নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নতুন ঠিকানা-http://www.somewhereinblog.net/blog/ochenahappy

আবদুস সবুর খান

http://www.facebook.com/AskSumon -https://asksumon.wordpress.com/main-page/

আবদুস সবুর খান › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাফয়ে ইয়াদাইন নিয়ে কিছু কথা.............

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৪৭





আজকাল কিছু ভাই রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে এমন কিছু কথা ছড়াচ্ছে যা সাধারন মুসলমানদের বিভ্রান্তিতে ফেলছে। কিন্তু তারা (সাধারন মুসলমান) কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন না এবং স্বভাবতই তারা অনেকেই বিভ্রান্তির স্বীকার হচ্ছেন। তাই উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু বলা নিজের ঈমানী দায়িত্ব মনে করছি।



নিচে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা সম্পর্কিত দলীলগুলো পেশ করা হল :---



প্রথম দলীল : নবী স.-এর নামায



হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ বলেন আমি কি তোমাদের কে হুজুর সাঃ এর নামাজ সম্পর্কে অবগতি দেব না? এ কথা বলে তিনি নামাজ পড়ে দেখালেন এবং নামাজে তাকবীরে তাহরীমার সময় একবার রাফয়ে ইয়াদাইন করলেন। নামাজে আর কোথাও তিনি রফঈ ইয়াদিন করলেন না। (প্রমান: তিরমিযী ১;৩৫, সহীহ নাসায়ী শরীফ, হাদিস নং ১০৬১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ, প্রকাশকাল- মে, ২০০২)



মুহাদ্দিস আহমদ শাকির এ হাদীস সম্পর্কে বলেন-

“ইবনে হাযম ও অন্যান্য হাফিজুল হাদীস উপরের হাদীসটিকে ‘সহীহ’ বলেছেন।”



আল্লামা ইবনুত তুরকামানী (রহ) বলেন,

“এই হাদীসের সকল রাবী সহীহ মুসলিমের রাবী”

(আল-জাওহারুন নাকী : ২/৭৮)



স্মর্তব্য যে, ইমাম তিরমিযী রহ. “সুনান” গ্রন্থে ইবনুল মুবারক রহ. এর যে মন্তব্য উল্লেখ করেছেন তা এই বর্ণনা সম্পর্কে নয়, অন্য আরেকটি বর্ননা সম্পর্কে, যা নিন্মোক্ত ভাষায় বর্ণিত হয়েছে-

‘রসুল স. শুধু প্রথমবার হাত উঠিয়েছেন।’



এ দুই বর্ণনার মধ্যে প্রভেদ না করায় অনেক আলেম বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছেন কিংবা অন্যকে বিভ্রান্ত করেছেন। (দেখুন : নাসবুর রাযাহ : ১/৩৯৪)



এজন্য সুনানে তিরমিযীর বিভিন্ন নুসখায় দ্বিতীয় বর্ণনাটি ভিন্ন শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইবনুল মুবারকের মন্তব্যও রয়েছে সেখানে। অতএব তার মন্তব্য আলোচ্য হাদীস সম্পর্কে নয়।

(জামে তিরমিযী, তাহক্বীক আহমদ শাকির ২/৪১)



এখানে মুহাদ্দিস আহমদ শাকিরের পর্যালোচনা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি লেখেন-

‘রাফয়ে ইয়াদাইন’ বিষয়ে (একশ্রেনীর মানুষ) জয়ীফ হাদীসকে সহীহ ও সহীহ হাদীসকে জয়ীফ সাব্যস্ত করার প্রয়াস পেয়ে থাকে। তাদের অধিকাংশই নীতি ও ইনসাফ বিসর্জন দিয়ে থাকে।’



দ্বিতীয় দলীল : রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে হাদীসের বারণ



হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ ... আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”



এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন। আর হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ীই যেহেতু রফইয়ে ঈয়াদিন স্থিরতা-পরিপন্থী তাই আমাদের কর্তব্য হল, নবী স.-এর নিদেশমতো স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়া।



তৃতীয় দলীল : হযরত উমর রা.- এর আমল



আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

‘আমি হযরত ওমর রা.-কে দেখেছি, তিনি শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, পরে করতেন না।’ (তাহাবী: ১/১৬৪)



আল্লামা যায়লায়ী রহ. এই হাদীসকে ‘সহীহ’ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ‘ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। আলজাওহারুন নাকী গ্রন্থে বলা হয়েছে ‘এই হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের সনদের মতো শক্তিশালী।’



ইমাম তাহাবী রহ. বলেন, ‘হযরত ওমর রা. এর আমল এবং এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর কোনরূপ বিরোধিতা না থাকায় প্রমাণ করে যে, সেই সঠিক পদ্ধতি এবং এ পদ্ধতির বিরোধিতা করা কারও জন্য উচিত নয়।’

(তাহাবী : ১/১৬৪)



চতুর্থ দলীল : হযরত আলী (রা) এর আমল



“হযরত আলী (রা) নামাযে প্রথম তাকবীরে হাত উঠাতেন এরপর আর হাত উঠাতেন না।” (সুনানে বায়হাকী : ২/৮০)



আল্লামা যায়লায়ী রহ. বর্ণনাটিকে ‘সহীহ’ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ‘ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। সহীহ বুখারীর অপর ভাষ্যকার আল্লামা আইনী রহ. বলেন, “এ সনদটি সহীহ মুসলিমের সনদের সমমানের।’

(নাসবুর রায়াহ : ১/৪০৬, উমদাতুল কারী :৫/২৭৪, দিরায়াহ : ১/১১৩)



পঞ্চম দলীল : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর আমল



মুজাহিদ রহ. বলেন-

‘আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পিছনে নামায পড়েছি। তিনি প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না।’

(তাহাবী : ১/১৬৩, ইবনে আবী শাইবা : ২/৪১৮ হাদীছ নং ২৪৬৭ [শায়খ আওয়ামা দা.বা. তাহক্বীকৃত নুসখা)



আল্লামা তুরকুমানী রহ. বলেছেন, ‘এ বর্ণনার সনদ সহীহ’

(আল-জাওহারুন নাকী)



ষষ্ঠ দলীল : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর আমল



আসওয়াদ রহ. বলেছেন-

‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, এরপর আর করতেন না।’

(জামউল মাসানীদ)



সপ্তম দলীল : খুলাফায়ে রাশেদীন ও রাফয়ে ইয়াদাইন



প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা নামাভী রহ. খুলাফায়ে রাশেদীনের কর্মধারা বিষয়ক বর্ণনাগুলো পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্তে পৌছেছেন যে-

‘খুলাফায়ে রাশেদীন শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন। অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন বলে প্রমান পাওয়া যায় না।’

(আছারুস সুনান)



খুলাফায়ে রাশেদীন হলেন আম্বিয়ায়ে কেরাম আ.-এর পর মানবজাতির মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী। তাঁরা ছিলেন রাসূলুল্লাহর সত্যিকারের অনুসারী। রাসূলুল্লাহ স. তাদের সুন্নাহকেও নিদের সুন্নাহর মতো অনুসরণীয় ঘোষনা করেছেন। কেননা, তাদের সুন্নাহ ছিল নবীর সুন্নাহ থেকেই গৃহীত। তাই তারা যখন নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোন স্থানে হাত উঠাতেন না তখন একথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, তাদের কাছেও নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোন স্থানে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম। আর এটি নবী স.-এর সুন্নাহ।



অষ্টম দলীল : সাহাবায়ে কেরামের কর্মধারা



ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন-

‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর (রাফয়ে ইয়াদাইন না করা সংক্রান্ত) হাদীস ‘হাসান’ পর্যায়ে উত্তীর্ণ এবং অনেক আহলে ইলম সাহাবা-তাবেয়ীন এই মত পোষন করতেন। ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহ. ও কুফাবাসী ফকীহগণ এই ফতোয়া দিয়েছেন।

(জামে তিরমিযী : ১/৩৫)



আল্লামা ইবনে আবদুল বার রহ. রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান বর্ণনা করেছেন-

“হযরত হাসান রা. সাহাবায়ে কেরামের কর্মনীতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে যারা রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন তারা রাফয়ে ইয়াদাইন পরিত্যাগকারীদের উপর আপত্তি করতেন না’।

এ থেকে বোঝা যায়, রাফয়ে ইয়াদাইন জরুরি কিছু নয়।”

(আত-তামহীদ : ৯/২২৬)



এ উদ্বৃতি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই একাধিক কর্মধারা ছিল। কেউ নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কিছু স্থানেও রাফয়ে ইয়াদাইন করা উত্তম মনে করতেন। কেউ তা মনে করতেন না। তবে এ বিষয়ে তাদের অভিন্ন কর্মনীতি এই ছিল যে, যারা রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন তারা অন্যদের সম্পর্কে আপত্তি করতেন না।



এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা এবং যারা রাফয়ে ইয়াদাইন করেন না তাদেরকে আপত্তি ও সমালোচনার নিশানা বানানো প্রকারান্তরে সাহাবীদেরই নিন্দা ও সমালোচনা করা।



বলাবাহুল্য, এ শ্রেণীর মানুষ সাহাবায়ে কেরামের নীতি ও পথ থেকে বিচ্যুত।



নবম দলীল : মদীনাবাসী ও রাফয়ে ইয়াদাইন



উস্তাযুল মুহাদ্দিসীন ইমাম মালিক রহ. জন্মগ্রহন করেন ৯৩ হিজরীতে। ইলমের অন্যতম কেন্দ্রভূমি মদীনা মুনাওয়ারায় তাঁর জীবন কেটেছে। সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং হাদীস শরীফের বিশাল ভান্ডার তার সামনে ছিল। তিনি শরীয়তের বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে মদীনাবাসীর কর্মকে বুনিয়াদী বিষয় বলে মনে করতেন।



তাঁর প্রসিদ্ধ সাগরিত আল্লামা ইবনুল কাসিম রহ. রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গে তাঁর যে সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছেন তা এই-

“ইমাম মালিক রহ. বলেছেন, “নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য তাকবীরের সময়, নামায়ে ঝুঁকার সময় কিংবা সোজা হওয়ার সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করার নিয়ম আমার জানা নাই।”



ইবনুল কাসিম রহ. আরো বলেন,

“ইমাম মলিক নামাযের প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে রাফয়ে ইয়াদাইন করার পদ্ধতিকে (দলীলের বিবেচনায়) দুর্বল মনে করতেন।”

(আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা)



দশম দলীল : ইবরাহীম নাখায়ী রহ.-এর ফতোয়া



ইবরাহীম নাখায়ী রহ. বলেন-

“নামাযের শুরু রাফয়ে ইয়াদাইন করার পর অন্য কোথায় রাফয়ে ইয়াদাইন করো না”

(জামিউস মাসানীদ : ১/৩৫৩)



সারকথা :



উপরোক্ত দালীলিক আলোচনা থেকে যে বিষয়গুলো প্রমাণিত হচ্ছে তা নিন্মরূপ:



১. নবী স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা সম্বলিত হাদীস থেকে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম।



২. রাসূলুল্লাহ স. স্ববাস-প্রবাসের সার্বক্ষণিক সহচর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত সহীহ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী স. নামাযের শুরুতে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, এরপর আর করতেন না।



৩. হযরত জাবির রা.-এর হাদীস থেকে জানা যায়, স্বয়ং নবী স. নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন করতে নিষেধ করেছিলেন।



