নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাট আই ফোর্স আ স্মাইল, নোয়িং দ্যাট মাই অ্যাম্বিশন ফার একসিডেড মাই ট্যালেন্ট

অশেষ ইকবাল

ইট ওয়াজ মী....আই লেট দ্য ডগজ আউট

অশেষ ইকবাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

সঙ্গীতের পৃথিবী (গল্প)

১৫ ই জুন, ২০১৩ রাত ২:১৪

সঙ্গীতের পৃথিবী



[এক] আমাদের পৃথিবী, নীল-সবুজ রঙের পৃথিবী থেকে বহু দূরে, কয়েক হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত আরেকটি পৃথিবী।
সে পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের পৃথিবীর খুব একটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। সে পৃথিবীর আকাশ নীল নয়, আবার ঘুটঘুটে কালোও নয়। সেখানকার আকাশ সাদা, তবে তাও ধবধবে সাদা নয়; কেমন ময়লা হয়ে যাওয়া, ফ্যাকাসে একটা সাদা রঙ। সেখান থেকে সূর্য দেখা যায়না, দেখা যাবার কথাও নয়,তবে সে পৃথিবীতে আলো নেই তা নয়। সেখানকার আকাশে বাষ্পের মেঘ নেই, কাজেই সেখানে বৃষ্টিও নেই। তবে অজানা উৎস থেকে নিয়মিত বজ্রপাত হয় এবং বিদ্যুতের ঝলসানিতে আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে। সে পৃথিবীতে বায়ুমণ্ডল ব’লে কিছু নেই। সেখানকার জমিতে মাটি নেই, গোটা পৃথিবীটাই পাথুরে।
সেই পৃথিবীর এবড়ো-খেবড়ো জমির মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে নদী, মাত্র একটিই নদী সেই পৃথিবীতে। নদীটি কোনো পাহাড় থেকে উৎপন্ন নয়, তার জল ভূ-গর্ভ থেকে আসে না। নদীটির শুরু বা শেষ নেই, সেটি গোটা পৃথিবীটাকেই এলোমেলো পথে প্রদক্ষিণ করেছে। নদীটির শাখা-প্রশাখাও নেই। সেই নদীর জল, আদৌ যদি তাকে জল বলা হয়, লাল বর্ণের এবং বেশ ঘন। সেই পথিবীতে কোনো আগ্নেয়গিরি নেই, এমনকি উঁচু পাহাড়ও চোখে পড়ে না।
সেই পৃথিবীর ভূ-ত্বকের এখানে সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট ছোট গহ্বর। সেইসব গহ্বরের মুখে কান পেতে রাখলে শোনা যায় এক অস্পষ্ট সঙ্গীত। সেই সঙ্গীত কখনো খুব দ্রুতলয়ের কখনো খুব ধীর। মনে হয়, কয়েকশো যন্ত্রী সেই পৃথিবীর ভূ-গর্ভে ব’সে অনন্তকাল ধ’রে বাজিয়ে চলেছে বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্র।
সেইসব সঙ্গীত খুব মধুর নয়, আবার কর্কশও নয়। সেই সুর শুনলে আমাদের মনে কোনো মুগ্ধ হবার অনুভূতি জাগবে না, আবার আমাদের উঠে চ’লে যাবার কথাও মনে পড়বে না।
এতক্ষণ যে গ্রহটার বর্ণনা দিলাম সেটি কোনো নরক নয়, আবার স্বর্গও নয়; সেটি একটি পৃথিবী। আরেকটি পৃথিবী, আমাদের পৃথিবীর মত নয়। সে পৃথিবীতে মানুষ বাস করে না, মানুষের বসবাসের উপযোগীও সেটি নয়। তবুও সেটি একটি পৃথিবী-ই, নিছক একটি গ্রহ নয়। সে পৃথিবীর বয়স আমাদের পৃথিবীর বয়সের সমান কিনা তা জানা যায় না।
[দুই] বহু শতাব্দী ধ’রে সে পৃথিবীতে কোনো প্রাণের সন্ধান মেলে নি। তবে অবশেষে একদিন সে পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হয়। নতুন জন্ম নেওয়া সে জীবটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোনো জীবাণু নয়, আবার পূর্ণাঙ্গ কোনো মানুষও নয়। সে অভূতপূর্ব, বিচিত্র জীবটির সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় আমাদের পৃথিবীর পাখির। সেই অদ্ভুত জীবটির শরীরে পালক নেই, তার শরীর হাড়-মাংস দিয়ে গড়া নয়, রবারের মত কোনো উপাদানে তৈরি তার শরীর। জীবটির ডানা খুব বড় নয়, কিন্তু সে যেকোনো উচ্চতায় স্বচ্ছন্দে উড়ে বেড়াতে পারে।
নিজের জন্মভূমিতে বেশ ক’বছর কাটিয়ে জীবটি একসময় হাঁপিয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে তার দেহ আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। তার একমাত্র খাদ্য হল সেই পৃথিবীর জল, লাল রক্তের মত জল। ধীরে ধীরে সেই জলও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। জীবটি তখন গোটা পৃথিবীটাই ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে এবং জীবন তার কাছে বড় একঘেয়ে হয়ে ওঠে একসময়।
