর্থনীতি সানন্দে এটি অনুমোদন দেবে।সাধারণত: যদি অর্থর্নৈতিক ভাবে লাভজনক হয় এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের সম্ভাবনা থাকে- বেশীরভাগ বিজ্ঞানী ও ব্যাংকাররা পিছিয়ে তাকবে না। মৃত্যুকে জয় করার চাইতে উত্তেজনাপূর্ণ কোন আবিষ্কারের কথা ভাবা যায় ? অথবা অনন্ত যৌবন লাভের বিশাল বাজার ? আপনার বয়স যদি ৪০ হয়, চোখ বন্ধ করে এক মিনিট ভাবুন ২৫ বছর বয়সের শরীরের কথা-শুধু দেখা তো নয় অনুভব করুন তো সেই অমিত যৌবনের দিনগুলো-ফিরে যাবার জন্য কত ব্যয় করতে চাইবেন? সব মানুষ এই সৌভাগ্য পেতে চাইবে তা নয়, কিন্তু অয়ুত মানুষ এখনই এই পৃথিবীতেই তাকে তৈরির তার জন্য সবকিছু দিতে প্রস্তুত।
মানুষ যখন একবার বুঝবে ( এবং এমত ভাবার যথেষ্ট যুক্তি আছে) যে মৃত্যুকে সে সত্যিই এড়িয়ে যেতে পারবে-তাহলে তা জীবনের আকাঙ্খা , এতদিনকার ধর্ম,আদর্শ ও শিল্পের দুর্বল গাড়ীকে মুহূর্তেই হিমবাহের মত ভাসিয়ে নেবে---
তবে ধর্মের ধ্বজ্জাধারীরা যে চুপচাপ বসে থাকবে তাও নয়। বিজ্ঞানীরা একটি স্বার্থক অবস্থায় পৌছুলেই আসল যুদ্ধটা শুরু হবে । তখন সেটা লেবরেটরি ছাড়িয়ে চলবে রাজনীতিতে পার্লামেন্ট আর কোর্টে। পৃথিবীর অন্যান্য যুদ্ধকে তখন ফ্যাকাশে মনে হবে যখন সত্যি যুদ্ধটা সামনে আসবে- সেইটে হবে চিরযৌবনের জন্য যুদ্ধ।
**এই লেখাটি বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির ‘হোমো দিউস’ [ Yuval noah harari : Homo dues:A brief history of tomorrow] নামে বইটির ক্ষুদ্র একটি অংশের বিক্ষিপ্ত অনুবাদ- এইরকম নানা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার আমাদের আগামী শতাব্দীকে কিরূপ বদলে দেবে তারই এক বাস্তব বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পচিত্র। ঢাকার ফুটপাথ বইটি দেদার বিক্রী হচ্ছে
১৫ ই মে, ২০১৭ ভোর ৬:৪৪
ব্যতীপাত বলেছেন: সবার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা চাই-এ নিয়ে কারও দ্বিমত নাই। কিন্তু এর সাথে মানুষ নিজের জীবন,তার অস্তিত্বের নানা দ্বন্দ ও নিরসন ও সেই সাথেএই বিশ্বব্রম্মান্ডের রহস্য ও তাকে আবিষ্কারের প্রচেষ্টাকে থামিয়ে রাখতে হবে তা তো নয়।সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এটি একটি অধিকার-তারও প্রচেষ্টা তো চলছে- পৃথিবীর বহু দেশ সেসব নিশ্চিতও করেছে- সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে একসময় তা ছিল- পুঁজি দেশেও নানাভাবে আছে-কল্যানমূলক রাষ্ট্রেও আছে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই মে, ২০১৭ রাত ৯:৪৮
চাঁদগাজী বলেছেন:
ভালো খবর, মানুষকে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হোক; বেশী বাঁচতে পারলে ভালো; তবে, তার আগে সবার চিকিৎসা পাবার অধিকার দরকার।