৪. দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা. এবং চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রা. সম্পর্কে বিশুদ্ধ বর্ণনায় রয়েছে যে, তাদের কাছেও রাফয়ে ইয়াদাইন না করাই অধিক শুদ্ধ ও অগ্রগণ্য। আর এ সম্পর্কে অন্যান্য সাহাবীদের দ্বিমত বর্ণিত না হওয়া থেকে প্রমান হয় যে, অধিকাংশ সাহাবী এ নিয়ম অনুসরণ করতেন।



৫. খুলাফায়ে রাশেদীন নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোথাও রাফয়ে ইয়াদাইন করেছেন এমন প্রমান নেই।



৬. নবী স.-এর পুণ্যযুগের অব্যবহিত পরেই ছিল খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ। তাদের রাফয়ে ইয়াদাইন না করা প্রমান করে যে, তাদের মতেও নামাযে রাফফে ইয়াদাইন না করাই ছিল হুজুর স.-এর সর্বশেষ আমল।



৭. নামাযের ভিতরে রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের যুগেও একাধিক নিয়ম ছিল। তবে দলীল-প্রমানের আলোকে তাদের নিয়মই অগ্রগণ্য যারা রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম মনে করতেন।



৮. সহীহ সনদে এসেছে যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। তিনি রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গ ও তার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত ছিলেন।



অতএব রাফয়ে ইয়াদাইন করণীয় প্রমানের জন্য আবদুল্লাহ ইবনে উপর রা. ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের সূত্র বর্ণিত রেওয়ায়েত উপস্থাপন করা উচিত নয়।



আল্লাহ সুবানুহুতা’য়ালা আমার কুরআন ও হাদীস মোতাবেক সহী আমল করার

এবং যারা বিভ্রান্তমূলক কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তাদের বিভ্রান্তির হাতে থেকে তাদের এবং আমাদের বাঁচার তৌফিক দান করুন। আমীন।







সহায়ক গ্রন্থ :

নবীজির নামায

ড. শাইখ মুহাম্মদ ইলিয়াস ফয়সাল

মদীনা মুনাওয়ারাহ

মন্তব্য ৩৮ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৩৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৫৯

rasel246 বলেছেন: বুখারি শরিফের হাদিস নং – ৭০০,৭০১,৭০২,৭০

মুসলিম শরিফের হাদিস নং- ৭৫৮,৭৫৯,৭৬১,৭৬২,৭৬৪,৭৬৫,৭৬৬,৭৬৭,৭৬৮,৭৬৯

নাসাই শরিফের হাদিস নং – ৮৮০,৮৮১,৮৮৩,৮৮৪

আবু দাউদ শরিফের হাদিস নং – ৭২৬,৭৪৪,৭৪৮,১০৬০

উপরোক্ত হাদিস গ্রন্থগুলতে রাফউল ইয়াদাইন এর কথা বলা আছে।
ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী , ইমাম আহমদ ও জমুহুর উলামাদের মতে রুকু যাওয়ার সময় ও রুকু থেকে উঠার কাধ পর্যন্ত উভয় হাত উঠানো মুস্তাহাব।ইমাম হানিফা ও ইমাম মালিক এর প্রশিদ্ধ মত অনুযায়ী কেবল তাকবিরে তাহ্রিমার সময় কাধ পর্যন্ত হাত উটবে, অন্য কথাও নয়। এ বেপারে ইজমা রয়েছে।ইমাম আবু দাউদ এর মতে রাফউল ইয়াদাইন করা ওয়াজিব । শাহ ওয়ালিউল্ললাহ দেহলবির মতে রাফউল ইয়াদাইন করা আর না করা উভয় দিকেই সাহাবা ও পরবর্তী যুগের লকদের মত ও আমল রয়েছে। এতএব একটি সুন্নত নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বাড়াবাড়ি করে হারামে নিমজ্জিত হওা শরিয়ত এর পরিপন্থি (হুজ্জতুল্লাহিল বালিগা )

আপনার হাদিস রেফারেঞ্চ এবং আমার হাদিস রেফারেঞ্চ নিয়ে বুঝা যায়, কেও যদি পালন করে তা হলে নিশেদ করা উছিত নয়, আর কেও যদি পালন না করে তাকেও পালনে বাধ্য করা উচিত নয়।

কিন্তু এই কথা বলা থিক নয় যে “নবী স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা সম্বলিত হাদীস থেকে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম।“

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৩৯

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি বলেছেন,
কিন্তু এই কথা বলা থিক নয় যে “নবী স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা সম্বলিত হাদীস থেকে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম।“

কুরআন ও হাদীসের আলোকে কথা বললে ভাল লাগত।

আপনি সম্ভবত আমার পুরো লেখা পড়েননি।

হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ ... আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন। আর হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ীই যেহেতু রফইয়ে ঈয়াদিন স্থিরতা-পরিপন্থী তাই আমাদের কর্তব্য হল, নবী স.-এর নিদেশমতো স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়া।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৪১

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি কিছু হাদীস উল্লেখ করেছেন..
বুখারি শরিফের হাদিস নং – ৭০০,৭০১,৭০২,৭০

মুসলিম শরিফের হাদিস নং- ৭৫৮,৭৫৯,৭৬১,৭৬২,৭৬৪,৭৬৫,৭৬৬,৭৬৭,৭৬৮,৭৬৯

নাসাই শরিফের হাদিস নং – ৮৮০,৮৮১,৮৮৩,৮৮৪

আবু দাউদ শরিফের হাদিস নং – ৭২৬,৭৪৪,৭৪৮,১০৬০

এর জবাব হল..............

আশা করি এই পয়েন্টগুলো পড়ে থাকবেন.........

৪. দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা. এবং চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রা. সম্পর্কে বিশুদ্ধ বর্ণনায় রয়েছে যে, তাদের কাছেও রাফয়ে ইয়াদাইন না করাই অধিক শুদ্ধ ও অগ্রগণ্য। আর এ সম্পর্কে অন্যান্য সাহাবীদের দ্বিমত বর্ণিত না হওয়া থেকে প্রমান হয় যে, অধিকাংশ সাহাবী এ নিয়ম অনুসরণ করতেন।

৫. খুলাফায়ে রাশেদীন নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোথাও রাফয়ে ইয়াদাইন করেছেন এমন প্রমান নেই।

৬. নবী স.-এর পুণ্যযুগের অব্যবহিত পরেই ছিল খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ। তাদের রাফয়ে ইয়াদাইন না করা প্রমান করে যে, তাদের মতেও নামাযে রাফফে ইয়াদাইন না করাই ছিল হুজুর স.-এর সর্বশেষ আমল।

৭. নামাযের ভিতরে রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের যুগেও একাধিক নিয়ম ছিল। তবে দলীল-প্রমানের আলোকে তাদের নিয়মই অগ্রগণ্য যারা রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম মনে করতেন।

৮. সহীহ সনদে এসেছে যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। তিনি রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গ ও তার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত ছিলেন।

অতএব রাফয়ে ইয়াদাইন করণীয় প্রমানের জন্য আবদুল্লাহ ইবনে উপর রা. ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের সূত্র বর্ণিত রেওয়ায়েত উপস্থাপন করা উচিত নয়।

২| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৩

ইশাতের দুনিয়া বলেছেন: আপনার ইমেইল এড্রেস টা দিবেন? আমি এ ব্যাপারে আপনার সাথে আলোচনা করতে ইচ্ছুক।

[email protected]
facebook.com/eshat769

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৩৫

আবদুস সবুর খান বলেছেন: http://www.facebook.com/AskSumon

৩| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৪৭

মাতব্বর বলেছেন: @লেখক, ঘোড়ার লেজ নড়ানো কখনো দেখেছেন, আমার মনে হচ্ছে আপনি কোন ওয়াজ শুনে পোস্ট দিয়ে দিয়েছেন।

ঘোড়ার লেজ সম্পর্কিত হাদিসের পটভুমিটা যদি একটু দেখতেন তাহলে অন্তত এই হাদিসটা দিয়ে আপনার খোড়া যুক্তিতে একটু ট্যাস দেবার চেষ্টা করতেন না

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:১২

আবদুস সবুর খান বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

কুরআন ও হাদীসের আলোকে কথা বললে ভাল লাগত।

৪| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৩০

মাতব্বর বলেছেন: ঘোড়ার লেজ সম্পর্কিত হাদিসের পটভুমিটা আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি।

প্রথম কমেন্টে যথেষ্ট রেফারেন্স দেওয়া আছে।

বাই দা ওয়ে "আপনি কি হানাফী মাঝহাব ফলো করেন?"

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৮:৪০

আবদুস সবুর খান বলেছেন: মাতব্বর ভাই,
আমি কথা পেচানোর জন্য ব্লগে লিখিনা। আপনার যদি উপরোক্ত পোষ্ট সম্পর্কে কিছু বলার থাকে বলা তবে সরাসরি বলুন।

মাতব্বর ভাই, আপনি বলেছেন,
প্রথম কমেন্টে যথেষ্ট রেফারেন্স দেওয়া আছে।

আপনি বোধহয়ে হয় খেয়াল করেননি প্রথম কমেন্টটির জবাবও দেয়া আছে।

মাতব্বর ভাই, আপনি বলেছেন,
বাই দা ওয়ে "আপনি কি হানাফী মাঝহাব ফলো করেন?"

জ্বি, আমি হানাফী মাঝহাব ফলো করি।


৫| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ২:২৯

rasel246 বলেছেন: # হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ ... আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

এই হাদিসটি আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)” আমি খুজে পাইনি। আপনি যে হাদিস এর নাম্বার দিয়েছেন তাতে অন্য হাদিস পাচ্ছি। আমি ইসলামি ফাউনডেশন প্রকাশনীর আবু দাউদ ও নাসাই শরীফ(প্রকাশকাল- মে ২০০২, ISBN-984-06-0659-0) দেখেছি।প্রকাশকাল- ২০০২।আপনার পোস্টেও আপনি বলেছেন “ (প্রমান: সহীহ নাসায়ী শরীফ, হাদিস নং ১০৬১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ, প্রকাশকাল- মে, ২০০২)।

বুখারি- ৬৯৯,৭০০,৭০১,৭০২,৭০৩।ইঃফাঃপ্রঃ, ২য় খণ্ড।(৫টি হাদিস রাফউল ইয়াদাইন এর কথা বলা আছে)

মুসলিম- ৭৫৮,৭৫৯,৭৬১,৭৬২,৭৬৪,৭৬৫,৭৬৬,৭৬৭,৭৬৮,৭৬৯।
ইঃফাঃপ্রঃ, ২য় খণ্ড । (১০টি হাদিস রাফউল ইয়াদাইন এর কথা বলা আছে)

আবু দাউদ –৭২১,৭২২,৭২৩,৭২৪,৭২৬,৭৩৩,৭৩৯,৭৪১,৭৪২,৭৪৩,৭৪৪,৭৪৫ ।(১২টি হাদিস রাফউল ইয়াদাইন এর কথা বলা আছে)

-৭৪৮,৭৪৯,৭৫০,৭৫১,৭৫২। (৫ টি হাদিস রাফউল ইয়াদাইন এর কথা বলা নাই, কিন্তু ইমাম আবু দাউদ ৭৪৮ নং হাদিস বলেছেন হাদিসটি সঠিক নয় এবং ৭৫১ নং হাদিসে সন্দিহান প্রকাশ করেছেন। তাহলে মোট ৩টি হাদিস রাফউল ইয়াদাইন এর কথা বলা নাই ) । ইঃফাঃপ্রঃ, ১ম খণ্ড।

নাসাই – ৭৭৯,৮৮০,৮৮১,৮৮৩,৮৮৪,৮৯২,১০২৭,১০২৮,১০৫৮,১০৫৯,১০৬০,১০৬২।(১২টি হাদিস রাফউল ইয়াদাইন এর কথা বলা আছে)