অবশেষে সে স্থির করে, সে ওই পৃথিবীর অভ্যন্তরে যাবে। ভূ-গর্ভ থেকে ভেসে আসা সঙ্গীত সে আজন্মই শুনে এসেছে এবং দীর্ঘসময় ভাবনা-চিন্তা ক’রে তার মনে হয় যে সঙ্গীতটির উৎসস্থলে নিশ্চয়ই তার জন্যে অজানা কিছু অপেক্ষা ক’রে আছে।
জীবটি সেই অজানা কিছুকে জানার জন্যে বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে এবং একদিন মোটামুটি বড় আকারের একটি গহ্বরের ভেতর ঢুকে পড়ে। সে যতই ভেতরে ঢুকতে থাকে, আলো ততই কমে আসতে থাকে। একসময় চারপাশ মিশমিশে কালো অন্ধকার হয়ে যায়, তবু জীবটি পাখা বন্ধ করে না।
[তিন] এভাবে চলতে চলতে বহুদিন পর সে দেখা পায় আলোর এক ক্ষীণ রেখার। নতুন উদ্যমে দ্রুত সে আলোর উৎসের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে এবং শেষমেষ পৌঁছে যায় গহ্বরের শেষ মুখে।
গহ্বর থেকে বেরোবার পর আলোর ছটায় তার চোখ ধাঁধিয়ে যায়, যদিও সে স্থানটি খুব বেশি আলোকিত ছিল না। জীবটি তার সামনে দেখতে পায় এক অদ্ভুত দৃশ্য।
লক্ষ লক্ষ প্রাণী, সেখানে বসে বা দাঁড়িয়ে আছে। প্রাণীগুলোর কেউই দেখতে অপরের মত নয়। তারা কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না, আবার তারা স্থির হয়েও নেই। কেউ নাচার মত অঙ্গভঙ্গি করছে, কেউ গাইবার মত মুখ দিয়ে শব্দ করছে, কেউবা বাজাচ্ছে বিচিত্র সব বাদ্যযন্ত্র।
সেরকম নাচের কায়দা আজ অব্দি আমাদের পৃথিবীতে আবি®কৃত হয়নি, সেসব গানের ভাষা আজ অব্দি আমাদের পৃথিবীর কেউ শোনেনি, আর সেখানকার বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে আমাদের পৃথিবীর আদিতম থেকে অত্যাধুনিক অব্দি কোনো যন্ত্রেরই মিল খুঁজে পাওয়া যাবেনা। আর জীবগুলো নাচের বা গানের বা বাজানোর ফাঁকে ফাঁকে গেলাস থেকে পান করে চলেছে এক ধরনের পানীয়, কোনো যাদুবলে তাদের গেলাস শত চুমুকেও শূন্য হচ্ছে না। অনবরত সে পানীয় পান করতে করতে মাতালের মত তারা সঙ্গীত সৃষ্টি ক’রে চলেছে।
[চার] এসব জীব ও তাদের কর্মকাণ্ড আমাদের পূর্বপরিচিত জীবটির কাছেও সম্পূর্ণ অপরিচিত। বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে সে দীর্ঘক্ষণ চুপ ক’রে থাকে। সে কেবল এটুকু বুঝে উঠতে পারে যে সে তার এতদিনের পরিচিত পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পৃথিবীতে এসে পড়েছে।
তারপর একসময় কোত্থেকে তার কাছেও চলে আসে পানীয় পূর্ণ গেলাস, তাতে চুমুক দিতে না দিতে চলে আসে একটি বাদ্যযন্ত্র। বাদ্যযন্ত্র কেন, কোনো যন্ত্রই জীবটি আগে কখনো দেখেনি কিন্তু হঠাৎ তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো নিজেরাই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে এবং যন্ত্রটি বাজিয়ে সুর সৃষ্টি ক’রে চলে।
সে সুরের তাল, লয়, মাত্রা মেলে না অপরদের সঙ্গে, তবে কেউ তাতে বিরক্ত হয় না বা তাকে থামতে বলে না। কেউ তার দিকে ভ্রুক্ষেপও করে না। তবে ধীরে ধীরে সেও রপ্ত ক’রে ফেলে অন্যদের মত ক’রে বাজাবার কায়দা। এভাবে সেও সেই আশ্চর্য জীবজগতের একজন সদস্য হয়ে ওঠে।
তারা সবাই মিলে চিরকাল ধ’রে গান গেয়ে যায়, নেচে যায়, সুর সৃষ্টি ক’রে যায় এবং পান ক’রে যায় তাদের সেই সঙ্গীতের পৃথিবীতে।

১০ আষাঢ় ১৪১৪


ছবি : ডেব্রা হার্ড

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জুন, ২০১৩ রাত ২:১৭

অশেষ ইকবাল বলেছেন: (এ-লেখাটি পূর্বে ‘বিশদ সঙবাদ’-এ প্রকাশিত)

২| ০৬ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১২:০৯

উৎকৃষ্টতম বন্ধু বলেছেন: লেখার ধরণ বেশ চমৎকার। কিন্তু কেন জানি গল্পটি আমার কাছে বোধগম্য হল না। গল্পের প্রকৃত অর্থ জানতে খুব ইচ্ছা করছে। একটু শানে নজুল উল্লেখ করলে বড়ই কৃতার্থ হতাম।

৩| ১২ ই জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৫:৪৩

অশেষ ইকবাল বলেছেন: @উৎকৃষ্টতম বন্ধু : ইন্টারেস্টিং কোনো শানে নজুল এই গল্পের নাই - এইটা স্রেফ একখান ফিকশন।
ধৈর্য ধ’রে পুরোটা পড়ার জন্য থ্যাঙ্কস।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.