| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
![]()
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কলম জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। ক্যান্সারের সঙ্গে নয় মাসের প্রথম পর্বের যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরেছেন। আগামী ১ জুন দ্বিতীয় পর্বের যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে আবার যাচ্ছেন মার্কিন মুল্লুকে। গত শুক্রবার নিজের প্রিয় জগৎ নুহাশ পল্লীতে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে বসেছিলেন দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা- বিশ্রাম নিয়ে তিন দফায় তিনি কথা বলেন। মানসিক শক্তি, মৃত্যুচিন্তা, লেখালেখি, ভালো লাগা, মন্দ লাগাসহ অনেক বিষয়েই মুখ খুলেছেন।
সঙ্গে ছিলেন- জাকারিয়া সৌখিন ও রণক ইকরাম
এক.
গাজীপুরে হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী। ঢাকা থেকে আড়াই ঘণ্টার পথ। লালরঙা মাটির পাহাড়িয়া ঢঙে বনের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। গেট পেড়িয়ে ভেতরে ঢুকতেই হুমায়ূনীয় স্বাদের বিশাল এক জগৎ। চলি্লশ বিঘাজুড়ে বৃক্ষ আর বৃক্ষ। মাঝে মাঝে স্কাল্পচার, থাকার ঘর, বসার ঘর, বৃষ্টি বিলাস, ভূত বিলাস...। শেষ মাথায় দিঘি- দিঘি লীলাবতী। প্রতিদিন সকালে প্রথম থেকে শেষ মাথা পর্যন্ত হাঁটেন হুমায়ূন আহমেদ। আজও হাঁটতে বেরিয়েছেন।
সকাল সাড়ে ৯টা। হাত-পা তুলে শিশুর মতো জড়োসড়ো হয়ে হুমায়ূন আহমেদ বসে আছেন দিঘি লীলাবতীর পুরনো ঘাটে। ক্ষয়ে-ক্ষয়ে যাওয়া ঘাটটিতে সবুজ শেওলার গালিচা বিছিয়ে রেখেছে প্রকৃতি। চারদিকে বটবৃক্ষের ঝরা পাতা ছড়ানো-ছিটানো- ঘাটের উপরও। সবমিলিয়ে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য। কুশলবিনিময়ের পর ইশারায় বসতে বললেন 'আমাদের কলম জাদুকর'। কেমন আছেন- জানতে চাইলে মৃদু হেসে বলেন, 'খুব ভালো'। শরীরে রোগ থাকলেও কণ্ঠে কোনো ছাপ নেই। খুব দৃঢ় আত্দবিশ্বাস। এরপর এক-দুই কথায় বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সঙ্গে গল্প জমতে শুরু করে-
স্যার, প্রতিদিন সকালেই হাঁটেন। হাঁটার জন্য হাঁটেন, নাকি সৌন্দর্য উপভোগের জন্য?
দুটোই।
নুহাশ পল্লীর সঙ্গে নয় মাসের বিচ্ছেদ শেষে ফিরলেন। পৃথিবীর নানা দেশের নানা জায়গা ঘুরেছেন। কিন্তু নুহাশ পল্লীই আপনার কাছে আলাদা। কেন?
কারণ গাছপালা। এখানকার প্রতিটি গাছপালার সঙ্গে আমি জড়িত। এখানে শত শত গাছ আছে। সবগুলোই আমার হাতে বা আমার উপস্থিতিতে রোপিত হয়েছে। আমি এদেরকে ছোট থেকে বড় হতে দেখেছি। এরা আমার সন্তানের মতো। আর এতগুলো সন্তানের মায়া অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে আলাদা হবে না?
কি চিন্তা থেকে এই অরণ্যে 'নুহাশ পল্লী' গড়েছিলেন?
আসল কারণ হচ্ছে গাছ। গাছের প্রতি আমার মমতা আছে। আর আমার কাছে সব সময় মনে হয়েছে গাছের কাছে আমরা অসম্ভব ঋণী। আমরা এই ঋণটা কখনো স্বীকার করছি না। আমরা তাকে জ্বালাচ্ছি- আগুনে পোড়াচ্ছি অথচ প্রতিনিয়ত আমরা গাছের কাছেই হাত পাতছি। সেখানে থেকেই নুহাশ পল্লী।
গাছ-গাছালি সন্তানের মতো ভালোবাসছেন। ওদের সঙ্গে কি আপনার কথা হয়?
