![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এই পৃথিবীতে বিশেষ গুণসম্পন্ন ব্যক্তিগন হাজার বছরে একবার আসে । আর জাতিকে এমন কিছু দিয়ে ঋণী করে রাখে যে সেই জাতি তাঁর শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও সেই ঋণ সামান্যতম শোধ করতে পারেনা । শ্রদ্ধেয় জহির রায়হান নিজেই ছিলেন একটি ইন্সটিটিউট । বেঁচে থাকলে বাঙালী জাতিকে আরো অনেক কিছুই নিজ হাতে শেখাতে ও দেখাতে পারতেন ।
জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক ও ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন। জহির রায়হান শুরুতে কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে ও পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। ভারত বিভাগের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ গ্রামে চলে আসেন।
জহির রায়হানের সর্বাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র 'জীবন থেকে নেওয়া' এর পোস্টার; Image Source: CodePen
তিনি ১৯৫০ সালে আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং ঢাকায় কলেজে ভর্তি হন। আই.এসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। অল্প বয়সেই তিনি কম্যুনিস্ট রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন। তখন কম্যুনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকায় গোপন পার্টিতে তাঁর নাম রাখা হয় ‘রায়হান’। আসল নাম ছিল জহিরুল্লাহ। পরবর্তীতে জহির রায়হান নামে পরিচিত হন।
তিনি মাত্র ৩৭ বছরের স্বল্পকালের জীবনে যে সৃষ্টি রেখে গেছেন তা অসামান্য। তাঁর উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘ওদের জানিয়ে দাও’ কবিতায় তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, ‘মরা মানুষগুলোতে কেমন জীবন এসেছে।’ ১৯৬১ সালে তিনি অভিনেত্রী সুমিতা দেবীর সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৯৬৮ সালে অপর অভিনেত্রী সুচন্দাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।
প্রথম স্ত্রী সুমিতা দেবী ও ছেলের সাথে জহির রায়হান; Image Source: IMDB
দ্বিতীয় স্ত্রী নায়িকা সুচন্দার সাথে
মাত্র ২০ বছর বয়সে প্রথম গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ লেখেন। আর দুই দশকে সাতটি উপন্যাস, দুটি গল্পগ্রন্থ লিখেছেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। এছাড়া এক দশকে বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু ভাষার ১০টি চলচ্চিত্র পরিচালনা, প্রযোজনা করেছেন। প্রবাহ ও এক্সপ্রেস–এর মতো সাময়িকপত্র সম্পাদনার স্মরণীয় কীর্তিও দেখিয়েছেন। পেয়েছেন সেরা চলচ্চিত্র ও বইয়ের পুরস্কার।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যে ১০ জন প্রথম ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন তিনি তাঁদের অন্যতম। তাঁকে মিছিল থেকে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয়। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদীর মতো প্রখ্যাত সাহিত্য সৃষ্টিও রয়েছে। হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭২ সালে পান বাংলা একাডেমী পুরস্কার।
বেহুলা সিনেমার শ্যুটিং চলাকালীন পরিচালক জহির রায়হান দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন; Image Source: IMDB
কথাশিল্পী হাসনাত আবদুল হাই জহির রায়হানকে নিয়ে লেখেন, ‘আমাদের সবার জহির ভাইকে নিয়ে পঞ্চাশের দশকে একটি গল্প চালু ছিল। তিনি নাকি তাঁর গল্পের সাধারণ মানুষের মুখের কথা শোনার জন্য চায়ের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতেন। উপযুক্ত সংলাপ শুনলেই নোটবইতে টুকে নিতেন।’
১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র কখনও আসেনি মুক্তি পায়। তারপর সোনার কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা তৈরি করেন। ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিতে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করে।
উপমহাদেশের প্রথম রঙিন সিনেমা সংগমের পোস্টার; Image Source: IMDB
এছাড়া তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করলেও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তা শেষ করতে পারেননি। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পর কলকাতায় গিয়ে স্টপ জেনোসাইড নির্মাণ করেন। সেটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।
বিশ্বনন্দিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র 'স্টপ জেনোসাইড' এর একটি দৃশ্য; Image Source: Daily Sun