-১০২৯,১০৬১।(২ টি হাদিস রাফউল ইয়াদাইন এর কথা বলা নাই) । ৭৬৯। ইঃফাঃপ্রঃ, ২য় খণ্ড ।

সেই কারনে আমি বলেছিলাম আপনাকে যে আপনার হাদিস রেফারেঞ্চ এবং আমার হাদিস রেফারেঞ্চ নিয়ে বুঝা যায়, কেও যদি পালন করে তা হলে নিশেদ করা উছিত নয়, আর কেও যদি পালন না করে তাকেও পালনে বাধ্য করা উচিত নয়।

কারন রাফউল ইয়াদাইন নাময এর কোন ফরয ও ওয়াজিব এর মধ্যে পড়ে না বরং সুন্নত । তাই কেও পালন করলেও সুন্নত আদায় হবে, না করলেও সুন্নত আদায় হবে, যেহেতু আমরা হাদিসে ২ রকম কথাই পাচ্ছি।

আল্লাহ সবচে ভাল জানেন।

আপনি বলেছেন- “কুরআন ও হাদীসের আলোকে কথা বললে ভাল লাগত”।

আপনি বলুন আমি যেই বই এর রেফারেঞ্চ দিয়েছি তা কি হাদিস এর বই হিসেবে গণ্য করেন না আপনি ? অথচ আপনিও এই বই এর রেফারেঞ্চ দিলেন। আর কোরআনে নামায কি ভাবে পড়তে হবে তা বলা নাই, শুদু নামায কায়েম ও নামায পড়ার হুকুম দেওয়া আছে। তাই কোরান এর রেফারেঞ্চ দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত। আর চার ইমামেরও বক্তব্য দিয়েছি - “ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী , ইমাম আহমদ ও জমুহুর উলামাদের মতে রুকু যাওয়ার সময় ও রুকু থেকে উঠার কাধ পর্যন্ত উভয় হাত উঠানো মুস্তাহাব।ইমাম হানিফা ও ইমাম মালিক এর প্রশিদ্ধ মত অনুযায়ী কেবল তাকবিরে তাহ্রিমার সময় কাধ পর্যন্ত হাত উটবে, অন্য কথাও নয়। এ বেপারে ইজমা রয়েছে।ইমাম আবু দাউদ এর মতে রাফউল ইয়াদাইন করা ওয়াজিব । শাহ ওয়ালিউল্ললাহ দেহলবির মতে রাফউল ইয়াদাইন করা আর না করা উভয় দিকেই সাহাবা ও পরবর্তী যুগের লোকদের মত ও আমল রয়েছে। এতএব একটি সুন্নত নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বাড়াবাড়ি করে হারামে নিমজ্জিত হওয়া শরিয়ত এর পরিপন্থি (হুজ্জতুল্লাহিল বালিগা )”।

এখন আপনি কোন কুরআন ও হাদীসের আলোকে কথা বলতে বলেছেন আমার তা জানা নাই?

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:০৩

আবদুস সবুর খান বলেছেন: rasel246 ভাই, আপনি বলেছেন,
উক্ত হাদীসগ্রন্থের কিতাবুস সালাত অধ্যায় দেখুন।




rasel246 ভাই, আপনি বলেছেন,
সেই কারনে আমি বলেছিলাম আপনাকে যে আপনার হাদিস রেফারেঞ্চ এবং আমার হাদিস রেফারেঞ্চ নিয়ে বুঝা যায়, কেও যদি পালন করে তা হলে নিশেদ করা উছিত নয়, আর কেও যদি পালন না করে তাকেও পালনে বাধ্য করা উচিত নয়।

আপনি বোধহয় আমার পোষ্টের প্রথমদিকের কথা পড়েননি।

আমি বলেছিলাম,
আজকাল কিছু ভাই রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে এমন কিছু কথা ছড়াচ্ছে যা সাধারন মুসলমানদের বিভ্রান্তিতে ফেলছে। কিন্তু তারা (সাধারন মুসলমান) কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন না এবং স্বভাবতই তারা অনেকেই বিভ্রান্তির স্বীকার হচ্ছেন। তাই উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু বলা নিজের ঈমানী দায়িত্ব মনে করছি।

তবে যে কেহ নিজের মত হাদীস দেখে দেখে আমল করবে আমি তার পক্ষে নই।

কিন্তু এই কথা বলা থিক নয় যে “নবী স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা সম্বলিত হাদীস থেকে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম।“

rasel246 ভাই, আপনি বলেছেন,
কারন রাফউল ইয়াদাইন নাময এর কোন ফরয ও ওয়াজিব এর মধ্যে পড়ে না বরং সুন্নত । তাই কেও পালন করলেও সুন্নত আদায় হবে, না করলেও সুন্নত আদায় হবে, যেহেতু আমরা হাদিসে ২ রকম কথাই পাচ্ছি।

জনাব আমার প্রথম কথার সাথে একমত।

তবে যে কেহ নিজের মত হাদীস দেখে দেখে আমল করবে আমি তার পক্ষে নই।

হ্যা কেহ যদি কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করে তবে অবশ্যই তিনি ইজতিহাদ করে মনমত যে কোন একটির উপর আমল করতে পারবেন।

কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান কি?

মুজতাহিদগণের ইজতিহাদের জন্য শর্ত কি?

১. কোরআনের কোন আয়াত কখন নাজিল হয়, কোন আয়াত নাছেখ (রহিতকারী), কোন আয়াত মানছুখ (রহিত), কোন আয়াত মুজমাল (সংক্ষিপ্ত), কোন আয়াত মুতাশাবেহ ইত্যাদি বিষয়গুলো সবিস্তারে জানার সাথে সাথে কোরআনের নিগুঢ় তথ্যগুলোর সঠিক মর্মগুলি বুঝার পূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে।

২. হুজুর স. কর্তৃক ত্রিশ পারা কোরআনের ব্যাখ্যায় রেখে যাওয়া দশ লক্ষ হাদীস সনদের ভিন্নতাসহ জানা আবশ্যক। আর হাদীসের এ বিশাল ভান্ডার থেকে কমপক্ষে যেসব হাদীস দ্বারা শরীয়তের বিধি-বিধান সাব্যস্ত হয়, সেসব হাদীস সনদ (বর্ণনাকরী), মতন (মূল বিষয়) এবং উক্ত হাদীস সমূহের বর্ণনাকারীদের জীবন ইতিহাস (সাহাবা ও তাবেয়ীনদের জীবনাচার)সহ কন্ঠস্থ থাকতে হবে। তারই সাথে হাদীসের নিগুড় তথ্যগুলি, সঠিক মর্মগুলি বুঝার পূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে। যাতে করে মতবিরোধ বিশিষ্ট মাসআলাসমূহে কোরআন, হাদীস, সাহাবা ও তাবেয়ীনদের নির্দেশিত সীমা অতিক্রম না করা হয়।

৩. মুজতাদি আরবী ভাষা সম্পর্কে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হতে হবে। কেননা কোরআন ও হাদীস উভয়টি আরবী। তাই আরবী ভাষা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা ছাড়া ইজতিহাদ তো দূরের কথা শুধু কোরআন-হাদীসের অর্থ বুঝাও সম্ভবপর নয়। আরবী ভাষায় দক্ষতা অর্জনের জন্য আরবী আভিধানিক অর্থ ও পারিভাষিক অর্থ, নাহু-ছরফ, উসূল, আলাগাতের পূর্ণ দক্ষতা অপরিহার্য।

৪. মুজতাহিদ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বুদ্ধিমত্তা ও অন্তদৃর্ষ্টি দ্বারা বিশেষভাবে ভূষিত হয়ে অত্যাধিক স্মরণশক্তি ও জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে। মুজতাহিদের জন্য কেবল সাধারণ বুদ্ধিমত্তাই যথেষ্ট নয়। সাধারণ বুদ্ধিমত্তাতো সকল আলেমেরই থাকে। এতে মুজতাদিরে বিশেষ গুরুত্ব আর রইল কোথায়? মুজতাদি তাক্ব ওয়া ও খোদাভীতি সম্পন্ন হতে হবে। তাকে কখনও মনপূজারী হওয়া চলবে না।

৫. ইজতিহাদ ও মাসআলা চয়নের প্রক্রিয়া সমূহের উপর পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখতে হবে।

সূত্র :- তাফসীরে আহমদী, পৃষ্ঠা- ১০১

নতুবা যতক্ষন কেহ কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না তাকে যে কোন একটি মাঝহাব ফলো করতে হবে।

এটা আমার কথা নয়।

হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ. ইমাম বাগাবী রহ. সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইজতিহাদের জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে। যার মধ্যে এ পাঁচটি হতে একটিও কম পাওয়া যাবে, তার জন্য তাক্বলীদ ছাড়া কোন পথ নেই।
- কাঞ্জুল উসূল ইলা মা’রিফাতিল উসূল- ২৭০, উসূলে ফিক্বাহ লি আবি হুরায়রা- ২৩৬, আল মালাল ওয়ান নাহাল- ১/২০০ মিশরী ছাপা।

হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর পর শুধুমাত্র হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী উক্ত চার মাযহাবেই (কুরআন ও হাদীসের বিশ্লেষন) তাক্বলীদ (অনুসরন) সীমাবদ্ধ হয়েছে। কেননা, চার মাযহাব ছাড়া অন্যান্য মুজতাহিদদের মাযহাব তেমন সংরক্ষিত হয়নি। ফলে আস্তে আস্তে সেসব মাযহাব বিলুপ্ত হয়ে পড়ে।
- আহসানুল ফতোয়া ১/৪৪১, তাফসীরে আহমদী- ২৯৭, আল ইনসাফ- ৫২।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:১৮

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি বলেছিলেন,
কিন্তু এই কথা বলা থিক নয় যে “নবী স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা সম্বলিত হাদীস থেকে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম।“

প্রথম কথা হল, আমার মন্তব্যে ছিল ’-কোনটি করা উত্তম এবং কোনটি করা অনুত্তম- সেই কথা নিয়ে।
বলা হয়নি যে, ফরয বা ওয়াজিব নিয়ে নয়।

আপনার উপরোক্ত মন্তব্যের,
এই কথা বলা থিক নয়- এই কথার ব্যাপারে আমি বলেছিলাম যে,

কুরআন ও হাদীসের আলোকে কথা বললে ভাল লাগত।


কারন আমি পোষ্টে বললাম,

৪. দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা. এবং চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রা. সম্পর্কে বিশুদ্ধ বর্ণনায় রয়েছে যে, তাদের কাছেও রাফয়ে ইয়াদাইন না করাই অধিক শুদ্ধ ও অগ্রগণ্য। আর এ সম্পর্কে অন্যান্য সাহাবীদের দ্বিমত বর্ণিত না হওয়া থেকে প্রমান হয় যে, অধিকাংশ সাহাবী এ নিয়ম অনুসরণ করতেন।

৫. খুলাফায়ে রাশেদীন নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোথাও রাফয়ে ইয়াদাইন করেছেন এমন প্রমান নেই।

৬. নবী স.-এর পুণ্যযুগের অব্যবহিত পরেই ছিল খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ। তাদের রাফয়ে ইয়াদাইন না করা প্রমান করে যে, তাদের মতেও নামাযে রাফফে ইয়াদাইন না করাই ছিল হুজুর স.-এর সর্বশেষ আমল।

৭. নামাযের ভিতরে রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের যুগেও একাধিক নিয়ম ছিল। তবে দলীল-প্রমানের আলোকে তাদের নিয়মই অগ্রগণ্য যারা রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম মনে করতেন।

৮. সহীহ সনদে এসেছে যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। তিনি রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গ ও তার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত ছিলেন।

অতএব রাফয়ে ইয়াদাইন করণীয় প্রমানের জন্য আবদুল্লাহ ইবনে উপর রা. ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের সূত্র বর্ণিত রেওয়ায়েত উপস্থাপন করা উচিত নয়।



আর আপনি বলছেন,
-’”“এই কথা বলা থিক নয় যে’-

আপনার কথা দ্বারা এটা প্রমান হয় না যে, সাহাবীরা কোনটি উত্তম সেটি জানতেন না।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:২৬

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি বলেছেন,
এই হাদিসটি আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)” আমি খুজে পাইনি।

জনাব এগুলো আবু দাউদ শরীফের এবং নাসায়ী শরীফের মূল কিতাবের রেফারেন্স।

যদি সম্ভব হয় কোন অনুবাদ না পড়ে মূল কিতাব অধ্যয়ন করুন।
তাহলে আরো নতুন কিছু জানতে পারবেন
এবং জানতে পারবেন বর্তমানে অনুবাদগুলোতে কি পরিমান শব্দ নড়াচড়া করা হয়েছে।

আপনি বলেছেন,
কিন্তু ইমাম আবু দাউদ ৭৪৮ নং হাদিস বলেছেন হাদিসটি সঠিক নয় এবং ৭৫১ নং হাদিসে সন্দিহান প্রকাশ করেছেন।

এখানে আবু দাউদ রহ. সন্দেহ প্রকাশ করেছেন
এবং সাহাবীরা আমল করেছেন

আপনার কাছে কোনটি গ্রহনযোগ্য ?

এবং আপনাকে আর একটি লিঙ্ক দিচ্ছি। জানতে পারবেন কিভাবে কুরআন ও হাদীসের নামে মানুষকে ধোকা দেয়া হচ্ছে।
পড়ে দেখতে পারেন- ক্লিক করুন

৬| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৩০

rasel246 বলেছেন: আপনাকে আমি যেই হাদিস হাদিসের সনদ দিয়েছি তা কি সাহাবীদের থেকে বর্ণনা হয়নি?

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৩৪

আবদুস সবুর খান বলেছেন: ভাই কথা বুঝতে না পারলে বলুন আপনার কথা বুঝতে পারছি না।

আমি কি বলেছি আপনার হাদীসগুলো সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়নি।

আমি কখনই বলিনি রফে-ইয়াদাইন সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা হয়নি।

আমি পোষ্টের প্রথমে কি বলেছি পড়ে দেখেছেন........

আজকাল কিছু ভাই রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে এমন কিছু কথা ছড়াচ্ছে যা সাধারন মুসলমানদের বিভ্রান্তিতে ফেলছে।



এখানে কথা হচ্ছে রফে-ইয়াদাইন করা উত্তম না অনুত্তম।

এবং আমি হাদীস দ্বারা প্রমান করার চেষ্টা করেছি যে, রফে-ইয়াদাইন না করা উত্তম। কারন ইসলামের প্রথম যুগে রাফে-ইয়াদাইন করা হত।
কিন্তু পরবর্তীতে রফে-ইয়াদাইন করতে হুজুর স. নিষেধ করেছেন।



হুজুর পাক সারা জীবন রফে ইয়াদাইন করেছেন। একদম শেষে এসে রাফে ইয়াদাইন করতে নিষেধ করেছেন। যাহা সারা জীবন পালন করেছেন তাহার হাদিস ত বেশী হবেই। এতে আশ্চার্য হওয়ার কি আচে। আর আপনারা ত জানেন : হাদিস হা বাচক ও না বাচক একত্রিত হলে, না বাচক প্রধান্য আবার হাদিস কথা এবং কাজ একত্রিত হলে, কথার হাদিস প্রধান্য। আবার শেষ জীবনের হাদিস প্রথম জীবনের হাদীস কে রহিত করে দেয়। এবার হাদিস খানা দেখেন।

হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ ... আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

হাদিস প্রধান্য হওয়ার তিনটি ধারা উল্লেখ করিছি,
দেখেন এই হাদিসে তিনটি আছে।
১। এ হাদিস না বাছক।
২। এ হাদিস কওলি।
৩। এ হাদিস শেষ জীন্দিগিতে বর্ননা করেন।

তাই এই হাদিস প্রধান্য। আমরা বলিনি রফে ইয়াদাইনের পক্ষের হাদিস ভুল বা জাল। বারং আমরা বলেছি সর্বশেষ আদেশ হলো রফে ইয়াদাইন না করা।

মনে করেন। জায়েদ একটা প্রতিষ্ঠান চালায়, ওখানে ইংলিশ শিক্ষকের বেতন ৭০০০ টাকা। সারা জীবন উনি ৭০০০ টাকা বেতনে কাজ করে আসচেন। জায়েদ মারা যাওয়ার পূর্বে উনার বেতন ১০০০০ করলেন। পরে যিনি প্রতিষ্ঠান চালানোর দায়িত্ব নিলেন তিনি যদি বলেন ইংলিশ শিক্ষক কে জায়েদ সারা জীবন ৭০০০ টাকা বেতন দিয়েছে পরে ১০০০০ করেছে। এখন ৭০০০ এর বর্ণনা বেশি।

এখন কি আপনি তাকে ৭০০০ বেতন দেবেন না কি ১০০০০ বেতন দিবেন ??????

৭| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ২:৩৪

rasel246 বলেছেন: আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি বরং আপনিই আমার বুঝতে পারছেনা বা বুঝতে চাইছেন না।
যেহেতু আপনি বলেছেন –“ এখানে কথা হচ্ছে রফে-ইয়াদাইন করা উত্তম না অনুত্তম “ এবং আপনি প্রমান করতে চেয়েছেন না করাই উত্তম।
আর আমি বলেছি রাফউল ইয়াদাইন করা আর না করা উভয় দিকেই সাহাবা ও পরবর্তী যুগের লোকদের মত ও আমল রয়েছে।সে কারনে আমি বলেছে করলেও সমস্যা নাই , না করলেও সমস্যা নাই। তাই যারা পালন করে তাদেরও বাড়াবাড়ি করা উছিত নয়, যারা পালন করে না তাদেরও বাড়াবাড়ি করা উছিত নয়।
এতএব একটি সুন্নত নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বাড়াবাড়ি করে হারামে নিমজ্জিত হওয়া শরিয়ত এর পরিপন্থি। আপনারা যারা রফে-ইয়াদাইন করা উত্তম না অনুত্তম নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন তাদের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে মুসলিম সমাজ আজ দিশেহারা।আপনারা মানুষকে নামাজী হতে উৎসাহিত করুন, তাতেই মুসলিম সমাজের কল্যাণ নিহত।
আপনি লিখেছেন-
হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ ... আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

###এই হাদিস আপনার উল্লেখখিত প্রমান অনুসারে নাই।আপনি ইসলামী ফাউনডেশন কথা বলেছেন ,আমি সেইখানেই দেখেছি।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৫১

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি কি এখানে তেনা পেচানোর জন্য এসেছেন ???

আপনার সকল প্রশ্নের জবাব উপরে দেয়া হয়েছে......

এবং আপনাকে কিছু প্রশ্ন করা হয়েছে...............

আপনাকে দেয়া কোন কোন প্রশ্নের জবাব পাননি সেগুলো বলুন

এবং আপনি বলেছেন,
এই হাদিস আপনার উল্লেখখিত প্রমান অনুসারে নাই।

আপনি প্রত্যেকটি গ্রন্থের মূল কিতাব অর্থাত আরবি কিতাব দেখুন
এবং যদি দেখতে পারেন তবে -সলাত- অধ্যায় দেখুন।

এবং আপনাকে করা প্রশ্নগুলোর জবাব দিন।

আপনি বলেছেন,
আপনি ইসলামী ফাউনডেশন কথা বলেছেন ,আমি সেইখানেই দেখেছি

ইসলামীক ফাউন্ডেশনে-এর অনুবাদে নেই !!!!

তাহলে এগুলো কি ????

Click This Link


২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৫৫

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনার ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ২:২৯ -তে করা মন্তব্যের জবাবে আমি কিছু হাদীসের অনুবাদ স্ক্যান করে দিয়েছিলাম।
দেখেছিলেন সেগুলো ???

৮| ০৩ রা মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:৪৮

rasel246 বলেছেন: তেনা আপনি প্যাঁচাচ্ছেন, আমি না। রেফারেঞ্চ দেন ইসলামিক ফাঃ , আর না পেলে বলেন আরবি বই দেখতে। আজিব............
আপনি যে হাদীসের অনুবাদ স্ক্যান করে দিয়েছিলেন তা দেখেছি এবং তা আবু দাউদ শরিফ থেকে নেওয়া সেটা আমি জানি ।
লেখক বলেছেন-
পঞ্চম দলীল : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর আমল

মুজাহিদ রহ. বলেন-
‘আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পিছনে নামায পড়েছি। তিনি প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না।’
(তাহাবী : ১/১৬৩, ইবনে আবী শাইবা : ২/৪১৮ হাদীছ নং ২৪৬৭ [শায়খ আওয়ামা দা.বা. তাহক্বীকৃত নুসখা)

আল্লামা তুরকুমানী রহ. বলেছেন, ‘এ বর্ণনার সনদ সহীহ’
(আল-জাওহারুন নাকী)


অথচ নাসাই শরিফ-এর ১০৬০ নং হাদিস বলছে তার বিপরীত ।

লেখক আরও বলেছেন-

তাহলে এগুলো কি ????

Click This Link
আপনার লিঙ্ক কাজ করে না তাই লিঙ্কে কি তার উত্তর দিতে পারলাম না
যথেষ্ট হয়েছে এইবার থামেন............
যে বেক্তি বোঝে তাকে বোঝান যাই......।। আপনাকে না।।

০৪ ঠা মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:০৭

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি আগে বললেন,
আপনি ইসলামী ফাউনডেশন কথা বলেছেন ,আমি সেইখানেই দেখেছি।

এখন বলছেন,
আপনি যে হাদীসের অনুবাদ স্ক্যান করে দিয়েছিলেন তা দেখেছি এবং তা আবু দাউদ শরিফ থেকে নেওয়া সেটা আমি জানি ।

বুঝতে পারছি না ভাই কি বুঝাতে চাচ্ছেন..........


আপনি বলেছেন,
নাসাই শরিফ-এর ১০৬০ নং হাদিস বলছে তার বিপরীত

হাদীসের এই রকম বিপরীতমুখি অনেক আমলের কথা আছে
এবং এই জন্যই মুজতাহিদের প্রয়োজন কোন বেশি উত্তম তা জানার জন্য......


Click This Link= আমি উপরে স্ক্যান করা হাদীসগুলোই দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু কেন যেন মিসিং করল।

উপরে এক কথা হবার পর আপনাকে বলাই যায়,

যে বেক্তি বোঝাতে হয় বুঝতে চায় তাকেই বোঝান যায়......।।
কিন্তু কেহ যদি মনে করে আমি ১০০% ঠিক তবে তাকে কে বুঝতে পারবে ???

৯| ০৪ ঠা মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:১৩

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আরো যদি বিস্তারিত জানতে চান তবে বইগুলো দেখতে পারেন............


