নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Someone, who wanted to become so many things, ended being nothing, that raise the question, in innerself, was the goal becomnig \"Nothing\"!

মৌন পাঠক

মৌন পাঠক › বিস্তারিত পোস্টঃ

বেহুদা আলাপঃ ৩, বিদ্যুৎ বিভ্রাট!

০৫ ই অক্টোবর, ২০২৩ রাত ১১:০২

বেহুদা আলাপঃ ৩, বিদ্যুৎ বিভ্রাট!

বিদ্যু বিভ্রাট নিয়ে আমাদের অভিযোগের অন্ত নাই।

তালিকা করলে এত এত লম্বা হবে, যা জোড়াতালি দিয়ে মংগলগ্রহে পৌছানো যাবে,
আদৌ মংগল হবে কিনা জানা নাই।

এক বিদ্যুৎ নিয়ে আমরা যে পরিমান হাস্য রস, আর অধুনা সৃষ্ট ট্রল-মেমে করি,
এ সবের সংকলনে হয়ে যাবে এক বিদ্যুতপিডীয়া।

আর বিদ্যুৎ যদি রক্ত মাংসে কোন ও ব্যক্তি হত,
সে কি কি করতে পারত, সে শুধু কল্পনায় ই ভাবা সম্ভবঃ
১) নিজেরে লর্ড বিদ্যুৎ ঘোষণা করতে পারত, লর্ড পাপন অন থ্রেট!
২) দেশের একমাত্র সুপার হিরো দাবি করত,
৩) কিং অফ দা কিং বইলা দাবি করত, সকল কিং সিং সিংগার আউট,
৪) গড বইলা দাবি করত, মুমিনেরা বিদ্যুৎ বয়কট করতে গিয়া ও বিদ্যুতের অভাবে করতে পারত না,
৫) সনাতনীরা তারে ১১ তম অবতার মাইনা পূজা করত
৬) নাস্তিকেরা আনন্দে বগল বাজাইত, ওগোর আনন্দে ক্ষিপ্ত হয়া ছ্যাকা দিত
আপাতত এই পর্যন্ত থাক।

আমাদের আড্ডায় হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ নিয়া সকল অভিযোগ মুহূর্তেই অনুযোগে রুপান্তরিত হইল।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষর প্রতি সবার মনোভাব হঠাৎ ১৮০ ডিগ্রী ইউটার্ন নিল;
এমনকি, আমাদের মুখ থেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা ও চলে আসল,
হ্যা দু চারবার যে আমরা এ উপলক্ষে মিষ্টির দোকানে বসি নাই, ঠিক এমন না।

আমাদের আড্ডায় হঠাৎ করেই কিছু নতুন মুখের উদয় হইতে লাগল,
সাথে আড্ডার কিছু সভ্যর গুরুত্ব ও বেড়ে গেল,
না তাদের উদ্দেশ্য অসৎ বা আর্থিক না, নেহায়েত পরোপকার করা।

আচমকা, আমাদের আড্ডাটা ই যেন স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সান্ধ্যকালীন অফিসে রুপ পেল,
অবশ্য এই সান্ধ্যকালীন অফিসের সেবাগ্রহীতাগন সম্মানিত শিক্ষক ও গন্যমান্য ব্যক্তিগন,
যাদের নিয়মিত অফিসে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছিল, অনুমান করি।

আর এর সাথে সাথে সভ্যগনের মর্যাদা ও প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে লাগল।
এমনকি উহাতে দুই একজন দুষ্ট প্রকৃতির লোক ও সামিল হইল।

আর এ সব ই হল, জিয়া ভাইয়ের আগমনে।

জিয়া ভাইয়ের পরিচয় ই দেয়া হইল না, এই ভদ্রলোক স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের এজিএম।
জিয়াউর রহমান, ভদ্রলোক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান,
পারিবারিকভাবে লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত,
স্থানীয় দালাল ও সুবিধাভোগীদের রোষে পড়ে তার বিরুদ্ধে লেখা হইল,
"আওয়ামী লীগের আমলে জিয়াউর রহমান নামের একজন কি করে এজিএম হয়?"