আমি কথা বলি। ওরা বুঝতে পারে কি-না, জানি না। একটা গাছকে যদি দেখি খুবই দুর্বল, আমি পাশে গিয়ে দাঁড়াই। জিজ্ঞেস করি- 'কিরে ব্যাটা, এই অবস্থা কী জন্যে? সমস্যাটা কী বল আমারে।' মেবি ওরা আমাকে অ্যান্সার করে, বাট আমি ধরতে পারি না।
নুহাশ পল্লী-যশখ্যাতি সব হয়তো একদিন থাকবে। আপনিই থাকবেন না। এই ভেবে আফসোস হয়?
না। আফসোস হবে কেন? আমার এক জীবনে আমি নুহাশ পল্লী দেখেছি। ভালোবাসা পেয়েছি। তাই মরার আগেও আমার আফসোস থাকার কথা নয়। যখন মরতে হবে মরে যাব, তাই না?
এত মানসিক শক্তি আপনার। মানসিক শক্তিই কি আপনাকে সুস্থ করে তুলছে?
না। প্রচণ্ড মানসিক শক্তি নিয়ে অনেক মানুষ পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু তাদেরকে শেষ পর্যন্ত ডিজিজ-এর কাছে হার মানতে হয়েছে। অ্যাপলোর স্বপ্নদ্রষ্টা স্টিভ জনবস, তাঁর কী মানসিক শক্তি কম ছিল? তারপর জ্যো ফ্রেজিয়ে, তার কী মানসিক শক্তি কম ছিল?
হুগো শ্যাভেজ কিন্তু ফিরেছেন!
বলা হয়েছে তিনি সুস্থ। কিন্তু নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। আরও আগে একবার বলা হয়েছিল তিনি সুস্থ। পরে আবার চিকিৎসা হলো। আবার এলো, আবার গেল। উনি পলিটিক্যাল লোক। পলিটিক্যাল লোকদের কোনো বিশ্বাস করতে নেই।
মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?
ধর্মীয়ভাবে একটা ধারণা সবার মধ্যে আছে। কিন্তু আমার একান্ত ব্যক্তিগত ধারণা হচ্ছে, দ্যা মোমেন্ট আই উইল ডাই- আমি মাটির সঙ্গে মিশে যাব।
তাহলে মৃত্যুটা আপনার কাছে কেমন?
মৃত্যুটা আমার কাছে খুবই পেইনফুল। একটা মানুষ এত ক্ষমতা নিয়ে পৃথিবীতে আসে, ৭০-৮০ বছর বাঁচে সে। অথচ একটা কচ্ছপ সাড়ে তিনশ বছর বাঁচে, হোয়াই? কচ্ছপের মতো একটা প্রাণী কেন সাড়ে তিনশ বছর বাঁচবে? আমরা কেন নই?
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, 'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে'। আপনি কি বলবেন?
আবার একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, 'মরণরে তুহু মম শামও সমান'। [মৃদু হেসে] উল্টা দুই রকম কথা বলে গেছেন। শোন, কবি-সাহিত্যিকরা অনেক কথা বলে। এগুলা নিয়া ঘামাও ক্যান?
আপনার কষ্ট, আপনার সুখ সম্পর্কে কিছু বলবেন?
আমার কোনো কষ্ট নেই। আর সুখের কথা বললে বলব, অবশ্যই আমি অন্যদের চেয়ে বেশি সুখী। কারণ আমি জানি, কি করে সুখ আহরণ করতে হয়।
তাহলে স্বপ্ন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি...
আমি নিজেকে নিয়ে এত চিন্তা-ভাবনা কখনোই করি না। আমি খুবই একটা সুখী মানুষ ছিলাম। এখনো সুখী। কাজেই বলা যেতে পারে, আমি তৃপ্ত। আর কী পেয়েছি, কী না পেয়েছি, ভাবি না। যা পাইছি ভালো, না পাইলে নাই। হা-হুতাশ করে লাভ নেই।
পথ চলতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এতটা পথ পেরিয়ে এসে, জীবনের শেষ উপলব্ধি মানে রিয়েলাইজেশনটা কী?
শেষ রিয়েলাইজেশন হচ্ছে 'জীবন অনেক, অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার'। তারা শঙ্করের কবির মতন মাঝে-মধ্যে আমার বলার ইচ্ছা করে, 'জীবন এত ছোট ক্যানে?' ওই যে একটু আগে বললাম, একটা কচ্ছপ কেন সাড়ে তিনশ বছর বাঁচে, মানুষ কেন বাঁচে না! জীবনটা আমার খুব ছোট মনে হয়। তোমাদের মনে হয় না? নাকি এখনো টের পাও নাই? টের পাইবা...