নবীজির নামায
ড শাইখ মুহাম্মদ ইলিয়াস ফয়সাল
মদীনা মুনাওয়ারাহ
পরিবেশক:
মাকতাবাতুল আশরাফ
ইসলামী টাওয়ার, ১১ বাংলাবাজার, ঢাকা- ১১০০।
প্রকাশক:
মুমতায লাইব্রেরী
ইসলামী টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা
১১ বাংলাবাজার, ঢাকা- ১১০০
ফোন- ৭১৬৪৫২৭, ০১৭১১-১৪১৭৬৪

আরেকটি বই :
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল
মাওলানা আব্দুল মতিন
প্রকাশক : মাকতাবাতুল আযহাব (৯৮৮১৫৩২, ০১৯২৪০৭৬৩৬৫)

আরেকটি বই:
তোহফায়ে আহলে হাদীস
শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ।
সহজীকরন ও বিন্যাস :
শাইখুল হাদীস মুফতী সাঈদ আহমাদ পালনপুরী
মাওলানা আমীন পালনপুরী

আরেকটি বই :
হাদীস ও সান্নাহয় নামাযের পদ্ধতি
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক
প্রকাশক
মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান খান
আল আবরার ট্রাষ্ট
৫০ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০
ফোন : ৭১৬৪৫২৭, ০১৭১১১৪১৭৬৪]

প্রাপ্তিস্থান
মাকতাবাতুল আশরাফ
ইসলামী টাওয়ার (দোকান নং : ৫)
১১ বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০

১০| ১০ ই মার্চ, ২০১২ রাত ২:২২

rasel246 বলেছেন: আপনি পোস্টের হেডিং দিয়েছেন (আজকাল কিছু ভাই রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে এমন কিছু কথা ছড়াচ্ছে যা সাধারন মুসলমানদের বিভ্রান্তিতে ফেলছে। কিন্তু তারা (সাধারন মুসলমান) কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন না এবং স্বভাবতই তারা অনেকেই বিভ্রান্তির স্বীকার হচ্ছেন। তাই উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু বলা নিজের ঈমানী দায়িত্ব মনে করছি।

এবং পরিশেষে আরও বলেছেন “নবী স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা সম্বলিত হাদীস থেকে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম।“)

আর আমি বলেছি রাফউল ইয়াদাইন করা আর না করা উভয় দিকেই সাহাবা ও পরবর্তী যুগের লোকদের মত ও আমল রয়েছে।সে কারনে আমি বলেছে করলেও সমস্যা নাই , না করলেও সমস্যা নাই। তাই যারা পালন করে তাদেরও বাড়াবাড়ি করা উছিত নয়, যারা পালন করে না তাদেরও বাড়াবাড়ি করা উছিত নয়।

** এখন আমার এই কথায় আপনি কোথায় সমস্যা পেলেন?

লেখক আপনার তৃতীয় দলীল সম্পর্কে ঃ

ইমাম ত্বাহাবী ও তার শারহু মাআনিল আছার সম্পর্কে দুটি কথা:-

হাদীছের ইমামগনের কেউই প্রচলিত কোন মাযহাবের অনুসারী ছিলেন না বরং তারা নিরপেক্ষ ভাবে কুরআন সুন্নাহর অনুসরণ করতেন এবং তার ভিত্তিতেই ফায়সালা দিতেন । মূলত, তারা ছিলেন প্রকৃত মুজতাহিদ ।

কিন্তু ইমাম তাহাবী(২৩৯-৩২১) ছিলেন উক্ত নীতির ব্যতিক্রম । তিনি হানাফী মাযহাবের একজন পরিচিত ফক্বীহ ও সমর্থক ছিলেন । শাফেঈ মাযহাবে জন্ম নিলেও তিনি তার মামার উপর রাগান্বিত হয়ে হানাফী মাযহাব গ্রহন করেন (১) । ফলে তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ শারহু মাআনিল আছারে তার মাযহাবী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে । এটি তার হাদীছ বা আছার সমূহের সংকলন গ্রন্থ হলেও মূলত তা ব্যাখ্যা গ্রন্থ ।

কারন তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে মাসআলা সাব্যস্ত করেছেন এবং যে কোন ভাবে নিজের মাযহাবকে প্রতিষ্ঠিত করার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়েছেন । এ জন্য তিনি এমন কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা অন্য কোন হাদীছের কিতাবে পাওয়া যায়না, কোন মুহদ্দিছ তা গ্রহন করেননি, বর্ণনাও করেননি । সেই সাথে অধিকাংশ মাসালায় তিনি কিয়াসের আশ্রয় নিয়েছেন এবং ভিত্তিহীনভাবে যত্রতত্র ইজমার দাবী তুলেছেন । এ কারনে হানাফী মাযহাবের মূলকিতাব বলে জনশ্রুতি থাকলেও মুসাদ্দিছগণের নিকট তা সমাদৃত হয়নি এবং নির্ভরযোগ্য বলেও বিবেচিত হয়নি ।

ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (৬৬১-৭২৬হিঃ) এর বক্তব্য থেকেই তা পরিস্কার বুঝা যায়...

"মুহাদ্দিছগনের সনদ বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতার ন্যায় ইমাম তাহাবীর মধ্যে হাদীছের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের অভ্যাস ছিলনা । আর সেকারনে তিনি তার 'শারহু মাআনিল আছারে'র মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের হাদীছ বর্ণনা করেছেন । মূলত তিনি তাতে সে সমস্ত হাদীছকে প্রাধান্য দিয়েছেন যেগুলো কিয়াসের সংস্পর্শে প্রাধান্য যোগ্য যাকে তিনি দলিল মনে করেছেন । অথচ সেগুলোর অধিকাংশই সনদগত ত্রুটি বিচ্যুতিতে ক্ষত-বিক্ষত । এ জন্য তার দারা দলিল সাব্যস্ত করা যায়না, পেশ করাও যায়না । মূলত, মুহাদ্দিছগণের সূক্ষ জ্ঞানের ন্যায় তার সনদগত জ্ঞান ছিলনা । যদিও তিনি অনেক হাদীছ বর্ণনাকারী ফক্বীহ আলেম ছিলেন ।

[১)আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/১৮৬
মিনহাজুস সুন্নাহ ৮/১৯৫
মিরাতুল মাফাতীহ ৫/৫১]

১০ ই মার্চ, ২০১২ বিকাল ৩:৫৯

আবদুস সবুর খান বলেছেন: ফলে তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ শারহু মাআনিল আছারে তার মাযহাবী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

যদি আপনার কথাটি বিশ্লেষন করি তবে,
ফলে তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ শারহু মাআনিল আছারে তার মাযহাবী (কুরআন ও হাদীসের বিশ্লেষনের) মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

তো সমস্যা কোথায় হয়েছে ???

এগুলো কি আপনার চোখে পড়েনি নাকি দেখেও দেখেননি......

আল্লামা যায়লায়ী রহ. এই হাদীসকে ‘সহীহ’ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ‘ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। আলজাওহারুন নাকী গ্রন্থে বলা হয়েছে ‘এই হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের সনদের মতো শক্তিশালী।’

১০ ই মার্চ, ২০১২ বিকাল ৪:০৮

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি বলেছেন,
আর আমি বলেছি রাফউল ইয়াদাইন করা আর না করা উভয় দিকেই সাহাবা ও পরবর্তী যুগের লোকদের মত ও আমল রয়েছে।সে কারনে আমি বলেছে করলেও সমস্যা নাই , না করলেও সমস্যা নাই। তাই যারা পালন করে তাদেরও বাড়াবাড়ি করা উছিত নয়, যারা পালন করে না তাদেরও বাড়াবাড়ি করা উছিত নয়।

তার জবাব বলছি,

কুরআনে কারীম ৭টি কিরাতে নাজীল হয়েছে। কিন্তু একটি কিরাতে প্রচলন করেছেন হযরত উসমান রাঃ। যেটা ছিল আবু আসেম কুফী রহঃ এর কিরাত। এর কারণ ছিল বিশৃংখলা রোধ করা। যেন দ্বীনকে কেউ ছেলেখেলা বানিয়ে না ফেলে। আর সবার জন্য এটা সহজলভ্য হয়।

তেমনি একটি মাযহাবকে আবশ্যক বলা হয় এই জন্য যে, একাধিক মাযহাব অনুসরণের অনুমোদন থাকলে সবাই নিজের রিপু পূজারী হয়ে যেত। যেই বিধান যখন ইচ্ছে পালন করত, যেই বিধান যখন ইচেছ ছেড়ে দিত। এর মাধ্যমে মূলত দ্বীন পালন হতনা, বরং নিজের প্রবৃত্তির পূজা হত। তাই ৪র্থ শতাব্দীর উলামায়ে কিরাম একটি মাযহাবের অনুসরণকে বাধ্যতামূলক বলে এই প্রবৃত্তি পূজার পথকে বন্ধ করে দিয়েছেন। যা সেই কালের ওলামায়ে কিরামের সর্বসম্মত সীদ্ধান্ত ছিল। আর একবার উম্মতের মাঝে ইজমা হয়ে গেলে তা পরবর্তীদের মানা আবশ্যক হয়ে যায়। ইমাম ইবনে তাইমিয়াও লাগামহীনভাবে যে মাযহাব মনে চায় সেটাকে মানা সুষ্পষ্ট হারাম ও অবৈধ ঘোষণা করেন। {ফাতওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া-২/২৪১}



মাযহাবের ব্যাপারে মুহাদ্দিসুল শিরোমনি,পাক-ভারতীয় উপমহাদেশের হযরত শাহ ওলীউল্লাহ দেহলভী (র) বলেনঃ
“আর তার মধ্যে অনেক উপকারিতা বিদ্যমান(অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট মাযহাব মেনে চলার মধ্যে ) যা সুস্পষ্ট ।বিশেষত বর্তমান যুগে ,যখন শক্তি-সামর্থ ( নিজে সরাসরি কুরআন-হাদিস বুঝে অনুসরণ করার ) হ্রাস পেয়ে গেছে।আর প্রত্যেক মতামত সম্পন্ন ব্যক্তি স্বীয় মতামতকেই বড় মনে করে চলেছে।“(হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহঃ ১ম খন্ড-মিশরী ;১৩২ পৃষ্টা)

“মাযাহাব চতুষ্টয়কে গ্রহণ করার মধ্যে অতি আবশ্যই বিরাট ফায়দা রয়েছে ।“(ইক্বদুলজীদঃ৩৬)

তিনি আর বলেন ঃ
“হারামাইন শরীফাইনে অবস্থান কালে প্রিয় নবীজির (সাঃ) কাছ থেকে আমি (ইলহাম বা স্বপ্নের মাধ্যমে) তিনটি জিনিস অর্জন করেছি ; যা আমার ধ্যান-ধারণা বিপরীত ছিল।তম্মেধ্যে দ্বিতীয়টি ছিল এই যে ,” যাতে আমি মুসলমানদের ওসীয়্যত করে যাই ;মাযহাব-চতুষ্টয়ের যে কোন একটিতে যেন তারা অন্তরভূক্ত হয় এবং আমি ও তা থেকে যেন বের না হই।“(ফুয়ূযুল-হারামাইন ঃ ৬৫ পৃষ্টা)




১১| ২৯ শে মার্চ, ২০১২ বিকাল ৪:৩৪

অতলঅর্ণব বলেছেন: উপরের ব্লগ তথা আলোচনা পড়ার পর যা বুঝলাম তা হল,
১) লেখক নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বার বার একই কথা রিপিট করেছেন যা ছিল অপ্রয়োজনীয়।

২) রাসেল সাহেব কোন ঝগড়ায় না গিয়ে অন্য পক্ষের যুক্তিও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু লেখক কোন অজানা কারণে রাসেল সাহেবের বক্তব্যে বার বার (ভুল নয় )খুত বের করার চেষ্টা করেছেন এবং শেষপর্যন্ত ব্যাক্তিগত আক্রমণে গিয়েছেন।

৩) পাখির দানা ঠোকরানোর কায়দায় সেজদা না করার মানে এই নয় যে সেজদা করবনা বরং ধীরে ধীরে সেজদা করব। তেমনি ঘোড়ার লেজের মত রাফা ইয়াদাইন না করার মানে ধীরে ধীরে রাফা ইয়াদাইন করা।

৪) কট্টর মাজহাবপন্থী ভাইয়েরা তাদের মাজহাবের সাথে মিল নেই এমন জিনিষ, তা যতই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হোকনা কেন, দেখলে বড়ই ক্ষীপ্ত হন।

৩১ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:১১

আবদুস সবুর খান বলেছেন: অতলঅর্ণব

আপনার কথাগুলোর জবাব হল...

