| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অনিকেত যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখতে পায় ,তখন নাকি আকাশের ভীষন মন খারাপ ছিল ।অনিকেতের জন্মের দিনে আকাশ অনেক কান্না করেছিলো।অনিকেত ভাবে আকাশ হয়তো আগেই বুঝতে পেরেছিলো, বাস্তব জীবনে তাকে অনেক কষ্ট করে বড় হতে হবে।অনিকেতের জন্মের পূর্ব মহুর্তে অনিকেতের দাদা তার বাবা-মাকে নির্বাসিত করেছিলো,অনিকেতের বাবা তখন ভেবে পাচ্ছিলো না কোথায় যাবে কি করবে।সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে কোথায় গিয়ে দাড়াবে এই ভাবনায় যখন অস্থির ঠিক তখনি তার দ্বিতীয় বাবা মানে শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় পেলো অনিকেতের বাবা।অনিকেতের জন্মের পর অনিকেতের দাদা অনেক ধুমধাম করে তার বংশের প্রথম প্রদীপকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।সেই থেকে অনিকেতের বাবা ভাবতে থাকে অনিকেত তার জন্য একটা হীরা যার আলোয় দূরে সরে যাবে তার জীবনের সকল অন্ধকার।অনিকেত জন্মের পর থেকেই তার বাবার সংগ্রামী জীবনের সাথে পরিচিত হতে থাকে এব্ং দেখতে থাকে যৌথ পরিবারের বড় ছেলের উপর কিভাবে অমানবিক ঝড় ধেয়ে আসে।কারণে অকারনে অনিকেতের দাদা অনিকেতের বাবার উপর মানষিক নির্যাতন চালাতো। বাড়ির ছোট ছেলেরা কোন অন্যায় করলে তার দায় ভার ও অনিকেতের বাবাকে নিতে হতো, বাড়ির বড় ছেলে বলে কথা।অনিকেতের বাবা একটা পাইকারী চাউলের দোকানে কাজ করতো পাশাপাশি ভ্যানগাড়ি চালিয়ে আয়রোজ-গার করতো।অনিকেত যে স্কুলে ভর্তি হয় মাঝে মাঝে ঐ স্কুলের পাশ দিয়ে অনিকেতের বাবা ভ্যানগাড়িতে চাউলের বস্তা নিয়ে যেত।অনিকেত পিছন থেকে ডাক দিত বাবা দুইটা টাকা দাও আইসক্রিম খাবো।অনিকেতের বাবা ভ্যান থামিয়ে হাসিমুখে পকেট থেকে দুই টাকার একটা নোট অনিকেতের হাতে ধরিয়ে দিত।অনিকেত যেদিন জানতে পারলো যে দুই টাকা আয় করতে তার বাবাকে একবস্তা চাউল ৫ কি.মি. দূরের দোকানে দিয়ে আসতে হয়, সেদিন থেকে অনিকেত আর বাবার কাছে দুই টাকার বায়না করে নাই।(চলবে)…….
©somewhere in net ltd.