| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অশেষ ইকবাল
ইট ওয়াজ মী....আই লেট দ্য ডগজ আউট
মৃত দালান
আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মৃত এই দালানটির জীবন যেন ঠিক আমার মতন।
স্তব্ধ এই রাতে অনেকক্ষণ ধ’রেই হাঁটছি আমি দালানটির সামনের পিচঢালা রাস্তায়। চারপাশ জনশূন্য, নিঃশব্দ। নিঃস্তব্ধতা থরো থরো কাঁপছে চাঁদের আলোয়। কাঁপছে এ দালান, কাঁপছে পায়ের তলায় মাটি, কাঁপছে অসীম শূন্যতা। কেঁপে উঠি আমিও। দেওয়াল ধ’রে সামলে নিই নিজেকে।
ধীর পায়ে আমি হেঁটে চলি দালানের এক প্রান্তের সমাধিস্থানে। এ দালানের অধিবাসীদের কোন এক পূর্বপুরুষ শায়িত এ সমাধিতে। তবে আমার মনে হয়, তিনি সম্ভবত একা নন। এ-দালানের সব অধিবাসীই যেন শুয়ে আছে এ সমাধিতে। এ গোটা দালানই এখানে সমাহিত।
চোখ তুলে দালানটির দিকে তাকাতেই বুক ভেঙ্গে আসে আমার। এ-তো এখন আর আমার প্রিয় সেই রোদ্রৌজ্জ্বোল দালানটি নয়। আমার শৈশবের দালানটির ধংসাবশেষ এখন চাঁদের আলোয় আমার সম্মুখে বিস্তৃত।
একসময় মনে হত এত উঁচু এ দালান যেন আকাশকে ছুঁতে পারে। কিন্তু এখন দেখছি - সর্বক্ষেত্রে পরাজিত এ দালান - মুখ থুবড়ে তা পড়ে আছে মাটিতে।
কত ভালোবাসা নিয়ে তৈরি হয়েছিল এ দালান। সবসময় হাসিখুশি থাকত দালানটি। রোদে ঝলমল করত - জ্যোৎস্নাতেও ফুটে ফুটে উঠত।
কী সুখেই জীবন কাটিয়েছি এ দালানে। দিনভর আমি ছুটোছুটি করতাম দালানের এ-কোণে ও-কোণে। এ দালান আমার সঙ্গী ছিল, ভেবেছিলাম থাকবে আজীবন। আমার হাসি আর কেউ যখন শুনতে পেতো না, কেবল শুনতো এ-দালান; আমার কান্না, যা আর কেউ বুঝতো না, বুঝতো কেবল এ-দালান।
তবু হায়! সব ছেড়েছুড়ে একদিন চ’লে যাবার সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমাকে। আমি আর থাকবো না, সে সংবাদে কেঁদে ওঠে দালানটি, যা আর থামেনি কখনো। আজো মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমি কান পেতে শুনি সেই কান্নার সুর।
যে-দিনটিতে আমি এ-দালানকে ছেড়ে যাই, সে-দিনই মূলত মৃত্যুকে বেছে নেয় দালানটি, আমি জানতাম বেছে নেওয়ার মত তার আর কিছু ছিলো না। আমার পক্ষে আর সম্ভব ছিল না দালানটির অকাল মৃত্যু ঠেকানো।
এলোমেলো পায়ে আমি এগিয়ে যাই পিচঢালা রাস্তার দিকে। শেষবারের মত একবার তাকাই অন্ধকার ও আক্ষেপের দীর্ঘ-শ্বাসে জড়িয়ে থাকা নিরানন্দ দালানটির দিকে।
হঠাৎ আমার মনে হয়, এ-দালানকে আমি সৃষ্টি করেছিলাম, যদিও আসলে আমি একে সৃষ্টি করিনি; আর আমি-ই একে হত্যা করেছি, যদিও কখনো আমি তা করতে চাই নি।
আষাঢ় ১৪১৫
ছবি : চিত্রকর ল্যুসিও ফন্টানা-র ‘পেইন্টিং আন্ডার অ্যাটাক’ (১৯৪৭)
২|
১৪ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৫
উৎকৃষ্টতম বন্ধু বলেছেন: ওয়াচে থাকাকালীন সময়ে ব্লগ জীবন অসহ্য লাগতে পারে। যার কারণে তাড়াতাড়ি সেফ হবার লক্ষ্যে আপনি সামুর কতিপয় ব্লগার কর্তৃক সৃষ্ট একটি ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
আমি আপনার লেখাটি সেই পেইজে শেয়ার দিয়েছি। আশা করি এতে আপনি দ্বিমত করবেন না।
গ্রুপটির লিঙ্ক এখানে।
Click This Link
৩|
১৫ ই জুন, ২০১৩ রাত ১:৫৬
অশেষ ইকবাল বলেছেন: @উৎকৃষ্টতম বন্ধু : বিপুল প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ। ![]()
আমার প্রাক-টিনএজ কাটিয়েছিলাম হাইলেভেল সড়কের সাদামাটা যে-বিল্ডিংয়ে, সেটাকে নিয়েই একটা গল্প, কোনো স্মৃতিকথা নয়, লিখতে চেয়েছিলাম।
আপনার প্রশ্ন শুনে এখন মনে হচ্ছে গল্পের বিল্ডিংটা আসলে হয়ে উঠেছে আমার জীবনেরই সেই সময়টুকুর প্রতীক। দালানের মৃত্যু নির্দেশ করছে আমার বাল্যকালের অবসান।
বাস্তবে, আমার অর্ধযুগব্যাপী উৎপাতের সমাপ্তির পর বিল্ডিংটা ও তার ওনার-টেনান্টরা বহাল তবিয়তেই আছেন। ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:২৫
উৎকৃষ্টতম বন্ধু বলেছেন: দাদা, ভালোই লিখেছেন আপনি। ব্লগে স্বাগতম। যে উচু মানের লেখা দিলেন আশা করি সেফ হতে বেশীদিন লাগবে না আপনার।
এবার লেখার বিষয়ে আসি। দালানটা কি প্রতীকী?
আশা করি ভালো থাকবেন।