জহির রায়হান তাঁর চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে ভাঙতে চেয়েছেন মানবিক সম্পর্কের মধ্যে থাকা বিচ্ছিন্নতার অতিসূক্ষ্ম ‘কাচের দেয়াল’। একুশের মতোই ধারণ করেছেন একাত্তরের আগুন। একাত্তরের মার্চে গঠিত ‘লেখক সংগ্রাম শিবির’–এর অন্যতম সদস্য ছিলেন। একুশ ও একাত্তরের জহির রায়হান যেন তাঁর গল্প-উপন্যাসের চরিত্রেও একাকার।
১৯৬৫ সালে পাকিস্তান ফিল্ম ফেস্টিভালে বক্তব্য পেশ করছেন; Image Source: IMDB
১৯৭১ সালে জহির রায়হানের বড় ভাই আরেক প্রখ্যাত লেখক শহীদুল্লা কায়সারকে দুর্বৃত্তরা তাঁর বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বর খবর পান, শহীদুল্লা কায়সারকে মিরপুরে রাখা হয়েছে। তিনি তখন তাঁকে উদ্ধারের জন্য যান। কিন্তু আর ফিরে আসেননি। ওই দিনটিই জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ৫০ বছর পালিত হবে সামনের বছর। আর ২০২২ সালে ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পূর্তি। এমনই এক মাইলফলকের সময়ে জহির রায়হানের জন্মের ৮৫ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। তাঁর জীবন সংগ্রাম ও সৃষ্টিতে অমর একুশে ও একাত্তর যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কথাশিল্পী, চলচ্চিত্রকার, আলোকচিত্রশিল্পী, ভাষাসংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা এমন নানা্ন বিশেষণে ভূষিত তিনি।
তথ্যসূত্র ঃ টিডিসি রিপোর্ট
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৩
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: উঁনি বেঁচে থাকলে আমরা আরো কিছু সাফল্য পেতাম আমাদের সংস্কৃতিতে । আজীবন মনে রাখার মতো কিছুকরে গেছেন , তাঁকে স্মরণ করতে পারছি । আপনাকে ধন্যবাদ পোস্ট টি পড়ার জন্য ।
২| ১৯ শে আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৩
নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: স্বাধীনতার পর পর নিঁখোজ বড়ভাই শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে নিঁজেই নিঁখোজ হয়ে যান। এটা ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৪
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: এই অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের আসলেই কাম্য ছিলো না । শিল্পী তাঁর শিল্পে বেঁচে থাকে এটাই সত্য । আপনাকে ধন্যবাদ ।
৩| ১৯ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:৩১
আমি সাজিদ বলেছেন: স্টপ জেনোসাইড দেখে শিউরে উঠেছি বারবার। উনার ছোটগল্পের বিরাট ভক্ত আমি।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৪০
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: শিউরে উঠাই স্বাভাবিক । উনার সাহস ও জ্ঞানের ধারেকাছে সবাই আসতে পারেনি ।
৪| ১৯ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:৪৬
রাজীব নুর বলেছেন: একজন প্রত্তিভাবান মানুষ।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩৮
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: নিঃসন্দেহে ।
৫| ১৯ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:১৫
ঢাবিয়ান বলেছেন: ইতিহাসের পাতায় তিনি চির অমর হয়েই থাকবেন।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৪৪
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: ঠিক বলেছেন ।
৬| ১৯ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১০
ঘরহীন বলেছেন: দ্য লিজেন্ড।
২০ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: একদম ঠিক বলেছেন । ধন্যবাদ ।
৭| ২০ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৩৯
নেওয়াজ আলি বলেছেন: উনার গ্রামের এলাকায় মানুষ উনাদের ভুলতে বসেছে । উনাদের পরিবারের লোকজন এলাকায় যায় না । ফেনীতে একটা জহীর রায়হান হল নামে নাট্যশালা ছিল অনেক বছর আগে ভেঙ্গে দিয়েছে সরকার আর আজ পর্যন্ত করলো না ।
২২ শে আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৫৫
অসিত কর্মকার সুজন বলেছেন: হুম ঠিক বলেছেন ।আমার নিজের গ্রামের বাড়ী ফেনী তে তাই আমি অল্পবিস্তর জানি । নবম শ্রেনীতে "হাজার বছর ধরে" উপন্যাস পড়ার পরে আমি যতদূর পেরেছি জানার চেষ্টা করেছি । তবে আস্তে আস্তে ইতিহাস ভুলে যাওয়া বাঙালীর কাছে এসব খুব সাধারণ ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:৪৬
অজ্ঞ বালক বলেছেন: খুব পছন্দের একজন লেখক। মনে আছে, সেই কবে তার উপন্যাস আর গল্প সমগ্র কিন্যা পড়ছিলাম। আর, পরিচালক হিসাবে তো কথাই নাই। সেরা।
বিদ্রঃ উনি যেইভাবে চায়ের দোকানে গিয়া সংলাপ তুইলা আনতেন, এইটাই একজন লেখকের করা উচিত যদি সে সামাজিক ধারার বই লেখে। এইটারে কয় ডেডিকেশন টু আর্ট।