সকালের শিশু সূর্যটা যুবক হয়ে উঠছে। খুব তেজ ছড়াচ্ছে। ঘামছেন হুমায়ূন আহমেদ। তাই উঠবেন। কিন্তু ফটোসেশন! হুমায়ূন আহমেদ খুব একটা ফটোসেশনে অংশ নেন না। তবুও ফটোসেশনের অনুরোধ। হ্যাঁ, তিনি গিয়ে পায়ের ওপর পা তুলে বসলেন সিঁড়ির একপাশে। কিছু ছবি তোলা হলো। কিন্তু তার মুখে হাসি নেই। হাসার অনুরোধ করতেই বললেন, 'আমি হাসতে পারি না বাবা...'।
ছবি তোলা শেষ। ঘরে গিয়ে একটু বিশ্রাম নেবেন হুমায়ূন আহমেদ। বিশ্রাম শেষে আবার কথা বলবেন জানিয়ে সোজা হাঁটা শুরু করলেন। ধীর গতিতে হেঁটে চলে গেলেন নিজের কুটিরে। ছেলে নিশাদ দাঁড়িয়েছিল। বাবাকে দেখে কি বলে যেন উচ্ছ্বাস দেখালো। সম্ভবত কোনো আবদারের উচ্ছ্বাস। হুমায়ূন আহমেদও নিশাদের হাত ধরে আবদার পূরণের আশ্বাস দিতে দিতে ভেতরে ঢুকলেন।
দুই.
দুপুর ১২টা-সোয়া ১২টার দিকে হুমায়ূন আহমেদ আবার বেরুলেন। এসে বসলেন লিচু গাছের তলায়। সেই একই ভঙ্গি- পায়ের ওপর পা তোলা। ডাকলেন। কাছে যেতেই বললেন, 'আর কি কথা বল...'।
আমেরিকার দিনগুলো কেমন ছিল?
ওখানকার দিনগুলো ঠাণ্ডা। প্রচণ্ড রকম ঠাণ্ডা। বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। ঘরের ভেতরে বন্দী। ভাইরে আমরা গরম দেশের মানুষ, এইটা একটা সমস্যা। আর কেমোথেরাপি যারা নেয় তাদের বডি হয়ে যায় কোল্ড সেনসেটিভ। সেটা একটা সমস্যা। কাজেই একটা ছোট ঘরের ভেতরে আমার আমেরিকা জীবন। বাচ্চাগুলো স্কুলে যাওয়ার সময় হয়তো আনন্দ পায়। বাকি সময় তো ঘরের ভেতরে বন্দী।
নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ। বিদেশ বিভুঁইয়ে দেশের কী কী মিস করেছেন?
দেশের অনেক কিছুই মিস করেছি। গাছপালা- বিশেষ করে মিস করেছি নুহাশ পল্লীর গাছগুলোকে। জানতে ইচ্ছে করছিল, এরা কেমন আছে। এসে দেখি ওরা ভালো আছে। দেশের বৃষ্টি খুব মিস করেছি। এসে শুনি বৃষ্টিই নাকি হয় না। দেশের খাবারও মিস করেছি।
আপনার প্রিয় খাবার কী?
আমার প্রিয় খাবার খুবই সিম্পল। আর তা হচ্ছে- গরম ভাত, ডাল, শুকনা মরিচের ভাজি, ডিম ভাজি সাথে এক চামচ ঘি। খুবই সিম্পল খাবার। ওখানে বহুবার ট্রাই করেছি। কিন্তু আমার দেশের মতো কেন যেন স্বাদ লাগেনি। আর শিং মাছ খেতে ইচ্ছে করত খুব। শিং মাছের ডিম। এই খবরটা জানি না কীভাবে যেন রটে গেল। এরপর প্রতি বেলাতেই শিং মাছের তরকারি আসা শুরু হলো।
ডাক্তার বোধহয় প্রথমে আপনাকে বলেছিল, দুই বছর বাঁচবেন। এইটা শোনার পর আপনার কেমন লেগেছিল?
আমি বিষয়টি নরমালি নিয়েছি। অনেক মানুষের তো ক্যান্সার হয় না। কিন্তু তারা তো রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা যায়। কাজেই মৃত্যু নিয়ে এত চিন্তা করে কোনো লাভ আছে?
এক তারিখে [১ জুন] আবারও চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। দুরারোগ্য ব্যাধির কথা মাথায় রেখে আপনার অনুভূতিটা কী?
