| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রুপকথার গল্প
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। কেননা ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে আমাদেরকে খণ্ডকালীন সময়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর এ ছোট্ট জীবনে বিধাতার অভিরুচি অনুযায়ী কর্ম করে যাওয়াটাই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। তাই প্রত্যেকের মনে চিন্তাধারা থাকা উচিত যে, আমারা উত্তম কাজের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। নিজেকে প্রভুর সান্নিদ্ধে রাখতে সচেষ্ট থাকবো। আমিন।
অ্যাসিড হামলায় দুচোখ হারানো রংপুরের স্কুলছাত্রী মাসুদা আক্তার মনির দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবিতে শিক্ষক-সহপাঠী ও স্বজনদের নিয়ে রাজপথে নেমেছে।
সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন চলাকালে মেয়েটির কান্নায় যেন থেমে যায় শহরের সব কোলাহল।
নবম শ্রেণির ছাত্রী মনি সাংবাদিকদের সামনে বলে, “আশা ছিল লেখাপড়া করে অনেক বড় হব। সে আশা পূরণ হতে দিল না পাঁচ বখাটে। তাদের অ্যাসিডে সুন্দর পৃথিবী আজ আমার কাছে অন্ধকার হয়ে গেছে। কিছুই দেখতে পাই না।”
এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মনি। পাশ থেকে শিক্ষক ও সহপাঠীরা এসে জড়িয়ে ধরলে আবার বলতে শুরু সে।
“বাম চোখ ইতোমধ্যে তুলে ফেলতে হয়েছে। ডান চোখে কর্নিয়া বসানোর পরও কাজ হচ্ছে না। আমি দেখতে পারছি না। চিকিৎসকরাও আশ্বস্ত করতে পারছেন না।
“আমি আমার চোখের আলো ফিরে পেতে চাই। এই সুন্দর পৃথিবী আবার দেখতে চাই। যারা আমার চোখের আলো কেড়ে নিয়েছে সেই অ্যাসিড হামলাকারীদের ফাঁসি চাই।”
সকালে মনি ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে রংপুর আসে শিক্ষক-সহপাঠীদের সঙ্গে এ মানববন্ধনে অংশ নিতে।
নগরীর দক্ষিণ বাবুখাঁ গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে মনি শহরের সমাজকল্যাণ বিদ্যাবীথি স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী। প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় গত বছরের ১৩ অগাস্ট রাত ১০টায় মনির ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে এলাকার আরিফুরের নেতৃত্বে পাঁচ বখাটে।
মনিকে বাঁচাতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় তার মায়েরও। প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই মনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় মনির ভাই মাজেদুর রহমান সোহেল বাদী হয়ে আরিফুল, আলাল, আরেফিন, দুলাল ও রাসেলের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।
আরিফুল, রাসেল ও দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে উচ্চ আদালত থেকে এখন জামিনে মুক্ত আছে।
মানববন্ধনে মনির অবিযোগ, হামলাকারী বখাটেরা থেমে নেই। জামিনে এসে তারা মনির পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও হুমকি বন্ধ হয়নি।
বাংলার চোখ আয়োজিত এ মানববন্ধনে মনির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শাহজালাল করিম বকুল, হাসিনা বানু, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সামসুজ্জামান, মার্কিন নাগরিক ডেফনি চেন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত রাঙ্গা, সমাজকল্যাণ বিদ্যাবীথি স্কুল ও কলেজের সহকারী শিক্ষক মাতলেবুর রহমান সাজু, বাংলার চোখ এর সভাপতি তানবীরুজ্জামান তানভীর ও মনির মা সুলেখা বেগম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মকবুল হোসেন জানান, পাঁচজনের নামে গত নভেম্বরে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। জিডি করার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৫
পুংটা বলেছেন: