![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তিনি রুপনগরের রাজকন্যা ,ইনি যখন আয়নায় মুখ দেখেন তখন লজ্জায় কপালের কালো টিপ চোখে পড়ে যায়,ইনি ইরান- তুরান পার করে দর্শকদের রুপের যাদু দেখান।আবার এই রাজকন্যাটিই কখনো সহধর্মিনী বা কখনো মাতৃরুপে দর্শকদের ভালোবাসা শিখিয়েছেন।তিনি এই উপমহাদেশের সাড়া জাগানো নায়িকা শবনম।
ঝর্ণা বসাক বাংলাদেশের প্রখ্যাত নায়িকা ও অভিনেত্রী। যিনি শবনম নামে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।শবনম নামের অর্থ দাঁড়ায় ফুলের মধ্যে বিন্দু বিন্দু শিশির ঝরে পড়া। তিনি একজন হিন্দু অভিনেত্রী হিসেবে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে বা ললিউডে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০'র দশক পর্যন্ত একাধারে সক্রিয় অভিনয় চর্চা করে গেছেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প বা ঢালিউডে অভিনয় করে যাচ্ছেন। ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী শবনম ঐ সময়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম - উভয় অংশেই সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন।
১৭ আগস্ট, ১৯৪০ইং সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ননী বসাক ছিলেন একজন স্কাউট প্রশিক্ষক ও ফুটবল রেফারী। স্বনামধন্য সঙ্গীত পরিচালক রবিন ঘোষ-কে শবনম বিয়ে করেন ১৯৬৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। ২০১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে গুলশানের নিজ বাসভবনে বার্ধ্যক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন রবীন ঘোষ তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে, নাম রনি ঘোষ।তার একমাত্র বড় বোন নন্দিতা দাস বর্তমানে ভারতের কলকাতার সিমলা রোডে বাস করছেন।
শৈশবেই বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শিখেছিলেন শবনম। একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে তিনি সুপরিচিতি লাভ করেন। সেখানেই একটি নৃত্যের অনুষ্ঠানে এহতেশাম তার নাচ দেখে এদেশ তোমার আমার চলচ্চিত্রের নৃত্যে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। তিনি আরও কিছু ছবিতে অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন। কিন্তু এহতেশামের পাশাপাশি পরিচালক মুস্তাফিজের নজর কাড়তে সক্ষম হন অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেই। বাবা ফুটবল রেফারির ছোট মেয়ে ঝর্ণা বসাক,এই নামে অভিনয় করেন এ দেশ তোমার আমার,কখনো আসেনি চলচ্চিত্রে। মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন‘ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৬১ সালে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন শবনম। এ ছবিতেই তিনি শবনম নাম ধারন করেন।যার অর্থ ফুলের উপর বিন্দু বিন্দু শিশির ঝরে পড়া।সত্যিই পরিচালক এহতেশাম বেশ সার্থক নাম দিয়েছিলেন শবনবকে ।
১৯৬১ সালে বাংলা চলচ্চিত্র হারানো দিনের মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন শবনম।১৯৬২ সালে উর্দু চলচ্চিত্র চান্দা ছবির মাধ্যমে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান।এ দু'টি ছবিই তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ঢাকা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। পরবর্তী বছরে তালাশ সমগ্র পাকিস্তানে মুক্তি পেলে ঐ সময়ের সর্বাপেক্ষা ব্যবসা সফল ছবির মর্যাদা লাভ করে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে শবনম পাকিস্তানের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে চিহ্নিত হন। পেশাজীবি মনোভাবের কারণে তিনি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের করাচীতে স্থায়ীভাবে বাস করতে থাকেন। সত্তর দশকের শুরুতে শবনম ললিউডে (লাহোর) পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন। তিনি নায়িকা হিসেবে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে ধ্বস নামার পূর্বে আশির দশকের শেষ পর্যন্ত প্রবল প্রতাপে একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করেছিলেন। সম্ভবতঃ বিশ্বে তিনিই একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনেত্রী যিনি ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত তিনটি দশক ধারাবাহিক ও সফলভাবে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করে অগণিত দর্শক-শ্রোতার মন জয় করেছিলেন।
এরই মাঝে ১৯৬৪ সালে সুরকার রবিন ঘোষকে বিয়ে করেন শবনম। বিয়ের পর নায়িকা শবনবের জনপ্রিয়তা আরো বাড়তে লাগল।এই সময় নায়ক রহমানের সাথে জুটি বেঁধে উপহার দেন বহু জনপ্রিয় উর্দু চলচ্চিত্র,পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রেও তিনি ছিলেন সমুজ্জ্বল।ষাটের দশকে উর্দু ছবির কল্যানে পাকিস্তানে হয়ে পড়েন বেশ জনপ্রিয়,সেই সময়েই বাসা বাঁধেন পাকিস্তানে।সেখানে প্রায় তিন দশক তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন,উপমহাদেশে এই অর্জন আর দ্বিতীয়টি নেই
১৯৬১ সালে বাংলা চলচ্চিত্র হারানো দিনের মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন শবনম। ১৯৬২ সালে উর্দু চলচ্চিত্র চান্দা ছবির মাধ্যমে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান এ দু'টি ছবিই তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ঢাকা থেকে মুক্তি পেয়েছিল।পরবর্তী বছরে তালাশ সমগ্র পাকিস্তানে মুক্তি পেলে ঐ সময়ের সর্বাপেক্ষা ব্যবসা সফল ছবির মর্যাদা লাভ করে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে শবনম পাকিস্তানের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে চিহ্নিত হন। পেশাজীবি মনোভাবের কারণে তিনি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের করাচীতে স্থায়ীভাবে বাস করতে থাকেন। সত্তর দশকের শুরুতে শবনম ললিউডে (লাহোর) পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন। তিনি নায়িকা হিসেবে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে ধ্বস নামার পূর্বে আশির দশকের শেষ পর্যন্ত প্রবল প্রতাপে একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করেছিলেন। সম্ভবতঃ বিশ্বে তিনিই একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনেত্রী যিনি ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত তিনটি দশক ধারাবাহিক ও সফলভাবে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করে অগণিত দর্শক-শ্রোতার মন জয় করেছিলেন।শবনম আয়না ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন এবং ছবিটি পাকিস্তানের সিনেমা হলগুলিতে দীর্ঘদিন যাবৎ চলার রেকর্ড করে। ১৯৬০-এর দশকে কাজী রিজভানী'র পরিচালনায় ওয়াহিদ মুরাদের বিপরীতে লাদলা ছবির সোচা থা পিয়ার না করেংগে গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পায় এবং সেই সাথে তিনিও সকলের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হন।১৯৮৮ সালে শবনম তার চরিত্র পরিবর্তন করেন এবং পুণরায় ঢাকা ও লাহোরের চলচ্চিত্রাঙ্গনে অভিনয় করতে থাকেন। ৪০ বৎসরের অধিককাল ধরে অভিনয়ের ফলে তিনি প্রায় ১৮০টি চলচ্চিত্রের অনেকগুলিতে অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন। শবনম অনেকবার সম্মানসূচক নিগার পুরস্কারের পাশাপাশি তিনবার পাকিস্তানের জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।নব্বই দশকে মাটির টানে ফিরে আসেন বাংলাদেশে।কাজী হায়াতের পরিচালনায় ও ঢাকা প্রোডাকশনের ব্যানারে তিনি ১৯৯৯ সালে সর্বশেষ আম্মাজান চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। চাইলেই আম্মাজানের পর চলচ্চিত্রে মায়ের চরিত্রে নিয়মিত হতে পারতেন কিন্তু সেটা না করে নিজের আভিজাত্য ধরে রেখেছিলেন।
ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে শবনম-রহমান জুটি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান থেকে পুণরায় বাংলাদেশে ফিরে এসে আরো কিছু বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের বাংলা চলচ্চিত্র-সহ উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং সর্বস্তরের দর্শকদের বিপুল ভালোবাসায় ধন্য ও শিক্ত হয়েছেন শবনম, যা ঐ সময়ের সিনেমা হলগুলোতে তার অভিনীত ছবিগুলোই এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শবনম-ওয়াহিদ মুরাদ, শবনম-নাদিম জুটি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরবর্তীকালে পাকিস্তানে বসবাস করে পাঞ্জাবী চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদান রাখায় শবনম সম্মানসূচক পুরস্কার হিসেবে মোট ১২বার নিগার পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ২০১৯ সালের লাক্স স্টাইল অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আমাদের দেশে যদি পরিচ্ছন ইমেজের নায়িকাদের নাম উঠলে সবার আগে যাদের নাম আসবে,তাদের অন্যতম এই শবনম।জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থায় বিয়ে করেছেন,বিয়ের পর রহমান,রাজ্জাকদের সাথে কাজ করে সফল হয়েছেন,ভিনদেশে গিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সফল হয়েছেন।কোনো কিছুতেই তিনি সমালোচনার আঁচ লাগতে দেননি।এমনকি বাংলা চলচ্চিত্রে সনাতন ধর্মীয় নায়িকাদের নিয়ে যে ধারনা আছে,সেটাও তিনি এড়িয়ে গেছেন।বাস্তব জীবনে তিনি এক সন্তানের মা,সন্তান ও সুশিক্ষিত।স্বামী প্রয়াত রবিন ঘোষের সঙ্গেই কাটিয়েছেন পুরো দাম্পত্যজীবন।সব ক্ষেত্রেই তিনি একজন আইডল।
শুভ জন্মদিন......রুপনগরের রাজকন্যা শবনম ।
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, বিভিন্ন পেপার ও ম্যাগাজিন ।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩০
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: হুম ঠিক । তবে খ্যাতির জোয়ারে এসেও নিজের জন্মভূমিকে অশ্রদ্ধা করেননি তিনি । আপনাকে ধন্যবাদ ।
২| ১৭ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:১৬
সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: এহতেশাম সাহেব অনেক সাধারণ নারীকে নায়িকা বানিয়ে অসাধারণ করেছেন। এটা ওনার কৃতিত্ব। প্রতিভা খুঁজে বের করে উনি তার ছবিতে এদের কাজে লাগিয়েছেন। ওনার হাতে গড়া অন্য নায়িকারা হলেন সুমিতা দেবী, শাবানা, শাবনাজ, শাবনুর।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩১
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: যথার্থ বলেছেন । এহতেশাম সাহেব এর আবিস্কারের অদ্যাক্ষর ছিলো স/শ । আর যাদের আবিস্কার করেছেন তারা সবাই সফল ও প্রতিষ্ঠিত নিজ জায়গায় । আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
৩| ১৭ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:৫১
রাজীব নুর বলেছেন: অনেক কিছু জানা হলো। তার কয়েকটা মুভি আমি দেখেছি।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩২
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: আমিও দেখেছি বেশ কিছু সিনেমা। আপনাকে ধন্যবাদ ভাই ।
৪| ১৮ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৫৩
ঘরহীন বলেছেন: পোস্টে একই কথার রিপিটেশন বেশ কয়েকবার হয়েছে। এমনিতে, দারুণ পোস্ট। আমি যে মন্তব্য করবো ভেবেছিলাম '২' নাম্বারে সাড়ে চুয়াত্তর তা বলে দিয়েছেন।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩৩
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ
৫| ১৮ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:৩৯
পদ্মপুকুর বলেছেন: দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান আমলে উর্দু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাঙালিদের যথেষ্ঠ প্রভাব ছিলো, এঁনার পাশাপাশি রুনা লায়লার ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাকিস্তানে এখনও রয়েছে বলেই জানা যায়। আশংকার কথা, তাঁদের মত উপমহাদেশব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়া শিল্পী বাংলাদেশে সৃষ্টি হচ্ছে না।
সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩৪
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: আমিও একমত তৎকালীন বাংলার দাপট ছিলো সব জায়গায় । এখনকার মতো জল বিহীন কলসি খুব কম ছিলো । যাই হোক উনারা এসেছিলেন বলেই আমরা আজো উনাদের নিয়ে বলতে পারি । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৫৬
আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: শবনম বাংলাদেশের চাইতে পাকিস্তানে বেশি জনপ্রিয় ছিলেন।