| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় চেলিয়াবিনস্কে ও কাজাখস্তানে শুক্রবার প্রচণ্ড বিস্ফোরণের পর আকাশ থেকে জলন্ত বস্তু এসে পড়েছে. জলন্ত বস্তুপিণ্ডগুলোকে উল্কা বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার জরুরী উদ্ধার ও ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তারা. ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিতে পড়ার পূর্বে উল্কার ওজন ছিল প্রায় ১০ টন, ব্যাস ছিল কয়েক মিটার ও সেকেন্ডে এর গতিবেগ ছিল ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার. হতাহত বা বড় ধরণের কোন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন.
শুরুতে আকাশে তীব্র ঝলক ও তারপরেই প্রচন্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণের মত শব্দ শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন. বিকট শব্দে অনেক বাড়িঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে. সাথে সাথ ওই এলাকায় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়. স্থানীয় অন্তত ৫০০ মানুষ চিকিত্সকের শরনাপন্ন হয়েছে.
উল্কাপিন্ডটি ছোট কিংবা বড় যাই হোক না কেন, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো বেশি হতে পারত. বলা যায় যে, আমাদের ভাগ্য ভাল ছিল, এমনটি বলেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির পদার্থ ও বিবর্তন তাঁরা বিভাগের সহকারি বিভাগীয় প্রধান দিমিত্রি ভিইবে. তিনি বলেন,
“সৌর পদ্ধতি পূর্ণ রয়েছে পদার্থে. ওই পদ্ধতিতে পৃথিবী ছাড়াও আরো অনেক ক্ষুদ্র বস্তু রয়েছে. সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব বস্তু একটির সাথে আরেকটির সংঘর্ষ বাঁধে এবং পৃথিবীর সাথেও. আর যখন এ ধরণের বস্তু পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে তখন তার গতিবেগ থাকে অনেক বেশি. সেকেন্ডে যার গতিবগ থাকে কয়েকশ কিলোমিটার. এ কারণেই যখন ভূমিতে এটি আছড়ে পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়. যদি বস্তুটির আয়তন বড় না হয় তাহলে এটি শূন্যেই মিশে যায় এবং তখন বৃষ্টির মত ঝড়ে পড়ে যা আমরা চোখ দিয়েই দেখতে পাই. বায়ুমন্ডলের মধ্য দিয়ে প্রবেশের পরে ভুপৃষ্ঠে পড়ার মূহূর্তেই একে উল্কা বলে ধরা হয়”.
পৃথিবীতে উল্কা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সে সম্পর্কে পূর্বে আগে থেকেই কোন সংকেত পাওয়ার সুযোগ এখনও মানুষ আবিষ্কার করতে পারে নি.
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় রাশিয়াতেও এক পদ্ধতি কাজ করছে যা মহাকাশ থেকে পৃথিবী অভিমুখী বিভিন্ন বস্তুর গতিবিধি নির্ণয় করতে সহায়তা করে, কিন্তু এই পদ্ধতি তেমন উন্নত নয়. এমনটি বলছেন, রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির সহকারি বিভাগীয় প্রধান আলেগ মালকোভ. তিনি বলেন, “বিষয়টি সত্যিই অনেক বেশি গুরত্ববহন করছে তাই এ নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের গবেষণা করা প্রয়োজন. এ সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটি দল বিগত ৫ বছর ধরে কাজ করছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরণের পর্যবেক্ষণ কাজের জন্য বিশেষ টেলিস্কোপ তৈরী করা হচ্ছে. তবে আমাদের মার্কিন সহকর্মীরা এ ব্যাপারে কোন পূর্বাভাস দেয় নি”.
পৃথিবীতে এ ধরণের বস্তু পড়ার আগে সতর্কাতা অবলম্বনের জন্য বড বড় দেশগুলোকে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে. উরালের এ ঘটনা রাশিয়ার উদ্যোগের ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রাগোজিন.
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ি, চেলিয়াবিনস্ক অঞ্চলের চেবারকুল শহর থেকে এক কিলোমিটার দূরের একটি জলাশয়ে আছড়ে পড়ে. বর্তমানে ওই স্থানে ২০ হাজার উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন. তাঁরা সেখানে উল্কাপিন্ডটি খুঁজছেন যা বিজ্ঞানীদের কাছে এক অমূল্য পদার্থ.
সংকলিত...
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:৪৮
লিঙ্কনহুসাইন বলেছেন: হুম নিউজটি গতকাল পড়েছি