আমি এটা নিয়ে মাথা ঘামাই না? পুরো বিষয়টি ডাক্তারদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। ওখানে আমি যাদের চিকিৎসা নিচ্ছি দে অল আর গুড হ্যান্ডস। তারা পৃথিবীর সেরা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ। আর এটি পৃথিবীর সেরা হাসপাতালগুলোর একটি।
স্যার, বাঙালিরা মনে হয় একটু বেশিই ভীতু। ক্যান্সার টাইপের ভয়াবহ রোগ হয়েছে শুনলেই বিচিত্র সব আচরণ করতে শুরু করে। খুঁজে খুঁজে নিজের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করে। স্বজনদের সঙ্গে ক্ষমা চাইতে শুরু করে... ইত্যাদি ইত্যাদি... আপনি ব্যাপারটা কীভাবে দেখেন?
শোনো। ভয়টা কেবল বাঙালির মধ্যেই আছে তা নয়। ভয় সবারই আছে। সারা পৃথিবীর মধ্যেই আছে। ক্যান্সার নিয়ে একটা বই আছে। ওখানে লেখা আছে, যেদিন তোমার ক্যান্সার ধরা পড়বে, সেদিন একটা কাজ করো। বাথরুমে ঢুইকা দরজাটা বন্ধ করো। বিকট চিৎকার করে কাইন্দো। এতে তোমার টেনশন একটু কমবে। এটা আমেরিকান ক্যান্সার থেরাপিস্টদের লেখা। তার মানে ওরা কী ভয় কম পাচ্ছে? মৃত্যু একটা ভয়ানক বিষয়। উই অল আর ইন এন ইনটেলিজেন্স রেইস। আমরা বেকুবের জাত হইলে কোনো টেনশন থাকত না। কী হইছে মরবো না- এইরকম মনে হইত। কাজেই ভয় তো পাইতেই পারি।
চিকিৎসকরা আপনাকে কথা বলতে বারণ করেছেন। বাকরুদ্ধ থাকার যাতনা কেমন?
বিষয়টি ঠিক নয়। ডাক্তার আমাকে কথা বলতে বারণ করেনি। তবে আমার সামনে ভিজিটর অ্যালাউ নয়। কেননা একজন সাধারণ মানুষের তুলনায় ক্যান্সার রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। নতুন একজন লোকের কাছ থেকে খুব দ্রুত রোগটা ছড়িয়ে পড়বে ক্যান্সার রোগীর দেহে। আর সেজন্য আমার সামনে ভিজিটর অ্যালাউ নয়। তাই বলেছে, কথা না বলতে।
এই যে আজকে এত ঝুঁকির মধ্যেও আপনি আমাদের সময় দিচ্ছেন। গল্প করছেন। ঠিক একই সিচুয়েশনে আপনার জায়গায় যদি মিসির আলী কিংবা হিমু পড়ত তাহলেও ওদের আচরণ কী হতো?
ভিন্ন রকম হতো। যেহেতু পুরোটাই কাল্পনিক, আমার মনে হয় মিসির আলী কোনো কথা বলত না। সে লজিক্যাল মানুষ। লজিক দিয়েই সবকিছু চিন্তা করত।?বলত, আমার কিছু বলার নেই। অন্যদিকে হিমু খালি পায়ে হয়তো তোমাদেরকে জায়গাটা ঘুরিয়ে দেখাত। বলতো, চলো আমার সঙ্গে।
আপনার মনের জোর অনেক। তবুও ক্যান্সার বলে কথা। একটুও কি আতঙ্কগ্রস্ত হননি?
আসলে সবাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়। আমি চিন্তা করে দেখলাম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লাভ কী! আতঙ্কগ্রস্ত হলেও মরতে হবে, না হলেও মরতে হবে। তাই অতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে মরাটাই ভালো না? আমি ও লাইনে গেছি। আর ভয় তো পেয়েছি বটেই। আমার দুইটা ছোট বাচ্চা, একটা ইয়াং ওয়াইফ আছে। আমি যদি সামান্য ভয় পাই, তাহলে এরা এরচেয়ে অনেক বেশি ভয় পাবে। আমি তাদেরকে এই ভয়টা দেখাতে চাচ্ছি না। তাদের মনটাকে ছোট করে আমার কী লাভ? বরঞ্চ তারা যদি দেখে আই অ্যাম ভেরি স্ট্রং, তারাও এক ধরনের স্ট্রেংথ পায়। ভয় পাব না, এমন সাহসী মানুষ আমি নই।
পরিস্থিতি ভারী হয়ে যাচ্ছে। কারণ প্রসঙ্গটা স্বাভাবিক না। তাই অন্য প্রসঙ্গে আলোচনাটা নিয়ে যেতে হলো। হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় বিষয়গুলোর সঙ্গে 'বিলাস শব্দটা জুড়ে আছে। তাই জানতে চাওয়া-
স্যার, একটা ইন্টারেস্টিং বিষয়। আপনার প্রিয় স্থানগুলোর নামের সঙ্গে বিলাস আছে। যেমন সমুদ্র বিলাস, বৃষ্টি বিলাস, ভূত বিলাস। সবই তো বিলাস।
একটা বনবিলাস থাকলে ভালো হতো, তাই না? জঙ্গলের মধ্যে বাড়ি। এইডা বাদ পড়ে গেছে।
বিলাস কেন?