১) উত্তর : কুরআন ও হাদীস নতুন করে আমার পক্ষে লিখা সম্ভব নয় বলে সেই কথাগুলো বার বার রিপিট করতে হচ্ছে বলে আমি দু:খিত।

তবে এই দু:খে আমার কোন আফসোস নেই।

২) রাসেল ভাই অন্য কোন পক্ষ নয় নিজের পক্ষে কথা বলেছেন এবং আমি তার জবাব দেয়ার চেষ্ট করেছি।

৩) হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ ... আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

পাখির দানা ঠোকরানোর কায়দায় সেজদা না করার মানে এই নয় যে সেজদা করবনা বরং ধীরে ধীরে সেজদা করব।

তেমনি ঘোড়ার লেজের মত রাফা ইয়াদাইন না করার মানে ধীরে ধীরে রাফা ইয়াদাইন করা।

কিভাবে কি মিলালেন বুঝলাম না !!!

আপনি কিয়াস করলেন কিন্তু এই হাদীসটি মানলেন না কেন ???

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ বলেন আমি কি তোমাদের কে হুজুর সাঃ এর নামাজ সম্পর্কে অবগতি দেব না? এ কথা বলে তিনি নামাজ পড়ে দেখালেন এবং নামাজে তাকবীরে তাহরীমার সময় একবার রাফয়ে ইয়াদাইন করলেন। নামাজে আর কোথাও তিনি রফঈ ইয়াদিন করলেন না। (প্রমান: তিরমিযী ১;৩৫, সহীহ নাসায়ী শরীফ, হাদিস নং ১০৬১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ, প্রকাশকাল- মে, ২০০২)

আপনার কাছে কোনটি বড় ???

আপনার কিয়াস নাকি হাদীস ???

৪) আপনি বলেছেন,
কট্টর মাজহাবপন্থী ভাইয়েরা তাদের মাজহাবের সাথে মিল নেই এমন জিনিষ, তা যতই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হোকনা কেন, দেখলে বড়ই ক্ষীপ্ত হন।

উপরে রাসেল ভাইয়ের সাথে আমার এই পোষ্টের ব্যাপারে বিস্তারিত কথা হয়েছে এবং পোষ্টটি কুরআন ও হাদীসের আলোকে দেয়া হয়েছে

আমার ব্যাক্তিগত মতের উপরে নয়।

এবং আমাকে বলতেই হচ্ছে...

কট্টর আহলে হাদীসপন্থী ভাইয়েরা তাদের কথার সাথে মিল নেই এমন জিনিষ, তা যতই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হোকনা কেন, দেখলে বড়ই ক্ষীপ্ত হন।


নবী মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
“আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।” [বুখারী(৩১১৬)


১২| ১৫ ই মে, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪৭

সত্য সবার উপর বলেছেন: দ্বিতীয় দলীল : রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে হাদীসের বারণ

হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ ... আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন। আর হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ীই যেহেতু রফইয়ে ঈয়াদিন স্থিরতা-পরিপন্থী তাই আমাদের কর্তব্য হল, নবী স.-এর নিদেশমতো স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়া।
-------

Tell me where rasul

১৬ ই মে, ২০১২ সকাল ১১:৪৫

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনার কাছেই প্রশ্ন করছি ...

এই হাদীসে 'হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ ' কার কথা বলছেন যিনি "তাদের নিকট আসলেন" ?

১৩| ১৫ ই মে, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪৮

সত্য সবার উপর বলেছেন: দ্বিতীয় দলীল : রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে হাদীসের বারণ

হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ ... আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন। আর হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ীই যেহেতু রফইয়ে ঈয়াদিন স্থিরতা-পরিপন্থী তাই আমাদের কর্তব্য হল, নবী স.-এর নিদেশমতো স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়া।
-------

Tell me where rasul (s) said not to do rafeul

১৬ ই মে, ২০১২ সকাল ১১:৪৮

আবদুস সবুর খান বলেছেন: হাদীসটি কোন বিষয় সম্পর্কে ???

এবং এখানে কি নিষেধ করা হয়েছে ???

১৪| ১৫ ই মে, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫১

সত্য সবার উপর বলেছেন: দ্বিতীয় দলীল : রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে হাদীসের বারণ

হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ ... আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন। আর হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ীই যেহেতু রফইয়ে ঈয়াদিন স্থিরতা-পরিপন্থী তাই আমাদের কর্তব্য হল, নবী স.-এর নিদেশমতো স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়া।
-------

Tell me where Rasul (s) said not to do rafeul yadin, rather he said not to be hurry on it. So you are misguiding the people about this.

You are not presenting the truth to the people and you people change the meaning by yourself.

১৬ ই মে, ২০১২ সকাল ১১:৫১

আবদুস সবুর খান বলেছেন: হাদীসটি কোন বিষয় সম্পর্কে করা হয়েছে ???

আপনার মত নয় মুহাদ্দিসিনদের মত বলুন।

.......................................................................................................

আপনি বলেছেন,
You are not presenting the truth to the people and you people change the meaning by yourself.

এখনও উত্তর নেননি তার আগেই মন্তব্য করে দিলেন।

আপনি যে প্রশ্নগুলো করলেন হাদীসিট সম্পর্কে এই সকল প্রশ্ন পূর্বে কোন কোন মুহাদ্দিস বা মুজতাহিদ করেছেন রেফারেন্সসহ জানান।

১৬ ই মে, ২০১২ সকাল ১১:৫৩

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আর একটি প্রশ্ন....

শুধু হাদীসটি উল্লেখ করলেন কেন ???

আমি হাদীসটি উল্লেখ করার পর মুহাদ্দিসিনদের যে কওলগুলো দিয়েছি তা উল্লেখ করলেন না কেন ???

১৫| ০১ লা জুলাই, ২০১২ রাত ৩:১৭

rasel246 বলেছেন: লেখক বলেছেন-


ফলে তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ শারহু মাআনিল আছারে তার মাযহাবী (কুরআন ও হাদীসের বিশ্লেষনের) মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

তো সমস্যা কোথায় হয়েছে ???

**** এই কথার নিচের অংশ পরলে বুঝতে পারবেন সমস্যা কোথায় হয়েছে।

লেখক বলেছেন-

কুরআনে কারীম ৭টি কিরাতে নাজীল হয়েছে। কিন্তু একটি কিরাতে প্রচলন করেছেন হযরত উসমান রাঃ। যেটা ছিল আবু আসেম কুফী রহঃ এর কিরাত। এর কারণ ছিল বিশৃংখলা রোধ করা। যেন দ্বীনকে কেউ ছেলেখেলা বানিয়ে না ফেলে। আর সবার জন্য এটা সহজলভ্য হয়।

*** এর সাথে রাফউল ইয়াদাইন করা আর না করার সম্পর্ক কোথায় পেলেন?

বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন কেরাতে পড়ার কারনে অর্থগত পার্থক্য ঘটায় উসমান রাঃ উপরক্ত কাজটি করেন যাতে কোরআন এর মূল অর্থ যেন পরিবর্তন না হয়।

লেখক বলেছেন-

মাযহাবের ব্যাপারে মুহাদ্দিসুল শিরোমনি,পাক-ভারতীয় উপমহাদেশের হযরত শাহ ওলীউল্লাহ দেহলভী (র) বলেনঃ
“আর তার মধ্যে অনেক উপকারিতা বিদ্যমান(অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট মাযহাব মেনে চলার মধ্যে ) যা সুস্পষ্ট ।বিশেষত বর্তমান যুগে ,যখন শক্তি-সামর্থ ( নিজে সরাসরি কুরআন-হাদিস বুঝে অনুসরণ করার ) হ্রাস পেয়ে গেছে।আর প্রত্যেক মতামত সম্পন্ন ব্যক্তি স্বীয় মতামতকেই বড় মনে করে চলেছে।“(হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহঃ ১ম খন্ড-মিশরী ;১৩২ পৃষ্টা)

*** শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) বলেন, ‘জেনে রাখ, চতুর্থ শতাব্দী হিজরীর আগের লোকেরা নির্দিষ্ট কোন একজন বিদ্বানের মাযহাবের মুক্বাল্লিদ তথা অন্ধানুসার ী ছিল না। কোন সমস্যা সৃষ্টি হ’লে লোকেরা যেকোন আলেমের নিকট থেকে ফৎওয়া জেনে নিত। এ ব্যাপারে কারো মাযহাব যাচাই করা হ’ত না’।(শাহ অলিউল্লাহ, হুজ্জাতুল্ লাহিল বালেগাহ ১/ ১৫২-৫৩‘চতুর ্থ শতাব্দী ও তার পরের লোকদের অবস্থা বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ।)

*** তাই রেফেরেঞ্চে দেওয়ার আগে সঠিক কথাটি জেনে নেবেন। অন্ধের মত কাট-কপি কইরেন না।

লেখক বলেছেন-

তেমনি একটি মাযহাবকে আবশ্যক বলা হয় এই জন্য যে, একাধিক মাযহাব অনুসরণের অনুমোদন থাকলে সবাই নিজের রিপু পূজারী হয়ে যেত। যেই বিধান যখন ইচ্ছে পালন করত, যেই বিধান যখন ইচেছ ছেড়ে দিত। এর মাধ্যমে মূলত দ্বীন পালন হতনা, বরং নিজের প্রবৃত্তির পূজা হত। তাই ৪র্থ শতাব্দীর উলামায়ে কিরাম একটি মাযহাবের অনুসরণকে বাধ্যতামূলক বলে এই প্রবৃত্তি পূজার পথকে বন্ধ করে দিয়েছেন। যা সেই কালের ওলামায়ে কিরামের সর্বসম্মত সীদ্ধান্ত ছিল। আর একবার উম্মতের মাঝে ইজমা হয়ে গেলে তা পরবর্তীদের মানা আবশ্যক হয়ে যায়।

*** এখন প্রশ্ন হছে – যেহেতু মানা আবশ্যক তাহলে এটা ফরজ । এখন এই মাযহাব মানা আবশ্যক বা ফরজ কে করল?

#(যেহেতু ফরজ কারী একমাত্র আল্লাহ, অথবা তাঁর রাসুল সাঃ যার কাছে অহী হয়েছে। অথবা কোরআনে আসেনি কিন্তু অহী(অহী গায়ের মাথলু) হয়েছে তখন হাদিস এ বলেছেন সে কথা। এছাড়া কার কোন কিছু ফরজ , ওয়াজিব অথবা সুন্নত করারও এখতিয়ার নাই। )

যেহেতু আপনি বলেছেন ইজমা হয়ে গেছে তাহলে নিশ্চয় আলেমদের একটা বোর্ড মিটিং হয়, এখন এই বোর্ড মিটিংটি কোন দেশে, কোন শহরে হয়েছিল এবং কোন সালে হয়েছিল?

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:২৪

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি বললেন,
আপনি বলেছেন ইজমা হয়ে গেছে তাহলে নিশ্চয় আলেমদের একটা বোর্ড মিটিং হয়, এখন এই বোর্ড মিটিংটি কোন দেশে, কোন শহরে হয়েছিল এবং কোন সালে হয়েছিল?

