| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রুপকথার গল্প
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। কেননা ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে আমাদেরকে খণ্ডকালীন সময়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর এ ছোট্ট জীবনে বিধাতার অভিরুচি অনুযায়ী কর্ম করে যাওয়াটাই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। তাই প্রত্যেকের মনে চিন্তাধারা থাকা উচিত যে, আমারা উত্তম কাজের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। নিজেকে প্রভুর সান্নিদ্ধে রাখতে সচেষ্ট থাকবো। আমিন।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে চলছে সরকারি জমি দখলের মহোৎসব। আর এই দখল মিশনে রয়েছেন স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারিবৃন্দ। তাদেরকে সহায়তা করছে কিছু দালাল। তবে সবকিছুতেই রয়েছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা। বিনিময়ে তারা পাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ আর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব কাজে প্রয়োজনে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়েও ধর্না দিচ্ছে।
জামালগঞ্জের খাস জমির তালিকা এখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের পকেটে। কে কোথায় দখল করবেন, কোন জমিটি কে নিবেন, আর কিভাবে নিবেন এ নিয়েই তাদের আলোচনা। তবে তাদেরকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় ভূমি অফিসের তহশিলদার মিহির চক্রবর্তী, প্রধান অফিস সহকারী নিশি চক্রবর্তী ও মৃদুল চৌধুরী, সার্ভেয়ার অজয় দাস, এমএলএসএস আমির আলী, ঝুমা চৌধুরী, রবি দাস।
উপজেলার মোট ১২৪টি মৌজার মধ্যে পলক মৌজা, কামলাবাজ মৌজা এবং সাচ্না, চানপুর, শরিফপুর ও বাগবাড়ি, মৌজায় চলছে দখলের মহোৎসব। চানপুর মৌজার সুখাইড় গ্রামের সাবেক জমিদার নিরাঙ্গরাজ সিংহ চৌধুরীর ২০৬.৫৭ একর সমর্পিত ভূমি ব্যক্তি মালিকানায় মাঠ পরচা নিয়েছে। ভাটিপাড়ার আছমাতুন্নেছা ওয়াকফ স্টেটেরর ১৯৬.২৬ একর ভূমি নিয়েও চলছে টাকার খেলা। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মৌজার ১৫৩০ দাগের ৪৪.৯৮ একর ভূমি দখল হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। যদিও ওয়াকফ স্টেটের ভূমি কোন অবস্থাতেই হস্তান্তর যোগ্য নয়।
২০০৭ সালে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (স্মারক নং: সুনাম/জেপ্র/বিচার/২৭-৪/২০০৫/৪৯১/৪৫) উপজেলা প্রশাসন জামালগঞ্জের একমাত্র খেলার মাঠটি উদ্ধার করে। কিন্তু উদ্ধার করার ৫ বছরের মাথায় জামালগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি খেলার মাঠটি এবার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য অর্ধশতাধিক ভূয়া ভূমিহীন আবেদন করেছেন। স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তা বন্দোবস্ত প্রদানের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম না মেনে এসব আবেদনে সুপারিশ করেছেন। শুধু তাই নয় এরই মধ্যে মাঠটি ধ্বংস করে তাতে বসতি স্থাপন করেছেন কতিপয় ভূয়া ভূমিহীন।
জামালগঞ্জের সাচ্না বাজারে কামলাবাজ মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৭৪৫৪ নং দাগের এই জলাশয়টির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাতারাতি হাট বানিয়ে অতি দ্রুততার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে। এই অনিয়মে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।
এই জালিয়াতি সম্পন্ন হওয়ার পর এবার নজর পড়েছে বেশ কয়েকটি জলাশয় ভরাটের দিকে। নদীর মধ্যে নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিতে সাচনা ও পলক গ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিজ। ফলে বর্ষাকালে এই নদী দিয়ে সাচ্না বাজারে নৌকা নিয়ে যাওয়া যায়না।
জামালগঞ্জে খাস জমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন একই পরিবারের ৫ জন। সাচ্না গ্রামের অবিনাশ দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা ৫ একর খাসজমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন। অবিনাশ দাশের কন্যা প্রমি দাস, মমতা দাস, সবিতা দাস, অনি দাস, পুত্র বধু ঝুনু দাস বিভিন্ন সময়ে ৫ একর জমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন। আবার এই পরিবারের অনেকের নামেই বন্দোবস্ত পাওয়ার আরও কমপক্ষে ৫টি আবেদন রয়েছে।
সুত্রঃ http://bibekbarta.info/?p=7400
©somewhere in net ltd.