বিলাস মানে আমরা সবাই বিলাসী না! আমি সবকিছুতে আনন্দ খুঁজি আর সেজন্যই নামে বিলাস থাকে।
প্রকৃতি আপনার খুব প্রিয়। বেশি প্রিয় কোনটি?
সমুদ্র।
কেন?
কারণ প্রতিনিয়ত সমুদ্র চেঞ্জ হচ্ছে। এই ঢেউ, এই ঢেউ নাই। সূর্যের আলো এই এক রকম দেখাচ্ছে, এই অন্যরকম দেখাচ্ছে।
এই জন্যই কি 'সমুদ্র বিলাস'টা সেন্টমার্টিনে করেছিলেন?
হ্যাঁ। শেষ বেলাটা যেন সমুদ্র দেখতে দেখতে আমার জীবনের ইতি হয়। এই আকাঙ্ক্ষা থেকে আমি সেন্টমার্টিনে একটা জায়গা কিনেছিলাম। একই আকাঙ্ক্ষা থেকে আমি টেকনাফেও একটা জায়গা কিনেছিলাম।
আবার আলোচনায় বিরতি। মধ্য দুপুর। হুমায়ূন স্যার চলে গেলেন। গোসল করে মধ্যাহ্নভোজ করবেন। তারপর বিশ্রাম। বিশ্রাম মানে গা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকা নয়। দু'আড়াই ঘণ্টা ঘুমাবেন। তারপর উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করবেন।
তিন.
ঘুম থেকে উঠে বেরিয়েছেন হুমায়ূন স্যার। বেশ ফ্রেশ লাগছে। ঘুমটা গায়ে লেগেছে মনে হয়। চোখ-মুখ অনেক সতেজ। এবার এসে তিনি বসলেন তার কুটিরের পাশেই, গাছতলায়। গাঁদা ফুল বাগানের মধ্যে।
শুরুতেই কঠিন আলোচনায় না যাওয়াই ভালো। ঘুম থেকে উঠলে মানুষের স্বাভাবিক হতে একটু সময় লাগে। তাই ক্রিকেট প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার শুরু।
স্যার আবার ক্রিকেটের পাগলা ভক্ত, তবে অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলা।
স্যার, নিউইয়র্কে বসে কি ক্রিকেট দেখতে পেয়েছিলেন?
না। আমেরিকায় খেলা দেখার সুযোগ নেই। এরপরও কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে আমাকে খেলা দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওখানে একটা বল হওয়ার পর অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ক্রিকেট একটা স্পিডি খেলা। সেই স্পিডটা পাইনি। তাই মজা লাগেনি।
বাংলাদেশ এশিয়া কাপে ভালো করেছে।
হুম। ওভারঅল পারফরম্যান্স ভালো লেগেছে। তবে ফাইনালে মাত্র ২ রানের হারে দুঃখ পেয়েছি। দুর্ভাগ্য আমাদের, জিতলে কী ক্ষতি হতো?
দেশে তো গরম পড়েছে খুব।
হ্যাঁ, ভীষণ গরম। ঠাণ্ডার দেশ থেকে এসে গরমে পড়েছি।
দেশও কিন্তু গরম। হরতাল হচ্ছে।
দেশ গরম। এই সময়ে কালবৈশাখী হয়। রাজনৈতিক কালবৈশাখী সব সময়ই হয়। এটা জানা কথা। বাইরে থেকে সেটা খুব একটা টের পাইনি। অল্প সময়ের জন্য দেশে এসেও যে টের পাচ্ছি তা নয়। তবে শুনেছি।
গুম-টুমও কিন্তু হচ্ছে।
হ্যাঁ, কি করা যাবে বলো!