জনাব আপনি আবার ভুল করছেন। আমি বলিনি, উনারা বলেছেন ...
এখন আপনি যদি ওনাদের মিথ্যুক, দ্বীন ইসলাম বিভক্তকারী হিসাবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পান তবে আমার আর কি করার থাকতে পারে ...


.........................................................................................

ইমাম নববী (রহঃ) (মৃঃ ৬৭৬ হিঃ) ‘রাওযাতুত তালেবীন’ নামক গ্রন্থে লিখেনঃ

“উলামাগণ বলেন, ইজতিহাদে মুতলাক ইমাম চতুষ্টয় পর্যন্ত খতম হয়ে গেছে। তাই তাঁরা ইমাম চতুষ্টয়ের কোন একজনের ‘তাক্বলীদ’ মুসলিম উম্মাহর জন্য ওয়াজিব সাব্যস্ত করে দিয়েছেন। ইমামুল হারামাইন জুয়াইনী (মক্কা-মদীনা শরীফের ইমাম সাহেব – রহঃ, মৃঃ ৪৭৮ হিঃ) মায্হাব চতুষ্টয়ের তাক্বলীদ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ‘ইজ্মা’ উল্লেখ করেছেন। ”
( নুরুল হিদায়া হতে সংকলিত, পৃ – ১০; দেখুনঃ ফয়যুল কাদীরঃ পৃ – ১/২১০; শরহুল মুহায্যাব, নববীঃ পৃ – ১/৯১, আদাবুল মুস্তাফতী অধ্যায় )
..................................................................
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) (মৃঃ ৭২৮ হিঃ) লিখেছেনঃ

“ মুসলিম উম্মাহর ‘ইজ্মা’ উপেক্ষা করে মায্হাব চতুষ্টয়ের বিপরীতে কোন মায্হাব রচনা বা গ্রহণ বৈধ হবে না। ”

( ফাত্ওয়া-ইবনে তাইমিয়্যাঃ পৃ – ২/৪৪৬ )
............................................................................
আল্লামা ইমাম ইবনে হাজার মক্কী (রহঃ) (মৃঃ ৯৭৩ হিঃ) তাঁর স্বীয় প্রসিদ্ধ কিতাব ‘ফাত্হুল মুবীন’ এ লিখেনঃ

“ আমাদের যুগের বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবু হানীফা, শাফেয়ী, মালেক ও আহমদ বিন হাম্বল – এ চার ইমাম ব্যতীত অন্য কারও তাক্বলীদ (অনুসরণ) জায়িয নয়। ”

( ফাত্হুল মুবীনঃ পৃ – ১৯৬ )
........................................................................................

মুহাম্মদ ইব্নে আব্দুল ওহ্হাব নজদী (রহঃ) এর মায্হাবঃ
লা-মায্হাবীরা দাবী করে থাকে যে, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহহাব নজদীও লা-মায্হাবী ছিলেন। কিন্তু তিনি একজন হাম্বলী মায্হাবের অনুসারী ছিলেন এবং তিনি নিজেই স্বীয় মায্হাব সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন।

-দেখুনঃ আল-হাদিয়াতুস্ সুন্নাহঃ পৃ – ৯৯

সাথে সাথে চার মায্হাবের যে কোন একটির ত্বাকলীদ করা যাবে এবং এই চার মায্হাব ছাড়া অন্য কোন মায্হাবের অনুসরণ করা যাবে না বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

-তারীখু নাজদ-আলূসীঃ পৃ – ৫৪-৫৬; ছিয়ানাতুল্ ইনসানঃ পৃ – ৪৭১১
.......................................................................

শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী (রহঃ) (মৃঃ ১১৭৬ হিঃ), লা-মায্হাবীদের কাছেও যিনি গ্রহণযোগ্য, তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগায় লিখেনঃ

“ সু-বিন্যস্ত গ্রন্থবদ্ধ এ চার মায্হাবের উপর সকল ইমামগণের ‘ইজ্মা’ তথা ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ”

(হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাঃ পৃ – ১/১২৩ )
...................................................................................................................................................................................

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:২৯

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি বললেন,
মাযহাবের ব্যাপারে মুহাদ্দিসুল শিরোমনি,পাক-ভারতীয় উপমহাদেশের হযরত শাহ ওলীউল্লাহ দেহলভী (র) বলেনঃ
“আর তার মধ্যে অনেক উপকারিতা বিদ্যমান(অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট মাযহাব মেনে চলার মধ্যে ) যা সুস্পষ্ট ।বিশেষত বর্তমান যুগে ,যখন শক্তি-সামর্থ ( নিজে সরাসরি কুরআন-হাদিস বুঝে অনুসরণ করার ) হ্রাস পেয়ে গেছে।আর প্রত্যেক মতামত সম্পন্ন ব্যক্তি স্বীয় মতামতকেই বড় মনে করে চলেছে।“(হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহঃ ১ম খন্ড-মিশরী ;১৩২ পৃষ্টা)

*** শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) বলেন, ‘জেনে রাখ, চতুর্থ শতাব্দী হিজরীর আগের লোকেরা নির্দিষ্ট কোন একজন বিদ্বানের মাযহাবের মুক্বাল্লিদ তথা অন্ধানুসার ী ছিল না। কোন সমস্যা সৃষ্টি হ’লে লোকেরা যেকোন আলেমের নিকট থেকে ফৎওয়া জেনে নিত। এ ব্যাপারে কারো মাযহাব যাচাই করা হ’ত না’।(শাহ অলিউল্লাহ, হুজ্জাতুল্ লাহিল বালেগাহ ১/ ১৫২-৫৩‘চতুর ্থ শতাব্দী ও তার পরের লোকদের অবস্থা বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ।)

*** তাই রেফেরেঞ্চে দেওয়ার আগে সঠিক কথাটি জেনে নেবেন। অন্ধের মত কাট-কপি কইরেন না।

=>>> ভাই রেফারেন্স যাচাই করার যদি যোগ্যতা অর্জন না করে থাকেন তবে দয়া করে যিনি রেফারেন্স যাচাই করার যোগ্যতা অর্জন করেন দয়া করে তাকে দিয়ে যাচাই-বাছাই করাবেন।

আপনার কথা এবং আমার কথা একত্রিত করুন ...

(আপনার দেয়া রেফারেন্স)
কোন সমস্যা সৃষ্টি হ’লে লোকেরা যেকোন আলেমের নিকট থেকে ফৎওয়া জেনে নিত। এ ব্যাপারে কারো মাযহাব যাচাই করা হ’ত না’

(আমার দেয়া রেফারেন্স)
বর্তমান যুগে ,যখন শক্তি-সামর্থ ( নিজে সরাসরি কুরআন-হাদিস বুঝে অনুসরণ করার ) হ্রাস পেয়ে গেছে।আর প্রত্যেক মতামত সম্পন্ন ব্যক্তি স্বীয় মতামতকেই বড় মনে করে চলেছে।

এবার দুটি কথাকে এক করুন...
কোন সমস্যা সৃষ্টি হ’লে লোকেরা যেকোন আলেমের নিকট থেকে ফৎওয়া জেনে নিত। এ ব্যাপারে কারো মাযহাব যাচাই করা হ’ত না’। বর্তমান যুগে ,যখন শক্তি-সামর্থ ( নিজে সরাসরি কুরআন-হাদিস বুঝে অনুসরণ করার ) হ্রাস পেয়ে গেছে।আর প্রত্যেক মতামত সম্পন্ন ব্যক্তি স্বীয় মতামতকেই বড় মনে করে চলেছে।

আপনি এই কথার মধ্যে কোথায় সমস্যা পেয়েছেন তা আল্লাহই ভাল বলতে পারবেন !!! আর যদি বিরোধীতা করতেই হবে এই মন-মানসিকতা নিয়ে শুধু টাইপ করতে থাকেন তবে সেখানে আমি আর আপনাকে কি বুঝাব ?

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৩০

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি বলেছেন,
*** এখন প্রশ্ন হছে – যেহেতু মানা আবশ্যক তাহলে এটা ফরজ । এখন এই মাযহাব মানা আবশ্যক বা ফরজ কে করল?

আমি কোথায় বলেছি ?!?!?!?! শুধু শুধু অন্যের নামে অপবাদ দেয়ার আগে একটুতো আল্লাহকে ভয় করুন।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১১

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনি বলেছেন,
ফলে তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ শারহু মাআনিল আছারে তার মাযহাবী (কুরআন ও হাদীসের বিশ্লেষনের) মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

তো সমস্যা কোথায় হয়েছে ???

=>>> ভাই মন্তব্য পুরো না পড়ে আবার কপি-পেষ্ট করছেন কেন ???

এগুলো কি আপনার চোখে পড়েনি নাকি দেখেও দেখেননি......

আল্লামা যায়লায়ী রহ. এই হাদীসকে ‘সহীহ’ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ‘ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। আলজাওহারুন নাকী গ্রন্থে বলা হয়েছে ‘এই হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের সনদের মতো শক্তিশালী।’

১৬| ২৩ শে মার্চ, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১৯

অভ্র শাহরিয়ার বলেছেন: যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে ইমাম বুখারি (রহঃ) বলেনঃ

এই ঘটনা ছিল তাশাহুদের অবস্থায়, কিয়ামের অবস্থায় ছিল না। তাঁরা (সাহাবাগন) সালাতে সালামের সময় তাঁদের হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন এবং হস্ত দ্বারা তাঁরা তাঁদের দুইদিকে ইশারা করতেন এবং এ সালাম দ্বারা যারা তাঁদের দুইপাশে রয়েছেন তাঁদের উদ্দেশ্য করতেন। এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসগনের মধ্যে কোন মতভেদ নেই এবং যাদের কিঞ্চিত হাদিসের জ্ঞান রয়েছে তাদেরও মতভেদ নেই।
[জুজ রাফা ইয়াদিনঃ ৫৭]


যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সকল মুহাদ্দিসগণই সালাম ও তাশাহুদ পরিচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তার মধ্যে ইমাম মুসলিম (রহঃ) অন্যতম।

ইমাম নাসাঈ তার গ্রন্থে ৩য় খণ্ড ৪র্থ পাতায় এ হাদিস উল্লেখ করেছেন "সালাতে হস্তদ্বয় দ্বারা সালাম" পরিচ্ছেদের মধ্যে এবং ৩য় খণ্ডের ৬১ পাতায় "সালামের সময় দুই হাত রাখার স্থান" পরিচ্ছেদের মধ্যে।

এমনিভাবে, ইমাম ইবনু হিব্বান, ইমাম বায়হাকি ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও পরিচ্ছেদ বেধেছেন।

ইমাম নববি (রহঃ) শরহে-মুসলিমের ৩য় খণ্ডের ৪০৩ পাতায় বলেনঃ যাবের বিন সামুরার (রাঃ) হাদিস দ্বারা তারা অতি আশ্চর্য বস্তুর মত দলিল গ্রহন করে এবং সুন্নত দ্বারা অধিক নিন্দনীয় অজ্ঞতাপূর্ণ দলিল গ্রহন করে। কেননা, রুকুর সময় ও রুকু হতে মাথা উঠানোর সময় হস্তদ্বয় উত্তোলনের ব্যাপারে হাদিসটি বর্ণিত হয়নি।

আর তারপরও যদি আপনাদের কথা অনুযায়ী ধরে নেই যে- রাফা ইয়াদিন করার ফলে সালাতের স্থিরতা ও সৌন্দর্য নষ্ট হয় তাহলে জানাজার সালাত আর দুই ঈদের সালাত থেকেও কেন রাফা ইয়াদিন বাদ দিচ্ছেন না? আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুন... আমীন।

