নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খুবই সাধারন একজন মানুষ । পড়া যার নেশা । পড়ার এবং জানার আশায় ----

মোহামমদ কামরুজজামান

মোহামমদ কামরুজজামান › বিস্তারিত পোস্টঃ

" আল কোরআন " সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী গ্রন্থ এবং মানব জাতির মুক্তির আলোকবর্তিকা । (আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ৪)।

২৯ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৫:৪৯


ছবি - shadow.com.bd

অসীম এবং সীমাহীন এ দুনিয়ায় স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের জীবন খুবই ছোট বা সংক্ষিপ্ত ।এই সংক্ষিপ্ত জীবনে বা মানুষের এক জীবনে যা যা দরকার, তার সবই সাজানো রয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআনের পরতে পরতে। সুস্থ সুন্দর, সুখী-পরিতৃপ্ত জীবনের জন্যে যা প্রয়োজন, আল কোরআনের পাতায় পাতায় রয়েছে তারই দিক-নির্দেশনা।সবকিছু মিলিয়েই মানুষের এ মানব জীবন। আর তাই সমস্যা শরীরের হোক বা মনের, যৌন জীবনের জট হোক বা অর্থনৈতিক জটিলতা, পণ্যের আসক্তি হোক বা প্রবৃত্তির দাসত্ব, ব্যক্তির অসততা হোক বা সামাজিক অবিচার, পার্থিব সুখ হোক অথবা পরকালীন পরিত্রাণ, সব একই সূত্রে গাঁথা। আর এ সব কিছুকে একটাকে আরেকটা থেকে আলাদা করা যায় না। কোরআন এই চিরায়ত সত্যকেই প্রকাশ করেছে সুস্পষ্টভাবে।

আল কোরআনের শুরুতেই বলা হয়েছে - "পড়ো! তোমার সৃষ্টিকর্তা প্রভুর নামে। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ো!আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। আর শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না"।( সূরা আলাক,আয়াত - ১-৫) এই আয়াত দিয়েই কোরআন নাজিলের সূচনা

শুরুতেই কোরআন মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে পড়তে ও জানতে। কোরআন অজ্ঞতাকে অভিহিত করেছে মহা পাপ রূপে। মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে জ্ঞানের পথে, মুক্তবুদ্ধির পথে। এমনকি বিশ্বাসের স্তরে পৌঁছার জন্যেও মানুষের সহজাত বিচারবুদ্ধির প্রয়োগকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কোরআন। বৈষয়িক ও আত্মিক জীবনকেও একই সূত্রে গেঁথেছে কোরআন। সুস্পষ্টভাবেই বলেছে, আল্লাহর বিধান অনুসরণ করো। দুনিয়া ও আখেরাতে তুমি সম্মানিত হবে।

পবিত্র এবং মহাগ্রন্থ আল কোরআনে মানব জীবনের সব দিক-নির্দেশনার বর্ণনার পাশাপাশি মানবজাতীর প্রতি উপদেশ স্বরুপ বেশ কিছু আয়াত আছে।আসুন আমরা সেগুলো সম্পর্কে জানি -


ছবি - samakal.com

১।ঋতুস্রাবের সময় স্ত্রী সহবাস পরিহার করো।(সুরা বাকারা - আয়াত - ২২২)।

"আর তারা আপনাকে রজঃস্রাব (হায়েজ) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা ‘অশুচি’। কাজেই তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রী-সঙ্গম থেকে বিরত থাক এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত (সঙ্গমের জন্যে) তাদের নিকটবর্তী হবে না । তারপর তারা যখন উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হবে তখন তাদের নিকট ঠিক সেভাবে গমন করবে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং তাদেরকেও ভালোবাসেন যারা পবিত্র থাকে"।

২। শিশুকে পূর্ণ দুই বছর বুকের দুধ খাওয়াও।(সুরা বাকারা - আয়াত - ২৩৩।

"আর মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে, (এটা) তার জন্য যে দুধ পান করাবার সময় পূর্ণ করতে চায়। আর পিতার উপর কর্তব্য, বিধি মোতাবেক মাদেরকে খাবার ও পোশাক প্রদান করা। সাধ্যের অতিরিক্ত কোন ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয় না। কষ্ট দেয়া যাবে না কোন মাকে তার সন্তানের জন্য, কিংবা কোন বাবাকে তার সন্তানের জন্য। আর ওয়ারিশের উপর রয়েছে অনুরূপ দায়িত্ব। অতঃপর তারা যদি পরস্পর সম্মতি ও পরামর্শের মাধ্যমে দুধ ছাড়াতে চায়, তাহলে তাদের কোন পাপ হবে না। আর যদি তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে অন্য কারো (কোনো ধাত্রী দ্বারা) থেকে দুধ পান করাতে চাও, তাহলেও তোমাদের উপর কোন পাপ নেই, যদি তোমরা বিধি মোতাবেক তাদেরকে যা দেবার তা দিয়ে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা"।

