| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রুপকথার গল্প
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। কেননা ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে আমাদেরকে খণ্ডকালীন সময়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর এ ছোট্ট জীবনে বিধাতার অভিরুচি অনুযায়ী কর্ম করে যাওয়াটাই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। তাই প্রত্যেকের মনে চিন্তাধারা থাকা উচিত যে, আমারা উত্তম কাজের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। নিজেকে প্রভুর সান্নিদ্ধে রাখতে সচেষ্ট থাকবো। আমিন।
প্রচারণার জন্য ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১২ বছরের জন্য ১০২ কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তির প্রকল্প হাতে নিয়ে তা বাৎসরিক প্রচারণা বলে চালানো হচ্ছে। এভাবে করপোরেট সামাজিক দায়িত্বের (সিএসআর) জনপ্রিয়তার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ব্যবসায়িক নীতির বিরোধী বলে মনে করছেন অনেকেই। তাছাড়া ভুল তথ্য উপস্থাপনের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
জানা গেছে, সারা দেশে ১০২ কোটি টাকার বাৎসরিক শিক্ষাবৃত্তির যে বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে তা মূলত: ১২ বছরের জন্য বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। অথচ ব্যাংকটি বলছে বছরে তারা বৃত্তি দিচ্ছে ১০২ কোটি টাকা। অনুসন্ধানে এ তথ্য জানা গেছে।
ডাচ-বাংলা ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে ১০২ কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প হাতে নেয় ডাচ-বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশন। প্রতি শিক্ষার্থীকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে এক বছরে মোট ১০২ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলে তারা প্রচারণা চালিয়ে আসছে। কিন্তু প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ২৫ কোটি টাকারও কম শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে। ২০১১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা এই মিথ্যা প্রচারণা শুরু করে।
সর্বশেষ গতবছর ডিসেম্বরে ডাচ-বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশন মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে ৮৫৭ জন শিক্ষার্থীকে নতুন করে বৃত্তি দিয়েছে। যার পরিমাণ ১৭ কোটি টাকারও কম।
প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর এ পর্যন্ত আট হাজার ছেলে-মেয়েকে শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। আর এজন্য করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ থেকে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি টাকা।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একজন উধ্বর্তন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মানুষের কাছে ব্যাংকটিকে ব্যবসায়িকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলতেই এমনটি করা হচ্ছে। ১০২ কোটি টাকা শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে জেনে মানুষের ব্যাংকের প্রতি একটি ভালো ধারণা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে।’
এদিকে ব্যাংকের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, শুধু মিথ্যা প্রচার নয়। শিক্ষাবৃত্তি কাদের দেওয়া হবে তা নিয়েও অনিয়ম করে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষাবৃত্তির ৯০ শতাংশ গ্রামের ছেলে-মেয়েদের দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে অনিয়ম করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট হলেই তা বেরিয়ে আসবে বলে সূত্র মনে করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক সিএসআর নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। আবার অনেকে যে পরিমাণ প্রকৃত সিএসআর করে তার থেকে বেশি আনুষ্ঠানিক খাতে খরচ করে। এটি বন্ধ করতে নীতিমালা তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। ব্যাংকটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইয়াহইয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে লেখার কিছু নেই।’
অ্যাগ্রিকালচার ক্রেডিট অ্যান্ড ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক অশোক কুমার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তির বিজ্ঞাপনটি আসলেই ভাববার মতো। কারণ বছরে যদি একটি ব্যাংক ১০২ কোটি টাকার বৃত্তি দেয় তা আসলেই প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমি এর আগে ভাবিনি। যেহেতু এটি আমার নজরে এসেছে তাই ষান্মাষিক রিপোর্ট পাওয়ার পর এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হবে। প্রতারণার প্রমাণ মিললে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।’
©somewhere in net ltd.