খুব একটা কিছু বললেন না তিনি। তবে অভিব্যক্তি দেখে মনে হলো, রাজনৈতিক অস্থিরতায় তিনি খুশি নন। এবার আবার আসল প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু হলো :
আপনার অবস্থানে আপনি ঈর্ষণীয় পর্যায়ের জনপ্রিয়তার অধিকারী। একজন সাধারণ মানুষের তুলনায় সেই জনপ্রিয়তার বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
সিম্পল। আমি খুশি যে, আমি লিখতে পারছি। এতেও খুশি যে, কারও কারও কাছে সেটি ভালো লাগছে। সাধারণ মানুষ হয়তো লেখার চেষ্টা করেনি বা করলেও আমার মতো উপভোগ করতে পারেনি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি অনেক বড় কিছু আর আরেকজন 'সাধারণ'। উই অল আর হিউম্যান বিং। আমাদের সবার মধ্যেই চিন্তাশক্তি, ক্রিয়েটিভিটি, আনন্দ-বেদনা অনুভূতি আছে। আমি সে সব মানুষের তুলনায় মোটেও আলাদা নই। কখনো সেটা দাবিও করি না।
৪২ বছর ধরে লেখালেখি করছেন, ক্লান্ত লাগেনি কখনো?
লেখালেখির কাজটি আমার কাছে কখনোই ক্লান্তিকর মনে হয়নি। আমার কাছে এটি খুবই আনন্দময় কাজ। আর সেই আনন্দ থেকেই লিখে যাচ্ছি।
আপনার কর্মে আপনি কতটা তৃপ্ত? সবচেয়ে বেশি তৃপ্ত কিসে? অতৃপ্তি আছে কী?
আসলে দুই ধরনের মানুষ আছে। এক ধরনের মানুষ যারা কোনো কিছুতেই তৃপ্ত নয়। কিন্তু আমি খুব অল্পতেই তৃপ্ত। অতৃপ্তি ব্যাপারটা আমার মধ্যে নেই। আর যখন যে কাজটা করি সেটাতেই আমি সবচেয়ে বেশি তৃপ্ত হই। আমি যে ছবিটা বানালাম আমার কাছে মনে হয় এটাই আমার সেরা কাজ। সেরা বইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটা নতুন কাজ আমার কাছে শ্রেষ্ঠ মনে হয়। আমার অতৃপ্তি নেই। মেবি আমি ক্রিয়েটিভ লোক না। কারণ শুনেছি ক্রিয়েটিভ লোকদের তৃপ্তি থাকতে হয় না, অতৃপ্তি থাকতে হয়।
নিউইয়র্কে ছবি এঁকেছেন। ছবির বিষয়গুলো কী?
বিষয় প্রকৃতি। আমি তো অ্যাবস্ট্রাক্টয়ের মধ্যে যাই না। দুই-তিনডা টান দিয়া ছাইড়া দিলাম। একটা বিশাল কিছু হইয়া গেল। আমি এর মধ্যে নাই। আমার বিষয় প্রকৃতি।
আঁকাআঁকির চিন্তাটা কীভাবে এলো?
এটা কমবেশি সবার থাকে। আমি ছবি অাঁকলাম বলে বিশাল কিছু হয়ে গেল এমন না। ছোটবেলায় আমরা সবাই ছবি অাঁকি। তবে আমার ব্যাপারটা জেনেটিক কি না জানি না। আমার এক ভাই আহসান হাবিব তো কার্টুন পত্রিকা উন্মাদ সম্পাদক। আরেক ভাই জাফর ইকবাল গণকণ্ঠে স্টাফ কার্টুনিস্ট ছিল।
অনেকেই হিমু বা মিসির আলী সাজার চেষ্টা করেছে। আপনার ব্যক্তিগত অবজারভেশন থেকে এমন কাউকে খুঁজে পেয়েছেন, যাকে হিমু বা মিসির আলীর সঙ্গে মিলে যায়?
মিসির আলী হচ্ছে লজিক্যাল লোক। এরকম লজিকনির্ভর লোক প্রচুর আছে। আর হিমু এন্টিলজিক্যাল লোক। সে ভালো লাগার উপরে চলে। এরকম লোকও কিন্তু প্রচুর আছে।
অনেকেই হিমুকে নিজের মধ্যে লালন করে হিমু সাজতে চায়। আপনি বিষয়টি কীভাবে নেন?
আমি মজা পাই। আবার দুঃখও পাই আরেক সেন্সে। আমাদের এখানে সাই-কিয়াট্রিস্টরা অনেক ওয়ার্ড ব্যবহার করে। আর সেখানে একটি ওয়ার্ড আছে 'হিমু' ওয়ার্ড। তার মানে হিমু হইয়া পাগল হইয়া গেছে। আমার একবার যাইতে হইছিল ওদের কাছে। বাচ্চারা যারা হিমু হইয়া পাগল হইয়া গেছে তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। ওদেরকে বোঝানোর জন্য যে, এতে পাগল হওয়ার কিছু নেই। আমি মনে খুবই কষ্ট পেলাম এদেরকে দেখে। এরা হিমু সেজে পাগল হয়ে বসা। আমি ওদেরকে বুঝাইয়া বলতে গেলাম, শোনো এই হিমুগুলি আমার লেখা। কাজেই আমি জানি, এটা ফিকশন। এটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কিছু নেই। এরা আমার দিকে এমনভাবে তাকালো যেন আমি কিছু বুঝি না। কিছু জানি না।
হুমায়ূন সাহিত্য পড়লে একজন পাঠকের কি প্রত্যাশা পূরণ হবে?
