| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
" মানুষ নাকি তার পেছনেই ছুটে যার প্রতি লোভ বেশি,
আর তার প্রতিই নাকি লোভ বেশি, যাকে অনেক ছুটেও পাওয়া যায় না... "
আমি মুর্খসুর্খ মানুষ-- ছুটতে গিয়ে ভিখারী মনে হয় নিজেকে যখন সামনে এসে দাঁড়ান রবীন্দ্রনাথ।
আর কদিন পরেই মানুষটার জন্মদিন।
মাথায় ঘুরছে কিছু একটা লেখা দরকার... মানুষটা আমায় মাতাল করে রেখেছে আজন্ম।
সেই মাতলামির ধারাবাহিকতায় অধমের সামান্য শ্রদ্ধাঞ্জলি।
প্রণমি তোমায় কবি।
===============
ইন্টারনেট যুগের মানুষ আমরা। মনে আছে প্রথম সাইবার ক্যাফেতে বসেছিলাম ক্লাস সেভেন এ। রবিবাবুর ফটিক আমরা তখন, অথচ বেমালুম ভুলে গেছি সেই কবেকার নৌকার গলুইয়ে বসে নতুন নতুন খেলার ফন্দি আঁটার গল্প। টিফিনের ফাঁকে ছুটে গেছি সাইবার ক্যাফেতে, গাড়ির রেসে মজে গিয়ে ভেবেছি “এই তো জীবন”। সময় গিয়েছে কালের গহ্বরে, কেউ জানে নি, বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমেছে বেখায়ালে।
“অদর্শন,
আমায় মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রেখে চলে গেলো অস্থির বালিকা আমার।
ভালোবাসা! সে তো পেয়েছি তোমায় প্রথম চোখের কোণে।
অখেয়ালে, অবসন্ন দেহ রেখেছি সেথায়,
যেখানে তোমার উষ্ণ দীর্ঘশ্বাস”
( আমার যত বেখেয়ালি লেখা )
এমনটাই চলে যেতে পারতো হয়তো। কিন্তু বাঁধ সাধে আমার চারপাশ, আমার পরিবেশ, আমার সংস্কৃতি, আমার যত কিছু। আমার ঠাকুরদার ভাঙ্গা গলায় চাপা সুরে ঘুরে ফিরে আসা একটাই গান, “ আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে, দেখতে আমি পাই নি তোমায়, দেখতে আমি পাই নি”।
রবীন্দ্রনাথ আসলেন হঠাত করে।
অত কিছু ভেবে দেখি নি, আসলে কি ভাবার মতো বয়স বা মনন কিছুই হয় নি তখন। শুধু অনুভব করতাম আমরা। আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র বিনোদন -সস্তা দামের টেপরেকর্ডারে রোজকার একটাই ক্যাসেট ঘুরেফিরে বাজিয়ে বাজিয়ে আমরা চলে যেতাম অচেনা এক বন্দরে। তারপর সন্ধ্যে নেমে এলে যেন পা এলিয়ে এসে বসতাম সমুদ্রের খোলা হাওয়ায়, হারিয়ে যেতাম দূরান্তের কোন দ্বীপে, যেখানে অচেনা বনে অভিসারিকা রাঁধা কাঁপে ত্রস্ত পায়ে- এ বুঝি শ্যাম এলো!
“গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে
মৃদুল মধুর বংশি বাজে,
বিসরি ত্রাস-লোকলাজে
সজনি, আও আও লো।”
( ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী, রচনাকাল ১৮৭৭ ইংরেজি )
====== ( চলবে ) ======
©somewhere in net ltd.