নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অস্ট্রেলিয়ায় সর্বাধিক পঠিত একটি পত্রিকা

বাংলা নিউজ অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় সর্বাধিক পঠিত একটি বাংলাপত্রিকা

বাংলা নিউজ অস্ট্রেলিয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

ডিজিটাল যুগের শিক্ষা ব্যবস্থা

১৪ ই মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৬



নিউজ সাইটের জন্য এখানে ক্লিক করুন

পূর্বসূরিদের চেয়ে খানিকটা সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি ডেকে আনছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, যেখানে মানুষের জন্য সুবিধাজনক ও কল্যাণকর অবস্থা তৈরির বদলে প্রযুক্তি মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে, মানুষকে সরিয়ে তাদের কর্মস্থলগুলোয় জায়গা করে নিচ্ছে। স্বভাবতই প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে এ থেকে কে উপকৃত হবে।

পণ্যের মূল্য কমানোর পাশাপাশি আরো বেশি ব্যবহার উপযোগী ও ক্রেতাবান্ধব করার জন্য মানুষের বদলে স্বয়ংক্রিয় কিংবা প্রযুক্তিসক্ষম পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো লাভের পরিমাণ বাড়াতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই মানুষকে, বিশেষ করে পণ্যটির উৎপাদন কাজের সঙ্গে যে শ্রমিকরা জড়িত আছেন, তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।

বিশ্বজুড়ে উবার বা এ ধরনের রাইড শেয়ারিং সেবার জনপ্রিয়তা প্রচলিত ট্যাক্সিচালকদের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে। তাহলে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত চালকবিহীন গাড়ির মূল্য কমে আসবে এবং তা নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে, তখন উবার কিংবা ট্যাক্সিচালকরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারাবেন।

বর্তমানে স্টক লেনদেনের মধ্যে ৭৯ শতাংশ বাজার লেনদেন সঞ্চালিত হয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ইয়েল স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের ফ্রাংক ঝ্যাং দেখিয়েছেন, মানুষের তুলনায় মেশিন আরো কার্যকরভাবে নির্ণয় করতে সক্ষম। বিষয়টি সাম্প্রতিক স্টক মার্কেটের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, এটি মানব বণিকদের জন্য খুব একটা ভালো ইঙ্গিত দেয় না।

ব্যক্তিগতভাবে আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, গুগল ট্রান্সলেট খুব একটা খারাপ অনুবাদ করছে না। হ্যাঁ, এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্য কিছু জায়গায় হাত লাগাতে হবে, তখন থেকে আমি ভাষান্তরের পেছনে অর্থ খরচ কমিয়ে ফেলি। এতে আগে স্নাতকপড়ুয়া যে শিক্ষার্থীরা আমাকে অনুবাদের কাজ করে দিত, তাদের বাড়তি আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রযুক্তির উত্কর্ষে অচিরেই দোভাষীদের পেশাটি ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলা হলেও যুগ যুগ ধরে যারা দোভাষীর কাজ করে আসছেন বা অনুবাদক হিসেবে উচ্চ বেতনভোগী পেশা দখল করে আছেন, খানিকটা অবজ্ঞাভরেই তারা হয়তো বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করছেন। তারা মনে রাখবেন, মেশিন লার্নিং জটিল ‘গো’ গেমের সফলতা নির্দেশ করে যে, মেশিনের শেখার ক্ষমতাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

সংক্ষেপে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত এ বিপ্লবে জয়ী এবং বিজেতা দুটি পক্ষই থাকবে। জয়ের জন্য অতি অবশ্যই আমাদের শুধু প্রযুক্তির দখল এড়ালে চলবে না বরং প্রযুক্তিবিষয়ক নতুন সুযোগগুলো নিজেদের সুবিধার্থে কাজে লাগাতে হবে। যেমন, কোরিয়ান বংশোদ্ভূত জাপানের শিল্পপতি মাশাওশি সাঁয়ের উবারে বিনিয়োগ কিংবা জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অধুনা অর্থনীতির সুবিধা নেয়া। আর এসব বিষয় শুধু ব্যক্তির জন্যই ফলপ্রসূ নয়, বরং পুরো অর্থনীতির জন্যই কল্যাণকর।

ধরা যাক, জাপানে জনসংখ্যার হার কমে যাওয়া এবং বয়স্ক লোকের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য মানবসম্পদের উন্নয়নের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জেমস হ্যাকম্যান যেমনটা দেখিয়েছেন যে, শিশুদের শিক্ষা উৎপাদনশীলতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ২০১৯ সালের মধ্যে ভোগকর বৃদ্ধি থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত রাজস্বের অর্ধেকটাই খরচ করা হবে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে। এ ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল অর্থনীতির বিষয়ে পারদর্শী করে তুলতে হবে। পাঠ্যসূচিতে আমূল পরিবর্তন আনা যেতে পারে, যেখানে আবৃত্তি শেখা কিংবা যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগের মতো গণনা শেখার চেয়ে গঠনমূলক চিন্তা, যোগাযোগ স্থাপন এবং নেতৃত্ব তৈরির দিকে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে।