সে আনন্দটা পাবে। পড়ার আনন্দটা পাবে এটুকু বলতে পারি। কিন্তু সে যে পড়ে বিশাল জ্ঞানী হয়ে যাবে, আমি সেটা মনে করি না। বিশাল একটা বোধ তৈরি হবে, সেটাও আমি মনে করি না।
কিন্তু এরপরও আপনার অনেক লেখায় আনন্দ দানের পাশাপাশি বৃক্ষ, দর্শন, রসায়ন, বিজ্ঞানসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনেক কিছুই থাকে।
সেটা অপরিহার্য বলে আসে। কিন্তু আমি বলি না। কারণ আমি নিজে লিখে আনন্দ পাই এবং এমনভাবে লেখার চেষ্টা করি যাতে করে পাঠক পড়ে আনন্দ পায়। জ্ঞান দেওয়ার কিছু নেই।
আপনার হিমু মিসির আলী শুভ্র চরিত্রগুলোর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। এসব চরিত্র বা অন্য চরিত্রগুলোর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদকে সবচেয়ে বেশি খুঁজে পাওয়া যাবে?
সব চরিত্রেই একটু একটু করে আছে। খুবই অল্পভাবে আছে। সেরকমভাবে কারও মধ্যেই নেই।
পুনর্জন্ম থাকলে হিমু মিসির আলী নাকি শুভ্র- কী হতে চাইবেন?
পুনর্জন্ম বলে কিছু যদি থেকে থাকে তাহলে পরের জন্মে আমি অবশ্যই মিসির আলী হয়ে পৃথিবীতে আসতে চাই।
মিসির আলী কেন?
লজিক। মিসির আলী লজিক্যাল লোক। আমার লজিক পছন্দ।
আপনার শেষ চলচ্চিত্র 'ঘেঁটুপুত্র কমলা'। ঘেঁটু শিল্পীদের নিয়ে একটা ছবি করার বিষয়টি কবে থেকে মাথায় এলো?
অনেক আগে আমি একটা গল্প লিখেছিলাম ঘেঁটু শিল্পীদের নিয়ে। গল্পটার নাম এই মুহূর্তে মনে আসছে না। যখন ছবি বানাব ঠিক করলাম তখন মনে পড়ল ছবির জন্য এটা খুবই ইন্টারেস্টিং বিষয় হতে পারে। তবে মূল কিন্তু গল্পটা।
ঘেঁটুপুত্র কমলা ছবিতে বিশেষ কোনো চমক থাকছে কী?
বিষয়টাই তো অন্যরকম। একেবারে স্ট্রেইঞ্জ একটা সাবজেক্ট। আমি মনে করি, এই সাবজেক্টটাই সবচেয়ে বড় চমক।
এই ছবি নিয়ে দর্শকদের কী বলবেন?
দর্শকদের কাছে বলব, তারা যেন বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে এই ছবিটা না দেখে। বাচ্চারা জিনিসটা বুঝবেও না। খামোকা ওরা একটা ধাক্কা খাবে। বাচ্চারা বিব্রতকর প্রশ্ন করুক, আমি সেটা চাই না। বিদেশি ছবিতে রেটিং থাকে। আমাদের দেশে সেটা নেই। যদি প্যারেন্টার্স গাইডেন্স বা অ্যাডাল্ট রেটিং দেয়া যেত তাহলে ভালো হতো।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের আজকের যে বিশালত্ব আপনাকে তার জাদুকর বলা যায়। আপনি কি মনে করেন?
বাংলা সাহিত্যে অনেক বড় বড় জাদুকর তৈরি হয়েছে। আমাকে বাংলা সাহিত্যের একজন দীন সেবক বলা যেতে পারে। সেবা করে যাচ্ছি। সেবা করার যে সুযোগটা পেয়েছি এতেই আমি খুশি। লোকজন আগ্রহ নিয়ে আমার বই পড়ছে, এটাই আমার জীবনের পরম প্রাপ্তি। আর কতটুকু দিতে পেরেছি না পেরেছি সেটি ভাববে সমালোচকরা, সমাজবিদরা। আমার কাজ হচ্ছে, শুধু লেখালেখি করা।
আপনার প্রকাশিতব্য উপন্যাস দেয়াল প্রকাশের আগেই দেয়াল তৈরি হয়েছে। কী বলবেন?
