নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভালবাসি মুক্ত চিন্তা করতে

মুক্ত চিন্তা করতে ভালবাসি

মুক্ত পাখির রাজা

মুক্ত চিন্তা করতে ভালবাসি।

মুক্ত পাখির রাজা › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবন থেকে নেয়া খানিক অংশ বিশেষ মাত্র

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১:০২

এমনিতেই মনটা অনেক খারাপ। তবে ভাল লাগার অল্প আধটুকু যা কাজ করছিল তা হল প্রথমবার দেশের বাইরে যাব এইভেবে। সবাই মিলে আমাকে ড্রপ করতে আসল এয়ারপোর্ট এ। তারপর যখন এয়ারপোর্ট এ পৌছালাম তখন এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে গেল বিদায় এর পালা। আমার ঠিক মনে নাই আম্মু আমায় শেষ কবে জড়িয়ে ধরে আদর করে ছিল কিন্তু ঐ দিন আম্মু আমায় জড়িয়ে ধরে আদর করল অনেকখন। আর ঠিক তখন থেকেই বুঝতে শুরু করলাম সবাইকে ছেড়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার কষ্টটা। আব্বুর কথা কি বলব সচরাচর আব্বু অনেক শক্ত মনের মানুষ কিন্তু শেষ পর্যন্ত আব্বুও ভেঙে পরল আর শুরু করল ছেলেমানুষি কান্নাকাটি। আমিও মনে মনে ভেঙে পরলাম কিন্তু প্রকাশ করলাম না। ভাইয়া তখন একটু দূরে দাড়িয়ে আছে বুঝতে পারলাম খুব মন খারাপ কিন্তু আমাকে বুঝতে দিচ্ছে না। এই প্রথম ভাইয়াকে রেখে একা একা কোথাও যাচ্ছি। এমতঅবস্থায় আমি যখন কাঁচের ঘেরা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করছি তার ঠিক আগমুহূর্তে ভাইয়া এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল ভাল থাকিস আর কোনরকম ছেলেমানুষি করিস না। আমি ঢুকে গেলাম কাঁচের ঘরের ভিতরে। বাইরে থেকে চলে গেল সবাই। আমার তখন বাধভাঙা জোয়ারের মত কান্না আসতে শুরু করল আর পৃথিবীর সব একাকীত্ব যেন ঘিরে ধরল আমায়। মনে হতে লাগল যাব না দেশের বাইরে ফিরে চলে যাব আপনজনের কাছে কিন্তু কিছুই করার নাই........।তারপর যখন বডিং পাস এবং ভিতরে যাবতীয় কাজ শেষ করলাম তখন শুরু হল বিমানের জন্য অপেক্ষা । অবশ্য তখন বিমান কতৃপক্ষের উপর মেজাজ খারাপ হয়ে ছিল অনেক এইজন্য যে তাহলে এত তাড়াতাড়ি কেন ঢুকাল ভিতরে আর একটু সময় তো কাটাতে পারতাম সবার সাথে বাইরে। যাইহোক অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ করে ডাক আসল বিমান এ উঠার জন্য। উঠে পরলাম বিমান এ । সেই এক মজার অভিজ্ঞতা। একটা মজার অভিজ্ঞতার কথা বলছিঃ সবাই উঠে যখন যার যার আসন গ্রহন করল তখন আসল সুন্দর সুন্দর বিমানবালা যারা যারা আসন খুজে পেল না তাদের আসন গ্রহন এ সহায়তা করল। বিমান যখন আকাশে উঠে গেল তার একটু পরে শুরু হল খাবার দেয়া প্রথমে দিল antiseptic-tissue হাত পরিষ্কার করার জন্য তবে মজার বিষয় হচ্ছে আশেপাশের কিছু মানুষকে দেখলাম তা খেয়ে ফেলতে এর বলতে শুনলাম মজা লাগে না। খেয়ে ফেলার কারন হচ্ছে antiseptic-tissue টি ছিল অনেক সুন্দর কাগজে মুড়ানো আর হালকা গরম গরম সেন্ডউইচ এর মত ভাজ । অনেকগুলা মজার অভিজ্ঞতার মধ্যে ছিল এটি একটি। তারপর যখন বিমান অবতরণ করল বিমান থেকে নামার পর শুরু হল নতুন অভিজ্ঞতা । হাজার হাজার মানুষের মধ্যে নিজেকে একা একা লাগছে কাউকে চিনিনা সবই অপরিচিত মুখ। ভিতরের সব কাজ শেষ করে দাড়িয়ে আছি একা কে নিতে আসবে জানি শুধু জানি ভার্সিটি কতৃপক্ষ থেকে কেউ একজন আসবে। চার ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর দূর থেকে আমাদের ভার্সিটির প্লেকার্ড হাতে নিয়ে একজন দাড়িয়ে আছে তখন তাকে দেখার পর মনে হল এই মাত্র বুঝি প্রান ফিরে পেলাম। তারপর তার সাথে কথা বলে বের হলাম এয়ারপোর্ট থেকে । ভদ্রলোকের মাইক্রবাস এ করে রওনা হলাম ভার্সিটির উদ্দেশে । এক ঘণ্টা পর যখন পৌছালাম ভার্সিটিতে তখন বিকেল হয়ে গেছে। ভার্সিটির সব কাজ শেষ করে বের হয়ে পরিচিত একজনকে কল করলাম সে একটা ঠিকানা দিল এবং বলল ঐ ঠিকানাই যাইতে। একটা ট্যাক্সি নিয়ে চলে গেলাম ঐ ঠিকানাই ।ট্যাক্সি থেকে নেমে অনেক বড় বড় দালানের ভিড়ে আমি দাড়িয়ে আছি ঐ পরিচিত লোকটার জন্য আর মনের মধ্যে ভিড় করছে শৈশবে ফেলে আসা সহস্র সৃতি... ..... ..... .... ....

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.