১৭| ২৩ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৮:৩২

অভ্র শাহরিয়ার বলেছেন: যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে ইমাম বুখারি (রহঃ) বলেনঃ এ ঘটনা ছিল তাশাহুদের অবস্থায় কিয়ামের অবস্থায় ছিল না। তাঁরা (সাহাবাগন) সালাতে সালামের অবস্থায় তাঁদের হস্তসমুহ উত্তোলন করতেন এবং হস্ত দ্বারা তাঁরা তাঁদের দুইদিকে ইশারা করতেন এবং এ সালাম দ্বারা যারা তাঁদের দু'পাশে রয়েছেন তাঁদের উদ্দেশ্য করতেন। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহুদে হাত উত্তোলন করতে নিষেদ করলেন। এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে কোন মতভেদ নেই এবং যাদের কিঞ্চিৎ হাদিসের জ্ঞান রয়েছে তাদেরও নেই।
(জুজ রাফা ইয়াদিনঃ ৫৭)

যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সকল মুহাদ্দিসগণই সালাম ও তাশাহুদের পরিচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁদের কেউই রাফুল ইয়াদিন রহিত হবার প্রমানে এই হাদিসটি উল্লেখ করেননি। তাঁদের মধ্যে ইমাম মুসলিম, ইমাম নববি, ইমাম নাসাঈ, ইমাম ইবনু হিব্বান, ইমাম বায়হাকি এবং ইবনু খুযায়মা (রহঃ) অন্যতম।

ইমাম নাসাঈ তার ৩য় খণ্ডের ৪র্থ পৃষ্টায় যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন "সালাতে হস্তদ্বয় দ্বারা সালাম" পরিচ্ছেদের মধ্যে এবং ৩য় খণ্ডের ৬১ পৃষ্টায় "সালামের সময় দুই হাত রাখার স্থান" পরিচ্ছেদের মধ্যে।

ইমাম নববি (রহঃ) শরহে-মুসলিমের ৩য় খণ্ডের ৪০৩ পৃষ্টায় বলেনঃ যাবের বিন সামুরা (রাঃ) এর হাদিস দ্বারা তাঁরা অতি আশ্চর্য বস্তুর মত দলিল গ্রহণ করে। কেননা, রুকুর সময় এবং রুকু হতে মাথা উঠানোর সময় হস্তদ্বয় উত্তোলনের ব্যাপারে ঐ হাদিসটি বর্ণিত হয়নি।

রাফা ইয়াদিন না করার পক্ষে যাবের বিন সামুরা (রাঃ) এর যে হাদিসটি আপনি উল্লেখ করেছেন সেটি সহিহ মুসলিমে রয়েছে এবং সেটি একটি লম্বা হাদিসের সংক্ষিপ্ত রুপ। আপনার উল্লেখিত হাদিসটি থেকে মাত্র কয়েকটি হাদিস পরেই যাবের বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আরও দুটি হাদিস রয়েছে একই বিষয়ে, সেগুলো এড়িয়ে গেলেন কেন? দেখুন সেই হাদিসটি-

যাবের বিন সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- "আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত পরেছি। আমরা যখন আমাদের হাত দ্বারা (সালাতে) সালাম করতাম তখন বলতাম- আস্নালামু আলাইকুম, আস্নালামু আলাইকুম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে দেখলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমাদের কি হল যে তোমরা হাত দ্বারা ইশারা করছ, যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজের মত? যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরাবে তখন সে যেন তার সাথীর দিকে ফিরে এবং হাত দ্বারা ইশারা না করে।"

এর পরও যদি আপনাদের কথা মত মেনে নেই যে রাফা ইয়াদিন সালাতের ধীর-স্থিরতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করে তাহলে জানাজার সালাত ও দুই ঈদের সালাত থেকে রাফা ইয়াদিন তুলে দিচ্ছেন না কেন!!!

আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুন... আমীন।

১৮| ২৩ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৮:৩২

অভ্র শাহরিয়ার বলেছেন: যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে ইমাম বুখারি (রহঃ) বলেনঃ এ ঘটনা ছিল তাশাহুদের অবস্থায় কিয়ামের অবস্থায় ছিল না। তাঁরা (সাহাবাগন) সালাতে সালামের অবস্থায় তাঁদের হস্তসমুহ উত্তোলন করতেন এবং হস্ত দ্বারা তাঁরা তাঁদের দুইদিকে ইশারা করতেন এবং এ সালাম দ্বারা যারা তাঁদের দু'পাশে রয়েছেন তাঁদের উদ্দেশ্য করতেন। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহুদে হাত উত্তোলন করতে নিষেদ করলেন। এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে কোন মতভেদ নেই এবং যাদের কিঞ্চিৎ হাদিসের জ্ঞান রয়েছে তাদেরও নেই।
(জুজ রাফা ইয়াদিনঃ ৫৭)

যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সকল মুহাদ্দিসগণই সালাম ও তাশাহুদের পরিচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁদের কেউই রাফুল ইয়াদিন রহিত হবার প্রমানে এই হাদিসটি উল্লেখ করেননি। তাঁদের মধ্যে ইমাম মুসলিম, ইমাম নববি, ইমাম নাসাঈ, ইমাম ইবনু হিব্বান, ইমাম বায়হাকি এবং ইবনু খুযায়মা (রহঃ) অন্যতম।

ইমাম নাসাঈ তার ৩য় খণ্ডের ৪র্থ পৃষ্টায় যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন "সালাতে হস্তদ্বয় দ্বারা সালাম" পরিচ্ছেদের মধ্যে এবং ৩য় খণ্ডের ৬১ পৃষ্টায় "সালামের সময় দুই হাত রাখার স্থান" পরিচ্ছেদের মধ্যে।

ইমাম নববি (রহঃ) শরহে-মুসলিমের ৩য় খণ্ডের ৪০৩ পৃষ্টায় বলেনঃ যাবের বিন সামুরা (রাঃ) এর হাদিস দ্বারা তাঁরা অতি আশ্চর্য বস্তুর মত দলিল গ্রহণ করে। কেননা, রুকুর সময় এবং রুকু হতে মাথা উঠানোর সময় হস্তদ্বয় উত্তোলনের ব্যাপারে ঐ হাদিসটি বর্ণিত হয়নি।

রাফা ইয়াদিন না করার পক্ষে যাবের বিন সামুরা (রাঃ) এর যে হাদিসটি আপনি উল্লেখ করেছেন সেটি সহিহ মুসলিমে রয়েছে এবং সেটি একটি লম্বা হাদিসের সংক্ষিপ্ত রুপ। আপনার উল্লেখিত হাদিসটি থেকে মাত্র কয়েকটি হাদিস পরেই যাবের বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আরও দুটি হাদিস রয়েছে একই বিষয়ে, সেগুলো এড়িয়ে গেলেন কেন? দেখুন সেই হাদিসটি-

যাবের বিন সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- "আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত পরেছি। আমরা যখন আমাদের হাত দ্বারা (সালাতে) সালাম করতাম তখন বলতাম- আস্নালামু আলাইকুম, আস্নালামু আলাইকুম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে দেখলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমাদের কি হল যে তোমরা হাত দ্বারা ইশারা করছ, যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজের মত? যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরাবে তখন সে যেন তার সাথীর দিকে ফিরে এবং হাত দ্বারা ইশারা না করে।"

এর পরও যদি আপনাদের কথা মত মেনে নেই যে রাফা ইয়াদিন সালাতের ধীর-স্থিরতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করে তাহলে জানাজার সালাত ও দুই ঈদের সালাত থেকে রাফা ইয়াদিন তুলে দিচ্ছেন না কেন!!!

আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুন... আমীন।

১৯| ২৩ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৮:৩৩

অভ্র শাহরিয়ার বলেছেন: পোস্ট করা যাচ্ছেনা কেন ভাই?

২০| ২৩ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৮:৩৪

অভ্র শাহরিয়ার বলেছেন: যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে ইমাম বুখারি (রহঃ) বলেনঃ এ ঘটনা ছিল তাশাহুদের অবস্থায় কিয়ামের অবস্থায় ছিল না। তাঁরা (সাহাবাগন) সালাতে সালামের অবস্থায় তাঁদের হস্তসমুহ উত্তোলন করতেন এবং হস্ত দ্বারা তাঁরা তাঁদের দুইদিকে ইশারা করতেন এবং এ সালাম দ্বারা যারা তাঁদের দু'পাশে রয়েছেন তাঁদের উদ্দেশ্য করতেন। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহুদে হাত উত্তোলন করতে নিষেদ করলেন। এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে কোন মতভেদ নেই এবং যাদের কিঞ্চিৎ হাদিসের জ্ঞান রয়েছে তাদেরও নেই।
(জুজ রাফা ইয়াদিনঃ ৫৭)

যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সকল মুহাদ্দিসগণই সালাম ও তাশাহুদের পরিচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁদের কেউই রাফুল ইয়াদিন রহিত হবার প্রমানে এই হাদিসটি উল্লেখ করেননি। তাঁদের মধ্যে ইমাম মুসলিম, ইমাম নববি, ইমাম নাসাঈ, ইমাম ইবনু হিব্বান, ইমাম বায়হাকি এবং ইবনু খুযায়মা (রহঃ) অন্যতম।

ইমাম নাসাঈ তার ৩য় খণ্ডের ৪র্থ পৃষ্টায় যাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন "সালাতে হস্তদ্বয় দ্বারা সালাম" পরিচ্ছেদের মধ্যে এবং ৩য় খণ্ডের ৬১ পৃষ্টায় "সালামের সময় দুই হাত রাখার স্থান" পরিচ্ছেদের মধ্যে।

ইমাম নববি (রহঃ) শরহে-মুসলিমের ৩য় খণ্ডের ৪০৩ পৃষ্টায় বলেনঃ যাবের বিন সামুরা (রাঃ) এর হাদিস দ্বারা তাঁরা অতি আশ্চর্য বস্তুর মত দলিল গ্রহণ করে। কেননা, রুকুর সময় এবং রুকু হতে মাথা উঠানোর সময় হস্তদ্বয় উত্তোলনের ব্যাপারে ঐ হাদিসটি বর্ণিত হয়নি।

রাফা ইয়াদিন না করার পক্ষে যাবের বিন সামুরা (রাঃ) এর যে হাদিসটি আপনি উল্লেখ করেছেন সেটি সহিহ মুসলিমে রয়েছে এবং সেটি একটি লম্বা হাদিসের সংক্ষিপ্ত রুপ। আপনার উল্লেখিত হাদিসটি থেকে মাত্র কয়েকটি হাদিস পরেই যাবের বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আরও দুটি হাদিস রয়েছে একই বিষয়ে, সেগুলো এড়িয়ে গেলেন কেন? দেখুন সেই হাদিসটি-

যাবের বিন সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- "আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত পরেছি। আমরা যখন আমাদের হাত দ্বারা (সালাতে) সালাম করতাম তখন বলতাম- আস্নালামু আলাইকুম, আস্নালামু আলাইকুম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে দেখলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমাদের কি হল যে তোমরা হাত দ্বারা ইশারা করছ, যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজের মত? যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরাবে তখন সে যেন তার সাথীর দিকে ফিরে এবং হাত দ্বারা ইশারা না করে।"

এর পরও যদি আপনাদের কথা মত মেনে নেই যে রাফা ইয়াদিন সালাতের ধীর-স্থিরতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করে তাহলে জানাজার সালাত ও দুই ঈদের সালাত থেকে রাফা ইয়াদিন তুলে দিচ্ছেন না কেন!!!

আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুন... আমীন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.