নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আসিফ ইকবাল ইরন

মন জমিনে শব্দের চাষাবাদ

আসিফ ইকবাল ইরন › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় ও আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০৮

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় ও আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া





কবি হেলাল হাফিজ। নিঃসঙ্গ নিভূতচারি প্রচারবিমুখ একজন আধুনিক মনস্ক রোমান্টিক কবি। মাত্র একটি কাব্যগ্রন্থ দিয়ে কবিতার পাঠকদের হৃদয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন। তার কবিতা পাঠ আমার কবিতা ভাবনায় যোগ করে নতুন মাত্রা। তার পাঠকপ্রিয়তা আকাশচুম্বি। তাকে ভূষিত করা যায় বাংলা কবিতার মুকুটবিহিন রাজকুমার অভিধায়। হেলাল হাফিজ নবীনদের অনুপ্রেরনার শিকড় হিসেবে কাজ করেন। তার কবিতা নবীনদের কবিতা লিখতে পিছন থেকে তুমুল উদ্দিপনা দেয়। কবিতার সঙ্গে দীর্ঘ সতেরো বছর সংসার যাপনের পর ১৯৮৬ সালে বের হয় তার প্রথম ও একমাত্র কাব্যগ্রন্থ“যে জ্বলে আগুন জ্বলে”। এ পর্যন্ত এ গ্রন্থের বিংশ মুদ্রন প্রকাশ হয়েছে। কবিতা পাঠের এই আকাল সময়ে একটি কাব্যগ্রন্থের এত এত মুদ্রন সত্যি অভাবনীয় আর অপার বিস্ময়ের। কিন্তু তা একমাত্র সম্ভব হয়েছে কবি হেলাল হাফিজের ক্ষেত্রে। তার কারন তার কবিতায় পাঠকদের ধরে রাখার এক অসীম সম্মোহন ক্ষমতা আছে। পাঠক নিজের অস্তিত্বকে খুজে পায় তার কবিতার পঙিতে পঙিতে। নিজের ভাবনা,স্বপ্ন,প্রেম,বেদনা,দ্রোহ সব একান্ত হয়ে মিশে আছে যেনো হেলাল হাফিজের কবিতায়। তার কবিতা পড়তে গিয়ে পাঠক বিচরন করে স¤পূর্ন্য এক অন্যজগতে। যে জগতের সঙ্গে হেলাল হাফিজ আর পাঠকদের হয় নিবিড় কথোপকথন। আর এখানেই কবির স্বার্থকতা। ৬৯’গনঅভুথ্যান নিয়ে কবি হেলাল হাফিজ লিখেন এক অনন্য অসাধারন কবিতা “নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়”। অনবদ্য এই কবিতা এতই পাঠক প্রিয় যে আর কোনো কবিতা না লিখলেও বোধহয় করি কবি হেলাল হাফিজ তাবৎ পাঠক মনে বেঁচে থাকতেন যুগ থেকে যুগান্তর ধরে। তখনকার সময়ে এই কবিতা শিক্ষাপ্রতিষ্টানের দেয়ালে দেয়ালে শাটানো ছিল। তরুন যুবাদের উদ্বুদ্ধ করেছে নিজেদের অস্তিত্বের যুদ্ধে যেতে। এই কবিতা প্রসবের পটভূমি বলতে গিয়ে কবি বলেন-

“১৯৬৯-এর গনঅভূূথানের সময় পুরানে ঢাকার রথখোলার দিক থেকে আমি একটা রিক্্রায় করে ফুলবাড়িয়া পৌচে মিছিলের জ্যামে আটকে পড়ি। এসময় মিছিলের লোকজনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। তখন আমি রিক্্রায় বসেছিলাম সেই রিক্্রার পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি রিক্্রার চালক মিছিলের মানুষদের উৎসাহ দিতে চিৎকার করে বলে উঠল-‘মার মার,মাইরা ফ্যালা-কিছু কিছু পেরেম আছে, যেডার জন্য মার্ডার করাও জায়েজ । মার...! পাশের রিক্্রাওয়ালার এই সাংঘাতিক কথাটি আমার মধ্যে প্রচন্ড একটা অভিঘাত তৈরী করল। আর সেই অভিঘাত থেকে তিনি জন্ম দেন নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়র এই সম্মোহন অধিকারী পঙির-

“কোনো কোনো প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয়।

যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান

তাই হয়ে যান

উৎকৃষ্ট সময় কিন্ত আজ বয়ে যায়।

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় লেখার পটভূমিতে উল্লেখ করে হেলাল হাফিজ আরো বলেন- “সেদিনের সেই রিক্্রাওয়ালার বাক্যটি আমার মন ও মগজে ক্রিয়া করতে থাকে । আমি লিখতে পারছিলামনা-অস্থিরতা ভেতর দিন কাটাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত ৩/৪ পৃষ্টা দীর্ঘ একটি কবিতা লিখে ফেললাম”। আর সেই কবিতা অনেক পরিমার্জন করে ধারন করে তিনি আমাদের উপহার দেন বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ আঠারো চরনের এই চমৎকার কবিতাটি।



এই কবিতা বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলনের সূতিগার গন অভূথ্যানে প্রেরনা দিয়েছে তেজস্বীয়তার অধিকারী যৌবনকে। যার অগ্নিস্ফুলগ্ন বারুদের ন্যায় কাজ করেছে বিপ্লবীদের মননে। তিনি যখন বলেন-

“এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ট সময়

এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ট সময়”



তখন যেনো বারুদ জ্বলে উটে যৌবনের বীর্যে। তারা ঘর সংসার ফেলে রেখে আসে যুদ্ধের মাঠে। সে যুদ্ধ কেনো? তাও আমরা পাই হেলাল হাফিজের কবিতায়-

শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আাস

অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে

অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে

কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে।



অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে যখন মিছিল হয়। স্লোগানে স্লোগানে কেপে উঠে রাজপথ। সেই মিছিলে কারা থাকে ? কি তাদের পরিচয় ? কি জন্য তারা এসেছে? কবিতার দ্বীতিয় পঙিতে হেলাল হাফিজ তার একটা সচ্ছ ধারনা দেনÑ

মিছিলের সব হাত

কন্ঠ

পা এক নয়।

সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,

কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার

কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার।



তার কবিতা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংগ্রামী যুদ্ধাদের প্রেরনা দিয়েছে। তারা উদ্দিপ্ত হয়েছে মুক্তি ছিনিয়ে আনতে।

কবি হেলাল হাফিজ নিজে বলেন- “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে স্পষ্ট এবং সরাসরি আহ্বান জানিয়ে লেখা প্রথম এবং প্রধান কবিতাটি হচ্ছে নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়। এর আগে আর কারও লেখায় এরকম সরাসরি যুদ্ধের আহ্বান ঘোষিত হয়নি”।

পরিশেষে বলব,সহজ সরল শব্দের গাথুনি এই চমৎকার কবিতাটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য যতদিন ঠিকে থাকবে ততদিন বাংলা ভাষার অমূল্য সম্পদ হিসেবে সমৃদ্ধ করবে বাংলা সাহিত্যকে।



সহায়ক

যুগান্তর সাহিত্য সাময়ীকি

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৪

পরিবেশ বন্ধু বলেছেন: সুন্দর শিল্প ভাষার ছন্দসিক কবির স্মৃতিচারণ
এরাই আনে শানিত বিবেকের মহা জাগরন
ঘুমন্ত মানুষের স্বপ্ন ভাঙ্গায়
নব নব অগ্নি চেতনায়

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.