| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রেন্ট সার্টিফিকেট মামলার পদ্ধতি ও ফলাফল
মামলা দায়ের:
ভূমি উন্নয়ন কর যথাসময়ে স্বেচ্ছায় আদায় করা প্রত্যেক ভূমি মালিকের অবশ্য করণীয় কাজ। ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া রাখা উচিত নয়। নিজের প্রয়োজনেই এটি আদায় করা প্রয়োজন। কোন বছরের ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া পড়ার সাথে সাথেই তহসিলদার তা আদায়ের লক্ষ্যে দি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারী (পি ডি আর) এক্ট ১৯১৩ এর ৪ ও ৬ ধারা অনুসারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট রেন্ট সার্টিফিকেট মামলার রিকুইজিশন দাখিল করা কর্তব্য।
তহসিলদার রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করে তা সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং (তলববাকী রেজিষ্টারে) এবং সার্টিফিকেট রেজিষ্টারে এন্ট্রি করবেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেন্ট সার্টিফিকেট অফিসার হিসেবে প্রাপ্ত মামলাটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখে যদি সন্তোষ্ট হন যে পাওনাটি আদায় যোগ্য এবং যথাযথ, তবে তাতে স্বাক্ষর করবেন এবং স্বাক্ষর করা মাত্র সার্টিফিকেট মামলা চালু হলো বলে গণ্য হবে।
রেন্ট সার্টিফিকেট অফিসার কর্তৃক সার্টিফিকেট মামলা দায়ের হওয়ার পর দেনাদারের উপর (পি. ডি. আর.) এক্টের ৭ ধারা অনুসারে নির্ধারিত ফরমে নোটিস জারী করতে হবে। এ নোটিশের মাধ্যমেই দেনাদার জানতে পারে তার নিকট সরকারের বকেয়া পাওনা আছে।
দেনাদারের উপর ৭ ধারার নোটিস জারি:
ক্রমানুসারে বর্ণনা করা হলো:
(২) সার্টিফিকেট অফিসার বা তার পক্ষে কর্তৃত্ব প্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এবং সীলকৃত নোটিসের কপি প্রাপকের নিকট হস্তান্তরের মাধ্যমে জারী করতে হবে;
(৩) দেনাদার বা তার প্রতিনিধির নিকট জারী করা সম্ভব হলে তার নিকট ব্যক্তিগত ভাবে জারী করতে হবে;
(৪) দেনাদার বা তার প্রতিনিধিকে পাওয়া না গেলে পরিবারের বয়স্ক পুরুষ সদস্যের নিকট জারী করতে হবে;
(৫) দেনাদার বা তার প্রতিনিধি নোটিস গ্রহণ করলে মূল নোটিসের (এস.আর.) অপর পৃষ্ঠায় প্রাপ্তি স্বীকার করবেন;
(৬) দেনাদার বা তার প্রতিনিধি নোটিস গ্রহণে রাজি না হলে বা যুক্তিসংগত অনুসন্ধানের পরও তাদের খুজে না পাওয়া গেলে জারীকারক:
(ক) নোটিসের কপি দেনাদারের ঘরের দরজায় বা প্রকাশ্য স্থানে লটকিয়ে জারী করবেন, অথবা
(খ) যে সম্পত্তির উপর মামলা হয়েছে সে সম্পত্তিতে এক কপি এবং সার্টিফিকেট অফিসারের অফিসে নোটিসের এক কপি লটকিয়ে জারী করতে হবে;
(৭) জারীকারক নোটিস জারীর সাক্ষী ও নোটিস গ্রহণকারীকে সনাক্তকারীদের নাম ঠিকানা নোটিসের কপিতে লিখে সই করে রিটার্ণ দাখিল করবেন;
(৮) সার্টিফিকেট অফিসার জারীকারককে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত করে ঘোষণা করবেন যে নোটিস জারী হয়েছে;
(৯) সার্টিফিকেট অফিসার অনুমতি দিলে ডাকযোগেও নোটিস জারী করা যাবে।
(১০) যার নামে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের আছে, মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে তার মৃত্যু ঘটলে তার প্রতিনিধি উত্তরাধিকারীকে দি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারী এক্ট এর ৪৩ ধারায় নোটিস জারী করে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। (এ নোটিস ৭ ধারার নয় তবে ৭ ধারার নোটিশের মতই কার্যকর হবে)
(৭ ধারার নোটিস জারীর পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে (দি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারী (পি ডি আর) এক্ট ১৯১৩ এর দ্বিতীয় তফসিলের ২ থেকে ৯ নং বিধি মতে )
৮ ধারা অনুসারে ৭ ধারার নোটিসের ফলাফল:
দেনাদার সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত কোনো সম্পত্তি বিক্রয়/দান বা অন্যকোনো প্রকার হস্তান্তর করতে পারবেন না;
সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত সম্পত্তি ক্রয় করলে তাতে আইনত ক্রেতার কোনো স্বত্ব সৃষ্টি হবে না;
মামলাভুক্ত সম্পত্তিতে সার্টিফিকেটে উল্লেখিত পাওনা প্রথম দাবী হিসেবে গণ্য হবে এবং অন্য সকলের দাবী স্থগিত থাকবে;
৭ ধারার নোটিস জারী হওয়ার পর মামলাভুক্ত সম্পত্তির উপর ক্রোকের ন্যায় কার্যকর হবে, তাই নিলাম ইস্তেহার জারীর পূর্বে আর কোন ক্রোক আদেশের প্রয়োজন হয় না।
(দি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারী (পি ডি আর) এক্ট ১৯১৩ এর ৮ ধারা মতে)
নোটিশ জারীর পর প্রতারণা করে সম্পত্তি হস্তান্তরের শাস্তি:
কোনো দেনাদার ৭ ধারার নোটিসের পর প্রতারণামূলক ভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করে ফেললে, সার্টিফিকেট কার্যকরী করণে বাধা দিলে, নিলাম ক্রেতাকে দখল গ্রহণে বাধা দিলে তিনি দন্ডবিধি আইনের ২০৬ ধারার অপরাধে অপরাধী হবেন ৷ যার শাস্তি ২ বছর পর্যন্ত সশ্রম/বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা দন্ডের বিধান রয়েছে।
(দি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারী (পি ডি আর) এক্ট ১৯১৩ এর ৫৮ ধারা মতে )
দেনাদারের রেন্ট সার্টিফিকেটের দায় অস্বীকারের অধিকার এবং প্রতিকার:
(দি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারী (পি ডি আর এক্ট ১৯১৩ এর ৯ এবং ১০ ধারা মতে)
৭ ধারার নোটিস প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে বা নোটিস না পেয়ে থাকলে সার্টিফিকেট কার্যক্রম বাস্তবায়নের ৩০ দিনের মধ্যে দেনাদার এই আইনের ৯ ধারা অনুসারে নোটিসে উল্লেখিত সম্পূর্ণ বা আংশিক দায় অস্বীকার করে সার্টিফিকেট অফিসারের নিকট আপত্তি দিতে পারেন। আপত্তি দায়ের না হলে ধরে নেয়া হয় যে পাওনার বিষয়ে দেনাদারের কোন দ্বিমত নেই।
আর আপত্তি পাওয়া গেলে সার্টিফিকেট অফিসার ১০ ধারা অনুসারে আপত্তির উপর শুনানী গ্রহণ করবেন, প্রয়োজনে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন এবং সার্টিফিকেট সংশোধন, বাতিল বা বহাল রেখে সিদ্ধান্ত (রায়) প্রদান করবেন।
১০ ধারা অনুসারে শুনানীর পর সার্টিফিকেট অফিসার যদি মামলা বহাল রাখেন বা ৯ ধারা অনুযায়ী কোনো আপত্তি দায়ের না হয়ে থাকে এবং ৭ ধারার নোটিস জারীর পর ৩০ দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও পাওনা টাকা অনাদায়ী থাকে তবে সার্টিফিকেট অফিসার এ আইনের দ্বিতীয় তফসিলের ৪৬ বিধি বলে একটি প্রকাশ্য নিলাম ইস্তেহার জারী করবেন। উল্লেখ্য যে যখন মামলাভূক্ত সম্পত্তির মূল্য ২০০ টাকার বেশী হবে তখনই কেবলমাত্র উপরোক্ত বিধানগুলি প্রযোজ্য হবে।)
ইস্তেহারে যে সকল বিষয় থাকতে হবে তা হলো:
(ক) নিলামকৃত সম্পত্তির বর্ণনা।
(খ) যে পরিমাণ পাওনা টাকার জন্য নিলামের আদেশ।
(গ) নিলামের স্থান, তারিখ ও সময় বর্ণনা।
স্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রির জন্য ইস্তেহার নিলামী সম্পত্তিতে ও সার্টিফিকেট অফিসারের অফিসে লটকাতে হবে এবং ঢোল সহরত বা প্রচলিত পদ্ধতিতে জারী (প্রচারসহ) করতে হবে (৪৭ বিধি)। অতঃপর ২৫ ধারা অনুসারে সার্টিফিকেট অফিসার সার্টিফিকেট কার্যকর করবেন।
..............
..............
২|
২২ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০০
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন: সাইফুর বলেছেন: আমির ভাইয়া ভালো আছেন?
৩|
২২ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৪২
রহস্য বলেছেন: কাজের পোস্ট।প্লাস দিতে লগইন করলাম।
২২ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৪৮
সৈয়দ আমিরুজ্জামান্ বলেছেন: ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৪৪
সাইফুর বলেছেন: আমির ভাইয়া ভালো আছেন?