৩। সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো।(সুরা বাকারা - আয়াত - ২৮৭।

"আর তাদের নবী তাদেরকে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ্‌ অবশ্যই তালূতকে তোমাদের রাজা করে পাঠিয়েছেন।’ তারা বলল,‘আমাদের উপর তার রাজত্ব কিভাবে হবে, অথচ আমরা তার চেয়ে রাজত্বের বেশি হকদার এবং তাকে প্রচুর ঐশ্বর্যও দেয়া হয়নি!’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ্‌ অবশ্যই তাকে তোমাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তিনি তাকে জ্ঞানে ও দেহে সমৃদ্ধ করেছেন।’ আর আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছে স্বীয় রাজত্ব দান করেন আর আল্লাহ্‌ সর্বব্যাপী প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ"।

৪। দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই বা ধর্ম নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি নয়।(সুরা বাকারা - আয়াত - ২৫৬)।

"দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই , সত্য পথ সুস্পষ্ট হয়েছে ভ্রান্ত পথ থেকে। অতএব, যে তাগূতকে অস্বীকার করবে ও আল্লাহ্‌র উপর ঈমান আনবে সে এমন এক দৃঢ়তর রজ্জু ধারন করল যা কখনো ভাঙ্গবে না । আর আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী"।

৫। মানুষের নিঃস্বার্থ উপকার করো বা প্রতিদান কামনা করে দান বিনষ্ট কোরো না।(সুরা বাকারা - আয়াত - ২৬৪)।

"হে মুমিনগণ! দানের কথা বলে বেড়িয়ে এবং কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যাক্তির ন্যায় নিষ্ফল করো না,যে নিজের সম্পদ লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করে থাকে এবং আল্লাহ্‌ ও আখিরাতে ঈমান রাখে না। ফলে তার উপমা হল এমন একটি মসৃণ পাথর যার উপর কিছু মাটি থাকে, তারপর প্রবল বৃষ্টিপাত সেটাকে পরিষ্কার করে দেয় । যা তারা উপার্জন করেছে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগানোর ক্ষমতা রাখে না। আর আল্লাহ্‌ কাফের সম্প্রদায়কে হিদায়াত করে না"।


ছবি - sangbadchorcha.com

আল কোরআন হলো কালামুল্লাহ।কালাম অর্থ শব্দ, বাক্য,কথা।কালামুল্লাহ হলো আল্লাহর বাণী।কোরআন সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ এবং হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) সর্বশেষ নবী ও রাসুল।কিয়ামত পর্যন্ত আগত সব মানুষকে দুনিয়ার শান্তি ও পরকালের মুক্তির জন্য কোরআনের দর্শন ও নির্দেশনা এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনুপম আদর্শ অনুকরণ ও অনুসরণ করতে হবে। কিতাব অনুসরণের জন্য চাই নিঃশর্ত বিশ্বাস। হিদায়াত লাভের শর্ত হলো তাকওয়াবান বা মুত্তাকি হওয়া। মুত্তাকি হওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে যে পাঁচটি বিষয় মানতে হবে তার অন্যতম হলো কিতাবে বিশ্বাস স্থাপন করা। কোরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, " আর যারা ঈমান আনে তাতে, যা আপনার উপর নাযিল করা হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে নাযিল করা হয়েছে , আর যারা আখেরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী " ।(সুরা বাকারা, আয়াত - ৪)।

মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে আল কোরআন জানার-বুঝার এবং আল কুরআনের আলোকে জীবন গড়ার তওফিক দান করুন।

চলবে -

===============================================================

পূর্ববর্তী পোস্ট -

আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ৩ Click This Link
আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ২ Click This Link
আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ১ Click This Link

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জুন, ২০২১ রাত ৯:১২

কামাল১৮ বলেছেন: ইসলাম ধর্ম প্রচারের আগে কি মানুষ জন অপরিপূর্ন জীবন ধারন করতে বা এখনো যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে নাই তাদের জীবন ধারন অপরিপূর্ন।এমন একটা দাবি করেন যার কোন যুক্তিযুক্ত অর্থ হয় না।বরং এটা বলতে পারেন এটা মুসলমানদের বিশ্বাস।

৩০ শে জুন, ২০২১ দুপুর ১:২০

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ কামাল১৮ ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য।