দেশের সর্বোচ্চ আদালত আমাকে কিছু জিনিস পরিবর্তন করতে বলেছে। তাদের প্রতি সম্মান রেখে আমি অবশ্যই সেটা করব। আগস্ট খুব বেশি পুরনো কোনো ঘটনা নয়। আমি বাদশাহ নামদার লিখতে পারি। কারণ ওগুলো অনেক পুরনো ঘটনা। কিন্তু অল্প পুরনো বিষয় নিয়ে লিখলে সেটা শতভাগ নিখুঁত হওয়াই উচিত।
ঈদসংখ্যা মানেই আপনার লেখা। ঈদ আসছে। প্রস্তুতি কেমন?
এখনো প্রস্তুতি নেই। চেষ্টা হয়তো করব। পারব কি-না জানি না। নতুন যারা লিখছে তারা কেমন করছে?
একটা মানুষ এক জীবনে ১০ হাজারের বেশি বই পড়তে পারে না। পৃথিবীতে ১০ হাজারের অনেক বেশি বই আছে। তাই আমি চেষ্টা করি সব সময় বেস্ট ক্লাসিক্যাল বই পড়তে। নতুনদের বই পড়ে সময়টা নষ্ট করতে চাই না। তবে যারা আমাকে বই উপহার হিসেবে দেয়, আমি দায়িত্ব নিয়ে সেগুলো পড়ি। কিন্তু লেখকরা সাধারণত অহঙ্কারী হয়। তারা নিজের বই দিতে চায় না। 'আপনার কেমন লাগল স্যার জানাবেন'- এটা বলে না। অহঙ্কারের কারণে। আমি যখন শুরু করেছি, আমিও তাই করেছি।
কিন্তু আপনাকে দেখে অহঙ্কারী মনে হয় না।
আমি অবশ্যই অহঙ্কারী। আমার বাইরেরটা দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমি প্রচণ্ড মাত্রায় অহঙ্কারী। কিন্তু সেটা প্রকাশ করি না। প্রকাশ করে কী লাভ?
এখন গান লিখেন না?
আমি গীতিকার নই। তবে মাঝে মাঝে লিখছি, ভালো লাগা থেকে।
ভক্ত ও নতুন প্রজন্মের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী?
জীবনের প্রতি একটা বোধ তৈরি হোক, এটাই চাই। কারণ বেঁচে থাকতে হলে এটা খুবই একটা ইম্পট্যান্ট ব্যাপার।
আপনার সুস্থতা কামনায় গোটা দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। তাদের উদ্দেশে কি বলবেন?
বলব, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যা হওয়ার তাই হবে। তারা সবাই ভালো থাকুক। সুন্দর থাকুক।
বেলা শেষ। অন্ধকার নেমে এসেছে। হুমায়ূন স্যার উঠলেন। বললেন, 'বাবারা, তোমরা ভালো থেকো...'। মেহের আফরোজ শাওন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আজই ঢাকা ফিরে যাবে পুরো পরিবার। তারপর নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রস্তুতি। ১ জুন নিউইয়র্ক যাবেন। ক্যান্সার চিকিৎসার চূড়ান্ত পর্ব। তিনি আবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। অবশ্যই আসবেন। আসতে হবে। এই নুহাশ পল্লী, পল্লীর প্রতিটি বৃক্ষ-সন্তান নিশ্চয়ই তার জন্য প্রার্থনা করবে। হুমায়ূন আহমেদ, আপনি ফিরে আসুন- সুস্থ হয়ে, এই দেশে।
সাক্ষাৎকারটি হুমায়ূন আহমেদ-এর ফেসবুক থেকে নেয়া। পড়ে ভালো লাগায় আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি
২|
০৪ ঠা জুন, ২০১২ বিকাল ৪:৩৭
কপালপোড়া বলেছেন: বেস্ট অব লাক...................
৩|
০৪ ঠা জুন, ২০১২ বিকাল ৪:৫২
সহ্চর বলেছেন:
হুমায়ূন আহমেদ, আপনি ফিরে আসুন- সুস্থ হয়ে, এই দেশে।
৪|
০৪ ঠা জুন, ২০১২ বিকাল ৫:১৩
সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: ফিরে আসুন...।
৫|
০৫ ই জুন, ২০১২ বিকাল ৪:১০
বিডিওয়েভ বলেছেন: ফিরে আসুন...।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা জুন, ২০১২ বিকাল ৩:২৯
তোমোদাচি বলেছেন: ভাল লাগল