| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিয়ের ২৯ দিন পর দেশ ছেড়ে কানাডা চলে আসতে হয় আমার পিএইচডি’র পড়াশুনা এবং রিসার্চ চালিয়ে যাওয়ার জন্য, তাও ১৫ দিন ছুটি বাড়ানোর পর। সদ্য বিবাহিত বউকে এয়ারপোর্ট এ রেখে আমি একলা চলে আসি এই দূর দেশে। যদিও আমাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবে অ্যারেঞ্জ করা, বিয়ের পরের দিনগুলোতে আমরা একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে আসি। তাই চলে আসার পর থেকে আমরা একে অপরকে খুব মিস করি। স্কাইপির মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন কথা বলি প্রায় গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। কিন্তু প্রিয়জনের স্পর্শ এবং কাছে না পাওয়ার অনুভুতির যন্ত্রণা তো তাতে লাঘব হয়না।
বউয়ের জন্য ভিসার আবেদন করার পর হাইকমিশন তা রিফিউজ করে এই কারণ দেখিয়ে যে সে এর আগে দেশের বাইরে কোথাও ভ্রমণ করেনি এবং দেশে তার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই কানাডা গেলে আর ফেরত আসবে না। যদিও পরে জানতে পারি এটা কোন কারণ ছাড়াই হাইকমিশনের ভিসা রিফিউজ করার একটা কমন বক্তব্য। আমরা দুজনেই খুব হতাশ হই এটা জেনে। হয়তো আবার ভিসার আবেদন করতে হবে, এবং কয়েকবার চেষ্টা করার পর আমার বউ ভিসা পেতে পারে। কিন্তু ততদিন তো আমাদেরকে একে অপর থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। সেই কষ্ট তো আমাদেরকেই পোহাতে হচ্ছে। কবে যে এই অবস্থার অবসান হবে উপরওয়ালাই ভাল জানেন।
মাঝে মধ্যে ভাবি যে নতুন বিয়ের পর বউকে তো সময় দিতে পারলাম না। মরীচিকার মোহে প্রিয়তমা জীবনসঙ্গী বউকে ছেড়ে পরবাসে দিন কাটাচ্ছি। আসল সুখ রেখে নকল সুখের মধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছি। দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুরুর দিনগুলিতে আমি সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে রয়েছি। কিন্তু আবার ভাবি যে একটু কষ্ট করে আমার পিএইচডির গবেষণা শেষ করলে ভবিষ্যতে হয়তো ভাল চাকরি করে সুখে দিন কাটাতে পারব। তাই আপাতত কিছু দিন একটু কষ্ট করলে ক্ষতি কী? এই দোটানায় মনটা মাঝে মধ্যে বড়ই বিষিয়ে ওঠে। মনে হয় এ জীবন বড়ই জাতনাময়।
- সাদাত নূরু
আলবারটা, কানাডা
©somewhere in net ltd.