" পরিপূর্নতা " - শব্দটি আপেক্ষিক ।একেক জনের নিকট তা একেক অর্থ বহন করে।একজনের নিকট যা পরম পাওয়া বা অমূল্য তা আবার অন্যের কাছে মূল্যহীন ও হতে পারে।

যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে,তাদের ইসলামের নিয়ম-নীতি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং তাদের জন্যই আল কোরআন পরিপূর্ণ সংবিধান তথা দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ যেথায় জন্ম থেকে মৃত্যু সময় পর্যন্ত করণীয়-বর্জনীয় সকল বিষয়ের দিকনির্দেশনা রয়েছে। আর এসব আদেশ-নিষেধ মুসলমানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ,অন্য ধর্মের অনুসারীদের জন্য নয়।

২| ২৯ শে জুন, ২০২১ রাত ৯:৩০

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আল কোরআন একটি স্থায়ী মোজেজা। সবার এটা পড়া উচিত। ভালো লিখেছেন।

৩০ শে জুন, ২০২১ দুপুর ১:২১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ সাড়ে চুয়াত্তর ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য।

সঠিক ।আমাদের সকলে মুসলমানেরই আল কোরআন পড়া,তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং আলোকে জীবন অতিবাহিত করার
চেষ্টা করা উচিত।

৩| ২৯ শে জুন, ২০২১ রাত ১০:০৭

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: বাংলায় অনুবাদকৃতি কোরআন পড়েছি। কিঝু কিঝু আয়াত আলাদা করে টুকে রেখেছিলাম।
সব শেষে পড়েছি (এখনো শেষ হয়নি) কোরানুল মজিদ " হুবহু অনুবাদ ও কিছু ব্যাখ্যা - ড.বাবা জাহাঙ্গীর আল সুরেশ্বরী
সদর উদ্দিন আহমদ চিশতীর লেখা কোরান দর্শন-১+২+৩ পড়ার ইচ্ছা আছে, সংগ্রহে নাই।

৩০ শে জুন, ২০২১ দুপুর ১:২৫

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ মরুভূমির জলদস্যু ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য

আমরা যেহেতু বাংলাভাষী সেই হিসাবে বাংলায় অনুবাদ সহ আল কোরআন পড়ার কোন বিকল্প নেই। আর এর ফলেই আমরা কোরআনের অর্থ ভালবাসে বুঝতে পারব এবং সে অনুযায়ী আমাদের জীবন অতিবাহিত করতে পারব।

আপনার ইচছা এবং আশা মহান আল্লাহ পূরণ করুণ - এই প্রার্থনা রইলো।

৪| ৩০ শে জুন, ২০২১ দুপুর ১:৪৬

নীল আকাশ বলেছেন: সুন্দর পোস্ট।
ভাগ্যিস খোঁয়াড়ে এখন বেধে রাখা আছে। না হলে এতক্ষণে এখানে এসে হাগু করা শুরু করে দিতো।

৩০ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৫:৩৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নীল আকাশ ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য।


প্রত্যেক মানুষ তার নিজ নিজ কাজের জন্য নিজেই জবাবদিহী করবে এবং সে তার কৃতকর্মের জন্য যথাযথ প্রতিদান পাবে তা সে দুনিয়া কিংবা পরকালে যেখানেই হোক।

এ যেমন স্রষ্টার বিধান তেমনি দুনিয়াতেও এ আইন প্রযোজ্য।এখন কেউ যদি খোয়ারবদ্ধ হওয়ার মত কোন কাজ করে কিংবা যেখানে সেখানে তার :P হাগু করার মত বদঅভ্যাস থাকে তবে পরিবেশকে দূষনের হাত থেকে রক্ষার জন্য বা সেই ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্যও খোয়ারবদ্ধ (সঙ্গরোধ বা ব্যক্তিকে পৃথকীকরন বা আলাদা) করে রাখার দরকার হয়। এ দুদিকেই নিরাপদ।

এর ফলে আশা করা যায় ,অচিরেই সে রোগ থেকে মুক্তি পাবে এবং স্বাভাবিক জীবনধারায় ফিরে আসবে।

৫| ৩০ শে জুন, ২০২১ দুপুর ১:৪৯

সাসুম বলেছেন: আপ্নার হেডিং এ কিছুটা মিস লিডিং আছে। যেহেতু মুস্লিম ছাড়াও মানব সভ্যতায় হাজারো ধর্ম আছে এবং যার যার কাছে তার তার ধর্ম ও ধর্ম গ্রন্থ সেরা, সো- এটা বলা উচিত-

একমাত্র মুস্লিম দের কাছেই আল কোরআন " সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী গ্রন্থ এবং মুস্লিম জাতির মুক্তির আলোকবর্তিকা।

৩০ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৫:৫৫

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ সাসুম ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য।

