নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময়ের মূল্য দিতে শিখুন।

রুপকথার গল্প

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। কেননা ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে আমাদেরকে খণ্ডকালীন সময়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর এ ছোট্ট জীবনে বিধাতার অভিরুচি অনুযায়ী কর্ম করে যাওয়াটাই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। তাই প্রত্যেকের মনে চিন্তাধারা থাকা উচিত যে, আমারা উত্তম কাজের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। নিজেকে প্রভুর সান্নিদ্ধে রাখতে সচেষ্ট থাকবো। আমিন।

রুপকথার গল্প › বিস্তারিত পোস্টঃ

শাহবাগ নিয়ে ইকোনমিস্টের ইতিবাচক প্রতিবেদন

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৫১

শাহবাগের ‘প্রজন্ম চত্বর’র আন্দোলনকে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ হিসেবে গণ্য করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিস্ট’।



শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমটির অনলাইন সংস্করণে গণজাগরণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনটি ১৬ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) মুদ্রণ সংস্করণে প্রকাশিত হবে।



‘গণঅসন্তোষ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত দু’দশকের মধ্যে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। তারা শশ্রুমণ্ডিত একজন রাজনৈতিক নেতার শাস্তি দাবি করছেন।



সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভয়ংকর অপরাধের শাস্তি হিসেবে শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়ায় সাধারণ জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।



ঢাকার প্রাণকেন্দ্রের একটি ব্যস্ত এলাকায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের আহবানে এ জনসমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশকারীরা চান আবদুল কাদের মোল্লাসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক।



আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে এ দণ্ড দিয়েছে। হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও যুদ্ধকালীন অপরাধের অভিযোগ এনে প্রধানত ইসলামপন্থি বিরোধীদের বিচারের জন্য শেখ হাসিনা সরকার স্থানীয় এই আদালত গঠন করেন।



তখন, অপ্রত্যাশিতভাবে অনেকের ক্ষোভের কারণ হয় যে, রায়ের পর কাদের মোল্লা ‍মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গিয়েছেন বলে বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখান তাঁর সমর্থকদের প্রতি।



শাহবাগের নামেই এ আন্দোলন চলছে। যদিও কেউ কেউ এটাকে ‘নতুন প্রজন্ম চত্বর’ নাম দিয়েছেন, এখান থেকে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। পুরো পরিবার নিয়ে অনেকেই সমাবেশস্থলে এসে মাথায় মৃত্যুদণ্ড চেয়ে ব্যান্ডেনা লাগিয়েছেন।



জনমাবেশ বাড়াতে ভূমিকা পালন করছে টেলিভিশন প্রচার। ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ৫ লাখ লোক সমাবেশে যোগ দিতে পারে। গান, পথনাট্য, আবৃত্তির মাধ্যমে তরুণরা বিশেষ করে প্রগতিশীল বাংলাদেশিরা অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কামনা করছেন। তবে, এদের কেউই বিচারের ভুলত্রুটিগুলো বোঝার চেষ্টা করছেন না।



ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও দেরিতে হলেও প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা বিক্ষোভে সহযোগিতা করার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তবু, আওয়ামীলীগ এখান থেকে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধের বিচারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ সপ্তাহের সংসদ অধিবেশনে তিনি মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে কথা বলেছেন এবং নিরপেক্ষ বিচারকদের প্রতি জনদাবি শোনার আহবান জানিয়েছেন। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান যুদ্ধাপরাধ মামলাটি সংশোধন হতে যাচ্ছে। এর ফলে সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত মোল্লার বিরুদ্ধে আবার আপিল করতে পারবে। মোল্লার জীবন সংক্ষিপ্ত হয়ে আসছে।



সবচেয়ে বড় সঙ্কটে রয়েছে বিএনপি, বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার আটদিন পর তারা বিক্ষোভে একাত্মতা ঘোষণা করে। তাদের অনেক কিছু হারাতে হতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের বড় জোটমিত্র বৃহৎ ইসলামী দল জামায়াত-ই-ইসলামীকে, যে দলের অনেক নেতারই বর্তমানে বিচার চলছে। শেষ পর্যন্ত এত বেশি বিএনপি সমর্থক শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দিয়েছে যে দলটির এ ছাড়া (আন্দোলনে একাত্মতা) আর কোনো উপায় ছিল না।



বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাদের আন্দোলন ইসলামী রাজনীতির বিরুদ্ধে, ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে, তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ চান। জামায়াতের ছাত্রসংগঠনের বর্তমান সহিংস কার্যকলাপ আন্দোলনকারীদের দাবিকে আরও বেশি সমর্থন যোগাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৯৭২ সালের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফিরে আসা বর্তমান সরকার হয়তো শিগগির এ ব্যাপারে (জামায়াতকে নিষিদ্ধ) পদক্ষেপ নেবে।



আরও বড় ধরনের বিক্ষোভ রাজনৈতিক দাবি দাওয়াও বাড়াতে পারে। বড় পরিবর্তনেরও আবেদন করতে পারে এ আন্দোলন। বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এবং তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র রাজনৈতিক আধিপত্য খুব কম মানুষই পছন্দ করে। এই দুই দলের আধিপত্যে ভাঙন ধরলে শাহবাগের অনেকে হয়তো আনন্দ উদযাপন করবেন।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৫১

রুপকথার গল্প বলেছেন: বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এবং তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র রাজনৈতিক আধিপত্য খুব কম মানুষই পছন্দ করে। এই দুই দলের আধিপত্যে ভাঙন ধরলে শাহবাগের অনেকে হয়তো আনন্দ উদযাপন করবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.