এই সেই জিয়া ভাই, যে দালালরে থাপড়ে বের করে দিছিল অফিস থেকে,
এই সেই ব্যক্তি, পূজোর কালে ইচ্ছেকৃত লোড শেডিং এর অভিযোগ তোলা হয়,
বেসুবিধা ভোগীদের পক্ষ হইতে।

এই লোক এর তত্বাবধানেই এই দ্বীপাঞ্চলে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ হয়।

এর বাইরে আমার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।

স্থানীয় এক সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে বেশকিছু অভিযোগ উত্থাপন করে,
সাংবাদিক তার লেখায় যার রেফারেন্স দেয়, সে ছিল আমার গ্রাহক।

ওই গ্রাহকের নাম ধরেন দেব, সেই দেবরে আমি আমার অফিসে ডাকলাম,
তারে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত রুমে গিয়ে শুরু গল্প শুরু করলাম,
গল্পে গল্পে এজিএম জিয়ার সাথে তার ইস্যুর আলাপ তুললাম,
আলাপে সংক্ষেপে যা আসল, তার সারমর্ম এইরুপঃ
"এজিএম মহোদয় সাধারণ কোন গ্রাহকের সেবা খুবই দ্রুত ও হ্যাসল ছাড়া করে দেয়,
বাট দালাল বা মধ্যসত্ত্বভোগীদের বেশ হয়রানি করে।"
উক্ত কথোপকথনের রেকর্ড এখন ও আমার নিকট আছে।

আরেক সন্ধ্যায়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক
এর ব্যবস্থাপক ও এজিএম একসাথে একতা অটোতে উঠলাম,
অটোতে আগেই একজন লোক ছিল, অনুমান করি সে চালকের পরিচিত কেউ।
তারা দুই জন কথা বলছিল, আলাপ চলছিল, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়া নিয়া।

চালক বলছিল, সে এজিএম রে নগদ হাজার পনের টাকা (সঠিক মনে নাই) দিছে, তবু ও সংযোগ পাচ্ছে না।
সে মুহূর্তে আমি ইন্টারফেয়ার করলাম, যেহেতু আমিই চালকের পাশে বসা,
ঃ ভাই, এজিএম খুব খারাপ, তাই না?
ঃ হ বাই
ঃ ঘুষ খায়?
ঃ ম্যালা
ঃ আপনি কত দিছেন?
ঃ ১৫, এহন ও মিটার পাই নাই
ঃ আপনি নিজে দিছেন?
ঃ হ বাই

ততক্ষনে পেছনে পিনপতন নিরবতা,
আমাদের যাত্রা ও শেষ।

অটো থেকে নেমে জিজ্ঞাসা চালককে জিজ্ঞাসা করলাম,
ঃ ভাই মোটা করে স্বাস্থ্যবান লোকেরে চেনেন?
ঃ না
ঃ সে পল্লী বিদ্যুতের এজিএম, যার কথা এতক্ষণ কইলেন...
আমরা সবাই একত্রে হাসতে হাসতে চলে এলাম

বুঝলাম, আমাদের অন্য সবার মত, এজিএম মহোদয় একাধিকবার বিক্রী হয়ে গেছেন, নিজের ই অজান্তে

একটা সময় এসে ফুল আড্ডা থেকে শুধু আমি ও জিয়া ভাই আলাদা হয়ে গেলাম,
হয়ে গেলাম নিঃসংগ।

বিশেষ করে আমার সময়টা খুব খারাপ ও নিঃসংগ কাটছিল,
ঐ সময়টা সন্ধ্যে হলেই জিয়া ভাই আমারে কল করত
: "এ ভাই.. কোথায়?"
: নদীর পারে
: থাকেন আসছি...
: হুম, আসেন....

অতঃপর, শুরু হত আমাদের সব গল্প, কথা,
দুই কৃষ্ণগহ্বরের আলাপ, যেমন ছুড়ে তড়ংগ, ইথারে

নদীর বুকে নৌকার পাটাতনে শুয়ে রাতে তারা গোনা,
সাতার কাটা এলোমেলো আকাশ গংগায়

ধাক্কা লেগে যায় জেমস ওয়েবের সাথে,
ওতে হয় বিভ্রাট দুনিয়া জুড়ে.....

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৩ রাত ১১:১৩

মৌন পাঠক বলেছেন: পিসি থেকে পোস্ট কিংবা এডিট করতে পারছি না, মোবাইল থেকে ভিপিএন ছাড়া পারছি না।

২| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৩ সকাল ১১:১৮

কাঁউটাল বলেছেন: জয় বাংলা

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.