আপনি যা বলেছেন,তা অনেকটাই সঠিক ।আপনি যেভাবে ভেবেছেন আমি হয়ত সেভাবে ভেবে দেখিনি তবে যেখানে আল কোরআনের কথা বলা হয়েছে তাতে অনেকটা এভাবেই মনে করা হয় যে, তা শুধু যারা এক আল্লাহতে ঈমান এনেছে বা মুসলিমদের জন্যই এ কথা বলা।

তবে এটাও ঠিক যে, দুনিয়াতে অনেক ধর্ম প্রচলিত আছে এবং ধর্ম পালন তথা অনুসারীদের দিক থেকে ইসলামের অবস্থান এবং এর অনুসারীরা দ্বিতীয় ।তার মানে হল খ্রিস্ট ধর্ম বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তম ধর্ম। আর যে যেই ধর্ম অনুসরন করে তার কাছে সেই ধর্মই শ্রেষ্ঠ।

তবে ইসলামে যেহেতু সকল আসমানী ধর্মগ্রন্থের কথা বলা হয়েছে এবং সকল ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আল কোরআন সবার শেষে এসেছে তাই সর্বশেষ সংস্করণ বা সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী গ্রন্থ হিসাবে আল কোরআনকে অভিহিত করা হয়েছে।আর আমরা যদি দুনিয়াতেও কোন ব্যাপারে দেখি তাহলে দেখব যে কোন কিছুর সর্বশেষ সংস্করণ তার আগের সংস্করণগুলো থেকে অনেকটা উন্নত হয়।

৬| ৩০ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৩:১৮

নতুন বলেছেন: ১।ঋতুস্রাবের সময় স্ত্রী সহবাস পরিহার করো।(সুরা বাকারা - আয়াত - ২২২)।

"আর তারা আপনাকে রজঃস্রাব (হায়েজ) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা ‘অশুচি’। কাজেই তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রী-সঙ্গম থেকে বিরত থাক এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত (সঙ্গমের জন্যে) তাদের নিকটবর্তী হবে না । তারপর তারা যখন উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হবে তখন তাদের নিকট ঠিক সেভাবে গমন করবে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং তাদেরকেও ভালোবাসেন যারা পবিত্র থাকে"।

পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত () তাদের নিকটবর্তী হবে না ।

(সঙ্গমের জন্যে ) এই শব্দটি কি কোরানে আছে? না থাকলে কে এই শব্দটি যোগ করলো?

অনেক সমাজে নারীদের এই সময়ে আলাদা করে রাখতো বাড়ীর বাইরে স্থান হতো নারীদের। যদি এই শব্দটি যোগ না করেন তবে তাদের সাথে সাধারন চলাফেরাও করা যাবেনা ঐ সময়ে।

৩০ শে জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৭

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নতুন ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য।

আরবী ব্যাকরণে আমার তেমন ধারনা নেই ।আমি বাংলা অনুবাদ থেকে যতটুকু এবং যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই বলেছি।

এখানে আপনার প্রশ্নটা ঠিক আছে তবে এ ব্যাপারে আমি সঠি ব্যাখ্যা করতে অপারগ ।আমি যতটুকু পড়েছি-জেনেছি উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে ," হায়েজ (ঋতু অবস্থায়) স্ত্রী গমন থেকে বিরত থাক " ।এখানে স্ত্রী গমন থেকে বিরত থাকা বলতে তার দৈনন্দিন কার্যক্রম বা তার সাথে সাধারন চলাফেরার ব্যাপারে বলা হয়নি ,এটা স্পষ্ট। স্ত্রী গমন বলতে (যৌন মিলন করা তার উদ্যেশ্য) বুঝানো হয়েছে।আর যেহেতু সে নাপাক বা অপবিত্র তাই তাকে ধর্মের হুকুম-আহকাম মেনে চলার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে।তবে কোন ধর্মেই কখনো তাকে বাড়ীর বাইরে বের করে দিতে বলেনি ।

সাধারনত যেটা দেখা যায়,হায়েজ - নেফাজ অবস্থায় যেহেতু সে নাপাক কাজেই তাকে প্রার্থনা এলাকা বা কক্ষে প্রবেশ করতে দেয়না (কোন কোন ধর্মানুসারীরা) তবে ইসলামে তাকে এরকম কোন বিধি-নিষেধ দেয়নি (তবে কোরআন শরীফ স্পর্শ করা বা নামাজ-রোজার মত কাজ থেকে সাময়িক ছাড় দেয়া হয়েছে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরে কাজা আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে) বরং এসময় মুসলিম মহিলাদেরকে নিয়মিত প্রার্থনা তথা ধর্মের পালনীয় বিষয়গুলি থেকে তাকে রেহাই দেয়া হয়েছে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.