জাপান কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই আমেরিকান টেলিভিশন গেম শো ‘জিওপারডি’র মতো। এখানে ওই ব্যক্তি বিজয়ী হন, যিনি অনেক বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। জাপানের শিক্ষা পদ্ধতিতে অনেক বেশি প্রশ্নের উত্তর জানার মানে হচ্ছে, ওই শিক্ষার্থী হেনসাচি তালিকাভুক্ত, আক্ষরিক অর্থে যাকে বলা হয় ‘স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন’। যেখানে মূল্যায়ন করা হয়, একজন শিক্ষার্থী কত বেশি সূক্ষ্মভাবে বিভিন্ন সূত্র ও ঘটনা মুখস্থ করে তা মনে রাখতে পারদর্শী। ওই মুখস্থবিদ্যার ওপর ভিত্তি করেই সে নির্দিষ্ট একটি নম্বর পায়।

হেনসাচি তালিকায় উচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই পরবর্তীতে স্বনামধন্য ও কঠোরভাবে পরিচালিত স্কুল, কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। চিকিৎসক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে না চাইলেও মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষাগুলো অনেক বেশি কঠিন হওয়ায় তাদের প্রায়ই চিকিৎসাবিদ্যায় পড়তে উৎসাহ দেয়া হয়। অন্যথায় ফিন্যান্স, অর্থনীতি কিংবা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়ার সুযোগ পেতে তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়। উদ্দেশ্য, ভবিষ্যতে অর্থ, অর্থনীতি কিংবা বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন আমলা হিসেবে কাজের সুযোগ করে নেয়া। কিংবা টয়োটা ও সনির মতো শীর্ষ অভিজাত কোম্পানিতে কাজের সুযোগ খোঁজা।

এভাবে হেনসাচি স্কোর একজন মানুষের সামগ্রিক ক্যারিয়ারের গতিপথটি কী হবে, তা নির্ধারণ করে দেয়। উচ্চ স্কোর মানে আয়েশি জীবন এবং এর ব্যাপ্তি অবসর গ্রহণের পর অবধি বিস্তৃত। বলা হচ্ছে, শৈশব থেকেই গাদা গাদা সূত্র আর ঘটনা মুখস্থ করতে গিয়ে জাপানের শিক্ষার্থীরা এক ধরনের চাপের মধ্যে থাকে। অভিভাবকরাও তাদের বসতি গুটিয়ে এমন একটি জায়গায় আবাসন খুঁজে নেন, যেখানে কিন্ডারগার্টেন স্কুল আর স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সংযোগ রয়েছে।

এ শিক্ষা ব্যবস্থার গোড়াপত্তন কিন্তু জাপানে হয়নি। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে চীনের আমলাদের মূল্যায়ন ও অগ্রগতি সাধনের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়। উচ্চ স্কোর প্রাপ্তির এ পদ্ধতি চীনের ওই ব্যবস্থার এক ধরনের সংস্করণ। এটি যদিও গুণতন্ত্রের একটি ফর্ম ও স্বজনপ্রীতির চেয়ে শ্রেয়, তবে তা বাস্তবতাকে বিবেচনা করতে অপারগ কারণ মুখস্থবিদ্যা কখনো সৃজনশীলতা বা উদ্ভাবনী প্রবণতার ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। যদিও তা সম্ভব হয়, আমরা তা খুঁজে বের করতে পারব না কারণ ভালোমতো একটি স্কোর প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যত বেশি তথ্যসূত্র মুখস্থ করতে হয়, ততই নতুন চিন্তা করা এবং শেখার সময়টা সংকুচিত হতে থাকে। ফলে নিজ দক্ষতার উন্নয়ন বা প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে বাস্তবিকভাবে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করা বা অবদান রাখার ক্ষেত্রটাও কমে আসে। তাছাড়া যারা প্রতিভাবান, গত্বাঁধা শিক্ষাপদ্ধতির বাইরে গিয়ে নিজেদের জ্ঞানের ক্ষেত্রকে বাড়াতে চান, হেনসাচি পদ্ধতি তাদের সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করে। তবে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এ যুগে প্রতিভা ও দক্ষতার মূল্য আগেকার যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তাত্পর্যপূর্ণ।

চতুর্থ এ শিল্প বিপ্লব জাপানের শিক্ষা পদ্ধতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে ফেলেছে, বিশেষ করে ওইসব ক্ষেত্রে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের দৌড়ে মানুষ পেরে ওঠে না। আমাদের প্রযুক্তিগত যাবতীয় উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের সৃজনশীলতা উদ্ভাবনপটুতায় এক ধরনের অসমতা থেকে গেছে। তাই আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে, নতুন প্রজন্মকে তাদের সহজাত প্রতিভার কার্যকর ব্যবহারের যথাসাধ্য সুযোগ দিতে।

বাংলা নিউজ অস্ট্রেলিয়া

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.