নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেচুবাবুর রোজনামচা

যুক্ত কর হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ

বেচুবাবু

বেচুবাবু › বিস্তারিত পোস্টঃ

" আমার প্রিয়ার ছায়া, আকাশে আজ ভাসে "--- রবি ঠাকুরের জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি ( পর্ব ১ ) =================

০৭ ই মে, ২০১৪ রাত ১১:১৭





" কোলাহল তো বারণ হলো,

এবার কথা কানে কানে।

এখন হবে প্রাণের আলাপ,

কেবল মাত্র গানে গানে "



( পুজা পর্যায়ের গান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রচনাকাল ১৯১২)




====



" ভালোবাসা কাকে বলে? " পৃথিবীর সেই প্রাচীনতম প্রশ্ন, যার সঠিকতম সঙ্গায়ন হয়তো এখনো করতে পারে নি কেউ। অথচ এটি পেতে আগ্রহী নয় এমন মানুষ দুস্কর। প্রধান ৫টি চাহিদার সম্পূর্ণ প্রাপ্তির পরেও একটা মানুষ কিভাবে তিলে তিলে মরতে পারে, তা বুঝা যায় যার কাছে এই পৃথিবীর কিয়দংশ ভালোবাসা এসে পৌঁছেনি কোন অজানা গানের সুরে।



কিন্তু মজাটা হলো, আমরা বুঝি না এ ভালোবাসা কতটা প্রগাড়, এবং কতটা প্রজ্ঞার। Love Happens বলে মজে যাই অজানা প্রেমভাবে। হয়তো আকন্ঠ নিমজ্জন টানে আমাদের! হয়তো, আমরা আঘাত পেয়ে বাঁচতে বেশি ভালোবাসি!



====



" অচেনাকে ভয় কী আমার ওরে?

অচেনাকেই চিনে চিনে উঠবে জীবন ভরে ॥

জানি জানি আমার চেনা কোনো কালেই ফুরাবে না,

চিহ্নহারা পথে আমায় টানবে অচিন ডোরে ॥ "



( পুজা পর্যায়ের গান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রচনাকাল ১৯১৪)




====



জানি না কখন, হঠাতই প্রেমে পড়ে যায় এক অচেনা কারোর। কখনো Tom Hanks এর " You've Got Mail" দেখে প্রেমে পড়ি মেগ রায়ানের মতো ছটফটে এক বই দোকানির, যে কিনা সব কমিকস মুখস্থ করে রেখেছে, এবং যে বলতে ভালোবাসে। আবার কখনো বা "দীপাবলির" চরিত্র পড়ে মনে হয়, এমনটা দৃঢ় একজন মানুষ থাকতো যদি পাশে। হাতড়ে দেখি পরিচিত জনে, মিলিয়ে দেখি এ কি আমার দীপাবলি গেলো? এ কি মেগ রায়ান?



তারপর হঠাত একদিন অজ্ঞাতে চুপিসারে এসে দাঁড়ায় হাল্কা রঙের জামা পড়া একটা বেড়াল চোখের মেয়ে। জানি না, চিনি না, দেখি নি আগে। অথচ হঠাত করে মনে হয়, এই গলার স্বরে আমার অধিকার। এর মধ্যরাতের গল্প শুধু আমার জন্য। ও হাতের আঙ্গুলের কাটা দাগ যেন আমার কাটা দাগের সাথে মিলবে বলেই জন্ম। গ্রাস করে মায়া...এক অদ্ভূত ভালোলাগা।



===



" অপরিচিতের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের অজানা বিপদের আশঙ্কায় মেয়েরা সংকোচ সরাতে চায় না। কিন্তু বিপদের এক ধাক্কায় উপক্রমণিকার অনেকখানি বিস্তৃত বেড়া এক দমে গেল ভেঙে। কোন্‌ দৈব নির্জন পাহাড়ের পথে হঠাৎ মাঝখানে দাঁড় করিয়ে দুজনের মনে দেখাদেখির গাঁঠ বেঁধে দিলে; সবুর করলে না। আকস্মিকের বিদ্যুৎ-আলোতে এমন করে যা চোখে পড়ল, প্রায় মাঝে মাঝে এ যে রাত্রে জেগে উঠে অন্ধকারের পটে দেখা যাবে। চৈতন্যের মাঝখানটাতে তার গভীর ছাপ পড়ে গেল, নীল আকাশের উপরে সৃষ্টির কোন্‌ এক প্রচণ্ড ধাক্কায় যেমন সূর্য-নক্ষত্রের আগুন-জ্বলা ছাপ। "



( শেষের কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর )




===



এক অচেনা নারীর জন্য জেগে উঠে প্রাণ। জানি না, এ জেগে উঠা কতটা বাঞ্ছনীয়, কিংবা যৌক্তিকতার কোন মাপকাঠিতে ঠিক মাপা যায় একে। কিন্তু এটা বেশ বুঝি, এ অচেনা টানে ভয়ানক একটা আকুলতা আছে, কেমন একটা যেন, আমি ছাড়া আর কেউ না, কেউ না। ছুঁড়ে ফেলে সমস্ত কাজের চাপ, ছুটে যাই তার কাছে। এক কাপ চা হাতে নিয়ে গল্প শুনি তার সারাদিনের। আমার এতো ক্লান্তি, বিষণ্ণতা-- ভুলে যাই নিমেষকাল মাঝে। মাথায় ঘুরতে থাকে, তাকে কোন নতুন নাম দেওয়া হলো না আমার...



প্রাণের ভেতর রবিবাবুর গান বাজছে--



" রাখো রাখো রে, জীবনে,

রাখো রাখো রে, জীবনে, জীবনবল্লভে, প্রাণমনে,

ধরি রাখো নিবিড় আনন্দ বন্ধনে... "



( পুজা পর্যায়ের গান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রচনাকাল ১৯১০)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.