নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ব্যক্তিগত সমসাময়িক চিন্তাধারা

সাদ সারওয়ার

সাদ সারওয়ার › বিস্তারিত পোস্টঃ

দশের ঠেলা!

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৭:৫২

'দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ' প্রবাদ বাক্যটি ইদানীং পরিবর্তন হয়ে 'দশে মিলে করি কাজ, কাজটা খারাপ হলেও নাহি লাজ' হওয়া উচিত। কারণ দশে মিলে করা কাজের ভাবই আলাদা, ফলাফল ১০০%!



২০০৪ সালের ছোট্ট একটা ঘটনা। দেশে তখন ছিনতাইকারী পেশাটা খুবই জমজমাট। এক বিকেলে ফার্মগেট মোড়ে ব্যাপক জটলা, জটলার বেশিরভাগ মানুষের মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরে উঠে, আর নিচে নামানোর সময় হাতের লক্ষ্য চলে যায় জটলার কেন্দ্রে। মানুষের চেঁচামেচি আর বিক্ষিপ্ত কথাবার্তায় বুঝলাম জটলার কেন্দ্রে একজন ছিনতাইকারী রয়েছেন। শুনেই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে অনেক ঠেলাঠেলির পর কেন্দ্রের কাছাকাছি যেতে পারলাম, দেখলাম প্রায় ১৫/১৬ বছরের নোংরা হাফপ্যান্ট পরা একটা ছেলেই সবার লক্ষ্যবস্তু। এখানে দশে মিলে কাজ করে ছিনতাইকারীর কেমন অবস্থা করেছিলাম, কল্পনা করতে পারেন? শুধু এ থেকে অনুমান করেন, যে ব্যক্তি ছেলেটির চুল মুঠি করে ধরে রেখেছিলেন, তার হাতের বেশ কয়েকটা আঙ্গুল ঘুসির ঠেলায় থেতলে গিয়েছিল। বুঝেন এবার দশের ঠেলা!



এমন কত ঘটনা আমরা দশে মিলেই ঘটাই আর ঘটাচ্ছি। এইতো গত শনিবারেও (১৯-০১-২০১৩) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পুলিশকে সামনে রেখেই আরেকবার দশের ঠেলা কি জিনিস, সবাইকে বুঝানো গেছে। তবে এইবার ছিনতাইকারী না তবে ছেলেধরা, এইবার ছেলে না তবে মাঝবয়সী মহিলা। এইবার আর শুধু হাত ব্যবহার করা হয় নাই, বাঁশ-লাঠিও ব্যবহার হয়েছে। বিবস্ত্র করে লাঠিপেটা করার পর বাঁশ দিয়ে গলা চেপে মৃত্যু নিশ্চিতও করা হয়েছে।



একেই বলে দশের ঠেলা। এই ঠেলা পুলিশও ভয় পায়। দশের কাজে পুলিশের 'আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না' ডায়ালগ দেওয়ার সুযোগ নাই। শনিবারের ঘটনার ভিডিও দেখেন নাই? ইন্টারনেটে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলেই পেয়ে যাবেন।



তবে এখন ওই ছেলেধরা মহিলার আত্মীয় আর বাড়িওয়ালা দাবি করছেন, মহিলা নাকি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি ছিলেন! হায় হায়! তবে? আরে ধুর, এটা দশের কাজ না? তবে আর চিন্তা কিসের? গোটা সমাজটাই তো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি! আর মরার আগে ওই মহিলা কি প্রমাণ করতে পেরেছিল যে সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি?



বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি আর নিজেকে কি করে প্রমাণ করবে যে সে প্রতিবন্ধি? তার তো বুদ্ধিই নাই। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি না হয়েও দশের রোষ থেকে পার পায়নি আমিনবাজার ঘুরতে যাওয়া ছয় ছাত্র, ডাকাত পদবী নিয়ে মরতে হয়েছে তাদের। তেমনি হিন্দু হয়েও পার পায়নি বিশ্বজিত, শিবির পদবী নিয়ে মরল বেচারা!



দশে মিলে আমরা এমন অনেক কিছুই করতে পারি, কিন্তু আবার অনেক কিছুই পারিও না। দশে মিলে আমরা পারি না বারবার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া মন্ত্রী এমপিকে পেটাতে, পারি না একটা ধর্ষককে পিটিয়ে জীবন্ত কবর দিতে, পারি না সমাজে নোংরামি সৃষ্টিকারী একজনকে ভাল পথে ফিরিয়ে আনতে।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:০১

বিষন্ন পথিক বলেছেন: পাগল নাকি? মন্ত্রি, এমপি মারার কথা চিন্তা করা যায়? গরীব, ক্ষমতাহীন মানুষ মারতে আমাদের হাত নিশপিশ করে, মনের সুখ মেটাই। ক্ষমতাবান দের লোম ছোবার স্বপ্নদেখার আগের দশবার ভয়ে বাথরুমে যাই। পাচ বছর পর পর এক কাপ চা খেয়ে চটচটে মুখে বিড়ি টানতে টানতে মার্কায় ভোট দিয়ে আসি। তার পর পাচ বচর ' লে বাবা, মারা খা'

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.